২২৫৪. সূরাতুল ফাতিহা (ফাতিহাতুল কিতাব) প্রসঙ্গে। সূরাহ ফাতিহাকে উম্মুল কিতাব (কিতাবের মুল) হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে এজন্য যে, সূরাহ ফাতিহা লেখা দ্বারাই কুরআন গ্রন্থাকারে লিখা শুরু হয়েছে। আর সূরাহ ফাতিহা পাঠের মাধ্যমে স্বলাত আরম্ভ করা হয়। “দীন” অর্থ – ভাল ও মন্দের প্রতিফল । যেমন বলা হয়ে থাকে [وَالشَّرِّ كَمَا تَدِيْنُ تُدَانُ] “যেমন কর্ম তেমন ফল” । আর মুজাহিদ (র) বলেন, بِالدِّيْنِ - হিসাব –নিকাশ । مَدِيْنِيْنَ যার হিসাব নেওয়া হবে।
(الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ) اسْمَانِ مِنْ الرَّحْمَةِ الرَّحِيْمُ وَالرَّاحِمُ بِمَعْنًى وَاحِدٍ كَالْعَلِيْمِ وَالْعَالِمِ.
’’রহমান ও রহীম’’ শব্দদ্বয় ’রহমত’ শব্দ থেকে নিষ্পন্ন এবং রহীম ও র-হিম দু’টো শব্দই একই অর্ধবোধক যেমন ’আলীম ও আ-লিম।
৪১২২। মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ ইবনু মুআল্লা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা মসজিদে নববীতে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলাম, এমন সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকেন। কিন্তু সে ডাকে আমি সাড়া দেইনি। পরে আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি সালাতরত ছিলাম। (এ কারণে জবাব দিতে পারিনি)। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ কি বলেন নি যে, হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিবে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ডাকেও যখন তিনি তোমাদেরকে আহবান করেন। (৮ঃ ২৪)। তারপর তিনি আমাকে বললেন, তুমি মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বেই তোমাকে আমি কুরআনের এক মহান সূরা শিক্ষা দিব। তারপর তিনি আমার হাত ধরেন। এরপর যখন তিনি মসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করেন তখন আমি তাঁকে বললাম, আপনি না আমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতম সূরা শিক্ষা দিবেন বলে বলছিলেন? তিনি বললেন,الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্ব জগতের প্রতিপালক, এটা বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন যা আমাকেই প্রদান করা হয়েছে।
২২৫৫. যারা ক্রোধে নিপতিত নয়
হাদিস নং ৪১২৩সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَالَ الإِمَامُ (غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ) فَقُولُوا آمِينَ. فَمَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪১২৩। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন ইমাম বলবেغَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ তখন তোমরা বলবেآمِينَ অর্থ আল্লাহ আপনি কবূল করুন। যার পড়া ফেরেশতাদের পড়ার সময়ে হবে, তার পূর্বে গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
وعلم ادم الاسماء كلها এবং তিনি আদম (আঃ) কে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন (২ঃ ৩১)
৪১২৪। মুসলিম ও খলীফা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন মু’মিনগণ একত্রিত হবে এবং তারা বলবে, আমরা যদি আমাদের রবের কাছে আমাদের জন্য একজন সুপারিশকারী পেতাম। এরপর তারা আদম (আলাইহিস সালাম) এর কাছে আসবে এবং তাঁকে বলবে আপনি মানব জাতির পিতা। আপনাকে আল্লাহ তা’আলা নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। আর ফেরেশতা দ্বারা আপনাকে সিজদা করিয়েছেন এবং যাবতীয় বস্তুর নাম আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন। অতএব আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন, যেন আমাদের কঠিন স্থান থেকে আরাম দিতে পারেন। তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের আমার সাহস হচ্ছে না। তিনি নিজ ভুলের কথা স্মরণ করে লজ্জাবোধ করবেন। (তিনি বলবেন) তোমরা নূহ (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। তিনিই প্রথম রাসূল যাকে আল্লাহ জগতবাসীর কাছে পাঠিয়েছেন।
তখন তারা তাঁর শরণাপন্ন হবে। তিনিও বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না। তিনি তাঁর রবের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন এমন বিষয় যা তাঁর জানা ছিল না। সেকথা স্মরণ করে তিনি লজ্জাবোধ করবেন এবং বলবেন বরং তোমরা আল্লাহর খলীল (ইবরাহীম) (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। তারা তখন তাঁর কাছে আসবে, তখন তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না। তোমরা মূসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। তিনি এমন বান্দা যে তাঁর সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং তাঁকে তাওরাত গ্রন্থ দান করেছেন। তখন তারা তাঁর কাছে আসবে। তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না এবং তিনি এক কিবতীকে বিনা দোষে হত্যা করার কথা স্মরণ করে তাঁর রবের নিকট লজ্জাবোধ করবেন।
তিনি বলবেন, তোমরা ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল এবং আল্লাহর বাণী ও রূহ্। (তারা সেখানে যাবে) তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না। তোমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাও। তিনি এমন এক বান্দা যার পূর্ব ও পরের ভুলত্রটি আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন। তখন তারা আমার কাছে আসবে। তখন আমি আমার রবের কাছে যাব এবং অনুমতি চাইব, আমাকে অনুমতি প্রদান করা হবে। আর আমি যখন আমার রবকে দেখব, তখন আমি সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ যতক্ষণ চান আমাকে এ অবস্থায় রাখবেন। তারপর বলা হবে, আপনার মাথা উঠান এবং চান দেওয়া হবে, বলুন শোনা হবে, সুপারিশ করুন কবুল করা হবে। তখন আমি আমার মাথা উঠাবো এবং আমাকে যে প্রশংসা সূচক বাক্য শিক্ষা দিবেন তা দ্বারা আমি তাঁর প্রশংসা করব। তারপর সুপারিশ করব। আমাকে একটি সীমারেখা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। (সেই সীমিত সংখ্যায়) আমি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবো।
আমি পুনরায় রবের সমীপে ফিরে আসব। যখন আমি আমার রবকে দেখব তখন পূর্বের ন্যায় সব কিছু করব। তারপর আমি সুপারিশ করব। আবার আমাকে একটি সীমারেখা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। তদনুসারে আমি তাদের জান্নাতে দাখিল করাবো। (তারপর তৃতীয়বার) আমি আবার রবের নিকটে উপস্থিত হয়ে অনুরূপ করব। এরপর আমি চতুর্থবার ফিরে আসব এবং আরজ করব এখন কেবল তারাই জাহান্নামে অবশিষ্ট রয়ে গেছে যারা কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী আটকে রয়েছে আর যাদের উপর চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকা অবধারিত রয়েছে।
আবূ আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন, কুরআনের যে ঘোষণায় তারা জাহান্নামে আবদ্ধ রয়েছে তা হল মহান আল্লাহর বাণীঃخَالِدِينَ فِيهَا অর্থাৎ তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।
بَاب قَالَ مُجَاهِدٌ إِلَى شَيَاطِينِهِمْ أَصْحَابِهِمْ مِنْ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُشْرِكِينَ مُحِيطٌ بِالْكَافِرِينَ اللَّهُ جَامِعُهُمْ عَلَى الْخَاشِعِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ حَقًّا قَالَ مُجَاهِدٌ بِقُوَّةٍ يَعْمَلُ بِمَا فِيهِ وَقَالَ أَبُو الْعَالِيَةِ مَرَضٌ شَكٌّ وَمَا خَلْفَهَا عِبْرَةٌ لِمَنْ بَقِيَ لَا شِيَةَ لَا بَيَاضَ وَقَالَ غَيْرُهُ يَسُومُونَكُمْ يُولُونَكُمْ الْوَلَايَةُ مَفْتُوحَةٌ مَصْدَرُ الْوَلَاءِ وَهِيَ الرُّبُوبِيَّةُ إِذَا كُسِرَتْ الْوَاوُ فَهِيَ الْإِمَارَةُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ الْحُبُوبُ الَّتِي تُؤْكَلُ كُلُّهَا فُومٌ وَقَالَ قَتَادَةُ فَبَاءُوا فَانْقَلَبُوا وَقَالَ غَيْرُهُ يَسْتَفْتِحُونَ يَسْتَنْصِرُونَ شَرَوْا بَاعُوا رَاعِنَا مِنْ الرُّعُونَةِ إِذَا أَرَادُوا أَنْ يُحَمِّقُوا إِنْسَانًا قَالُوا رَاعِنًا لَا يَجْزِي لَا يُغْنِي خُطُوَاتِ مِنْ الْخَطْوِ وَالْمَعْنَى آثَارَهُ ابْتَلَى اخْتَبَرَ
২২৫৬. অনুচ্ছেদঃ মুজাহিদ (রহ.) বলেন, إِلَى شَيَاطِيْنِهِمْ তাদের সঙ্গী-সাথী মুনাফিক ও মুশরিক। مُحِيْطٌ بِالْكَافِرِيْنَ -আল্লাহ কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছেন- (২ঃ ১৯)। অর্থাৎ আল্লাহ তাদের একত্রকারী। صِبْغَةَ অর্থাৎ দ্বীন। عَلَى الْخَاشِعِيْنَ-প্রকৃত মু’মিনদের নিকট। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, بِقُوَّةٍ-তাতে যা আছে তা ’আমল করে। আবুল আলিয়া (রহ.) বলেন, مَرَضٌ-সন্দেহ। وَمَا خَلْفَهَا -পরবর্তীদের জন্য নাসীহাত। لَا شِيَةَ -দাগ বিহীন। অন্যরা বলেন, يَسُوْمُوْنَكُمْ-তারা তোমাদের কষ্ট দিত- (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/৪৯)। الْوَلَايَةُ আল ওয়াও মাফতুহ্ অবস্থায় الْوَلَاء আল-ওয়ালা এর ধাতু। অর্থাৎ প্রভুত্ব, আর যখন ’ওয়াও’-কে যের দেয়া হবে, তখন অর্থ দাঁড়াবে নেতৃত্ব। কেউ কেউ বলেন, যে সমস্ত বীজ খাওয়া হয় তাকে ফুম فُوْمٌ বলে। ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, فَبَاءُوْا তারা (আল্লাহর গযবের দিকে) ফিরে গেল। يَسْتَفْتِحُوْنَ তারা সাহায্য চাইতো। شَرَوْا-তারা বিক্রি করল। رَاعِنَا নির্গত হয়েছে الرُّعُوْنَةِ মাসদার থেকে। যখন তারা লোককে বোকা বানাতে চাইত তখন বলত, রায়িনা رَاعِنَا
لَا يَجْزِي অর্থাৎ কোন কাজে আসবে না। ابْتَلَى -পরীক্ষা করলেন। خُطُوَاتِ নির্গত (خطو) থেকে, অর্থ পদচিহ্ন।
৪১২৫। উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, কোন গুনাহ আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা বড়? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্য সমকক্ষ দাঁড় করানো। অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, এতো সত্যি বড় গুনাহ। আমি বললাম, তারপর কোন গুনাহ? তিনি উত্তর দিলেন, তুমি তোমার সন্তানকে এই ভয়ে হত্যা করবে যে সে তোমার সাথে আহার করবে। আমি আরয করলাম, এরপর কেনটি? তিনি উত্তর দিলেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে তোমার ব্যভিচার করা।
২২৫৮. মহান আল্লহর বাণীঃ “আর আমি মেঘমালা দিয়ে তোমাদের উপর ছায়া দান করেছি এবং তোমাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি মান্না ও সালওয়া । তোমরা খাও সেসব পবিত্র বস্তু যা আমি তোমাদেরকে দান করেছি । তারা আমার প্রতি কোন জুলুম করেনি বরং তারা নিজেদের উপরই জুলুম করেছিল । (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ৫৭) মুজাহিদ (র) বলেন, মান্না শিশির জাতীয় সুস্বাদু খাদ্য (যা পাথর ও গাছের উপর অবতীর্ণ হত পরে জমে গিয়ে ব্যাঙের ছাতার মত হত) আর সাল্ওয়া-পাখি।
হাদিস নং ৪১২৬সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْكَمْأَةُ مِنَ الْمَنِّ، وَمَاؤُهَا شِفَاءٌ لِلْعَيْنِ ".
বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ)
৪১২৬। আবূ নুআইম (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃالْكَمْأَةُ আল কামাআত (ব্যাঙের ছাতা) মান্ন জাতীয়। আর তার পানি চক্ষু রোগের শিফা।
২২৫৯. মহান আল্লাহর বাণীঃ “স্মরন করুন, যখন আমি বললাম, এই জনপদে প্রবেশ কর, যেখানে ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দে খাও, অবনত মস্তকে প্রবেশ কর দার দিয়ে এবং বল حِطَّةٌ ‘ক্ষমা চাই’। আমি তোমাদের ভূল-ত্রুটি ক্ষমা করব এবং সৎকর্মশীলদের প্রতি আমার দান বৃদ্ধি করব”- (সূরাহ আল-বাক্বারা ২/৫৮)। رَغَدَّا প্রভূত স্বাচ্ছন্দ্য।
হাদিস নং ৪১২৭সহিহ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قِيلَ لِبَنِي إِسْرَائِيلَ (ادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَقُولُوا حِطَّةٌ) فَدَخَلُوا يَزْحَفُونَ عَلَى أَسْتَاهِهِمْ، فَبَدَّلُوا وَقَالُوا حِطَّةٌ، حَبَّةٌ فِي شَعَرَةٍ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪১২৭। মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বনী ইসরাঈলকে বলা হয়েছিল যে, তোমরা সিজদা অবস্থায় শহর দ্বারে প্রবেশ কর এবং বল حِطَّةٌ (ক্ষমা চাই) কিন্তু তারা প্রবেশ করল নিতম্ব হেঁচড়িয়ে এবং নির্দেশিত শব্দকে পরিবর্তন করে তদস্থলে বলল, গম ও যবের দানা। আল্লাহর বাণীঃمَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ ’যারা জিবরীলের শত্রুতা করবে। ’ইকরিমা (রহঃ) বলেন, জবর, মীক, সারাফ অর্থ ’আবদ-বান্দা, ঈল-আল্লাহ। (অর্থ দাঁড়াল আবদুল্লাহ-আল্লাহর বান্দা)
৪১২৮। আবদুল্লাহ ইবন মুনীর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শুভাগম বার্তা শুনতে পেলেন। তখন তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু সালাম) বাগানে ফল আহরণ করছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, আমি আপনাকে তিনটি বিষয় জিজ্ঞাসা করব যা নবী ব্যতীত অন্য কেউ জানেন না। তা হল কিয়ামতের প্রথম লক্ষণ কি? জান্নাতীদের প্রথম খাদ্য কি হবে? এবং সন্তান কখন পিতার সদৃশ হয় আর কখন মাতার সদৃশ হয়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকে জিবরীল(আলাইহিস সালাম) এখনি এসব সম্পর্কে অবহিত করলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম বললেন, জিবরীল? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললে, হ্যাঁ। ইবনু সালাম বললেন, সে তো ফেরেশতাদের মধ্যে ইয়াদীদের শত্রু। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত পাঠ করলেন, যে ব্যাক্তি জিবরীলের শত্রু হবে, এ জন্য যে তিনি তো আপনার অন্তরে, (আল্লাহর হুকুমে) ওহী নাযিল করেন। (২ঃ ৯৭)।
কিয়ামতের প্রথম লক্ষণ হল, এক প্রকার আগুন বের হবে যা মানবকুলকে পূর্ব প্রান্ত হতে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত একত্রিত করবে। আর জান্নাতীরা প্রথমে যা আহার করবে তা হল মাছের কলিজার টুকরা। আর যখন পুরুষের বীর্য স্ত্রীর উপর প্রাধান্য লাভ করবে তখন সন্তান পিতার সদৃশ হয় এবং যখন স্ত্রীর বীর্য পুরুষের উপ প্রাধান্য লাভ করে তখন সন্তান মাতার সদৃশ হয়।
তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আরও সাক্ষ্য দেই যে, আপনি নিঃসন্দেহে আল্লাহর রাসূল। ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়াহুদিরা সাংঘাতিক মিথ্যারূপকারী। যদি তারা আপনাকে প্রশ্ন করার পূর্বেই আমার ইসলাম গ্রহণের সংবাদ জেনে যায় তবে তারা আমার প্রতি অপবাদ আনবে। ইতিমধ্যে ইহুদীরা এসে গেল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদীদের জিজ্ঞাসা করলেন, আবদুল্লাহ তোমাদের মধ্যে কেমন লোক? তারা উত্তর দিল, তিনি আমাদের মধ্যে উত্তম এবং আমাদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত ব্যাক্তির পুত্র। তিনি আমাদের নেতা এবং আমাদের নেতার ছেলে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি আবদুল্লাহ ইবনু ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে তোমরা কেমন মনে করবে। তারা বলল, আল্লাহ তাকে এর থেকে পানাহ দিন। তখন [আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)] বের হয়ে এসে বললেন, আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ নিঃসন্দেহে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। তখন তারা বলল, সে আমাদের মধ্যে মন্দ ব্যাক্তি ও মন্দ ব্যাক্তির ছেলে। তারপর তারা ইবনু সালাম (রাঃ) কে দোষী সাব্যস্ত করে সমালোচনা করতে লাগল। তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটাই আমি ভয় করছিলাম।
২২৬০. মহান আল্লাহর বাণীঃ আমি কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা বিস্মৃতি হতে দিলে। (সূরাহ আল-বাক্বারা ২/১০৬)
হাদিস নং ৪১২৯সহিহ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ عُمَرُ ـ رضى الله عنه ـ أَقْرَؤُنَا أُبَىٌّ، وَأَقْضَانَا عَلِيٌّ، وَإِنَّا لَنَدَعُ مِنْ قَوْلِ أُبَىٍّ، وَذَاكَ أَنَّ أُبَيًّا يَقُولُ لاَ أَدَعُ شَيْئًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى (مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نَنْسَأْهَا)
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪১২৯। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাঃ) বলেন, উবাই (রাঃ) আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম কারী, আর আলী (রাঃ) আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক। কিন্তু আমরা উবাই (রাঃ) এর সব কথাই গ্রহণ করি না। কারণ উবাই (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছি তা ছেড়ে দিতে পারি না। অথচ আল্লাহ তা’আলা বলে, আমি যে আয়াত রহিত করি অথবা বিস্মৃত হতে দেই ... (২ঃ ১০৬)।
২২৬১. মহান আল্লাহর বানীঃ আর তাঁরা বলেঃ ‘আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি অতি পবিত্র। (সূরাহ আল –বাক্বারা ২/১১৬)
হাদিস নং ৪১৩০সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَالَ اللَّهُ كَذَّبَنِي ابْنُ آدَمَ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ، وَشَتَمَنِي وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ، فَأَمَّا تَكْذِيبُهُ إِيَّاىَ فَزَعَمَ أَنِّي لاَ أَقْدِرُ أَنْ أُعِيدَهُ كَمَا كَانَ، وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّاىَ فَقَوْلُهُ لِي وَلَدٌ، فَسُبْحَانِي أَنْ أَتَّخِذَ صَاحِبَةً أَوْ وَلَدًا ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪১৩০। আবূল ইয়ামান (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, আদম সন্তান আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে। অথচ তার তা উচিত নয়। আমাকে গালি দিয়েছে অথচ তার জন্য তা উচিত নয়। তার আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ হল, সে বলে যে, আমি তাকে পূর্বের ন্যায় পুনরুজ্জীবনে সক্ষম নই। আর আমাকে তার গালি প্রদান হল--তার বক্তব্য যে, "আমার সন্তান আছে অথচ আমি স্ত্রী ও সন্তান গ্রহণ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।"
২২৬২. মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে নামাযের স্থান নির্ধারণ কর। (২ঃ ১২৫) مثابة প্রত্যাবর্তন স্থল। يثوبون অর্থ লোকজন প্রত্যাবর্তন করে।
হাদিস নং ৪১৩১সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ عُمَرُ وَافَقْتُ اللَّهَ فِي ثَلاَثٍ ـ أَوْ وَافَقَنِي رَبِّي فِي ثَلاَثٍ ـ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَوِ اتَّخَذْتَ مَقَامَ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى وَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ يَدْخُلُ عَلَيْكَ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ، فَلَوْ أَمَرْتَ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ بِالْحِجَابِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ آيَةَ الْحِجَابِ قَالَ وَبَلَغَنِي مُعَاتَبَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَعْضَ نِسَائِهِ، فَدَخَلْتُ عَلَيْهِنَّ قُلْتُ إِنِ انْتَهَيْتُنَّ أَوْ لَيُبَدِّلَنَّ اللَّهُ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم خَيْرًا مِنْكُنَّ. حَتَّى أَتَيْتُ إِحْدَى نِسَائِهِ، قَالَتْ يَا عُمَرُ، أَمَا فِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا يَعِظُ نِسَاءَهُ حَتَّى تَعِظَهُنَّ أَنْتَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ (عَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبَدِّلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ مُسْلِمَاتٍ) الآيَةَ.<br /> وَقَالَ ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنِي حُمَيْدٌ سَمِعْتُ أَنَسًا عَنْ عُمَرَ.
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪১৩১। মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাঃ) বলেছেন, তিনটি বিষয়ে আমার মতামত আল্লাহর ওহীর অনুরূপ হয়েছে অথবা (তিনি বলেছেন) তিনটি বিষয়ে আমার মতামতের অনুকুলে আল্লাহ ওহী নাযিল করেছেন। তা হল, আমি বলেছিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আপনি মাকামে ইবরাহীমকে সালাত (নামায/নামাজ)-এর স্থান হিসাবে গ্রহণ করতেন। এ বিষয়ে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন। তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানে নির্ধারণ কর (২:১২৫) আমি আরয করেছিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার কাছে ভাল ও মন্দ উভয় প্রকারে লোক আসে। কাজেই আপনি যদি উম্মাহাতুল মু’মিনীনদেরকে (আপনার স্ত্রীদের) পর্দা করার নির্দেশ দিতেন।
তখন আল্লাহ তা’আলা পর্দার আয়াত নাযিল করেন। তিনি আরো বলেন, আমি জানতে পেরেছিলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কতক বিবির প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তখন আমি তাদের কাছে উপস্থিত হই, এবং বলি যে, আপনারা এর থেকে বিরত হবেন অথবা আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূলকে আপনাদের চেয়েও উত্তম স্ত্রী প্রদান করবেন। এরপর আমি তাঁর কোন এক স্ত্রীর কাছে আসি, তখন তিনি বললেন, হে উমর! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীগণকে নসীহত করে থাকেন আর এখন তুমি তাদের উপদেশ দিতে আরম্ভ করেছ? তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেনঃعَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبَدِّلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ مُسْلِمَاتٍ নবী যদি তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন তবে তাঁর রব সম্ভবত তোমাদের স্থলে তাঁকে দিবেন তোমাদের অপেক্ষা উত্তম স্ত্রী যারা হবে আত্মসমপর্ণকারী। (৬৬: ৫)
ইবনু আবী মারয়াম (রহঃ) বলেন, আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর (রাঃ) আমার কাছে এরূপ বলেছেন।
২২৬৩. মহান আল্লাহর বাণীঃ স্মরন করুন যখন ইব্রাহীম ও ইসমাইল কা‘বা ঘরের প্রাচীর তুলছিলেন তখন তারা বলছিলেনঃ হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের এই কাজ গ্রহন করুন, নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা ।” (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১২৭)। القواعد অর্থ ভিত্তি, একবচনে قاعدة আল-কাওয়ায়িদ মহিলাদের সম্পর্কে বলা হলে এর অর্থ বৃদ্ধা নারী, তখন এর একবচন (قاعد) হবে।
হাদিস নং ৪১৩২সহিহ
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، أَخْبَرَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَلَمْ تَرَىْ أَنَّ قَوْمَكِ بَنَوُا الْكَعْبَةَ وَاقْتَصَرُوا عَنْ قَوَاعِدِ إِبْرَاهِيمَ ". فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ تَرُدُّهَا عَلَى قَوَاعِدِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ " لَوْلاَ حِدْثَانُ قَوْمِكِ بِالْكُفْرِ ". فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ لَئِنْ كَانَتْ عَائِشَةُ سَمِعَتْ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا أُرَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَرَكَ اسْتِلاَمَ الرُّكْنَيْنِ اللَّذَيْنِ يَلِيَانِ الْحِجْرَ، إِلاَّ أَنَّ الْبَيْتَ لَمْ يُتَمَّمْ عَلَى قَوَاعِدِ إِبْرَاهِيمَ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪১৩২। ইসমাঈল (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার কি জানা নেই যে তোমার সম্প্রদায় কুরাইশ কা’বা তৈরী করেছে এবং ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর ভিত্তির থেকে ছোট নির্মাণ করেছে?’ [আয়িশা (রাঃ) বলেন] আমি তখন বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর ভিত্তির উপর কা’বাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারেন না? তিনি বললেন, যদি তোমার গ্রোত্রের কুফরীর যামানা অতীতে না হত। এ কথা শুনে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, যদি আয়িশা (রাঃ) এ কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনে থাকেন, তবে আমার মনে হয় যে এ কারণেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতিমের দিকের দুই রোকনে (রোকনে ইরাকী ও রোকন শামী) চুম্বন বর্জন করেছেন, যেহেতু বায়তুল্লাহ ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর ভিত্তির উপর সম্পূর্ণভাবে নির্মিত নয়।
২২৬৪. মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা বল, আমরা আল্লাহতে ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের প্রতি নাযিল হয়েছে তার প্রতিও। (২ঃ১৩৬)
হাদিস নং ৪১৩৩সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كَانَ أَهْلُ الْكِتَابِ يَقْرَءُونَ التَّوْرَاةَ بِالْعِبْرَانِيَّةِ، وَيُفَسِّرُونَهَا بِالْعَرَبِيَّةِ لأَهْلِ الإِسْلاَمِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُصَدِّقُوا أَهْلَ الْكِتَابِ وَلاَ تُكَذِّبُوهُمْ، وَقُولُوا (آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ) الآيَةَ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪১৩৩। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহলে কিতাব (ইহুদী) ইবরানী ভাষায় তাওরাত পাঠ করে মুসলিমদের জন্য তা আরবী ভাষায় ব্যাখ্যা করত। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আহলে কিতাবকে বিশ্বাস কর না আর অবিশ্বাসও কর না এবং (আল্লাহর বাণী) ’তোমরা বল আমরা আল্লাহতে ঈমান এনেছি এবং যা নাযিল করা হয়েছে তা।’
২২৬৫. মহান আল্লাহর বাণীঃ নির্বোধ লোকেরা অচিরেই বলবে যে, তারা এ যাবত যে কিবলা অনুসরণ করে আসছিল তা থেকে তাদেরকে কিসে ফিরিয়ে দিল! বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল-সঠিক পথে পরিচালনা করেন।” (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১৪২)
হাদিস নং ৪১৩৪সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، سَمِعَ زُهَيْرًا، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا أَوْ سَبْعَةَ عَشَرَ شَهْرًا، وَكَانَ يُعْجِبُهُ أَنْ تَكُونَ قِبْلَتُهُ قِبَلَ الْبَيْتِ، وَإِنَّهُ صَلَّى ـ أَوْ صَلاَّهَا ـ صَلاَةَ الْعَصْرِ، وَصَلَّى مَعَهُ قَوْمٌ، فَخَرَجَ رَجُلٌ مِمَّنْ كَانَ صَلَّى مَعَهُ، فَمَرَّ عَلَى أَهْلِ الْمَسْجِدِ وَهُمْ رَاكِعُونَ قَالَ أَشْهَدُ بِاللَّهِ لَقَدْ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قِبَلَ مَكَّةَ، فَدَارُوا كَمَا هُمْ قِبَلَ الْبَيْتِ، وَكَانَ الَّذِي مَاتَ عَلَى الْقِبْلَةِ قَبْلَ أَنْ تُحَوَّلَ قِبَلَ الْبَيْتِ رِجَالٌ قُتِلُوا لَمْ نَدْرِ مَا نَقُولُ فِيهِمْ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ (وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ )
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
৪১৩৪। আবূ নু’আইম (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনাতে ষোল অথবা সতের মাস যাবত বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর দিকে তাঁর কিবলা হওয়াকে পছন্দ করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত (কাবার দিকে মুখ করে) আদায় করেন এবং লোকেরাও তাঁর সাথে সালাত আদায় করেন। এরপর তাঁর সঙ্গে সালাত আদায়কারী একজন বের হন এবং তিনি একটি মসজিদের লোকদের কাছ দিয়ে গেলেন তখন তারা রুকু অবস্থায় ছিলেন। তিনি বললেন, আমি আল্লাহকে সাক্ষি রেখে বলছি যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মক্কার দিকে মুখ করে নামায আদায় করেছি। একথা শোনার পর তাঁরা যে অবস্থায় ছিলেন, সে অবস্থায় বায়তুল্লাহর দিকে ফিরে গেলেন। আর যারা কিবলা বায়তুল্লাহর দিকে পরিবর্তের পূর্বে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে সালাত আদায় অবস্থায় মারা গিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, তাদের সম্পর্কে আমরা কি বলব তা আমাদের জানা ছিল না। তখন আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেন "আল্লাহ এরূপ নন যে, তোমাদের ঈমানকে তিনি ব্যর্থ করে দিবেন, নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি দয়ার্দ্র, পরমদয়ালু।" (২ : ১৪৩)
২২৬৬. আল্লাহর বাণীঃ “আর এইভাবে আমি তোমাদেরকে এক মধমপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি, যাতে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষীস্বরূপ হবে এবং রাসুল (সাঃ) তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হবেন (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১৪৩)
৪১৩৫। ইউসুফ ইবনু রাশিদ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন নূহ (আলাইহিস সালাম) কে ডাকা হবে। তখন তিনি উত্তর দিবেন এ বলেঃ হে আমাদের রব! আমি আপনার পবিত্র নিকটে উপস্থিত (তখন আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন) তুমি কি (আল্লাহর পায়গাম লোকদের) পৌঁছে দিয়েছিলেন? তিনি বলবেন, হ্যাঁ। এরূপ তাঁর উম্মাতকে জিজ্ঞাসা করা হবে, [নূহ্ (আলাইহিস সালাম) কি] তোমাদের নিকট (আল্লাহর পয়গাম) পৌঁছে দিয়েছে? তারা তখন বলবে, আমাদের কাছে কোন সতর্কবাণী আগমন করেনি। তখন আল্লাহ তা’আলা [নূহ (আলাইহিস সালাম) কে] বলবেন, তোমার দাবির প্রতি সাক্ষী কে? তিনি বলবেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর উম্মাতগণ। তখন তারা সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, নূহ (আলাইহিস সালাম) তাঁর উম্মাতের নিকট আল্লাহর পয়গাম প্রচার করেছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের প্রতি সাক্ষ্য হবেন। এটাই মহান আল্লাহর বাণী وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا ওয়াসাত শব্দের অর্থ ন্যায়নিষ্ঠ।
২২৬৭. আল্লাহর বাণীঃ আপনি এ যাবৎ যে কিবলার অনুসরণ করেছিলেন তাকে আমি এইজন্য প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যাতে জানতে পারি কে রসূলের অনুসরণ করে এবং কে ফিরে যায়? আল্লাহ যাদের সৎপথ প্রদর্শন করেছেন তাদের ব্যতীত অন্যদের কাছে এটা নিশ্চিত কঠিন বিষয়। আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমান ব্যর্থ করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম মমতাময়, পরম দয়ালু। (সূরাহ-আল বাক্বারা্ ২ঃ ১৪৩)
হাদিস নং ৪১৩৬সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ بَيْنَا النَّاسُ يُصَلُّونَ الصُّبْحَ فِي مَسْجِدِ قُبَاءٍ إِذْ جَاءَ جَاءٍ فَقَالَ أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قُرْآنًا أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْكَعْبَةَ فَاسْتَقْبِلُوهَا. فَتَوَجَّهُوا إِلَى الْكَعْبَةِ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪১৩৬। মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদিন লোকেরা কুবা মসজিদে ফযরের সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় এক আগন্তুক এসে বলল, আল্লাহ তা’আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি কুরআনের এ আয়াত নাযিল করেছেন যে, তিনি যেন কাবার দিকে (সালাত (নামায/নামাজ) মুখ করেন। কাজেই আপনারাও কাবার দিকে মুখ করে নিন। সে মুতাবিক লোকেরা কাবার দিকে মুখ করে নেন।
২২৬৮. মহান আল্লাহর বাণীঃ “আকাশের দিকে বার বার আপনার তাকানোকে আমি অবশ্য লক্ষ্য করেছি। তারা যা করে সে সম্বন্ধে আল্লাহ অনবহিত নন (সূরাহ-আল বাক্বারা ২ঃ ১৪৪)
হাদিস নং ৪১৩৭সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمْ يَبْقَ مِمَّنْ صَلَّى الْقِبْلَتَيْنِ غَيْرِي.
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪১৩৭। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যারা উভয় কিবলার (কাবা ও বায়তুল মুকাদ্দাস) এর দিকে ফিরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন তাদের মধ্যে আমি ছাড়া আর কেউ জীবিত নেই।
২২৬৯. আল্লাহর বাণীঃ “যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের কাছে আপনি সকল দলীল পেশ করেন তবুও তারা আপনার কিবলার অনুসরণ করবে না, আর আপনিও তাদের কিবলার অনুসারী নন। এবং তারা একে অন্যের অনুসরণ করে না। আপনি যদি আপনার কাছে জ্ঞান আসার পর তাদের বাসনার অনুসরণ করেন, তবে নিশ্চয় আপনি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।”(সূরাহ-আল বাক্বারা ২ঃ ১৪৫)
হাদিস নং ৪১৩৮সহিহ
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ بَيْنَمَا النَّاسُ فِي الصُّبْحِ بِقُبَاءٍ جَاءَهُمْ رَجُلٌ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ اللَّيْلَةَ قُرْآنٌ، وَأُمِرَ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْكَعْبَةَ أَلاَ فَاسْتَقْبِلُوهَا. وَكَانَ وَجْهُ النَّاسِ إِلَى الشَّأْمِ فَاسْتَدَارُوا بِوُجُوهِهِمْ إِلَى الْكَعْبَةِ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪১৩৮। খালিদ ইবনু মাখলাদ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা লোকেরা মসজিদে কুবায় ফযরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন। এমন সময় তাদের কাছে একজন লোক এসে বলল, এই রাত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর কুরআনের আয়াত নাযিল হয়েছে এবং তিনি নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছেন কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে সালাত আদায় করার জন্য। অতএব আপনারা কাবার দিকে মুখ ফিরান। আর তখন লোকদের চেহারা শামের দিকে ছিল। এরপর তারা তাদের চেহারা কাবার দিকে ফিরিয়ে নিলেন।
২২৭০. আল্লাহর বাণীঃ “ যাদের আমি কিতাব দিয়েছি তারা তাকে সেইরূপে জানে, যেরূপ তারা তাদের পুত্রদের জানে। এবং একদল জেনেশুনে সত্য গোপন করে থাকে। আর সত্য আপনার প্রভুর পক্ষ থেকে। সুতরাং আপনি যেন সন্দেহ ও সংশয় পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হন।” (সূরাহ-আল বাক্বারা ২ঃ ১৪৬-১৪৭)
৪১৩৯। ইয়াহইয়া ইবনু কাযাআ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা লোকেরা কুবা মসজিদে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) রত ছিলেন, তখন তাদের নিকট একজন আগন্তুক এসে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি এ রাতে কুরআনের আয়াত নাযিল করা হয়েছে, তাতে তাঁকে কাবার দিকে মুখ ফিরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতএব আপনারা কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তার তখন তাদের মুখ সিরিয়ার দিকে ছিল। এরপর তাদের মুখ কাবার দিকে ফিরে গেল।
২২৭১. আল্লাহর বাণীঃ আর তাদের প্রত্যেকেরেই রয়েছে একটি দিক, যেদিকে সে মুখ করে । সুতরাং তোমরা সৎকর্মে প্রতিযোগিতা কর। তোমরা যেখানেই থাক না কেন, আল্লাহ তোমাদের সকলকে একত্র করবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান (২ঃ ১৪৮)
হাদিস নং ৪১৪০সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ صَلَّيْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ سِتَّةَ عَشَرَ ـ أَوْ سَبْعَةَ عَشَرَ ـ شَهْرًا، ثُمَّ صَرَفَهُ نَحْوَ الْقِبْلَةِ.
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
৪১৪০। মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ... বারা (ইবনু আযিব) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ষোল অথবা সতের মাস যাবত (মদিনাতে) বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছি। তারপর আল্লাহ তাঁকে কাবার দিকে ফিরিয়ে দেন।
২২৭২. আল্লাহর বাণীঃ “যেখান হতেই তুমি বের হও না কেন, মসজিদুল হারামের দিকে ফেরাও । নিশ্চয় এটা তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে প্রেরিত সত্য। তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আল্লাহ বেখবর নন। (সূরাহ-আল বাক্বারা ২ঃ ১৪৯) । شَطْرُهُ অর্থ সেই দিকে।
৪১৪১। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা কূবা মসজিদে সাহাবীগণ ফজরের সালাত (নামায/নামাজ)-রত ছিলেন। এমন সময় এক ব্যাক্তি এসে বলল, আজ রাতে [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি] কুরআনের আযাত নাযিল হয়েছে, তাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার দিকে মুখ ফিরাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতএব আপনারা সে দিকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তখন তারা আপন আপন অবস্থায় মুখ ফিরিয়ে নেন এবং কাবার দিকে মুখ করেন। সে সময় তাদের মুখ সিরিয়ার দিকে ছিল।
২২৭৩. আল্লাহর বাণীঃ এবং তুমি যেখান হতেই বের হও না কেন মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই তাহনা কেন তার দিকে মুখ ফিরাবে, যাতে তোমরা সৎ পথে পরিচালিত হতে পার। (২ঃ ১৫০)
৪১৪২। কুতাইবা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা কুবাতে সাহাবীগণ ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) রত ছিলেন, এমতাবস্থায় জনৈক আগন্তুক এসে বলল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি আজ রাতে কুরআনের আয়াত নাযিল হয়েছে এবং তাঁকে কাবার দিকে মুখ ফিরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতএব আপনারাও সে দিকে মুখ ফিরান। তাদের মুখ তখন সিরিয়ার দিকে ছিল। এরপর তারা কাবার দিকে ফিরে গেলেন।
২২৭৪. মহান আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া হল আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত । অতএব যে কেউ কা‘বা ঘরে হজ্জ বা ‘উমরাহ সম্পন্ন করে এ দুটির মধ্যে সায়ী (যাতায়াত) করলে কোন পাপ নেই । আর কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোন নেক কাজ করলে আল্লাহ তার পুরস্কার দেবেন, তিনি সর্বজ্ঞ । (সূরাহ-আল বাক্বারা ২/১৫৮)। শা’আয়ির (شَعَائِرِ) শারাতুনের বহু বচন। অর্থ নিদর্শন। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, সাফওয়ান অর্থ পাথর; বলা হতো এমন পাথর যা কোন কিছু উৎপন্ন করে না। একবচনে صفوانة হয়ে থাকে। ব্যবহৃত হয় صفا বহুবচনে।
৪১৪৩। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম আর সে সময় আমি অল্প বয়স্ক ছিলাম। মহান আল্লাহর বাণীঃإِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ এ আয়াত সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? "সাফা এবং মারওয়া পর্বতদ্বয় আল্লাহ তা’আলার নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই যে বায়তুল্লাহর হাজ্জ (হজ্জ) বা উমরা ইচ্ছা করে তার জন্য উভয় পর্বতের মধ্যে সায়ী করাতে কোন দোষ নেই।" (২ঃ ১৫৮) আমি মনে করি উক্ত দুই পর্বত সায়ী না করণের কোন ব্যাক্তির উপর গুনাহ বর্তাবে না। তখন আয়িশা (রাঃ) বললেন, কখনই এরূপ নয়। তুমি যা বলছ যদি তাই হতো তা হলে বলা হতো এভাবে فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لاَ يَطَّوَّفَ بِهِمَا "উভয় পর্বত তাওয়াফ না করলে কোন গুনাহ বর্তাবে না। বস্ত্তত এই আয়াত নাযিল হয়েছে আনসারদের শানে। তারা ’মানাত’ এর পূজা করত। আর ’মানাত’ ছিল কুদায়েদের পথে অবস্থিত। আনসারগণ সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সায়ী করা মন্দ জানতো। ইসলামের আগমনের পর তারা এ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করল। তখন আল্লাহ উক্ত আয়াত নাযিল করেন।
৪১৪৪। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আসিম ইবনু সুলাইমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে সাফা ও মারওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমরা ঐ দু’টিকে জাহেলী যুগের প্রথা বলে বিবেচনা করতাম। এরপর যখন ইসলাম আসলো, তখন আমরা উভয়ের মধ্যে সায়ী করা থেকে বিরত থাকি। তখন উক্ত আয়াত নাযিল হয়।
২২৭৫. মহান আল্লাহর বাণীঃ তথাপি কেউ কেউ আল্লাহ ছাড়া অপরকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে গ্রহন করে (২ঃ ১৬৫) এখানে أندادا শব্দের অর্থ সমকক্ষ ও বরাবর। এর একবচন ند
হাদিস নং ৪১৪৫সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَلِمَةً وَقُلْتُ أُخْرَى قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ مَاتَ وَهْوَ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ نِدًّا دَخَلَ النَّارَ ". وَقُلْتُ أَنَا مَنْ مَاتَ وَهْوَ لاَ يَدْعُو لِلَّهِ نِدًّا دَخَلَ الْجَنَّةَ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪১৪৫। আবদান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কথা বললেন, আর আমি আর একটি বললাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যকে তাঁর সমকক্ষে স্থাপন করতঃ মৃত্যুবরণ করে, সে জাহান্নামে যাবে। আর আমি বললাম, যে ব্যাক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক ও সমকক্ষ স্থাপন না করা অবস্থায় মারা যায়, (তখন তিনি বললেন) সে জান্নাতে যাবে।
২২৭৬. হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য নিহতদের ব্যপারে কিসাসের বিধান দেয়া হল, স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস এবং নারীর বদলে নারী। তবে তার ভাইয়ের তরফ থেকে কাউকে কিছু ক্ষমা করে দেয়া হলে যথাযথ বিধির অনুসরণ করতে হবে এবং সততার সঙ্গে তা তাকে প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের প্রতিপালকের তরফ থেকে ভার লাঘব ও বিশেষ রাহমাত। এরপরও যে কেউ বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি । (সূরাহ-আল বাক্বারা ২/১৭৮) উফিয়ার (عفى) অর্থ পরিত্যাগ করে।
৪১৪৬। হুমায়দী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনী ইসরাঈল সম্প্রদায়ে কিসাস প্রথা চালু ছিল কিন্তু দিয়াত* তাদের মধ্যে চালু ছিল না। অনন্তর আল্লাহ তা’আলা এ উম্মতের জন্য এ আয়াত নাযিল করেনঃ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ উল্লেখিত আয়াতে আলআফুব (الْعَفْوُ) এর অর্থ ইচ্ছাকৃত হত্যার বিনিময়ে দিয়াত গ্রহণ করে কিসাস ক্ষমা করে দেওয়া। ’’ফাত্তবাউন বিল মারুফি ওয়া আদাউন ইলাহি বি ইহসানিন’ অর্থাৎ এ ব্যাপারে যথাযথ বিধির অনুসরণ করবে এবং সততার সাথে দিয়াত আয়াত করে দেবে। তোমাদের প্রতি অবধারিতভাবে আরোপিত কেবল কিসাস হতে তোমাদের প্রতি দিয়াত ব্যবস্থা আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ ও হ্রাস ও লঘু শাস্তির বিধান। দিয়াত কবুল করার পরও যদি হত্যা করে তাহলে তার জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
* হত্যার শাস্তি ক্ষমা করে দেওয়ার বিনিময়ে গৃহীত ক্ষতিপূরণের অর্থকে দিয়াত বলে।
হাদিস নং ৪১৪৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، أَنَّ أَنَسًا، حَدَّثَهُمْ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كِتَابُ اللَّهِ الْقِصَاصُ ".
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪১৪৭। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) তাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহর কিতাবেই কিসাসের নির্দেশ রয়েছে।
হাদিস নং ৪১৪৮সহিহ
حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُنِيرٍ، سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ بَكْرٍ السَّهْمِيَّ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ الرُّبَيِّعَ، عَمَّتَهُ كَسَرَتْ ثَنِيَّةَ جَارِيَةٍ، فَطَلَبُوا إِلَيْهَا الْعَفْوَ فَأَبَوْا، فَعَرَضُوا الأَرْشَ فَأَبَوْا، فَأَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبَوْا إِلاَّ الْقِصَاصَ، فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْقِصَاصِ، فَقَالَ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَتُكْسَرُ ثَنِيَّةُ الرُّبَيِّعِ لاَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لاَ تُكْسَرُ ثَنِيَّتُهَا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَنَسُ كِتَابُ اللَّهِ الْقِصَاصُ ". فَرَضِيَ الْقَوْمُ فَعَفَوْا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ ".
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪১৪৮। আবদুল্লাহ ইবনু মুনীর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আনাসের ফুফু রুবাঈ জনৈক বাঁদির সামনের দাঁদ ভেঙ্গে ফেলে। এরপর বাঁদির কাছে রুবাঈয়ের লোকেরা ক্ষামাপ্রার্থী হলে বাঁদির লোকেরা অস্বীকার করে। তখন তাদের কাছে দীয়াত পেশ করা হল, তখন তা তারা গ্রহণ করল না। অগত্যা তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমীপে এসে ঘটনা জানাল। কিন্তু বাঁদির লোকেরা কিসাস ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসাসের নির্দেশ দিলেন। তখন আনাস ইবনু নযর (রাঃ) নিবেদন করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রুবাঈয়ের সামনে দাঁত ভেঙ্গে দেওয়া হবে? না যে সত্তা আপনাকে সত্য ধর্ম দিয়ে প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ, তাঁর দাঁত ভাঙ্গা হবে না। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আনাস! আল্লাহর কিতাবই কিসাসের নির্দেশ দেয়। এরপর বাঁদির সম্প্রদায় রাযী হয়ে যায় এবং রুবাঈকে ক্ষমা করে দেয়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যিনি আল্লাহর নামে শপথ করেন, আল্লাহ তা পূরণ করেন।
২২৭৭. মহান আল্লাহর বাণীঃ হে মু’মিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার (২ঃ ১৮৩)
৪১৪৯। মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহেলী যুগের লোকেরা আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা) রোযা পালন করত। এরপর যখন রমযানের রোযা বিধান অবতীর্ণ হল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার ইচ্ছা সে আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র রোযা পালন করতে পারে আর যে চায় সে পালন না-ও করতে পারে।
হাদিস নং ৪১৫০সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ كَانَ عَاشُورَاءُ يُصَامُ قَبْلَ رَمَضَانَ، فَلَمَّا نَزَلَ رَمَضَانُ قَالَ " مَنْ شَاءَ صَامَ، وَمَنْ شَاءَ أَفْطَرَ ".
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪১৫০। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমযানের রোযা অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে আশূরার রোযা পালন করা হত। এরপর যখন রমযানের রোযার বিধান অবতীর্ণ হল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ইচ্ছা করে সাওমে ’আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা) পালন করবে, আর যে চায় সে রোযা পালন করবে না।
৪১৫১। মাহমুদ (ইবনু গায়লা) (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর নিকট ’আশ’আস (রাঃ) আসেন। এ সময় ইবনু মাসঊদ (রাঃ) পানাহার করছিলেন। তখন আশ’আস (রাঃ) বললেন, আজকে তো ’আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)। তিনি বললেন, রমযানের রোযার বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বে ’আশূরার রোযা পালন করা হতো। যখন রমযানের রোযা নাযিল হল তখন তা পরিত্যাগ করা হয়েছে। এস, তুমিও খাও।
হাদিস নং ৪১৫২সহিহ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ تَصُومُهُ قُرَيْشٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصُومُهُ، فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ، فَلَمَّا نَزَلَ رَمَضَانُ كَانَ رَمَضَانُ الْفَرِيضَةَ، وَتُرِكَ عَاشُورَاءُ، فَكَانَ مَنْ شَاءَ صَامَهُ، وَمَنْ شَاءَ لَمْ يَصُمْهُ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪১৫২। মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহেলী যুগে কুরাইশগণ আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিন রোযা পালন করত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও সে রোযা পালন করতেন। যখন তিনি মদিনায় হিজরত করলেন তখনও তিনি সে রোযা পালন করতেন এবং অন্যদেরকেও তা পালনের নির্দেশ দিতেন। এরপর যখন রমযানের ফরয রোযার হুকুম নাযিল হল তখন আশূরার রোযা ছেড়ে দেওয়া হল। এরপর যে চাইত সে উক্ত রোযা পালন করত আর যে চাইত পালন করত না।
২২৭৮. মহান আল্লাহর বাণীঃ (রোযা ফরয করা হয়েছে তা) নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য। তবে তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে কিংবা সফরে থাকলে সে অন্য সময়ে সওমের সংখ্যা পূরণ করে নিবে। আর সওম যাদের জন্য অতিশয় কষ্টদায়ক, তারা এর পরিবর্তে ফিদয়া দিবে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করে। কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করে তবে তা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। যদি তোমার উপলব্ধি করতে তবে বুঝতে যে রোযা পালন করাই তোমাদের জন্য অধিক ফলপ্রসু (২ঃ ১৮৪)
وَقَالَ عَطَاءٌ يُفْطِرُ مِنْ الْمَرَضِ كُلِّهِ كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى وَقَالَ الْحَسَنُ وَإِبْرَاهِيمُ فِي الْمُرْضِعِ أَوْ الْحَامِلِ إِذَا خَافَتَا عَلَى أَنْفُسِهِمَا أَوْ وَلَدِهِمَا تُفْطِرَانِ ثُمَّ تَقْضِيَانِ وَأَمَّا الشَّيْخُ الْكَبِيرُ إِذَا لَمْ يُطِقْ الصِّيَامَ فَقَدْ أَطْعَمَ أَنَسٌ بَعْدَ مَا كَبِرَ عَامًا أَوْ عَامَيْنِ كُلَّ يَوْمٍ مِسْكِينًا خُبْزًا وَلَحْمًا وَأَفْطَرَ قِرَاءَةُ الْعَامَّةِ يُطِيقُونَهُ وَهْوَ أَكْثَرُ
ইমাম আতা (রহঃ) বলেন, সর্বপ্রকার রোগেই সওম ভঙ্গ করা যাবে। যেমন আল্লাহ বলেছেন। পক্ষান্তরে ইমাম হাসান ও ইবরাহীম (রহঃ) বলেন, স্তন্যদাত্রী এবং গর্ভবতী স্ত্রীলোক যখন নিজ প্রাণ অথবা তাদের সম্মানের জীবনের প্রতি হুমকির আশংকা করে তখন তারা উভয়ে সওম ভঙ্গ করতে পারবে। পরে তা আদায় করে নিতে হবে। অতিবৃদ্ধ ব্যক্তি যখন সওম পালনে অক্ষম হয়ে পড়ে (তখন ফিদয়া আদায় করবে।) আনাস (রাঃ) বৃদ্ধ হওয়া পর এক বছর অথবা দু’বছর প্রতিদিন এক দরিদ্র ব্যক্তিকে রুটি ও মাংস খেতে দিতেন এবং সওম ছেড়ে দিতেন। অধিকাংশ লোকের কিরাআত হল- يُطِيْقُوْنَه অর্থাৎ যারা সওমের সামর্থ রাখে, এবং সাধারণত এরূপই পড়া হয়।
৪১৫৩। ইসহাক (রহঃ) ... আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে পড়তে শুনেছেন وَعَلَى الَّذِينَ يُطَوَّقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ অর্থাৎ যাদের প্রতি রোযার বিধান আরোপ করা হয়েছে অথচ তারা এর সময় নয়। তাদের প্রতি একজন মিসকিনকে খানা খাওয়ানোই ফিদয়া। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ আয়াত রহিত হয়নি। এর হুকুম সেই অতিবৃদ্ধ পুরুষ ও স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা রোযা পালনে সামর্থ্য রাখে না, তখন প্রত্যেকদিনের রোযার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে পেট ভরে আহার করাবে।
২২৭৯. মহান আল্লাহর বাণীঃ সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সওম পালন করে।” (সূরাহ আল-বাক্বারা ২/১৮৫)
হাদিস নং ৪১৫৪সহিহ
حَدَّثَنَا عَيَّاشُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّهُ قَرَأَ (فِدْيَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ) قَالَ هِيَ مَنْسُوخَةٌ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪১৫৪। আইয়্যাশ ইবনুল ওয়ালিদ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি পাঠ করতেনفِدْيَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ রাবী বলে, এ আয়াতفمن شهد الخ আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে।
৪১৫৫। কুতায়বা (রহঃ) ... সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল এবং যারা রোযা পালনের সামর্থ রাখে তারা একজন মিসকীনকে ফিদয়াস্বরূপ আহার্য দান করবে। তখন যে ইচ্ছা রোযা ভঙ্গ করত এবং তার পরিবর্তে ফিদয়া প্রদান করত। এরপর পরবর্তী আয়াত নাযিল হয় এবং পূর্বোক্ত আয়াতের হুকুম রহিত করে দেয়। আবূ আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, ইয়াযীদের পূর্বে বুকায়র মারা যান।
আবূ মামার মুজাহিদ (রহঃ) বর্ণিত, ইবনু আব্বাস (রাঃ) এ আয়াত এভাবে তিলাওয়াত করতেনوَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ তিনি বলতেন,وَعَلَى الَّذِينَ يحملونه যাদের প্রতি রোযার বোঝা চাপানো হয়েছে (আর সে হল অতিবৃদ্ধ যে রোযা পালনে অসমর্থ। তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সে প্রতিদিন একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে। আরومن تطوع خيرا স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতিরিক্ত নেক কাজ করবে তা তার জন্য উত্তম। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, যে ব্যাক্তি অতিরিক্ত করে এবং নির্ধারিত সংখ্যক মিসকীনদের অধিক জনকে খাদ্যদান করে তা তার জন্য কল্যাণকর হবে।
২২৮০. মহান আল্লাহর বাণীঃ রোযার রাত্রে তোমাদের জন্য স্ত্রীসম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক। আল্লাহ জানতেন যে, তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করছিলে। এরপর তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হলেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করলেন। সুতরাং, এখন তোমরা তাদের সাথে সঙ্গত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু বিধিবদ্ধ করেছেন তা কামনা কর। (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১৮৭)
৪১৫৬। উবায়দুল্লাহ ও আহমদ ইবনু উসমান (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রমযানের রোযার হুকুম নাযিল হল তখন মুসলিমরা গোটা রমযান মাস স্ত্রী-সম্ভোগ থেকে বিরত থাকতেন আর কিছু সংখ্যক লোক এ ব্যাপারে নিজেদের উপরে (স্ত্রী-সম্ভোগ করে) অবিচার করে বসে তখন আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেনعَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُونَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ ’’আল্লাহ জানতেন যে, তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করছিলে। এরপর তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করেন। সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে মিলিত হও এবং আল্লাহ যা তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন তা কামনা কর। (২ঃ ১৮৭)
২২৮১. মহান আল্লাহর বাণীঃ আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। তারপর সওম পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর তোমরা যখন মসজিদে ই’তিকাফ করবে তখন স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করবে না। এগুলো আল্লাহর বেঁধে দেয়া সীমারেখা। সুতরাং এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে আল্লাহ তাঁর নিদর্শনাবলী মানুষের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে। (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১৮৭)। আল-আকিফু (العاكف) অর্থ (المقيم) অবস্থানকারী
৪১৫৭। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... ’আদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি (আদী) একটি সাদা ও একটি কালো সুতা সঙ্গে রাখলেন। কিছু রাত অতিবাহিত হলে খুলে দেখলেন কিন্তু তাঁর কাছে সাদা কালোর কোন ব্যবধান স্পষ্ট হল না। যখন সকাল হল তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার বালিশের নিচে (সাদা ও কালো রঙের দু’টি সুতা) রেখেছিলাম এবং তিনি রাতের ঘটনাটি উল্লেখ করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার বালিশ তাহলে বেশ চওড়া ছিল, যদি কালো ও সাদা সুতা তোমার বালিশের নিচে থেকে থাকে।
৪১৫৮। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আল্লাহর বাণীতে)الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ সাদা সুতা কালো সুতা বের হয়ে আসার অর্থ কি? আসলে কি ঐ দুটি সুতা? তিনি উত্তর দিলেন, তুমি অবশ্য চওড়া পিঠ ও পশ্চাৎ বিশিষ্ট দু’টি সুতা দেখতে। তারপর তিনি বললেন, তা নয় বরং এ হল রাতের অন্ধকার ও দিনের শুভ্রতা।
৪১৫৯। ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) ... সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ এ আয়াত যখন নাযিল হয় তখনمِنَ الْفَجْرِ ’ফজর হতে’ কথাটি নাযিল হয়নি। তাই লোকেরা রোযা পালনের ইচ্ছা করলে তখন তাদের কেউ কেউ দুই পায়ে সাদা ও কালো রঙের সুতা বেঁধে রাখতো। এরপর ঐ দুই সুতা পরিস্কারভাবে দেখা না যাওয়া পর্যন্ত তারা পানাহার করতো। তখন আল্লাহ তা’আলা পরেمِنَ الْفَجْرِ শব্দটি নাযিল করেন। এতে লোকেরা জানতে পারেন যে, এ দ্বারা উদ্দেশ্য হল রাত ও দিন।
২২৮২. মহান আল্লাহর বাণীঃ পশ্চাতদিক দিয়ে গৃহে প্রবেশ করাতে কোন পুণ্য নেই, কিন্তু পুণ্য আছে কেউ তাকওয়া অবলম্বন করলে। সুতরাং তোমরা সামনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১৮৯)
৪১৬০। উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহেলীযুগে যখন লোকেরা ইহরাম বাঁধতো, (এ সময় বাড়িতে আসার প্রয়োজন দেখা দিলে) তারা পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করত। তখন আল্লাহ তা’আলাوَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَنْ تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ ظُهُورِهَا وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقَى وَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا আয়াত নাযিল করেন।
২২৮৩. মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে যাবত ফিতনা দূরিভুত না হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত না হয়। যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তবে জালিমদের ব্যতীত আর কাউকে আক্রমণ করা চলবে না।” (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ১৯৩)
৪১৬১। মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তাঁর কাছে দুই ব্যাক্তি আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়রকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ফিতনার সময় আগমন করল এবং বলল, লোকেরা সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আর আপনি উমর (রাঃ) এর পুত্র এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী! কি কারণে আপনি বের হন না? তিনি উত্তর দিলেন আমাকে নিষেধ করেছে এ কথা নিশ্চই আল্লাহ তা’আলা আমার ভাইয়ের রক্ত হারাম করেছে। তারা দু’জন বললেন, আল্লাহ কি এ কথা বলেননি যে, তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর যাবত না ফিতনার অবসান ঘটে। তখন ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি যাবত না ফিতনার অবসান ঘটেছে এবং দ্বীনও আল্লাহর জন্য হয়ে গেছে। আর তোমরা ফিতনা প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করার ইচ্ছা করছ আর যেন আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য দ্বীন হয়ে গেছে।
উসমান ইবনু সালিহ ইবনু ওহাব (রহঃ) সূত্রে নাফে (রহঃ) থেকে কিছু বাড়িয়ে বলেন যে, এক ব্যাক্তি ইবনু উমর (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আবূ আবদুর রহমান! কি করণে আপনি এক বছর হাজ্জ (হজ্জ) করেন এবং এক বছর উমরা করেন অথচ আপনি আল্লাহর পথে জিহাদ পরিত্যাগ করেছেন? আপনি পরিজ্ঞাত আছেন যে, আল্লাহ এ বিষয়ে জিহাদ সম্পর্কে কিভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, হে ভাতিজা; ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে পাঁচটি বস্তুর উপরঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) প্রতিষ্ঠা, রমযানের রোযা পালন, যাকাত প্রদান এবং বায়তুল্লাহর হাজ্জ (হজ্জ) উদযাপন। তখন সে ব্যাক্তি বলল, হে আবূ আবদুর রহমান! আল্লাহ তা’আলা তাঁর কিতাবে কি বর্ণনা করেছেন তা কি আপনি শুনেননি?وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا) (إِلَى أَمْرِ اللَّهِ) (قَاتِلُوهُمْ حَتَّى لاَ تَكُونَ فِتْنَةٌ অর্থাৎ মু’মিনদের দু’দল দ্বন্ধে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবে। এরপর তাদের একদল অপর দলকে আক্রমণ করলে তোমরা আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যতক্ষন না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি তারা ফিরে আসে-তবে তাদের মধ্যে ন্যায়ের সাথে ফায়সালা করবে এবং সুবিচার করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালবাসেন। (৪৯: ৯)
قَاتِلُو الاية(এ আয়াতগুলো শ্রবণ করার পর) ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, আমরা এ কাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে করেছি এবং তখন ইসলামের অনুসারীর দল স্বল্পসংখ্যক ছিল। যদি কোন লোক দ্বীন সম্পর্কে ফিতনায় নিপতিত হতো তখন হয় তাকে হত্যা করা হত অথবা শাস্তি প্রদান করা হত। এভাবে ইসলামের অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে গেল। তখন আর কোন ফিতনা রইল না। সে ব্যাক্তি বলল, আলী ও উসমান (রাঃ) সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি বললেন, উসমান (রাঃ)-কে তো আল্লাহ তা’আলা ক্ষমা করেছেন অথচ তোমরা তাঁকে ক্ষমা করা পছন্দ করো না। আর আলী (রাঃ)-তিনি তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচাতো ভাই এবং তাঁর জামাতা। তিনি নিজ হাত দ্বারা ইশারা করে বলেন, এই তো তাঁর ঘর [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরের কাছে] যেমন তোমরা দেখতে পাচ্ছ।
হাদিস নং - ৪৫১৩, ৪৫১৪ ও ১৫১৫
২২৮৪. মহান আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহর পথে ব্যয় কর এবং নিজেদের হাতে নিজদেরকে তোমরা ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না। আর তোমরা সৎকাজ কর। নিশ্চয় আল্লাহ সতকর্মশীলদের ভালবাসেন” – (সূরা আল-বাক্বারা ২/১৯৫)। আয়াতে উল্লাখিত التَّهْلُكَةِ ও الْهَلأَك একই অর্থে ব্যবহৃত।
৪১৬৩। আদম ... আবদুল্লাহ ইবনু মা’কিল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কা’ব ইবনু উজরা-এর নিকট এই কূফার মসজিদে বসা থাকাকালে রোযার ফিদয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমার চেহারায় উকুন ছড়িয়ে পড়া অবস্থায় আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আনা হয়। তিনি তখন বললেন, আমি মনে করি যে, এতে তোমার কষ্ট হচ্ছে। তুমি কি একটি বকরী যোগাড় করতে পার? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তুমি তিনদিন রোযা পালন কর অথবা ছয়জন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান কর। প্রতিটি দরিদ্রকে অর্ধ সা’ খাদ্য প্রদান করতে হবে এবং তোমার মাথার চুল কামিয়ে ফেল। তখন আমার সম্পর্কে বিশেষভাবে আয়াত নাযিল হয়। তবে তা তোমাদের সকলের জন্য প্রযোজ্য।
২২৮৬. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজ্জের প্রাক্কালে উমরা দ্বারা লাভবান হতে চায়, সে সহজলভ্য কুরবানী করবে (২ঃ ১৯৬)
হাদিস নং ৪১৬৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عِمْرَانَ أَبِي بَكْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ أُنْزِلَتْ آيَةُ الْمُتْعَةِ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَفَعَلْنَاهَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَمْ يُنْزَلْ قُرْآنٌ يُحَرِّمُهُ، وَلَمْ يَنْهَ عَنْهَا حَتَّى مَاتَ قَالَ رَجُلٌ بِرَأْيِهِ مَا شَاءَ.
বর্ণনাকারী: ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
৪১৬৪। মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তামাত্তুর আয়াত আল্লাহর কিতাবে নাযিল হয়েছে। এরপর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তা আদায় করেছি এবং একে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কুরআনের কোন আয়াত নাযিল হয়নি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল পর্যন্ত তা থেকে নিষেধও করেনি। এখন যে তা নিষেধ করতে চায় তা হচ্ছে তার নিজস্ব অভিমত।
২২৮৭. মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। (সূরা আল-বাক্বারা ২ঃ ১৯৮)
৪১৬৫। মুহাম্মদ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উকায, মাজান্না এবং যুল-মাজায নামক তিনটি স্থানে জাহেলী যুগে বাজার ছিল। কুরাইশগণ তথায় হাজ্জের মওসুমে ব্যবসা করতে যেত। তাই মুসলিমগণ সেখানে যাওয়া দোষ মনে করত। তাই এ আয়াত নাযিল হয়।
২২৮৮. আল্লাহর বাণীঃ এরপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে তোমরাও সে স্থান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে (২ঃ ১৯৯)
হাদিস নং ৪১৬৬সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ كَانَتْ قُرَيْشٌ وَمَنْ دَانَ دِينَهَا يَقِفُونَ بِالْمُزْدَلِفَةِ، وَكَانُوا يُسَمَّوْنَ الْحُمْسَ، وَكَانَ سَائِرُ الْعَرَبِ يَقِفُونَ بِعَرَفَاتٍ، فَلَمَّا جَاءَ الإِسْلاَمُ أَمَرَ اللَّهُ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَأْتِيَ عَرَفَاتٍ، ثُمَّ يَقِفَ بِهَا ثُمَّ يُفِيضَ مِنْهَا، فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى (ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ)
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪১৬৬। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কুরাইশ এবং যারা তাদের দ্বীনের অনুসারী ছিল তারা (হাজ্জের সময়) মুযদালিফায় অবস্থান করত। আর কুরাইশগণ নিজেদের সাহসী ধর্মে অটল বলে অভিহিত করত এবং অপরাপর আরবগণ আরাফাতে অবস্থান করত। এরপর যখন ইসলামের আগমন হল, তখন আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আরাফাতে ওকুফের এবং এরপর সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিলেন।ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ আয়াতে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
৪১৬৭। মুহাম্মদ ইবনু আবূ বকর (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তামাত্তু আদায়কারী ব্যাক্তি উমরা আদায়ের পরে যতদিন হালাল অবস্থায় থাকবে ততদিন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে। তারপর হাজ্জের (হজ্জ) জন্য ইহরাম বাঁধবে। এরপর যখন আরাফাতে যাবে তখন উট, গরু, ছাগল প্রভৃতি যা মুহারিমের জন্য সহজলভ্য হয় তা মীনাতে কুরবানী করবে। আর যে কুরবানীর সঙ্গতি রাখে না সে হাজ্জের (হজ্জ) দিনসমূহের মধ্যে তিনটি রোযা পালন করবে। আর তা আরাফার দিবসের পূর্বে হতে হবে। আর তিন দিনের শেষ দিন যদি আরাফার দিন হয়, তবে তাতে কোন দোষ নেই। তারপর আরাফাত ময়দানে যাবে এবং সেখানে সালাতে আসর হতে সূর্যাস্তের অন্ধকার পর্যন্ত ওকুফ (অবস্থান) করবে।
এরপর আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করে মুযদালিফায় পৌঁছে সেখানে নেকী হাসিলের কাজ করতে থাকবে এবং অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকর করবে। সেখানে ফজর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাকবীর ও তাহলীল পাঠ করবে। এরপর (মদিনার) দিকে প্রত্যাবর্তন করবে যেভাবে অন্যান্য লোক প্রর্ত্যাবর্তন করে। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেন, "এরপর প্রত্যাবর্তন কর সেখান হতে, যেখান হতে লোকজন প্রত্যাবর্তন করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল, দয়াময়।" তারপর জমরাতুল উকাযার প্রস্তর নিক্ষেপ করবে।
২২৮৯. আল্লাহর বাণীঃ এবং তাদের মধ্যে যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের অগ্নি যন্ত্রনা হতে রক্ষা করুন।’’ (বাকারাঃ ২: ২০১)
হাদিস নং ৪১৬৮সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ".
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪১৬৮। আবূ মা’মার (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলে দুআ করতেন,اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ "হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।" (২ঃ ২০১)
২২৯০. আল্লাহর বাণীঃ প্রকৃতপক্ষে সে কিন্তু ঘোর বিরোধী। (সূরা আল-বাক্বারা ২ঃ ২০৪) النسل অর্থ হল الحيوان জানোয়ার।
হাদিস নং ৪১৬৯সহিহ
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، تَرْفَعُهُ قَالَ " أَبْغَضُ الرِّجَالِ إِلَى اللَّهِ الأَلَدُّ الْخَصِمُ ".<br /> وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪১৬৯। কাবীসা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর নিকট ঘৃণিত মানুষ হচ্ছে অতিরিক্ত ঝগড়াটে ব্যাক্তি।
আবদুল্লাহ বলেন, আমার কাছে সুফিয়ান হাদীস বর্ণনা করেন, সুফিয়ান বলেন আমার কাছে ইবনু যুরায়জ ইবনু আবূ মূলায়কা হতে আয়িশা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই মর্মে বর্ণনা করেছেন।
২২৯১. আল্লাহর বাণীঃ তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, যদিও এখনও তোমরা তাদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে গত হয়েছে? তাদের উপর পতিত হয়েছিল অর্থ-সংকট ও দুঃখ-ক্লেশ। তারা এমনভাবে ভীত-শিহরিত হয়েছিল যে, রসূল এবং তাঁর সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল তাদের বলতে হয়েছিলঃ কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য? হাঁ, আল্লাহর সাহায্য নিকটেই। (সূরা আল-বাক্বারা ২/২১৪)
৪১৭০। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ’’আল্লাহর বাণীঃ ’’অবশেষে রাসূলগণ যখন নিরাশ হলেন এবং লোকেরা ভাবলো যে, রাসূলগণকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়েছে (১২: ১১০), তখন ইবনু আব্বাস (রাঃ) এই আয়াতসহ সূরা বাকারার আয়াতের শরনাপন্ন হন ও তিলাওয়াত করেন, যেমনঃحَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلاَ إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيب এমন কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথে ঈমান আনয়নকারীগণ বলে উঠেছিল-আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে? হ্যাঁ, হ্যাঁ, আল্লাহর সাহায্য নিকটেই (২: ২১৪)
রাবী বলেন, এরপর আমি উরওয়া ইবনু যুবায়রের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করি, তখন তিনি বলেন যে, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি, আল্লাহর কসম, আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূলের নিকট যেসব অঙ্গীকার করেছেন, তিনি জানতেন যে তা তাঁর মৃত্যুর পূর্বেই বাস্তবে পরিণত হবে। কিন্তু রাসূলগণের প্রতি সমূহ বিপথ-আপদ নিপতিত হতে থাকবে। এমন কি তারা আশঙ্কা করবে যে, সঙ্গী-সাথীরা তাদেরকে মিথ্যুক প্রতিপন্ন করবে। এ প্রসঙ্গে আয়িশা (রাঃ) এ আয়াত পাঠ করতেনوَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِّبُوا তারা ভাবল যে, তারা তাদেরকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করবে।
২২৯২. মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের স্ত্রী তোমাদের শস্যক্ষেত্র। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার। পূর্বাহ্ণে তোমরা তোমাদের জন্য কিছু করো এবং আল্লাহকে ভয় কর। আর জেনে রাখ যে, তোমরা আল্লাহর সম্মুখীন হতে যাচ্ছ এবং মুমিনগণকে সুসংবাদ দাও। (২ঃ ২৩৩)
৪১৭১। ইসহাক (রহঃ) ... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) যখন কুরআন তিলাওয়াত করতেন তখন কুরআন তিলাওয়াত হতে অবসর না হয়ে কোন কথা বলতেন না। একদা আমি সূরা বাকারা পাঠ করা অবস্থায় তাঁকে পেলাম। পড়তে পড়তে তিনি এক স্থানে পৌঁছলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি জানো, কি উপলক্ষ্যে এ আয়াত নাযিল হয়েছে? আমি বললাম, না। তিনি তখন বললেন, অমুক অমুক ব্যাপারে আয়াত নাযিল হয়েছে। তারপর আবার তিনি তিলাওয়াত করতে থাকেন।
আবদুস সামাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেন আমার পিতা, তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করে আইয়ুব, তিনি নাফি’ থেকে আর নাফি’ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে।فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার। (২: ২২৩)। রাবী বলেন, স্ত্রীলোকের পশ্চাৎ দিক দিয়ে সহবাস করতে পারে। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি নাফি’ থেকে এবং তিনি ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং ৪১৭২সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، سَمِعْتُ جَابِرًا ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كَانَتِ الْيَهُودُ تَقُولُ إِذَا جَامَعَهَا مِنْ وَرَائِهَا جَاءَ الْوَلَدُ أَحْوَلَ. فَنَزَلَتْ (نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ)
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
৪১৭২। আবূ নু’আইম (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইহুদীরা বলতো যে, যদি কেউ স্ত্রীর পেছন দিক থেকে সহবাস করে তাহলে সন্তান টেরা চোখের হয়। তখন (তাদের এ ধারণা রদ করে)سَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ আয়াত অবতীর্ণ হয়।
২২৯৩. আল্লাহর বাণীঃ তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীদের ত্বালাক্ব দিয়ে দাও এবং তারা তাদের ইদ্দত্’কাল পূর্ণ করে তবে স্ত্রীগণ নিজেদের স্বামীদেরকে বিয়ে করতে চাইলে তোমরা তাদের বাধা দিও না (যদি তারা পরস্পর সম্মত হয়) (২ঃ ২৩২)
৪১৭৩। উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... মা’কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমার এক বোনের বিয়ের পয়গাম আমার নিকট পেশ করা হয়। আবূ আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন যে, ইবরাহীম (রহঃ) ইউনুস (রহঃ) থেকে, তিনি হাসান বসরী (রহঃ) থেকে এবং তিনি মা’কিল ইবনু ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। আবূ মা’মার (রহঃ) হাসান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মা’কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ)-এর বোনকে তার স্বামী তালাক দিয়ে তারপর পৃথক করে রাখে। যখন ’ইদ্দত পালন পূর্ণ হয় তখন তার স্বামী তাকে আবার পয়গাম পাঠায়। মা’কিল (রাঃ) অমত পোষণ করে তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়।فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ ’’তারা তাদের স্বামীর সাথে পুনরায় বিধিমত বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হতে চাইলে তাদের তোমরা বাঁধা দিওনা। (২: ২৩২)
২২৯৪. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তাদের স্ত্রীরা চার মাস দশদিন প্রতীক্ষায় থাকবে। যখন তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করবে তখন যথাবিধি নিজেদের জন্য যা করবে তাতে তোমাদের কোন অপরাধ নেই। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত (২ঃ ২৩৪)
৪১৭৪। উমাইয়া (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনু ’আফফান (রাঃ) কে উক্ত আয়াত সম্পর্কে বললাম যে, এ আয়াত তো অন্য আয়াত দ্বারা মানসুখ (রহিত) হয়ে গেছে। অতএব উক্ত আয়াত আপনি মুসহাফে লিখেছেন (অথবা রাবী বলেন) কেন বর্জন করছেন না, তখন তিনি [উসমান (রাঃ)] বললেন, হে ভাতিজা আমি মুসহাফের স্থান থেকে কোন জিনিস পরিবর্তন করব না।
৪১৭৫। ইসহাক (রহঃ) ... মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا এ আয়াতে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর পরিবার থেকে ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব। আয়াতে উল্লিখতيعفون শব্দের অর্থيهبن দান করে। অনন্তর আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেনঃوَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا وَصِيَّةً لأَزْوَاجِهِمْ مَتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِي أَنْفُسِهِنَّ مِنْ مَعْرُوفٍ ’’তোমাদের মধ্যে সপত্নীক অবস্থায় যাদের মৃত্যু আসন্ন তারা যেন তাদের স্ত্রীদের গৃহ হতে বহিস্কার না করে তাদের এক বছরের ভরণ পোষণের ওসীয়ত করে। কিন্তু যদি তারা বের হয়ে যায় তবে বিধিমত নিজেদের জন্য তারা যা করবে তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। আল্লাহ পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়। (২: ২৪০)
রাবী বলেন, আল্লাহ তা’আলা স্ত্রীর জন্য পূর্ণ বছর সতের মাস এবং বিশ রজনী নির্ধারিত করেছেন ওসীয়ত হিসেবে। সে ইচ্ছা করলে তার ওসয়ত থাকতে পারে, ইচ্ছা করলে বের হয়েও যেতে পারে। এ কথারই ইঙ্গিত করে আল্লাহর বাণীঃغَيْرَ إِخْرَاجٍ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ মোট কথা যেভাবেই হোক স্ত্রীর উপর ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব। মুজাহিদ থেকে এরূপই জানা গেছে। কিন্তু ইমাম আতা বলেন যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এই আয়াত স্ত্রীর প্রতি তার স্বামীর বাড়িতে ’ইদ্দত পালন করার হুকুম রহিত করে দিয়েছে। সুতরাং স্ত্রী যথেচ্ছা ’ইদ্দত পালন করতে পারে। আল্লাহর এ বাণী দলীল বলেঃغَيْرَ إِخْرَاجٍ ইমাম আতা বলেন, স্ত্রী ইচ্ছা করলে স্বামীর পরিজনের নিকট ’ইদ্দত পালন করতে পারে এবং তার ওসীয়ত থাকতে পারে অথবা তথা হতে চলেও যেতে পারে।فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ আয়াতের মর্মানুসারে।
ইমাম আতা (রহঃ) বলেন, তারপর মিরাস বা উত্তরাধিকারের হুকুমولهن الربع مما تركتم আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হল। সুতরাং ঘর ও বাসস্থানের নির্দেশ রহিত হয়ে যায়। কাজেই যথেচ্ছা স্ত্রী ’ইদ্দত পালন করতে পারে। আর তার জন্য ঘরের বা বাসস্থানের দাবি আগ্রহ্য।
মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ হতে বর্ণিত, হাদীস বর্ণনা করেন আমার নিকট ওয়াকা’ ইবনুু আবি নাজীহ থেকে আর তিনি মুজাহিদ থেকে এ সম্পর্কে। এবং আরো আবী নাজীহ আতা থেকে এবং তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এই আয়াত স্ত্রীর ’ইদ্দত পালন স্বামীর বাড়িতে ইদ্দত পালন করার হুকুম রহিত করে দেয়। সুতরাং স্ত্রী যথেচ্ছা ইদ্দত পালন করতে পারে। আল্লাহর এই বাণীঃغَيْرَ إِخْرَاجٍ এবং তদনুরূপ আয়াত এর দলীল মুতাবিক।
৪১৭৬। হিব্বান (রহঃ) ... মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এমন একটি জলসায় (সভায়) উপবিষ্ট ছিলাম যেখানে নেতৃস্থানীয় আনসারদের কতেক ছিলেন, এবং তাদের মাঝে আবদুর রহমান বিন আবূ লায়লা (রহঃ)-ও ছিলেন। এরপর সুবাইয়া বিনতে হারিস (রহঃ) প্রসঙ্গে বর্ণিত আবদুল্লাহ বিন উতবা (রহঃ) হাদীসটি উত্থাপন করলাম, এরপর আবদুর রহমান (রহঃ) বললেন, ’’পক্ষান্তরে তাঁর চাচা এ রকম বলতেন না’’ অনন্ত আমি বললাম, কূফায় বসবাসরত ব্যাক্তিটি সম্পর্কে যদি আমি মিথ্যা বলি তবে আমি হব চরম ধৃষ্ট এবং তিনি তার স্বর উচু করলেন, তিনি বললেন, তারপর আমি বের হলাম এবং মালিক বিন আমির (রাঃ) মালিক ইবনু আউফ (রহঃ)-এর সাথে আমি বললাম, গর্ভাবস্থায় বিধবা রমণীর ব্যাপারে ইবনু মাসঊদ (রাঃ) এর মন্তব্য কি ছিল, বললেন যে ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেছেন, তোমরা কি তার উপর কঠোরতা অবলম্বন করছ আর তার জন্য সহজ বিধানটি অবলম্বন করছ না, সংক্ষিপ্ত ’’সূরা নিসাটি (সূরা ত্বালাক) দীর্ঘটির পরে অবতীর্ণ হয়েছে। আইয়ুব (রহঃ) মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, আবূ আতিয়হ মালিক বিন আমির (রহঃ)-এর সাথে আমি সাক্ষাৎ করেছিলাম।
২২৯৫. তোমরা নামাযের প্রতি যত্নবান হবে বিশেষত মধ্যবর্তী নামাযের। (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ২৩৮)
হাদিস নং ৪১৭৭সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم. حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ هِشَامٌ حَدَّثَنَا قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ عَنْ عَبِيدَةَ عَنْ عَلِيٍّ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ " حَبَسُونَا عَنْ صَلاَةِ الْوُسْطَى حَتَّى غَابَتِ الشَّمْسُ مَلأَ اللَّهُ قُبُورَهُمْ وَبُيُوتَهُمْ أَوْ أَجْوَافَهُمْ ـ شَكَّ يَحْيَى ـ نَارًا ".
বর্ণনাকারী: আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)
৪১৭৭। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আবদুর রহমান ... আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, খন্দক যুদ্ধের দিন কাফিরগণ আমাদের মধ্যবর্তী সালাত (নামায/নামাজ) থেকে বিরত রাখে এমনকি এ অবস্থায় সূর্য অস্তে চলে যায়। আল্লাহ তাদের কবর ও তাদের ঘরকে অথবা পেটকে আগুন দ্বারা পূর্ণ করুক। এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর না পেট বলেছেন তাতে ইয়াহইয়া রাবীর সন্দেহ রয়েছে।
২২৯৬. আল্লাহর বাণীঃ এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা বিনীতভাবে দাঁড়াবে। (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ২৩৮) قانتين অর্থ مطيعين অনুগত, বিনীত
৪১৭৮। মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... যায়িদ ইবনু আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সালাত (নামায/নামাজ) এর মধ্যে আলাপ-আলোচনা করতাম আর আমাদের কেউ তার ভাইয়ের প্রসঙ্গে কথা বলতেন। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃحَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ তখন আমাদেরকে চুপ থাকার ও সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে কথা না বলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
২২৯৭. আল্লাহর বাণীঃ তবে যদি তোমরা আশঙ্কা কর তবে পদচারী অথবা আরোহী অবস্থায়; যখন তোমরা নিরাপদ বোধ কর তখন আল্লাহকে স্মরণ করবে, যেভাবে তিনি তোমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যা তোমরা জানতে না। ইবন যুবায়র বলেন, كرسيه আল্লাহর কুরসীর অর্থ হলঃ علمه তার জ্ঞান। আর بسطة অর্থ হল অতিরিক্ত ও বেশী। أفرغ অর্থ নাযিল কর। ولا يئوده অর্থ ভারী ও বোঝা বোধ হয় না তার। যেমন آدني অর্থ أثقلني শক্ত ও ভারী করেছে আমাকে। الآد والأيد শব্দের অর্থ হলঃ القوة শক্ত ও শক্তি। فبهت শব্দের অর্থ হলঃ তার দলীল-প্রমান শেষ হয়ে গেছে।
৪১৭৯। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... নাফি’ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-কে যখন সালাতুল খাওফ (যুদ্ধ ক্ষেত্রে শত্রুভয়ের মধে সালাত (নামায/নামাজ) প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হত তখন তিনি বলতেন, ইমাম সাহেব সামনে যাবেন এবং একদল লোকও জামাতে শামিল হবে। তিনি তাদের সঙ্গে এক রাকাআত সালাত আদায় করবেন এবং তাদের আর একদল জামাতে শামিল না হয়ে তাদের ও শত্রুর মাঝখানে থেকে যারা সালাত আদায় করেনি তাদের পাহারা দিবে। ইমামের সাথে যারা এক রাকাআত সালাত আদায় করেছে তারা পেছনে গিয়ে যারা এখনও নামায় আদায় করেনি তাদের স্থানে দাঁড়াবে কিন্তু সালাম ফিরাবে না। যারা সালাত আদায় করেনি তারা আগে বাড়বে এবং ইমামের সাথে এক রাকাআত আদায় করবে। তারপর ইমাম সালাত হতে অবসর গ্রহণ করবে। কেননা তিনি দু’রাকাআত সালাত আদায় করেছেন।
এরপর উভয় দল দাঁড়িয়ে নিজে নিজে বাকি এক রাকাআত ইমামের সালাতের শেষে আদায় করে নিবে। তাহলে প্রত্যেক জনেরই দু’রাকাআত সালাত আদায় হয়ে যাবে। আর যদি ভয়-ভীতি ভীষণতর হয় নিজে নিজে দাঁড়িয়ে অথবা যানবাহনে আরোহিত অবস্থায় কিবলার দিকে মুখ করে অসুবিধা হলে যেদিকে সম্ভব মুখ করে সালাত আদায় করবে। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, ইমাম নাফি’ (রহঃ) বলেন, আমি অবশ্য মনে করি ইবনু উমর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেই এ হাদীস বর্ণণা করেছেন।
২২৯৮. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের সপতীক অবস্থায় যাদের মৃত্যু আসন্ন তারা যেন তাদের স্ত্রীদের গৃহ হতে বহিস্কার না করে তাদের ভরন পোষণের ওসীয়ত করে। কিন্তু যদি তারা বের হয়ে যায় তবে বিধিমত নিজেদের জন্য তারা যা করে তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। আল্লাহ পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময় (২ঃ ২৪০)
৪১৮০। আবদুল্লাহ ইবনু আবূল আসওয়াদ (রহঃ) ... ইবনু আবূ মূলায়কা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু যুবায়র (রাঃ) বললেন, আমি উসমান (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, সূরা বাকারার এ আয়াতটিوَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا) إِلَى قَوْلِهِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ কে তো অন্য একটি আয়াত রহিত করে দিয়েছে। তারপরও আপনি এভাবে লিখছেন কেন? জবাবে উসমান (রাঃ) বললেন, ভ্রাতুষ্পুত্র। আমরা তা যথাস্থানে রেখে দিয়েছি। আপন স্থান থেকে কোন কিছুই আমরা পরিবর্তন করিনি। হুমাইদ (রহঃ) বললেন, ’’অথবা প্রায় এরকমই উত্তর দিয়ে দিলেন।’’
২২৯৯. আল্লাহর বাণীঃ আর যখন ইবরাহীম (আঃ) বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা! কীভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর তা আমাকে দেখাও । (বাক্বারা ২ঃ ২৬০)
হাদিস নং ৪১৮১সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَسَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَحْنُ أَحَقُّ بِالشَّكِّ مِنْ إِبْرَاهِيمَ إِذْ قَالَ (رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتَى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِنْ قَالَ بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي)"
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪১৮১। আহমদ ইবনু সালিহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) যখনرَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتَى প্রভু! তুমি আমাকে দেখাও কেমন করে তুমি মৃতকে জীবিত কর? তখন তাঁর তুলনায় আমার সন্দেহ পোষণের ক্ষেত্রে অধিক যোগ্য ছিলাম।فصرهن শব্দের অর্থ হচ্ছে ’সেগুলোকে টুকরো টুকরো করুন।
২৩০০. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের কেউ কি চায় যে, তার একটি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান থাকবে, যার পাদদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত হবে এবং যাতে সর্বপ্রকার ফলমূল বিরাজ করে। যখন সে ব্যক্তি বার্ধক্যে উপনীত হয় এবং তার সন্তান-সন্তুতি দুর্বল, তারপর উক্ত বাগানের উপর এক অগ্নিক্ষরা ঘূর্ণিঝড় আপতিত হয় এবং তা জলে পুড়ে যায়। এভাবে আল্লাহ তা’আলা তার নিদর্শন তোমাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পার। (২ঃ ২৬৬)
৪১৮২। ইবরাহীম ... উবায়দ ইবনু উমায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা উমর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণদের জিজ্ঞাসা করলেন যে, أَيَوَدُّ أَحَدُكُمْ أَنْ تَكُونَ لَهُ جَنَّةٌ এ আয়াতটি যে উপলক্ষে অবতীর্ণ হয়েছে, সে ব্যাপারে আপনাদের মতামত কি? তখন তারা বললেন, আল্লাহই জানেন। উমর (রাঃ) এতে রেগে গিয়ে বললেন, আমরা জানি অথবা জানিনা এ দুটোর একটি বল। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ ব্যাপারে আমার অন্তরে কিছুটা ধারণা আছে। উমর (রাঃ) বলেন, বৎস! বলে ফেল এবং নিজেকে তুচ্ছ ভেবো না। তখন ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, এটা কর্মে দৃষ্টান্ত হিসাবে পেশ করা হয়েছে। উমর (রাঃ) বললেন, কোন কর্মের? ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, একটি কর্মের। উমর (রাঃ) বললেন, এটি উদাহরণ হচ্ছে সেই ধনবান ব্যাক্তির, যে আল্লাহর ইবাদত করতে থাকে, এরপর আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রতি শয়তানকে প্রেরণ করেন। অনন্তর সে পাপ কার্যে লিপ্ত হয় এবং তার সকল সৎকর্ম নষ্ট করে দেয়।
২৩০১. আল্লাহর বাণীঃ তারা মানুষের নিকট নাছোড় হয়ে যাঞ্চা করে না। ألحف علي وألح علي এবং أحفاني بالمسألة সবই একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। فيحفكم অর্থ জোর প্রচেষ্টা চালায়।
হাদিস নং ৪১৮৩সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي شَرِيكُ بْنُ أَبِي نَمِرٍ، أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ، وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي عَمْرَةَ الأَنْصَارِيَّ، قَالاَ سَمِعْنَا أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ الْمِسْكِينُ الَّذِي تَرُدُّهُ التَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ وَلاَ اللُّقْمَةُ وَلاَ اللُّقْمَتَانِ. إِنَّمَا الْمِسْكِينُ الَّذِي يَتَعَفَّفُ وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ يَعْنِي قَوْلَهُ (لاَ يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا)"
বর্ণনাকারী: আতা ইবনু ইয়াসার (রহ.)
৪১৮৩। ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) ... আতা ইবনু ইয়াসার এবং আবূ আমরা আনসারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তারা উভয়ে বলেন যে, আমরা আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একটি খেজুর কি দু’টি খেজুর আর এক গ্রাস খাদ্য কি দু’ গ্রাস খাদ্য যাকে দ্বারে দ্বারে ঘোরাতে থাকে সে প্রকৃত মিসকীন নয়। মিসকীন সে ব্যাক্তিই, যে ভিক্ষা করা থেকে বেঁচে থাকে। তোমরা ইচ্ছা করলে আল্লাহর বাণী পাঠ করতে পার لاَ يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا
২৩০২. আল্লাহর বাণীঃ অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধ এবং সুদকে অবৈধ করেছেন- (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ২৭৩) المس অর্থ পাগলামী।
হাদিস নং ৪১৮৪সহিহ
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ لَمَّا نَزَلَتِ الآيَاتُ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي الرِّبَا قَرَأَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى النَّاسِ، ثُمَّ حَرَّمَ التِّجَارَةَ فِي الْخَمْرِ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪১৮৪। উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সুদ সম্পর্কিত সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো অবতীর্ণ হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিকট তা পাঠ করে শোনালেন। তারপর মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন।
২৩০৩. আল্লাহর বাণী: আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন। (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ২৭৬) ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, বিদূরিত করেন।
৪১৮৫। বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো অবতীর্ণ হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হলেন এবং মসজিদে গিয়ে লোকদের নিকট পাঠ করে শোনালেন। এরপর মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন।
২৩০৪. আল্লাহর বাণীঃ যদি তোমরা না ছাড় তবে জেনে রাখ যে, এটা আল্লাহ ও তার রাসুলের সাথে যুদ্ধ। (২ঃ ২৭৯) [ইমাম বুঝারী (রহঃ) বলেন] فَأْذَنُوا অর্থ জেনে রাখ
হাদিস নং ৪১৮৬সহিহ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا أُنْزِلَتِ الآيَاتُ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ قَرَأَهُنَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ، وَحَرَّمَ التِّجَارَةَ فِي الْخَمْرِ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪১৮৬। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো যখন অবতীর্ণ হল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে গিয়ে তা পাঠ করে আমাদের শোনান এবং মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষনা করলেন।
২৩০৫. আল্লাহর বাণীঃ যদি খাতক অভবগ্রস্থ হয়, তবে সচ্ছলতা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দেয়া বিধেয়। আর যদি তোমরা ছেড়ে দাও তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে (২ঃ ২৮০)
হাদিস নং ৪১৮৭সহিহ
وَقَالَ لَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، وَالأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا أُنْزِلَتِ الآيَاتُ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَهُنَّ عَلَيْنَا، ثُمَّ حَرَّمَ التِّجَارَةَ فِي الْخَمْرِ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪১৮৭। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূরা বাকারার শেষ দিকের আয়াতগুলো যখন অবতীর্ণ হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং আমাদের সম্মুখে তা পাঠ করলেন। তারপর মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন।
২৩০৬. আল্লাহর বাণীঃ তোমরা সেদিনকে ভয় কর, যেদিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে (সূরাহ আল-বাক্বারা ২ঃ ২৮১)
হাদিস নং ৪১৮৮সহিহ
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ بْنُ عُقْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ آخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم آيَةُ الرِّبَا.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪১৮৮। কাবীসা ইবনু উকবা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অবতারিত শেষ আয়াতটি হচ্ছে সুদ সম্পর্কিত।
২৩০৭. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের মনে যা আছে তা তোমরা প্রকাশ কর কিংবা গোপন রাখ আল্লাহ তোমাদের নিকট হতে তার হিসাব নেবেন। এরপর যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন আর যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান (২ঃ ২৮৪)
হাদিস নং ৪১৮৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مِسْكِينٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ مَرْوَانَ الأَصْفَرِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهْوَ ابْنُ عُمَرَ أَنَّهَا قَدْ نُسِخَتْ (وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ) الآيَةَ.
বর্ণনাকারী: মারওয়ান আল-আসফার (রহঃ)
৪১৮৯। মুহাম্মদ (রহঃ) ... মারওয়ান আল আসফার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন একজন সাহাবীদের থেকে বর্ণনা করেন, আর তিনি হচ্ছেন ইবন উমর (রাঃ) যেوَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ আয়াতটি রহিত হয়ে গেছে।
২৩০৮. আল্লাহর বাণীঃ রাসুল তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতারিত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছেন এবং মু’মিনগনও (২ঃ ২৮৫) ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, غفرانك অর্থ مغفرتك আর مغفرتك অর্থ فاغفر لنا আমাদের মার্জনা করুন (২ঃ ২৮৫)
হাদিস নং ৪১৯০সহিহ
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا رَوْحٌ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ مَرْوَانَ الأَصْفَرِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ أَحْسِبُهُ ابْنَ عُمَرَ ـ (إِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ) قَالَ نَسَخَتْهَا الآيَةُ الَّتِي بَعْدَهَا.
বর্ণনাকারী: মারওয়ান আল-আসফার (রহঃ)
৪১৯০। ইসহাক (রহঃ) ... মারওয়ানুল আসফার (রহঃ) একজন সাহাবী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন আর তিনি ধারণা করেন যে, তিনি ইবনু উমর (রাঃ) হবেন।إِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ আয়াতটি রহিত হয়ে গিয়েছে।
২৩০৯. আল্লাহর বাণীঃ مِنْهُ ا”يَاتٌ مُحْكَمَاتٌ যার কতক আয়াত সুস্পষ্ট দ্ব্যর্থহীন। ইমাম মুজাহিদ (রহ.) বলেন যে, সেটি হচ্ছে হালাল আর হারাম সম্পর্কিত। وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ আর অন্যগুলো রূপক, একটি অন্যটির সত্যতা প্রমাণ করে। যেমনঃ আল্লাহর বাণীঃ وَمَا يُضِلُّ بِهٰٓ إِلَّا الْفَاسِقِيْنَ -‘‘তিনি পথ পরিত্যাগকারী ব্যতীত বস্তুত কাউকে বিভ্রান্ত করেন না।’’ আবার- وَيَجْعَلُ الرِّجْسَ عَلَى الَّذِيْنَ لَا يَعْقِلُوْنَ যারা অনুধাবন করে না আল্লাহ তাদের কলুষলিপ্ত করেন। (সূরাহ ইউনুস ১০/১০০) তদুপরি আল্লাহর বাণীঃ وَالَّذِيْنَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى وَّاٰتَاهُمْ تَقْوٰهُمْ ‘‘যারা সৎপথ অবলম্বন করেছে, আল্লাহ্ তাদেরকে আরও অধিক হিদায়াত দান করেন এবং তাদেরকে তাকওয়ার তাওফীক দেন’’- (সূরাহ মুহাম্মাদ ৪৭/১৭)। زَيْغٌ -সন্দেহ, ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ -ফিতনা শব্দের অর্থ রূপক। والراسخون في العلم যাঁরা জ্ঞানে সু-গভীর তারা জানে এবং বলে আমরা তা বিশ্বাস করি।
হাদিস নং ৪১৯১সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التُّسْتَرِيُّ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ تَلاَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذِهِ الآيَةَ (هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ) إِلَى قَوْلِهِ (أُولُو الأَلْبَابِ) قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ، فَأُولَئِكَ الَّذِينَ سَمَّى اللَّهُ، فَاحْذَرُوهُمْ ".
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
সুরা আলে ইমরান
تُقَاةٌ وَتَقِيَّةٌ একই অর্থে ব্যবহৃত অর্থাৎ ভীতি ও সংযম, صِرٌّ ঠান্ডা। شَفَا حُفْرَةٍ কথাটি شَفَا الرَّكِيَّةِ এর মত অর্থাৎ গর্তের তীর ও কিনারা। تُبَوِّئُ অস্ত্রে সজ্জিত সৈনিককে সারিবদ্ধ করছিল। الْمُسَوَّم কোন প্রতীক কিংবা অন্য কিছু দ্বারা চিহ্নিত করা। رِبِّيُّوْنَ বহুবচন। একবচনে رِبِّيٌّ আল্লাহ তা’আলা ও আল্লাহ্পন্থী। تَحُسُّوْنَهُمْ তোমরা তাদের হত্যার দ্বারা সমূলে উৎপাটিত করছিলে। غُزًّا বহুবচন। একবচনে غَازٍ যোদ্ধা। سَنَكْتُبُ অচিরে আমি সংরক্ষণ করব। نُزُلًا প্রতিদান ও আতিথেয়তা হিসাবে। مُنْزَلٌ مِنْ عِنْدِ اللهِ পড়াও বৈধ। মুফাস্সির ইমাম মুজাহিদ (রহ.)-এর মতে الْخَيْلُ الْمُسَوَّمَةُ পরিপূর্ণ সুন্দর অশ্বপাল, ইবনু যুবায়র (রাঃ) বলেন, حَصُوْرًا কামভাব নিয়ে কোন মহিলার কাছে যায় না। ’ইকরামাহ (রাঃ) বলেন, فَوْرِهِمْ বদরের দিনে তাদের ক্রোধ নিয়ে, মুজাহিদ (রহ.) বলেন, يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ নিষ্প্রাণ বীর্য নির্গত হয় এরপর তা থেকে জীবিত বের হয়। الإِبْكَارُ ঊষালগ্ন। وَالْعَشِيُّ সূর্য ঢলে যাওয়া থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
৪১৯১। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতটি
هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ إِلَى قَوْلِهِ أُولُو الأَلْبَابِ
তিনিই তোমার প্রতি এ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যার কতক আয়াত সুস্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন। এগুলো কিতাবের মূল অংশ; আর অন্যগুলো রূপক; যাদের অন্তরে সত্য লংঘন প্রবণতা রয়েছে শুধু তারাই ফিতনা এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্ধেশ্যে যা রূপক তা অনুসরণ করে। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে সু-গভীর, তাঁরা বলেন, আমরা এসব বিশ্বাস করি, সমস্ত আমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে আগত; এবং বোধশক্তিসম্পন্নরা ব্যতীত অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না। (৩: ৭) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন।
আয়িশা (রাঃ) বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন যে, যারা মুতাশাবাহাত আয়াতের পেছনে ছুটে তাদের যখন তুমি দেখবে তখন মনে করব যে তাদের কথাই আল্লাহ তা’আলা কুরআনে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। আল্লাহর বাণীঃوَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ অভিশপ্ত শয়তান থেকে তার ও তার বংশধরদের জন্য তোমার শরণ ও আশ্রয় চাচ্ছি। (৩: ৩৬)
হাদিস নং ৪১৯২সহিহ
حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا مِنْ مَوْلُودٍ يُولَدُ إِلاَّ وَالشَّيْطَانُ يَمَسُّهُ حِينَ يُولَدُ، فَيَسْتَهِلُّ صَارِخًا مِنْ مَسِّ الشَّيْطَانِ إِيَّاهُ، إِلاَّ مَرْيَمَ وَابْنَهَا ". ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ (وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ )
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪১৯২। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রত্যেক নবপ্রসূত বাচ্চা জন্ম গ্রহণ করার সময় শয়তান তাকে স্পর্শ করেই। যার ফলশ্রুতিতে শয়তানের স্পর্শমাত্র সে চিৎকার করে উঠে। কিন্তু মরিয়ম (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর পুত্র ঈসা (আলাইহিস সালাম) কে পারেনি। তারপর আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলতেন, যদি তোমরা ইচ্ছা কর তাহলে পড়ঃوَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ (৩ঃ ৩৬)
”অতঃপর যখন তাকে প্রসব করলো বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমি এক কন্যা প্রসব করেছি। বস্তুতঃ কি সে প্রসব করেছে আল্লাহ তা ভালই জানেন। সেই কন্যার মত কোন পুত্রই যে নেই। আর আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম। আর আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে তোমার আশ্রয়ে সমর্পণ করছি। অভিশপ্ত শয়তানের কবল থেকে।”
২৩১০. আল্লাহর বাণীঃ যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মুল্যে বিক্রয় করে, আখেরাতে তাদের কোন অংশ নেই (৩ঃ ৭৭) لا خلاق কোন কল্যাণ নেই। أليم শব্দটি مفعل এর আকৃতিতে ألم থেকে গঠিত। অর্থাৎ জ্বালাময়ী।
হাদিস নং ৪১৯৩সহিহ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَلَفَ يَمِينَ صَبْرٍ لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ، لَقِيَ اللَّهَ وَهْوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ ". فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَصْدِيقَ ذَلِكَ (إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً أُولَئِكَ لاَ خَلاَقَ لَهُمْ فِي الآخِرَةِ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ. قَالَ فَدَخَلَ الأَشْعَثُ بْنُ قَيْسٍ وَقَالَ مَا يُحَدِّثُكُمْ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ قُلْنَا كَذَا وَكَذَا. قَالَ فِيَّ أُنْزِلَتْ كَانَتْ لِي بِئْرٌ فِي أَرْضِ ابْنِ عَمٍّ لِي قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " بَيِّنَتُكَ أَوْ يَمِينُهُ " فَقُلْتُ إِذًا يَحْلِفَ يَا رَسُولَ اللَّهِ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينِ صَبْرٍ يَقْتَطِعُ بِهَا مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ وَهْوَ فِيهَا فَاجِرٌ، لَقِيَ اللَّهَ وَهْوَ عَلَيْهِ غَضْبَانٌ ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪১৯৩। হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মুসলিম ব্যাক্তির সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে যে মিথ্যা শপথ করে, সে আল্লাহ সম্মুখীন হবে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তার উপর ক্রুদ্ধ থাকবেন। এর সত্যতা প্রমাণের জন্য আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করেনঃإِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً أُولَئِكَ لاَ خَلاَقَ لَهُمْ فِي الآخِرَةِ (৩ঃ ৭৭) ”যারা আল্লাহর নামে কৃত অঙ্গীকার এবং প্রতিজ্ঞা সামান্য মুল্যে বিক্রয় করে, আখেরাতে তাদের কোন অংশ নেই। আর তাদের সাথে কেয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের প্রতি (করুণার) দৃষ্টিও দেবেন না। আর তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না। বস্তুতঃ তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।”
বর্ণনাকারী বললেন, এরপর আশআস ইবনু কায়েস (রহঃ) সেখানে প্রবেশ করলেন এবং বললেন, আবূ আবদুর রহমান (রাঃ) তোমাদের নিকট কোন হাদীস বর্ণনা করেছেন? আমরা বললাম, এ রকম এ রকম বলেছে। তখন তিনি বললেন, এ আয়াত তো আমাকে উপলক্ষ করেই অবতীর্ণ হয়েছে। আমার চাচাতো ভাইয়ের এলাকায় আমার একটি কূপ ছিল। এ ঘটনায় জ্ঞাত হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হয়তো তুমি প্রমাণ উপস্থাপন করবে নতুবা সে শপথ করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো শপথ করে বসবে। অনন্তর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যাক্তি কোন মুসলিমের সম্পত্তি হরণ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা শপথ করে সে আল্লাহর সম্মুখীন হবে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহই তার উপর ক্রুদ্ধ থাকবেন।
৪১৯৪। আলী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যাক্তি বাজারে তার একটি দ্রব্য উপস্থিত করল এবং মসলিমদের আটক করার জন্য শপথ সহকারে প্রচার করল যে, এর যে মূল্য দেওয়া কথা হচ্ছে এর চেয়ে অধিক দিতে কোন ক্রেতা রাযী হয়েছিল। তখন এ আয়াত নাযিল হলঃإِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً
”যারা আল্লাহর নামে কৃত অঙ্গীকার এবং প্রতিজ্ঞা সামান্য মুল্যে বিক্রয় করে, আখেরাতে তাদের কেন অংশ নেই। আর তাদের সাথে কেয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের প্রতি (করুণার) দৃষ্টিও দেবেন না। আর তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না। বস্তুতঃ তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।” (৩ : ৭৭)
হাদিস নং ৪১৯৫সহিহ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، أَنَّ امْرَأَتَيْنِ، كَانَتَا تَخْرِزَانِ فِي بَيْتٍ ـ أَوْ فِي الْحُجْرَةِ ـ فَخَرَجَتْ إِحْدَاهُمَا وَقَدْ أُنْفِذَ بِإِشْفًى فِي كَفِّهَا، فَادَّعَتْ عَلَى الأُخْرَى، فَرُفِعَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ يُعْطَى النَّاسُ بِدَعْوَاهُمْ لَذَهَبَ دِمَاءُ قَوْمٍ وَأَمْوَالُهُمْ ". ذَكِّرُوهَا بِاللَّهِ وَاقْرَءُوا عَلَيْهَا (إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ). فَذَكَّرُوهَا فَاعْتَرَفَتْ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " الْيَمِينُ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ ".
বর্ণনাকারী: ইবন আবূ মুলায়কা (রহঃ)
৪১৯৫। নসর ইবনু আলী (রহঃ) ... ইবনু আবূ মূলায়কা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, দু’জন মহিলা একটি ঘর কিংবা একটি কক্ষে সেলাই করছিল। হাতের তালুতে সুই বিদ্ধ হয়ে তাদের একজন বেরিয়ে পড়ল এবং অপর জনের বিরুদ্ধে সুই ফুটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করল। এই ব্যাপারটি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট উপস্থাপন করা হলে তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি শুধু মাত্র দাবির উপর ভিত্তি করে মানুষের দাবি পূরণ করা হয়, তাহলে তাদের জান ও মালের নিরাপত্তা থাকবে না। সুতরাং তোমরা বিবাদিদের আল্লাহর নামে শপথ করাও এ আয়াত তার সম্মুখে পাঠ কর। এরপর তারা তাকে শপথ করাল এবং সে নিজ দোষ স্বীকার করল। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শপথ করা বিবাদীর জন্য প্রযোজ্য।
২৩১১. আল্লাহর বাণীঃ তুমি বলঃ হে আহলে কিতাব! এসো সে কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই; যেন আমরা আল্লাহ ব্যতীত কারো ইবাদাত না করি। (ইমরান ৩ঃ ৬৪) سَوَاءِ সঠিক ও ন্যায়।
২৩১২. আল্লাহর বাণীঃ তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত কখনো পুণ্য লাভ করতে পারবে না। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষে অবহিত। (৩ঃ ৯২)
৪১৯৭। ইসমাঈল (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, মদিনা মনোয়ারায় আবূ তালহা (রাঃ)-ই অধিক সংখ্যক খেজুর বৃক্ষের মালিক ছিলেন। তার নিকট সর্বাধিক প্রিয় সম্পত্তি ছিল "বীরাহা" নামক বাগান। আর তা ছিল মসজিদের সম্মুখে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে এসে সেখানকার (কূপের) সুমিষ্ট পানি পান করতেন। যখনلَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ আয়াতটি নাযিল হল, তখন আবূ তালহা (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ বলেছেন, "তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যায় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করতে পারবে না।" (৩ঃ ৯২) আমার সর্বাধিক প্রিয় সম্পত্তি বীরাহা। এটা আল্লাহ ওয়াস্তে আমি দান করে দিলাম। আমি আল্লাহর নিকট পূণ্য ও সঞ্চয় চাই। আল্লাহ আপনাকে যেখানে নির্দেশ দেন আপনি সেখানে তা ব্যয় করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বাহ! ওটি তো ক্ষয়িঞ্চু সম্পদ ওটি তো ক্ষয়িঞ্চু সম্পদ, তুমি যা বলেছ আমি তা শুনেছি। তুমি তা তোমার নিকট আত্মীয়কে দিয়ে দাও, আমি এ রায় দিচ্ছি। আবূ তালহা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা করব। তারপর আবূ তালহা (রাঃ) সেটা তাঁর চাচাতো ভাই-বোন ও আত্মীয়দের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ ও ইবনু উবাদাহ (রাঃ) এর বর্ণনায় "ওটা তো লাভ জনক সম্পত্তি" বলে উল্লেখিত হয়েছে।
৪১৯৮। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, আমি মালিক (রহঃ)-এর নিকটمَالٌ رَايِحٌ "ক্ষয়িষ্ণু সম্পদ পড়েছি।"
হাদিস নং ৪১৯৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ ثُمَامَةَ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ فَجَعَلَهَا لِحَسَّانَ وَأُبِيٍّ، وَأَنَا أَقْرَبُ إِلَيْهِ، وَلَمْ يَجْعَلْ لِي مِنْهَا شَيْئًا.
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪১৯৯। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এরপর আবূ তালহা (রাঃ) হাসসান ইবনু সাবিত এবং উবায় ইবনু কাবের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। আমি তার নিকটাত্মীয় ছিলাম। কিন্তু আমাকে তা থেকে কিছুই দেননি।
২৩১৩. বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তাওরাত আন এবং পাঠ কর (সূরাহ আলে-'ইমরান ৩ঃ ৯৩)
৪২০০। ইবরাহীম ইবনু মুনযির ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে এমন দু’জন পুরুষ ও মহিলা নিয়ে ইহুদীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে উপস্থিত হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, তোমাদের ব্যভিচারীদেরকে তোমরা কিভাবে শাস্তি দাও? তারা বলল, আমরা তাদের চেহারা কালিমালিপ্ত করি এবং তাদের প্রহার করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাওরাতে প্রস্তর নিক্ষেপের বিধান পাও না? তারা বলল, আমরা তাতে এতদ সম্পর্কিত কোন কিছু পাই না। তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ। তাওরাত আন এবং তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে তা পাঠ কর।
এরপর তাওরাত পাঠের সময় তাদের পন্ডিত-পাঠক প্রস্তর নিক্ষেপ বিধির আয়াতের উপর স্বীয় হস্ত রেখে তা থেকে কেবল পূর্ব ও পরের অংশ পড়তে লাগল। রজমের আয়াত পড়ছিল না। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তার হাতটি তুলে ফেলে বললেন, এটা কি? যখন তারা পরিস্থিতি বেগতিক দেখল তখন বলল, এটি রজমের আয়াত। অনন্তর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে রজম করার নির্দেশ দিলেন। এবং মসজিদের পার্শ্বে জানাযাগাহের নিকটে উভয়কে ’রজম’ করা হল। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, আমি সেই পুরুষটিকে দেখেছি যে নিজে মহিলার উপর উপুড় হয়ে তাকে প্রস্তরাঘাত হতে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
২৩১৪. আল্লাহর বাণীঃ তোমরা শ্রেষ্ঠ উম্মাত, মানব জাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে (৩ঃ ১১০)
হাদিস নং ৪২০১সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَيْسَرَةَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَة َ ـ رضى الله عنه ـ (كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ) قَالَ خَيْرَ النَّاسِ لِلنَّاسِ، تَأْتُونَ بِهِمْ فِي السَّلاَسِلِ فِي أَعْنَاقِهِمْ حَتَّى يَدْخُلُوا فِي الإِسْلاَمِ.
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪২০১। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ)كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ আয়াত সম্পর্কে বলেন, মানুষের জন্যে মানুষ কল্যাণজনক তখনই হয় যখন তাদের গ্রীবাদেশে শিকল লাগিয়ে নিয়ে আসে। এরপর তারা ইসলামে প্রবেশ করে।
২৩১৫. আল্লাহর বাণীঃ যখন তোমাদের মধ্যের দু'দলের সাহস হারানোর উপক্রম হয়েছিল এবং আল্লাহ তাদের অভিভাবক (৩ঃ ১২২)
৪২০২। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,إِذْ هَمَّتْ طَائِفَتَانِ مِنْكُمْ أَنْ تَفْشَلاَ وَاللَّهُ وَلِيُّهُمَا আয়াতটি আমাদেরকে উপলক্ষ করেই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা দু’দল বনী হারিছা আর বনী ছালিমা। যেহেতু এ আয়াতেوَاللَّهُ وَلِيُّهُمَا "আল্লাহ উভয়ের সহায়ক" উল্লেখ আছে, সেহেতু এটা অবতীর্ণ না হোক তা আমরা পছন্দ করতাম না। সুফিয়ান (রাঃ)-এর এক বর্ণনায়وما يسرني ’আমাকে ভাল লাগেনি’ আছে।
৪২০৩। হিব্বান (রহঃ) ... সালিম (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন যে, তিনি ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) এর শেষ রাকাআতে রুকু থেকে মাথা তুলে ’সামিআল্লাহ লিমান হামিদা, রাব্বানা ওলাকাল হামদ’ বলার পর এটা বলতেনঃ হে আল্লাহ! অমুক, অমুক, এবং অমুককে লানত দিন। তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেন।لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَىْءٌ) إِلَى قَوْلِهِ (فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদের শাস্তি দিবেন, এ বিষয়ে তোমার করনীয় কিছুই নেই। কারণ তারা জালিম। (৩: ১২৮) ইসহাক ইবনু রাশিদ (রহঃ) ইমাম যুহরী (রহঃ) থেকে এটা বর্ণনা করেছেন।
৪২০৪। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারো জন্য বদদোয়া অথবা দোয়া করার মনস্থ করতেন, তখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর রুকুর পরেই কুনূতে নাযিলা পড়তেন। কখনো কখনো সামি আল্লাহ লিমান হামিদা, আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ বলার পর বলতেন, হে আল্লাহ! ওয়ালিদ ইবনু ওয়ালিদ, সালমা ইবনু হিশাম এবং আইয়াশ ইবনু আবূ রাবিয়াকে মুক্ত করুন। হে আল্লাহ! মুদার গোত্রের উপর শাস্তি কঠোর করুন। এ শাস্তিকে ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর যুগের দূর্ভিক্ষের ন্যায় দুর্ভিক্ষে রূপান্তরিত করে দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা গুলোকে উচ্চস্বরে বলতেন। কখনো কখনো তিনি কয়েকটি আরব গোত্রের নাম উল্লেখ করে ফজরের সালাতে বলতেন, হে আল্লাহ! অমুক এবং অমুককে লানত দিন। অবশেষ আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃلَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَىْءٌ "হয় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন কিংবা তাদেরকে আযাব দেবেন। এ ব্যাপারে আপনার কোন করণীয় নাই। কারণ তারা রয়েছে অন্যায়ের উপর।" (৩ঃ ১২৮)
২৩১৭. আল্লাহর বাণীঃ রসূল (সাঃ) তোমাদের পেছনের দিক থেকে আহবান করছিলেন। آخركم এর স্ত্রীলিঙ্গ أخراكم ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, দু’কল্যাণের একটি এর অর্থ হল বিজয় অথবা শহীদ হওয়া
হাদিস নং ৪২০৫সহিহ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ جَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الرَّجَّالَةِ يَوْمَ أُحُدٍ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جُبَيْرٍ، وَأَقْبَلُوا مُنْهَزِمِينَ، فَذَاكَ إِذْ يَدْعُوهُمُ الرَّسُولُ فِي أُخْرَاهُمْ، وَلَمْ يَبْقَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غَيْرُ اثْنَىْ عَشَرَ رَجُلاً.
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
৪২০৫। আমর ইবনু খালিদ (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদাতিক বাহিনীর উপর আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) কে সেনাপতি নির্ধারণ করেন। এরপর তাদের কতক পরাজিত হলে পালাতে লাগল, এটাই হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তোমাদের পেছন দিক থেকে ডাকছিলেন। মাত্র বারোজন ছাড়া আর কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলেন না।
৪২০৬। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ তালহা (রাঃ) বলেন, আমরা উহুদ যুদ্ধের দিন আপন আপন সারিতে ছিলাম। তন্দ্রা আমাদের আচ্ছাদিত করে ফেলেছিল। তিনি বলেছিলেন, আমার তরবারী আমার হাত থেকে পড়ে যাচ্ছিল, আর আমি তা উঠাচ্ছিলাম, আবার পড়ে যাচ্ছিল, আবার আমি উঠাচ্ছিলাম।
২৩২০. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জমায়েত হয়েছে (৩ঃ ১৭৩)
হাদিস নং ৪২০৭সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ ـ أُرَاهُ قَالَ ـ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، (حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ) قَالَهَا إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ حِينَ أُلْقِيَ فِي النَّارِ، وَقَالَهَا مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَالُوا (إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ)
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
بَاب قَوْلِهِ وَالرَّسُولُ يَدْعُوكُمْ فِي أُخْرَاكُمْ وَهْوَ تَأْنِيثُ آخِرِكُمْ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِحْدَى الْحُسْنَيَيْنِ فَتْحًا أَوْ شَهَادَةً
২৩১৯. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর বাণীঃ যখম হওয়ার পরও যারা আল্লাহ ও রাসুলের ডাকে সাড়া দিয়েছে তাদের মধ্যে যারা সৎকার্য করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে চলে, তাদের জন্য মহাপুরস্কার রয়েছে (৩ঃ ১৭২) القرح যখম। استجابوا ডাকে সাড়া দিন। يستجيب সাড়া দেয়।
৪২০৭। আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত,حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ বাক্যটি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন, যখন তিনি অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। আর মুহাম্মদ বলেছিলেন যখন লোকেরা বলল, ’’তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জমায়েত হয়েছে, সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় কর কিন্তু এটি তাদের ঈমান দৃঢ়তর করেছিল এবং তারা বলেছিল ’’আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কত উত্তম কর্ম বিধায়ক’’ (৩: ১৭৩)
৪২০৮। মালিক ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) যখন অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন তখন তাঁর শেষ বক্তব্য ছিলحَسْبِيَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ ’’আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট’’ তিনি কত উত্তম কর্ম বিধায়ক।
২৩২১. আল্লাহর বাণীঃ এবং আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে এই কার্পন্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে। বরং এটা তাদের পক্ষে একান্তই ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পন্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদকে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ী বানিয়ে পরানো হবে। আর আল্লাহ হচ্ছেন আসমান ও যমীনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর যা কিছু তোমরা কর; আল্লাহ সে সম্পর্কে জানেন। سَؤُطَوَّقُوْنَ এটা আরবী বাক্য طوقته بطوق (তাকে বেড়ি লাগিয়ে দিয়েছি) এর ন্যায়।
৪২০৯। আবদুল্লাহ ইবনু মুনীর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যাকে আল্লাহ তাআলা ধন-সম্পদ দেন, তারপর সে তার যাকাত পরিশোধ করে না- কিয়ামত দিবসে তার ধন-সম্পদকে তার জন্য লোমবিহীন কালো-চিহৃ বিশিষ্ট সর্পে রূপান্তরিত করা হবে এবং তার গলায় পরিয়ে দেয়া হবে। মুখের দু’ধার দিয়ে সে তাকে দংশন করতে থাকবে এবং বলবে, ’আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চয়।’ এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত তিলাওয়াত করলেনوَلاَ يَحْسِبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ
অর্থ আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে এই কার্পন্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে। বরং এটা তাদের পক্ষে একান্তই ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পন্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদকে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ী বানিয়ে পরানো হবে। আর আল্লাহ হচ্ছেন আসমান ও যমীনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর যা কিছু তোমরা কর; আল্লাহ সে সম্পর্কে জানেন। (৩ঃ ১৮০)
২৩২২. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের এবং মুশরীকদের কাছ থেকে তোমরা অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে (৩ঃ ১৮৬)
হাদিস নং ৪২১০সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ ـ رضى الله عنهما ـ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكِبَ عَلَى حِمَارٍ عَلَى قَطِيفَةٍ فَدَكِيَّةٍ، وَأَرْدَفَ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ وَرَاءَهُ، يَعُودُ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ فِي بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ قَبْلَ وَقْعَةِ بَدْرٍ ـ قَالَ ـ حَتَّى مَرَّ بِمَجْلِسٍ فِيهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ، ابْنُ سَلُولَ، وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يُسْلِمَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ فَإِذَا فِي الْمَجْلِسِ أَخْلاَطٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُشْرِكِينَ عَبَدَةِ الأَوْثَانِ وَالْيَهُودِ وَالْمُسْلِمِينَ، وَفِي الْمَجْلِسِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ، فَلَمَّا غَشِيَتِ الْمَجْلِسَ عَجَاجَةُ الدَّابَّةِ خَمَّرَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ أَنْفَهُ بِرِدَائِهِ، ثُمَّ قَالَ لاَ تُغَبِّرُوا عَلَيْنَا. فَسَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِمْ ثُمَّ وَقَفَ فَنَزَلَ فَدَعَاهُمْ إِلَى اللَّهِ، وَقَرَأَ عَلَيْهِمُ الْقُرْآنَ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ ابْنُ سَلُولَ أَيُّهَا الْمَرْءُ، إِنَّهُ لاَ أَحْسَنَ مِمَّا تَقُولُ، إِنْ كَانَ حَقًّا، فَلاَ تُؤْذِينَا بِهِ فِي مَجْلِسِنَا، ارْجِعْ إِلَى رَحْلِكَ، فَمَنْ جَاءَكَ فَاقْصُصْ عَلَيْهِ. فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَاغْشَنَا بِهِ فِي مَجَالِسِنَا، فَإِنَّا نُحِبُّ ذَلِكَ. فَاسْتَبَّ الْمُسْلِمُونَ وَالْمُشْرِكُونَ وَالْيَهُودُ حَتَّى كَادُوا يَتَثَاوَرُونَ، فَلَمْ يَزَلِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُخَفِّضُهُمْ حَتَّى سَكَنُوا، ثُمَّ رَكِبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم دَابَّتَهُ فَسَارَ حَتَّى دَخَلَ عَلَى سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يَا سَعْدُ أَلَمْ تَسْمَعْ مَا قَالَ أَبُو حُبَابٍ ". يُرِيدُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَىٍّ " قَالَ كَذَا وَكَذَا ". قَالَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، اعْفُ عَنْهُ وَاصْفَحْ عَنْهُ، فَوَالَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ، لَقَدْ جَاءَ اللَّهُ بِالْحَقِّ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ، لَقَدِ اصْطَلَحَ أَهْلُ هَذِهِ الْبُحَيْرَةِ عَلَى أَنْ يُتَوِّجُوهُ فَيُعَصِّبُونَهُ بِالْعِصَابَةِ، فَلَمَّا أَبَى اللَّهُ ذَلِكَ بِالْحَقِّ الَّذِي أَعْطَاكَ اللَّهُ شَرِقَ بِذَلِكَ، فَذَلِكَ فَعَلَ بِهِ ما رَأَيْتَ. فَعَفَا عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ يَعْفُونَ عَنِ الْمُشْرِكِينَ وَأَهْلِ الْكِتَابِ كَمَا أَمَرَهُمُ اللَّهُ، وَيَصْبِرُونَ عَلَى الأَذَى قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ (وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا أَذًى كَثِيرًا ) الآيَةَ، وَقَالَ اللَّهُ (وَدَّ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ، وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَأَوَّلُ الْعَفْوَ مَا أَمَرَهُ اللَّهُ بِهِ، حَتَّى أَذِنَ اللَّهُ فِيهِمْ، فَلَمَّا غَزَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَدْرًا، فَقَتَلَ اللَّهُ بِهِ صَنَادِيدَ كُفَّارِ قُرَيْشٍ قَالَ ابْنُ أُبَىٍّ ابْنُ سَلُولَ، وَمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ، وَعَبَدَةِ الأَوْثَانِ هَذَا أَمْرٌ قَدْ تَوَجَّهَ. فَبَايَعُوا الرَّسُولَ صلى الله عليه وسلم عَلَى الإِسْلاَمِ فَأَسْلَمُوا.<br />
২৩২৩. আল্লাহর বাণীঃ যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং নিজেরা যা করেনি এমন কার্যের জন্যে প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা শাস্তি হতে মুক্তি পাবে, এরূপ আপনি কখনো মনে করবেন না। তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে (৩ঃ ১৮৮)
হাদিস নং ৪২১১সহিহ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رِجَالاً مِنَ الْمُنَافِقِينَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْغَزْوِ تَخَلَّفُوا عَنْهُ، وَفَرِحُوا بِمَقْعَدِهِمْ خِلاَفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اعْتَذَرُوا إِلَيْهِ وَحَلَفُوا، وَأَحَبُّوا أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا، فَنَزَلَتْ (لاَ يَحْسِبَنَّ الَّذِينَ يَفْرَحُونَ) الآيَةَ.
বর্ণনাকারী: আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
৪২১১। সাঈদ ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে তিনি যখন যুদ্ধে বের হতেন তখন কিছু সংখ্যক মুনাফিক ঘরে বসে থাকত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে যাওয়ার পর বসে থাকতে পারার আনন্দ প্রকাশ করত। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যাবর্তন করলে তাঁর কাছে শপথ সহকারে অক্ষমতা প্রকাশ করত এবং যা করেনি তার জন্য প্রশংসিত হওয়াকে ভালবাসত। তখন এ আয়াত নাযিল হলঃ لاَ يَحْسِبَنَّ الَّذِينَ يَفْرَحُونَ
৪২১২। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) ... আলকামা ইবনু ওয়াক্কাস অবহিত করেছেন যে, মারওয়ান (র.) তাঁর দারোয়ানকে বললেন, হে নাফি! তুমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে গিয়ে বল, যদি প্রাপ্ত বস্তুতে আনন্দিত এবং করেনি এমন কাজ সম্পর্কে প্রশংসিত হতে আশাবাদী প্রত্যেক ব্যাক্তই শাস্তি প্রাপ্ত হয় তাহলে তাবৎ মানুষই শাস্তি প্রাপ্ত হবে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, এটা নিয়ে তোমাদের মাথা ঘামানো হচ্ছে একটা অবান্তর ব্যাপার। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদীদেরকে ডেকে একটা বিষয় জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাতে তারা সত্য গোপন করে বিপরীত তথ্য দিয়েছিল। এতদসত্বেও তারা প্রদত্ত উত্তরের বিনিময়ে প্রশংসা লাভের আশা করেছিল এবং তাদের সত্য গোপনের জন্য উল্লাসিত হয়েছিল।
তারপর ইবনু আব্বাস (রাঃ) পাঠ করলেন-وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ) ... (يَفْرَحُونَ بِمَا أَتَوْا وَيُحِبُّونَ أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا ’’স্মরণ কর, যদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন, তোমরা এটা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না। এরপরও তারা তা অগ্রাহ্য করে এবং তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে। অতএব তারা যা ক্রয় করে তা কত নিকৃষ্ট! যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং যা করেনি এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে এরূপ তুমি কখনো মনে করো না, তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে (৩ঃ ১৮৭-১৮৮)।
বর্ণনাকারী আবদুর রাযযাক (রহঃ) ইবনু জুরায়য (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৪২১৪। সাঈদ ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি আমার খালাম্মা মায়মুনা (রাঃ) এর কাছে রাত্রি যাপন করেছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ তাঁর পরিবারবর্গের সাথে আলাপ-আলোচনা করে শুয়ে পড়লেন। তারপর রাত্রির শেষ তৃতীয়াংশে তিনি উঠলেন এবং আসমানের দিকে তাকিয়ে পাঠ করলেন إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لأُولِي الأَلْبَابِ এরপর দাঁড়ালেন এবং ওযু করে মিসওয়াক করে এগার রাকায়াত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরপর বিলাল (রাঃ) আযান দিলে তিনি দু’ রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তারপর বের হয়ে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।
২৩২৫. আল্লাহর বাণীঃ যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা করে (৩ঃ ১৯১)
হাদিস নং ৪২১৫সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ بِتُّ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَقُلْتُ لأَنْظُرَنَّ إِلَى صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَطُرِحَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وِسَادَةٌ، فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي طُولِهَا، فَجَعَلَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ، ثُمَّ قَرَأَ الآيَاتِ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ آلِ عِمْرَانَ حَتَّى خَتَمَ، ثُمَّ أَتَى شَنًّا مُعَلَّقًا، فَأَخَذَهُ فَتَوَضَّأَ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي، فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ ثُمَّ جِئْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ، فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى رَأْسِي، ثُمَّ أَخَذَ بِأُذُنِي، فَجَعَلَ يَفْتِلُهَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ أَوْتَرَ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪২১৫। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার খালাম্মা মায়মুনা (রাঃ) এর কাছে রাত্রি যাপন করি। আমি মনে স্থির করলাম যে, অবশ্যই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা দেখব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য একটা বিছানা বিছিয়ে দেয়া হল। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটার লম্বালম্বি দিকে নিদ্রামগ্ন হলেন। এরপর জাগ্রত হয়ে মুখমণ্ডল
থেকে ঘুমের রেশ মুছতে লাগলেন এবং সূরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করে তা সমাপ্ত করলেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পুরাতন মশকের পানি পাত্রের নিকট এসে তা নিলেন এবং ওযু করে সালাতে দাঁড়ালেন, আমি দাঁড়িয়ে তিনি যা যা করছিলেন তা তা করলাম। তারপর আমি এসে তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। তিনি আমার মাথায় হাত রাখলেন, তারপর আমার কান ধরে মলতে লাগলেন। তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর বিতরের সালাত আদায় করলেন।
২৩২৬. আল্লাহর বাণীঃ হে আমাদের রব! কাউকে আপনি অগ্নিতে নিক্ষেপ করলে তাকে তো আপনি নিশ্চয় হেয় করলেন এবং জালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই (৩ঃ ১৯২)
হাদিস নং ৪২১৬সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، بَاتَ عِنْدَ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهْىَ خَالَتُهُ قَالَ فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ الْوِسَادَةِ، وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا، فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى انْتَصَفَ اللَّيْلُ، أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ، أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ، ثُمَّ اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدَيْهِ، ثُمَّ قَرَأَ الْعَشْرَ الآيَاتِ الْخَوَاتِمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا، فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي، فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ، ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ، فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِي، وَأَخَذَ بِأُذُنِي بِيَدِهِ الْيُمْنَى يَفْتِلُهَا، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ أَوْتَرَ، ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى جَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ، فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪২১৬। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে তিনি মায়মুনা (রাঃ)-এর কাছে রাত্রি যাপন করেন, তিনি হলেন তার খালাম্মা। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি বিছানায় আড়াআড়িভাবে শুয়েছিলাম আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবারবর্গ লম্বালম্বি দিকে শুয়েছিলেন। অর্ধরাত্রি কিংবা এর সামান্য পূর্ব অথবা সামান্য পর পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমালেন। তারপর তিনি জাগ্রত হলেন। এরপর দু’হাত দিয়ে মুখ থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পুরাতন মশকের কাছে গেলেন এবং তা থেকে পরিপাটিভাবে ওজু করলেন। এরপর সালাতে দাঁড়ালেন। তিনি যা যা করেছিলেন আমিও ঠিক তা করলাম। তারপর গিয়ে তার পার্শ্বে দাঁড়ালাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ডান হাত আমার মাথায় রেখে আমার ডান কান ধরে মলতে লাগলেন। এরপর তিনি দু’রাকাত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং তারপর বিতরের সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি একটু শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়াজ্জ্বীন আসল, তিনি হালকাভাবে দু’রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর বের হলেন এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন।
২৩২৭. আল্লাহর বাণীঃ হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয় আমরা এক আহবানকারীকে ঈমানের প্রতি আহবান করতে শুনেছি, ‘তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনয়ন কর’ অতএব আমরা ঈমান এনেছি (৩ঃ ১৯৩)
হাদিস নং ৪২১৭সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، بَاتَ عِنْدَ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهْىَ خَالَتُهُ قَالَ فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ الْوِسَادَةِ، وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا، فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا انْتَصَفَ اللَّيْلُ، أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ، أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ، اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَلَسَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدِهِ، ثُمَّ قَرَأَ الْعَشْرَ الآيَاتِ الْخَوَاتِمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا، فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي. قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ، ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ، فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِي، وَأَخَذَ بِأُذُنِي الْيُمْنَى يَفْتِلُهَا، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ أَوْتَرَ ثُمَّ، اضْطَجَعَ حَتَّى جَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ، فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ.
বর্ণনাকারী: কুরায়ব (রহ.)
৪২১৭। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী মায়মূনা (রাঃ) এর নিকট রাত্রি যাপন করেছিলেন। মায়মূনা (রাঃ) হলেন তাঁর খালাম্মা। তিনি বলেন, আমি বিছানার প্রস্থের দিকে শুয়েছিলাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গ দৈর্ঘ্যের দিকে শুয়েছিলেন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রামগ্ন হয়েছিলেন। অর্ধরাত্রি কিংবা এর সামান্য আগে কিংবা সামান্য পরক্ষনে তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। এবং মুখ থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে মুছতে বসলেন। তারপর সূরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করলেন।
এরপর সালাতে দাঁড়ালেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পরাতন মশকের দিকে গিয়ে ভালভাবে ওযু করলেন। এরপর সালাতে দাঁড়ালেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমিও দাঁড়ালাম এবং তিনি যা করেছেন আমিও তা করলাম। তারপর আমি গিয়ে তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাত আমার মাথায় রেখে আমার ডান কান মলতে শুরু করলেন। তারপর তিনি দু’ রাকাআত ছয়বারে বারো রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং তারপর তিনি বিতরের সালাত আদায় করলেন। শেষে মুয়াযযিন ফজরের আযান দিলে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত কিরাআতে দু’ রাকাআত সালাত আদায় করলেন। তারপর হুজরা থেকে বের হলেন এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন।
২৩২৮. আল্লাহর বাণীঃ আর যদি আশংকা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিয়ে করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে (নিসা ৪ঃ ৩)
সুরা নিসা
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : (يَسْتَنْكِفُ) يَسْتَكْبِرُ. (قِوَامًا) : قِوَامُكُمْ مِنْ مَعَايِشِكُمْ. (لَهُنَّ سَبِيْلًا) يَعْنِي الرَّجْمَ لِلثَّيِّبِ، وَالْجَلْدَ لِلْبِكْرِ. وَقَالَ غَيْرُهُ : (مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاع) يَعْنِي اثْنَتَيْنِ وَثَلَاثًا وَأَرْبَعًا وَلَا تُجَاوِزُ الْعَرَبُ رُبَاعَ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, يَسْتَنْكِفُ অহঙ্কার করে, قِوَامًا -তোমাদের জীবিকার্জনের মাধ্যম। لَهُنَّ سَبِيْلًا -সাইয়েবা বা বিবাহিতার জন্য প্রস্তর নিক্ষেপ (রজম) আর কুমারীর জন্য বেত্রাঘাত। তিনি ব্যতীত অন্যান্য তাফসীরকারক বলেন, مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاع অর্থাৎ দুই, তিন এবং চার; আরবগণ رُبَاعَ শব্দকে غير منصرف বা অপরিবর্তনশীল শব্দ মনে করে।
৪২১৮। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তির তত্ত্বাবধানে এক ইয়াতীম বালিকা ছিল। এরপর সে তাকে বিয়ে করল, সে বালিকার একটি বাগান ছিল। তার অন্তরে ঐ বালিকার প্রতি কোন আকর্ষণ না থাকা সত্ত্বেও বাগানের কারণে সে ঐ বালিকাটিকে সে বিবাহ করে রেখে দিতে চায়। এ সম্পর্কে আয়াত অবতীর্ণ হয়। আর যদি আশংকা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না। আমার ধারণা যে, উরওয়া বলেন, ইয়াতীম বালিকাটি সে বাগান ও মালের মধ্যে শরীক ছিল।
৪২১৯। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ’উরওয়া ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন মহান আল্লাহ বাণীوَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى সম্পর্কে। তিনি উত্তরে বললেন, হে ভাগ্নে! সে হচ্ছে পিতৃহীন বালিকা, অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকে এবং তার সম্পত্তিতে অংশীদার হয় এবং তার রূপ ও সম্পদ তাকে (অভিভাবককে) আকৃষ্ট করে। এরপর সে অভিভাবক উপযুক্ত মোহরানা না দিয়ে তাকে বিবাহ করতে চায়। তদুপরি অন্য ব্যাক্তি যে পরিমাণ মোহর দেয় তা না দিয়ে এবং তার প্রতি ন্যায় বিচার না করে তাকে বিয়ে করতে চায়। এরপর তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মোহর এবং ন্যায় ও সমুচিত মোহর প্রদান ব্যতীত তাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে। এবং তদ্ব্যতীত যে সকল মহিলা পছন্দ হয় তাদেরকে বিয়ে করতে অনুমতি দেয়া হয়েছে।
’উরওয়া (রহঃ) বলেন যে, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর লোকেরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে মহিলাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেন,وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ এবং লোকেরা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে জানতে চায়। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর বাণী অন্য এক আয়াতে--- তোমরা তাদেরকে বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ কর। ইয়াতীম বালিকার ধন-সম্পদ কম হলে এবং সুন্দরী না হলে তাকে বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করো না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তাই ইয়াতীম বালিকাদের মাল ও সৌন্দর্যের আকর্ষনে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে ন্যায় বিচার করলে ভিন্ন কথা। কেননা তারা সম্পদের অধিকারী না হলে তাদেরকেও বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে না।
২৩২৯. আল্লাহর বাণীঃ এবং যে বিত্তহীন সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে। তোমরা যখন তাদেরকে তাদের সম্পদ সমর্পণ করবে তখন সাক্ষী রাখবে (৪ঃ ৬) بِدَارًا অর্থ مبادرة তাড়াতাড়ি। أعددنا অর্থ أعتدنا অর্থাৎ প্রস্তুত করে রেখেছি। আর أعددنا – عتاد থেকে أفعلنا এর ওযনে।
৪২২১। আহমদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়াতটি সুস্পষ্ট, রহিত বা মানসুখ নয়। সাঈদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে ইকরামা (রহঃ) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর বাণীيُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلاَدِكُمْ অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিচ্ছেন। (৪ঃ ১১)
হাদিস নং ৪২২২সহিহ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَهُمْ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ مُنْكَدِرٍ، عَنْ جَابِرٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ عَادَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ فِي بَنِي سَلِمَةَ مَاشِيَيْنِ فَوَجَدَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لاَ أَعْقِلُ، فَدَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهُ، ثُمَّ رَشَّ عَلَىَّ، فَأَفَقْتُ فَقُلْتُ مَا تَأْمُرُنِي أَنْ أَصْنَعَ فِي مَالِي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَنَزَلَتْ (يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلاَدِكُمْ)
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
৪২২২। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর (রাঃ) বনী সালমা গোত্রে পদব্রজে আমার রোগ সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে গিয়েছিলেন। অনন্তর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেলেন। কাজেই তিনি পানি আনালেন এবং ওযু করে ওযুর পানি আমার উপর ছিটিয়ে দিলেন। তখন আমি হুশ ফিরে পেলাম। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পত্তিতে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনি আমাকে নির্দেশ দেবেন? তখন এ আয়াত নাযিল হলঃ يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلاَدِكُمْ
৪২২৩। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃত ব্যাক্তির সম্পদ ছিল সন্তানের জন্য, আর ওসীয়ত ছিল পিতামাতার জন্য। এরপর তা থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁর পছন্দ অনুযায়ী কিছু রহিত করলেন এবং পুরুষদের জন্য মহিলার দ্বিগুন নির্ধারণ করলেন। পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য ৬ ভাগের ১ অংশ ও ৩ ভাগের ১ অংশ নির্ধারণ করলেন, স্ত্রীদের জন্য ৮ ভাগের ১ ও ৪ ভাগের ১ অংশ নির্ধারণ করলেন এবং স্বামীর জন্য ২ ভাগের ১ ও ৪ ভাগের ১ অংশ নির্ধারণ করলেন।
২৩৩২. আল্লাহর বাণীঃ হে ঈমানদারগণ! নারীদেরকে যবরদস্তি তোমাদের উত্তরাধিকারী গণ্য করা বৈধ নহে (৪ঃ ১৯) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত لَا تَعْضُلُوْهُنَّ তাদের উপর বল প্রয়োগ করো না। حُوْبًا -গুনাহ, تَعُوْلُوْا ঝুঁকে পড়। نِحْلَةً মোহর।
৪২২৪। মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا وَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بِبَعْضِ مَا آتَيْتُمُوهُنَّ ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে অবস্থা এরূপ ছিল যে, কোন ব্যাক্তি মারা গেলে তার অভিভাবকগণ তার স্ত্রীর উপর দাবিদার হত। তারা ইচ্ছা করলে ঐ মহিলাকে বিয়ে করত। ইচ্ছে করলে অন্যের কাছে বিয়ে দিত। আর নতুবা তাকে আমরণ আটকে রাখত। কারো কাছে বিয়ে দিত না। মহিলার পরিবারের তুলনায় এরা অধিক দাবিদার ছিল। এরপর এ আয়াত নাযিল হল।
২৩৩৩. আল্লাহর বাণীঃ পিতামাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যাক্ত সম্পত্তির প্রত্যেকটির জন্য আমি উত্তরাধিকারী করেছি এবং যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারবদ্ধ তাদেরকে তাদের অংশ দেবে। আল্লাহ সর্ববিষয়ের দ্রষ্টা (৪ঃ ৩৩)
مَوَالِي وَأَوْلِيَاءُ وَرَثَةٌ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ هُوَ مَوْلَى الْيَمِينِ وَهْوَ الْحَلِيفُ وَالْمَوْلَى أَيْضًا ابْنُ الْعَمِّ وَالْمَوْلَى الْمُنْعِمُ الْمُعْتِقُ وَالْمَوْلَى الْمُعْتَقُ وَالْمَوْلَى الْمَلِيكُ وَالْمَوْلَى مَوْلًى فِي الدِّينِ
مَوَالِيْ এক প্রকার হচ্ছে সে সকল আত্মীয়, যারা রক্ত সম্বন্ধের উত্তরাধিকারী। অপরপক্ষ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ অর্থাৎ চুক্তিবদ্ধ উত্তরাধিকারী। আবার مَوْلَى চাচাত ভাই, مَوْلَى الْمُنْعِمُ যে দাস মুক্ত করে, مَوْلَى আযাদকৃত দাস, مَوْلَى বাদশাহ, مَوْلَى মহাজন।
৪২২৫। সালত ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ হচ্ছে বংশীয় উত্তরাধিকারী,وَالَّذِينَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ হচ্ছে মুহাজিরগণ যখন মদিনায় এসেছিলেন তখন তারা আনসারদের উত্তরাধিকারী হতেন। আত্মীয়তার কারণে নয় বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের স্থাপনের কারণে। যখনوَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ নাযিল হল, তখন এ হুকুম রহিত হয়ে গেল। তারপর বললেন, যাদের সাথে তোমরা চুক্তি করে থাক সাহায্য সহযোগীতা ও পরস্পরের উপকার করার। পূর্বতন উত্তরাধিকার বিলুপ্ত হল এবং এদের জন্য ওসীয়ত বৈধ।
হাদীসটি আবূ উসামা ইদ্রিসের কাছে এবং ইদ্রিস তালহার কাছে থেকে শুনেছেন।
২৩৩৪. আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না। مثقال ذرة এর অর্থ অনু পরিমান
৪২২৬। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে একদল লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের প্রভুকে দেখব? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। গ্রীষ্মকালের মেঘবিহীন ভর দুপুরের প্রখর কিরণ বিশিষ্ট সূর্য দেখতে তোমরা কি পরস্পর ভিড় করে থাক? তারা বলল, না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পূর্ণিমার রাতে মেঘবিহীন আলো বিশিষ্ট চন্দ্র দেখতে গিয়ে তোমরা কি ভিড় কর? আবার তারা বলল, না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এদের কোনটিকে দেখতে যেমন ভিড় করো না; কিয়ামতের দিনও আল্লাহকে দেখতেও তোমরা পরস্পর ভিড় করবে না।
কিয়ামত যখন আসবে তখন এক ঘোষক ঘোষণা দেবে। তখন প্রত্যেকেই আপন আপন উপাস্যের অনুসরণ করবে। আল্লাহ ব্যতীত প্রতিমা ও পাথর ইত্যাদির যারা পূজা করেছে, তারা সবাই দোযখে গিয়ে পড়বে, একজনও অবশিষ্ট থাকবে না। পুণ্যবান হোক চাই পাপী, এরা এবং আল্লাহ অবশিষ্ট বিশ্বাসীরা ব্যতীত যখন আর কেউ থাকবে না, তখন ইহুদীদেরকে ডেকে বলা হবে, তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে, আমরা আল্লাহর পুত্র উযাইরের ইবাদত করতাম। তাদেরকে বলা হবে যে, তোমরা মিথ্যা বলছ। আল্লাহ স্ত্রীও গ্রহণ করেননি পুত্রও গ্রহণ করেননি। তোমরা কি চাও? তারা বলবে, হে প্রভু! আমরা তৃষ্ণার্ত, আমাদেরকে পানি পান করান। এরপর তাদেরকে ইঙ্গিত করা হবে যে, তোমরা পানির ধারে যাওনা কেন? এরপর তাদেরকে দোযখের দিকে একত্র করা হবে তা যেন মরুভূমির মরিচীকা, এক এক অংশ অন্য অংশকে ভেঙ্গে ফেলছে। অনন্তর তারা সবাই দোযখে পতিত হবে।
তারপর খ্রিষ্টানদেরকে ডাকা হবে। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে, আমরা আল্লাহর পুত্র মসীহের ইবাদত করতাম। তাদেরকে বলা হবে তোমরা মিথ্যা বলছ। আল্লাহ স্ত্রীও গ্রহণ করেননি এবং পুত্রও নয়। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা কি চাও? তারা প্রথম পক্ষের মত বলবে, এবং তাদের মত দোযখে নিপতিত হবে।
অবশেষে পুণ্যবান হোক কিংবা পাপী হোক আল্লাহর উপাসকগণ ব্যতীত আর কেউ যখন বাকি থাকবে না, তখন তাদের কাছে পরিচিত রূপের নিকটতম একটি রূপ নিয়ে রাববুল আলামীন তাদের কাছে আবির্ভূত হবেন। এরপর বলা হবে, প্রত্যেক দল নিজ নিজ উপাস্যের অনুসরণ করে চলে গেছে। তোমরা কিসের অপেক্ষা করছ? তারা বলবে, দুনিয়াতে এ সকল লোকের প্রতি আমাদের চরম প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আমরা সেখানে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছি এবং তাদের সাথে মেলামেশা করিনি। এখন আমরা আমাদের প্রতিপালকের অপেক্ষায় আছি, আমরা তাঁর ইবাদত করতাম। এরপর তিনি বলবেন, আমিই তোমাদের প্রতিপালক। তারা বলবে, আমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করব না। এ কথাটি দু’বার কি তিনবার বলবে।
২৩৩৫. আল্লাহর বাণীঃ যখন প্রত্যেক উম্মত হতে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকে ওদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব তখন কী অবস্থা হবে (৪ ঃ ৪১) الْخَتَّالُ الْمُخْتَالُ একই অর্থে ব্যবহৃত, দাম্ভিক। نَطْمِسَ সমান করে দেব। শেষ পর্যন্ত তাদের গর্দানের পশ্চাৎদিকের মতো হয়ে যাবে। طَمَسَ الْكِتَابَ কিতাবের লেখা মুছে ফেলা। سَعِيْرًا জ্বলন্ত।
৪২২৭। সাদকাহ (রহঃ) ... আমর ইবনু মুররা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমার কাছে কুরআন পাঠ কর। আমি বললাম, আমি আপনার কাছে পাঠ করব? অথছ তা আপনার কাছেই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেন, অন্যের মুখে শ্রবণ করাকে আমি পছন্দ করি। এরপর আমি তাঁর নিকট ’সূরা নিসা’ পড়লাম, যখন আমিفَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا পর্যন্ত পাঠ করলাম, তিনি বললেন, থাম, থাম, তখন তাঁর দুচোখ থেকে টপ টপ করে অশ্রু নির্গত হচ্ছিল।
আল্লাহর বাণীঃوإن كنتم مرضى أو على سفر أو جاء أحد منكم من الغائط আর যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচ স্থান থেকে আসে ’’(৪: ৪৩)।صَعِيْدًا মাটির উপরিভাগ। জাবির (রাঃ) বলেন যে সকল তাগুদের কাছে তারা বিচারের জন্য যেত তাদের একজন ছিল বুহাইনা গোত্রের, একজন আসলাম গোত্রের এবং এভাবে প্রত্যেক গোত্রে এক-একজন করে তাগুত ছিল। তারা হচ্ছে গণক। তাদের কাছে শয়তান আসত।
’উমার (রাঃ) বলেন, الْجِبْتُ জাদু, وَالطَّاغُوْتُ শয়তান। ’ইকরামাহ (রাঃ) বলেন, হাবশী ভাষায় শায়ত্বনকে الْجِبْتُ বলা হয়। আর গণককে طَّاغُوْتُ বলা হয়।
হাদিস নং ৪২২৮সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ هَلَكَتْ قِلاَدَةٌ لأَسْمَاءَ فَبَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي طَلَبِهَا، رِجَالاً فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ وَلَيْسُوا عَلَى وُضُوءٍ. وَلَمْ يَجِدُوا مَاءً، فَصَلَّوْا وَهُمْ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ. يَعْنِي آيَةَ التَّيَمُّمِ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪২২৮। মুহাম্মদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট থেকে আসমা (রাঃ) এর একটি হার হারিয়ে গিয়েছিল। তা খুঁজতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন লোক পাঠিয়েছিলেন। তখন সালাতের সময় হল, তাদের কাছে পানি ছিল না। আবার ওযুর পানিও পেলেন না। এরপর বিনা ওযুতে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে ফেললেন। তখন আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের বিধান নাযিল করলেন।
২৩৩৬. আল্লাহর বাণীঃ হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, আনুগত্য কর রাসুলের এবং তাদের, যারা তোমাদের মধ্যে ক্ষমতার অধিকারী। কোন বিষয়ে তোমাদের মতভেদ থাকলে তা উপস্থিত কর, আল্লাহ ও রাসুলের কাছে তা-ই উত্তম এবং পরিনামে প্রকৃষ্টতর (৪ঃ ৫৯) وَأُولِي الأَمْرِ – দায়িত্বশীল।
হাদিস নং ৪২২৯সহিহ
حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ، أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ يَعْلَى بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ (أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ). قَالَ نَزَلَتْ فِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُذَافَةَ بْنِ قَيْسِ بْنِ عَدِيٍّ، إِذْ بَعَثَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي سَرِيَّةٍ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪২২৯। সাদাকাহ ইবনু ফাযল (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে,أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ আয়াতটি নাযিল হয়েছে আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা ইবনু কায়স ইবনু আদী সম্পর্কে যখন তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সৈন্য দলের প্রধান করে প্রেরণ করেছিলেন।
২৩৩৭. আল্লাহর বাণীঃ কিন্তু না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা মুমিন হবে না, যতক্ষন পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচারাভার আপনার উপর অর্পণ না করে; এরপর আপনার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তকরনে তা মেনে না নেয় (৪ঃ ৬৫)
৪২৩০। ’আলী ইবনু ’আবদুল্লাহ (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, হাররা বা মদিনার কঙ্করময় ভূমিতে একটি পানির নালা নিয়ে একজন আনসার যুবায়র (রাঃ) এর সাথে ঝগড়া করছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে যুবায়র! প্রথমত তুমি তোমার জমিতে পানি দাও, তারপর তুমি প্রতিবেশীর জমিতে পানি ছেড়ে দিবে। আনসারী বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে আপনার ফুফাত ভাই, তাই এই ফয়সালা দিলেন। এতে অসন্তুষ্টিবশত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা রক্তিম হয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, হে যুবায়র! তুমি পানি চালাবে তারপর আইল পর্যন্ত ফিরে না আসা পর্যন্ত তা আটকে রাখবে তারপর প্রতিবেশীর জমির দিকে ছাড়বে।
আনসারী যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রাগিয়ে তুললেন তখন তিনি তার হক পুরোপুরি যুবায়র (রাঃ) কে প্রদানের জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন। তাদেরকে প্রথমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে উদারতা ছিল।
যুবায়র (রাঃ) বলেন, فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ আয়াতটি এই উপলক্ষে নাযিল হয়েছে বলে আমার ধারনা।
২৩৩৮. আল্লাহর বাণীঃ কেউ আল্লাহএবং রসূলের আনুগত্য করে ......... যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন। (সূরাহ আন-নিসা ৪ঃ ৬৯)
হাদিস নং ৪২৩১সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَوْشَبٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ نَبِيٍّ يَمْرَضُ إِلاَّ خُيِّرَ بَيْنَ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ ". وَكَانَ فِي شَكْوَاهُ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ أَخَذَتْهُ بُحَّةٌ شَدِيدَةٌ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ (مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ) فَعَلِمْتُ أَنَّهُ خُيِّرَ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪২৩১। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হাওশাব (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, প্রত্যেক নবী অন্তিম সময়ে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের যে কোন একটি নির্বাচন করার এখতিয়ার দেওয়া হয়। যে অসুস্থতায় তাকে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে সে অসুস্থতায় তাঁর ভীষণ শাসকষ্ট আরম্ভ হয়েছিল। সে সময় আমি তাঁকেمَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ [তাঁরা নবীগণ, সত্যনিষ্ঠ শহীদ ও সৎকর্মপরায়ন যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, তাঁদের সঙ্গী হবেন (৪: ৬৯)] বলতে শুনেছি। এরপর আমি বুঝে নিয়েছি যে তাঁকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।
২৩৩৯. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের কী হল যে, তোমরা যুদ্ধ করবে না আল্লাহর পথে এবং অসহায় নর-নারী ও শিশুগণের জন্য … যার অধিবাসী জালিম (৪ঃ ৭৫)
৪২৩২। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... ’উবায়দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছিলেন যে, আমি এবং আমার আম্মা (আয়াতে উল্লিখিত) অসহায়দের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।
৪২৩৩। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) ... ইবনু আবূ মূলায়কা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ)الاَّ الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ ’’তবে যেসব অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশু (৪ঃ ৯৮) আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন এবং বললেন, আল্লাহ যাদের অক্ষমতা অনুমোদন করেছেন আমি এবং আমার আম্মা তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতحَصِرَتْ সংকুচিত হয়েছে।تَلْوُوا أَلْسِنَتَكُمْ بِالشَّهَادَةِ সাক্ষ্য দিতে তাদের জিহবা বক্র হয়।الْمُرَاغَمُ الْمُهَاجَرُ হিজরতের স্থান,رَاغَمْتُ قَوْمِي আমার গোত্রকে ছেড়ে দিয়েছি,مَوْقُوتًا এবংمُوَقَّتًا তাদের উপর সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।
২৩৪০. আল্লাহর বাণীঃ "তোমাদের কী হল যে, তোমরা মুনাফিকদের সম্বন্ধে দু'দল হয়ে গেলে! যখন আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে পুর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন (৪ঃ ৮৮) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, بَدَّدَهُمْ-তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করেছেন, فِئَةٌ-দল।
হাদিস নং ৪২৩৪সহিহ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِت ٍ ـ رضى الله عنه ـ (فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ) رَجَعَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ أُحُدٍ، وَكَانَ النَّاسُ فِيهِمْ فِرْقَتَيْنِ فَرِيقٌ يَقُولُ اقْتُلْهُمْ. وَفَرِيقٌ يَقُولُ لاَ فَنَزَلَتْ (فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ) وَقَالَ " إِنَّهَا طَيْبَةُ تَنْفِي الْخَبَثَ كَمَا تَنْفِي النَّارُ خَبَثَ الْفِضَّةِ ".
বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)
৪২৩৪। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত,فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ উহুদের যুদ্ধ থেকে একদল লোক দল ত্যাগ করে ফিরে এসেছিল, এরপর তাদের ব্যাপারে লোকেরা দু’দল হয়ে গেল, একদল বলেছে তাদেরকে হত্যা করে ফেল; অপর দল বলছিল তাদেরকে হত্যা করো না, তখন নাযিল হলঃفَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এই মদিনা হচ্ছে পবিত্র স্থান, আগুন যেভাবে রোপ্যের কালিমা বিদূরিত করে এটাও খবিস ও অসৎদেরকে বিদূরিত করে।
২৩৪২. আল্লাহর বাণীঃ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু’মিনগণকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম (৪ঃ ৯৩)
بَاب وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنْ الْأَمْنِ أَوْ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ أَيْ أَفْشَوْهُ يَسْتَنْبِطُونَهُ يَسْتَخْرِجُونَهُ حَسِيبًا كَافِيًا إِلَّا إِنَاثًا يَعْنِي الْمَوَاتَ حَجَرًا أَوْ مَدَرًا وَمَا أَشْبَهَهُ مَرِيدًا مُتَمَرِّدًا فَلَيُبَتِّكُنَّ بَتَّكَهُ قَطَّعَهُ قِيلًا وَقَوْلًا وَاحِدٌ طَبَعَ خَتَمَ
২৩৪১. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর বাণীঃ যখন শাস্তি অথবা শঙ্কার কোন সংবাদ তাদের কাছে আসে তখন তারা তা প্রচার করে থাকে (৪ঃ ৮৩) أذاعوا به তা প্রচার করে দেয়, يستنبطونه খুজে বের করে, حسيبا যথেষ্ট, إناثا মৃত, পাথর হোক কিংবা মাটি অথবা এ রকম কিছু مريدا বিদ্রোহী, قيلا আর قولا একই অর্থাৎ বলা, طبع সীলকৃত।
৪২৩৫। আদম ইবনু আবূ ইয়াস (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, এই আয়াত সম্পর্কে কূফাবাসীগণ ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করল। (কেউ বলেন তা মনসূখ, কেউ বলেন মনসূখ নয়, এরপর এর সমাধানের জন্য) আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, উত্তরে তিনি বললেন,وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ আয়াতটি অবতীর্ন হয়েছে এবং এটি শেষের দিকে অবতীর্ন আয়াত; এটাকে কোন কিছু মনসূখ করেনি।
২৩৪৩. আল্লাহর বাণীঃ কেউ তোমাদেরকে সালাম করলে তাকে বলো না ‘তুমি মু’মিন নও’ (৪ঃ ৯৪)
৪২৩৬। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে,وَلاَ تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلاَمَ لَسْتَ مُؤْمِنًا আয়াতের ঘটনা হচ্ছে এই যে, এক ব্যাক্তির কিছু সংখ্যক ছাগল ছিল, মুসলিমদের সাথে তাদের সাক্ষাৎ ঘটায় সে তাদেরকে বলল "আসসালামু আলাইকুম", মুসলিমরা তাকে হত্যা করল এবং তার ছাগলগুলো হস্তগত করে ফেলল, এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত নায়িল করলেন عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا تِلْكَ الْغُنَيْمَةُ
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন আল্লাহর পথে সফর কর, তখন যাচাই করে নিও এবং যে, তোমাদেরকে সালাম করে তাকে বলো না যে, তুমি মুসলিম নও। তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদ অন্বেষণ কর, বস্তুতঃ আল্লাহর কাছে অনেক সম্পদ রয়েছে। তোমরা ও তো এমনি ছিলে ইতিপূর্বে; অতঃপর আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। অতএব, এখন অনুসন্ধান করে নিও। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের কাজ কর্মের খবর রাখেন। ইহজীবনের সম্পদের আকাঙ্খায়-আর সে সম্পদ হচ্ছে এ ছাগল পাল।" (৪ঃ ৯৪)
আতা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ)السَّلاَمَ পড়েছেন।
২৩৪৪. আল্লাহর বাণীঃ মু’মিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয় (৪ঃ ৯৫)
৪২৩৭। ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকেلاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ আয়াতটি লেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে বলে যাচ্ছিলেন এমতাবস্থায় উম্মে মাকতুম (রাঃ) তাঁর কাছে আগমন করলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ যদি আমি জিহাতে সক্ষম হতাম তা হলে অবশ্যই জিহাদ করতাম। তিনি অন্ধ ছিলেন। এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের উপর ওহী অবতীর্ন করলেন, এমতাবস্থায় যে তাঁর উরু আমার উরুর উপর ছিল আর তা আমার কাছে এতই ভারী অনুভুত হচ্ছিল যে, আমি আমার উরু থেতলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলাম। তারপর তাঁর থেকে এই অবস্থা কেটে গেল, আর আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃغَيْرَ أُولِي الضَّرَرِ অক্ষমদের ব্যতীত। (৪ঃ ৯৫)
হাদিস নং ৪২৩৮সহিহ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ (لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ) دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَيْدًا فَكَتَبَهَا، فَجَاءَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ فَشَكَا ضَرَارَتَهُ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ (غَيْرَ أُولِي الضَّرَرِ)
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
৪২৩৮। হাফস ইবনু ’উমর (রহঃ) ... বারা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, যখনلاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ আয়াতটি নাযিল হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ (রাঃ) কে ডাকলেন। তিনি তা লিখে নিলেন। ইবনু উম্মে মাকতুম (রাঃ) এসে তাঁর দৃষ্টিহীনতার ’ওযর পেশ করলেন, আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃغَيْرَ أُولِي الضَّرَرِ অক্ষমদের ব্যতীত। (৪ঃ ৯৫)
হাদিস নং ৪২৩৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ (لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ) قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ادْعُوا فُلاَنًا ". فَجَاءَهُ وَمَعَهُ الدَّوَاةُ وَاللَّوْحُ أَوِ الْكَتِفُ فَقَالَ " اكْتُبْ لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ". وَخَلْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَا ضَرِيرٌ. فَنَزَلَتْ مَكَانَهَا (لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ )
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
৪২৩৯। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... বারা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ আয়াতটি যখন নাযিল হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন অমুককে ডেকে আন। এরপর দোয়াত, কাঠ অথবা হাড় খন্ড নিয়ে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন। তিনি বললেন, লিখে নাওঃلاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে ছিলেন ইবনু উম্মে মাকতুম (রাঃ)। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি দৃষ্টিহীন। এরপর তখনই অবতীর্ন হলঃ لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
৪২৪০। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) অবহিত করেছেন যে, বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আর বদরের যুদ্ধে অনুপস্থিত মু’মিনগণ সমান নয়।
২৩৪৫. আল্লাহর বাণীঃ যারা নিজেদের উপর জুলুম করে তাদের প্রাণ গ্রহণের সময় ফেরেশতাগণ বলে, তোমরা কী অবস্থায় ছিলে? তারা বলে, দুনিয়ায় আমরা অসহায় ছিলাম; তারা বলে, দুনিয়া কি এমন প্রশস্ত ছিল না যেথায় তোমরা হিজরত করতে? (৪ঃ ৯৭)
৪২৪১। আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ মুকরী (রহঃ) ... আবূল আসওয়াদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রাহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, একদল সৈন্য পাঠানোর জন্য মদিনাবাসীদের উপর নির্দেশ জারি করা হল, এরপর আমাকেও তাতে অন্তর্ভূক্ত করা হল। আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর মুক্ত গোলাম ইকরামের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে এ ব্যাপারে অবহিত করলাম। তিনি আমাকে এ ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করলেন, তারপর বললেন, কিছুসংখ্যক মুসলিম মুশরিকদের সাথে থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরুদ্ধে মুশরিকদের দল ভারী করেছিল, তীর এসে তাদের কারো উপর পতিত হতো এবং তাকে মেরে ফেলত অথবা তাদের কেউ মার খেত এবং নিহত হত তখন আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ন করলেনঃإِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّاهُمُ الْمَلاَئِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ আবূল আসওয়াদ থেকে লাইস এটা বর্ণনা করেছেন।
২৩৪৬. আল্লাহর বাণীঃ তবে সেসব অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশু কোন উপায় অবলম্বন করতে পারে না এবং কোন পথও পায় না (৪ঃ ৯৮)
হাদিস নং ৪২৪২সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ (إِلاَّ الْمُسْتَضْعَفِينَ) قَالَ كَانَتْ أُمِّي مِمَّنْ عَذَرَ اللَّهُ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪২৪২। আবূ নু’মান (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত,إِلاَّ الْمُسْتَضْعَفِينَ সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, আল্লাহর তা’আলা যাদের অক্ষমতা কবূল করেছেন আমার মাতা তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
৪২৪৪। আবূল হাসান ইবনু মুহাম্মদ মুকাতিল (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত,إِنْ كَانَ بِكُمْ أَذًى مِنْ مَطَرٍ أَوْ كُنْتُمْ مَرْضَى তিনি বলেছেন যে আবদুর রাহমান ইবনু ’আউফ (রাঃ) আহত ছিলেন।
২৩৪৯. আল্লাহর বাণীঃ লোকে আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানতে চায় আপনি বলুন আল্লাহই তাদের সম্বন্ধে তোমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছেন, এবং ইয়াতীম নারীদের সম্পর্কে (যাদের প্রাপ্য তোমরা প্রদান কর না অথচ তোমরা তাদেরকে বিয়ে করতে চাও, অসহায় শিশুদের সম্বন্ধে এবং ইয়াতীমদের প্রতি তোমাদের ন্যায় বিচার সম্পর্কে) যা কিতাবে শোনানো হয় (৪ঃ ১২৭)
৪২৪৫। ’উবায়দ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ) إِلَى قَوْلِهِ (وَتَرْغَبُونَ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ আয়াত সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, সে হচ্ছে ঐ ব্যাক্তি যার নিকট ইয়াতীম বালিকা থাকে সে তার অভিভাবক এবং তার মুরুব্বি এরপর সেই বালিকা সেই অভিভাবকের অংশিদার হয়ে যায়, এমনকি খেজুর বৃক্ষেও। সে ব্যাক্তি তাকে বিবাহ করা থেকে বিরত থাকে এবং অন্য কারো নিকট বিয়ে দিতেও অপছন্দ করে এ আশংকায় যে, তার সেই সম্পত্তিতে বালিকা অংশীদার সেই সম্পত্তিতে তৃতীয় ব্যাক্তি অংশীদার হয়ে যাবে। এভাবে সেই ব্যাক্তি ঐ বালিকাকে আবদ্ধ করে রাখে। তাই এই আয়াত অবতীর্ন হয়েছে।
২৩৫০. কোন স্ত্রী যদি তার স্বামীর দুর্ব্যবহার ও উপেক্ষার আশংকা করে (৪ঃ ১২৮) ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেছেন, شِقَاقٌ পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ, وَأُحْضِرَتْ الْأَنْفُسُ الشُّحَّ কোন বস্তুর প্রতি অত্যধিক আশঙ্কা বা লোভ করা, كَالْمُعَلَّقَةِ সধবাও নয়, বিধবাও নয়। نُشُوْزًا হিংসা।
৪২৪৬। মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًا আয়াত সম্পর্কে তিনি বলেছেন, যে কোন ব্যাক্তির যাওযিয়তে কোন মহিলা থাকে কিন্তু স্বামী তার প্রতি আকৃষ্ট নয় বরং তাকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে চায়, তখন স্ত্রী বলে আমার এই এই পাওনা আমি তোমাকে অব্যাহতি দিচ্ছি, এতদুপলক্ষে এ আয়াত নাযিল হল।
৪২৪৭। উমর ইবনু হাফস (রহঃ) ... আসওয়াদ (রহঃ) বলেছেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর মজলিশে ছিলাম, সেখানে হুযায়ফা আসলেন এবং আমাদের সম্মুখে দন্ডায়মান হয়ে সালাম দিলেন। এরপর বললেন, তোমাদের চেয়ে উত্তম গোত্রের উপরও মুনাফিকী এসেছিল পরীক্ষাসরূপ। আসওয়াদ বললেন, সুবহানাল্লাহ! অথচ আল্লাহ তা’আলা বলেন, ’’মুনাফিকগণ জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে থাকবে’’ হুযায়ফা (রাঃ) এর সত্য প্রকাশে আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হেসে উঠলেন। হুযায়ফা (রাঃ) মসজিদের এক কোনে গিয়ে বসলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) উঠে গেল তাঁর শাগরিদরাও চলে গেলেন। এরপর হুযায়ফা (রাঃ) আমার দিকে একটি পাথর টুকরো নিক্ষেপ করে আমাকে ডাকলেন। আমি তার নিকট গেলে তিনি বললেন, তাঁর নিছক হাশিতে আমি আশ্চর্য হলাম অথচ আমি যা বলেছি তা তিনি বুঝেছেন। এমন গোত্র যারা তোমাদের চেয়ে উত্তম তাদের উপর মুনাফিকী অবতরণ করা হয়েছিল। তারপর তারা তওবা করেছে এবং আল্লাহ তা’আলা তাদের তওবা কবূল করেছেন।
২৩৫২. আল্লাহর বাণীঃ তোমার নিকট ওহী প্রেরণ করেছি যেমন ইউনুস, হারুন এবং সুলাইমান (আঃ) এর নিকট ওয়াহী প্রেরণ করেছিলাম। (নিসা ৪ঃ ১৬৩)
হাদিস নং ৪২৪৮সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا يَنْبَغِي لأَحَدٍ أَنْ يَقُولَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪২৪৮। মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, ’’আমি ইউনুছ ইবনু মাত্তা (আলাইহিস সালাম) থেকে উত্তম’’ এটা বলা কারো উচিত নয়।
হাদিস নং ৪২৪৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، حَدَّثَنَا هِلاَلٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى فَقَدْ كَذَبَ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪২৪৯। মুহাম্মদ ইবনু সিনান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, যে ব্যাক্তি বলে "আমি ইউনুছ ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম" সে মিথ্যা বলে।
২৩৫৩. আল্লাহর বাণীঃ লোকে তোমার নিকট ব্যবস্থা জানতে চায়। বল, পিতা-মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তোমাদেরকে আল্লাহ ব্যবস্থা জানাচ্ছেন – কোন পুরুষ মারা গেলে সে যদি সন্তানহীন হয় এবং তার এক ভগ্নি থাকে তবে তার জন্য পরিত্যাক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ, এবং সে যদি সন্তানহীনা হয় তবে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে (৪ঃ ১৭৬) كَلَالَةِ যার পিতা কিংবা পুত্র উত্তরাধিকারী না থাকে مُكَلَّةُ النَّسَبِ বাক্য থেকে এটা ক্রিয়াপদ।
হাদিস নং ৪২৫০সহিহ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، سَمِعْتُ الْبَرَاءَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ آخِرُ سُورَةٍ نَزَلَتْ بَرَاءَةَ، وَآخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ (يَسْتَفْتُونَكَ )
বর্ণনাকারী: আবূ ইসহাক (রহঃ)
৪২৫০। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) ... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমি ’বারা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, সর্বশেষ অবতীর্ন সূরা হচ্ছে ’’বারাআ’ত’’ এবং সর্বশেষ অবতীর্ন আয়াত হচ্ছে- يَسْتَفْتُونَكَ قل الله يفتيكم فى الكلالة
২৩৫৪. আল্লাহর বাণীঃ আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম। (৫ঃ ৩)
সুরা আল-মায়িদা
حُرُمٌ একবচনে حَرَامٌ নিষিদ্ধ অবস্থায় (৫ঃ ১), فَبِمَا نَقْضِهِمْ তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণ (আল-মায়িদাহ ৫/১৩), الَّتِيْ كَتَبَ اللهُ যা আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন, تَبُوْءُ বহন করবে, অন্য একজন বলেছেন الإِغْرَاءُ শক্তিশালী করে দেয়া, دَائِرَةٌ ওলট-পালট, أُجُوْرَهُنَّ তাদের মাহর, مَخْمَصَةٍ ক্ষুধার তাড়নায় (৫ঃ ৩)।
(হে কিতাবীগণ) তাওরাত, ইনজিল ও যাহা তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা তা প্রতিষ্ঠিত না করা পর্যন্ত তোমাদের কোন ভিত্তিই নেই (৫ঃ ৬৮)
সুফ্ইয়ান সাওরী (রহঃ) বলেন, আমার দৃষ্টিতে কুরআন মাজীদে لَسْتُمْ عَلٰى شَيْءٍ حَتّٰى تُقِيْمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيْلَ وَمَآ أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ مَّخْمَصَةٍ আয়াতটির চেয়ে কঠোর অন্য কোন আয়াত নেই। مَنْ أَحْيَاهَا আর যে কেউ কারো জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমস্ত মানুষের জীবন রক্ষা করল- (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৩২)। شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا আইন ও স্পষ্ট পথ, নিয়ম- (৫ঃ ৪৮) مُهَيْمِنُ আমানতদার, কুরআন তার পূর্বের কিতাবসমূহের আমানতদার। (৫ঃ ৪৮)
৪২৫১। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... তারিক ইবনু শিহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ইহুদীগণ ’উমর ফারুক (রাঃ) কে বলল যে, আপনারা এমন একটি আয়াত পড়ে থাকেন তা যদি আমাদের মধ্যে অবতীর্ন হত, তবে আমরা সেটাকে "ঈদ" করে রাখতাম। উমর (রাঃ) বললেন, এটা কখন অবতীর্ন হয়েছে, কোথায় অবতীর্ন হয়েছে এবং নাযিলের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় ছিলেন, আল্লাহর শপথ আমরা সবাই ’আরাফাতে ছিল, সেই আয়াতটি হল- الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ
২৩৫৫. আল্লাহর বাণীঃ এবং যদি পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করবে (৫ঃ ৬)
হাদিস নং ৪২৫২সহিহ
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ، حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ أَوْ بِذَاتِ الْجَيْشِ انْقَطَعَ عِقْدٌ لِي، فَأَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْتِمَاسِهِ، وَأَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ، وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ، وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ فَأَتَى النَّاسُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَقَالُوا أَلاَ تَرَى مَا صَنَعَتْ عَائِشَةُ أَقَامَتْ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبِالنَّاسِ، وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ، وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ، فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاضِعٌ رَأْسَهُ عَلَى فَخِذِي قَدْ نَامَ، فَقَالَ حَبَسْتِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسَ، وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ، وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ قَالَتْ عَائِشَةُ فَعَاتَبَنِي أَبُو بَكْرٍ، وَقَالَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ، وَجَعَلَ يَطْعُنُنِي بِيَدِهِ فِي خَاصِرَتِي، وَلاَ يَمْنَعُنِي مِنَ التَّحَرُّكِ إِلاَّ مَكَانُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى فَخِذِي، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَصْبَحَ عَلَى غَيْرِ مَاءٍ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ آيَةَ التَّيَمُّمِ فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ مَا هِيَ بِأَوَّلِ بَرَكَتِكُمْ يَا آلَ أَبِي بَكْرٍ. قَالَتْ فَبَعَثْنَا الْبَعِيرَ الَّذِي كُنْتُ عَلَيْهِ فَإِذَا الْعِقْدُ تَحْتَهُ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
تَيَمَّمُوْا তোমরা ইচ্ছে করবে, آمِّيْنَ উদ্দেশ্য করে, أَمَّمْتُ আর تَيَمَّمْتُ একই, আমি ইচ্ছে করেছি, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন- وَ اللَّاتِيْ دَخَلْتُمْ بِهِنَّ، تَمَسُّوْهُنَّ، لَمَسْتُمْ এবং وَالإِفْضَاءُ এই চারটিরই অর্থ সহবাস করা।
৪২৫২। ইসমাঈল (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পত্নী আয়িশা (রাঃ) বলেছেন যে, আমরা সবাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক সফরে বের হলাম, বায়দা কিংবা বায়তুল জায়শ নামক স্থানে পৌছার পর আমর গলার হার হারিয়ে গেল। তা খোঁজার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথায় অবস্থান করলেন এবং অন্যান্য লোকও তাঁর সাথে অবস্থান করল। সেখানেও কোন পানি ছিল না এবং তাদের সাথেও পানি ছিল না। এরপর লোকেরা আবূ বকর (রাঃ) এর কাছে আসল এবং বলল, আয়িশা (রাঃ) যা করেছেন আপনি তা দেখেছেন কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সকল লোককে আটকিয়ে রেখেছেন, অথচ তাদের কাছেও পানি নেই আবার সেখানেও পানি নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঊরুতে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় আবূ বকর (রাঃ) এলেন এবং বললেন, তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সকল লোককে আটকে রেখেচ অথচ সেখানেও পানি নেই আবার তাদের সাথেও পানি নেই।
আয়িশা (রাঃ) বললেন যে, আবূ বকর (রাঃ) আমাকে দোষারোপ করলেন এবং আল্লাহ যা চেয়েছেন তা বলেছেন এবং তাঁর অঙ্গুলি দিয়ে আমার কোমরে ঠুসি দিতে লাগলেন, আমার কোলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবস্থানই আমাকে পালিয়ে যেতে বাধা দিয়েছে। পানিবিহীন অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে উঠলেন। এরপরفتيمموا বলে আল্লাহ তা’আলা তায়াম্মুমোর আয়াত নাযিল করলেন, তখন উসায়দ ইবনু হুযায়র বলেছেন, হে আবূ বকর এর বংশধর! এটা আপনাদের প্রথম মাত্র বরকত নয়। আয়িশা (রাঃ) বললেন, যে উটের উপর আমি ছিলাম, তাকে আমরা উঠালাম তখন দেখি হারটি তার নিচে।
হাদিস নং ৪২৫৩সহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْقَاسِمِ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ سَقَطَتْ قِلاَدَةٌ لِي بِالْبَيْدَاءِ وَنَحْنُ دَاخِلُونَ الْمَدِينَةَ، فَأَنَاخَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَنَزَلَ، فَثَنَى رَأْسَهُ فِي حَجْرِي رَاقِدًا، أَقْبَلَ أَبُو بَكْرٍ فَلَكَزَنِي لَكْزَةً شَدِيدَةً وَقَالَ حَبَسْتِ النَّاسَ فِي قِلاَدَةٍ. فَبِي الْمَوْتُ لِمَكَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ أَوْجَعَنِي، ثُمَّ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اسْتَيْقَظَ وَحَضَرَتِ الصُّبْحُ فَالْتُمِسَ الْمَاءُ فَلَمْ يُوجَدْ فَنَزَلَتْ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاَةِ) الآيَةَ. فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ لَقَدْ بَارَكَ اللَّهُ لِلنَّاسِ فِيكُمْ يَا آلَ أَبِي بَكْرٍ، مَا أَنْتُمْ إِلاَّ بَرَكَةٌ لَهُمْ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪২৫৩। ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, মদিনায় প্রবেশের পথে বায়দা নামক স্থানে আমার গলার হারটি পড়ে গেল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে উট বসিয়ে অবস্থান করলেন। তিনি আমার কোলে মাথা রেখে শুয়েছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) এসে আমাকে কঠোরভাবে থাপ্পড় লাগালেন এবং বললেন একটি হার হারিয়ে তুমি সকল লোককে আটকে রেখেছ। এদিকে তিনি আমাকে ব্যথা দিয়েছেন, অপর দিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থায় আছেন, এতে আমি মৃত্যু যাতনা ভোগ করছিলাম। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হলেন, ফজর সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় হল এবং পানি খোঁজ করে পাওয়া গেল না, তখন নাযিল হলঃيَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاَةِ الآيَةَ হে মু’মিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল
ও হাত কণুই পর্যন্ত ধৌত করবে। (৫ঃ ৬)
এরপর উসায়দ ইবনু হুযায়র বললেন, হে আবূ বকরের বংশধর! আল্লাহ তা’আলা তোমাদের কারণে মানুষের জন্য বরকত নাযিল করেছেন। তোমাদের আপাদ মস্তক তাদের জন্য বরকতই বরকত।
২৩৫৬. আল্লাহর বাণীঃ সুতরাং তুমি ও তোমার প্রতিপালক যাও এবং যুদ্ধ কর, আমরা এখানে বসে থাকব (৫ঃ ২৪)
হাদিস নং ৪২৫৪সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ مُخَارِقٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، سَمِعْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ شَهِدْتُ مِنَ الْمِقْدَادِ ح وَحَدَّثَنِي حَمْدَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ حَدَّثَنَا الأَشْجَعِيُّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مُخَارِقٍ عَنْ طَارِقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ الْمِقْدَادُ يَوْمَ بَدْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا لاَ نَقُولُ لَكَ كَمَا قَالَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ لِمُوسَى (فَاذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلاَ إِنَّا هَا هُنَا قَاعِدُونَ) وَلَكِنِ امْضِ وَنَحْنُ مَعَكَ. فَكَأَنَّهُ سُرِّيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. وَرَوَاهُ وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مُخَارِقٍ عَنْ طَارِقٍ أَنَّ الْمِقْدَادَ قَالَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪২৫৪। আবূ নু’আঈম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন যে, বদর যুদ্ধের দিন মিকদাদ (রাঃ) বলেীছলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইসরাঈলীরা মূসা (আলাইহিস সালাম) কে যে রকম বলেছিল, ’’যাও তুমি ও তোমার প্রতিপালক যুদ্ধ কর, আমরা এখানে বসে থাকব’’ আমরা আপনাকে সে রকম বলবনা বরং আপনি অগ্রসর হোন, আমরা সবাই আপনার সাথেই আছি, তখন যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে গেল।
এই হাদীসটি ওয়াকা-সুফিয়ান থেকে, তিনি মুখারিক থেকে এবং তিনি (মুখারিক) তারিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মিকদাদ এটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেছিলেন।
২৩৫৭. আল্লাহর বাণীঃ যারা আল্লাহ ও তার রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কার্য করে বেড়ায় তাদের শাস্তি এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে অথবা বিপরীত দিক হতে তাদের হাত পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে (দুনিয়ায় এটাই তাদের লাঞ্চনা ও আখিরাতে তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে) (৫ঃ ৩৩) [ الْمُحَارَبَتُ لِلَّهِ الْكُفْرُبِهِ ]-আল্লাহর সাথে কুফরী করা।
৪২৫৫। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ কিলাবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) এর পেছনে উপবিষ্ট ছিলেন। তাঁরা কিসামাত দন্ড সম্পর্কিত হাদীসটি আলোচনা করলেন এবং এর অবস্থা সম্পর্কে আলাপ করলেন, তারা মৃত্যুদন্ডের পক্ষে বললেন এবং এও বললেন যে, খুলাফায়ে রাশেদীন এ পদ্ধতিতে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছেন। এরপর তিনি আবূ কিলাবার প্রতি তাকালেন, আবূ কিলাবা তাঁর পেছনে ছিলেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ নামে কিংবা আবূ কিলাবা নামে ডেকে বললেন, এই ব্যাপারে তোমার মতামত কি? আমি বললাম বিয়ের পর ব্যভিচার, কিসাসবিহীন খুন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনার কোন একটি ব্যতীত অন্য কোন কারণে কাউকে মৃত্যুদন্ড দেয়া ইসলামে বৈধ বলে আমার জানা নেই।
আনবাসা বললেন, আনাস (রাঃ) আমাদেরকে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন (অর্থাৎ হাদীসে আরনিন।) আমি (আবূ কিলাবা) বললাম, আমাকেও আনাস (রাঃ) এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে এসে তাঁর সাথে আলাপ করল, তারা বলল, (প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে) আমরা এদেশের সাথে মিলতে পারছি না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এগুলো আমার উট, ঘাস খাওয়ানোর জন্য বের হচ্ছে, তোমরা এগুলোর সাথে যাও এবং এদের দুধ ও পস্রাব পান কর। তারা ওগুলোর সাথে বেরিয়ে গেল এবং দুধ ও প্রসাব পান করে সুস্থ হয়ে উঠল, এরপর রাখালের উপর আক্রমন করে তাকে হত্যা করে পশুগুলো লুট করে নিয়ে গেল।
মৃত্যুদন্ড ভোগ করার অপরাধসমূহ তাদের থেকে কতটুকু দূরে ছিল? তারা নর হত্যা করেছে,আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ভয় দেখিয়েছে। আনবাসা আশ্চর্য হয়ে বলল, সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম, আমার এ হাদীস সম্পর্কে তুমি কি আমাকে মিথ্যা অপবাদ দেবে? আনবাসা বলল, আনাস (রাঃ) আমাদেরকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবূ কিলাবা বললেন, তখন ’আনবাসা বলল, হে দেশবাসী (অর্থাৎ সিরিয়াবাসী) এ রকম ব্যাক্তিবর্গ যতদিন তোমাদের মধ্যে থাকবে ততদিন তোমরা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।
২৩৫৮. আল্লাহর বাণীঃ এবং যখমের বদল অনুরূপ যখম (৫ঃ ৪৫)
হাদিস নং ৪২৫৬সহিহ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، أَخْبَرَنَا الْفَزَارِيُّ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كَسَرَتِ الرُّبَيِّعُ ـ وَهْىَ عَمَّةُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ ثَنِيَّةَ جَارِيَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ، فَطَلَبَ الْقَوْمُ الْقِصَاصَ، فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْقِصَاصِ. فَقَالَ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ عَمُّ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ لاَ وَاللَّهِ لاَ تُكْسَرْ سِنُّهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَنَسُ كِتَابُ اللَّهِ الْقِصَاصُ ". فَرَضِيَ الْقَوْمُ وَقَبِلُوا الأَرْشَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ ".
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪২৫৬। মুহাম্মদ ইবনু সাল্লাম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রুবাই যিনি আনাস (রাঃ) এর ফুফু, এক আনসার মহিলার সামনের একটি বড় দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছিল। এরপর আহত মহিলার গোত্র এর কিসাস দাবি করে। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসাসের নির্দেশ দিলেন, আনাস ইবনু মালিক এর চাচা আনাস ইবনু নযর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ রুবাই এর দাত ভাঙ্গা হবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আনাস! আল্লাহর কিতাব তো ’বদলা’র বিধান দেয়। পরবর্তীতে বিরোধী পক্ষ রাযী হয়ে মুক্তিপণ বা দিয়াত গ্রহণ করল। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর এমন কিছু বান্দা আছে যারা আল্লাহর নামে শপথ করলে আল্লাহ তা’আলা তাদের শপথ সত্যে পরিণত করেন।
২৩৫৯. আল্লাহর বাণীঃ হে রাসুল! তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার কর (৫ঃ ৬৭)
হাদিস নং ৪২৫৭সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم كَتَمَ شَيْئًا مِمَّا أُنْزِلَ عَلَيْهِ، فَقَدْ كَذَبَ، وَاللَّهُ يَقُولُ (يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ) الآيَةَ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪২৫৭। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, যদি কেউ তোমাকে বলে যে, তাঁর অবতীর্ণ বিষয়ের যৎসামান্য কিছুও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোপন করেছেন তা হলে নিশ্চিত যে, সে মিথ্যা বলেছে। আল্লাহ বলেছেন, হে রাসূল! তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা তুমি প্রচার কর।’
২৩৬০. আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে দায়ী করবেন না (৫ঃ ৮৯)
হাদিস নং ৪২৫৮সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ سُعَيْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنِ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ (لاَ يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ) فِي قَوْلِ الرَّجُلِ لاَ وَاللَّهِ، وَبَلَى وَاللَّهِ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪২৫৮। আলী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে,لاَ يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ আয়াতটি নাযিল হয়েছে মানুষের উদ্দেশ্যবিহীন উক্তি لاَ وَاللَّهِ আল্লাহর শপথ, بَلَى وَاللَّهِ হ্যাঁ আল্লাহর শপথ ইত্যাদি উপলক্ষে।
৪২৫৯। আহমদ ইবনু আবূ রাযা’ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা কোন শপথই ভঙ্গ করতেন না। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা শপথ ভঙ্গের কাফফারার বিধান নাযিল করলেন। আবূ বকর (রাঃ) বলেছেন, শপথকৃত কার্যের বিপরীতটি যদি আমি উত্তম ধারণা করি তবে আমি আল্লাহ প্রদত্ত সুযোগটি গ্রহণ করি এবং উত্তম কাজটি সম্পাদন করি।
২৩৬১. আল্লাহর বাণীঃ হে মুমিনগণ ! আল্লাহ তোমাদের জন্যে উৎকৃষ্ট যেসব বস্তু হালাল করেছেন সেগুলোকে তোমরা হারাম করো না। (এবং সীমালঙ্ঘন করে না। আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীকে পছন্দ করেন না) (৫ঃ ৮৭)
হাদিস নং ৪২৬০সহিহ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، رضى الله عنه قَالَ كُنَّا نَغْزُو مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَيْسَ مَعَنَا نِسَاءٌ فَقُلْنَا أَلاَ نَخْتَصِي فَنَهَانَا عَنْ ذَلِكَ، فَرَخَّصَ لَنَا بَعْدَ ذَلِكَ أَنْ نَتَزَوَّجَ الْمَرْأَةَ بِالثَّوْبِ، ثُمَّ قَرَأَ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ )
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪২৬০। আমর ইবনু আউন (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যুদ্ধে বের হতাম, তখন আমাদের সাথে স্ত্রীগণ থাকত না, তখন আমরা বলতাম আমরা খাসি হয়ে যাব না? তিনি আমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করলেন এং কাপড়ের বিনিময়ে হলেও মহিলাদেরকে বিয়ে করার অর্থাৎ নিকাহে মুত'আর অনুমতি দিলেন এবং পাঠ করলেনঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ
২৩৬২. আল্লাহর বাণীঃ হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজা, বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কার্য (সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার) (৫ঃ ৯০) ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেছেন, الْأَزْلَامُ সে সকল তীর যেগুলো দ্বারা তারা কর্মসমূহের ভাগ্য পরীক্ষা করে। النُّصُبُ বেদী, সেগুলো তারা প্রতিষ্ঠা করে এবং সেখানে পশু যবহ করে। অন্য কেউ বলেছেন الزَّلَمُ তীর, الْأَزْلَامُ এর একবচন, ভাগ্য পরীক্ষার পদ্ধতি এই যে, তীরটাকে ঘুরাতে থাকবে। তীর যদি নিষেধ করে তো বিরত থাকবে আর যদি তাকে কর্মের নির্দেশ দেয় তাহলে সে নির্দেশিত কাজ করে যাবে। তীরগুলোকে বিভিন্ন প্রকার চিহ্ন দ্বারা চিহ্নত করা হয় এবং তা দ্বারা তথাকথিত ভাগ্য পরীক্ষা করা হয়। এতদসম্পর্কে فَعَلْتُ-এর কাঠামোতে قَسَمْتُ ব্যবহার করা হয় অর্থাৎ আমি ভাগ্য যাচাই করেছি, এর ক্রিয়া হচ্ছে الْقُسُوْمُ
৪২৬১। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন মদ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান যখন নাযিল হল, তখন মদিনাতে পাঁচ প্রকারে মদের প্রচলন ছিল, আঙ্গুরের পানিগুলো এর অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
৪২৬২। ইয়াকূব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তোমরা যেটাকে ফাযীক অর্থাৎ কাঁচা খুরমা ভিজানো পানি নাম রেখেছ সেই ফাযিখ ব্যতীত আমাদের অন্য কোন মদ ছিল না। একদিন আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আবূ তালহা, অমুক এবং অমুককে তা পান করাচ্ছিলাম। তখনই এক ব্যাক্তি এসে বলল, আপনাদের কাছে এ সংবাদ এসেছে কি? তাঁরা বললেন, ঐ কি সংবাদ? সে বললঃ মদ হারাম করে দেয়া হয়েছে, তাঁরা বললেন, হে আনাস! এই পাত্রগুলো ঢেলে দাও। আনাস (রাঃ) বললেন যে, তাঁরা এতদ প্রসঙ্গে কিছু জিজ্ঞাসাও করলেন না এবং এই ব্যাক্তির সংবাদের পর তাঁরা দ্বিতীয়বার পান করেননি।
৪২৬৩। সাদকা ইবনু ফাযল (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) বলেছেন যে, উহুদের যুদ্ধের দিন ভোরে কিছু লোক মদ পান করেছিলেন এবং সেদিন তারা সবাই শহীদ হয়েছেন। এই মদ্যপান ছিল তা হারাম হওয়ার পূর্বেকার ঘটনা।
হাদিস নং ৪২৬৪সহিহ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، وَابْنُ، إِدْرِيسَ عَنْ أَبِي حَيَّانَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ ـ رضى الله عنه ـ عَلَى مِنْبَرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ أَمَّا بَعْدُ أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ نَزَلَ تَحْرِيمُ الْخَمْرِ وَهْىَ مِنْ خَمْسَةٍ، مِنَ الْعِنَبِ وَالتَّمْرِ وَالْعَسَلِ وَالْحِنْطَةِ وَالشَّعِيرِ، وَالْخَمْرُ مَا خَامَرَ الْعَقْلَ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪২৬৪। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানজালী (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, আমি ’উমর (রাঃ) কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বরে বসে বলতে শুনেছি যে, এরপর হে লোকসকল! মদপানের নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হয়েছে আর তা হচ্ছে পাঁচ প্রকার, খুরমা থেকে, আঙ্গুর, খেজুর থেকে, মধু থেকে, গম থেকে এবং যব থেকে আর মদ হচ্ছে যা সুস্থ ও জ্ঞানকে আচ্ছাদিত করে রাখে।
২৩৬৩. আল্লাহর বাণীঃ যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তারা পূর্বে যা ভক্ষন করেছে তজ্জন্য তাদের কোন পাপ নেই, যদি তারা সাবধান হয় এবং ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, সাবধান হয় ও বিশ্বাস করে, পুনরায় সাবধান হয় এবং সৎকর্ম করে এবং আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের ভালবাসেন (৫ঃ ৯৩)
৪২৬৫। আবূ নু’মান (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ঢেলে দেয়া মদগুলো ছিল ফাযীখ। আবূ নু’মান থেকে মুহাম্মদ ইবন সাল্লাম আরও অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, আনাস (রাঃ) বলেছেন, আমি আবূ তালহা (রাঃ) এর ঘরে লোকদেরকে মদ পরিবেশন করছিলাম, তখনই মদের নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ঘোষককে তা প্রচারের নির্দেশ দিলেন। এরপর সে ঘোষণা দিল। আবূ তালহা বলল, বেরিয়ে দেখ তো ঘোষণা কিসের? আনাস (রাঃ) বললেন, আমি বেরুলাম এবং বললাম যে, একজন ঘোষক ঘোষণা দিচ্ছে যে, যেনে রাখ মদ হারাম করে দেয়া হয়েছে। এরপর তিনি আমাকে বললেন যাও, এগুলো সব ঢেলে দাও। আনাস (রাঃ) বললেন, সেদিন মদিনার রাস্তায় রাস্তায় মদের স্রোত প্রবাহিত হয়েছিল। তিনি বলেন, সে যুগে তাদের মদ ছিল ফাযীখ, তখন একজন বললেন, যারা মদপান করে শহীদ হয়েছেন তাঁদের কি অবস্থা হবে? তিনি বলেন, এরপর আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন- لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا
২৩৬৪. আল্লাহর বাণীঃ হে মু'মিনগণ ! তোমরা সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে (৫ঃ ১০১)
হাদিস নং ৪২৬৬সহিহ
حَدَّثَنَا مُنْذِرُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجَارُودِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خُطْبَةً مَا سَمِعْتُ مِثْلَهَا قَطُّ، قَالَ " لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلاً وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا ". قَالَ فَغَطَّى أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وُجُوهَهُمْ لَهُمْ خَنِينٌ، فَقَالَ رَجُلٌ مَنْ أَبِي قَالَ فُلاَنٌ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ (لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ). رَوَاهُ النَّضْرُ وَرَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ عَنْ شُعْبَةَ.
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪২৬৬। মুনযির ইবনু ওয়ালিদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি খুতবা দিলেন যেরূপ আমি আর কখনো শুনিনি। তিনি বলেছেন, ’’আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তবে তোমরা হাসতে খুব কমই এবং বেশী বেশী করে কাঁদতে’’। তিনি বলেন, সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) আপন আপন চেহারা আবৃত করে গুনগুন করে কান্না জুড়ে দিলেন এরপর এক ব্যাক্তি (আবদুল্লাহ ইবনু হুযায়ফা বা অন্য কেউ) বলল, আমার পিতা কে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’অমুক’’। তখন এই আয়াত নাযিল হলঃ لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ
এই হাদীসটি শুবা থেকে নযর এবং রাওহ ইবনু উবাদা বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং ৪২৬৭সহিহ
حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْجُوَيْرِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كَانَ قَوْمٌ يَسْأَلُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتِهْزَاءً، فَيَقُولُ الرَّجُلُ مَنْ أَبِي وَيَقُولُ الرَّجُلُ تَضِلُّ نَاقَتُهُ أَيْنَ نَاقَتِي فَأَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِمْ هَذِهِ الآيَةَ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ) حَتَّى فَرَغَ مِنَ الآيَةِ كُلِّهَا.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪২৬৭। ফাযল ইবনু সাহল (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, কিছু লোক ছিল তারা ঠাট্টা করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করত, কেউ বলত আমার পিতা কে? আবার কেউ বলত আমার উষ্ট্রী হারিয়ে গেছে তা কোথায়? তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত নাযিল করেছেন - يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ
২৩৬৫. আল্লাহর বাণীঃ বাহীরা, সাইবা, ওয়াসীলা ও হাম আল্লাহ স্থির করেন নি (৫ঃ ১০১)
হাদিস নং ৪২৬৮সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، قَالَ الْبَحِيرَةُ الَّتِي يُمْنَعُ دَرُّهَا لِلطَّوَاغِيتِ فَلاَ يَحْلُبُهَا أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ. وَالسَّائِبَةُ كَانُوا يُسَيِّبُونَهَا لآلِهَتِهِمْ لاَ يُحْمَلُ عَلَيْهَا شَىْءٌ. قَالَ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " رَأَيْتُ عَمْرَو بْنَ عَامِرٍ الْخُزَاعِيَّ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ، كَانَ أَوَّلَ مَنْ سَيَّبَ السَّوَائِبَ ". وَالْوَصِيلَةُ النَّاقَةُ الْبِكْرُ تُبَكِّرُ فِي أَوَّلِ نِتَاجِ الإِبِلِ، ثُمَّ تُثَنِّي بَعْدُ بِأُنْثَى. وَكَانُوا يُسَيِّبُونَهُمْ لِطَوَاغِيتِهِمْ إِنْ وَصَلَتْ إِحْدَاهُمَا بِالأُخْرَى لَيْسَ بَيْنَهُمَا ذَكَرٌ. وَالْحَامِ فَحْلُ الإِبِلِ يَضْرِبُ الضِّرَابَ الْمَعْدُودَ، فَإِذَا قَضَى ضِرَابَهُ وَدَعُوهُ لِلطَّوَاغِيتِ وَأَعْفَوْهُ مِنَ الْحَمْلِ فَلَمْ يُحْمَلْ عَلَيْهِ شَىْءٌ وَسَمَّوْهُ الْحَامِيَ.<br /> وَقَالَ لي أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، سَمِعْتُ سَعِيدًا، قَالَ يُخْبِرُهُ بِهَذَا قَالَ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ. وَرَوَاهُ ابْنُ الْهَادِ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم.
বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.)
وَإِذْ قَالَ اللهُ বাক্যে قَالَ اللهُ মানে يَقُوْلُ অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিবসে বলবেন আর إِذْ শব্দটি অতিরিক্ত। الْمَائِدَةُ মূলে مَفْعُوْلَةٌ এর কাঠামোতে مَمْيُوْدَة ছিল, যেমন عِيْشَةٍ رَاضِيَةٍ এর মধ্যে رَاضِيَةٍ অর্থ مَرْضِيَةٌٍ এবং تَطْلِيْقَةٍ بَائِنَةٍ এর মধ্যে بَائِنَةٍ অর্থ مُبَائِنَةٍ, সুতরাং অর্থ হবে مِيْدَ بِهَا صَاحِبُهَا مِنْ خَيْرٍ ’’তার মালিক কল্যাণ বিছিয়েছেন’’ যেমন مَادَنِي-يَمِيْدُنِيْ বলা হয়।
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, مُتَوَفِّيْكَ আমি তোমার মৃত্যু ঘটাব। (৩ঃ ৫৫)
৪২৬৮। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু মূসায়্যাব (রাঃ) বলেছেন,الْبَحِيرَةُ বাহীরা যে জন্তুর স্তন প্রতিমার উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত থাকে কেউ তা দোহন করে না।السَّائِبَةُ সায়িবা, যে জন্তু তারা তার উপাস্যের নামে ছেড়ে দিত এবং তা বহন কার্যে ব্যবহার করে না। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আমি আমর ইবনু আমির খুযায়ীকে দোযখের মধ্যে দেখেছি সে তার নাড়িভুড়ি টানছে, সে-ই প্রথম ব্যাক্তি যে সায়ীবা প্রথা প্রথম চালু করে।الْوَصِيلَةُ ওয়াসীলাহ, যে উষ্ট্রী প্রথম বারে মাদী বাচ্চা প্রসব করে এবং দ্দ্বিতীয়বারেও মাদী বাচ্চা প্রসব করে, (যেহেতু নর বাচ্চার ব্যবধান ব্যতীত একটা অন্যটার সাথে সংযুক্ত হয়েছে সেহেতু) ঐ উষ্ট্রীকে তারা তাদের তাগুতের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দিত।
الْحَامِ হাম, নর উট যা দ্বারা কয়েকবার প্রজনন কার্য নেয়া হয়, প্রজনন কার্য সমাপ্ত হলে সেটাকে তারা তাদের প্রতিমার জন্য ছেড়ে দেয়, এবং বোঝা বহন থেকে ওটাকে মুক্তি দেয়। সেটির উপর কিছু বহন করা হয় না। এটাকে তারা ’হাম’ নামে অভিহিত করত।
আমাকে আবূল ইয়ামান বলেছেন যে, শুয়াইব, ইমাম যুহরী (রহঃ) থেকে আমাদের অবিহিত করেছেন, যুহরী বলেন, আমি সাঈদ ইবনু মূসাইয়্যিব (রাঃ) থেকে শুনেছি, তিনি তাকে এ ব্যাপারে অবিহিত করেছেন। সাঈদ ইবনু মূসাইয়্যিব বলেছেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ রকম শুনেছি। ইবনু হাদ এটা বর্ণনা করেছেন ইবনু শিহাব থেকে। আর তিনি সাঈদ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি।
হাদিস নং ৪২৬৯সহিহ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْكَرْمَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " رَأَيْتُ جَهَنَّمَ يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا، وَرَأَيْتُ عَمْرًا يَجُرُّ قُصْبَهُ، وَهْوَ أَوَّلُ مَنْ سَيَّبَ السَّوَائِبَ ".
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪২৬৯। মুহাম্মদ ইবনু আবূ ইয়াকূব (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) বলেছেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি জাহান্নামকে দেখেছি তার একাংশ অন্য অংশকে ভেঙ্গে ফেলছে বা প্রবলভাবে জড়িয়ে রয়েছে, ’আমরকে দেখেছি সে তার নাড়িভুড়ি টানছে, সে-ই প্রথম ব্যাক্তি যে, lsquo;’সায়ীবা’’ প্রথা চালু করে।
২৩৬৬. আল্লাহর বাণীঃ যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি ছিলাম তাদের কার্যকলাপের সাক্ষী; কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে তখন তুমি তো ছিলে তাদের কর্যকলাপের তত্ত্বাবধায়ক এবং তুমিই সর্ববিষয়ে সাক্ষী (৫ঃ ১১৭)
৪২৭০। আবূ ওয়ালিদ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন খুতবা দিলেন, বললেন, হে লোক সকল! তোমরা খালি পা, উলঙ্গ এবং খতনাবিহীন অবস্থায় আল্লাহর নিকট একত্রিত হবে, তারপর তিনি পড়লেন,كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব, প্রতিশ্রুতি পালন আমার কর্তব্য, আমি তা পালন করবই। আয়াতের শেষ পর্যন্ত (২১: ১০৪)
তারপর তিনি বললেন, কিয়ামত দিবসে সর্ব প্রথম যাকে বস্ত্র পরিধান করানো হবে তিনি হচ্ছেন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)। তোমরা জেনে রাখ, আমার উম্মতের কতগুলো লোককে উপস্থিত করা হবে এবং তাদেরকে বাম দিকে অর্থাৎ দোযখের দিকে নেয়া হবে। আমি তখন বলব, প্রভু হে! এগুলো তো আমার গুটি কয়েক সাহাবী, তখন বলা হবে যে, আপনার পর তারা কি জঘন্য কাজ করেছে তা আপানি জানেন না।
এরপর পুণ্যবান বান্দা যেমন বলেছিলেন আমি তেমন বলবঃ وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ
এরপর বলা হবে আপনি তাদের ছেড়ে আসার পর থেকে তারা তাদের গোড়ালির উপর ফিরে গিয়ে অর্থাৎ পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে ধর্মত্যাগী হয়েছে।
২৩৬৭. আল্লাহর বাণীঃ তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও তো তবে তারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাদেরকে মাফ কর, তবে তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (৫ঃ ১১৮)
৪২৭১। মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমাদের হাশর করা হবে এবং কিছু সংখ্যক লোককে বাম দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন আমি পুণ্যবান বান্দার অর্থাৎ ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর মত বলব- وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ) إِلَى قَوْلِهِ (الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
২৩৬৮. আল্লাহর বাণীঃ অদৃশ্যের কুঞ্জি তারই কাছে রয়েছে, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তা জানে না (৬ঃ ৫৯)
সুরা আল-আন’আম
ইবনে ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, فِتْنَتُهُمْ ওযর পেশ করা, অক্ষমতা পেশ করা, مَعْرُوْشَاتٍ আঙ্গুরলতা ইত্যাদি যেগুলোকে উঁচুতে তুলে দেয়া হয়, لاُنْذِرَكُمْبِهِ তোমাদেরকে কথা দ্বারা সতর্ক করার জন্য, অর্থাৎ মক্কাবাসীকে, حَمُوْلَةً বহনকারী, لَلَبَسْنَ আমি তাদেরকে বিভ্রমে ফেলতাম,َيَنْأَوْنَ তারা দূরে থাকে, تُبْسَلُ অপমানিত হওয়া, أُبْسِلُوْا তারা অপমানিত হয়েছে, الْبَسْطُ-بَاسِطُوْأَيْدِيْهِمْ আঘাত করা, اسْتَكْثَرْتُمْ অনেককেই বিপথগামী করেছ, ذَرَأَ مِنَ الْحَرْثِ তাদের ফল-মূল ও ধন-সম্পদ থেকে এক অংশ আল্লাহর জন্যে নির্ধারণ করেছে আর একাংশ শায়ত্বন ও দেব-দেবীর জন্য। أَمَّا اشْتَمَلَتْ অর্থাৎ জরায়ুতে নর কিংবা মাদী ব্যতীত অন্য কিছু থাকে কি? সূতরাং কেন তোমরা কতক হারাম আবার কতক হালাল কর? مَسْفُوْحًا প্রবাহিত, صَدَفَ মুখ ফিরিয়েছে, أُبْلِسُوْا তারা নিরাশ হয়েছে, أُبْلِسُوْا সমর্পণ করা হয়েছে, سَرْمَدًا অনন্তকাল, اسْتَهْوَتْهُ তাকে বিপথগামী করেছে, تَمْتَرُوْنَ তোমরা সন্দেহ পোষণ করছ, وَقْرٌ বধিরতা, তবে الْوِقْرُ মানে বোঝা, أَسَاطِيْرُ বহুবচন, এক বচনে أُسْطُوْرَةٌ এবং إِسْطَارَةٌ মিথ্যা গল্প, الْبَأْسَاءُ কঠোরতা بَأْسٌ থেকে উৎপন্ন কখনো কখনো بُأْسٌ থেকে আসে, جَهْرَةً সরাসরি, الصُّوَرُ হচ্ছে صُوْرَةٍ-এর বহু বচন, যেমন سَوْرَةٌ এর বহু বচন سَوَر। مُلْك-مَلَكُوْتٌ রাজত্ব যেমন رَحْمَةٌ থেকে رَحْمُوْةٌ থেকে رَهْبُ থেকে رَهْبُوْتٌ আরবে প্রবাদ আছে جَنَّ ارَهْبُوْتٌ خَيْرٌ مِنْ رَحْمُوْتٌ - تُرْهَبُ خَيْرٌ مِنْ اَنْ تُرْحَمَ অন্ধকার হল, عَلَى اللهِ حُسْبَانُهُ মানে তার হিসাব আল্লাহর কাছে কখনো কখনো বা হয়, حُسْبَانًا মানে শায়ত্বনের জন্যে অগ্নি স্ফুলিঙ্গ উৎক্ষেপণ এবং উল্কাপিন্ড।
مُسْتَقِرٌ পৃষ্ঠে অবস্থান, مُسْتَوْدَعٌ জরায়ুতে অবস্থান, الْقِنْوُ কাঁদি, দ্বিবচনে قِنْوَانُ বহুবচনেরও قِنْوَانُ যেমন صِنْوَانِ-صِنْوٍ
৪২৭২। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অদৃশ্যের কুঞ্জি পাঁচটি - ’’কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর কাছে রয়েছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন যা জরায়ুতে আছে, কেউ জাননা আগামীকাল সে কি অর্জন করবে এবং কেউ জানেনা কোন স্থানে তাঁর মৃত্যু ঘটবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত। (৩১ঃ ৩৪)
২৩৬৯. আল্লাহর বাণীঃ বল, তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ থেকে শাস্তি প্রেরণ করতে কিংবা তলদেশ থেকে (তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করতে এবং একদল অপর দলের সংঘর্ষের আস্বাদ গ্রহন করাতে তিনি সক্ষম। দেখ, কী রূপ বিভিন্ন প্রকারের আয়াত বিবৃত করি যাতে তারা অনুধাবন করে (৬ঃ ৬৫) )
হাদিস নং ৪২৭৩সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ (قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِنْ فَوْقِكُمْ) قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَعُوذُ بِوَجْهِكَ ". قَالَ (أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ) قَالَ " أَعُوذُ بِوَجْهِكَ" (أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُمْ بَأْسَ بَعْضٍ) قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا أَهْوَنُ ". أَوْ " هَذَا أَيْسَرُ ".
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
يَلْبِسَكُمْ শব্দটি الْتِبَاسٌ থেকে উৎসারিত, তোমাদেরকে মিশ্রিত করে দিবেন, يَلْبِسُوْا তারা মিশ্রিত হয়,شِيَعًا বিভিন্ন দল।
৪২৭৩। আবূ নূ’মান (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন, যখনই এই আয়াতقُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِنْ فَوْقِكُمْ নাযিল হল তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি, আবার যখনأَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ অবতীর্ণ হল তখনও বললেন আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। এবং যখনأَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُمْ بَأْسَ بَعْضٍ নাযিল হল তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা তুলনামূলকভাবে হালকা, তিনিهَذَا أَهْوَنُ কিংবাهَذَا أَيْسَرُ বলেছেন।
২৩৭০. আল্লাহর বাণীঃ এবং তাদের ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করে নি (৬ঃ ৮২)
৪২৭৪। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, যখনوَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ আয়াত নাযিল হল, তখন তাঁর সাহাবাগণ বললেন, ’’জুলুম করেনি আমাদের মধ্যে এমন কে আছে?’’ এরপর নাযিল হলإِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ নিশ্চয় শিরক চরম জুলুম।
২৩৭১. আল্লাহর বাণীঃ ইউনুস ও লুতকে এবং শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম বিশ্বজগতের উপর প্রত্যেককে (৬ঃ ৮৬)
হাদিস নং ৪২৭৫সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ عَمِّ، نَبِيِّكُمْ يَعْنِي ابْنَ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا يَنْبَغِي لِعَبْدٍ أَنْ يَقُولَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪২৭৫। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, ’’আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম’’ এ উক্তি করা কারো জন্য উচিত নয়।
হাদিস নং ৪২৭৬সহিহ
حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنَا سَعْدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ سَمِعْتُ حُمَيْدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا يَنْبَغِي لِعَبْدٍ أَنْ يَقُولَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪২৭৬। আদম ইবনু আবূ আয়াস (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, ’’আমি ই্নুস ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম’’ এ উক্তি করা কারো জন্য উচিত নয়।
২৩৭২. আল্লাহর বাণীঃ তাদেরকে আল্লাহ সৎ পথে পরিচালিত করেছেন সুতরাং তুমি তাদের পথ অনুসরণ কর (৬ঃ ৯০)
৪২৭৭। ইবরাহীম ইবনু মূসা ... মুজাহিদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, সূরা "ص" এ সিজদা আছে কি না। তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ আছে। এরপর এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন-وَوَهَبْنَا) إِلَى قَوْلِهِ (فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ তারপর বললেন যে তিনি অর্থাৎ দাউদ (আলাইহিস সালাম) তাদের অন্তর্ভুক্ত ইয়াযিদ ইবনু হারূন, মুহাম্মদ ইবনু উবায়দ এবং সাহল ইবনু ইউসুফ আওয়াম থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে একটু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, মুজাহিদ বললেন যে, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এরপর তিনি বললেন, যাদের অনুসরণ করতে নির্দেশ করা হয়েছে তোমাদের নবী তাদের অন্তর্ভুক্ত।
২৩৭৩. আল্লাহর বাণীঃ ইহুদীদিগের জন্নে নখরযুক্ত সমস্ত পশু নিষিদ্ধ করেছিলাম এবং গরু ও ছাগলের চর্বিও তাদের জন্নে নিষিদ্ধ করেছিলাম। তবে এগুলোর পৃষ্ঠের অথবা অস্রের কিংবা অগ্নিসংলগ্ন চর্বি ব্যতীত, তাদের অবাধ্যতার দরুন তাদেরকে এই প্রতিফল দিয়েছিলাম, আমি তো সত্যবাদী (৬ঃ ১৪৬)
হাদিস নং ৪২৭৮সহিহ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، قَالَ عَطَاءٌ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ، لَمَّا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ شُحُومَهَا جَمَلُوهُ ثُمَّ بَاعُوهُ فَأَكَلُوهَا ".<br /> وَقَالَ أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، كَتَبَ إِلَىَّ عَطَاءٌ سَمِعْتُ جَابِرًا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, كُلَّ ذِيْ ظُفُرٍ উট, উটপাখী, الْحَوَايَا অন্ত্রসমূহ। অন্যজন বলেছেন هَادُوْا ইয়াহুদী হয়ে গেছে, তবে আল্লাহর বাণী هُدْنَا মানে تُبْنَا অর্থাৎ আমরা তওবা করেছি, هَائِدٌ تَائِبٌ তওবা্কারী।
৪২৭৮। ’আমর ইবনু খালিদ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা’আলা ইহুদীদেরকে লানত করেছেন, যখন তিনি তাদের উপর চর্বি হারাম করেছেন তখন তারা ওটাকে তরল করে জমা করেছে, তারপর বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করেছে। আবূ আসিম (রহঃ) ... হাদীস বর্ণনা করেছেন জাবির (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।
২৩৭৪. আল্লাহর বাণীঃ প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন হোক অশ্লীল আচরণের নিকটও যাবে না (৬ঃ ১৫১)
৪২৭৯। হাফস ইবনু উমর (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, হারাম কাজে মু’মিনদেরকে বাধা দানকারী আল্লাহর চেয়ে অধিক কেউ নেই, এই জন্যই প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে সকল অশ্লীলতা হারাম করেছেন, আল্লাহর স্তুতি প্রকাশ করার চেয়ে প্রিয় তাঁর কাছে অন্য কিছু নেই, সেজন্যই আল্লাহ আপন প্রশংসা নিজেই করেছেন।
আমর ইবনু মুররাহ (রহঃ) বলেন, আমি আবূ ওয়ায়েলকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি তা আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, এটাকে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী হিসাবে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
২৩৭৬. আল্লাহর বাণীঃ যেদিন তোমর প্রতিপালকের কোন নির্দেশ আসবে সেদিন তার ঈমান কাজে আসবে না (যে ব্যক্তি পূর্বে ঈমান আনেনি কিংবা যে ব্যক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করেনি) (৬ঃ ১৫৮)
হাদিস নং ৪২৮০সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا، فَإِذَا رَآهَا النَّاسُ آمَنَ مَنْ عَلَيْهَا، فَذَاكَ حِينَ لاَ يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا، لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, وَكِيْلٌ রক্ষক ও বেষ্টনকারী, قُبُلًا একবচনে قَبِيْلٌ অর্থাৎ শাস্তি বহু প্রকারের, এগুলোর এক একটি এক এক قَبِيْلٌ বা প্রকার। زُخْرُفٌ বাতিল ও অসার কথাকে শোভনীয় ও অলঙ্কৃত করে প্রকাশ করলে তাকে বলা হয় زُخْرُفٌ। حَرْثٌ حِجْرٌ নিষিদ্ধ, প্রত্যেক নিষিদ্ধ বস্তুকে مَحْجُوْرٌ حِجْرٌ বলা হয়, আবার নির্মিত ঘরও حِجْرٌ, মাদী ঘোড়াকেও حِجْرٌ বলা হয়, عَقْلٌ বা বুদ্ধি-বিবেচনাকেও حِجْى حِجْرٌ বলা হয়। আবার حِجْرٌ নামক স্থানে হচ্ছে সামূদ গোত্রের স্থান, ভূমির যে অংশকে তুমি নিষিদ্ধ ও সংরক্ষিত ঘোষণা করেছ তার নাম حِجْرٌ। এই জন্যে বাইতুল্লাহ শরীফের হাতীম নামক অংশকে حِجْرٌ বলা হয়, مَقْتُوْلٌ থেকে, যেমন قَتِيْلٌ তেমনি مَحْطُوْمٌ থেকে গৃহীত, حَطِيْمٌ ইয়ামামার حِجْرٌ হচ্ছে একটি মনজিল বা ছোট্ট ঘর।
بَاب قَوْلِهِ هَلُمَّ شُهَدَاءَكُمُ لُغَةُ أَهْلِ الْحِجَازِ هَلُمَّ لِلْوَاحِدِ وَالِاثْنَيْنِ وَالْجَمِيعِ
২৩৭৫. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর বাণীঃ সাক্ষীদেরকে হাযির কর। (৬ঃ ১৫০)
হিজাযীদের পরিভাষায় একবচন, দ্বিবচন এবং বহুবচনের জন্যে هَلُمَّ ব্যবহৃত হয়।
৪২৮০ মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’পশ্চিম দিক থেকে সূর্যদয়ের পূর্ব পর্যন্ত কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে না। লোকেরা যখন তা দেখবে, তখন পৃথিবীর সকলে ঈমান আনবে, এবং সেটি হচ্ছে এমন সময় ’’পূর্ব ঈমান আনেনি এমন ব্যাক্তির ঈমান তার কাজে আসবে না।’’
হাদিস নং ৪২৮১সহিহ
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ آمَنُوا أَجْمَعُونَ، وَذَلِكَ حِينَ لاَ يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا ". ثُمَّ قَرَأَ الآيَةَ.
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪২৮১। ইসহাক (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যতক্ষন না পশ্চিম দিক থেকে সূর্যদয় ঘটবে ততক্ষন কিয়ামত হবে না, যখন সেদিক থেকে সূর্য উদিত হবে এবং লোকেরা তা দেখবে তখন সবাই ঈমান গ্রহণ করবে, এটাই সেই সময় যখন কোন ব্যাক্তিকে তার ঈমান কল্যাণ সাধন করবে না। তারপর তিনি আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন।
২৩৭৭. আল্লাহর বাণীঃ বল, আমার প্রতিপালক নিষিদ্ধ করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা (৭ঃ ৩৩)
সুরা আ’রাফ
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন; وَرِيَاشًا সম্পদ, إِنَّه لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِيْنَ - তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালবাসতেন না, দু’আ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে, عَفَوْا- তারা সংখ্যাধিক্য হয় এবং তাদের সম্পত্তি প্রাচুর্য লাভ করে, الْفَتَّاحُ বিচারক, افْتَحْ بَيْنَنَا আমাদের মাঝে ফয়সালা করে দিন। نَتَقْنَا الْجَبَلَ উপরে তুলেছি পর্বত, انْبَجَسَتْ প্রবাহিত হয়েছে,مُتَبَّرٌ ক্ষতিগ্রস্ত, آسَى আমি আক্ষেপ করি, تَأْسَ- আক্ষেপ করবে, অন্যজন বলেছেন أَنْ لَّا تَسْجُدَ সিজদা করতে, يَخْصِفَانِ তাঁরা উভয়ে সেলাই করে জোড়া লাগাচ্ছিলেন, مِنْ وَرَقِ الْجَنَّةِ বেহেশতের পাতা, উভয়ে সংগ্রহ করেছিলেন এবং পাতা একটা অন্যটার সঙ্গে সেলাই করে জোড়া লাগাচ্ছিলেন, سَوْآتِهِمْ তাঁদের যৌনাঙ্গ, وَمَتَاعٌ إِلٰى حِيْنٍ এখন থেকে ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত, আরবদের ভাষায় حِيْنُ বলা হয় একটি নির্দিষ্ট সময় থেকে অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত, الرِّيَاشُوَالرِّيْشُ একই অর্থাৎ পোশাকের বহিরাংশ, قَبِيْلُهُ তার দল সে যে দলের অন্তর্ভুক্ত। ادَّارَكُوْا একত্রিত হল। মানুষ এবং অন্যান্য জন্তুর ছিদ্রসমূহকে سُمُوْمٌ বলা হয়, এর একবচন سُمُمٌّ সেগুলো চক্ষুদ্বয়, নাসারন্ধ্র, মুখ, দু’টি কান, বাহ্য পথ স্রাবনালী, غَوَاشٌ আচ্ছাদন, نُشُرًا বিক্ষিপ্ত, نَكِدًا স্বল্প পরিমাণ, يَغْنَوْا জীবন যাপন করেন, حَقِيْقٌ হক ও উপযুক্ত, যোগ্য, اسْتَرْهَبُوْهُمْ তাদেরকে আতংকিত করল, رَهْبَةٌ থেকে উৎপন্ন, تَلَقَّفُ গো গ্রাসে গিলে ফেলা, طَآئِرُهُمْ-তাদের ভাগ্য, বন্যা, طُوْفَانٌ-বন্যা অধিক হারে মৃত্যুকে ও طُوْفَانٌ বলা হয়, الْقُمَّلُ উকুন, عُرُوْشٌ-عَرِيْشٌ অট্টালিকা, سُقِطَ যারা অপমানিত হয় তাদেরকে বলা হয় سُقِطَ فِيْيَدِهِ। أَلَاسْبَاطُ বনী ইসরাঈলের গোত্রসমূহ, يَعْدُوْنَও يَتَعَدَّوْنَ সীমালঙ্ঘন করে; تَعَدَّوْ সীমালঙ্ঘন করেছে, شُرَّعًا প্রকাশ্যভাবে, بَئِيْسٍ কঠোর, أَخْلَدَ বসে থাকল এবং পেছনে পড়ল, سَنَسْتَدْرِجُهُمْ তাদের নিরাপদ স্থান থেকে তাদেরকে এসে ক্রমে বের করে আনবে, যেমন فَأَتَاهُمُاللهُ مِنْ حَيْثُ لَمْ يَحْتَسِبُوْا তাদেরকে আল্লাহ এমন শাস্তি দিলেন যা তারা ধারণা করেনি। مِنْجِنَّةٍ উন্মাদনা, কখন তাদেরকে পুনরায় বের করা হবে? فَمَرَّتْ بِهِ তাঁর গর্ভ অটুটু থাকল এরপর সেটাকে পূর্ণতা দান করলে, يَنْزَغَنَّكَ يَسْتَخِفَّنَّكَ তোমাকে কু-মন্ত্রণা দেয়া, طَيْفٌ আগত সংযোগযোগ্য, طَيْفٌ এবং طَائِفٌ এক রকম, يَمُدُّوْنَهُمْ অলংকৃত করে, خِيْفَةٌ ভয়, خُفْيَةٌ শব্দটি إِخْفَاءٌ থেকে নির্গত অর্থ গোপন করা, وَالْآصَالُ একবচনে أَصِيْلٌ আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়, যেমন আল্লাহর বাণী بُكْرَةً وَّأَصِيْلًا সকাল-সন্ধ্যা।
৪২৮২। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) ... আমর ইবনু মুররাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ওয়ায়েলকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি এটা আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং তিনি এটাকে মারফু’ হাদীস হিসাবে বর্ণনা করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অন্যায়কে ঘৃণাকরী আল্লাহর তুলনায় অন্য কেউ নেই, এজন্যই তিনি প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে অশ্লীলতা হারাম করে দিয়েছেন, আবার আল্লাহর চেয়ে প্রশংসা প্রিয় কেউ নেই, এজন্যই তিনি নিজে নিজের প্রশংসা করেছেন।
২৩৭৮. আল্লাহর বাণীঃ মুসা যখন আমার নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হল এবং তার প্রতিপালক তার সাথে কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দর্শন দাও, আমি তোমাকে দেখব, তিনি বললেন, তুমি আমাকে কখনোই দেখতে পাবে না। তুমি বরং পাহাড়ের প্রতি লক্ষ কর, তা যদি স্ব-স্থানে স্থির থাকে তবে তুমি আমাকে দেখবে, যখন তার প্রতিপালক পাহাড়ে জ্যোতি প্রকাশ করলেন তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করল আর মুসা (আঃ) সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লেন। যখকন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন, তখন বললেন, মহিমময় তুমি, আমি অনুতপ্ত হয়ে তোমাতেই প্রত্যাবর্তন করলাম এবং মুমিনদের মধ্যে আমিই প্রথম (৭ঃ ১৪৩) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, أَرِنِيْ আমাকে দেখা দাও।
৪২৮৩। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেছেন যে এক ইহুদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে এসে হাজির হল। তার মুখমণ্ডল
ে চপেটাঘাত খেয়ে বলল, হে মুহাম্মদ! আপনার এক আনসারী সাহাবী আমার মুখমণ্ডল
ে চপেটাঘাত করেছে। তিনি বললেন, তাকে ডেকে আন। তারা ওকে ডেকে আনল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’একে চপেটাঘাত করেছ কেন?’’ সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এই ইহুদীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন শুনলাম যে, সে বলছে তারই শপথ যিনি মূসা (আলাইহিস সালাম) কে মানবজাতির উপর মনোনীত করেছেন, আমি বললাম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরও মনোনীত করেছেন কি? এরপর আমার রাগ এসে গিয়েছিল, তাই তাকে চপেটাঘাত করেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (অন্যের মানহানি হতে পারে কিংবা নিজেদের খেয়াল খুশী মত) তোমরা আমাকে অন্যান্য নবী থেকে উত্তম বলো না’’ (বরং আল্লাহর ঘোষণায় আমি তো উত্তম আছিই বরং থাকবোই), কারণ কিয়ামত দিবসে সব মানুষই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়বে, সর্বপ্রথম আমিই সচেতন হয়ে পড়ব, সর্বপ্রথম আমিই সচেতন হব। তিনি বলেন, তখন আমি দেখব যে, মূসা (আলাইহিস সালাম) আরশের খুটি ধরে রেখেছেন, আমার বোধগম্য হবে না যে, তিনি কি আমার পূর্বে সচেতন হবেন নাকি তুর পাহাড়ের সংজ্ঞাহীনতাকে এর বিনিময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
২৩৭৯. আল্লাহর বাণীঃ মান্না এবং সালওয়া (৭ঃ ১৬০)
হাদিস নং ৪২৮৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْكَمْأَةُ مِنَ الْمَنِّ وَمَاؤُهَا شِفَاءُ الْعَيْنِ ".
বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ)
৪২৮৪। মুসলিম (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,الْكَمْأَةُ জাতীয় উদ্ভিদ মান্না-এর মত এবং এর পানি চোখের রোগমুক্তি।
২৩৮০. আল্লাহর বাণীঃ বল, হে মানুষ! আমি তোমাদের সকলের জন্যে আল্লাহর রাসুল। যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের অধিকারী; তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই, তিনিই জীবিত করেন ও মৃত্যু ঘটান, সুতরাং তোমরা ঈমান আন আল্লাহর প্রতি ও তার বার্তাবাহক উম্মী নবীর প্রতি, যে আল্লাহ ও তার বাণীতে ঈমান আনে এবং তোমরা তার অনুসরণ কর যাতে তোমরা পথ পাও। (৭ঃ ১৫৮)
হাদিস নং ৪২৮৫সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَمُوسَى بْنُ هَارُونَ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلاَءِ بْنِ زَبْرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي بُسْرُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ، يَقُولُ كَانَتْ بَيْنَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ مُحَاوَرَةٌ، فَأَغْضَبَ أَبُو بَكْرٍ عُمَرَ، فَانْصَرَفَ عَنْهُ عُمَرُ مُغْضَبًا، فَاتَّبَعَهُ أَبُو بَكْرٍ يَسْأَلُهُ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لَهُ، فَلَمْ يَفْعَلْ حَتَّى أَغْلَقَ بَابَهُ فِي وَجْهِهِ، فَأَقْبَلَ أَبُو بَكْرٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ وَنَحْنُ عِنْدَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَّا صَاحِبُكُمْ هَذَا فَقَدْ غَامَرَ ". قَالَ وَنَدِمَ عُمَرُ عَلَى مَا كَانَ مِنْهُ فَأَقْبَلَ حَتَّى سَلَّمَ وَجَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَصَّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْخَبَرَ. قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ وَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَعَلَ أَبُو بَكْرٍ يَقُولُ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ لأَنَا كُنْتُ أَظْلَمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ أَنْتُمْ تَارِكُو لِي صَاحِبِي هَلْ أَنْتُمْ تَارِكُو لِي صَاحِبِي إِنِّي قُلْتُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا فَقُلْتُمْ كَذَبْتَ. وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ صَدَقْتَ قَالَ أَبُو عَبْد اللَّهِ غَامَرَ سَبَقَ بِالْخَيْر".
বর্ণনাকারী: আবুদ দারদা (রাঃ)
৪২৮৫। আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূদ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আবূ বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) এর মধ্যে বিতর্ক হয়েছিল, আবূ বকর (রাঃ) উমর (রাঃ) কে চটিয়ে দিয়েছিলেন, এরপর রাগান্বিত অবস্থায় উমর (রাঃ) সেখান থেকে প্রস্থান করলেন, আবূ বকর (রাঃ) তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে তাঁর পিছু ছুটলেন কিন্তু উমর (রাঃ) ক্ষমা করলেন না, বরং তাঁর সম্মুখের দরজা বন্ধ করে দিলেন। এরপর আবূ বকর (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে আসলেন। আবূদ দারদা (রাঃ) বলেন, আমরা তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম, ঘটনা শোনার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের এই সাথী আবূ বকর (রাঃ) অগ্রে কল্যাণ লাভ করেছে। তিনি বলেন, এতে উমর লজ্জাবোধ করলেন এবং সালাম করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে বসে পড়লেন ও ইতিবৃত্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সব বর্ণনা করলেন।
আবূ দারদা (রাঃ) বলেন, এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হলেন। আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) বারবার বলছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অধিক দোষী ছিলাম। অনন্তর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমার জন্য আমার সাথীটাকে রাখবে কি? তোমরা আমার জন্য আমার সাথীটাকে রাখবে কি? এমন একদিন ছিল যখন আমি বলেছিলাম, ’’হে লোক সকল! আমি তোমাদের সকলের জন্য রাসূল, তখন তোমরা বলেছিলেন, ’’তুমি মিথ্যা বলেছ’’ আর আবূ বকর (রাঃ) বলেছিল, ’’আপনি সত্য বলেছেন।’’ ইমাম আবূ আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেনغَامَرَ অগ্রে কল্যাণ লাভ করেছে।
২৩৮২. আল্লাহর বাণীঃ তোমরা বল ক্ষমা চাই (৭ঃ ১৬১)
হাদিস নং ৪২৮৬সহিহ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قِيلَ لِبَنِي إِسْرَائِيلَ (ادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَقُولُوا حِطَّةٌ نَغْفِرْ لَكُمْ خَطَايَاكُمْ) فَبَدَّلُوا فَدَخَلُوا يَزْحَفُونَ عَلَى أَسْتَاهِهِمْ وَقَالُوا حَبَّةٌ فِي شَعَرَةٍ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
২৩৮১. আল্লাহ্র বাণীঃ এবং মূসা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ল (৭ঃ ১৪৩) এ অধ্যায়ে আবু সাঈদ এবং আবু হুরায়রা (রাঃ) এর হাদীস বর্ণিত আছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।
৪২৮৬। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসরাঈলীদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, "নতশিরে প্রবেশ কর এবং বল, ক্ষমা চাই, আমি তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করব।" (৭: ১৬১) এরপর তারা তার বিপরীত করল, তারা নিজেদের নিতম্বে ভর দিয়ে মাটিতে বসে বসে প্রবেশ করল এবং বললحَبَّةٌ فِي شَعَرَةٍ যবের মধ্যে বিচি চাই।
২৩৮৩. আল্লাহর বাণীঃ তুমি ক্ষমাপরায়নতা অবলম্বন কর, সৎ কাজের নির্দেশ দাও এবং অজ্ঞদের উপেক্ষা কর (৭ঃ ১৯৯)
৪২৮৭। আবূল ইয়ামান (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, ’উয়াইনা ইবনু হিসন ইবনু হুযাইফা এসে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র হুর ইবনু কায়সের কাছে অবস্থান করলেন। উমর (রাঃ) যাদেরকে পার্শ্বে রাখতেন হুর হলেন তাদের মধ্যে একজন। কারীবৃন্দ, যুবক-বৃদ্ধ সকলেই উমর ফারূক (রাঃ) এর মজলিশের সদস্য এবং উপদেষ্টা ছিলেন। এরপর ’উয়াইনা তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রকে ডেকে বললেন, এই আমীরের কাছে তো তোমার একটা মর্যাদা আছে, সুতরাং তুমি আমার জন্য তাঁর কাছে প্রবেশের একটা অনুমতি নিয়ে দাও। তিনি বললেন হ্যাঁ, তাঁর কাছে আমি আপনার প্রবেশের প্রার্থনা করব।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এরপর হুর অনুমতি প্রার্থনা করলেন ’’উয়াইনার জন্য এবং উমর (রাঃ) অনুমতি দিলেন। ’উয়াইনা উমরের কাছে গিয়ে বললেন, হ্যাঁ আপনি তো আমাদেরকে বেশী বেশী দানও করেন না এবং আমাদের মাঝে ন্যায় বিচারও করেন না। উমর (রাঃ) ক্রোধান্বিত হলেন এবং তাকে কিছু একটা করতে উদ্যত হলেন। তখন হুর বললেন, আমিরুল মু’মিনীন! আল্লাহ তা’আলা তো তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেছেন, ’’ক্ষমাপরায়ণতা অবলম্বন কর’ সৎ কাজের নির্দেশ দাও এবং অজ্ঞ দিগকে উপেক্ষা কর’’ আর এই ব্যাক্তি তো নিঃসন্দেহে অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত। (হুর যখন তাঁর নিকট এটা তিলাওয়াত করলেন তখন আল্লাহর কসম তখন উমর (রাঃ) আয়াতের অমান্য করেননি। উমর আল্লাহর কিতাবের বিধানের সামনে স্থির দাঁড়িয়ে থাকতেন, অর্থাৎ তা অতিক্রম করতেন না।
৪২৮৮। ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বলেছেন,خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ আয়াতটি আল্লাহ তা’আলা মানুষের চরিত্র সম্পর্কেই নাযিল করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনু বাররাদ বলেন, আবূ উসামা আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মানুষের আচরণ সম্পর্কে ক্ষমাপরায়ণতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহর বাণীঃ লোকে তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে, বল, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ এবং রাসুলের, সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজদিগের মধ্যে সদভাব স্থাপন কর (৮ঃ ১) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْأَنْفَالُ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, কাতাদাহ বলেন, رِيْحُكُمْ যুদ্ধ, نَافِلَةٌ দান।
৪২৮৯। মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রহীম (রহঃ) ... সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম সূরা আনফাল সম্পর্কে, তিনি বললেন, বদরের যুদ্ধে নাযিল হয়েছে।
الشَّوْكَةُ-الْحَدُّ শক্তি, مُرْدَفِيْنَ একদল সৈন্যের পর আরেক দল, رَدِفَنِيْ এবং أَرْدَفَنِيْ আমার পেছন পেছন এসেছে, ذُوْقُوْا সরাসরি জড়িয়ে পড় এবং অভিজ্ঞতা অর্জন কর, মুখে আস্বাদন করা হয়, فَيَرْكُمَهُ এরপর তাকে একত্রিত করবেন,شَرِّدْ বিচ্ছিন্ন করে দাও, وَإِنْ جَنَحُوْا যদি তারা চায়, السِّلْمُ، السِّلْمُ এবং السَّلَامُ একই অর্থ সন্ধি, يُثْخِنَ জয়ী হওয়া, মুফাসসির মুজাহিদ বলেন, مُكَاءً তাদের অঙ্গুলিসমূহ মুখে ঢুকিয়ে দেয়া, শিস দেয়া, تَصْدِيَةً করতালি, لِيُثْبِتُوْكَ তোমাকে আটকে রাখার জন্যে।
২৩৮৪. আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহর কাছে নিকৃষ্টতম জীব সেই বধির ও মূক যারা কিছুই বুঝে না (৮ঃ ২২) قال هم نفر من بني عبد الدار ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেছেন তারা বনী আবদুদ দার গোষ্ঠীর একদল লোক।
৪২৯০। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللَّهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِينَ لاَ يَعْقِلُونَ সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, তারা হচ্ছে বনী আবদুদ্দার গোষ্ঠীর একদল লোক।
২৩৮৫. আল্লাহর বাণীঃ হে মুমিনগণ! রাসুল যখন তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহবান করেন যা তোমাদেরকে প্রানবন্ত করে, তখন আল্লাহ ও রাসুলের আহবানে সাড়া দেবে এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের অন্তরালে থাকেন এবং তারই কাছে তোমাদের একত্র করা হবে (৮ঃ ২৪) اسْتَجِيْبُوْا তোমরা সাড়া দাও, لِمَا يُحْيِيْكُمْ তোমাদেরকে সংশোধন করার জন্যে।
হাদিস নং ৪২৯১সহিহ
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، سَمِعْتُ حَفْصَ بْنَ عَاصِمٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَعِيدِ بْنِ الْمُعَلَّى ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كُنْتُ أُصَلِّي فَمَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَعَانِي فَلَمْ آتِهِ حَتَّى صَلَّيْتُ، ثُمَّ أَتَيْتُهُ فَقَالَ " مَا مَنَعَكَ أَنْ تَأْتِيَ أَلَمْ يَقُلِ اللَّهُ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ) ثُمَّ قَالَ لأُعَلِّمَنَّكَ أَعْظَمَ سُورَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ ". فَذَهَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيَخْرُجَ فَذَكَرْتُ لَهُ.<br /> وَقَالَ مُعَاذٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خُبَيْبٍ، سَمِعَ حَفْصًا، سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ، رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا، وَقَالَ هِيَ (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) السَّبْعُ الْمَثَانِي.
বর্ণনাকারী: আবূ সা‘ঈদ ইবনু মু‘আল্লা (রাঃ)
৪২৯১। ইসহাক (রহঃ) ... আবূ সাঈদ ইবনু মুয়াল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা নামাযে ছিলাম, এমতাবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশ দিয়ে গেলেন এবং আমাকে ডাকলেন, সালাত (নামায/নামাজ) শেষ না করা পর্যন্ত আমি তাঁর কাছে যাইনি, তারপর গেলাম, তিনি বললেন, তোমাকে আসতে বাধা দিল কিসে? আল্লাহ কি বলেননি, ’’রাসূল তোমাদেরকে ডাক দিলে, আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দেবে?’’ তারপর তিনি বললেন, আমি মসজিদ থেকে বের হবার পূর্বে তোমাকে একটি বড় সওয়াবযুক্ত সূরা শিক্ষা দেব। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আমি তাঁর নিকট প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম।
মু’আয বলেন হাফস শুনেছেন, একজন সাহাবী আবূ সাঈদ ইবনুল মু’আল্লাকে এ হাদীস বর্ণনা করতে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন সেই সূরাটি হচ্ছেالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ সাত আয়াত বিশিষ্ট ও পুনঃ পুনঃ উল্লেখ্য আবৃত।
২৩৮৬. আল্লাহর বাণীঃ স্মরণ কর, তারা বলেছিল, হে আল্লাহ! এটা যদি তোমার পক্ষ থেকে সত্য হয়, তবে আমাদের উপর আকাশ হতে প্রস্তর বর্ষণ কর কিংবা আমাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দাও (৮ঃ ৩২)
৪২৯২। আহমদ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আবূ জাহেল বলেছিল, ’’হে আল্লাহ! এটা যদি তোমার পক্ষ থেকে সত্য হয়, তবে আমাদের উপর আকাশ হতে প্রস্তর বর্ষণ কর কিংবা আমাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দাও। তখনই নাযিল হল- وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ * وَمَا لَهُمْ أَنْ لاَ يُعَذِّبَهُمُ اللَّهُ وَهُمْ يَصُدُّونَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ) الآيَةَ আল্লাহ এমন নহেন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন এবং আল্লাহ এমনও নহেন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন, এবং তাদের কি-বা বলবার আছে যে, আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দেবেন না যখন তারা লোকদের মসজিদুল হারাম থেকে নিবৃত করে? (যদিও তারা এর তত্ত্বাবধায়ক নয়, মুত্তাকীগণই এর তত্ত্বাবধায়ক; কিন্তু তাদের অধিকাংশ তা অবগত নয়) (৮: ৩৩-৩৪)
২৩৮৭. আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ এমন নহেন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন এবং আল্লাহ এমনও নহেন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন (৮ঃ ৩৩)
২৩৮৮. আল্লাহর বাণীঃ তোমরা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে থাকবে যতক্ষন না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং আল্লাহর দীন সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যদি তারা বিরত হয় তবে তারা যা করে আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা (৮ঃ ৩৯)
৪২৯৪। হাসান ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যাক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, হে আবূ আবদুর রহমান! আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা উল্লেখ করেছেন আপনি কি তা শোনেন না? وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا মু’মিনদের দু’দল দ্বন্ধে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবে সুতরাং আল্লাহর কিতাবের নির্দেশ অনুযায়ী যুদ্ধ করতে কোন বস্তু আপনাকে নিষেধ করছে? এরপর তিনি বললেন, হে ভাতিজা! এই আয়াতের তাবিল বা ব্যাখ্যা করে যুদ্ধ না করা আমার কাছে অধিক প্রিয় وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا) إِلَى آخِرِهَا ’’যে স্বেচ্ছায় মু’মিন খুন করে’’ আয়াতে তাবিল করার তুলনায়। সে ব্যাক্তি বলল, আল্লাহ বলেছেন وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لاَ تَكُونَ فِتْنَةٌ ’’তোমরা ফিতনা নির্মূল না করা পর্যন্ত যুদ্ধ করবে’’ ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমরা তা করেছি যখন ইসলাম দুর্বল ছিল। ফলে লোক তার দ্বীন নিয়ে ফিতনায় পড়ত, হয়ত কাফেররা তাকে হত্যা করত নতুবা বেঁধে রাখত, ক্রমে ক্রমে ইসলামের প্রসার ঘটল এবং ফিতনা থাকল না।
সে লোকটি যখন দেখল যে, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) তার উদ্দেশ্যের অনুকুল হচ্ছেন না তখন সে বলল যে, ’আলী (রাঃ) এবং ’উসমান (রাঃ) সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? ইবনু উমর (রাঃ) বললেন যে, ’আলী (রাঃ) এবং ’উসমান (রাঃ) সম্পর্কে আমার কোন বক্তব্য নেই, তবে ’উসমান (রাঃ) কে আল্লাহ তা’আলা নিজেই ক্ষমা করে দিয়েছেন কিন্তু তোমরা তাঁকে ক্ষমা করতে রাযি নও, আর ’আলী (রাঃ), তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচাতো ভাই এবং জামাতা, তিনি অঙ্গুলি নির্দেশ করে বললেন, ঐ উনি হচ্ছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা, যেথায় তোমরা তাঁর ঘর দেখছ,هَذِهِ ابْنَتُهُ বলেছেন কিংবা هَذِهِ بِنْتُهُ বলেছেন।
৪২৯৫। আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ... সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) আমাদের কাছে এলেন। বর্ণনাকারী إِلَيْنَا অথবা عَلَيْنَا শব্দ বলেছেন। এরপর এক ব্যাক্তি বলল, ফিতনা সম্পর্কিত যুদ্ধের ব্যাপারে আপনার রায় কি? আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, ফিতনা কি তা তুমি জানো? মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন। সুতরাং তাদের কাছে যাওয়া ছিল ফিতনা, তার সঙ্গে গিয়ে যুদ্ধ করা তোমাদের রাজত্বের জন্য যুদ্ধ করার সমতুল্য নয়।
২৩৮৯. আল্লাহর বাণীঃ হে নবী ! মুমিনদের জিহাদের জন্যে উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে বিশজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দু'শ জনের উপর বিজয়ী হবে এবং তোমাদের মধ্যে একশ'জন থাকলে এক সহস্র কাফেরের উপর বিজয়ী হবে। কারন তারা এমন এক সম্প্রদায় যার বোধশক্তি নেই (৮ঃ ৬৫)
৪২৯৬। ’আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, (আল্লাহর বাণীঃ)إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ যখন নাযিল হল। এরপর দশজন কাফেরের বিপরীত একজন মুসলিম থাকলেও পালায়ন না করা ফরয করে দেয়া হল। সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা (রহঃ) আবার বর্ণনা করেন, দু’শ জন কাফেরের বিপরীত ২০ জন মুসলিম থাকলেও পলায়ন করা যাবে না। তারপর নাযিল হল-الآنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنْكُمُ) الآيَةَ আল্লাহ এখন তোমাদের ভার লাঘব করলেন। তিনি অবগত আছেন যে, তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা আছে, সুতরাং তোমাদের মধ্যে একশ’জন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দু’শ জনের উপর বিজয়ী হবে। আর তোমাদের মধ্যে এক সহস্র থাকলে আল্লাহ অনুজ্ঞাক্রমে তারা দু’সহস্রের উপর বিজয়ী হবে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন। (৮: ৬৬)
এরপর দু’শ কাফেরের বিপক্ষে এক’শ জন মুসলিম থাকলে পলায়ন না করা (আল্লাহ পাক) ফরয করে দিলেন। সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা (রহঃ) একবার বর্ণনা করেছেন যে, (তাতে কিছু অতিরিক্ত আছে যেমন,)حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ নাযিল হল, সুফিয়ান বলেন, ইবনু শুবরুমা বলেছেন, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এর ব্যাপারটাও আমি এরকম মনে করি।
২৩৯০. আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ এখন তোমাদের ভার লাঘব করলেন। তিনি অবগত আছেন যে তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা আছে ... আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন (৮ঃ ৬৬)
৪২৯৭। ইয়াহইয়া ইবনু আবদুল্লাহ সুলামী ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, যখনإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ আয়াতটি নাযিল হল তখন দশজনের বিপরীত একজনের পলায়নও নিষিদ্ধ করা হল, তখন এটা মুসলিমদের উপর দুঃসাধ্য মনে হলে পরে তা লাঘবের বিধান এলোالآنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنْكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيكُمْ ضُعْفًا فَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةٌ صَابِرَةٌ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ এদেরকে যখন সংখ্যার দিক থেকে হাল্কা করে দিলেন, সেই নমনীয়তার সমপরিমাণ তাদের ধৈর্যও হ্রাস পেল।
২৩৯১. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ তোমরা মুশরিকদের সাথে যেসব চুক্তি করেছিলে আল্লাহ ও তার রাসুলের তরফ থেকে সেসব বিচ্ছেদ করা হল (৯ঃ ১) ইব্ন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, أَذَنٌ কারো কথা শুনে তা সত্য বলে ধারণা করা। تُطَهِّرُهُمْ এবং تُزَكِّيْهِمْ এর একই অর্থ, এ ব্যবহার পদ্ধতি অধিক। সে পবিত্র করে। زَكْوَةٌ ‘ইবাদাত ও নিষ্ঠা لَا يُؤْتُوْنَ الزَّكَاةَ (তারা যাকাত প্রদান করে না) (এবং) তারা এ সাক্ষ্যও প্রদান করে না যে, আর কোন উপাস্য নেই এক আল্লাহ ব্যতীত। يُضَاهُوْنَ তারা তুলনা দিচ্ছে।
হাদিস নং ৪২৯৮সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ آخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ (يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِ) وَآخِرُ سُورَةٍ نَزَلَتْ بَرَاءَةٌ.
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
সুরা বারাআত
وَلِيْجَةً এমন বস্তু যাকে তুমি আরেকটা বস্তুর মধ্যে ঢুকিয়ে দিলে। الشُّقَّةُ সফর, ভ্রমণ, الْخَبَالُ বিশৃঙ্খলা, বিপর্যয়, الْخَبَالُ মৃত্যু। وَلَاتَفْتِنِّيْ আমাকে হুমকি দিও না। كَرْهًا-وَ- كُرْهًا বাধ্যবাধকতা, উভয়টা একই অর্থবোধক, مُدَّخَلًا প্রবেশস্থল, যেথায় তারা প্রবেশ করবে। يَجْمَحُوْنَ তারা ত্বরান্বিত করবে। وَالْمُؤْتَفِكَاتِ যাদের নিয়ে ভূমি উল্টে গেছে। أَهْوَى তাকে গর্তে নিক্ষেপ করল। عَدْنٍ স্থায়িত্ব অবস্থান, যেমন, عَدَنْتُ بِأَرْضٍ আমি অবস্থান করলাম, এগুলো থেকে مَعْدِنٍ শব্দ আসছে এবং বলা হয় فِيْ مَعْدِنِ صِدْقٍ অর্থাৎ সত্যের উৎপত্তিস্থল। الْخَوَالِفُ-الْخَالِفُ শব্দের বহুবচন অর্থ, যে আমার পিছনে থাকল। এবং আমার পরে বসে থাকল এবং এর অর্থ থেকে يُخْلِفُهُ فِي الْغَابِرِيْنَ অর্থ, অবশিষ্টদের মধ্যে পিছনে রাখা হয় এবং الْخَالِفَةُ শব্দের বহুবচন হিসাবে الْخَوَالِفُ স্ত্রীলিঙ্গে ব্যবহার করা বৈধ আছে যদিও তা পুরুষ শব্দের বহুবচন, তা হলে তার এভাবে বহুবচন আরবী ভাষায় দু’টি শব্দ ব্যতীত পাওয়া যায় না, যথা فَارِسٌ এর বহুবচন فَوَارِسُ এবং هَالِكٌ এর বহুবচন هَوَالِكُ الْخَيْرَاتُ শব্দের এক বচন خَيْرَةٌ অর্থ, কল্যাণ ও মর্যাদাসম্পন্ন বস্তু। مُرْجَئُوْنَ বিলম্বিত ব্যক্তিবর্গ। الشَّفَا কিনারা বা পার্শ্ব। الْجُرُفُ যা উঁচু স্থান বা উপত্যকা থেকে প্রবাহিত হয়। هَائِرٍ-هَارٍ পতিত হওয়া। যেমন বলা হয়, কুয়া ভেঙ্গে পড়েছে যখন তা ধ্বংস হয়ে যায়, আর এরূপভাবে انْهَدَمَتْ শব্দের অর্থ হয়ে থাকে। لَأَوَّاهٌ অধিক কোমল হৃদয়, ভয়-ভীতির কারণে। কবি বলেন, ’’যখন আমি রাতের বেলায় উষ্ট্রীর পিঠে আরোহণ করলাম, তখন সেটি দুশ্চিন্তাগ্রস্থ ব্যক্তির মত দীর্ঘশ্বাস ফেলে আহ! করতে থাকে।’’
৪২৯৮। আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) ... বারা ইবনু ’আযিব (রাঃ) বলেছেনঃ সর্বশেষে যে আয়াত অবতীর্ণ হয়, তা হল يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِ লোকে আপনার নিকট ব্যবস্থা জানতে চায়; বলুন! পিতা-মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যাক্তি সম্বন্ধে আল্লাহ তোমাদের ব্যবস্থা জানাচ্ছেন। (৪: ১৭৬) এবং সর্বশেষে যে সূরাটি অবতীর্ণ হয়, তা হল সূরায়ে বারাআত।
২৩৯২. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ (হে মুশরিকদল) তোমরা তারপর দেশে চার মাস কাল পরিভ্রমন কর ও জেনে রাখ যে, তোমরা আল্লাহকে হীনবল করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদের লাঞ্চিত করে থাকেন (৯ঃ ২) سيحوا سيروا পরিভ্রমন করা।
৪২৯৯। সাঈদ ইবনু উফায়র (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) নবম হিজরীর হজ্জে আমাকে এ নির্দেশ দিয়ে পাঠিয়ে দেন যে, আমি কুরবানীর দিন ঘোষণাকারীদের সঙ্গে মিনায় (সমবেত লোকদের) এ ঘোষণা করে দেই যে, এ বছরের পর কোন মুশরিক হজ্জ করার জন্য আসবে না। আল্লাহর ঘর উলঙ্গ অবস্থা তাওয়াফ করবে না।
হুমায়দ ইবনু আবদুর রাহমান (রাঃ) বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ) কে পুনরায় এ নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করলেন যে, তুমি সূরায়ে বারাআতের বিধানসমূহ ঘোষণা করে দাও। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, মীনায় অবস্থানকারীদের মাঝে (কুরবানীর পর) আলী (রাঃ) আমাদের সাথে ছিলেন এবং সূরায়ে বারাআতের বিধানসমূহ ঘোষণা করলেন, এ বছরের পর কোন মুশরিক হজ্জ করার জন্য আসবে না। কেউ উলঙ্গ অবস্থায় ঘর তাওয়াফ করবে না। আবূ আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ أَذَنهم অর্থ, তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন।
২৩৯৩. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ আল্লাহ ও তার রাসুলের পক্ষ থেকে হজ্জে আকবরের দিনে আল্লাহর পক্ষ হতে মানুষের প্রতি এটা এক ঘোষণা যে, আল্লাহর সাথে মশরিকদের কোন সম্পর্ক রইল না এবং তার রাসুলেরও নয়। যদি তোমরা তওবা কর তাহলে তা (তোমাদের জন্য) মঙ্গলকর। আর যদি বিমুখ হও, তবে জেনে রাখ যে, তোমরা আল্লাহকে হীনবল করতে পারবে না। আর হে নবী! কাফেরদের যন্ত্রনাময় শাস্তির সংবাদ দিন (৯ঃ ৩)
৪৩০০। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আবূ বকর (রাঃ) আমাকে সেই কুরবানীর দিন ঘোষণাকারীদের সাথে মীনায় এ (কথা) ঘোষণা করার জন্য পাঠালেন যে, এ বছরের পর আর কোন মুশরিক (মক্কায়) হাজ্জ (হজ্জ) করতে পারবে না। আল্লাহর ঘর উলঙ্গ অবস্থায় কাউকে তাওয়াফ করতে দেওয়া হবে না। হুমায়দ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরে আলী ইবনু আবূ তালিবকে পাঠালেন এবং বললেনঃ সূরায়ে বারাআতের বিধানসমূহ ঘোষণা করে দাও। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আলী (রাঃ) আমাদের সাথেই মীনাবাসীদের মধ্যে সূরায়ে বারাআত কুরবানীর দিন ঘোষণা করলেন। বললেন, এ বছরের পরে কেউ হাজ্জ (হজ্জ) (মক্কা) করতে আসতে পারবে না। এবং উলঙ্গ অবস্থায় আল্লাহর ঘরকে তাওয়াফ করবে না।
২৩৯৪. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ তবে মুশরীকদের মধ্যে যাদের সাথে তোমরা চুক্তিতে আবদ্ধ রয়েছ (৯ঃ৪)
হাদিস নং ৪৩০১সহিহ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ حُمَيْدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ بَعَثَهُ فِي الْحَجَّةِ الَّتِي أَمَّرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهَا قَبْلَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فِي رَهْطٍ يُؤَذِّنُ فِي النَّاسِ أَنْ لاَ يَحُجَّنَّ بَعْدَ الْعَامِ مُشْرِكٌ وَلاَ يَطُوفَ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ. فَكَانَ حُمَيْدٌ يَقُولُ يَوْمُ النَّحْرِ يَوْمُ الْحَجِّ الأَكْبَرِ. مِنْ أَجْلِ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ.
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৩০১। ইসহাক (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হাজ্জের (হজ্জ) পূর্বের বছর আবূ বকর (রাঃ) কে যে হাজ্জের (হজ্জ) আমীর বানিয়ে পাঠিয়েছিলেন, সেই হাজ্জে (হজ্জ) তিনি যেন লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেন, এ বছরের পর কোন মুশরিক হাজ্জ (হজ্জ) করতে আসতে পারবে না এবং উলঙ্গ অবস্থায় কেউ আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করতে পারবে না। হুমায়দ ইবনু আবদুর রহমান বলেন [আবূ হুরায়রা (রাঃ)] হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, হাজ্জে (হজ্জ) আকবরের দিন হল কুরবানীর দিন।
২৩৯৫. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ তবে কাফের নেতৃবৃন্দের সাথে যুদ্ধ করবে। এরা এমন লোক যাদের প্রতিশ্রুতিই নয় (৯ঃ ১২)
৪৩০২। মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ... যায়িদ ইবনু ওয়াহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা হুযায়ফা (রাঃ) এর কাছে ছিলাম, তখন তিনি বলেন, এ আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের মধ্যে শুধু তিনজন মুসলিম ও চারজন মুনাফিক বেঁচে আছে। ইত্যবসরে একজন বেদুঈন বলল, আপনারা সকলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী। আমাদের এমন লোকদের অবস্থা সম্পর্কে খবর দিন যারা আমাদের ঘরে সিদ কেটে ঘরের অতি মূল্যবান জিনিসগুলো চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, কেননা তাদের অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত নই। হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, তারা সবাই ফাসীক ও অন্যায়কারী। হ্যাঁ, তাদের মধ্যে হতে চার ব্যাক্তি এখনও জীবিত-তাদের মধ্যে একজন এত বৃদ্ধ হয়ে পড়েছে যে, শীতল পানি পান করার পর তার শীতলতাটুকুর অনুভূতি সে উপলব্ধি করতে পারে না।
২৩৯৬. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ যারা স্বর্ণ, রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে রাখে এবং আল্লাহর পথে তা ব্যয় করে বা, তাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন (৯ঃ ৩৪)
হাদিস নং ৪৩০৩সহিহ
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجَ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يَكُونُ كَنْزُ أَحَدِكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৩০৩। হাকাম ইবনু নাফি (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, তোমাদের মধ্যে অনেকের পুঞ্জিভূত সম্পদ (যার যাকাত আদায় করা হয় না) কিয়ামতের দিন বিষাক্ত সর্পে পরিণত হবে।
৪৩০৪। কুতায়বা ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) ... যায়িদ ইবনু ওয়াহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা রাবাযা নামক স্থানে আবূ যার (রাঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমি (তাকে) জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কিসের জন্য এ স্থানে উপস্থিত হয়েছেন? তিনি বললেন, আমি সিরিয়া ছিলাম, তখন আমি [মুআবিয় (রাঃ) এর সামনে] এ আয়াত পাঠ করে শোনালাম। وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلاَ يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ "যারা স্বর্ণ, রোপ্য পঞ্জিভূত করে রাখে এবং আল্লাহর পথে তা ব্যয় করে না, তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির খবর দিন।" (৯: ৩৪)
মু’আবিয়া (রাঃ) এ আয়াত শুনে বললেন, এ আয়াত আমাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়নি। বরং আহলে কিতাবদের (ইহুদী ও নাসারা) সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আমি (জবাবে) বললাম, এ আয়াত আমাদের ও তাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। (এ তর্ক বিতর্কের কারণে সব কিছু বর্জন করে আমি এখানে চলে এসেছি।)
২৩৯৮. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ নিশ্চয় আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিন হতেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর নিকট মাস গননায়, মাস বারোটি। তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান (৯ঃ ৩৬) القيم শব্দটি قائم (প্রতিষ্ঠিত) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
بَاب قَوْلِهِ يَوْمَ يُحْمَى عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَى بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ هَذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنْتُمْ تَكْنِزُونَ وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ شَبِيبِ بْنِ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ يُونُسَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ أَسْلَمَ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَقَالَ هَذَا قَبْلَ أَنْ تُنْزَلَ الزَّكَاةُ فَلَمَّا أُنْزِلَتْ جَعَلَهَا اللَّهُ طُهْرًا لِلْأَمْوَالِ
২৩৯৭. অনুচ্ছেদ: আল্লাহর বাণীঃ সে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে দাগিয়ে দেয়া হবে তাদের কপাল, তাদের পাঁজর এবং তাদের পৃষ্ঠদেশ, বলা হবেঃ এগুলো হল তা, যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে। সুতরাং যা তোমরা জমা করে রাখতে তার সাদ গ্রহণ কর। (৯: ৩৫)
আহমাদ ইবন শু’আয়ব ইবন সা’ঈদ (রহঃ) ... খালিদ ইবনু আসলাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ’আবদুল্লাহ ইবন ’উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে বের হলাম। তখন তিনি বললেন, এ আয়াতটি যাকাতের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের। এরপর যাকাতের বিধান অবতীর্ণ হলে আল্লাহ তা সম্পদের পরিশুদ্ধকারী রূপে নির্ধারণ করেন।
৪৩০৫ আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওয়াহাব (রহঃ) ... আবূ বকর (রাঃ) কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আল্লাহর যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করে সেদিন যেভাবে কাল (যামানা) ছিল তা আজও অনুরূপভাবে বিদ্যমান। বারোমাসে এক বছর, তন্মধ্যে চার মাস পবিত্র। যার তিন মাস ধারাবাহিক যথা যিলকাদ, যিলহাজ্জ ও মুহাররম আর মুযার গোত্রের রজব যা জামিদিউস সানী ও সাবান মাসদ্বয়ের মধ্যবর্তী।
২৩৯৯. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ যখন তারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন এবং তিনি ছিলেন দু’জনের একজন (৯ঃ ৪০) معنا অর্থ আল্লাহ আমাদের সাহায্যকারী, فعيلة السكينة এর সম ওযনে سكون থেকে, অর্থ প্রশান্তি
হাদিস নং ৪৩০৬সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْغَارِ، فَرَأَيْتُ آثَارَ الْمُشْرِكِينَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ رَفَعَ قَدَمَهُ رَآنَا. قَالَ " مَا ظَنُّكَ بِاثْنَيْنِ اللَّهُ ثَالِثُهُمَا ".
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৩০৬। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) আমার কাছে বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (সওর) গুহায় ছিলাম। তখন আমি মুশরিকদের পদচারণা দেখতে পেয়ে [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে] বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি তাদের (মুশরিকদের) কেউ পা উঠায় তাহলে আমাদের দেখে ফেলবে। তখন তিনি বললেন, এমন দু’জন সম্পর্কে তোমার কি ধারণা, যাদের তৃতীয় জন হলেন আল্লাহ।
৪৩০৭। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন তাঁর ও ইবনু যুবায়র (রাঃ) এর মধ্যে (বায়আতের প্রেক্ষিতে) মতভেদ ঘটল, তখন আমি বললাম, তার পিতা যুবায়ের, তার মাতা আসমা (রাঃ) ও তার খালা আয়েশা (রাঃ), তার নানা আবূ বকর (রাঃ) ও তার নানী সুফিয়া (রাঃ)। আমি সুফিয়ানকে বললাম, এর সনদ বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, حَدَّثَنَا এবং ইবনু জুরায়জ (রহঃ) বলার আগেই অন্য এক ব্যাক্তি তাকে অন্যদিকে আকৃষ্ট করল।
৪৩০৮। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... ইবনু আবূ মূলায়কা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও ইবনু যুবায়র (রাঃ) এর মধ্যে বায়আত নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি হল, তখন আমি ইবনু আব্বাসের কাছে গিয়ে বললাম, আপনি কি আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তা হালাল করে ইবনু যুবায়রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান? তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কাছে পানাহ চাচ্ছি, এ কাজ তো ইবনু যুবায়র ও বনী উমাইয়ার জন্যই আল্লাহ লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। আল্লাহর কসম! কখনো আমি তা হালাল মনে করব না, (আবূ মূলায়কা বলেন) তখন লোকজন ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে বলল, আপনি ইবনু যুবায়রের পক্ষে বায়আত গ্রহণ করুন।
তখন ইবনু আব্বাস বললেন, তাতে ক্ষতির কি আছে? তিনি এটার জন্য যোগ্যতম ব্যাক্তি। তাঁর পিতা যুবায়র তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহায্যকারী ছিলেন, তার নানা আবূ বকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সওর গুহার সহচর ছিলেন। তার মা আসমা, যার উপাধি ছিল খাতুন নেতাক। তার খালা আয়িশা (রাঃ) উম্মূল মু’মিনীন ছিলেন, তার ফুফু খাদিজা (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ছিলেন, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফুফু সফিয়া ছিলেন তার দাদী। এ ছাড়া তিনি (ইবনু যুবায়রের) তো ইসলামী জগতে নিষ্কলুষ ব্যাক্তি ও কুরআনের ক্বারী। আল্লাহর কসম! যদি তারা (বনী উমাইয়া) আমার সাথে সম্পর্ক রাখে তবে তারা আমার নিকটআত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক রাখল।
আর যদি তারা আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ করে তবে তারা সমকক্ষ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যাক্তিরই রক্ষণাবেক্ষণ করল। ইবনু যুবায়র, বনী আসা’দ, বনী তুআইত, বনী উসামা-এসব গোত্রকে আমার চেয়ে নিকটতম করে নিয়েছেন। নিশ্চই আবিল আস-এর পুত্র অর্থাৎ আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান অহংকারী চালচলন আরম্ভ করেছে। নিশ্চই তিনি অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) তার লেজ গুটিয়ে নিয়েছেন।
৪৩০৯। মুহাম্মদ ইবনু ’উবায়দ ইবনু মায়মূনা (রহঃ) ... ইবনু আবূ মূলায়কা (রহঃ) বলেন, আমরা ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন, তোমরা কি ইবনু যুবায়রের বিষয়ে বিস্মিত হবে না? তিনি তো আর এ কাজে (খিলাফতের বিষয়) স্থিতিশীল। আমি বললাম, আমি অবশ্য মনে মনে তার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করি, কিন্তু আবূ বকর (রাঃ) কিংবা উমর (রাঃ) এর ব্যাপারে তটুকু চিন্তা-ভাবনা করিনি। সব দিক থেকে তার চেয়ে তারা উভয়ে উত্তম ছিলেন। আমি বললাম, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফুফু সফিয়া (রাঃ) এর সন্তান, যুবায়রের ছেলে, আবূ বকর (রাঃ) এর নাতি। খাদিজা (রাঃ) এর ভাতিজা, আয়িশা (রাঃ) এর বোন আসমার ছেলে। কিন্তু তিনি (নিজেকে বড় মনে করে) আমার থেকে দূরে সরে থাকেন এবং তিনি আমার সহযোগিতা কামনা করেন না। আমি বললাম, আমি নিজে থেকে এজন্য তা প্রকাশ করি না যে, হয়ত তিনি তা প্রত্যাখান করবেন। এবং আমি মনে করি না যে, তিনি এটা ভাল করেছেন। অগত্যা বণী উমাইয়ার নেতৃত্ব ও শাসন আমার কাছে অন্যদের থেকে উত্তম।
২৪০০. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ এবং যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য (৯ঃ ৬০) মুজাহিদ বলেছেন, তাদেরকে দানের মাধ্যমে আকৃষ্ট করতেন।
হাদিস নং ৪৩১০সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ أَبِي نُعْمٍ، عَنْ أَبِي سَعِيد ٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ بُعِثَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِشَىْءٍ، فَقَسَمَهُ بَيْنَ أَرْبَعَةٍ وَقَالَ " أَتَأَلَّفُهُمْ ". فَقَالَ رَجُلٌ مَا عَدَلْتَ. فَقَالَ " يَخْرُجُ مِنْ ضِئْضِئِ هَذَا قَوْمٌ يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ ".
বর্ণনাকারী: আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
৪৩১০। মুহাম্মদ ইবনু কাছীর (রহঃ) ... আবূ সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কিছু জিনিস প্রেরণ করা হল। এরপর তিনি সেগুলো চার জনের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। আর বললেন, তাদেরকে (এর দ্বারা) আকৃষ্ট করছি। তখন এক ব্যাক্তি বলল, আপনি সঠিকভাবে দান করেননি। এতদশ্রবনে তিনি বললেন, এ ব্যাক্তির বংশ থেকে এমন সব লোক জন্ম নেবে যারা দ্বীন থেকে বের হয়ে যাবে।
২৪০১. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ মু’মিনদের মধ্যে যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে সাদকা প্রদান করে এবং যারা নিজ শ্রম ব্যতীরেকে কিছুই পায় না, তাদেরকে যারা দোষারূপ করে ও বিদ্রুপ করে আল্লাহ তাদের বিদ্রুপ করেন; তাদের জন্য রয়েছে অতি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (৯ঃ ৭৯) يلمزون يعيبون و جهدهم وجهدهم طاقتهم - তাদের সাধ্যমত। অর্থ তাদের পরিশ্রমে ত্রুটি ধরে, جهد অর্থ শক্তি (৯ঃ ৭৯)
৪৩১১। বিশর ইবনু আবূ খালিদ আবূ মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবূ মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমাদের সাদকা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হল, তখন আমরা পরিশ্রমের বিনিময়ে বোঝা বহন করতাম। একদিন আবূ ’আকীল (রাঃ) অর্ধ সা’ খেজুর (দান করার উদ্দেশ্যে) নিয়ে আসলেন এবং অন্য এক ব্যাক্তি (আবদুর রহমান ইবনু আউফ তার চেয়ে অধিক মালামাল (একই উদ্দেশ্যে) নিয়ে উপস্থিত হলেন। (এগুলো দেখে) মুনাফিকরা সমালোচনা করতে লাগল, আল্লাহ এ ব্যাক্তির সাদকার মুখাপেক্ষী নন। আর দ্বিতীয় ব্যাক্তি [আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ)] শুধু মানূষ দেখানোর জন্য অধিক মালামাল দান করেছে। এ সময় এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় - "মু’মিনদের মধ্যে যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে সাদকা প্রদান করে এবং যারা নিজ শ্রম ব্যতীরেকে কিছুই পায় না, তাদেরকে যারা দোষারূপ করে ও বিদ্রুপ করে আল্লাহ তাদের বিদ্রুপ করেন; তাদের জন্য রয়েছে অতি মর্মন্তুদ শাস্তি।" (৯: ৭৯)
৪৩১২। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ মাসঊদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদকা করার আদেশ প্রদান করলে আমাদের মধ্য হতে কেউ কেউ অত্যন্ত পরিশ্রম করে, (গম অথবা খেজুর ইত্যাদি) এক মুদ্দ আনতে পারত কিন্তু এখন আমাদের মধ্যে কারো কারো এক লাখ পরিমাণ (দিরহাম) রয়েছে। আবূ মাসঊদ (রাঃ) যেন (এ কথা বলে) নিজের দিকে ইঙ্গিত করলেন।
২৪০২. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ (হে রাসুল) আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করুন, একই কথা, আপনি তাদের জন্য সত্তর বার ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আল্লাহ তাদের কখনই ক্ষমা করবেন না (এর কারন, তারা আল্লাহ ও তার রাসুলকে অস্বীকার করেছে। আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না) (৯ঃ ৮০)
হাদিস নং ৪৩১৩সহিহ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ عَبْدُ اللَّهِ جَاءَ ابْنُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ أَنْ يُعْطِيَهُ قَمِيصَهُ يُكَفِّنُ فِيهِ أَبَاهُ فَأَعْطَاهُ، ثُمَّ سَأَلَهُ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَيْهِ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيُصَلِّيَ فَقَامَ عُمَرُ فَأَخَذَ بِثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ تُصَلِّي عَلَيْهِ وَقَدْ نَهَاكَ رَبُّكَ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا خَيَّرَنِي اللَّهُ فَقَالَ (اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لاَ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً) وَسَأَزِيدُهُ عَلَى السَّبْعِينَ ". قَالَ إِنَّهُ مُنَافِقٌ. قَالَ فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللَّهُ (وَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلاَ تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ).
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৩১৩। উবায়েদ ইবনু ইসমাঊল (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উবায় (মুনাফিক) মারা গেল, তখন তার ছেলে আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে আসলেন এবং তার পিতাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোর্তা দিয়ে কাফন দেবার আবেদন করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোর্তাটি প্রদান করলেন, এরপর (আবদুল্লাহ তার পিতার) জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) পড়ানোর জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আবেদন জানালেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জানাযার সালাত পড়ানোর জন্য (বসা থেকে) উঠে দাঁড়ালেন, ইত্যবসরে উমর (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় টেনে ধরে আবেদন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি তার জানাযার সালাত পড়াতে যাচ্ছেন? অথচ আপনার রব (আল্লাহ তা’আলা) আপনাকে তার জন্য দোআ করতে নিষেধ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা’আলা আমাকে এ ব্যাপারে ইখতিয়ার দিয়েছেন। আর আল্লাহ তা ইরশাদ করেছেন, ’’তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর; যদি সত্তর বারও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর তবুও আমি তাদের ক্ষমা করব না।’’ সুতরাং আমি তার জন্য সত্তর বারের চেয়েও অধিক ক্ষমা প্রার্থনা করব। উমর (রাঃ) বললেন, সে তো মুনাফিক, শেষ পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানোযার সালাত পড়ালেন, এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। "তাদের মুনাফিকদের) কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তাদের জানাযার সালাত আদায় করবেন না এবং তাদের কবরের কাছেও দাঁড়াবেন না।"
হাদিস নং ৪৩১৪সহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ،. وَقَالَ غَيْرُهُ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّهُ قَالَ لَمَّا مَاتَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ ابْنُ سَلُولَ دُعِيَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَثَبْتُ إِلَيْهِ، فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَتُصَلِّي عَلَى ابْنِ أُبَىٍّ وَقَدْ قَالَ يَوْمَ كَذَا كَذَا وَكَذَا قَالَ أُعَدِّدُ عَلَيْهِ قَوْلَهُ، فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " أَخِّرْ عَنِّي يَا عُمَرُ ". فَلَمَّا أَكْثَرْتُ عَلَيْهِ قَالَ " إِنِّي خُيِّرْتُ فَاخْتَرْتُ، لَوْ أَعْلَمُ أَنِّي إِنْ زِدْتُ عَلَى السَّبْعِينَ يُغْفَرْ لَهُ لَزِدْتُ عَلَيْهَا ". قَالَ فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ انْصَرَفَ فَلَمْ يَمْكُثْ إِلاَّ يَسِيرًا حَتَّى نَزَلَتِ الآيَتَانِ مِنْ بَرَاءَةَ (وَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا) إِلَى قَوْلِهِ (وَهُمْ فَاسِقُونَ) قَالَ فَعَجِبْتُ بَعْدُ مِنْ جُرْأَتِي عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ.
বর্ণনাকারী: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
৪৩১৪। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) ... উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আবদুল্লাহ ইবনু উবায় ইবনু সালুল মারা গেল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) পড়বার জন্য আহবান করা হল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (জানাযার জন্য) উঠে দাঁড়ালে, আমি তাঁর কাছে গিয়ে আরজ করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি ইবনু উবায়ের জানাযার সালাত পড়াবেন? অথচ যে লোক অমুক দিন অমুক অমুক কথা বলেছে। উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলেন, আমি তার কথাগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে এক একটি করে উল্লেখ করেছিলাম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসি দিয়ে আমাকে বললেন, হে উমর, আমাকে যেতে দাও। আমি বারবার বলাতে তিনি বললেন, আল্লাহ আমাকে ইখতিয়ার দিয়েছেন, আমি তা গ্রহণ করেছি।
আমি যদি বুঝতে পারি যে, সত্তরবারের চেয়েও অধিক ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাকে আল্লাহ তা’আলা ক্ষমা করে দিবেন, তবে আমি সত্তরবারের অধিক ক্ষমা প্রার্থনা করবো। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করলেন এবং (জানাযা) থেকে প্রত্যাবর্তন করে আসার পরই সূরা বারাআতের এ আয়াত অবতীর্ণ হয়, "তাদের কেউ মারা গেলে কখনো তার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে না। এরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অবিশ্বাস করেছে। এবং পাপাচারী অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। (৯: ৮৪)
উমর (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে আমার এ দুৎসাহসের জন্য পরে আমি চিন্তা করে আশ্চর্যান্বিত হতাম। বস্তুত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত।
২৪০৩. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ যদি তাদের (মুনাফিকদের) কেউ মারা যায় আপনি কখনো তাদের জানাযার নামায আদায় করবেন না এবং তাদের কবরের কাছেও দাঁড়াবেন না (৯ঃ ৮৪)
৪৩১৫। ইবরাহীম ইবনু মুনযির (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন (মুনাফিক) আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেল, তখন তার ছেলে আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন। তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর নিজ জামাটি তাকে দিয়ে দিলেন এবং এর দ্বারা তার পিতার কাফনের ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দিলেন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। তখন ইবনু উমর খাত্তাব (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাপড় ধরে আরজ করলেন, [ইয়া রাসূলাল্লাহ!] আপনি কি তার (আবদুল্লাহ ইবনু উবাই) এর জানাযার সালাত আদায় করবেন? সে তো মুনাফিক, অথচ আল্লাহ তা’আলা তাদের (মুনাফিকদের) জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে আপনাকে নিষেধ করেছেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (হে উমর!) আল্লাহ আমাকে ইখতিয়ার দিয়েছেন, অথবা বলেছেন, আল্লাহ আমাকে অবহিত করেছেন এবং বলেছেন, ’’আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন আর না করেন, আপনি যদি সত্তরবারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তবুও আল্লাহ কখনো তাদেরকে ক্ষমা করবেন না।’’ (৯: ৮০) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি সত্তরবারের চেয়েও বেশীবার ক্ষমা প্রার্থনা করবো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। আমরাও তাঁর সাথে জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলাম। এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হল, ’’তাদের (মুনাফিকদের) কেউ মারা গেলে আপনি তার জানাযার সালাত কখনো আদায় করবেন না এবং তার কবরের পার্শ্বেও দাঁড়াবেন না। তারা তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কে অস্বীকার করেছে এবং পাপাচারী অবস্থায়ই মৃত্যু বরণ করেছে। (৯: ৮৪)
২৪০৪. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ তোমরা তাদের কাছে ফিরে আসলে তারা আল্লাহর শপথ করবে, যাতে তোমরা তাদেরকে উপেক্ষা কর, সুতরাং তোমরা তাদেরকে উপেক্ষা করবে। তারা অপবিত্র, তাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ জাহান্নাম তাদের আবাসস্থল (৯ঃ ৯৫)
৪৩১৬। ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু কা’আব ইবনু মালিক (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, তিনি যখন তাবুকের যুদ্ধে পিছনে রয়ে গেলেন (অংশ গ্রহণ করলেন না), আল্লাহর কসম! তখন আল্লাহ আমাকে এমন এক নিয়ামত দান করেন যা মুসলিম হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এতবড় নিয়ামত পাইনি। তা হল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সত্য কথা প্রকাশ করা। আমি তাঁর কাছে মিথ্যা বলিনি। যদি মিথ্যা বলতাম, তবে অন্যান্য (মুনাফিক ও) মিথ্যাবাদী ধ্বংস হয়েছে, আমিও সেভাবে ধ্বংস হয়ে যেতাম। যে সময় ওহী নাযিল হল ’’তোমরা তাদের নিকট (মদিনায়) ফিরে আসলে তারা আল্লাহর শপথ করবে, আল্লাহ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়ের প্রতি তুষ্ট হবেন না।’’ (৯:৯৬)
২৪০৬. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ এবং অপর কতক লোক নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে, তারা সৎকর্মের সাথে অপর অসৎকর্মের মিশ্রন ঘটিয়েছে। সম্ভবত, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (৯ঃ ১০২)
بَاب قَوْلِهِ سَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ إِذَا انْقَلَبْتُمْ إِلَيْهِمْ لِتُعْرِضُوا عَنْهُمْ فَأَعْرِضُوا عَنْهُمْ إِنَّهُمْ رِجْسٌ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
২৪০৫. অনুচ্ছেদ: আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ তারা তোমাদের সামনে কসম করবে যাতে তোমরা তাদের প্রতি রাজি হও। যদি তোমরা তাদের প্রতি রাজি হয়ে যাও তবুও আল্লাহ এসব ফাসিক লোকদের প্রতি রাজি হবেন না। ( ৯: ৯৬)
৪৩১৭। মুয়াম্মিল ইবনু হিশাম (রহঃ) ... সামুরা ইবনু জনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছেন, রাতে দু’জন ফেরেশতা এসে আমাকে নিদ্রা থেকে জাগ্রত করলেন। এরপর আমরা এমন এক শহরে পৌছলাম, যা স্বর্ণ ও রৌপ্যের ইট দ্বারা নির্মিত। সেখানে এমন কিছু সংখ্যক লোকের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ ঘটল, যাদের শরীরের অর্ধেক খুবই সুন্দর যা তোমরা কখনো দেখনি এবং আর এক অর্ধেক এমন কুৎসিত যা তোমরা কখনো দেখনি। ফেরেশতা দু’জন তাদেরকে বললেন, তোমরা ঐ নহরে গিয়ে ডুব দাও। তারা সেখানে গিয়ে ডুব দিয়ে আমাদের নিকট ফিরে এল। তখন তাদের বিশ্রী চেহারা সম্পূর্ণ দূর হয়ে গেল এবং তারা সুন্দর চেহারা লাভ করলো। ফেরেশতাদ্বয় আমাকে বললেন, এটা হল ’জান্নাতে আদন’ এটাই হল আপনার আসল আরামস্থল। ফেরেশতাদ্বয় (বিস্তারিত বুঝিয়ে) বললেন, (আপনি) যেসব লোকের দেহের অর্ধেক সুন্দর এবং অর্ধেক বিশ্রী (দেখেছেন), তারা ঐ সকল লোক যারা দুনিয়াতে সৎকর্মের সাথে অসৎকর্ম মিশিয়ে ফেলেছে। আল্লাহ তা’আলা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন (এবং তারা অতি সুন্দর চেহারা লাভ করেছে)।
২৪০৭. মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নাবী এবং মু’মিনদের জন্য সঙ্গত নয় (৯ঃ ১১৩)
হাদিস নং ৪৩১৮সহিহ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ لَمَّا حَضَرَتْ أَبَا طَالِبٍ الْوَفَاةُ دَخَلَ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ أَبُو جَهْلٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَىْ عَمِّ قُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ. أُحَاجُّ لَكَ بِهَا عِنْدَ اللَّهِ ". فَقَالَ أَبُو جَهْلٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ يَا أَبَا طَالِبٍ، أَتَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ مَا لَمْ أُنْهَ عَنْكَ ". فَنَزَلَتْ (مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ)
৪৩১৮। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... সাঈদ ইবনুল মূসায়্যাব (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আবূ তালিবে মৃত্যুর আলামত দেখা দিল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে গেলেন। এ সময় আবূ জেহেল এবং আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়াও সেখানে বসা ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে চাচা! আপনি পড়ুন ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ!। আপনার মুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট এ নিয়ে আবেদন পেশ করব এ কথা শুনে আবূ জেহেল ও আবদুল্লাহ ইবনু উমইয়া বলল, হে আবূ তালিব! তুমি কি মৃত্যুর সময় (তোমার পিতা) আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ করতে চাও? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে চাচা! আমি আপনার জন্য আল্লাহর তরফ থেকে যতক্ষণ আমাকে নিষেধ না করা হবে ততক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবো। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ
’’আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মু’মিনদের জন্য সঙ্গত নয়, যখন এ কথা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামী।’’ (৯: ১১৩)
২৪০৮. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ অবশ্যই আল্লাহ অনুগ্রহপরায়ণ হলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি, যারা সংকটকালে তার অনুগমন করেছিল। এমনকি তাদের একদলের অন্তর বাঁকা হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, পরে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করলেন, নিশ্চয়ই তিনি তাদের প্রতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু (৯ঃ ১১৭)
৪৩১৯। আহমদ ইবনু সালিহ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু কা’আব (রহঃ) থেকে বর্ণিত, কা’আব (রাঃ) যখন দৃষ্টিহীন হয়ে পড়লেন, তখন তাঁর ছেলেদের মধ্যে যার সাহায্যে তিনি চলাফেরা করতেন, তিনি বলেন, আমি (আমার পিতা) কা’আব ইবনু মালিক (রাঃ) এর কাছে তার ঘটনা বর্ণনায়وَعَلَى الثَّلاَثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا এ আয়াত এর তাফসীর সম্পর্কে বলতে শুনেছি। তিনি তার ঘটনার সর্বশেষে বলতেন, আমি আমার তওবা কবুল হওয়ার খুশিতে আমার সকল মাল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পথে দান করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (সকল মাল সাদকা করো না) কিচু সাদকা করো এবং কিছু নিজের জন্য রেখে দাও। এটাই তোমার জন্য কল্যাণকর হবে।
২৪০৯. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ এবং তিনি সে তিনজনকে ক্ষমা করলেন যাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত মুলতবী রাখা হয়েছিল, যে পর্যন্ত না পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য অতি সংকুচিত হয়েছিল এবং তাদের জীবন তাদের জন্য দুর্বিষহ হয়েছিল এবং তারা উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, আল্লাহ ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল নেই, পরে তিনি তাদের প্রতি মেহেরবান হলেন, যাতে তারা তাওবা করে, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (৯ঃ ১১৮)
হাদিস নং ৪৩২০সহিহ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ رَاشِدٍ، أَنَّ الزُّهْرِيَّ، حَدَّثَهُ قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ،، وَهْوَ أَحَدُ الثَّلاَثَةِ الَّذِينَ تِيبَ عَلَيْهِمْ أَنَّهُ لَمْ يَتَخَلَّفْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةٍ غَزَاهَا قَطُّ غَيْرَ غَزْوَتَيْنِ غَزْوَةِ الْعُسْرَةِ وَغَزْوَةِ بَدْرٍ. قَالَ فَأَجْمَعْتُ صِدْقَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضُحًى، وَكَانَ قَلَّمَا يَقْدَمُ مِنْ سَفَرٍ سَافَرَهُ إِلاَّ ضُحًى وَكَانَ يَبْدَأُ بِالْمَسْجِدِ، فَيَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ، وَنَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ كَلاَمِي وَكَلاَمِ صَاحِبَىَّ، وَلَمْ يَنْهَ عَنْ كَلاَمِ أَحَدٍ مِنَ الْمُتَخَلِّفِينَ غَيْرِنَا، فَاجْتَنَبَ النَّاسُ كَلاَمَنَا، فَلَبِثْتُ كَذَلِكَ حَتَّى طَالَ عَلَىَّ الأَمْرُ، وَمَا مِنْ شَىْءٍ أَهَمُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ أَمُوتَ فَلاَ يُصَلِّي عَلَىَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَوْ يَمُوتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَكُونَ مِنَ النَّاسِ بِتِلْكَ الْمَنْزِلَةِ، فَلاَ يُكَلِّمُنِي أَحَدٌ مِنْهُمْ، وَلاَ يُصَلِّي عَلَىَّ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَوْبَتَنَا عَلَى نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ بَقِيَ الثُّلُثُ الآخِرُ مِنَ اللَّيْلِ، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ أُمِّ سَلَمَةَ، وَكَانَتْ أُمُّ سَلَمَةَ مُحْسِنَةً فِي شَأْنِي مَعْنِيَّةً فِي أَمْرِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أُمَّ سَلَمَةَ تِيبَ عَلَى كَعْبٍ ". قَالَتْ أَفَلاَ أُرْسِلُ إِلَيْهِ فَأُبَشِّرَهُ قَالَ " إِذًا يَحْطِمَكُمُ النَّاسُ فَيَمْنَعُونَكُمُ النَّوْمَ سَائِرَ اللَّيْلَةِ ". حَتَّى إِذَا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْفَجْرِ آذَنَ بِتَوْبَةِ اللَّهِ عَلَيْنَا، وَكَانَ إِذَا اسْتَبْشَرَ اسْتَنَارَ وَجْهُهُ حَتَّى كَأَنَّهُ قِطْعَةٌ مِنَ الْقَمَرِ، وَكُنَّا أَيُّهَا الثَّلاَثَةُ الَّذِينَ خُلِّفُوا عَنِ الأَمْرِ الَّذِي قُبِلَ مِنْ هَؤُلاَءِ الَّذِينَ اعْتَذَرُوا حِينَ أَنْزَلَ اللَّهُ لَنَا التَّوْبَةَ، فَلَمَّا ذُكِرَ الَّذِينَ كَذَبُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْمُتَخَلِّفِينَ، وَاعْتَذَرُوا بِالْبَاطِلِ، ذُكِرُوا بِشَرِّ مَا ذُكِرَ بِهِ أَحَدٌ قَالَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ (يَعْتَذِرُونَ إِلَيْكُمْ إِذَا رَجَعْتُمْ إِلَيْهِمْ قُلْ لاَ تَعْتَذِرُوا لَنْ نُؤْمِنَ لَكُمْ قَدْ نَبَّأَنَا اللَّهُ مِنْ أَخْبَارِكُمْ وَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ) الآيَةَ.
২৪১০. আল্লাহর বাণীঃ হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও (৯ঃ ১১৯)
হাদিস নং ৪৩২১সহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ ـ وَكَانَ قَائِدَ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ ـ قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ، يُحَدِّثُ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ قِصَّةِ، تَبُوكَ. فَوَاللَّهِ مَا أَعْلَمُ أَحَدًا أَبْلاَهُ اللَّهُ فِي صِدْقِ الْحَدِيثِ أَحْسَنَ مِمَّا أَبْلاَنِي، مَا تَعَمَّدْتُ مُنْذُ ذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى يَوْمِي هَذَا كَذِبًا، وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم (لَقَدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ) إِلَى قَوْلِهِ (وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ)
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রহঃ)
৪৩২১। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু কা’আব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি কা’আব ইবনু মালিক (রাঃ) (দৃষ্টিহীন হওয়ার পরে) এর পথপ্রদর্শক হিসেবে ছিলেন। তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন, আমি কা’আব ইবনু মালিক (রাঃ), তাবুক যুদ্ধে যারা পশ্চাতে থেকে গিয়েছিলেন তাদের ঘটনা বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহর কসম! হয়ত আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সত্য কথা কথা প্রকাশের কারণে, অন্য কাউকে এত বড় নিয়ামত দান করেননি যতটুকু আমাকে প্রদান করেছেন। যখন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তাবুক যুদ্ধে না যাওয়ার সঠিক কারণ বর্ণনা করেছি তখন থেকে আজ পর্যন্ত (যে কোন ব্যাপারে) মিথ্যা বলার ইচ্ছাটুকু পর্যন্ত আমার হয়নি। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর আয়াত নাযিল করলেন, ’’আল্লাহ অনুগ্রহপরায়ণ হলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদিগকের প্রতি ...... এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’’ (৯:১১৭-১১৯)
২৪১১. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের কাছে এক রাসুল এসেছেন। তোমাদের যা বিপন্ন করে, তা তার জন্য অতি কষ্টদায়ক। সে তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি সে দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু (৯ঃ ১২৮)
২৪১২. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ আমি বনী ইসরাইলকে সমুদ্র পার করলাম ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী ঔদ্ধত্য সহকারে সীমালঙ্ঘন করে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল। পরিশেষে যখন সে নিমজ্জিত হল তখন সে বলল, আমি বিশ্বাস করলাম, যার প্রতি বনী ইসরাইল বিশ্বাস করেছে। এবং আমি আত্মসমার্পনকারীদের অন্তর্ভুক্ত। (১০ঃ ৯০) نُنَجِّيْكَ আমি তোমাকে যমীনের উঁচু স্থানে ফেলে রাখব। نَجْوَةٍ উচ্চ স্থান।
হাদিস নং ৪৩২৩সহিহ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَالْيَهُودُ تَصُومُ عَاشُورَاءَ فَقَالُوا هَذَا يَوْمٌ ظَهَرَ فِيهِ مُوسَى عَلَى فِرْعَوْنَ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لأَصْحَابِهِ " أَنْتُمْ أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْهُمْ، فَصُومُوا ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
সুরা ইউনুস
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَاخْتَلَطَ بِهِ نَبَاتُ الْأَرْضِ فَنَبَتَ بِالْمَاءِ مِنْ كُلِّ لَوْنٍ قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ هُوَ الْغَنِيُّ وَقَالَ زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ مُجَاهِدٌ خَيْرٌ يُقَالُ تِلْكَ آيَاتُ يَعْنِي هَذِهِ أَعْلَامُ الْقُرْآنِ وَمِثْلُهُ حَتَّى إِذَا كُنْتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِمْ الْمَعْنَى بِكُمْ يُقَالُ دَعْوَاهُمْ دُعَاؤُهُمْ أُحِيطَ بِهِمْ دَنَوْا مِنْ الْهَلَكَةِ أَحَاطَتْ بِهِ خَطِيئَتُهُ فَاتَّبَعَهُمْ وَأَتْبَعَهُمْ وَاحِدٌ عَدْوًا مِنْ الْعُدْوَانِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ وَلَوْ يُعَجِّلُ اللَّهُ لِلنَّاسِ الشَّرَّ اسْتِعْجَالَهُمْ بِالْخَيْرِ قَوْلُ الْإِنْسَانِ لِوَلَدِهِ وَمَالِهِ إِذَا غَضِبَ اللَّهُمَّ لَا تُبَارِكْ فِيهِ وَالْعَنْهُ لَقُضِيَ إِلَيْهِمْ أَجَلُهُمْ لَأُهْلِكُ مَنْ دُعِيَ عَلَيْهِ وَلَأَمَاتَهُ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى مِثْلُهَا حُسْنَى وَزِيَادَةٌ مَغْفِرَةٌ وَرِضْوَانٌ وَقَالَ غَيْرُهُ النَّظَرُ إِلَى وَجْهِهِ
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, فَاخْتَلَطَ অর্থাৎ বৃষ্টির দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ উদ্গত হয়। আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ وَقَالُوا اتَّخَذَ اللهُ وَلَدًا سُبْحَانَه هُوَ الْغَنِيُّ -’’তারা বলেঃ ’’আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি মহান, পবিত্র। তিনি অমুখাপেক্ষী।’’ (১০: ৬৮)
যায়দ ইবনু আসলাম (রহ.) বলেন, قَدَمَ صِدْقٍ দ্বারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বুঝানো হয়েছে। মুজাহিদ বলেন, এর অর্থ কল্যাণ। تِلْكَ آيَاتُ এগুলো কুরআনের নিদর্শন ও অনুরূপ, حَتَّى إِذَا كُنْتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِمْ এখানে بِهِمْ দ্বারা بِكُمْ (তোমাদের নিয়ে) অর্থে دَعْوَاهُمْ তাদের দু’আ। أُحِيْطَبِهِمْ তারা ধ্বংসোন্মুখ হল। أَحَاطَتْ بِهٰ خَطِيئَتُه গুনাহ তাদের ঘিরে ফেলছে। فَاتَّبَعَهُمْ وَأَتْبَعَهُمْ সমপর্যায়ের (তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।) عَدْوًا এখানে সীমা অতিক্রম অর্থে, মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لِلنَّاسِ الشَّرَّ اسْتِعْجَالَهُمْ بِالْخَيْرِ এর দ্বারা মানুষের সেই কথা বুঝাচ্ছে, যখন সে রাগান্বিত হয়ে নিজ নিজ সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদ সম্পর্কে বলে, হে আল্লাহ! এতে বারাকাত দিও না, এর ওপর লা’নাত কর। لَقُضِيَ إِلَيْهِمْ أَجَلُهُمْ যার প্রতি বদদু’আ করা হয়েছে, তাকে ধ্বংস করে দিতেন এবং তাকে মেরে ফেলতেন। أَحْسَنُواالْحُسْنَى কল্যাণকর কাজের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং আরো অধিক। وَزِيَادَةٌ এবং অতিরিক্ত অর্থাৎ ক্ষমা। অন্যরা বলেন, আল্লাহর দীদার, الْكِبْرِيَاءُ রাজত্ব।
৪৩২৩। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় এলেন, তখন ইহুদীরা আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিন রোযা পালন করত। (জিজ্ঞাসা করা হলে) তারা বলল, এদিন মূসা (আলাইহিস সালাম) ফেরাউনের উপর বিজয় লাভ করেছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বললেন, মূসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে তাদের (ইহুদিদের) চাইতে তোমরাই অধিক হকদার। সুতরাং তোমরাও রোযা পালন কর।
২৪১৩. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ সাবধান! ওরা তার কাছে গোপন রাখার জন্য ওদের দ্বিভাজ (সংকুচিত) করে। সাবধান! ওরা যখন নিজেদেরকে বস্রে আচ্ছাদিত করে, তখন ওরা যা কিছু গোপন করে ও প্রকাশ করে, তিনি তা জানেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের অন্তরের বিষয় অবগত আছে। ( ১১ঃ ৫) অন্যজন বলেন, حَاقَ অবতীর্ণ হল। يَحِيْقُ অবতীর্ণ হয়। فَعُوْلٌ-يَئُوْسٌ এর ওযন يَئِسْتُ থেকে (নিরাশ হওয়ার অর্থে)। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, تَبْتَئِسْ দুঃখ করা।يَثْنُوْنَ صُدُوْرَهُمْ হকের মধ্যে সন্দেহ করা। لِيَسْتَخْفُوْا مِنْهُ আল্লাহ থেকে, গোপন রাখে যদি তারা সক্ষম হয়।
সুরা হুদ
আবূ মাইসারা (রহ.) বলেন, الْأَوَّاهُ হাবশী ভাষায় দয়ালু। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, بَادِئَالرَّأْيِ যা আমাদের সামনে স্পষ্ট। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الْجُوْدِيُّ জাযিয়ার একটি পর্বত। হাসান (রহ.) বলেন, إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيْمُ আপনি অতি সহনশীল। এর দ্বারা তারা ঠাট্টা করত। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, أَقْلِعِي থেমে যাও। عَصِيْبٌ কঠিন। لَا جَرَمَ অবশ্যই। فَارَ التَّنُّوْرُ পানি উথলে উঠল। ইকরামাহ (রহ.) বলেন, تَّنُّوْرُ ভূ-পৃষ্ঠকে বুঝানো হয়েছে।
৪৩২৪। হাসান ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... মুহাম্মদ ইবনু আব্বাদ ইবনু জা’ফর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে এমনিভাবে পড়তে শুনেছেন, أَلاَ إِنَّهُمْ تَثْنَوْنِي صُدُورُهُمْ
মুহাম্মদ ইবনু আব্বাস বলেন, আমি তাঁকে এর মর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, কিছু লোক খোলা আকাশের দিকে উন্মুক্ত হওয়ার ভয়ে পেশাব-পায়খানা অথবা স্ত্রী সহবাস করতে লজ্জাবোধ করতে লাগল। তারপর তাদের সম্পর্কে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়।
৪৩২৬। হুমায়দী (রহঃ) ... আমর (রহঃ) বলেন, ইবন আব্বাস (রাঃ) এ আয়াত এভাবে পাঠ করলেন,أَلاَ إِنَّهُمْ يَثْنُونَ صُدُورَهُمْ لِيَسْتَخْفُوا مِنْهُ أَلاَ حِينَ يَسْتَغْشُونَ ثِيَابَهُمْ আমর ব্যতীত অন্যরা ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনيَسْتَغْشُونَ তারা তাদের মাথা ঢেকে নিত।سِيءَ بِهِمْ তারা সম্প্রদায় সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করেন। এবংوَضَاقَ অর্থাৎ নিজ অতিথিকে দেখে সঙ্কুচিত হলেন।بِقِطْعٍ مِنَ اللَّيْلِ রাতের আঁধারে। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন,أُنِيبُ আমি তাঁরই অভিমুখী।
২৪১৪. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ এবং তাঁর ‘আরশ ছিল পানির ওপরে
৪৩২৭। আবূল ইয়ামান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, তুমি খরচ কর। আমি তোমাকে দান করব এবং [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, আল্লাহ তা’আলার হাত পরিপূর্ণ। (তোমার) রাতদিন অবিরাম খরচেও তা কমবে না। তিনি বলেন, তোমরা দেখ না, যখন থেকে (আল্লাহ) আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকে কি পরিমাণ খরচ করেছেন? কিন্তু এত খরচ করার পরও তাঁর হতে সম্পদের কোন কমতি হয়নি। আর আল্লাহ তা’আলার ’আরশ পানির উপর ছিল। তাঁর হাতেই রয়েছে পাল্লা। তিনি ঝুকান, তিনি উপরে উঠান।
اعْتَرَاكَ افْتَعَلَتَ-এর বাব থেকে। عَرَوْتُه এ অর্থে বলা হয়, তাকে পেয়েছি। তা থেকে يَعْرُوْهُ (তার উপর ঘটেছে) ও اعْتَرَانِيْ (আমার উপর ঘটেছে) ব্যবহার হয়। اٰخِذٌمبِنَاصِيَتِهَا অর্থাৎ তাঁর রাজত্ব এবং عَنِيْدٌ-عَنُوْدٌ-عَانِدٌ সবগুলোর একই অর্থ- স্বেচ্ছাচারী।
ওটি দাম্ভিকতা অর্থের প্রতি জোর দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। اسْتَعْمَرَكُمْ তোমাদের বসতি দান করলেন। আরবগণ বলত أَعْمَرْتُهُ الدَّارَ فَهِيَ عُمْرَى আমি এ ঘর তাকে জীবন ধারণের জন্য দিলাম। نَكِرَهُمْ وَأَنْكَرَهُمْ এবং اسْتَنْكَرَهُمْ সবগুলো একই অর্থে ব্যবহৃত। فَعِيْلٌ مَجِبْدٌ حَمِيْدٌ -مَجِيْدٌ-এর ওযনে مَاجِدٌ (মর্যাদা সম্পন্ন) থেকে حَمِيْدٌ (প্রশংসিত) এর অর্থে مَحْمُوْدٌ থেকে سِجِّيْلٌ অতি কঠিন বা শক্ত। سِجِّيْلٌ এবং سِجِّيْنٌ উভয় রূপেই ব্যবহৃত হয়। لَامُ এবং نُوْنٌ যেন দুই বোন। তামীম ইবনু মুকবেল বলেন, ’’বহু পদাতিক বাহিনী মধ্যাহ্নে স্কন্ধে শুভ্র ধারালো তলোয়ার দ্বারা আঘাত হানে। কঠিন প্রস্তর দ্বারা তার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বিপক্ষের বীর পুরুষগণ পরস্পরকে ওসীয়ত করে থাকে।
والى مدين اخاهم شعيباমাদইয়ান-এর নিকট অর্থাৎ মাদইয়ানবাসীর নিকট, কেননা মাদইয়ান তো একটি শহর। এর অনুরূপ وَاسْأَلْ الْقَرْيَةَ وَاسْأَلْ الْعِيْرَ অর্থাৎ গ্রামবাসীদের কাছে এবং কাফেলার লোকদের কাছে জিজ্ঞেস কর। وَرَاءَكُمْ ظِهْرِيًّا অর্থাৎ তারা তার প্রতি দৃষ্টি দেয়নি। যখন কেউ কারও উদ্দেশ্য পূর্ণ না করে, তখন বলা হয় ظَهَرْتَ بِحَاجَتِيْ এবং وَجَعَلْتَنِيْ ظِهْرِيًّا এখানে ظِهْرِيُّ দ্বারা এ ধরনের জানোয়ার বা পাত্র বোঝায় যা কাজের প্রয়োজনে তুমি তার দ্বারা নিজেকে আড়াল করবে। أَرَاذِلُنَا-আমাদের মধ্যে অধম, إِجْرَامِيْ এটা أَجْرَمْتُ -এর মাসদার। কেউ বলেন, جَرَمْتُ হতে উদ্গত الْفَلَكَ، والْفُلْكُ একবচন, বহুবচন উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ নৌকা এবং নৌকাগুলো। مُجْرَاهَا (নৌকার গতি) এটা أَجْرَيْتُ -এর মাসদার এবং أَرْسَيْتُ-নৌকা আমি থামিয়েছি। কেউ কেউ পড়েনঃ مَرْسَاَهَا অর্থাৎ তার স্থিতি এবং مَجْرَاهَا অর্থাৎ তার গতি। مُجْرِيْهَا এবং مُرْسِيْهَا অর্থাৎ যার সঙ্গে এরূপ (চালিত, স্থগিত) করা হয়েছে لرَّاسِيَاتُ অর্থাৎ স্থিত।
২৪১৫. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ সাক্ষীগণ বলবেঃ এরাই হলো সেসব লোক যারা তাদের প্রতিপালকের বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করেছিল। সাবধান! আল্লাহর লা'নত জালিমদের ওপর (১১ঃ ১৮) أَشْهَادُ-এর একবচন হল, شَاهِدٌ যেমন, أَصْحَابٌ -এর এক বচন صَاحِبٌ
হাদিস নং ৪৩২৮সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، وَهِشَامٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُحْرِزٍ، قَالَ بَيْنَا ابْنُ عُمَرَ يَطُوفُ إِذْ عَرَضَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ ـ أَوْ قَالَ يَا ابْنَ عُمَرَ ـ سَمِعْتَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي النَّجْوَى فَقَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يُدْنَى الْمُؤْمِنُ مِنْ رَبِّهِ ـ وَقَالَ هِشَامٌ يَدْنُو الْمُؤْمِنُ ـ حَتَّى يَضَعَ عَلَيْهِ كَنَفَهُ، فَيُقَرِّرُهُ بِذُنُوبِهِ تَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا يَقُولُ أَعْرِفُ، يَقُولُ رَبِّ أَعْرِفُ مَرَّتَيْنِ، فَيَقُولُ سَتَرْتُهَا فِي الدُّنْيَا وَأَغْفِرُهَا لَكَ الْيَوْمَ ثُمَّ تُطْوَى صَحِيفَةُ حَسَنَاتِهِ، وَأَمَّا الآخَرُونَ أَوِ الْكُفَّارُ فَيُنَادَى عَلَى رُءُوسِ الأَشْهَادِ هَؤُلاَءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى رَبِّهِمْ ". وَقَالَ شَيْبَانُ عَنْ قَتَادَةَ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ.
বর্ণনাকারী: সাফওয়ান ইবনু মুহরিয (রহ.)
৪৩২৮। মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... সাফওয়ান ইবনু মুহরিয (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা উমর ইবনু (রাঃ) তাওয়াফ করছিলেন। হঠাৎ এক ব্যাক্তি তাঁর সম্মুখে এসে বলল, হে আবূ আবদুর রহমান অথবা বলল, হে ইবনু উমর (রাঃ) আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা এবং মু’মিনদের মধ্যকার) গোপন আলোচনা সম্পর্কে কিছু শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, (কিয়ামতের দিন) মু’মিনকে তাঁর নিকটবর্তী করা হবে। হিশাম বলেন, মু’মিন নিকটবর্তী হবে, এমনকি আল্লাহ তা’আলা তাকে নিজ পর্দায় আবৃত করে নেবেন এবং তার কাছ থেকে তার গুনাহসমূহের স্বীকারোক্তি নেবেন। (আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন) অমুক গুনাহ সম্পর্কে তুমি জান কি? বান্দা বলবে, হে আমার রব! আমি জানি, আমি জানি। এভাবে দু’বার বলবে। তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, আমি দুনিয়ায় তোমার গুনাহ গোপন রেখেছি। আজ তোমার সে গুনাহ মাফ করে দিচ্ছি। তারপর তার নেক আমল নামা গুটিয়ে নেয়া হবে।
পক্ষান্তরে অন্যদলকে অথবা (রাবী বলেছেন) কাফিরদের সকলের সামনে ডেকে বলা হবে, এরাই সে লোক যারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল এবং শায়বান حَدَّثَنَا قَتَادَةُ এর পরিবর্তে عَنْ قَتَادَةَ এবং عَنْ صَفْوَانُ এর পরিবর্তে حَدَّثَنَا صَفْوَانُ বর্ণনা করেছেন।
২৪১৬. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ এবং এরূপই তোমার প্রতিপালকের শাস্তি। তিনি শাস্তি দান করেন জনপদসমূহকে, যখন তারা জুলুম করে থাকে। তার শাস্তি মর্মন্তুদ কঠিন (১১ঃ ১০২) الرِّفْدُ الْمَرْفُوْدُ অর্থাৎ সাহায্য, যে সাহায্য করা হয় (বলা হয়) رَفَدْتُهُ আমি তাকে সাহায্য করলাম। تَرْكَنُوْا ঝুঁকে পড়। فَلَوْلَا كَانَ কেন হয়নি। أُتْرِفُوْا তাদের ধ্বংস করে দেয়া হল। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, زَفِيْرٌ وَشَهِيْقٌ বিকট আওয়াজ এবং ক্ষীণ আওয়াজ।
হাদিস নং ৪৩২৯সহিহ
حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا بُرَيْدُ بْنُ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ لَيُمْلِي لِلظَّالِمِ حَتَّى إِذَا أَخَذَهُ لَمْ يُفْلِتْهُ ". قَالَ ثُمَّ قَرَأَ (وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى وَهْىَ ظَالِمَةٌ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ)
বর্ণনাকারী: আবূ মূসা আল- আশ'আরী (রাঃ)
৪৩২৯। সাদাকা ইবনু ফাযল (রহঃ) ... আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা জালিমদের অবকাশ দিয়ে থাকেন। অবশেষে যখন তাকে পাকড়াও করেন, তখন আর ছাড়েন না। (বর্ণনাকারী বলেন) এরপর তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এ আয়াত পাঠ করেন। "এবং এরূপই তোমার রবের শাস্তি।" তিনি শাস্তি দান করেন জনপদসমূকে যখন তারা জুলুম করে থাকে। তার শাস্তি মর্মন্তুদ, কঠিন। (১১: ১০২)
২৪১৭. আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ নামায কায়েম করবে দিবসের দু'প্রান্তভাগে ও রজনীর প্রথমাংশে। নেক কাজ অবশ্যই পাপ মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহন করে এটি তাদের জন্য এক উপদেশ (১১ঃ ১১৪) زُلَفًا সময়ের পর সময় এবং এসব থেকেই مُزْدَلِفَةُ এর নামকরণ করা হয়েছে। মনযিলের পর মনযিল এবং زُلْفَى মাসদার অর্থ নিকটবর্তী হওয়া। ازْدَلَفُوْا একত্রিত হয়েছে। أَزْلَفْنَا আমরা একত্রিত হয়েছি।
হাদিস নং ৪৩৩০সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ ـ هُوَ ابْنُ زُرَيْعٍ ـ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَجُلاً، أَصَابَ مِنَ امْرَأَةٍ قُبْلَةً، فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَأُنْزِلَتْ عَلَيْهِ (وَأَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَىِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ). قَالَ الرَّجُلُ أَلِيَ هَذِهِ قَالَ " لِمَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ أُمَّتِي ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৩৩০ মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার কোন এক ব্যাক্তি জনৈক মহিলাকে চুমু দিলেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে এ ঘটনা বললেন, তখন (এ ঘটনার প্রেক্ষিতে) এ আয়াত অবতীর্ণ হয় وَأَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَىِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ ’’সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করবে দিবসের দু’প্রান্ত ভাগে ও রাত্রির প্রথমাংশে নেক কার্য অবশ্যই পাপকে মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে তাদের জন্য এ এক উপদেশ। (১১: ১১৪) তখন লোকটি বলল, এ হুকুম কি শুধু আমার জন্য? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যারাই এ অনুসারে করবে, তাদের জন্য।
আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ ويتم نعمته عليك وعلى آل يعقوب كما أتمها على أبويك من قبل إبراهيم وإسحاق আর আল্লাহ তোমার প্রতি এবং ইয়াকুব পরিবার-পরিজনের প্রতি তার অনুগ্রহ পূর্ণ করবেন, যেভাবে তিন তা করেছিলেন তোমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহাকের প্রতি।
হাদিস নং ৪৩৩১সহিহ
وَقَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْكَرِيمُ بْنُ الْكَرِيمِ بْنِ الْكَرِيمِ بْنِ الْكَرِيمِ يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
সুরা ইউসুফ
ফুযায়ল (রহ.) হুসায়ন (র.) মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مُتْكَاءً (এক জাতীয়) লেবু এবং ফুযায়ল (রহ.) বলেন যে, مُتْكًا হাবশী ভাষায় (এক জাতীয়) লেবুকে বলা হয়। ইবনু ’উয়াইনাহ (রহ.) ...... মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, مُتْكًا ঐ সব, যা চাকু দিয়ে কাটা হয়। ক্বাদাতাহ (রহ.) বলেন, لَذُوْعِلْمٍ সে ’আলিম, যে তার ’ইল্মের উপর ’আমল করে। ইবনু যুবায়র (রহ.) বলেন, صُوَاعٌ ফারসী মাপ-পাত্র, যার উভয় পাশ মিলানো থাকে; আজমীগণ এটা দিয়ে পানি পান করে। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, تُفَنِّدُوْنِ আমাকে মূর্খ মনে কর। অন্য হতে বর্ণিতঃ غَيَابَةٌ যেসব বস্তু তোমা হতে গোপন রয়েছে। وَالْجُبُّ ঐ কূপকে বলে যার মুখ বাঁধা হয়নি। بِمُؤْمِنٍلَنَا তুমি আমার কথায় বিশ্বাসী। بِمُؤْمِنٍلَنَا অধোগতি শুরু হওয়ার আগের বয়স। বলা হয় بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغُوْا أَشُدَّهُمْ অর্থাৎ সে বা তারা পূর্ণ বয়সে উপনীত হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এর একবচন شَدٌّ (কারো কারো মতে) الْمُتَّكَأُ যে জিনিসের উপর পানাহার করার বা কথাবার্তা বলার সময় হেলান দেয়া হয়। যাঁরা مَتَكًا অর্থ লেবু বলেছেন এতে তা রদ হল। আরবদের ভাষায় ’উতরুঞ্জ’ শব্দের ব্যবহার নেই। যখন তাদের প্রতি এই অভিযোগ দ্বারা প্রমাণ করা হয় যে, ’মুত্তাকা’ অর্থ বিছানা, তখন তাঁরা আরো খারাপ অর্থ গ্রহণ করল এবং বলল যে, এখানে مُتْكٌ এর ت সাকিন। এর অর্থ স্ত্রীলোকের লজ্জাস্থানের পার্শ্ব। এ থেকে ব্যবহার হয় مَتْكَاءِ (যে নারীর সে অংশ কাটা হয়নি) এবং ابْنُ الْمَتْكَاءِ (মাত্কার পুত্র)। সে ঘটনায় লেবু হলেও তা তাকিয়া দেয়ার পরই হবে। شَعَفَهَا তার অন্তরকে আচ্ছন্ন করল। مَشْعُوْفٌ যার অন্তর প্রেমে জ্বালিয়ে দিয়েছে। أَصْبُ আমি আসক্ত হয়ে যাব। أَحْلَامٍ অনর্থক স্বপ্ন যার কোন ব্যাখ্যা নেই। أَضْغَاثُ ঘাসের মুঠা এবং যা এ জাতীয়। যেমন পূর্বের আয়াতে আছে خُذْ بِيَدِكَ ضِغْثًا এক মুঠো ঘাস লও। একবচনে ضِغْثٌ থেকে গঠিত نَمِيْرُ আমরা খাদ্যদ্রব্য এনে দিব। نَزْدَادُكَيْلَبَعِيْرٍ আমরা আরো এক উট বোঝাই পণ্য আনব। أَوَىإِلَيْهِ নিজের কাছে রাখল। السِّقَايَةُ পান পাত্র, পরিমাপ-পাত্র। সারাক্ষণ থাকবে حَرَضًامُحْرَضًا খুব দুর্বল হওয়া) يُذِيْبُكَ الْهَمُّ দুশ্চিন্তা-তোমাকে শেষ করে দিবে, تَحَسَّسُوْا তোমরা খোঁজ লও। مُزْجاةٌ স্বল্প, غَاشِيَةٌمِنْ عَذابِ الله عَامَّةٌ مُجَلِّلَةٌ আল্লাহর শাস্তি সকলকে বেষ্টন করে নিয়েছে।
৪৩৩১। আবদুল্লাহ্ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সম্মানিত ব্যাক্তি, সম্মানিত ব্যাক্তির পুত্র, সম্মানিত ব্যাক্তির পুত্র, সম্মানিত ব্যাক্তির পুত্র, সম্মানিত ব্যাক্তি হলেন, ইউসুফ (আলাইহিস সালাম), তাঁর পিতা ইসহাক (আলাইহিস সালাম), তাঁর পিতা ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম), তাঁর পিতা ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)।
আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ لقد كان في يوسف وإخوته آيات للسائلين “ইউসুফ ও তার ভাইদের ঘটনায় জিজ্ঞাসুদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।“ (১২:৭)।
৪৩৩২। মুহাম্মদ ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন ব্যাক্তি অধিক সম্মানিত? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে সেই আল্লাহ্’র নিকট বেশি সন্মানিত যে তাদের মধ্যে সবচে বেশি পরহেজগার। লোকেরা বলল, আমরা এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিনি। তিনি বললেন, সর্বাধিক সম্মানিত ব্যাক্তি আল্লাহ্’র নবী ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)। তিনি তো নবী’র পুত্র, নবী’র পুত্র, নবী’র পুত্র এবং খলিলুল্লাহ্ (আলাইহিস সালাম) এর পুত্র। লোকেরা বলল, আমাদের প্রশ্ন এ ব্যপারে ছিলনা। তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা আরব বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছ। তারা বলল, হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যারা জাহেলিয়াতে তোমাদের মাঝে উত্তম ছিল, ইসলামেও তারা উত্তম যদি তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানের অধিকারী হয়। আবূ উসামা (রহঃ) উবায়দুল্লা’র সুত্রে এটাকে সমর্থন ব্যক্ত করেন।
আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ “সে (ইয়াকুব (আঃ) বলল, না, তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি কাহিনী সাজিয়ে দিয়েছে।“ (১২ঃ ১৮)। سولت সুন্দর করে সাজিয়ে শোভনীয় করে দেখান।
৪৩৩৩। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) উরওয়া ইবনু যুবাইর, সাইদ ইবনু মূসাইয়্যিব, আলকামা ইবনু ওয়াক্কাস এবং উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়শা (রাঃ) এর ইফক* সম্পর্কে أَهْلُ الإِفْكِ যা বলেছেন তা শুনেছি। আল্লাহ এটা নির্দোষ প্রমানিত করেছেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়শা (রাঃ) কে বললেন, যদি তুমি নির্দোষ হয়ে থাক তবে অতি শীঘ্র আল্লাহ তোমার নির্দোষিতা প্রমান করে দিবেন। আর যদি তোমার দ্বারা এ গুনাহ সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তওবা কর। আয়শা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এ সময় আমি ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর পিতা ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) এর উদাহরন ছাড়া বলার মত আর কিছু জবাব দেয়ার মত খুঁজে পাচ্ছিনা। (তিনি যা বলেছিলেন) সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়। তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ ই আমার সাহায্য স্থল। অবশেষে আল্লাহ আমার (নির্দোষিতা ঘোষণা করে) إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالإِفْكِ দশটি আয়াত নাযিল করেছেন।
৪৩৩৪। মূসা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) এর মাতা উম্মে রুমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (অপবাদ রটনার সময়) আয়শা (রাঃ) আমাদের ঘরে জ্বরে আক্রান্ত ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সম্ভবত এ অপবাদের কারনে জ্বর হয়েছে। আয়শা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তিনি উঠে বসলেন এবং বললেন, আমার এবং আপনার উদাহরন ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) এবং তার পুত্র ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর ন্যায়। তার ভাইয়েরা কাহিনী সাজালো। তখন ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন, পূর্ণ ধৈর্য্যই শ্রেয়। তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্যস্থল।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ সে (ইউসুফ (আঃ) যে স্ত্রী লোকের ঘরে ছিল সে তার থেকে অসৎ কর্ম কামনা করল এবং দরজা গুলো বন্ধ করে দিল ও বলল, এসো। ইকরিমা বলেন, هيت আইস হুরানের ভাষা, ইবন জুবায়র বলেন, تعاله এসো।
৪৩৩৫। আহমাদ ইবনু সাইদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন,هَيْتَ لَكَ আমরা সেভাবেই পড়তাম যেভাবে আমাদের শিখানো হয়েছে। مَثْوَاهُ অর্থ স্থান এবং أَلْفَيَا অর্থ সে পেয়েছে। এ থেকে أَلْفَوْا آبَاءَهُمْ হয়েছে। এমনিভাবে ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে بَلْ عَجِبْتَ وَيَسْخَرُونَ এর মধ্যে ت কে পেশ যুক্ত করে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি এভাবে পড়তেন।
৪৩৩৬। হুমায়দি (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যখন কুরাইশগন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইসলাম এর দাওয়াত অস্বীকার করল, তখন তিনি আল্লাহর নিকটে আরজ করলেন, ইয়া আল্লাহ! যেমনি ভাবে আপনি ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর সময় সাত বছর ধরে দুর্ভিক্ষ দিয়েছিলেন, তেমনি ভাবে ওদের উপর দুর্ভিক্ষ নাযিল করুন। তারপর কুরাইশগন এক বছর পর্যন্ত এমন দুর্ভিক্ষের মধ্যে আপতিত হল যে সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেল। এমনকি তারা হাড় পর্যন্ত খেতে শুরু করল; যখন কোন ব্যাক্তি আকাশের দিকে নজর করত, তখন আকাশ ও তার মধ্যে শুধু ধোঁয়া দেখত।
আল্লাহ বলেন فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ “সেদিনের অপেক্ষায় থাক যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আসবে”।
আল্লাহ আরও বলেন, إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ قَلِيلاً إِنَّكُمْ عَائِدُونَ “আমি শাস্তি কিছুটা সরিয়ে নিব; নিশ্চয়ই তোমরা (পূর্বাবস্থায়) প্রত্যাবর্তন করবে”। কিয়ামত এর দিন তাদের থেকে আযাব দূর করা হবে কি? এবং دخَان ও بَطْشَةُ এর ব্যাখ্যা আগে বলা হয়েছে।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ فَلَمَّا جَاءَهُ الرَّسُولُ قَالَ ارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ “যখন দূত ইয়ুসুফ (আ) এর নিকট উপস্থিত হল তখন সে বলল, তুমি তোমার প্রভুর নিকট ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস কর, যে সকল নারী হাত কেটে ফেলেছিল তাদের অবস্থা কি! আমার প্রতিপালক তো তাদের অবস্থা সম্যক অবগত। বাদশাহ নারীদের বলল, যখন তোমরা ইয়ুসুফ থেকে অসৎ কর্ম কামনা করেছিলে তখন তোমাদের কি অবস্থা হয়েছিল? তারা বলল, অদ্ভুত আল্লাহর মাহাত্ম্য! আমাদের ও তার মধ্যে কোন দোষ দেখিনি। حاش وحاشى এটা تنزيه এবং استثناء এর জন্য। حصحص অর্থ প্রকাশ হয়ে গেল।
৪৩৩৭। সাইদ ইবনু তালিদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা লুত (আলাইহিস সালাম) এর উপর রহম করুন। তিনি তার সম্প্রদায়ের চরম শত্রুতায় বাধ্য হয়ে, নিজের নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। যতদিন পর্যন্ত ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) বন্দীখানায় ছিলেন, আমি যদি তদ্রূপ (বন্দীখানায়) থাকতাম, তবে পরিত্রানের জন্য অবশ্যই সাড়া দিতাম। আমরা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) থেকে সর্বাগ্রে থাকতাম যখন আল্লাহ তাকে বললেন, তুমি কি বিশ্বাস কর না? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ। তবে আমার মনের প্রশান্তির জন্য।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ حتى إذا استيأس الرسل “এমনকি যখন রাসুলগন নিরাশ হয়ে গেলেন”।
৪৩৩৮। আবদুল আযিয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... উরওয়া ইবনু যুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়শা (রাঃ) কে আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে এই আয়াতে শব্দটা أَكُذِبُوا না كُذِّبُوا আয়শা (রাঃ) বললেন,أَكُذِبُوا আমি জিজ্ঞেস করলাম, যখন আম্বিয়ায়ে কিরাম পূর্ণ বিশ্বাস করে নিলেন, এখন তাদের সম্প্রদায় তাদের প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে, তখন الظَّن ব্যাবহারের উদ্দেশ্য কি? আয়িশা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ আমার জীবনের কসম! তারা পূর্ণ বিশ্বাস করেই নিয়েছিলেন। আমি তাঁকে বললাম,ظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا অর্থ কি দাঁড়ায়? আয়িশা (রাঃ) বললেন, মা’আযাল্লাহ! রাসুলগন কখনও আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা ধারনা করতে পারেন না।
আমি বললাম, তবে আয়াতের অর্থ কি হবে? তিনি বললেন, তারা রাসুলদের অনুসারী যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছে। এবং রাসুলদের সত্য বলে স্বীকার করেছে। তারপর তাদের প্রতি দীর্ঘকাল ধরে (কাফেরদের) নির্যাতন চলেছে এবং আল্লাহর সাহায্য আসতেও অনেক বিলম্ব হয়েছে, এমনকি যখন রাসুলগন তাদের সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে তাদের প্রতি মিথ্যরোপ কারীদের ঈমান আনা সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেছেন এবং রাসুলদের এ ধারনা হল যে এখন তাদের অনুসারীরাও তাদের প্রতি মিথ্যরোপ করতে শুরু করবে, এমতাবস্থায় তাদের কাছে আল্লাহর সাহায্য এল।
৪৩৩৯। আবূল ইয়ামান (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, আমি আয়শা (রাঃ) কে বললাম, সম্ভবত كُذِبُوا (তাখফিফ সহ)। তিনি বললেন, মা’আযাল্লাহ! ঐরূপ (كُذِبُوا)।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ الله يعلم ما تحمل كل أنثى প্রত্যেক নারী যা গর্ভে ধারন করে এবং জরায়ু তে যা কিছু কমে ও বাড়ে আল্লাহ তা জানেন। غيض হ্রাস পেল ।
সুরা রা’দ
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ যেমন, কেউ হাত বাড়িয়ে দেয়। এটি মুশরিকের দৃষ্টান্ত যারা ’ইবাদাতে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যকে শরীক করে। যেমন পিপাসার্ত ব্যক্তি যে দূর থেকে পানি পাওয়ার আশা করে, অথচ পানি সংগ্রহ করতে সমর্থ হয় না। অন্যেরা বলেন, سَخَّرَ সে অনুগত হল।’’ مُتَجَاوِرَاتٌ পরস্পর নিকটবর্তী হল। الْمَثُلَاتُ (উপমা, দৃষ্টান্ত) مَثُلَةٌ-এর বহুবচন। আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, ’ওরা কি ওদের পূর্বে যা ঘটেছে তারই অনুরূপ ঘটনারই প্রতীক্ষা করে? بِمِقْدَارٍ নির্দিষ্ট পরিমাণ। مُعَقِّبَاتٌ ফেরেশতা, যারা একের পর এক সকাল-সন্ধ্যায় বদলি হয়ে থাকে। যেমন عَقِيْبُ পিছনে (বদলি)। যেমন বলা হয় عَقَّبْتُ فِيْٓ إِثْرِهِ আমি তার পরে (বদলি) এসেছি। الْمِحَالِ শাস্তি كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَآءِ সে তৃষ্ণার্তের মত, যে নিজের দুই হাত পানির দিকে বাড়িয়ে দেয়, পানি পাওয়ার জন্য। رَابِيًا (বর্ধনশীল) رَبَايَرْبُوْ থেকে গঠিত। زَبَدٌ ফেনা, সর। الْمَتَاعُ যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, যা উপভোগ করা হয়। جُفَاءً বলা হয়, মাংসের পাতিল যখন উত্তপ্ত করা হয়, তখন তার ওপরে ফেনা জমে। এরপর ঠান্ডা হয় এবং ফেনার বিলুপ্তি ঘটে। সেরূপ সত্য, বাতিল (মিথ্যা) থেকে আলাদা হয়ে থাকে।’’ الْمِهَادُ বিছানা يَدْرَءُوْنَ তারা প্রতিহত করে। دَرَأْتُهُ ও دَفَعْتُهُ আমি তাকে দূরে হটিয়ে দিলাম। মালায়িকাহ বলবেন, سَلَامٌ عَلَيْكُمْ তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। وَإِلَيْهِ مَتَابِ আমি তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করছি। أَفَلَمْيَيْئَسْ এটা কি তাদের কাছে প্রকাশ পায়নি, قَارِعَةٌ আকস্মিক বিপদ فَأَمْلَيْتُ আমি অবকাশ দিয়েছি। مَلِيِّ ও مِلَاوَةٌ হতে পঠিত। সে অর্থে مَلِيًّا ব্যবহৃত। প্রশস্ত ও দীর্ঘ যমীনকে مَلًى مِنَ الْأَرْضِ বলা হয়। أَشَقُّ (অধিক কঠিন) اِسْمِ تَفْضِيْلَ-مَشَقَّةِ থেকে গঠিত। مُعَقِّبَ পরিবর্তনশীল। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مُتَجَاوِرَاتٌ অর্থ, কিছু জমি কৃষি উপযোগী এবং কিছু জমি কৃষির অনুপযোগী। আর তাতে একটা থেকে দুই বা ততোধিক খেজুর গাছ উৎপন্ন হয় এবং কতিপয় যমীনে পৃথক পৃথকভাবে উৎপন্ন হয়। সেরূপ অবস্থা আদম (আঃ)-এর সন্তানদের। কেউ নেক্কার আর কেউ বদকার, অথচ সকলেই আদমের সন্তান। السَّحَابُ الثِّقَالُ পানিতে পূর্ণ মেঘমালা। كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি মুখ দিয়ে পানি চায় এবং হাত দিয়ে পানির দিকে ইশারা করে। তারপর সে সর্বদা তা থেকে বঞ্চিত থাকে। سَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا নানাসমূহ তার পরিমাণ মাফিক প্রবাহিত হয়ে ’’বাতনে ওয়াদী’’ কে ভরে দেয়। زَبَدًا رَابِيًا প্রবাহিত ফেনা। লোহা ও অলংকার উত্তপ্ত করা হলে যেমন ময়লা বের হয়ে আসে।
৪৩৪০। ইব্রাহিম ইবনু মুনযির (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত , নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইল্ম গায়েব এর চাবি কাঠি পাঁচটি, যা আল্লাহ ভিন্ন আর কেউ জানেনা। তা হল, আগামী দিন কি হবে তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেনা। মাতৃগর্ভে কি আছে তা আল্লাহ ভিন্ন আর কেউ জানেনা। বৃষ্টি কখন আসবে তা আল্লাহ ব্যতিত আর কেউ জানেনা। কোন ব্যাক্তি জানেনা তার মৃত্যু কোথায় হবে এবং কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে তা আল্লাহ ভিন্ন আর কেউ জানেনা।
আল্লাহ তা’আলার বাণী, كشجرة طيبة أصلها “সে উৎকৃষ্ট বৃক্ষের ন্যায় যার মূল সুদৃঢ় ও যার শাখা প্রশাখা ঊর্ধ্বাকাশে বিস্তৃত , যা প্রতি মৌসুমে ফল দান করে”।
সুরা ইবরাহীম
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, هَادٍ আহবানকারী। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, صَدِيْدٌ পুঁজ ও রক্ত। ইবনু ’উয়াইনাহ বলেন, اذْكُرُوْا نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ আল্লাহর যেসব নিয়ামত তোমাদের উপর আছে এবং যা কিছু ঘটছে (তা স্মরণ কর)। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مِنْ كُلِّ مَا سَأَلْتُمُوْهُ তোমরা যা কিছু আল্লাহর কাছে চেয়েছিলে যাতে তোমাদের আগ্রহ ছিল। يَبْغُوْنَهَاعِوَجًا তারা এর অপব্যাখ্যা তালাশ করছে। إِذْ تَأَذَّنَرَبُّكُمْ তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জানিয়েছেন, তোমাদের অবহিত করেছেন। رَدُّوْا أَيْدِيَهُمْ فِيْأَفْوَاهِهِمْ এটা একটা প্রবাদ বাক্য, যার অর্থ, তাদের যে বিষয়ে আদেশ দেয়া হয়েছিল তা থেকে তারা বিরত রয়েছে। مَقَامِيْ সে স্থান তাকে যেখানে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর সামনে দাঁড় করাবেন। مِنْوَرَآئِهٰ তার সম্মুখে لَكُمْ تَبَعًا এর একবচন تَابِعٌ যেমন غَائِبٌ -এর বহুবচন غَائِبٍ। اسْتَصْرَخَنِيْ সে আমার কাছে সাহায্য চেয়েছে। يَسْتَصْرِخُهُ এটা الصُّرَاخِ থেকে গঠিত। وَلَاخِلَالَ আর কোন বন্ধুত্ব নয়। এটা خَالَلْتُهُخِلَالًا এর মাসদার আর خُلَّةٍ-خِلَالٍ এর বহুবচনও হতে পারে। اجْتُثَّتْ মূলোচ্ছেদ করা হয়েছে।
৪৩৪১। উবায়দ ইবনু ইসমাইল (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, বলতো সেটা কোন বৃক্ষ, যা কোন মুসলিম ব্যাক্তির মতো যার পাতা ঝরেনা, এরুপ নয়, এরুপ নয় এবং এরূপও নয় যা সর্বদা খাদ্য প্রদান করে। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, আমার মনে হল এটা খেজুর বৃক্ষ। কিন্তু আমি দেখলাম আবূ বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ) কোন কথা বলছেন না। তাই আমি এ ব্যাপারে কিছু বলা পছন্দ করিনি। অবশেষে যখন কেউ কিছু বললেন না তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেটা খেজুর গাছ। পরে যখন আমরা উঠে গেলাম, তখন আমি ওমর (রাঃ) কে বললাম, হে আব্বা! আল্লাহর কসম! আমার মনেও হয়েছিল খেজুর বৃক্ষ। উমর (রাঃ) বললেন, একথা বলতে তোমার কিসে বাধা দিল? বললাম, আমি আপনাদের বলতে দেখিনি, তাই আমি কিছু বলতে এবং আমার মত ব্যক্ত করতে পছন্দ করিনি। উমর (রাঃ) বললেন, অবশ্য যদি তুমি বলতে তবে তা আমার নিকট এত এত থেকে বেশি প্রিয় হত।
আল্লাহ তা’আলার বাণী, يثبت الله الذين آمنوا بالقول الثابت “যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী , তাদের আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন”।
৪৩৪২। আবূ ওয়ালিদ (রহঃ) ... বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কবরে মুসলিম ব্যাক্তিকে যখন প্রশ্ন করা হবে তখন সে সাক্ষ্য দিবে, “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াআন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ ” আল্লাহর বাণীতে এর প্রতই ইংগিত করা হয়েছে। বানীটি হল এইঃ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ألم تر إلى الذين بدلوا نعمة الله كفرا “আপনি কি তাদের লক্ষ্য করেন না যারা আল্লাহর অনুগ্রহের বদলে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ألم تر আপনি কি জানেন না ألم تعلم এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন ألم تر كيف অথবা ألم تر إلى الذين خرجوا আয়াতে এ অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। البوار ধ্বংস । এটা بار يبور بورا থেকে গঠিত । قوما بورا অর্থ ধ্বংসশীল সম্প্রদায় ।
সুরা হিজ্র
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, صِرَاطٌ عَلَيَّ مُسْتَقِيْمٌ সঠিক পথ যা আল্লাহ্ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে এবং তাঁর দিকে রয়েছে এ রাস্তা। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, لَعَمْرُكَ তোমার জীবনের কসম। قَوْمٌ مُنْكَرُوْنَ এমন সম্প্রদায়, যাদের লূত (আঃ) চিনেননি। অন্যেরা বলেন, كِتَابٌ مَعْلُوْمٌ নির্দিষ্ট সময়। لَوْ مَا تَأْتِيْنَا কেন আমার কাছে আসে না। شِيَعٌ বহু সম্প্রদায়। বন্ধুবর্গকেও شِيَعٌ বলা হয়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, يُهْرَعُوْنَ তারা দ্রুতগতিতে ছুটে চলছে। لِلْمُتَوَسِّمِيْنَ প্রত্যক্ষকারীদেরকে জন্য سُكِّرَتْ ঢেকে দেয়া হয়েছে। চন্দ্র-সূর্যের মনযিল। بُرُوْجًا অর্থাৎ (ভার-গর্ভ মেঘমালা), এটার একবচন مُلْقَحَةً حَمَإٍ جَمَاعَةُ এর বহুবচন পচা কাদামাটি। وَالْمَسْنُوْنُ ঢেলে দেয়া হয়েছে। تَوْجَلْ ভীত হও। دَابِرَ অর্থ-শেষাংশ। الْإِمَامُ যার তুমি অনুসরণ করেছ, এবং যার দ্বারা সঠিক পথের সন্ধান পেয়েছ। الصَّيْحَةُ ধ্বংস।
৪৩৪৪। আলি ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যখন আল্লাহ তা’আলা আকাশের কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন ফেরেশতারা তার কথা শোনার জন্য অতি বিনয়ের সাথে নিজ নিজ পালক ঝাড়তে থাকে মসৃণ পাথরের উপর জিঞ্জীরের শব্দের মত। আলি (রাঃ) বলেন, صَفْوَانٍ এর মধ্যে فا সাকিন যুক্ত এবং অন্যরা বলেন, فا ফাতাহ যুক্ত। এভাবে আল্লাহ তা’আলা তার বাণী ফেরেশতাদের পৌঁছান। যখন ফেরেশতাদের অন্তর থেকে ভয় দূরীভূত হয় তখন তারা পরস্পরকে জিজ্ঞেস করে, তোমাদের প্রভু কি বলেছেন? তখন তারা বলে, যা সত্য তিনি তাই বলেছেন এবং তিনি সর্বোচ্চ, মহান। চুরি করে কান লাগিয়ে (শয়তানরা) তা শুনে নেয়। শোনার জন্য শয়তানগুলো একের ওপর এক এভাবে থাকে।
সুফিয়ান ডান হাতের আঙ্গুল এর উপর অন্য আঙ্গুল রেখে হাতের ইশারায় ব্যপারটা প্রকাশ করলেন। তারপর কখনো আগুনের ফুলকি শ্রবণকারীকে তার সাথীর কাছে এ কথাটি পৌঁছানর আগেই আঘাত করে এবং তাকে জ্বালিয়ে দেয়। আবার কখনও সে ফুলকি প্রথম শ্রবণকারী শয়তান পর্যন্ত পোঁছার পূর্বেই সে তার নিচের সাথীকে খবরটি জানিয়ে দেয়। এমনি করে এ কথা পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। কখনও সুফিয়ান বলেছেন, এমনি করে পৃথিবী পর্যন্ত পোঁছে যায়। তারপর তা জাদুকরের মুখে ঢেলে দেওয়া হয় এবং সে তার সাথে শত মিথ্যা মিলিয়ে প্রচার করে। তাই তার কথা সত্য হয়ে যায়। তখন লোকেরা বলতে থাকে যে, দেখ এ জাদুকর আমাদের কাছে অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কথা বলেছিল, আমরা তা সঠিক পেয়েছি। বস্তুত আসমান থেকে শোনা কথার কারনেই তা সত্যে পরিনত হয়েছে।
৪৩৪৫। আলি ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যখন আল্লাহ তা’আলা কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন এ বর্ণনায় -كَاهِن (জ্যোতির্বিদ কথাটি) অতিরিক্ত। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, যখন আল্লাহ তা’আলা কোন ব্যপারে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এ বর্ণনায় عَلَى فَمِ السَّاحِرِ (জাদুকরের মুখের উপর) উল্লেখ করেছেন। আলি ইবনু আবদুল্লাহ বলেন, আমি সুফিয়ান কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি আমর থেকে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি ইকরামা থেকে শুনেছি এবং (ইকরামা) বলেন, আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে শুনেছি। সুফিয়ান বলেন, হ্যাঁ। আলি বলেন, আমি সুফিয়ান কে জিজ্ঞেস করলাম, এক ব্যাক্তি আপনার থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন, আমর ইকরামা থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম فُزِّعَ পাঠ করেছেন। সুফিয়ান বললেন, আমি আমর কে এভাবে পড়তে শুনেছি। তবে আমি জানিনা, তিনি এভাবেই শুনেছেন কিনা তবে এ-ই আমাদের পাঠ।
আল্লাহ তা’আলার বাণী, ولقد كذب أصحاب الحجر المرسلين নিশ্চয়ই হিজর বাসীগন রাসুলদের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল”।
হাদিস নং ৪৩৪৬সহিহ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لأَصْحَابِ الْحِجْرِ " لاَ تَدْخُلُوا عَلَى هَؤُلاَءِ الْقَوْمِ إِلاَّ أَنْ تَكُونُوا بَاكِينَ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا بَاكِينَ فَلاَ تَدْخُلُوا عَلَيْهِمْ أَنْ يُصِيبَكُمْ مِثْلُ مَا أَصَابَهُمْ ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৩৪৬। ইব্রাহিম ইবনু মুনযির (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরবাসীগন* সম্পর্কে সাহাবায়ে কিরামদের বললেন, তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থায় ছাড়া এ জাতির এলাকায় প্রবেশ করবে না। যদি তোমাদের ক্রন্দন না আসে, তবে তোমরা তাদের এলাকায় প্রবেশই করবেনা। আশংকা আছে, তাদের উপর যা আপতিত হয়েছিল তা তোমাদের উপরও আপতিত হয়ে যায়।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
* হিজর একটি উপত্যকার নাম। সেখানে সামুদ সম্প্রদায় বাস করত।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ولقد آتيناك سبعا من المثاني والقرآن العظيم “আমি তো তোমাকে দিয়েছি সাত আয়াত যা পুনঃপুন আবৃত্ত হয় এবং দিয়েছি মহা কুরআন।
৪৩৪৭। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবূ সাইদ ইবনু মুয়াল্লা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশ দিয়ে গেলেন, তখন আমি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলাম। তিনি আমাকে ডাক দিলেন, তখন আমি সালাত শেষ না করে আসিনি। এরপর আমি আসলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমার কাছে আসতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিল? আমি বললাম, আমি সালাত আদায় করছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা কি একথা বলেননি, “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ এবং রাসুলের ডাকে সাড়া দাও”? তারপর তিনি বললেন, আমি মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগেই কি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরাটি শিখিয়ে দিবনা? তারপর যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ থেকে বের হতে লাগলেন , আমি তাঁকে সে কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, সে সূরাটি হল, “আল হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন”। এটি হল[১] পুনরাবৃত্ত সাতটি আয়াত এবং মহা কুরআন[২] যা আমাকে দান করা হয়েছে।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[১] সাত আয়াতের অর্থ – সূরা ফাতিহার সাত আয়াত, যে আয়াতগুলো প্রত্যহ সালাত (নামায/নামাজ) আমরা বারবার পাঠ করে থাকি।
[২] সুরা ফাতিহাকে মহা কুরআন বলা হয়েছে। কারন কুরআনের সকল বিষয়বস্তুর মূলকথা এর মধ্যে রয়েছে।
হাদিস নং ৪৩৪৮সহিহ
حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمُّ الْقُرْآنِ هِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৩৪৮। আদম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উম্মুল কুরআন* (সূরা ফাতিহা) হচ্ছে পুনরাবৃত্ত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
* উম্মুল কুরআন বলা হয় সুরা ফাতিহাকে। কুরআন শরীফের সকল বিষয়বস্তু এর মধ্যে সংক্ষেপে রয়েছে বলে উম্মুল কুরআন অর্থাৎ কুরআনের মা বলা হয়।
আল্লাহ তা”আলার বাণী, الذين جعلوا القرآن عضين যারা কুরআনকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করেছে। المقتسمين যারা শপথ করেছিল এবং এ অর্থে لا أقسم অর্থাৎ أقسم আমি শপথ করছি এবং لأقسم ও পড়া হয় قاسمهما (ইবলিস) শপথ করেছিল দুজনার কাছে। তারা দুজন (আদম য় হাওয়া ) তার জন্য শপথ করেনি। মুজাহিদ (র) বলেন, تقاسموا তারা শপথ করেছিল।
৪৩৪৯। ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহিম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, “যারা কুরআন কে বিভক্ত করে দিয়েছে” এরা হল আহলে কিতাব (ইহুদী-নাসারা)। তারা কুরআনকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে দিয়েছে। এরা কোন অংশের উপর ঈমান এনেছে এবং কোন অংশকে অস্বীকার করেছে।
হাদিস নং ৪৩৫০সহিহ
حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ (كَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى الْمُقْتَسِمِينَ) قَالَ آمَنُوا بِبَعْضٍ وَكَفَرُوا بِبَعْضٍ، الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪৩৫০। উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) كَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى الْمُقْتَسِمِينَ এর ব্যখ্যায় বলেন, তারা কিছু অংশের উপর ঈমান আনে আর কিছু অংশ অস্বীকার করে। এরা হল ইহুদী ও নাসারা।
আল্লাহ তা’আলার বাণী, ومنكم من يرد إلى أرذل العمر “এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে উপনীত করা হবে নিকৃষ্ট বয়সে”।
হাদিস নং ৪৩৫১সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مُوسَى أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الأَعْوَرُ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ. أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو " أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَالْكَسَلِ، وَأَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَعَذَابِ الْقَبْرِ، وَفِتْنَةِ الدَّجَّالِ، وَفِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ ".
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
باب قوله وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتّٰى يَأْتِيَكَ الْيَقِيْنُ قَالَ سَالِمٌ (الْيَقِيْنُ) الْمَوْتُ
অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتّٰى يَأْتِيَكَ الْيَقِيْنُ ইয়াকীন তোমার কাছে উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার রবের ইবাদত কর।
সালিম বলেন, يَقِيْنُ এখানে মৃত্যু অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
সুরা নাহল
رُوْحُ الْقُدُسِ অর্থাৎ জিবরীল (আঃ)। অন্য আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, نَزَلَ بِهِ الرُّوْحُ الْأَمِيْنُ অর্থাৎ রূহুল আমীন (জিবরীল) ওয়াহী নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। فِيْ ضَيْقٍ সংকটে কিংবা সংকুচিত হৃদয়। বলা হয়, أَمْرٌ ضَيْقٌ وَضَيِّقٌ (يا মুশাদ্দাদ অথবা সাকিন) যেমন- هَيْنٌ-و-هَيِّنٌ-وَ-لَيْنٌ-لَيِّنٌ-وَ-مَيْتٌ-مَيِّتٌ এবং ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, فِيْ تَقَلُّبِهِمْ তাদের সর্বত্র গমনাগমনে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, تَمِيْدُ আন্দোলিত হয়। مُفْرَطُوْنَ বিস্মৃত অবস্থায় রাখা হবে। অন্যের মতে, فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْاٰنَ فَاسْتَعِذْ بِاللهِ এ বাক্যটি আগ-পিছু রয়েছে। কেননা কুরআন পাঠের আগে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হয়। অর্থাৎ আল্লাহকে আঁকড়িয়ে ধরা شَاكِلَتِهِ নিজ প্রকৃতি অনুযায়ী। قَصْدُ السَّبِيْلِ (আল্লাহর যিম্মায়) সরল পথ প্রদর্শন الدِّفْءُ যা দ্বারা তুমি শীত নিবারণ কর। تُرِيْحُوْنَ বিকেল বেলা (পশুগুলিকে চারণ ভূমি থেকে গৃহে) নিয়ে আস। تَسْرَحُوْنَ সকাল বেলায় নিয়ে যাও। بِشِقِّ কষ্টের সঙ্গে। عَلٰى تَخَوُّفٍ কম করার মাধ্যমে الْأَنْعَامِ لَعِبْرَةً (আন’আমের মধ্যে অবশ্যই শিক্ষা রয়েছে) أَنْعَامِ শব্দটি পুং বাচক ও স্ত্রীবাচক দুইই ব্যবহার হয়। এরূপ أَنْعَام- শব্দটি نَعَامِ এর বহুবচন। سَرَابِيْلَ জামাগুলো। تَقِيْكُمْ الْحَرَّ (তাপ থেকে তোমাদের রক্ষা করে) এবং سَرَابِيْلَ تَقِيْكُمْ بَأْسَكُمْ এ سَرَابِيْلَ মানে বর্ম (যা তোমাদের যুদ্ধ-আঘাত থেকে রক্ষা করে) دَخَلًا بَيْنَكُمْ যে কোন কাজ অযথার্থ হয় তাকে ’দাখাল’ বলে। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, حَفَدَةً পৌত্র অর্থাৎ এরাও নিজ সন্তান বলে গণ্য। السَّكَرُ মাদক, যা ফল থেকে তৈরি করা হয়, তা হারাম করা হয়েছে। الرِّزْقُالْحَسَنُ (উত্তম খাদ্য) যা আল্লাহ্ হালাল করেছেন।
ইবনু ’উয়াইনাহ সাদাকা (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন, أَنْكَاثًا (টুকরো টুকরো করা) মক্কা্য় এক নির্বোধ মহিলা যে মজবুত করে সূতা পাকানোর পর তা টুকরো টুকরো করে ফেলত। ইবনু মাস’উদ (রাঃ) বলেন, الْأُمَّةُ কল্যাণের শিক্ষাদানকারী। الْقَانِتُ অনুগত।
৪৩৫১। মূসা ইবনু ইসমাইল (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া করতেন, (হে আল্লাহ!) আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কৃপণতা থেকে, অলসতা থেকে, নিকৃষ্ট বয়স থেকে* কবরের আযাব থেকে, দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে।
সূরা বনী ইসরাঈল
৪৩৫২। আদম (রহঃ) ... ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, সূরা বনী ইসরাইল, কাহফ এবং মরিয়ম প্রথমে অবতীর্ণ অতি উত্তম সূরা। এগুলো আমার পুরানো রক্ষিত সম্পদ।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, فسينغضون তারা তাদের মাথা নাড়াবে। অন্য থেকে বর্ণিত, نغضت سنك তোমার দাঁত নড়ে গেছে। وَقَضَيْنَآ إِلٰى بَنِيْٓ إِسْرَائِيْلَ আমি বনী ইসরাঈলকে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, তারা শীঘ্রই বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। وَقَضٰى رَبُّكَ বহু অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন الْقَضَا তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন। ’ফয়সালা’ অর্থে, যেমন বলা হয়েছে- إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِيْ بَيْنَهُمْ নিশ্চয় তোমার রব তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিবেন’, এবং ’সৃষ্টি করা’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়; যেমন- فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَوٰتٍ সৃষ্টি করেছেন সাত আসমান। نَفِيْرًا দল। যারা তার সঙ্গে চলে। وَلِيُتَبِّرُوْا তাদের প্রাধান্য সম্পূর্ণ খতম করার জন্য। حَصِيْرًا বন্দীখানা। فَحَقَّ অনিবার্য হয়েছে। مَيْسُوْرًا নম্র। خِطْئًا পাপ। এটা خَطِئْتُ থেকে اسْمٌ এবং وَالْخَطَأُ (জবর সহকারে) তার মাসদার গুনাহের অর্থে। خَطِئْتُ আমি পাপ করেছি। لَنْتَخْرِقَ কখনও বিদীর্ণ করতে পারবে না। وَإِذْ هُمْ نَجْوٰى এটি نَاجَيْتُ থেকে مَصْدَرٌ এর দ্বারা তাদের (জালিমদের) অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থ পরস্পর কানাঘুষা করছে। رُفَاتًا চূর্ণ-বিচূর্ণ। وَاسْتَفْزِزْ উত্তেজিত কর। بِخَيْلِكَ তোমার অশ্বারোহী দ্বারা وَالرِّجَالُ الرَّجَّالَةُ (পদাতিক বাহিনী) এর একবচন رَاجِلٌ যেমন صَاحِبٌ এর বহুবচন صَحْبٍ এবং تَاجِرٍ এর বহুবচন حَاصِبًا،تَجْرٌ প্রবাহিত প্রচন্ড বাতাস এবং حَاصِبُ যা ঝঞঝা-বায়ু প্রবাহিত করে। এর থেকেই حَصَبُجَهَنَّمَ জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। অর্থাৎ তারা হচ্ছে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত বস্তু। حَصَبَ فِيالْأَرْضِ যমীনে চলে গেছে। الْحَصْبَاءِالْحَصْبُ থেকে গঠিত। অর্থ পাথরগুলো। تَارَةً একবার। তার বহুবচন لَأَحْتَنِكَنَّ-تَارَاتُ- وَتِيَرْةَ طَاَئِرَهُ তাদের সমূলে উৎপাটিত করব। বলা হয় احْتَنَكَ فُلَانٌ مَا عِنْدَ فُلَانٍ مِنْ عِلْمٍ অর্থাৎ অন্যের যে ইল্ম ছিল তা সে সবটুকু হাসিল করে নিয়েছে। طَائِرَهُ তার ভাগ্য। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, কুরআন মাজীদে যত জায়গায় سُلْطَانٍ শব্দ রয়েছে, তার অর্থ প্রমাণ। وَلِيٌّ مِنْ الذُّلِّ অর্থাৎ দুঃখ-দুর্দশার কারণে কারো সঙ্গে তার বন্ধুত্ব করতে পারে না। (১৫;৬)।
আল্লাহ তা’আলার বাণী, أسرى بعبده ليلا من المسجد الحرام তিনি তার বান্দাকে রজনীতে ভ্রমন করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম থেকে।
৪৩৫৩। আবদান ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বায়তুল মুকাদ্দাস সফর করানো হয়, সে রাতে তাঁর সামনে দুটি পেয়ালা পেশ করা হয়েছিল। তার একটিতে ছিল শরাব, আরেকটিতে ছিল দুধ। তিনি উভয়টির দিকে তাকালেন এবং দুধ গ্রহন করলেন। তখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বললেন, সমস্ত প্রশংসা সে আল্লাহর, যিনি আপনাকে ফিতরাতের পথ দেখিয়েছেন। যদি আপনি শরাব গ্রহন করতেন, তাহলে আপনার উম্মত অবাধ্য হয়ে যেত।
৪৩৫৪। আহমদ ইবনু সালিহ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যখন কুরাইশরা মিরাজের ঘটনায় আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে লাগলো, তখন আমি হিজরে* দাঁড়ালাম। আল্লাহ তা’আলা বায়তুল মুকাদ্দাস কে আমার সামনে উম্মুক্ত করে দিলেন। আমি তা দেখে দেখে তার সকল চিহ্ন তাদের বলে দিতে লাগলাম।
ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহিম ইবনু শিহাব সূত্রে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। যখন কুরাইশরা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে লাগল , সেই ঘটনার ব্যাপারে যখন আমাকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত সফর করানো হয়েছিল। পরবর্তী অনুরূপ। এমন যা সবকিছু চুরমার করে দেয়। আমাকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত সফর করানোর ঘটনাটি যখন কুরাইশরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে লাগল।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
* হিজর – বায়তুল্লাহ শরিফের মিযাবে রহমতের নিচে যে অংশটি পাথর দিয়ে ঘেরা তাকে হিজর বলা হয়।
আল্লাহ তা’আলার বাণী, وإذا أردنا أن نهلك قرية أمرنا مترفيها “আমি যখন কোন জনপদ ধ্বংস করতে চাই তখন তার সমৃদ্ধশালী ব্যক্তিদেরকে আদেশ করি”।
৪৩৫৬। হুমায়দি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করে বলেন, أَمِرَ (মীম কাসরাহ যুক্ত)।
আল্লাহ তা’আলার বাণী, ذرية من حملنا مع نوح إنه كان عبدا شكورا “যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম, এরা হচ্ছে তাদের বংশধর। তারা ছিল পরম কৃতজ্ঞ বান্দা”।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ وآتينا داود زبورا আর আমি দাউদকে যাবুর দান করেছি”।
হাদিস নং ৪৩৫৮সহিহ
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خُفِّفَ عَلَى دَاوُدَ الْقِرَاءَةُ، فَكَانَ يَأْمُرُ بِدَابَّتِهِ لِتُسْرَجَ، فَكَانَ يَقْرَأُ قَبْلَ أَنْ يَفْرُغَ ". يَعْنِي الْقُرْآنَ.
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৩৫৮। ইসহাক ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর উপর (যাবুর) পড়া এত সহজ করে দেওয়া হয়েছিল যে, তিনি তার সওয়ারির উপর জ্বীন বাঁধার জন্য নির্দেশ দিতেন, জ্বীন বাঁধা শেষ হওয়ার আগেই তিনি পড়ে ফেলতেন তার উপর অবতীর্ণ কিতাব।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ قل ادعوا الذين زعمتم من دونه فلا يملكون كشف الضر عنكم ولا تحويلا “বল, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর যাদের ইলাহ মনে কর, তাদের আহবান কর; তমদের দুঃখ দৈন্য দূর করার অথবা পরিবর্তন করার শক্তি ওদের নেই”।
৪৩৫৯। আমর ইবনু আলি (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত , إِلَى رَبِّهِمِ الْوَسِيلَةَ তিনি আয়াতটি সম্পর্কে বলেন, কিছু মানুষ কিছু জ্বীনকে ইবাদত করত। সেই জ্বীনেরা তো ইসলাম গ্রহন করে ফেলল। আর ঐ লোকজন তাদের (বাতিল) ধর্ম আঁকড়িয়ে রইল। আশজায়ী সুফয়ান সূত্রে আমাশ (রহঃ) থেকে قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ আয়াতটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেন।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ أولئك الذين يدعون يبتغون إلى ربهم الوسيلة “তারা যাদের আহবান করে, তারাই তো তাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান করে”।
৪৩৬০। বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمِ الْوَسِيلَةَ এ আয়াতটি সম্পর্কে বলেন, কিছু লোক জ্বীনের পূজা করত। পরে জ্বীনগুলো ইসলাম ধর্ম গ্রহন করল। তাদের সম্পর্কে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ وما جعلنا الرؤيا التي أريناك إلا فتنة للناس (হে রাসুল!) “আমি যে দৃশ্য আপনাকে দেখিয়েছি, তা কেবলমাত্র মানুষের পরীক্ষার জন্য”।
হাদিস নং ৪৩৬১সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنه ـ (وَمَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِي أَرَيْنَاكَ إِلاَّ فِتْنَةً لِلنَّاسِ) قَالَ هِيَ رُؤْيَا عَيْنٍ أُرِيَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ (وَالشَّجَرَةَ الْمَلْعُونَةَ) شَجَرَةُ الزَّقُّومِ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪৩৬১। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) وَمَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِي أَرَيْنَاكَ إِلاَّ فِتْنَةً لِلنَّاسِ এ আয়াত সম্পর্কে বলেন, এ আয়াতে رُؤْيَا (স্বপ্নে দেখা নয়, বরং) চোখ দ্বারা প্রত্যক্ষ ভাবে দেখা বোঝানো হয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিরাজের রাতে প্রত্যক্ষ ভাবে দেখানো হয়েছিল। আর এখানে الشَّجَرَةَ الْمَلْعُونَةَ (অভিশপ্ত বৃক্ষ) বলতে যাক্কুম বৃক্ষ কে বোঝানো হয়েছে।
আল্লাহ তা’আলার বাণী, إن قرآن الفجر كان مشهودا “ফজরের সালাতে কুরআন পাঠ পরিলক্ষিত হয় বিশেষ ভাবে”। মুজাহিদ (র) বলেন, الفجر দ্বারা এখানে সালাতে ফজর বুঝানো হয়েছে।
৪৩৬২। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বরনিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জামাতের সাথে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার ফজিলত একাকী পড়ার চেয়ে পঁচিশ গুন বেশি। আর প্রাতঃকালের সালাত রাতের ফেরেশতারা এবং দিনের ফেরেশতারা সমবেত হয় (এ প্রসঙ্গে) আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, তোমরা ইচ্ছা করলে এ আয়াতটি পড়ে নিতে পার -وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا (কায়েম করবে) “ফজরের সালাত, ফজরের সালাত)” পরিলক্ষিত হয় বিশেষ ভাবে”।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ عسى أن يبعثك ربك مقاما محمودا “আশা করা যায় তমার রব তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন মাকামে মাহমুদে” ।
হাদিস নং ৪৩৬৩সহিহ
حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ آدَمَ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، رضى الله عنهما يَقُولُ إِنَّ النَّاسَ يَصِيرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ جُثًا، كُلُّ أُمَّةٍ تَتْبَعُ نَبِيَّهَا، يَقُولُونَ يَا فُلاَنُ اشْفَعْ، حَتَّى تَنْتَهِيَ الشَّفَاعَةُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَلِكَ يَوْمَ يَبْعَثُهُ اللَّهُ الْمَقَامَ الْمَحْمُودَ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৩৬৩। ইসমাইল ইবনু আবান (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন লোকেরা ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। প্রত্যেক নবীর উম্মত নিজ নিজ নবীর অনুসরন করবে। তারা বলবে, হে অমুক (নবী)! আপনি সুপারিশ করুন। হে অমুক (নবী)! আপনি সুপারিশ করুন। তারা কেউ সুপারিশ করতে রাজী হবেন না। শেষ পর্যন্ত সুপারিশের দায়িত্ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর বর্তাবে। আর এ দিনেই আল্লাহ তা’আলা তাকে প্রশংসিত স্থানে* (মাকামে মাহমুদে) প্রতিষ্ঠিত করবেন।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
* মাকামে মাহমুদ অর্থ প্রশংসিত স্থান। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেই সর্বপ্রথম “শাফায়াতকারির” মর্যাদা দান করে প্রশংসিত স্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন।
হাদিস নং ৪৩৬৪সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ النِّدَاءَ اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ، حَلَّتْ لَهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ ". رَوَاهُ حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
৪৩৬৪। আলি ইবনু আইয়াশ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি আজান শোনার পর এ দোয়া পড়বে , “হে আল্লাহ! এ পরিপূর্ণ আহবানের এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতে এর প্রতিপালক, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ওসিলা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান কর। প্রতিষ্ঠিত কর তাকে মাকামে মাহমুদে, যার ওয়াদা তুমি করেছ”। কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার শাফায়াত অনিবার্য হয়ে যাবে। এ হাদিসটি হামযা ইবনু আবদুল্লাহ তার পিতার থেকে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ তা’আলার বানীঃ وقل جاء الحق وزهق الباطل إن الباطل كان زهوقا “এবং বল, সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। মিথ্যা ত বিলুপ্ত হওয়ারই”। يزهق ধ্বংস হবে।
হাদিস নং ৪৩৬৫সহিহ
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ وَحَوْلَ الْبَيْتِ سِتُّونَ وَثَلاَثُمِائَةِ نُصُبٍ فَجَعَلَ يَطْعُنُهَا بِعُودٍ فِي يَدِهِ وَيَقُولُ (جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا) (جَاءَ الْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ الْبَاطِلُ وَمَا يُعِيدُ)
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৩৬৫। হুমায়দি (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। (মক্কা বিজয়ের দিন) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করলেন। তখন কা’বা ঘরের চারপাশে তিনশ ষাটটি মূর্তি ছিল। তাঁর হাতের ছড়ি দিয়ে তিনি এগুলোকে ঠোকা দিতে লাগলেন এবং বলছিলেন, “সত্য এসেছে আর মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ারই” (৩৪ঃ ৪৯) “বল সত্য এসেছে আর অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে এবং না পারে পুনরাবৃত্তি করতে”।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ويسألونك عن الروح “তোমাকে তারা রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করছে”।
হাদিস নং ৪৩৬৬সহিহ
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ بَيْنَا أَنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي حَرْثٍ وَهْوَ مُتَّكِئٌ عَلَى عَسِيبٍ إِذْ مَرَّ الْيَهُودُ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ سَلُوهُ عَنِ الرُّوحِ، فَقَالَ مَا رَابَكُمْ إِلَيْهِ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ يَسْتَقْبِلُكُمْ بِشَىْءٍ تَكْرَهُونَهُ فَقَالُوا سَلُوهُ فَسَأَلُوهُ عَنِ الرُّوحِ فَأَمْسَكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِمْ شَيْئًا، فَعَلِمْتُ أَنَّهُ يُوحَى إِلَيْهِ، فَقُمْتُ مَقَامِي، فَلَمَّا نَزَلَ الْوَحْىُ قَالَ (وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلاَّ قَلِيلاً).
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৩৬৬। উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একটি ক্ষেতের মাঝে উপস্থিত ছিলাম। তিনি একটি খেজুর যষ্ঠীতে ভর করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমন সময় কিছু সংখ্যক ইহুদী যাচ্ছিল। তারা একে অন্যকে বলতে লাগলো, তাঁকে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন কর। কেউ বলল, কেন তাকে জিজ্ঞেস করতে চাইছ? আবার কেউ বলল, তিনি এমন উত্তর দিবেন না যা তোমরা অপছন্দ কর। তারপর তারা বলল যে, তাকে প্রশ্ন কর। এরপরে তাকে রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরত রইলেন। এ সম্পর্কে তাদের কোন উত্তর দিলেন না। আমি বুঝতে পারলাম, তার উপর ওহি নাযিল হবে। আমি আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। তারপর যখন ওহি নাযিল হল, তখন তিনি [রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন,وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلاَّ قَلِيلاً “তোমাকে তারা রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করছে। বল, রুহ আমার রবের আদেশ এবং তোমাদের সামান্য জ্ঞানই দেওয়া হয়েছে। (১৭: ৮৫)।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ولا تجهر بصلاتك ولا تخافت بها “সালাতে স্বর উঁচু করবেনা এবং অতিশয় ক্ষীণ ও করবেনা”। (১৭ঃ ১১০)।
হাদিস নং ৪৩৬৭সহিহ
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى (وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا) قَالَ نَزَلَتْ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُخْتَفٍ بِمَكَّةَ، كَانَ إِذَا صَلَّى بِأَصْحَابِهِ رَفَعَ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ فَإِذَا سَمِعَهُ الْمُشْرِكُونَ سَبُّوا الْقُرْآنَ وَمَنْ أَنْزَلَهُ، وَمَنْ جَاءَ بِهِ، فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم (وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ) أَىْ بِقِرَاءَتِكَ، فَيَسْمَعَ الْمُشْرِكُونَ، فَيَسُبُّوا الْقُرْآنَ، (وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا) عَنْ أَصْحَابِكَ فَلاَ تُسْمِعُهُمْ (وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلاً).
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪৩৬৭। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতে স্বর উঁচু করবে না এবং অতিশয় ক্ষীণও করবে না। এ আয়াত টি এমন সময় অবতীর্ণ হয় যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় অপ্রকাশ্যে অবস্থান করছিলেন। তিনি যখন তার সাহাবাদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন তখন তিনি উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করতেন। মুশরিকরা তা শুনে কুরআনকে গালি দিত। আর গালি দিত যিনি তা অবতীর্ণ করেছেন ও যিনি তা নিয়ে এসেছেন। এজন্য আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেছিলেন, “তুমি তোমার সালাতে উচ্চস্বরে কিরাত পড়বে না, যাতে মুশরিকরা শুনে কুরআনকে গালি দেয়, এবং তা এত নিম্ন স্বরেও পড়বে না, যাতে তোমার সাহাবীরা শুনতে না পায়, বরং এ দুয়ের মধ্যপথ অবলম্বন কর”।
হাদিস নং ৪৩৬৮সহিহ
حَدَّثَنِي طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ أُنْزِلَ ذَلِكَ فِي الدُّعَاءِ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৩৬৮। তালক ইবনু গাননাম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ এ আয়াতটি দোয়ার ব্যপারে অবতীর্ণ হয়েছে।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ وكان الإنسان أكثر شيء جدلا মানুষ অধিকাংশ ব্যপারেই বিতর্ক প্রিয়।
সুরা কাহাফ
মুজাহিদ (রহ.) বলেন تَقْرِضُهُمْ তাদের ছেড়ে যায়। وَكَانَ لَه ثُمُرٌ স্বর্ণ, রৌপ্য। অন্য হতে বর্ণিত যে, এটি الثَّمَرُ-এর বহুবচন। بَاخِعٌ ধ্বংসকারী أَسَفًا লজ্জায়। الْكَهْفُ পর্বতের গুহা। وَالرَّقِيْمُ লিপিবদ্ধ। مَرْقُوْمٌ লিখিত। الرَّقْمُ থেকে গঠিত। رَبَطْنَا عَلٰى قُلُوْبِهِمْ আমি তাদের অন্তরে সবর ঢেলে দিলাম। (অন্যত্র আল্লাহ্ তা’আলা বলেন) لَوْلَآ أَنْ رَّبَطْنَا عَلٰى قَلْبِهَا (যদি আমি তাঁর অন্তরে সবর ঢেলে না দিতাম) شَطَطًا সীমা অতিক্রম।
الْوَصِيْدُ আঙ্গিণা, এর বহুবচন وَصَائِدُ وَوُصُدٌ আর বলা হয় الْوَصِيْدُ দরজা, مَوْصَدَةَ আবদ্ধ ও আটকানো, آصَدَ الْبَابَ وَأَوْصَدَه উভয়ই ব্যবহার হয়। بَعَثْنَاهُمْ আমি তাদের জীবিত করলাম। أَزْكٰى প্রাচুর্য বলা হয় أَحَلُّ যা অধিক হালাল অর্থে ব্যবহৃত এবং বলা হয়, أَكْثَرُرَيْعًا অধিক পরিবর্ধিত। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, أُكْلَهَا অর্থাৎ ফল وَلَمْتَظْلِمْ ফলহ্রাস পায়নি। সা’ঈদ (রহ.) .....ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, الرَّقِيْمُ সীসার তৈরি ফলক; যার ওপর সে সময়ের রাজাদের নাম খোদিত করে এবং পরে তাঁর কোষাগারে রেখে দিত। فَضَرَبَ اللهُ عَلٰى اٰذَانِهِمْ তাঁরা ঘুমিয়ে পড়লেন। অন্যগণ বলেন, وَأَلَتْ تَئِلُ তোমরা নাজাহত পাবে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مَوْئِلًا সংরক্ষিত স্থান। لَا يَسْتَطِيْعُوْنَ سَمْعًا তারা বুঝে না।
৪৩৬৯। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা রাতের বেলা তার ও ফাতিমার (রাঃ) কাছে এসে বললেন, তোমরা কি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছনা? رَجْمًا بِالْغَيْبِ ব্যাপারটি অস্পষ্ট ছিল। فُرُطًا লজ্জিত। سُرَادِقُهَا তার বেষ্টনীর মত। অর্থাৎ ক্ষুদ্র কক্ষসমূহ, যা তাঁবু পরিবেষ্টন করে রেখেছে। يُحَاوِرُه শব্দটি مُحَاوَرَةِ থেকে গঠিত। অর্থ কথার-আদান-প্রদান। لٰكِنَّ هُوَ اللهُ رَبِّيْ (কিন্তু আল্লাহ্ই আমার প্রতিপালক।) এখানে আসলে ছিল لَكِنَّ أَنَا هُوَ اللهُ رَبِّيْ কিন্তু ’আলিফ’ বিলুপ্ত করে একটা ’নুন’ আর একটি ’নুনের’ সঙ্গে এদগাম যুক্ত করে দেয়া হয়েছে زَلَقًا অর্থ, যার ওপর পা টিকে থাকে না। هُنَالِكَ الْوِلَايَةُ (এ ক্ষেত্রে সাহায্য করার অধিকার) الْوِلَايَةُ এটি وَلِيِّ শব্দের মাসদার عُقْبَةً -عُقْبَى-عَاقِبَةً-عُقُبًا সবগুলো এই অর্থে ব্যবহৃত। এর অর্থ আখিরাত। قَبْلًا-قُبُلًا-قِبْلًا সম্মুখ لِيُدْحِضُوْا (সূচনা করা) الدَّحْضُ থেকে গঠিত। দূরীভূত করা, অর্থ পদস্খলন।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ وإذ قال موسى لفتاه لا أبرح حتى أبلغ مجمع البحرين أو أمضي حقبا স্মরণ কর যখন মুসা তার খাদেমকে বলেছিলেন, দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না পৌঁছে আমি থামব না অথবা আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব। حقبا অর্থ যুগ, তার বহুবচন أحقاب
আল্লাহর বাণীঃ “যখন তারা দুজন দুসমুদ্রের সঙ্গমস্থলে পৌঁছলেন , তারা তাদের মাছের কথা ভুলে গেলেন। আর মাছটি সুড়ঙ্গের মত পথ করে সমুদ্রে নেমে গেল। سربا চলার পথ يسرب সে চলছে। এর থেকেই বলা হয়েছে سارب بالنهار দিনে পথ অতিক্রমকারী” ।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ‘যখন তারা আরও অগ্রসর হল, মুসা তার সাথীকে বললেন, আমাদের নাস্তা আন, আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। (বলল আপনি কি লক্ষ করেছেন, আমরা যখন শিলা খণ্ডে বিশ্রাম করছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? শয়তান এ কথা বলতে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল।) মাছটি আশ্চর্যজনক ভাবে নিজের পথ করে সমুদ্রে নেমে গেল। صنعا কাজ, حولا ঘুরে যাওয়া, পরিবর্তন হওয়া । قال ذلك ما كنا نبغ فارتدا على آثارهما قصصا মুসা বললেন, আমরা তো সে স্থানটি অনুসন্ধান করছিলাম। এরপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চলল। إمرا و نكرا উভয়ের একি অর্থ, অন্যায় কাজ ينقض শব্দের অর্থ নিপতিত হবে। لتخذت واتخذت উভয়ের একই অর্থ। رحما শব্দটি رحم থেকে গঠিত। অত্যধিক দয়া ও করুনা। কারও মতে এটা رحيم থেকে গঠিত। মক্কাকে বলা হয় أم رحم যেহেতু সেখানে রহমত নাযিল হয়।
৪৩৭৩। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... মূসাআব (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে[১] জিজ্ঞেস করলাম, قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالأَخْسَرِينَ أَعْمَالاً এ আয়াতে যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা ’হারুরি’ [২] গ্রামের অধিবাসী। তিনি বললেন, না। তারা হল ইহুদি ও খ্রিষ্টান। কেননা ইহুদিরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং খ্রিষ্টানরা জান্নাতকে অস্বীকার করত এবং বলত, সেখানে কোন খাদ্য পানীয় নেই। আর হারুরিরা হচ্ছে, যারা আল্লাহর সাথে ওয়াদা করার পরও তা ভঙ্গ করে। সা’দ তাদের বলতেন ফাসিক।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
১। সা’দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস।
২। কুফার নিকটবর্তী একটি গ্রামের নাম। আলি (রাঃ) এর বিরুদ্ধে ‘খারিজী সম্প্রদায়ের’ আন্দোলন এ গ্রাম থেকেই শুরু হয়।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ তারা এমন যারা অস্বীকার করে নিজেদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী এবং তার সাথে তাদের সাক্ষাতের বিষয়। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়।
হাদিস নং ৪৩৭৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا الْمُغِيرَةُ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّهُ لَيَأْتِي الرَّجُلُ الْعَظِيمُ السَّمِينُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لاَ يَزِنُ عِنْدَ اللَّهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ وَقَالَ اقْرَءُوا (فَلاَ نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا) ". وَعَنْ يَحْيَى بْنِ بُكَيْرٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ مِثْلَهُ.
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৩৭৪। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন একজন খুব মোটা ব্যাক্তি আসবে। কিন্তু সে আল্লাহর নিকট মশার ডানার চেয়েও ক্ষুদ্র হবে। তারপর তিনি বলেন, পাঠ করো, ’কিয়ামতের দিন তাদের কাজের কোন গুরুত্ব রাখব না। ইয়াহিয়াহ ইবনু বুকায়র (রহঃ) ... আবূ যিনাদ থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত আছে।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “তাদেরকে সতর্ক করে দাও পরিতাপের দিন সম্বন্ধে”............
সুরা মরিয়ম
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, তারা আজ (দুনিয়ায়) কোন নাসীহাত শুনছে না এবং কোন নিদর্শন দেখছে না এবং তারা প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত। অথচ কিয়ামতের দিন কাফিরেরা কত স্পষ্ট শুনবে ও দেখবে। لَأَرْجُمَنَّكَ আমি অবশ্যই তোমাকে প্রস্তরাঘাতে বিচূর্ণ করে দিব। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, এর অর্থ لَأَشْتِمَنَّكَ অবশ্যই আমি তোমাকে গালি দিব। رِئِيْنًا দৃশ্য। ইবনু উয়াইনা (রহঃ) বলেন, تَوُزُّهُمْ শায়ত্বন তাদের পাপের দিকে চরমভাবে প্ররোচিত করছে। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, إِدًّا বক্রতা। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, وِرْدًا তৃষ্ণার্ত। أَثَاثًا মাল। إِدًّا কঠোর বাক্য। رِكْزًا ফিসফিস আওয়াজ। عِتِيَّا অবাধ্য। بُكِيًّا ক্রন্দনকারী একটি দল। صِلِيًّا (প্রবেশ করা)। صَلِيَ يَصْلَى এর মাসদার। نَدِيًّا এবং النَّادِيْ বৈঠকখানা।
৪৩৭৫। উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) ... আবূ সাইদ খুদরি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে একটি ধুসর রঙের মেষের আকৃতিতে আনা হবে। তখন একজন সম্বোধনকারী ডাক দিয়ে বলবেন, হে জান্নাতবাসী! তখন তারা ঘাড় মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে। সম্বোধনকারী বলবেন, তোমরা কি একে চিন? তারা বলবে, হ্যাঁ, এতো মৃত্যু। কেননা প্রত্যেকেই তাকে দেখেছে। তারপর সম্বোধনকারী আবার ডেকে বলবেন, হে জাহান্নামবাসী! জাহান্নামীরা মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে। তখন সম্বোধনকারী বলবে, তোমরা কি একে চিন? তারা বলবে, হ্যাঁ, এতো মৃত্যু। কেননা প্রত্যেকেই তাকে দেখেছে। তারপর (সেটি) যবেহ করা হবে। আর ঘোষক বলবেন, হে জান্নাতবাসী! স্থায়ী ভাবে এখানে থাক। তোমাদের আর কোন মৃত্যু নেই। আর হে জাহান্নামবাসী! চিরদিন এখানে থাক। তোমাদের আর মৃত্যু নেই। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন,أَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ “তাদের সতর্ক করে দাও পরিতাপের দিবস সম্বন্ধে যখন সকল সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে অথচ এখন তারা গাফিল, তারা অসতর্ক দুনিয়াবাসি, অবিশ্বাসী”।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “আমরা আপনার প্রতিপালকের আদেশ ব্যতীত অবতরণ করবনা (যা রয়েছে আমাদের সম্মুখে ও পেছনে)”।
হাদিস নং ৪৩৭৬সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِجِبْرِيلَ " مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَزُورَنَا أَكْثَرَ مِمَّا تَزُورُنَا فَنَزَلَتْ (وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلاَّ بِأَمْرِ رَبِّكَ لَهُ مَا بَيْنَ أَيْدِينَا وَمَا خَلْفَنَا)"
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪৩৭৬। আবূ নুয়াইম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার জিবরীলকে বললেন, আপনি আমার সঙ্গে যতবার সাক্ষাৎ করেন, তার চাইতে বেশি সাক্ষাৎ করতে আপনাকে কিসে বাধা দেয়? [১] তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল “আমরা আপনার প্রতিপালকের আদেশ ব্যতীত অবতরণ করব না (যা রয়েছে আমাদের সম্মুখে ও পেছনে)”।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
১। কিছু কালের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ওহী বন্ধ ছিল। এতে রাসুল খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে জিবরীল (আঃ) উপস্থিত হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিলম্বের কারন জিজ্ঞেস করেন।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “তুমি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দেওয়া হবেই”।
৪৩৭৭। হুমায়দি (রহঃ) ... মাসরুক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাব্বাব (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, তিনি (খাব্বাব) বলেন, আমি আস ইবনু ওয়ায়েল সাহমির নিকট গেলাম। তার কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল, তা আদায় করার জন্য। আস ইবনু ওয়ায়েল বলল, আমি তোমার প্রাপ্য তোমাকে দিব না যতক্ষন তুমি মুহাম্মদের প্রতি অবিশ্বাস না করো। [১] তখন আমি বললাম, না, এমনকি তুমি মরে গিয়ে আবার জীবিত হয়ে আসলেও তা হওয়ার নয়। আস ইবনু ওয়ায়েল বলল, আমি কি মরে যাবার পর আবার জীবিত হব? আমি বললাম, হ্যাঁ। আস ইবনু ওয়ায়েল বলল, নিশ্চয়ই তথায়ও আমার ধন সম্পদ এবং সন্তান সন্ততি থাকবে, তা থেকে আমি তোমার ঋণ পরিশোধ করব। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “তুমি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দেওয়া হবেই”।
এ হাদিসখানা সাওরী ... আ’মাশ থেকে বর্ণনা করেন।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
১। অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নাবী হিসেবে অস্বীকার করা।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ‘সেকি অদৃশ্য সম্বন্ধে অবহিত হয়েছে অথবা দয়াময়ের নিকট হতে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে? عهد অর্থ দৃঢ় প্রতিশ্রুতি।
৪৩৭৮। মুহাম্মদ ইবনু কাসির (রহঃ) ... খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কায় থাকাকালে কর্মকারের কাজ করতাম। এ সময় আস ইবনু ওয়ায়েল কে একখানা তরবারি বানিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর একদিন আমার সে (তরবারির) পাওনার তাগাদায় তার নিকট আসলাম। সে বলল, মুহাম্মদ কে অস্বীকার না করা পর্যন্ত তোমার পাওনা দেবনা। আমি বললাম, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অস্বীকার করব না। এমনকি আল্লাহ তোমাকে মৃত্যু দিবার পর তোমাকে পুনরায় জীবিত করা পর্যন্ত। সে বলল, আল্লাহ যখন আমাকে মৃত্যুর পরে আবার জীবিত করবেন, তখন আমার ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততিও থাকবে। (সেখানে তোমার পাওনা দিয়ে দিব)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেনঃ “তুমি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দেওয়া হবেই। সেকি অদৃশ্য সম্বন্ধে অবহিত হয়েছে অথবা দয়াময়ের নিকট হতে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে’? রাবি বলেন, عهد এর অর্থ দৃঢ় প্রতিশ্রুতি। আশজায়ি (রহঃ) সুফিয়ান থেকে বর্ণনার মধ্যে سَيْفًا (তরবারি) শব্দ এবং مَوْثِقًا (প্রতিশ্রুতি) শব্দ উল্লেখ করেননি।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “ কখনওই নয়, তারা যা বলে, আমি তা অনতিবলম্বে লিখে রাখব এবং তাদের শাস্তি বৃদ্ধি করতে থাকব”।
৪৩৭৯। বিশর ইবনু খলিদ (রহঃ) ... খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাহিলিয়াতের যুগে কর্মকার ছিলাম। সে সময় আস ইবনু ওয়ায়েলের কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল। আমি পাওনা তাগাদা করতে তার কাছে আসলে সে বলল, আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করবনা। যতক্ষণ না তুমি মুহাম্মদকে অস্বীকার করো। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম। আমি অস্বীকার করবনা। এমনকি আল্লাহ তোমাকে মেরে ফেলার পর আবার তোমাকে জীবিত করার পরও নয়। বলল, তাহলে তুমি আমাকে ছেড়ে দাও আমি মরে আবার জীবিত হয়ে উঠা পর্যন্ত। তখন তো আমাকে সম্পদ সন্তান দেওয়া হবে। তখন তোমাকে পরিশোধ করে দিব। এ প্রসঙ্গে আ আয়াত নাযিল হয়। “তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দেওয়া হবেই”।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ সে যে বিষয়ের কথা বলে তা থাকবে আমার অধিকারে এবং সে আমার নিকট আসবে একা। ইবন আব্বাস (রা) বলেন, الجبال هدا এর অর্থ পাহাড় গুলো চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে।
৪৩৮০। ইয়াহইয়া (রহঃ) ... খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একজন কর্মকার ছিলাম। এবং আস ইবনু ওয়ায়েল এর নিকট আমার কিছু পাওনা ছিল। আমি পাওনা তাগাদা করতে তার কাছে আসলে সে বলল, আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করবনা। যতক্ষণ না তুমি মুহাম্মদকে অস্বীকার করো। তখন তিনি বললেন, আমি কখনও তাকে অস্বীকার করবনা। এমনকি তুমি মরার মর জীবিত হওয়া পর্যন্তও না। আস বলল, আমি যখন মৃত্যুর পর আবার জীবিত হব তখন অবলম্বনে আমি সম্পদ ও সন্তানের দিকে প্রত্যাবর্তন করব এবং তোমাকে পরিশোধ করে দিব। এ সময় আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেন। “তুমি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দেওয়া হবেই। ’সেকি অদৃশ্য সম্বন্ধে অবহিত হয়েছে অথবা দয়াময়ের নিকট হতে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে? কখনোই নয়, তারা যা বলে, আমি তা অনতিবলম্বে লিখে রাখব এবং তাদের শাস্তি বৃদ্ধি করতে থাকব। সে যে বিষয়ের কথা বলে তা থাকবে আমার অধিকারে এবং সে আমার নিকট আসবে একা”।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য প্রস্তুত করে দিয়েছি”।
সুরা তাহা
قَالَ عِكْرِمَةُ وَالضَّحَّاكُ بِالنَّبَطِيَّةِ أَيْ طَهْ يَا رَجُلُ يُقَالُ كُلُّ مَا لَمْ يَنْطِقْ بِحَرْفٍ أَوْ فِيهِ تَمْتَمَةٌ أَوْ فَأْفَأَةٌ فَهِيَ عُقْدَةٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ أَلْقَى صَنَعَ أَزْرِي ظَهْرِي فَيَسْحَتَكُمْ يُهْلِكَكُمْ الْمُثْلَى تَأْنِيثُ الْأَمْثَلِ يَقُولُ بِدِينِكُمْ يُقَالُ خُذْ الْمُثْلَى خُذْ الْأَمْثَلَ ثُمَّ ائْتُوا صَفًّا يُقَالُ هَلْ أَتَيْتَ الصَّفَّ الْيَوْمَ يَعْنِي الْمُصَلَّى الَّذِي يُصَلَّى فِيهِ فَأَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خَوْفًا فَذَهَبَتْ الْوَاوُ مِنْ خِيفَةً لِكَسْرَةِ الْخَاءِ فِي جُذُوعِ أَيْ عَلَى جُذُوعِ النَّخْلِ خَطْبُكَ بَالُكَ مِسَاسَ مَصْدَرُ مَاسَّهُ مِسَاسًا لَنَنْسِفَنَّهُ لَنَذْرِيَنَّهُ قَاعًا يَعْلُوهُ الْمَاءُ وَالصَّفْصَفُ الْمُسْتَوِي مِنْ الْأَرْضِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ أَوْزَارًا أَثْقَالًا مِنْ زِينَةِ الْقَوْمِ وَهِيَ الْحُلِيُّ الَّتِي اسْتَعَارُوا مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ وَهِيَ الْأَثْقَالُ فَقَذَفْتُهَا فَأَلْقَيْتُهَا أَلْقَى صَنَعَ فَنَسِيَ مُوسَى هُمْ يَقُولُونَهُ أَخْطَأَ الرَّبَّ لَا يَرْجِعُ إِلَيْهِمْ قَوْلًا الْعِجْلُ هَمْسًا حِسُّ الْأَقْدَامِ حَشَرْتَنِي أَعْمَى عَنْ حُجَّتِي وَقَدْ كُنْتُ بَصِيرًا فِي الدُّنْيَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ بِقَبَسٍ ضَلُّوا الطَّرِيقَ وَكَانُوا شَاتِينَ فَقَالَ إِنْ لَمْ أَجِدْ عَلَيْهَا مَنْ يَهْدِي الطَّرِيقَ آتِكُمْ بِنَارٍ تُوقِدُونَ وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ أَمْثَلُهُمْ أَعْدَلُهُمْ طَرِيقَةً وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ هَضْمًا لَا يُظْلَمُ فَيُهْضَمُ مِنْ حَسَنَاتِهِ عِوَجًا وَادِيًا وَلَا أَمْتًا رَابِيَةً سِيرَتَهَا حَالَتَهَا الْأُولَى النُّهَى التُّقَى ضَنْكًا الشَّقَاءُ هَوَى شَقِيَ بِالْوَادِي الْمُقَدَّسِ الْمُبَارَكِ طُوًى اسْمُ الْوَادِي يَفْرُطُ عُقُوبَةً بِمِلْكِنَا بِأَمْرِنَا مَكَانًا سِوًى مَنْصَفٌ بَيْنَهُمْ يَبَسًا يَابِسًا عَلَى قَدَرٍ مَوْعِدٍ لَا تَنِيَا تَضْعُفَا
ইকরিমা (রহঃ) বলেন, নাবতী ভাষায় طَه এর অর্থ يَارَجُلُ হে ব্যক্তি! যে সকল ব্যক্তি কোন অক্ষর স্পষ্ট উচ্চারণ করতে পারে না অথবা ’তা’ অথবা ’ফা’ উচ্চারণে তোতলামি করে, তাকে عقده বলা হয়। أَزْرِيْ আমার পিঠ। فَيَسْحَتَكُمْ সে তোমাদেরকে ধ্বংস করে দেবে। الْمُثْلٰى এটা الْأَمْثَلِ এর স্ত্রীলিঙ্গ। বলা হয়, خُذِ الْمُثْلٰى - خُذِ الْأَمْثَلَ উত্তম পন্থা অবলম্বন করثُمَّ ااتوا صَفًّا এরপর তোমরা সারিবদ্ধ হয়ে উপস্থিত হও। বলা হয়, ’’তুমি কি আজ সারিতে এসেছ?’’ অর্থাৎ সালাতের নির্ধারিত জায়গায় যেখানে সালাত আদায় করা হয়। فَأَوْجَسَ তিনি অন্তরে গোপন করলেন। خِيْفَةً মূলে خَوْفًا ছিল। অক্ষরটি ’কাসরার’ কারণে وَاوُ টি يَاء দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে। فِيْجُذُوْعِ (খেজুর বৃক্ষের) কান্ডের উপরে। خَطْبُكَ তোমার ব্যাপার। مِسَاسَ স্পর্শ করা, শব্দটি مِسَاسًا-مَاسَّهُ এর মাসদার لَنَنْسِفَنَّهُ অবশ্যই আমি তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ছড়িয়ে দিব। قَاعًا এমন জায়গা যার ওপর দিয়ে পানি চলে যায়। الصَّفْصَفُ সমতল ভূমি। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مِنْزِيْنَةِ الْقَوْمِ অর্থাৎ সে সব অলংকার, যা তারা ফির’আউনের বংশধর হতে ধার করে এনেছিল। فَقَذَفْتُهَا আমি তা নিক্ষেপ করলাম। أَلْقٰى সে তৈরি করল। فَنَسِيَ অর্থাৎ মূসা (আঃ) ভুলে গিয়েছেন। তারা বলতে লাগল, তিনি রবকে চিনতে ভুল করেছেন। لَا يَرْجِعُ إِلَيْهِمْ অর্থাৎ গো বৎস তাদের কথার জওয়াব দিতে পারে না। هَمْسًا পদধ্বনি। حَشَرْتَنِيْ أَعْمٰى আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালে আমার প্রমাণাদি থেকে كُنْتُ بَصِيْرًا আমার তো দুনিয়ায় চক্ষু ছিল। ইবনু ’উয়াইনাই বলেন, أَمْثَلُهُمْ (জ্ঞানী ব্যক্তি) অর্থাৎ তাদের মধ্যে ন্যায় বিচারক।
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, هَضْمًا এর অর্থ অবিচার করা হবে না যাতে তার পুণ্য বিনষ্ট হয়। عِوَجًا বক্রতা, উপত্যকা أَمْتًا উঁচু ভূমি, টিলা। مِسيرَتَهَا তার অবস্থা। النُّهٰى সংযমী, পরহিজগার। ضَنْعًا দুর্ভাগ্য। هَوَى দুর্ভাগা হওয়া। الْمُقَدَّسِ বারাকাতময় طُوًى একটি উপত্যকার নাম। بِمِلْكِنَا আমাদের নির্দেশে। مَكَانًاسُوًي তাদের মধ্যবর্তী স্থান। يَبَسًا শুষ্ক। عَلٰى قَدَرٍ প্রতিশ্রুতি সময়ে لَاتَنِيَا তোমরা উভয়ে দুর্বল হয়ো না।
৪৩৮১। সালত ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আদম (আলাইহিস সালাম) ও মূসা (আলাইহিস সালাম) মিলিত হলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) আদম (আলাইহিস সালাম) কে বললেন, আপনি তো সে ব্যাক্তি মানব জাতিকে কষ্টের মধ্যে ফেলেছেন এবং তাদের জান্নাত থেকে বহিষ্কার করিয়েছেন? আদম (আলাইহিস সালাম) তাকে বললেন, আপনি তো সে ব্যাক্তি আপনাকে আল্লাহ তা’আলা তাঁর রিসালাত এর জন্য মনোনীত করে নিয়েছেন, এবং বাছাই করেছেন আপনাকে নিজের জন্য এবং আপনার উপর তাওরাত নাযিল করেছেন? মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, হ্যাঁ। আদম (আলাইহিস সালাম) বললেন, আপনি তাতে অবশ্যই পেয়েছেন যে, আমার সৃষ্টির আগেই আল্লাহ তা’আলা তা আমার জন্য লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এভাবে আদম (আলাইহিস সালাম) মূসা (আলাইহিস সালাম) এর উপর জয়ী হলেন। الْيَمُّ সমুদ্র।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “আমি অবশ্যই মুসার প্রতি ওহী নাযিল করেচ্ছিলেম এ মর্মে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রজনীতে বের হও এবং তাদের জন্য সমুদ্রের মধ্য দিয়ে এক শুকনো পথ বের করে নাও। পশ্চাৎ থেকে এসে তোমাকে ধরে ফেলা হবে এ আশংকা করোনা। এবং ভয় করোনা। তারপর ফিরাউন তাঁর সেনাবাহিনী সহ তাদের পিছনে ধাওয়া করল। আর সমুদ্র তাদের সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত করল। আর ফিরাউন তাঁর সম্প্রদায়কে পথভ্রষ্ট করেছিল এবং সৎপথ দেখায়নি”।
হাদিস নং ৪৩৮২সহিহ
حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ، وَالْيَهُودُ تَصُومُ عَاشُورَاءَ، فَسَأَلَهُمْ، فَقَالُوا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي ظَهَرَ فِيهِ مُوسَى عَلَى فِرْعَوْنَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " نَحْنُ أَوْلَى بِمُوسَى مِنْهُمْ فَصُومُوهُ ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪৩৮২। ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহিম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় এলেন, তখন ইহুদিরা আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করত। তিনি তাদের (সাওমের কারন) জিজ্ঞেস করলেন। তারা বলল, এ দিনে মূসা (আলাইহিস সালাম) ফিরাউনের উপর জয় লাভ করেছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমরাই তো তাদের চাইতে মূসা (আলাইহিস সালাম) এর নিকটবর্তী। এরপর মুসলিমদের নির্দেশ দিলেন, তোমরা এ দিন সিয়াম পালন কর।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ فلا يخرجنكما من الجنة فتشقى “সে যেন কিছুতেই তোমাদের জান্নাত থেকে বের করে না দেয়, যাতে তোমরা কষ্টে পতিত হও”।
হাদিস নং ৪৩৮৩সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ النَّجَّارِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " حَاجَّ مُوسَى آدَمَ، فَقَالَ لَهُ أَنْتَ الَّذِي أَخْرَجْتَ النَّاسَ مِنَ الْجَنَّةِ بِذَنْبِكَ وَأَشْقَيْتَهُمْ. قَالَ قَالَ آدَمُ يَا مُوسَى أَنْتَ الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِرِسَالَتِهِ وَبِكَلاَمِهِ أَتَلُومُنِي عَلَى أَمْرٍ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَىَّ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِي أَوْ قَدَّرَهُ عَلَىَّ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِي ". قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৩৮৩। কুতায়বা ইবনু সাইদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মূসা (আলাইহিস সালাম) আদম (আলাইহিস সালাম) এর সঙ্গে যুক্তি উত্থাপন করে বললেন, আপনি তো সে ব্যাক্তি, আপনার গুনাহ দ্বারা মানব জাতিকে জান্নাত থেকে বের করেছেন এবং তাদের দুঃখ কষ্টে ফেলেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আদম (আলাইহিস সালাম) বলেন, হে মূসা! আপনি তো সে ব্যাক্তি, আল্লাহ পাক আপনাকে রিসালাত এর দায়িত্ব অর্পণ করার জন্য এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য মনোনীত করেছেন। তবুও কি আপনি আমাকে এমন বিষয়ের জন্য ভৎসনা করবেন, যা আল্লাহ আমার সৃষ্টির আগেই আমার সম্পর্কে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন, অথবা বললেন, আমার সৃষ্টির পূর্বেই তা আমার সম্পর্কে নির্ধারণ করে রেখেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এ (যুক্তির মাধ্যমে) আদম (আলাইহিস সালাম) মূসা (আলাইহিস সালাম) এর উপর জয়ী হলেন।
সুরা আম্বিয়া
৪৩৮৪। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরা বনী ইসরাইল, কাহফ, মরিয়ম, তাহা এবং আম্বিয়া প্রথমে অবতীর্ণ অতি উত্তম সূরা। এগুলো আমার পুরনো রক্ষিত সম্পদ। ক্বাতাদাহ (রহঃ) বলেন, جُذَاذًا টুকরা টুকরা করা। হাসান বলেন, فِيْ فَلَكٍ (কক্ষ পথ) সূতা কাটার চরকির মত। يَسْبَحُوْنَ ঘুরছে। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, نَفَشَتْ মানে চরে খেয়েছিল। يُصْحَبُوْنَ বাধা দেয়া হবে। أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَّاحِدَةً অর্থাৎ তোমাদের দ্বীন একই দ্বীন। ইক্বরামাহ বলেন, حَصَبُ অর্থ, হাবশী ভাষায় জ্বালানি কাষ্ঠ। অন্যরা বলেন, أَحَسُّوْا তারা অনুভব করেছিল। আর এ শব্দটি أَحْسَسْتُ থেকে উদ্ভূত। خَامِدِيْنَ নির্বাপিত। حَصِيْدُ কর্তিত শস্য। শব্দটি একবচন, দ্বিচন, বহুবচনেও ব্যবহৃত হয়। لَايَسْتَحْسِرُوْنَ ক্লান্তি হয় না। এর থেকে উদ্ভূত حَسَرْتُ بَعِيْرِي-حَسِيْرٌ আমি আমার উটকে পরিশ্রান্ত করে দিয়েছি। عَمِيْقٌ দূরত্ব। نُكِّسُوْا উল্টিয়ে দেয়া হয়েছে। صَنْعَة لَبُوْسٍ অর্থাৎ বর্মাদি। تَقَطَّعُوْآ أَمْرَهُمْ তারা মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। الْجَرْسُ، الْحِسُّ، الْحَسِيْسُ، الْهَمْسُ এগুলোর একই অর্থ-মৃদু আওয়াজ। آذَنَّاكَ আমি তোমাকে জানিয়েছি। آذَنْتُكُمْ যখন তুমি তাকে জানিয়ে দিলে তখন তুমি আর সে একই পর্যায়ের। তুমি চুক্তি ভঙ্গ করবে না। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, لَعَلَّكُمْ تُسْأَلُوْنَ অর্থাৎ তোমাদের বুঝিয়ে দেয়া হবে। ارْتَضٰى সে রাজী হল। التَّمَاثِيْلُ মূর্তিসমূহ। السِّجِلُّ লিপিবদ্ধ কাগজ।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ كما بدأنا أول خلق “যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম।
৪৩৮৫। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ভাষণে বলেন, কিয়ামতের দ্বীন তোমরা আল্লাহ তা’আলার সামনে বিবস্ত্র এবং খাতনা বিহীন অবস্থায় একত্রিত হবে। (এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন)। كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ “যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব; আমার উপর এ ওয়াদা রইল; অবশ্যই আমি তা কার্যকর করব”। এরপর কিয়ামতের দ্বীন সর্বপ্রথম পোশাক পরিধান করানো হবে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) কে। জেনে রাখ। আমার উম্মতের মধ্য থেকে বহু লোককে উপস্থিত করা হবে। এরপর তাদের ধরে বাম (জাহান্নামের) দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি বলব, হে রব! এরা তো আমার সঙ্গী-সাথি (উম্মত)। এরপর বলা হবে, আপনি জানেন না আপনার পরে অরা নতুন কাজে (ইসলামের মধ্যে) (বিদআত) লিপ্ত হয়েছে। তখন আমি সে কথা বলব যেমন আল্লাহর নেক বান্দা (ঈসা আলাইহিস সালাম) বলেছিলেনঃ وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ) إِلَى قَوْلِهِ (شَهِيدٌ “যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম, ততদিন আমি ছিলাম তাদের কার্যাবলীর প্রত্যক্ষদর্শী। কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে, তখন তুমিই ছিলে তাদের কার্যাবলীর প্রত্যক্ষকারী এবং তুমিই সর্ববিষয়ে সাক্ষী”। এরপর বলা হবে, তুমি এদের থেকে চলে আসার পর এরা মুরতাদ হতে চলেছে।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ وترى الناس سكارى “এবং মানুষকে দেখবে মাতাল”।
সুরা হাজ্জ
ইবনু ’উয়াইনাহ (রহ.) বলেন, الْمُخْبِتِيْنَ বিনয়ী, শাস্তিপ্রাপ্ত। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, فِيْٓ أُمْنِيَّتِهٰ অর্থাৎ যখন তিনি কোন কথা বলেন, তখন শায়ত্বন তাঁর কথার সঙ্গে নিজের কথা মিলিয়ে দেয়। এরপর আল্লাহ্ তা’আলা শয়তানের সে মিলানো কথা মিটিয়ে দিয়ে তাঁর আয়াতকে সুদৃঢ় করেন। কেউ কেউ বলেন, أُمْنِيَّتِهٰ অর্থাৎ তার কিরাআত (পাঠ) إِلَّآ أَمَانِيَّ তাঁরা পড়তে জানতেন লিখতে জানতেন না। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, مَشِيْدٌ অর্থাৎ চুন-সুরকি দ্বারা দৃঢ় নির্মিত। অন্যরা বলেন, يَسْطُوْنَ অর্থাৎ বাড়াবাড়ি করে। এটি سَطْوَةً থেকে উদ্ভূত। বলা হয় يَسْطُوْنَ অর্থাৎ মজবুত করে ধরে। وَهُدُوْآ إِلَى الطَّيِّبِ مِنَ الْقَوْلِ অর্থাৎ তাদের অন্তরে পবিত্র বাক্য ঢেলে দেয়া হয়েছে। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, بِسَبَبٍ রজ্জু দ্বারা যা ঘরের ছাদের দিকে। تَذْهَلُ তুমি বিস্মৃত হবে।
৪৩৮৬। উমর ইবনু হাফস (রহঃ) ... আবূ সাইদ খুদরি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, হে আদম! তিনি বলবেন, হে রব! আমার সৌভাগ্য, আমি হাজির। তারপর তাকে উচ্চস্বরে ডেকে বলা হবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা তোমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমার বংশধর থেকে একদলকে বের করে জাহান্নামের দিকে নিয়ে আস। আদম (আলাইহিস সালাম) বলবেন, হে রব! জাহান্নামের দলের পরিমান কি? বলবে, প্রতি হাজার থেকে আমার ধারনা যে, বললেন, নয়শত নিরানব্বই, এ সময় গর্ভবতী মহিলা গর্ভপাত করবে, শিশুরা বৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং তুমি মানুষকে দেখেবে মাতাল; অথচ তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বস্তুত আল্লাহর শাস্তি কঠিন। (পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতটি পাঠ করলেন), এ কথা লোকদের কাছে ভয়াবহ মনে হল। এমনকি তাদের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল।
এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন তো ইয়াজুজ মাজুজ থেকে নেওয়া হবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন। আবার মানবকুলের মধ্যে তোমাদের তুলনা হবে যেমন, সাদা গরুর পার্শ্ব মধ্যে যেন একটি কালো পশম অথবা কালো গরুর পার্শ্ব মধ্যে যেন একটি সাদা পশম। আমি অবশ্য আশা রাখি যে জান্নাতবাসীদের মধ্যে তোমরাই হবে এক চতুর্থাংশ। (রাবি বলেন) আমরা সবাই খুশিতে বলে উঠলাম, আল্লাহু আকবর। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা হবে জান্নাতবাসীদের এক তৃতীয়াংশ। আমরা বলে উঠলাম, আল্লাহু আকবর। তারপর তিনি বললেন, তোমরা হবে জান্নাতবাসীদের অর্ধেক। আমরা বলে উঠলাম, আল্লাহু আকবর। আ’মাশ থেকে উসামার বর্ণনায় রয়েছে تَرَى النَّاسَ سُكَارٰى وَمَا هُمْ بِسُكَارٰى এবং তিনি (সন্দেহাতীতভাবে) বলেন, প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন। জারীর, ঈসা, ইবনু ইউনুস ও আবূ মুয়াবিয়ার বর্ণনায় سُكَرٰى এবং وَمَا هُمْ بِسُكَارٰى রয়েছে।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ومن الناس من يعبد الله على حرف “মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর ইবাদত করে দ্বিধার সাথে”। حرف অর্থ দ্বিধা। فإن أصابه خير اطمأن به وإن أصابته فتنة انقلب على وجهه خسر الدنيا والآخرة إلى قوله ذلك هو الضلال البعيد “যখন তার কল্যাণ হয় তখন তার চিত্ত প্রশান্ত হয় এবং যখন কোন বিপর্যয় ঘটে তখন সে তার পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুনিয়া ও আখিরাতে”.................. এ হল চরম বিভ্রান্তি বাক্য পর্যন্ত। أترفناهم অর্থ আমি তাদের প্রশস্ততা দান করলাম।
৪৩৮৭। ইব্রাহিম ইবনু হারিস (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ عَلَى حَرْفٍ সম্পর্কে বলেন, কোন ব্যাক্তি মদিনায় আসার পর যদি তার স্ত্রী পুত্র-সন্তান প্রসব করত এবং তার ঘোড়ায় বাচ্চা দিত, তখন বলত এ দ্বীন ভাল। আর যদি তার স্ত্রী গর্ভে পুত্র সন্তান না হত এবং তার ঘোড়াও বাচ্চা না দিত, তখন বলত এ ধর্ম খারাপ।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ هذان خصمان اختصموا في ربهم “এরা দুটি বিবাদমান পক্ষ, তারা তাদের প্রতিপালকের ব্যপারে বিতর্ক করছে”।
৪৩৮৮। হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) ... আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এ আয়াত সম্পর্কে কসম খেয়ে বলেন, এ আয়াত هَذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ (এরা দুটি বিবাদমান পক্ষ, তারা তাদের প্রতিপালকের ব্যপারে বিতর্ক করছে)। হামযা এবং তার দুই সঙ্গী, এবং উতবা ও তার দুই সঙ্গীর ব্যপারে, নাযিল হয়েছে, যেদিন তারা বদরের যুদ্ধে প্রতিপক্ষের সাথে মোকাবেলা করেছিল। সুফিয়ান আবূ হাশিম সূত্রে এবং উসমান ...... এ বক্তব্যটি আবূ মিজলাযের উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।
৪৩৮৯। হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) ... আলি ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমিই সর্বপ্রথম কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে নতজানু হয়ে নালিশ নিয়ে দাঁড়াব। কায়েস বলেন, এ ব্যপারেই هَذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, এরাই বদরের যুদ্ধে সর্বপ্রথম প্রতিপক্ষের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল। অর্থাৎ আলী, হামযা ও উবায়দা, শায়বা ইবনু রাবিয়া, উতবা ইবনু রাবিয়া এবং ওয়ালিদ ইবনু উতবা।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ والذين يرمون أزواجهم ولم يكن لهم شهداء إلا أنفسهم فشهادة أحدهم أربع شهادات بالله إنه لمن الصادقين “এবং যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ এ হবে যে, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী”।
হাদিস নং ৪৩৯০সহিহ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ عُوَيْمِرًا، أَتَى عَاصِمَ بْنَ عَدِيٍّ وَكَانَ سَيِّدَ بَنِي عَجْلاَنَ فَقَالَ كَيْفَ تَقُولُونَ فِي رَجُلٍ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً، أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَصْنَعُ سَلْ لِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَأَتَى عَاصِمٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَكَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسَائِلَ، فَسَأَلَهُ عُوَيْمِرٌ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَرِهَ الْمَسَائِلَ وَعَابَهَا، قَالَ عُوَيْمِرٌ وَاللَّهِ لاَ أَنْتَهِي حَتَّى أَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَجَاءَ عُوَيْمِرٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ رَجُلٌ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً، أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَصْنَعُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ أَنْزَلَ اللَّهُ الْقُرْآنَ فِيكَ وَفِي صَاحِبَتِكَ ". فَأَمَرَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمُلاَعَنَةِ بِمَا سَمَّى اللَّهُ فِي كِتَابِهِ، فَلاَعَنَهَا ثُمَّ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنْ حَبَسْتُهَا فَقَدْ ظَلَمْتُهَا، فَطَلَّقَهَا، فَكَانَتْ سُنَّةً لِمَنْ كَانَ بَعْدَهُمَا فِي الْمُتَلاَعِنَيْنِ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " انْظُرُوا فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَسْحَمَ أَدْعَجَ الْعَيْنَيْنِ عَظِيمَ الأَلْيَتَيْنِ خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ فَلاَ أَحْسِبُ عُوَيْمِرًا إِلاَّ قَدْ صَدَقَ عَلَيْهَا، وَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أُحَيْمِرَ كَأَنَّهُ وَحَرَةٌ فَلاَ أَحْسِبُ عُوَيْمِرًا، إِلاَّ قَدْ كَذَبَ عَلَيْهَا ". فَجَاءَتْ بِهِ عَلَى النَّعْتِ الَّذِي نَعَتَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ تَصْدِيقِ عُوَيْمِرٍ، فَكَانَ بَعْدُ يُنْسَبُ إِلَى أُمِّهِ.
বর্ণনাকারী: সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
সুরা মু’মিনীন
ইবনু ’উয়াইনাহ বলেন, سَبْعَ طَرَآئِقَ সাত আকাশ। لَهَا سَابِقُوْنَ সৌভাগ্য তাদের ওপর অগ্রগামী। قُلُوْبُهُمْ وَجِلَةٌ তাদের অন্তর সব সময় ভীত ও সন্ত্রস্ত। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, هَيْهَاتَ هَيْهَاتَ বহুদূর, বহুদূর। فَاسْأَلْ الْعَادِّيْنَ ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করুন। لَنَاكِبُوْنَ তারা (সরল পথ থেকে) বিচ্যুত। كَالِحُوْنَ বীভৎস হয়ে যাবে। مِنْ سُلَالَةٍ সন্তান। نُّطْفَةُ নির্গত বীর্য। وَالْجِنَّةُ وَالْجُنُوْنُ এ দু’টি একই অর্থে ব্যবহৃত (অর্থাৎ পাগল)। وَالْغُثَآءُ অর্থ ফেনা, যা পানির ওপরে ভাসে এবং তা কোন উপকারে আসে না।
সুরা নুর
مِنْ خِلَالِهٰ মেঘমালার মাঝ থেকে। বিদ্যুতের আলো। سَنَا بَرْقِهِ বিনীত হওয়া। مُذْعِنِيْنَ বিনীত হওয়া। বিনয়ী ব্যক্তিকে مُذْعِنٌ বলা হয়। أَشْتَاتًا (দলে দলে) شَتَاتٌ-شَتّٰى-وَ-شَتٌّ একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। সা’দ ইবনু আয়ায সুমালী বলেন, الْمِشْكَاةُ হাবশী ভাষায় ’তাক’। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, سُوْرَةٌ أَنْزَلْنَاهَا (এমন একটি সূরা) যার বর্ণনা ও ব্যাখ্যা আমি প্রদান করেছি। অন্য হতে বর্ণিত। সূরার সমষ্টিকে কুরআন নাম দেয়া হয়েছে। সূরার নামকরণ করা হয়েছে একটি অপরটি থেকে বিচ্ছিন্ন বলে। তারপর যখন পরস্পরকে একত্র করা হয়, তখন তাকে ’কুরআন’ বলা হয়। আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَه وَقُرْاٰنَهُ এর এক অংশকে অন্য অংশের সঙ্গে যুক্ত করা। فَإِذَا قَرَأْنَاه فَاتَّبِعْ قُرْاٰنَهচতারপর যখন আমি তাকে একত্র করি ও সংযুক্ত করে দেই তখন তুমি অনুসরণ করবে সে কুরআনের অর্থাৎ যা একত্রিত করা হয়েছে। আল্লাহ্ তা’আলা তোমাকে যে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন, সে কাজ করবে এবং যে কাজ থেকে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকবে। বলা হয়, لَيْسَ لِشِعْرِهٰ قُرْاٰنٌ অর্থাৎ (তার কাব্যে সামঞ্জস্য) নেই। আর কুরআনকে ফুরকান এজন্য নাম দেয়া হয়েছে যে, তা হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য করে। আর বলা হয়, স্ত্রীলোকের জন্য مَا قَرَأَتْ بِسَلًا قَطُّ অর্থাৎ তার পেটে সন্তান আসেনি। আর বলে, فَرَّضْنَا (তাশদীদ যুক্ত অবস্থায়) অর্থাৎ আমি তাতে বিভিন্ন ফরয অবতীর্ণ করেছি। আর যাঁরা فَرَّضْنَاهَا (তাশদীদবিহীন) পড়েন তিনি এর অর্থ করেন, আমি তোমাদের এবং তোমাদের পরবর্তীদের উপর ফরয করেছি। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, أَوِالطِّفْلِ الَّذِيْنَ لَمْ يَظْهَرُوْا এর অর্থ সে সব বালক যারা অল্প বয়স্ক হওয়ার কারণে নারীদের ব্যাপারে বুঝে না।
৪৩৯০। ইসহাক (রহঃ) ... সালাহ ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উয়াইমির (রাঃ) আসিম ইবনু আদির নিকট আসলেন। তিনি আজলান গোত্রের সর্দার। উয়াইমির তাকে বললেন, তোমরা ঐ ব্যাক্তি সম্পর্কে কি বল, যে তার স্ত্রীর সাথে অন্য পুরুষ দেখতে পায়। সেকি তাকে হত্যা করবে? এরপর তো তোমরা তাকেই হত্যা করবে অথবা সে কি করবে? তুমি আমার তরফ থেকে এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস কর। তারপর আসিম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ...... রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের প্রশ্ন অপছন্দ করলেন। তারপর উয়াইমির (রাঃ) তাকে প্রশ্ন করলেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের প্রশ্ন না-পছন্দ করেছেন ও দূষণীয় মনে করেছেন। তখন উয়াইমির বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি এ বিষয়টি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত বিরত হবনা।
তারপর তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কোন ব্যাক্তি তার স্ত্রীর সাথে অন্য একটি পুরুষকে দেখতে পেলে সে কি তাকে হত্যা করবে? তখন তো আপনারা তাকে (কিসাস স্বরূপ) হত্যা করে ফেলবেন। অথবা সে কি করবে? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার ও তোমার স্ত্রী সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বামী স্ত্রী দুজনকে ’লিয়ান’ করার নির্দেশ দিলেন, যেভাবে আল্লাহ তা’আলা তার কিতাবে উল্লেখ করেছেন।
তারপর উয়াইমির তার স্ত্রীর সাথে লিয়ান করলেন। এরপর বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! (এরপরও) যদি আমি তাকে রাখি তবে তার প্রতি আমি জালিম হব। তারপর তিনি তাকে তালাক দিয়ে দিলেন। অতএব, তাদের পরবর্তী লোকদের জন্য, যারা পরস্পর ’লিয়ান’ করে, এটই সুন্নতে পরিনত হল। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লক্ষ্য কর, যদি মহিলাটি একটি কালো ডাগর চক্ষু, বড় পাছা ও বড় পা বিশিষ্ট সন্তান জন্ম দেয়, তবে আমি মনে করব, উয়াইমিরই তার সম্পর্কে সত্য বলেছে। এবং যদি সে লাল গিরগিটির মত একটি লাল বর্ণের সন্তান প্রসব করে তবে আমি মনে করব, উয়াইমির তার সম্পর্কে মিথ্যা বলেছে। এরপর সে এমন একটি সন্তান প্রসব করল, যার গুনাবলি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উয়াইমির সত্যবাদী হওয়ার পক্ষে বলেছিলেন। তারপর সন্তানটিকে মায়ের দিকে সম্পৃক্ত করে পরিচয় দেওয়া হত।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ والخامسة أن لعنة الله عليه إن كان من الكاذبين “এবং পঞ্চম বারে বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহর লানত”।
হাদিস নং ৪৩৯১সহিহ
حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ أَبُو الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ رَجُلاً رَأَى مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِمَا مَا ذُكِرَ فِي الْقُرْآنِ مِنَ التَّلاَعُنِ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ قُضِيَ فِيكَ وَفِي امْرَأَتِكَ ". قَالَ فَتَلاَعَنَا، وَأَنَا شَاهِدٌ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَفَارَقَهَا فَكَانَتْ سُنَّةً أَنْ يُفَرَّقَ بَيْنَ الْمُتَلاَعِنَيْنِ وَكَانَتْ حَامِلاً، فَأَنْكَرَ حَمْلَهَا وَكَانَ ابْنُهَا يُدْعَى إِلَيْهَا، ثُمَّ جَرَتِ السُّنَّةُ فِي الْمِيرَاثِ أَنْ يَرِثَهَا، وَتَرِثَ مِنْهُ مَا فَرَضَ اللَّهُ لَهَا.
বর্ণনাকারী: সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
৪৩৯১। সুলাইমান ইবনু দাউদ (রহঃ), আবূ রবি (রহঃ) ... সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাকে বলুন তো, একজন তার স্ত্রীর সাথে এক ব্যাক্তিকে দেখতে পেল। সে কি তাকে হত্যা করবে? পরিনামে আপনারা তাকে হত্যা করবেন, অথবা সে আর কি করতে পারে? তারপর আল্লাহ তা’আলা এ দুজন সম্পর্কে আয়াত নাযিল করেন, যা কুরআন শরিফে পরস্পর লানত করা সম্পর্কে বর্ণিত। তখন তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার ও তোমার স্ত্রীর সম্পর্কে ফয়সালা হয়ে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, তারা উভয়ে পরস্পর ’লিয়ান’ করল। তখন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তারপর সে তার স্ত্রীকে পৃথক করে দিল। এরপর তা নিয়মে পরিনত হল যে, লিয়ানকারী উভয়কে পৃথক করে দেওয়া হবে। মহিলাটি গর্ভবতী ছিল। তার স্বামী তার গর্ভ অস্বীকার করল। সুতরাং সন্তানটিকে তার মায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে ডাকা হত। তারপর উত্তরাধিকার স্বত্বে এ নিয়ম চালু হল যে, সন্তান মায়ের ’মিরাস’ পাবে। আর মাতাও সন্তানের মিরাস পাবে, যা আল্লাহ তা’আলা তার ব্যপারে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ويدرأ عنها العذاب أن تشهد أربع شهادات بالله إنه لمن الكاذبين তবে স্ত্রীর শাস্তি রহিত হবে যদি সে চারবার আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামীই মিথ্যাবাদী”।
হাদিস নং ৪৩৯২সহিহ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ هِلاَلَ بْنَ أُمَيَّةَ، قَذَفَ امْرَأَتَهُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِشَرِيكِ بْنِ سَحْمَاءَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " الْبَيِّنَةَ أَوْ حَدٌّ فِي ظَهْرِكَ ". فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا رَأَى أَحَدُنَا عَلَى امْرَأَتِهِ رَجُلاً يَنْطَلِقُ يَلْتَمِسُ الْبَيِّنَةَ. فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْبَيِّنَةَ وَإِلاَّ حَدٌّ فِي ظَهْرِكَ " فَقَالَ هِلاَلٌ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنِّي لَصَادِقٌ، فَلَيُنْزِلَنَّ اللَّهُ مَا يُبَرِّئُ ظَهْرِي مِنَ الْحَدِّ، فَنَزَلَ جِبْرِيلُ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ (وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ) فَقَرَأَ حَتَّى بَلَغَ (إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ) فَانْصَرَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا فَجَاءَ هِلاَلٌ، فَشَهِدَ، وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ أَنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ فَهَلْ مِنْكُمَا تَائِبٌ ". ثُمَّ قَامَتْ فَشَهِدَتْ فَلَمَّا كَانَتْ عِنْدَ الْخَامِسَةِ وَقَّفُوهَا، وَقَالُوا إِنَّهَا مُوجِبَةٌ. قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَتَلَكَّأَتْ وَنَكَصَتْ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهَا تَرْجِعُ ثُمَّ قَالَتْ لاَ أَفْضَحُ قَوْمِي سَائِرَ الْيَوْمِ، فَمَضَتْ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَبْصِرُوهَا فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَكْحَلَ الْعَيْنَيْنِ سَابِغَ الأَلْيَتَيْنِ خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ، فَهْوَ لِشَرِيكِ بْنِ سَحْمَاءَ ". فَجَاءَتْ بِهِ كَذَلِكَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَوْلاَ مَا مَضَى مِنْ كِتَابِ اللَّهِ لَكَانَ لِي وَلَهَا شَأْنٌ ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪৩৯২। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। হিলাল ইবনু উমাইয়া রাসুলুল্লাহ এর কাছে শারিক ইবনু সাহমার সাথে তার স্ত্রীর ব্যভিচারের অভিযোগ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সাক্ষী (হাযির কর) নতুবা শাস্তি তোমার পিঠে পরবে। হিলাল বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যখন আমাদের মধ্যে কেউ তার স্ত্রীর উপর অন্য কাউকে দেখে তখন সে কি সাক্ষী তালাশ করতে যাবে? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে লাগলেন, সাক্ষী নতুবা শাস্তি তোমার পিঠে। হিলাল বললেন, শপথ সে সত্তার, যিনি আপনাকে সত্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিসেবে পাঠিয়েছেন, নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী। অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা এমন বিধান অবতীর্ণ করবেন, যা আমার পিঠকে শাস্তি থেকে মুক্ত করে দিবেন। তারপর জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এলেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নাযিল করা হলঃ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُم ... الصَّادِقِينَ “যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে” থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন, “যদি সে সত্যবাদী হয়ে থাকে” পর্যন্ত।
তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরলেন এবং তার স্ত্রীকে ডেকে আনার জন্য লোক পাঠালেন। হিলাল এসে সাক্ষী দিলেন আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, আল্লাহ তা’আলা তো জানেন যে তোমাদের দুজনের মধ্যে অবশ্যই একজন মিথ্যাবাদী। তবে কি তোমাদের মধ্যে কেউ তওবা করবে? স্ত্রী লোকটি দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিল। সে যখন পঞ্চম বারের কাছে পৌঁছল, তখন লোকেরা তাকে বাঁধা দিল এবং বলল, নিশ্চয়ই এটি তোমার উপর অবশ্যম্ভাবী। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, একথা শুনে সে দ্বিধাগ্রস্ত হল এবং ইতস্তত করতে লাগল। এমনকি আমরা মনে করতে লাগলাম যে, সে নিশ্চয়ই প্রত্যাবর্তন করবে। পরে সে বলে উঠল, আমি চিরকালের জন্য আমার বংশকে কলুষিত করব না। সে তার সাক্ষ্য পূর্ণ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর প্রতি দৃষ্টি রেখ। যদি সে কালো, ডাগর চক্ষু, বড় পাছা ও মোটা নলা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তবে ও সন্তান শারিক ইবনু সাহমার। পরে সে অনুরূপ সন্তান জন্ম দিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি এ বিষয়ে আল্লাহর কিতাব কার্যকর না হত, তাহলে অবশ্যই আমার ও তার মধ্যে কি ব্যপার যে ঘটত।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ والخامسة أن غضب الله عليها إن كان من الصادقين “এবং পঞ্চম বারে বলে, তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার নিজের উপর নেমে আসবে আল্লাহর গযব”।
হাদিস নং ৪৩৯৩সহিহ
حَدَّثَنَا مُقَدَّمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَمِّي الْقَاسِمُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، وَقَدْ سَمِعَ مِنْهُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَجُلاً، رَمَى امْرَأَتَهُ فَانْتَفَى مِنْ وَلَدِهَا فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَلاَعَنَا كَمَا قَالَ اللَّهُ، ثُمَّ قَضَى بِالْوَلَدِ لِلْمَرْأَةِ وَفَرَّقَ بَيْنَ الْمُتَلاَعِنَيْنِ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৩৯৩। মুকাদ্দাম ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে তার স্ত্রীর উপর (যেনার) অভিযোগ আনে এবং সে তার স্ত্রী সন্তানের অস্বীকার করে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়কে লিয়ান করতে আদেশ দেন। আল্লাহ তা’আলা যেভাবে বলেছেন, সেভাবে সে লিয়ান করে। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সিদ্ধান্ত দিলেন যে, সন্তানটি স্ত্রীর আর তিনি লিয়ানকারী দুজনকে পৃথক করে দিলেন।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ إن الذين جاءوا بالإفك عصبة منكم لا تحسبوه شرا لكم بل هو خير لكم لكل امرئ منهم ما اكتسب من الإثم والذي تولى كبره منهم له عذاب عظيم “যারা এ অপবাদ রচনা করেছে , তারা তো তোমাদেরই একটি দল; একে তোমরা তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করোনা; বরং এ তো তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তাদের প্রত্যেকের জন্য আছে তাদের কৃত পাপকর্মের ফল এবং তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, তার জন্য আছে কঠিন শাস্তি”। أفاك অর্থ অতি মিথ্যাবাদী।
হাদিস নং ৪৩৯৪সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها – (وَالَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ) قَالَتْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ ابْنُ سَلُولَ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৩৯৪। আবূ নুয়াইম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যে এ অপবাদের প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল, সে হল আবদুল্লাহ ইবনু উবায়। যখন তোমরা তা শ্রবন করলে, তখন কেন বললে না, এ বিষয়ে বলাবলি করা আমাদের উচিত নয়। আল্লাহ পবিত্র, এ তো এক গুরুতর অপবাদ। তারা কেন এ ব্যপারে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করেনি? যেহেতু তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, যেহেতু তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, সে কারনে তারা আল্লাহর বিধানে মিথ্যাবাদী”।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে , তোমরা যাতে লিপ্ত ছিলে তার কারনে কঠিন শাস্তি তোমাদেরকে স্পর্শ করত”। মুজাহিদ (র) বলেন, تلقونه এর অর্থ একে অপরের থেকে বর্ণনা করতে লাগল। تفيضون তোমরা বলাবলি করতে লাগলে।
৪৩৯৬। মুহাম্মদ ইবনু কাসির (রহঃ) ... আয়শা (রাঃ) এর মা উম্মে রুমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আয়শা (রাঃ) এর উপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হল তখন তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়লেন।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “যখন তোমরা মুখে মুখে এ ঘটনা ছড়াচ্ছিলে এবং এমন বিষয় মুখে উচ্চারন করছিলে যার কোন জ্ঞান তোমাদের ছিলনা এবং তোমরা একে তুচ্ছ মনে করেছিলে, যদিও আল্লাহর নিকট এটা ছিল গুরুতর বিষয়”।
৪৩৯৩। ইব্রাহিম ইবনু মূসা (রহঃ) ... ইবনু আবূ মুলায়কা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি আয়শা (রাঃ) কে ل এর জের ও ق এর পেশ দিয়ে পড়তে শুনেছি। আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “ এবং তোমরা যখন এ কথা শ্রবন করলে, তখন কেন বললে না; এ বিষয় বলাবলি করা আমাদের উচিত নয়, আল্লাহ পবিত্র ও মহান, এ তো এক গুরুতর মিথ্যা অপবাদ”।
হাদিস নং ৪৩৯৮সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ اسْتَأْذَنَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَبْلَ مَوْتِهَا عَلَى عَائِشَةَ، وَهْىَ مَغْلُوبَةٌ قَالَتْ أَخْشَى أَنْ يُثْنِيَ عَلَىَّ. فَقِيلَ ابْنُ عَمِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمِنْ وُجُوهِ الْمُسْلِمِينَ. قَالَتِ ائْذَنُوا لَهُ. فَقَالَ كَيْفَ تَجِدِينَكِ قَالَتْ بِخَيْرٍ إِنِ اتَّقَيْتُ. قَالَ فَأَنْتِ بِخَيْرٍ ـ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ـ زَوْجَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَنْكِحْ بِكْرًا غَيْرَكِ، وَنَزَلَ عُذْرُكِ مِنَ السَّمَاءِ. وَدَخَلَ ابْنُ الزُّبَيْرِ خِلاَفَهُ فَقَالَتْ دَخَلَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَأَثْنَى عَلَىَّ وَوَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ نِسْيًا مَنْسِيًّا.
বর্ণনাকারী: ইবন আবূ মুলায়কা (রহঃ)
৪৩৯৮। মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) ... ইবনু আবূ মুলায়কা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) আয়শা (রাঃ) এর ইন্তেকালের পূর্বে তার কাছে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইলেন। এ সময় তিনি (আয়শা (রাঃ) মৃত্যুশয্যায় শায়িত ছিলেন। তিনি বললেন, আমি ভয় করছি তিনি আমার কাছে এসে প্রশংসা করবেন। তখন তাঁর (আয়শা (রাঃ) এর কাছে বলা হল, তিনি হলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচাতো ভাই এবং সম্মানিত মুসলিমের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বললেন, তবে তাকে অনুমতি দাও। তিনি এসে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কাছে আপনার অবস্থা কেমন লাগছে? তিনি বললেন, আমি যদি নেক হই তবে ভালই আছি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহ চাহেতো আপনি নেকই আছেন। আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী এবং তিনি আপনাকে ছাড়া আর কোন কুমারীকে বিয়ে করেননি এবং আপনার সাফাই আসমান থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর তাঁর পিছনে ইবনু যুবায়র (রাঃ) প্রবেশ করলেন। তখন আয়শা (রাঃ) বললেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমার প্রশংসা করেছেন। কিন্তু আমি এ-ই পছন্দ করি যে, আমি লোকের স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিস্মৃত হয়ে যেতাম।
হাদিস নং ৪৩৯৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنِ الْقَاسِمِ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنه ـ اسْتَأْذَنَ عَلَى عَائِشَةَ نَحْوَهُ. وَلَمْ يَذْكُرْ نِسْيًا مَنْسِيًّا.
বর্ণনাকারী: কাসিম বিন মুহাম্মাদ (রহঃ)
৪৩৯৯। মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) ... কাসিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) আয়শা (রাঃ) এর নিকট যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইলেন। পরবর্তী অংশ উক্তি হাদিসের অনুরূপ। এতে نِسْيًا مَنْسِيًّا (স্মৃতি থেকে বিস্মৃত হয়ে যেতাম) অংশটি নেই।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ‘আল্লাহ তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন (তোমরা যদি মুমিন হও তবে) কখনও অনুরূপ আচরনের পুনরাবৃত্তি করোনা”।
৪৪০০। মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... মাসরুক (রহঃ) আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হাসান ইবনু সাবিত এসে (তাঁর ঘরে প্রবেশের) অনুমতি চাইলেন। আমি বললাম, এ লোকটিকে কি আপনি অনুমতি দিবেন? তিনি [আয়শা (রাঃ)] বললেন, তাঁর উপরে কি কঠিন শাস্তি আপতিত হয়নি? সুফিয়ান (রাঃ) বলেন, এর দ্বারা আয়শা (রাঃ) তাঁর দৃষ্টি শক্তি চলে যাওয়ার কথা উদ্দেশ্য করেছেন। হাসান ইবনু সাবিত আয়শা (রাঃ) এর প্রশংসায় নিম্নের ছন্দ দুটি পাঠ করলেন, একজন পবিত্র ও জ্ঞানী মহিলা যার চরিত্রে কোন সন্দেহ করা হয়না। সতীধর্মী মহিলাদের মাংস ভক্ষন থেকে মুক্ত অবস্থায় ভোরে ওঠে। (অর্থাৎ তিনি কারও গীবত করেন না) আয়শা (রাঃ) বললেন, কিন্তু তুমি (এ চরিত্রের নও)।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “আল্লাহ তমদের জন্য আয়াত সমূহ সুস্পষ্ট ভাবে বিবৃত করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়”।
৪৪০১। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... মাসরুক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাসসান ইবনু সাবিত আয়শা (রাঃ) এর কাছে এসে নিচের শ্লোকটি আবৃত্তি করলেন। সে একজন পবিত্র মহিলা যার চরিত্রে কোন সন্দেহ করা হয়না। সে সতীধর্মী মহিলাদের মাংস ভক্ষন থেকে মুক্ত অবস্থায় ভোরে ওঠে। আয়শা (রাঃ) বললেন, ’তুমি তো এরুপ নও’। (মাসরুক বললেন) আমি বললাম, আপনি এমন এক ব্যাক্তিকে কেন আপনার কাছে আসতে দিলেন, যার সম্পর্কে আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন। আর যে ব্যাক্তি এর বিরাট অংশ নিজের উপর নিয়েছে, তাঁর জন্য তো রয়েছে কঠিন শাস্তি। আয়শা (রাঃ) বললেন, দৃষ্টিহীনতার চেয়ে কঠোর শাস্তি আর কি হতে পারে? তিনি আরও বললেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরফ হতে জবাব দিতেন।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ وليضربن بخمرهن على جيوبهن “তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন ওড়না দ্বারা আবৃত করে”।
হাদিস নং ৪৪০২সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَافِعٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ كَانَتْ تَقُولُ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ (وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ) أَخَذْنَ أُزْرَهُنَّ فَشَقَّقْنَهَا مِنْ قِبَلِ الْحَوَاشِي فَاخْتَمَرْنَ بِهَا.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
بَاب إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ وَأَنَّ اللَّهَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ تَشِيعُ تَظْهَرُ وَقَوْلُهُ وَلَا يَأْتَلِ أُولُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَنْ يُؤْتُوا أُولِي الْقُرْبَى وَالْمَسَاكِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا أَلَا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ ’যারা মু’মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে মর্মন্তুদ শাস্তি এবং আল্লাহ্ জানেন তোমরা জান না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের কেউ অব্যাহতি পেত না। আর আল্লাহ্ দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে, তারা আত্মীয়-স্বজন ও অভাবগ্রস্তকে এবং আল্লাহর পথে যারা গৃহ ত্যাগ করেছে, তাদের কিছুই দেবে না। তারা যেন তাদের ক্ষমা করে এবং তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ্ তোমাদের ক্ষমা করেন? আর আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আবু উসামাহ ... ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমার সম্পর্কে আলোচনা চলছিল যা রটনা হয়েছে এবং আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। তখন আমার ব্যাপারে ভাষণ দিতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন। তিনি প্রথমে কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করলেন। তারপর আল্লাহর প্রতি যথাযোগ্য হাম্দ ও সানা পাঠ করলেন। এরপরে বললেন, হে মুসলিমগণ! যে সকল লোক আমার স্ত্রী সম্পর্কে অপবাদ দিয়েছে, তাদের ব্যাপারে আমাকে পরামর্শ দাও। আল্লাহর কসম! আমি আমার পরিবারের ব্যাপারে মন্দ কিছুই জানি না। তাঁরা এমন এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে, আল্লাহর কসম, তার ব্যাপারেও আমি কখনও খারাপ কিছু জানি না এবং সে কখনও আমার অনুপস্থিতিতে আমার ঘরে প্রবেশ করে না এবং আমি যখন কোন সফরে গিয়েছি সেও আমার সঙ্গে সফরে গিয়েছে।
সা’দ ইবনু উবাদা দাঁড়িয়ে বললেন, আমাকে তাদের শিরশ্ছেদ করার অনুমতি দিন। এর মধ্যে বানী খাযরাজ গোত্রের এক ব্যক্তি, যে হাসসান ইবনু সাবিতের মাতার আত্মীয় ছিল, সে দাঁড়িয়ে বলল, তুমি মিথ্যা বলেছ, জেনে রাখ, আল্লাহর কসম! যদি সে (অপবাদকারী) ব্যক্তিরা আউস্ গোত্রের হত, তাহলে তুমি শিরশ্ছেদ করতে পছন্দ করতে না। আউস ও খাযরাজের মধ্যে মসজিদেই একটা দুর্ঘটনা ঘটার অবস্থা দেখা দিল। আর আমি এ বিষয় কিছুই জানি না। সেদিন সন্ধ্যায় যখন আমি আমার প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গেলাম, তখন উম্মু মিসতাহ্ আমার সঙ্গে ছিলেন এবং তিনি হোঁচট খেয়ে বললেন, ’মিসতাহ্ ধ্বংস হোক’! আমি বললাম, হে উম্মু মিসতাহ! তুমি তোমার সন্তানকে গালি দিচ্ছ? তিনি নীরব থাকলেন।
তারপর দ্বিতীয় হোঁচট খেয়ে বললেন, ’মিসতাহ্ ধ্বংস হোক’। আমি তাকে বললাম, ’তুমি তোমার সন্তানকে গালি দিচ্ছ?’ তিনি (উম্মু মিসতাহ্) তৃতীয়বার পড়ে গিয়ে বললেন, ’মিসতাহ্ ধ্বংস হোক’। আমি এবারে তাঁকে ধমক দিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তাকে তোমার কারণেই গালি দিচ্ছি। আমি বললাম আমার ব্যাপারে? ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তখন তিনি আমার কাছে সব ঘটনা বিস্তারিত বললেন। আমি বললাম, তাই হচ্ছে নাকি? তিনি বললেন, হ্যাঁ আল্লাহর কসম! এরপর আমি আমার ঘরে ফিরে এলাম এবং যে প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলাম তা একেবারেই ভুলে গেলাম। এরপর আমি আরও অসুস্থ হয়ে পড়লাম এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম যে, আমাকে আমার পিতার বাড়িতে পাঠিয়ে দিন। তিনি একটি ছেলেকে আমার সঙ্গে দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন।
আমি যখন ঘরে প্রবেশ করলাম, তখন উম্মু রূমানকে নিচে দেখতে পেলাম এবং আবূ বকর (রাঃ) ঘরের ওপরে পড়ছিলেন। আমার আম্মা জিজ্ঞেস করলেন, হে বৎস! কিসে তোমাকে নিয়ে এসেছে? আমি তাকে সংবাদ দিলাম এবং তাঁর কাছে ঘটনা বললাম। এ ঘটনা তার ওপর তেমন প্রভাব বিস্তার করেনি, যেমন আমার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। তিনি বললেন, হে বৎস! এটাকে তুমি হাল্কাভাবে গ্রহণ কর, কেননা, এমন সুন্দরী নারী কমই আছে, যার স্বামী তাঁকে ভালবাসে আর তার সতীনরা তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয় না এবং তার বিরুদ্ধে কিছু বলে না। বস্তুত তার ওপর ঘটনাটি অতখানি প্রভাব বিস্তার করেনি যতখানি আমার উপর করেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমার আব্বা [আবূ বকর (রাঃ)] কি এ ঘটনা জেনেছেন? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও কি? তিনি জবাব দিলেন হ্যাঁ।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ ঘটনা জানেন। তখন আমি অশ্রু ঝরিয়ে কাঁদতে লাগলাম। আবূ বকর (রাঃ) আমার কান্না শুনতে পেলেন। তখন তিনি ঘরের ওপরে পড়ছিলেন। তিনি নিচে নেমে আসলেন এবং আমার আম্মাকে জিজ্ঞেস করলেন, তার কী হয়েছে? তিনি বললেন, তার সম্পর্কে যা রটেছে তা তার গোচরীভূত হয়েছে। এতে আবূ বকরের চোখের পানি ঝরতে লাগল। তিনি বললেন, হে বৎস! আমি তোমাকে কসম দিয়ে বলছি, তুমি তোমার ঘরে ফিরে যাও। আমি আমার ঘরে ফিরে এলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে আসলেন। তিনি আমার খাদিমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। সে বলল, আল্লাহর কসম, আমি এ ব্যতীত তাঁর কোন দোষ জানি না যে, তিনি ঘুমিয়ে পড়তেন এবং ছাগল এসে তাঁর খামির অথবা বললেন, গোলা আটা খেয়ে যেত। তখন কয়েকজন সাহাবী তাকে ধমক দিয়ে বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সত্য কথা বল। এমনকি তাঁরা তার নিকট ঘটনা খুলে বললেন। তখন সে বলল, সুবহান আল্লাহ্, আল্লাহর কসম! আমি তাঁর ব্যাপারে এর চেয়ে অধিক কিছু জানি না, যা একজন স্বর্ণকার তার এক টুকরা লাল খাঁটি স্বর্ণ সম্পর্কে জানে।
এ ঘটনা সে ব্যক্তির কাছেও পৌঁছল যার সম্পর্কে এ অভিযোগ উঠেছে। তখন তিনি বললেন, সুবহান আল্লাহ্! আল্লাহর কসম, আমি কখনও কোন মহিলার পর্দা খুলিনি। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, পরবর্তী সময়ে এ (অভিযুক্ত) লোকটি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ রূপে নিহত হন। তিনি বলেন, ভোর বেলায় আমার আব্বা ও আম্মা আমার কাছে এলেন। তাঁরা এতক্ষণ থাকলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত আদায় করে আমার কাছে এলেন। এ সময় আমার ডানে ও বামে আমার আব্বা আমাকে ঘিরে বসা ছিলেন। তিনি [রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আল্লাহ্ তা’আলার হামদ ও সানা পাঠ করে বললেন, হে ’আয়িশাহ! তুমি যদি কোন গুনাহর কাজ বা অন্যায় করে থাক তবে আল্লাহর কাছে তাওবা কর, কেননা, আল্লাহ্ তাঁর বান্দার তাওবা কবূল করে থাকেন। তখন জনৈকা আনসারী মহিলা দরজার কাছে বসা ছিল। আমি বললাম, আপনি কি এ মহিলাকেও লজ্জা করছেন না, এসব কিছু বলতে? তবুও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নাসীহাত করলেন। তখন আমি আমার আব্বার দিকে লক্ষ্য করে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবাব দিন। তিনি বললেন, আমি কী বলব? এরপরে আমি আম্মার দিকে লক্ষ্য করে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবাব দিন। তিনিও বললেন, আমি কী বলব? যখন তাঁরা কেউই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন জবাব দিলেন না, তখন আমি কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করে আল্লাহর যথোপযুক্ত হামদ ও সানা পাঠ করলাম।
এরপর বললাম, আল্লাহর কসম! আমি যদি বলি যে, আমি এ কাজ করিনি এবং আমি যে সত্যবাদী এ সম্পর্কে আল্লাহ্ই সাক্ষী, তবে তা আপনাদের নিকট আমার কোন উপকারে আসবে না। কেননা, এ ব্যাপারটি আপনারা পরস্পরে বলাবলি করেছেন এবং তা আপনাদের অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে গেছে। আর আমি যদি আপনাদের বলি, আমি তা করেছি অথচ আল্লাহ্ জানেন যে আমি এ কাজ করিনি, তবে আপনারা অবশ্যই বলবেন যে, সে তার নিজের দোষ নিজেই স্বীকার করেছে। আল্লাহর কসম! আমি আমার এবং আপনাদের জন্য আর কোন দৃষ্টান্ত পাচ্ছি না। তখন আমি ইয়াকূব (আলাইহিস সালাম) এর নাম স্মরণ করার চেষ্টা করলাম কিন্তু পারিনি-তাই বললাম, যখন ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর পিতার অবস্থা ব্যতীত, যখন তিনি বলেছিলেন, (তোমরা ইউসুফ সম্পর্কে যা বলছ তার প্রেক্ষিতে) পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ্ই আমার সাহায্যকারী।
ঠিক এ সময়ই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ওহী অবতীর্ণ হল। আমরা সবাই নীরব রইলাম। ওহী শেষ হলে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারায় খুশীর নমুনা দেখতে পেলাম। তিনি তাঁর কপাল থেকে ঘাম মুছতে মুছতে বলছিলেন, হে ’আয়িশাহ! তোমার জন্য খোশখবর! আল্লাহ্ তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এ সময় আমি অত্যন্ত রাগান্বিত ছিলাম। আমার আব্বা ও আম্মা বললেন, ’তুমি উঠে তাঁর কাছে যাও’, (এবং তার শুকরিয়া আদায় কর)। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি তাঁর দিকে যাব না এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করব না। আর আপনাদেরও শুকরিয়া আদায় করব না। কিন্তু আমি একমাত্র আল্লাহর প্রশংসা করব, যিনি আমার পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন।
আপনারা (অপবাদ রটনা) শুনছেন কিন্তু তা অস্বীকার করেননি এবং তার পাল্টা ব্যবস্থাও গ্রহণ করেননি। ’আয়িশাহ (রাঃ) আরও বলেন, জয়নাব বিনতে জাহাশকে আল্লাহ্ তাঁর দ্বীনদারীর কারণে তাঁকে রক্ষা করেছেন। তিনি (আমার ব্যাপারে) ভাল ব্যতীত কিছুই বলেননি। কিন্তু তার বোন হামনা ধ্বংসপ্রাপ্তদের সঙ্গে নিজেও ধ্বংস হল। যারা এই ব্যাপারে কটুক্তি করত তাদের মধ্যে ছিল মিসতাহ্, হাসসান ইবনু সাবিত এবং মুনাফিক ’আবদুল্লাহ্ ইবনু উবাই। সে-ই এ সংবাদ সংগ্রহ করে ছড়াত। আর পুরুষদের মধ্যে সে এবং হামনাই এ ব্যাপারে বিরাট ভূমিকা পালন করত।
রাবী বলেন, তখন আবূ বকর (রাঃ) কখনও মিসতাহ্কে কোন প্রকার উপকার করবেন না বলে কসম খেলেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা আয়াত অবতীর্ণ করলেন, ’’তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী অর্থাৎ (আবূ বকর) তারা যেন কসম না করে যে তারা আত্মীয়-স্বজন ও অভাবগ্রস্তকে অর্থাৎ মিসতাহ্কে কিছুই দেবে না। তোমরা কি চাও না আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করেন? এবং আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’’ আবূ বকর (রাঃ) বললেন, হাঁ আল্লাহর কসম! হে আমাদের রব! আমরা অবশ্যই এ চাই যে, আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিবেন। তারপর আবূ বকর (রাঃ) আবার মিস্তাহকে আগের মত আচরণ করতে লাগলেন।
আহমাদ ইবন শাবিব (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ্ তা’আলা প্রাথমিক যুগের মুহাজির মহিলাদের উপর রহম করুন, যখন আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত ’’তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন ওড়না দ্বারা আবৃত করে’’ নাযিল করলেন, তখন তারা নিজ চাদর ছিঁড়ে ওড়না হিসাবে ব্যবহার করল।
৪৪০২। আবূ নু’আইম (রহঃ) ... সাফিয়া বিনতে শায়বা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়শা (রাঃ) বলতেন, যখন এ আয়াত, “তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন ওড়না দ্বারা আবৃত করে” অবতীর্ণ হল তখন মুহাজির মহিলারা তাদের তহবন্দের পার্শ্ব ছিঁড়ে তা ওড়না হিসাবে ব্যবহার করতে লাগল।
হাদিস নং - ৪৭৫৭, ৪৭৫৮ ও ৪৭৫৯
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “যাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায় জাহান্নামে একত্র করা হবে, তাদেরই স্থান অতি নিকৃষ্ট এবং তারাই পথভ্রষ্ট”।
সুরা ফুরকান
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, هَبَاءً مَنْثُوْرًا যা কিছু বাতাস উড়িয়ে নেয়। مَدَّ الظِّلَّ ফজরের উদয় থেকে সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময়। سَاكِنًا উপরস্থিত। عَلَيْهِ دَلِيْلًا সূর্যোদয়। خِلْفَةً যার রাতের ’আমল ছুটে যায়, সে তা দিনে আদায় করে আর যার দিনের কাজ ছুটে যায়, সে তা রাতে আদায় করে। হাসান বলেন, هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا আল্লাহর আনুগত্যে; মু’মিনের চোখে এ ব্যতীত আর কিছু আনন্দদায়ক নয় যে, সে তার প্রিয়জনকে পায় আল্লাহর অনুগত। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, ثُبُوْرًا ধ্বংস। কেউ বলেন, السَّعِيْرُ পুংলিঙ্গ, এবং التَّسَعُّرُ ও الاضْطِرَامُ তীব্রভাবে, অগ্নি প্রজ্বলিত হওয়া। تُمْلٰى عَلَيْهِ তার প্রতি পড়া হয়। এ শব্দ أَمْلَيْتُ অথবা وَأَمْلَلْتُ থেকে নির্গত। الرَّسُّ খণি, এর বহুবচন رِسَاسٌ। مَا يَعْبَأُ যা গ্রাহ্য করা না হয়। غَرَامًا ধ্বংস। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, وَعَتَوْا তারা অবাধ্য হয়েছে। ইবনু ’উয়াইনাহ বলেন, عَاتِيَةٍ নিয়ন্ত্রণকারীর নিয়ন্ত্রণ লঙ্ঘন করেছে।
৪৪০৩। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি বলল, হে আল্লাহর নবী! কিয়ামতের দিন কাফিরদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায় একত্র করা হবে? তিনি বললেন, যিনি এ দুনিয়ায় তাকে দুপায়ের উপর ভর দিয়ে চালাতে পারছেন, তিনি কি কিয়ামতের দিন মুখে ভর দিয়ে চালাতে সক্ষম হবেন না? কাতাদা (রহঃ) বলেন, নিশ্চয়ই আমার রবের ইজ্জতের কসম।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ আর তারা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহ কে ডাকেনা। আল্লাহই যার হত্যা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারন ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করেনা এবং ব্যভিচার করেনা। যে এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে’। الثام মানে শাস্তি।
হাদিস নং ৪৪০৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي مَنْصُورٌ، وَسُلَيْمَانُ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ أَبِي مَيْسَرَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ،. قَالَ وَحَدَّثَنِي وَاصِلٌ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ سَأَلْتُ ـ أَوْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ـ أَىُّ الذَّنْبِ عِنْدَ اللَّهِ أَكْبَرُ قَالَ " أَنْ تَجْعَلَ لِلَّهِ نِدًّا وَهْوَ خَلَقَكَ ". قُلْتُ ثُمَّ أَىٌّ قَالَ " ثُمَّ أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ خَشْيَةَ أَنْ يَطْعَمَ مَعَكَ". قُلْتُ ثُمَّ أَىٌّ قَالَ " أَنْ تُزَانِيَ بِحَلِيلَةِ جَارِكَ ". قَالَ وَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ تَصْدِيقًا لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ)
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৪০৪। মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, অথবা অন্য কেউ জিজ্ঞেস করল, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন, কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যাস্ত করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম এরপর কোনটি? তিনি জবাব দিলেন, তোমার সন্তানকে এ আশংকায় হত্যা করা যে, তারা তোমার খাদ্যে অংশীদার হবে। আমি বললাম, এরপর কোনটি? এরপর হচ্ছে তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ কথার সমর্থনে এ আয়াত নাযিল হয়। “এবং তারা আল্লাহর সাথে কোন ইলাহকে ডাকেনা। আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারন ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করে না”।
৪৪০৫। ইব্রাহিম ইবনু মূসা (রহঃ) ... কাসিম ইবনু আবূ বাযযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি সাঈদ ইবনু জুবায়ির (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, যদি কেউ কোন মু’মিন ব্যাক্তিকে ইচ্ছাপূর্বক হত্যা করে; তবে কি তার জন্য তওবা আছে? আমি তাঁকে এ আয়াত পাঠ করে শোনালাম وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ “আল্লাহ্ যার হত্যা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করে না।” সাঈদ (রাঃ) বললেন, তুমি যে আয়াত আমার সামনে পাঠ করলে, আমিও এমনিভাবে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সামনে এ আয়াত পাঠ করেছিলাম। তখন তিনি বললেন, এ আয়াতটি মক্কী। সূরা নিসার মধ্যের মাদানী আয়াতটি একে রহিত করে দিয়েছে।
৪৪০৬। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু জুবায়ির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাশশার মু’মিনের হত্যার ব্যাপারে কূফাবাসী মতভেদ করতে লাগল। আমি (এ ব্যাপারে) ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে গেলাম (এবং তাঁকে এ সর্ম্পকে জিজ্ঞেস করলাম)। তখন তিনি বললেন, (মু’মিনের হত্যা সম্পর্কিত) এ আয়াত সর্বশেষে নাযিল হয়েছে। একে অন্য কিছু রহিত করেনি।
৪৪০৭। আদম (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু জুবায়ির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ (তাদের পরিণাম হচ্ছে জাহান্নাম) সম্পর্কে জিজ্ঞস করলাম। তিনি বললেন, তার জন্য তওবা নেই। এরপরে আমি আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এ আয়াত মুশরিকদের ব্যাপারে।
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ “কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে স্থায়ী হবে হীন অবস্থায়।”
৪৪০৮। সা’দ ইবনু হাফস (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু জুবায়ির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আবযা (রাঃ) বলেন, ইবনু আব্বাসকে জিজ্ঞস করা হল, আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ “কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু’মিনকে হত্যা করলে তাকে তার শাস্তি জাহান্নাম” এবং আল্লাহর এ বাণীঃ “এবং আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া, তারা তাকে হত্যা করে না” এবং “কিন্তু যারা তওবা করে” পর্যন্ত, সম্পর্কে। আমিও তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি জবাবে বললেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল তখন মক্কাবাসী বলল, আমরা আল্লাহর সঙ্গে শরীক করেছি, আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, “যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে।”… আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু ... পর্যন্ত।
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ “তারা নহে, যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে। আল্লাহ্ তাদের পাপ পরিবর্তন করে দিবেন পুণ্যের দ্বারা। আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
৪৪০৯। আবদান (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু জুবায়ির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, আমি যেন ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে এ দুটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا আমি তাকে (এ আয়াত সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, এ আয়াতকে অন্য কিছু রহিত (মানসূখ) করেনি এবং وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করলাম, তিনি [আব্বাস (রাঃ)] বললেন, এ আয়াত মুশরিকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।
৪৪১০। উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পাঁচটি ঘটনা ঘটে গেছে ধূম্রাচ্ছন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়া, রোমকদের পরাজয়, প্রবলভাবে পাকড়াও এবং ধ্বংসের। لِزَامًا অর্থ ধ্বংস।
অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ‘আমাকে লাঞ্ছিত করো না পুনরুত্থান দিবসে।’ ইব্রাহীম ইব্ন তহমান (র)………. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, কিয়ামতের দিন ইব্রাহীম (আ) তাঁর পিতাকে ধূলি-ময়লা অবস্থায় দেখতে পাবেন। এর অর্থ ধূলি-ময়লা।
হাদিস নং ৪৪১১সহিহ
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا أَخِي، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَلْقَى إِبْرَاهِيمُ أَبَاهُ فَيَقُولُ يَا رَبِّ إِنَّكَ وَعَدْتَنِي أَنْ لاَ تُخْزِنِي يَوْمَ يُبْعَثُونَ فَيَقُولُ اللَّهُ إِنِّي حَرَّمْتُ الْجَنَّةَ عَلَى الْكَافِرِينَ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
সুরা শু’আরা
وَقَالَ مُجَاهِدٌ تَعْبَثُونَ تَبْنُونَ هَضِيمٌ يَتَفَتَّتُ إِذَا مُسَّ مُسَحَّرِينَ الْمَسْحُورِينَ لَيْكَةُ وَالْأَيْكَةُ جَمْعُ أَيْكَةٍ وَهِيَ جَمْعُ شَجَرٍ يَوْمِ الظُّلَّةِ إِظْلَالُ الْعَذَابِ إِيَّاهُمْ مَوْزُونٍ مَعْلُومٍ كَالطَّوْدِ كَالْجَبَلِ وَقَالَ غَيْرُهُ لَشِرْذِمَةٌ الشِّرْذِمَةُ طَائِفَةٌ قَلِيلَةٌ فِي السَّاجِدِينَ الْمُصَلِّينَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ كَأَنَّكُمْ الرِّيعُ الْأَيْفَاعُ مِنْ الْأَرْضِ وَجَمْعُهُ رِيَعَةٌ وَأَرْيَاعٌ وَاحِدُهُ رِيعَةٌ مَصَانِعَ كُلُّ بِنَاءٍ فَهُوَ مَصْنَعَةٌ فَرِهِينَ مَرِحِينَ فَارِهِينَ بِمَعْنَاهُ وَيُقَالُ فَارِهِينَ حَاذِقِينَ تَعْثَوْا هُوَ أَشَدُّ الْفَسَادِ عَاثَ يَعِيثُ عَيْثًا الْجِبِلَّةَ الْخَلْقُ جُبِلَ خُلِقَ وَمِنْهُ جُبُلًا وَجِبِلًا وَجُبْلًا يَعْنِي الْخَلْقَ
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন تَعْبَثُوْنَ তোমরা নির্মাণ করে থাক। هَضِيْمٌ স্পর্শ করা মাত্রই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। مُسَحَّرِيْنَ জাদুগ্রস্ত। اللَّيْكَةُ ও الأَيْكَةُ أَيْكَةٍ এর বহুবচন যার অর্থ বৃক্ষে পরিপূর্ণ। يَوْمِ الظُّلَّةِ যেদিনে শাস্তি তাদের ছেয়ে ফেলবে। مَوْزُوْنٍ জ্ঞাত। كَالطَّوْدِ পর্বতের ন্যায়। অন্যরা বলেন, الَشِرْذِمَةٌ ছোট দল। فِي السَّاجِدِيْنَ সালাত আদায়কারী। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُوْنَ যেন তোমরা স্থায়ী থাকবে। الرِّيعُ যমীনের উঁচু অংশ। এর বহুবচন رِيَعَةٌ এবং أَرْيَاعٌ তার একবচন رِيْعَةٌ।مَصَانِعَ প্রত্যেক ইমারতকে مَصْنَعَةٌ বলা হয়। فَرِهِيْنَ অহংকারীরা। فَرِهِينَ مَرِحِينَ فَارِهِينَ একই অর্থের। فَارِهِيْنَ বলা হয় দক্ষদের। تَعْثَوْا ভয়ঙ্কর ফ্যাসাদ। এটি يَا দ্বারাও ব্যবহৃত হয়। যথাعَاثَ يَعِيْثُ عَيْثًا। الْجِبِلَّةَ সৃষ্টি جُبِلَ এর অর্থ-সৃষ্টি করা হয়েছে। جُبُلًا وَجِبِلًا وَجُبْلًا সবগুলোর অর্থ সৃষ্টি।
৪৪১১। ইসমাঈল (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (হাশরের ময়দানে ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) তাঁর পিতার সাক্ষাৎ পেয়ে (তাকে এ অবস্থায় দেখে) বলবেন, ইয়া রব! আপনি আমার সাথে ওয়াদা করেছেন যে, কিয়ামতের দিন আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না। আল্লাহ্ তা’আলা বলবেন, আমি কাফেরদের উপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছি।
৪৪১২। উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ অবতীর্ণ হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা (পর্বতে) আরোহণ করলেন এবং ডাকতে লাগলেন, হে বনী ফিহর! হে বনী আদী! কুরাইশদের বিভিন্ন গোত্রকে। অবশেষে তারা একত্রিত হল। যে নিজে আসতে পারল না, সে তার প্রতিনিধি পাঠাল, যাতে দেখতে পায়, ব্যাপার কী? সেখানে আবূ লাহাব ও কুরাইশগণও আসল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বল তো, আমি যদি তোমাদের বলি যে, শত্রুসৈন্য উপত্যকায় এসে পড়েছে, তারা তোমাদের উপর অতর্কিতে আক্রমণ করতে উদ্যত, তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে? তারা বলল, হাঁ আমরা আপনাকে সর্বদা সত্য পেয়েছি। তখন তিনি বললেন, “আমি তোমাদের সম্মুখে কঠিন শাস্তির ভয় প্রদর্শন করছি।” আবূ লাহাব (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে) বলল, সারাদিন তোমার উপর ধ্বংস আসুক! এজন্যই কি তুমি আমাদের একত্র করেছ? তখন নাযিল হয়, “ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দু-হস্ত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। তার ধন-সস্পদ ও তার উপার্জন তার কোন কাজে আসেনি।”
৪৪১৩। আবূল ইয়ামান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ (তোমার নিকটের আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও) এ আয়াত অবতীর্ণ হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে কুরাইশ সম্প্রদায়! অথবা অনুরূপ বাক্য, নিজেদের কিনে নাও। আমি আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষার ব্যাপারে তোমাদের কোন উপকারে আসব না। হে বনী আবদ মানাফ! আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষার ব্যাপারে আমি তোমাদের কোন উপকারে আসব না। হে আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব! আমি আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষার ব্যাপারে তোমার কোনই উপকারে আসব না। হে আল্লাহর রাসূল এর ফুফু সুফিয়া! আমি তোমার নাজাতের ব্যাপারে কোনই উপকার করতে পারব না। হে মুহাম্মদ এর কন্যা ফাতিমা! আমার ধন-সম্পদ থেকে যা চাও নিয়ে যাও, কিন্তু আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষার ব্যাপারে আমি তোমার কোনই উপকারে আসব না।
আসবাগ (রহঃ) ... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ "তুমি যাকে ভালবাস ইচ্ছা করলেই তাকে সৎপথে আনতে পারবে না, তবে আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন"
সুরা আন্কাবুত
মুজাহিদ বলেছেন, وَكَانُوْا مُسْتَبْصِرِيْنَ অর্থাৎ পথহারা। অন্যরা বলেছেন, الْحَيَوَانُ এবং الْحَيُّ শব্দ দু’টি একই। فَلَيَعْلَمَنَّ اللهُ আল্লাহ্ আগে থেকেই তা জানতেন। এখানে ব্যবহৃত হয়েছে فَلِيَمِيْزَاللهُ (যেন আল্লাহ্ তা’আলা চিহ্নিত করেন)-এর অর্থে। যেমন, আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ لِيَمِيْزَ اللهُ الْخَبِيْثَ مِنَالطَّيِّبِ أَثْقَالًا مَّعَ أَثْقَالِهِمْ (যেন আল্লাহ্ তা’আলা খবীছকে ভাল থেকে পৃথক করেন) অর্থাৎ তাদের অপরাধের সাথে।
সুরা রূম
فَلَا يَرْبُوْ অর্থাৎ যে এ আশায় দান করে যে, এর চেয়ে উত্তম বিনিময় পাবে, এতে কোন সওয়াব নেই। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, يُحْبَرُوْنَ তারা নিয়ামত প্রাপ্ত হবে। يَمْهَدُوْنَ তাদের আরাম আয়েশের জায়গা প্রস্তুত করবে। الْوَدْقُ বৃষ্টি। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, هَلْ لَّكُمْ مِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ এ আয়াত ইলাহ সম্পর্কে। تَخَافُوْنَهُمْ তোমরা কি পছন্দ কর যে, তোমাদের দাস-দাসী তোমাদের অংশীদার হোক, যেমন তোমরা পরস্পরের উত্তরাধিকার হও। يَصَّدَّعُوْنَ পৃথক পৃথক হয়ে যাবে। فَاصْدَعْ স্পষ্ট বর্ণনা কর। ইবনু ’আব্বাস ব্যতীত অন্যে বলেন, ضُعْفٌ এবং ضَعْفٌ উভয়ের অর্থ একই। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, السُّوأَى অপরাধীকে যথাযোগ্য শাস্তি দেয়া।
৪৪১৬। মুহাম্মাদ ইবনু কাসীর (রহঃ) ... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি কিন্দাবাসীদের সামনে বলছিল, কিয়ামতের দিন ধোঁয়া আসবে এবং মুনাফিকদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দেবে। এ কথা শুনে আমরা ভীত হয়ে পড়লাম। এরপর এবং আমি ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর নিকট এলাম। তখন তিনি তাকিয়ায় ঠেস লাগিয়ে বসেছিলেন। (এ সব ঘটনা শুনে তিনি রাগান্বিত হয়ে উঠে বসলেন এবং বললেন, যার জানা আছে সে যেন তা বলে, আর যে না জানে সে যেন বলে, আল্লাহ্ তা’আলাই ভাল জানেন। জ্ঞানের মধ্যে এটাও একটা জ্ঞান যে, যার যে বিষয় জানা নেই সে বলবে “আমি এ বিষয়ে জানিনা।”
আল্লাহ্ তা’আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেছেন, হে নবী! আপনি বলুন, “আমি আল্লাহর দ্বীনের দিকে আহবানের জন্য তোমাদের নিকট কোন বিনিময় চাই না এবং যারা মিথ্যা দাবি করে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই। কুরাইশগণ ইসলাম গ্রহণে দেরী করতে লাগল, সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য বদদোয়া করেন। “হে আল্লাহ্! আপনি তাদের উপর ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর ন্যায় সাত বছর (দুর্ভিক্ষ) দিয়ে আমাকে সাহায্য করুন।” তারপর তারা এমন ভীষণ দুর্ভিক্ষের মধ্যে পতিত হল যে, তারা তাতে ধ্বংস হয়ে গেল এবং মৃত জন্তু ও তার হাড় খেতে বাধ্য হল। তারা (দুর্ভিক্ষের দরুন) আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে ধোঁয়ার মত দেখতে পেল। তারপর আবূ সুফিয়ান তাঁর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! তুমি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ও তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছ; অথচ তোমার গোত্রের লোকেরা এখন ধ্বংস হয়ে গেল। সুতরাং আমাদের (এ দুর্ভিক্ষ থেকে) বাঁচার জন্য দোয়া কর।
তখন তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ) إِلَى قَوْلِهِ (عَائِدُونَ “অতএব, তুমি অপেক্ষা কর সেদিনের, যেদিন স্পষ্ট ধুম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ।” তোমরা তো তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে। অবশেষে দুর্ভিক্ষের অবসান হল কিন্তু তারা কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করলো। তখন আল্লাহ্ তা’আলা এদের উদ্দেশ্যেই নাযিল করলেন, যেদিন আমি তোমাদের প্রবলভাবে পাকড়াও করব। الْبَطْشَةَ এবং لِزَامًا দ্বারা বদরের যুদ্ধ বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আলিফ, লাম, মীম। রোমকগণ পরাজিত হয়েছে। এবং পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে। রোমকগণের ঘটনা অতিবাহিত হয়ে গেছে।
আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ "আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনই পরিবর্তন নেই" خلق الله আল্লাহর সৃষ্টি এর অর্থ আল্লাহর দ্বীন। যেমন خلق الأولين অর্থাৎ دين الأولين পূর্ববর্তীদের দ্বীন। الفطرة ইসলাম
হাদিস নং ৪৪১৭সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ مَوْلُودٍ إِلاَّ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ، فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ أَوْ يُمَجِّسَانِهِ، كَمَا تُنْتَجُ الْبَهِيمَةُ بَهِيمَةً جَمْعَاءَ، هَلْ تُحِسُّونَ فِيهَا مِنْ جَدْعَاءَ " ثُمَّ يَقُولُ (فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لاَ تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ)
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৪১৭। আবদান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সকল মানব শিশুই ফিতরাত (ইসলাম) এর ওপর জন্ম গ্রহণ করে। তারপর তার পিতা ও মাতা তাকে ইহুদী, নাসারা অথবা অগ্নি উপাসক বানিয়ে দেয়। যেমন জানোয়ার পূর্ণ বাচ্চার জন্ম দেয়। তোমরা কি তার মধ্যে কোন ত্রুটি পাও? পরে তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন। (আল্লাহর প্রকৃতির অনুসরণ কর) যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এ-ই সরল দ্বীন।
আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ لا تشرك بالله إن الشرك لظلم عظيم "আল্লাহর কোন শরীক করো না, নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম"
হাদিস নং ৪৪১৮সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ (الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ) شَقَّ ذَلِكَ عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالُوا أَيُّنَا لَمْ يَلْبِسْ إِيمَانَهُ بِظُلْمٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهُ لَيْسَ بِذَاكَ، أَلاَ تَسْمَعُ إِلَى قَوْلِ لُقْمَانَ لاِبْنِهِ (إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ)"
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
সূরা লুকমান
৪৪১৮। কুতায়বা ইবনু সা’দ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হল (আল্লাহর বাণী): যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি। এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবাদের উপর খুবই কঠিন (ভারী) মনে হল। তখন তাঁরা বললেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে, তারা তাদের ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ আয়াত দ্বারা এ অর্থ বোঝানো হয়নি। তোমরা লুকমানের বাণী, যা তিনি তাঁর পুত্রকে সম্ভোধন করে বলেছিলেন, إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ শির্ক করা বড় জুলুম, তা কি শোননি?
আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ "নিশ্চয়ই আল্লাহ্, তারই কাছে রয়েছে কিয়ামতের জ্ঞান (অর্থাৎ কখন ঘটবে)
৪৪১৯। ইসহাক (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সাথে বসেছিলেন। এক ব্যাক্তি তাঁর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঈমান কী? তিনি বললেন, “আল্লাহতে ঈমান আনবে এবং তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর নবী ও রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনবে এবং (কিয়ামতে) আল্লাহর দর্শন লাভ ও পুনরুত্থানের ওপর ঈমান আনবে।” লোকটি জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইসলাম কী? তিনি বললেন, ইসলাম (হল) আল্লাহর ইবাদত করবে ও তার সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক সাব্যস্ত করবে না এবং সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করবে, ফরয যাকাত দিবে ও রমযানের সিয়াম পালন করবে। লোকটি জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইহ্সান কী? তিনি বললেন, ইহ্সান হচ্ছে আল্লাহর ইবাদত এমন একাগ্রতার সাথে করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে (মনে করবে) আল্লাহ্ তোমাকে দেখছেন।
লোকটি আরও জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলল্লাহ! কখন কিয়ামত সংঘটিত হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চাইতে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, সে বেশি জানে না। তবে আমি তোমার কাছে এর (কিয়ামতের) কতগুলো লক্ষণ বলছি। তা হল, যখন দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে, এটা তার (কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার) একটি নিদর্শন। আর যখন দেখবে, নগ্নপদ ও নগ্নদেহ লোকেরা মানুষের নেতা হবে, এও তার একটি লক্ষণ। এটি ঐ পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ জানেন নাঃ
(১) ’কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই রয়েছে। (২) তিনই বৃষ্টি বর্ষণ করান, (৩) তাঁরই জ্ঞানে রয়েছে, মাতৃগর্ভে কি আছে। এরপর লোকটি চলে গেল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে আমার নিকট ফিরিয়ে আন। সাহাবাগণ তাঁকে ফিরিয়ে আনতে গেলেন, কিন্তু কিছুই দেখতে পাননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তিনি জিবরীল, লোকদের তাদের দ্বীন শিক্ষা দেয়ার জন্য এসেছিলেন।
হাদিস নং ৪৪২০সহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " مَفَاتِيحُ الْغَيْبِ خَمْسٌ " ثُمَّ قَرَأَ (إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ).
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৪২০। ইয়াহ্ইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গায়েবের চাবি পাঁচটি। এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেনঃ কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহ্ তা’আলারই রয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ فلا تعلم نفس ما أخفي لهم "কেউ ই জানে না, তাদের জন্য কি লুকায়িত রয়েছে।"
সুরা সাজ্দা
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, مَهِيْنٍ দুর্বল অর্থাৎ পুরুষের বীর্য। ضَلَلْنَا আমরা ধ্বংস হয়েছি। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْجُرُزُ ঐ মাটি যেখানে এত অল্প বৃষ্টি হয়, যাতে তা কোন উপকারে আসে না। نَهْدِ তাকে সঠিক পথ বলে দিয়েছি।
৪৪২১। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব সামগ্রী তৈরী করে রেখেছি, যা কোন নয়ন দর্শন করেনি, কোন কর্ণ শ্রবণ করেনি এবং কোন অন্তকরণের চিন্তায় আসেনি। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, তোমরা চাইলে (প্রমাণ স্বরূপ) এ আয়াত তিলাওয়াত করঃ কেউ জানেনা তাদের জন্য নয়ন শীতলকারী কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে।
সুফিয়ান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, পরবর্তী অংশ পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ। আবূ সুফিয়ান (রাঃ) এর কাছে জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কি এ হাদিস রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, তা নয়তো কি? আবূ মু’আবীয়া (রহঃ) আবূ সালিহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ হুরায়রা (রাঃ)قُرَّاتِ “আলিফ” এবং লম্বা ’তা’ সহ পাঠ করেছিলেন।
হাদিস নং ৪৪২২সহিহ
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِينَ مَا لاَ عَيْنٌ رَأَتْ، وَلاَ أُذُنٌ سَمِعَتْ، وَلاَ خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ، ذُخْرًا، بَلْهَ مَا أُطْلِعْتُمْ عَلَيْهِ ". ثُمَّ قَرَأَ (فَلاَ تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ)
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৪২২। ইসহাক ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব জিনিস তৈরি করে রেখেছি, সঞ্চিতরুপে যা কোন নয়ন দর্শন করেনি, কোন কর্ণ শ্রবণ করেনি এবং কোন ব্যাক্তির মনেও তার কল্পনা সৃষ্টি হয়নি। আর যা তোমাদের অবহিত করা হয়েছে, তা ছাড়া। তারপর এ আয়াত পাঠ করলেন, কেউ জানেনা তাদের জন্য নয়ন শীতলকারী কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে, তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ।
পরিচ্ছেদ নাই
হাদিস নং ৪৪২৩সহিহ
حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا مِنْ مُؤْمِنٍ إِلاَّ وَأَنَا أَوْلَى النَّاسِ بِهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ (النَّبِيُّ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ) فَأَيُّمَا مُؤْمِنٍ تَرَكَ مَالاً فَلْيَرِثْهُ عَصَبَتُهُ مَنْ كَانُوا، فَإِنْ تَرَكَ دَيْنًا أَوْ ضِيَاعًا فَلْيَأْتِنِي وَأَنَا مَوْلاَهُ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
সুরা আহযাব
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, صَيَاصِيْهِمْ তাদের মহল।
৪৪২৩। ইব্রাহীম ইবনুল মুনযির (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুনিয়া ও আখিরাতে সকল মু’মিনের জন্য আমিই ঘনিষ্ঠতম। তোমরা ইচ্ছা করলে এ আয়াত পাঠ করতে পার। “নবী মু’মিনদের নিকট তাদের নিজেদের চাইতে বেশি ঘনিষ্ঠ।” সুতরাং কোন মু’মিন কোন মাল-সম্পদ রেখে গেলে তার নিকটআত্মীয় সে যে-ই হোক, হবে তার উত্তরাধিকারী, আর যদি ঋণ অথবা অসহায় সন্তানাদি রেখে যায় সে যেন আমার কাছে আসে, আমি তার অভিভাবক।
حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي سَالِمٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا كُنَّا نَدْعُوهُ إِلاَّ زَيْدَ ابْنَ مُحَمَّدٍ حَتَّى نَزَلَ الْقُرْآنُ (ادْعُوهُمْ لآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ).
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৪২৪। মুয়াল্লা ইবনু আসাদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আযাদকৃত গোলাম যায়িদ ইবনু হারিসাকে আমরা “যায়িদ ইবনু মুহাম্মদ-ই” ডাকতাম, যে পর্যন্ত না এ আয়াত নাযিল হয়। "তোমরা তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক, আল্লাহর দৃষ্টিতে এটিই অধিক ন্যায়সংগত।"
আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ فمنهم من قضى نحبه ومنهم من ينتظر وما بدلوا تبديلا "তাদের কেউ কেউ তার অঙ্গীকার পূরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে তারা তাতে কোন পরিবর্তন করেনি"। نحبه তার অঙ্গীকার أقطارها তার পার্শ্বসমূহ الفتنة لآتوها তারা তা গ্রহন করত
৪৪২৫। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এ আয়াত আনাস ইবনু নাযর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। “মু’মিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে।”
হাদিস নং ৪৪২৬সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي خَارِجَةُ بْنُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، قَالَ لَمَّا نَسَخْنَا الصُّحُفَ فِي الْمَصَاحِفِ فَقَدْتُ آيَةً مِنْ سُورَةِ الأَحْزَابِ، كُنْتُ أَسْمَعُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَؤُهَا، لَمْ أَجِدْهَا مَعَ أَحَدٍ إِلاَّ مَعَ خُزَيْمَةَ الأَنْصَارِيِّ، الَّذِي جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَهَادَتَهُ شَهَادَةَ رَجُلَيْنِ (مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ)
বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)
৪৪২৬। আবূল ইয়ামান (রহঃ) ... যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন সহীফা থেকে কুরআন লিপিবদ্ধ করছিলাম তখন সূরা আহযাবের একটি আয়াত অবিদ্যমান পেলাম, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (অধিক পরিমাণ) তিলওয়াত করতে শুনেছি। (অবশেষে) সেটি খুযায়মা আনসারী ব্যতীত অন্য কারও কাছে পেলাম না; যার সাক্ষী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’জন পুরুষ সাক্ষীর সমান গণ্য করেছেন। (আয়াতটি হল) مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ قل لأزواجك إن كنتن تردن الحياة الدنيا وزينتها فتعالين أمتعكن وأسرحكن سراحا جميلا "হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুনঃ তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর তবে আস আমি তোমাদের ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় দেই।" التبرج আপন সৌন্দর্য প্রকাশ করা। سنة الله যে নীতি আল্লাহ্ নির্ধারণ করেছেন।
হাদিস নং ৪৪২৭সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عَائِشَةَ، رضى الله عنها زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَهَا حِينَ أَمَرَ اللَّهُ أَنْ يُخَيِّرَ أَزْوَاجَهُ، فَبَدَأَ بِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنِّي ذَاكِرٌ لَكِ أَمْرًا فَلاَ عَلَيْكِ أَنْ تَسْتَعْجِلِي حَتَّى تَسْتَأْمِرِي أَبَوَيْكِ "، وَقَدْ عَلِمَ أَنَّ أَبَوَىَّ لَمْ يَكُونَا يَأْمُرَانِي بِفِرَاقِهِ، قَالَتْ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ قَالَ (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ) ". إِلَى تَمَامِ الآيَتَيْنِ فَقُلْتُ لَهُ فَفِي أَىِّ هَذَا أَسْتَأْمِرُ أَبَوَىَّ فَإِنِّي أُرِيدُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৪২৭। আবূল ইয়ামান (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে এলেন, যখন আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর সহধর্মিণীগণের ইখতিয়ার দেয়ার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম আমাকে দিয়ে শুরু করলেন এবং বললেন, আমি তোমার কাছে একটি কথা উল্লেখ করছি। তাড়াহুড়ো না করে তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ করে উত্তর দেবে। তিনি এ কথা ভালভাবেই জানতেন যে, আমার আব্বা-আম্মা তাঁর (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরামর্শ কখনও দিবেন না। আয়িশা (রাঃ) বলেন, (আমাকে এ কথা বলার পর) তিনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ্ বলছেন, “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন। তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর......। তখন আমি তাঁকে বললাম, তাতে আমার আব্বা-আম্মা থেকে পরামর্শ নেবার কী আছে? আমি তো আল্লাহ্, তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের জীবনই চাই।
আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ وتخفي في نفسك ما الله مبديه وتخشى الناس والله أحق أن تخشاه তুমি তোমার অন্তরে যা গোপন কর, আল্লাহ্ তা প্রকাশ করে দিচ্ছেন। তুমি লোকভয় করছিলে অথচ আল্লাহকেই ভয় করা তোমার পক্ষে অধিকতর সঙ্গত।
بَاب قَوْلُهُ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا وَقَالَ مَعْمَرٌ التَّبَرُّجُ أَنْ تُخْرِجَ مَحَاسِنَهَا سُنَّةَ اللَّهِ اسْتَنَّهَا جَعَلَهَا
অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আর যদি তোমরা আল্লাহ্ তার রাসুল ও আখিরাতের জীবন কামনা কর, তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল আল্লাহ্ তাদের মধ্যে মহা প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।
কাতাদাহ (রহঃ) বলেন, وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلٰى فِيْ بُيُوْتِكُنَّ مِنْ اٰيٰتِ اللهِ وَالْحِكْمَةِ এর মধ্যে اٰيٰتِ দ্বারা সুন্নাত ও হিকমত বোঝানো হয়েছে।
লাইস (রহঃ) ... আয়শা (রাঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সহধর্মিণীদের ব্যাপারে দু’টি পন্থার একটি পন্থা বেছে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হল, তখন তিনি প্রথমে আমাকে বললেন, তোমাকে একটি বিষয় সম্পর্কে বলব। তাড়াহুড়ো না করে তুমি তোমার আব্বা ও আম্মার সঙ্গে পরামর্শ করে নিবে। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি অবশ্যই জানতেন, আমার আব্বা-আম্মা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা বলবেন না। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেনঃ وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللهَ وَرَسُوْلَه” وَالدَّارَ الْاٰخِرَةَ فَإِنَّ اللهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنٰتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيْمًا ’’হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর.....মহা প্রতিদান পর্যন্ত। ’আয়িশা (রাঃ) বলেন, এ ব্যাপারে আমার আব্বা-আম্মার সঙ্গে পরামর্শের কী আছে? আমি তো আল্লাহ্, তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের জীবন কামনা করি। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যান্য সহধর্মিণী আমার অনুরূপ জবাব দিলেন।
৪৪২৮। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহীম (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ আয়াতটি,وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ “(তুমি তোমার অন্তরে যা গোপন করছ, আল্লাহ্ তা প্রকাশ করে দিচ্ছেন।)” জয়নব বিনতে জাহ্শ এবং যায়িদ ইবনু হারিসা সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ ترجئ من تشاء منهن وتؤوي إليك من تشاء ومن ابتغيت ممن عزلت فلا جناح عليك "তুমি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তোমার কাছ থেকে দূরে রাখতে পার এবং যাকে ইচ্ছা তোমার কাছে স্থান দিতে পার। আর তুমি যাকে দূরে রেখেছ, তাকে কামনা করলে তোমার কোন অপরাধ নেই। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন ترجئ দূরে রাখতে পার। أرجئه তাকে দূরে সরিয়ে দাও, অবকাশ দাও।
হাদিস নং ৪৪২৯সহিহ
حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ هِشَامٌ حَدَّثَنَا عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كُنْتُ أَغَارُ عَلَى اللاَّتِي وَهَبْنَ أَنْفُسَهُنَّ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَقُولُ أَتَهَبُ الْمَرْأَةُ نَفْسَهَا فَلَمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى (تُرْجِئُ مَنْ تَشَاءُ مِنْهُنَّ وَتُؤْوِي إِلَيْكَ مَنْ تَشَاءُ وَمَنِ ابْتَغَيْتَ مِمَّنْ عَزَلْتَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكَ) قُلْتُ مَا أُرَى رَبَّكَ إِلاَّ يُسَارِعُ فِي هَوَاكَ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৪২৯। যাকারিয়া ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যেসব মহিলা নিজকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে হেবাস্বরূপ ন্যাস্ত করে দেন, তাদের আমি ঘৃণা করতাম। আমি (মনে মনে) বলতাম, মহিলারা কি নিজেকে অর্পণ করতে পারে? এরপর যখন আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ “আপনি তাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা আপনার কাছ থেকে দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট স্থান দিতে পারেন। আর আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে কামনা করলে আপনার কোন অপরাধ নেই।” তখন আমি বললাম, আমি দেখছি যে, আপনার রব আপনি যা ইচ্ছা করেন, তা-ই পূরণ করেন।
৪৪৩০। হাব্বান ইবনু মূসা (রহঃ) মু’আয (রহঃ) সূত্রে … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের সঙ্গে অবস্থানের পালার ব্যাপারে আমাদের থেকে অনুমতি চাইতেন এ আয়াত নাযিল হওয়ার পরও, “আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট হতে দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট স্থান দিতে পারেন এবং আপনি যাকে দূরে রেখেছেন তাকে কামনা করলে আপনার কোন অপরাধ নেই।” এ আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার পর মু’আয বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞস করলাম, আপনি এর উত্তরে কি বলতেন? তিনি বলতেন, আমি তাঁকে বলতাম, এ বিষয়ের অধিকার যদি আমার থেকে থাকে তাহলে আমি ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার ব্যাপারে কাউকে অগ্রাধিকার দিতে চাই না। আব্বাদ বিন আব্বাদ ’আসম থেকে অনুরূপ শুনেছেন।
আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ لا تدخلوا ... عند الله عظيما হে মু’মিনগণ! তোমরা খাওয়ার জন্য খাবার প্রস্তুতির অপেক্ষা না করে নাবীর ঘরে তোমাদেরকে অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত প্রবেশ করবে না; তবে তোমাদেরকে ডাকা হলে তোমরা প্রবেশ করবে এবং খাওয়া শেষ হলে নিজেরাই চলে যাবে, কথাবার্তায় মাশগুল হয়ে পড়বে না। তোমাদের এ আচরণ অবশ্যই নাবীকে পীড়া দেয়। তিনি তোমাদেরকে উঠিয়ে দিতে সংকোচ বোধ করেন। কিন্তু আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচবোধ করেন না। তোমরা যখন তাঁর পত্নীদের নিকট হতে কোন কিছু চাইবে, তখন পর্দার অন্তরাল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র উপায়। আল্লাহর রসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পত্নীদেরকে বিবাহ করা তোমাদের কারও পক্ষে কখনও বৈধ নয়। এটা আল্লাহর কাছে সাংঘাতিক অপরাধ। বলা হয় إِنَاهُ খাদ্য পরিপাক হওয়া। এটা أَنَى يَأْنِيْ أَنَاةًথেকে গঠিত। لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُوْنُ قَرِيْبًا সম্ভবত ক্বিয়ামাত অতি নিকটবর্তী। যদি তুমি স্ত্রী লিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার কর, তবে قَرِيْبَةً বলবে। আর যদি الصِّفَةَ না ধর ظَرْفًا বা بَدَلًا হিসেবে ব্যবহার কর তবে ‘তা’ নিয়ে যুক্ত করবে না। তেমনি এ শব্দটি একবচন, দ্বি-বচন, বহুবচন এবং নারী-পুরুষ সকল ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।
হাদিস নং ৪৪৩১সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ عُمَرُ ـ رضى الله عنه ـ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، يَدْخُلُ عَلَيْكَ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ، فَلَوْ أَمَرْتَ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ بِالْحِجَابِ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ آيَةَ الْحِجَابِ.
বর্ণনাকারী: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
৪৪৩১। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার কাছে ভাল ও মন্দ লোক আসে। আপনি যদি উম্মাহাতুল মু’মিনীনদের ব্যাপারে পর্দার আদেশ দিতেন (তবে ভাল হত) তারপর আল্লাহ্ তা’আলা পর্দার আয়াত নাযিল করেন।
হাদিস নং ৪৪৩২সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ، حَدَّثَنَا أَبُو مِجْلَزٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمَّا تَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَيْنَبَ ابْنَةَ جَحْشٍ دَعَا الْقَوْمَ، فَطَعِمُوا ثُمَّ جَلَسُوا يَتَحَدَّثُونَ وَإِذَا هُوَ كَأَنَّهُ يَتَهَيَّأُ لِلْقِيَامِ فَلَمْ يَقُومُوا، فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ قَامَ، فَلَمَّا قَامَ قَامَ مَنْ قَامَ، وَقَعَدَ ثَلاَثَةُ نَفَرٍ فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِيَدْخُلَ فَإِذَا الْقَوْمُ جُلُوسٌ ثُمَّ إِنَّهُمْ قَامُوا، فَانْطَلَقْتُ فَجِئْتُ فَأَخْبَرْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُمْ قَدِ انْطَلَقُوا، فَجَاءَ حَتَّى دَخَلَ، فَذَهَبْتُ أَدْخُلُ فَأَلْقَى الْحِجَابَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ) الآيَةَ
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৪৩২। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ রকাশী (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জয়নাব বিনত জাহশকে যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ে করেন, তখন তিনি লোকদের দাওয়াত দিলেন। লোকেরা আহারের পর বসে কথাবার্তা বলতে লাগল। তিনি উঠে যেতে উদ্যত হচ্ছিলেন, কিন্তু লোকেরা উঠছিল না। এ অবস্থা দেখে তিনি উঠে দাঁড়ালেন। তিনি উঠে যাওয়ার পর যারা উঠবার তারা উঠে গেল। কিন্তু তিন ব্যাক্তি বসেই রইল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশের জন্য ফিরে এসে দেখেন, তারা তখনও বসে রয়েছে (তাই তিনি চলে গেলেন)। এরপর তারাও উঠে গেল। আমি গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাদের চলে যাওয়ার সংবাদ দিলাম। তারপর তিনি এসে প্রবেশ করলেন। এরপরও আমি প্রবেশ করতে চাইলে তিনি আমার ও তার মাঝে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেনঃيَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ الآيَةَ “হে মু’মিনগণ! তোমরা নবীর গৃহে প্রবেশ করো না ...… শেষ পর্যন্ত।
৪৪৩৩। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি পর্দার আয়াত সম্পর্কে লোকদের চেয়ে বেশি জানি। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যয়নাবকে বাসর যাপনের জন্য পাঠানো হয় এবং তিনি তাঁর ঘরে তাঁর সঙ্গে অবস্থান করেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবার তৈরি করে লোকদের দাওয়াত দিলেন। তারা (খাওয়ার পর) বসে কথাবার্তা বলতে লাগল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে গিয়ে আবার ঘরে ফিরে এলেন, তখনও তারা বসে আলাপ-আলোচনা করছিল। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেন। “হে মু’মিনগণ, তোমাদের অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা আহার্য প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা না করে আহারের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহে প্রবেশ করবে না।” ...... পর্দার আড়াল থেকে’ পর্যন্ত। এরপর পর্দার বিধান কার্যকর হল এবং লোকেরা চলে গেল।
হাদিস নং ৪৪৩৪সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ بُنِيَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِزَيْنَبَ ابْنَةِ جَحْشٍ بِخُبْزٍ وَلَحْمٍ فَأُرْسِلْتُ عَلَى الطَّعَامِ دَاعِيًا فَيَجِيءُ قَوْمٌ فَيَأْكُلُونَ وَيَخْرُجُونَ، ثُمَّ يَجِيءُ قَوْمٌ فَيَأْكُلُونَ وَيَخْرُجُونَ، فَدَعَوْتُ حَتَّى مَا أَجِدُ أَحَدًا أَدْعُو فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا أَجِدُ أَحَدًا أَدْعُوهُ قَالَ ارْفَعُوا طَعَامَكُمْ، وَبَقِيَ ثَلاَثَةُ رَهْطٍ يَتَحَدَّثُونَ فِي الْبَيْتِ، فَخَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَانْطَلَقَ إِلَى حُجْرَةِ عَائِشَةَ فَقَالَ " السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ وَرَحْمَةُ اللَّهِ ". فَقَالَتْ وَعَلَيْكَ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، كَيْفَ وَجَدْتَ أَهْلَكَ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فَتَقَرَّى حُجَرَ نِسَائِهِ كُلِّهِنَّ، يَقُولُ لَهُنَّ كَمَا يَقُولُ لِعَائِشَةَ، وَيَقُلْنَ لَهُ كَمَا قَالَتْ عَائِشَةُ، ثُمَّ رَجَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا ثَلاَثَةُ رَهْطٍ فِي الْبَيْتِ يَتَحَدَّثُونَ، وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَدِيدَ الْحَيَاءِ، فَخَرَجَ مُنْطَلِقًا نَحْوَ حُجْرَةِ عَائِشَةَ فَمَا أَدْرِي آخْبَرْتُهُ أَوْ أُخْبِرَ أَنَّ الْقَوْمَ خَرَجُوا، فَرَجَعَ حَتَّى إِذَا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي أُسْكُفَّةِ الْبَابِ دَاخِلَةً وَأُخْرَى خَارِجَةً أَرْخَى السِّتْرَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ، وَأُنْزِلَتْ آيَةُ الْحِجَابِ.
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৪৩৪। আবূ মা’আমার (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জয়নাব বিনত জাহশের বাসর যাপন উপলক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু রুটি-মাংসের ব্যবস্থা করলেন। তারপর খানা খাওয়াবার জন্য আমাদের লোকদের ডেকে আনতে পাঠালেন। একদল লোক এসে খেয়ে বের হয়ে গেল। তারপর আর একদল এসে খেয়ে বের হয়ে গেল। এরপর আবার আমি ডাকতে গেলাম; কিন্তু কাউকে আর ডেকে পেলাম না। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আর কাউকে ডেকে পাচ্ছি না। তিনি বললেন, খানা উঠিয়ে নাও। তখন তিন ব্যাক্তি ঘরে রয়ে গেল, তারা কথাবার্তা বলছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে আয়িশা (রাঃ) এর হুজরার দিকে গেলেন এবং বললেন, আসসালামু আলায়কুম ইয়া আহলাল বায়ত ওয়া রহমাতুল্লাহ্! আয়িশা (রাঃ) বললেন, ওয়া আলায়কা ওয়া রহমাতুল্লাহ্।
আল্লাহ্ আপনাকে বরকত দিন, আপনার স্ত্রীকে কেমন পেলেন? এভাবে তিনি পর্যায়ক্রমে সব স্ত্রীর হুজরায় গেলেন এবং আয়িশাকে যেমন বলেছিলেন তাদেরও অনুরূপ বললেন। আর তাঁরা তাঁকে সে জবাবই দিয়েছিলেন, যেমন আয়িশা (রাঃ) দিয়েছিলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এসে সে তিন ব্যাক্তিকেই ঘরে আলাপরত দেখতে পেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব লাজুক ছিলেন। (তাই তাদের দেখে লজ্জা পেয়ে) আবার আয়িশা (রাঃ) এর হুজরার দিকে গেলেন। তখন, আমি স্মরণ করতে পারছি না, অন্য কেউ না আমি তাকে লোকদের বের হয়ে যাওয়ার খবর দিলাম। তিনি ফিরে এসে দরজার চৌকাঠের ভিতরে এক পা ও বাইরে এক পা রেখে আমার ও তাঁর মধ্যে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন এবং আল্লাহ্ তা’আলা পর্দার আয়াত নাযিল করেন।
হাদিস নং ৪৪৩৫সহিহ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ أَوْلَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ بَنَى بِزَيْنَبَ ابْنَةِ جَحْشٍ فَأَشْبَعَ النَّاسَ خُبْزًا وَلَحْمًا ثُمَّ خَرَجَ إِلَى حُجَرِ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ كَمَا كَانَ يَصْنَعُ صَبِيحَةَ بِنَائِهِ فَيُسَلِّمُ عَلَيْهِنَّ وَيَدْعُو لَهُنَّ وَيُسَلِّمْنَ عَلَيْهِ وَيَدْعُونَ لَهُ فَلَمَّا رَجَعَ إِلَى بَيْتِهِ رَأَى رَجُلَيْنِ جَرَى بِهِمَا الْحَدِيثُ، فَلَمَّا رَآهُمَا رَجَعَ عَنْ بَيْتِهِ، فَلَمَّا رَأَى الرَّجُلاَنِ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجَعَ عَنْ بَيْتِهِ وَثَبَا مُسْرِعَيْنِ، فَمَا أَدْرِي أَنَا أَخْبَرْتُهُ بِخُرُوجِهِمَا أَمْ أُخْبِرَ فَرَجَعَ حَتَّى دَخَلَ الْبَيْتَ، وَأَرْخَى السِّتْرَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ وَأُنْزِلَتْ آيَةُ الْحِجَابِ. وَقَالَ ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى حَدَّثَنِي حُمَيْدٌ سَمِعَ أَنَسًا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৪৩৫। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জয়নাব বিনত জাহশের সাথে বাসর উৎযাপনের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ালীমা করলেন। লোকদের তিনি মাংস-রুটি তৃপ্তি সহকারে খাওয়ালেন। তারপর তিনি উম্মুল মু’মিনীনদের কক্ষে যাওয়ার জন্য বের হলেন। যেমন বাসর রাত্রির ভোরে তার অভ্যাস ছিল যে, তিনি তাঁদের সালাম দিতেন ও তাঁদের জন্য দোয়া করতেন এবং তাঁরাও তাঁকে সালাম বলতেন, তাঁর জন্য দোয়া করতেন। তারপর ঘরে ফিরে এসে দু’ব্যাক্তিকে আলাপরত দেখতে পেলেন। তাদের দেখে তিনি ঘর থেকে ফিরে গেলেন। সে দু’জন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ঘর থেকে ফিরে যেতে দেখে দ্রুত বের হয়ে গেল। এরপরে, আমার স্মরণ নেই যে আমি তাঁকে তাদের বের হয়ে যাওয়ার সংবাদ দিলাম, না অন্য কেউ দিল। তখন তিনি ফিরে এসে ঘরে প্রবেশ করলেন এবং আমার ও তাঁর মধ্যে পর্দা লটকিয়ে দিলেন এবং পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয়।
৪৪৩৬। যাকারিয়া ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর সাওদা প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে যান। সাওদা এমন মোটা শরীরের অধিকারিণী ছিলেন যে, পরিচিত লোকদের থেকে তিনি নিজকে গোপন রাখতে পারতেন না। উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) তাঁকে দেখে বললেন, হে সাওদা! জেনে রাখ, আল্লাহর কসম, আমাদের দৃষ্টি থেকে গোপন থাকতে পারবে না। এখন দেখ তো, কেমন করে বাইরে যাবে? আয়িশা (রাঃ) বলেন, (এ কথা শুনে) সাওদা (রাঃ) ফিরে আসলেন। আর এ সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে রাতের খানা খাচ্ছিলেন। তাঁর হাতে ছিল টুকরা হাড়। সাওদা (রাঃ) ঘরে প্রবেশ করে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলাম। তখন উমর (রাঃ) আমাকে এমন এমন কথা বলেছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এ সময় আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর নিকট ওহী নাযিল করেন। ওহী অবতীর্ণ হওয়া শেষ হল, হাড় টুকরা তখনও তাঁর হাতেই ছিল, তিনি তা রাখেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অবশ্যই প্রয়োজনে তোমাদের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ তোমরা কোন বিষয় প্রকাশ কর অথবা গোপন রাখ, আল্লাহ্ সকল বিষয়ে জ্ঞাত। নবী (সাঃ) এর পত্নীদের জন্য কোন গুনাহ নেই, তাদের পিতা, পুত্র, ভাই ভাতিজা, ভাগিনা, সাধারণ মহিলা এবং দাসীদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সবকিছু দেখেন।
হাদিস নং ৪৪৩৭সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتِ اسْتَأْذَنَ عَلَىَّ أَفْلَحُ أَخُو أَبِي الْقُعَيْسِ بَعْدَ مَا أُنْزِلَ الْحِجَابُ، فَقُلْتُ لاَ آذَنُ لَهُ حَتَّى أَسْتَأْذِنَ فِيهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّ أَخَاهُ أَبَا الْقُعَيْسِ لَيْسَ هُوَ أَرْضَعَنِي، وَلَكِنْ أَرْضَعَتْنِي امْرَأَةُ أَبِي الْقُعَيْسِ، فَدَخَلَ عَلَىَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَفْلَحَ أَخَا أَبِي الْقُعَيْسِ اسْتَأْذَنَ، فَأَبَيْتُ أَنْ آذَنَ حَتَّى أَسْتَأْذِنَكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " وَمَا مَنَعَكِ أَنْ تَأْذَنِي عَمُّكِ ". قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الرَّجُلَ لَيْسَ هُوَ أَرْضَعَنِي، وَلَكِنْ أَرْضَعَتْنِي امْرَأَةُ أَبِي الْقُعَيْسِ. فَقَالَ " ائْذَنِي لَهُ فَإِنَّهُ عَمُّكِ، تَرِبَتْ يَمِينُكِ ". قَالَ عُرْوَةُ فَلِذَلِكَ كَانَتْ عَائِشَةُ تَقُولُ حَرِّمُوا مِنَ الرَّضَاعَةِ مَا تُحَرِّمُونَ مِنَ النَّسَبِ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৪৩৭। আবূল ইয়ামান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর, আবূল কু’আয়স এর ভাই-আফলাহ আমার কাছে প্রবেশ করার অনুমতি চায়। আমি বললাম, এ ব্যাপারে যতক্ষণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতি না দিবেন, ততক্ষণ আমি অনুমতি দিতে পারি না। কেননা তার ভাই আবূ কুআয়স সে নিজে আমাকে দুধ পান করান নি। কিন্তু আবূল কু’আয়াসের স্ত্রী আমাকে দুধ পান করিয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলেন। আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবূল কু’আয়াসের ভাই-আফলাহ্ আমার সাথে দেখা করার অনুমতি চাইছিল। আমি এ বলে অস্বীকার করেছি যে, যতক্ষণ আপনি এ ব্যাপারে অনুমতি না দেবেন, ততক্ষণ আমি অনুমতি দেব না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার চাচাকে (তোমার সাথে দেখা করার) অনুমতি দিতে কিসে বাধা দিয়েছে? আমি বললাম, সে ব্যাক্তি তো আমাকে দুধ পান করাননি; কিন্তু আবূল কু’আয়াসের স্ত্রী আমাকে দুধ পান করিয়েছে। এরপর তিনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার হাত ধুলি ধূসরিত হোক, তাকে অনুমতি দাও, কেননা, সে তোমার চাচা। উরওয়া বলেন, এ কারণে আয়িশা (রাঃ) বলতেন বংশের দিক দিয়ে যা হারাম মনে কর, দুধ পানের কারণেও তা হারাম জান।
আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ "নিশ্চয়ই আল্লাহ্ এবং তার ফেরেশতারা নবীর প্রতি দুরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ (তোমরাও) তার প্রতি দুরুদ ও সালাম পাঠ কর। আবুল ‘আলীয়া (রহ.) বলেন, আল্লাহর সালাতের অর্থ নাবীর প্রতি ফেরেশতাদের সামনে আল্লাহর প্রশংসা। ফেরেশতার সালাতের অর্থ- দু‘আ। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, يُصَلُّوْنَ -এর অর্থ-বারকাতের দু‘আ করছেন। لَنُغْرِيَنَّكَ আমি তোমাকে বিজয়ী করব।
৪৪৩৮। সাঈদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) ... কা’ব ইবনু উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বলা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার উপর সালাম (প্রেরণ করা) আমরা জানতে পেরেছি; কিন্তু সালাত কিভাবে? তিনি বললেন, তোমরা বলবে, “হে আল্লাহ্! তুমি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিজনের উপর রহমত অবতীর্ণ কর, যেমনিভাবে ইব্রাহীম এর পরিজনের উপর তুমি রহমত অবতীর্ণ করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত, মর্যাদাবান। হে আল্লাহ্! তুমি মুহাম্মদ এর উপর এবং মুহাম্মদ এর পরিজনের প্রতি বরকত অবতীর্ণ কর। যেমনিভাবে তুমি বরকত অবতীর্ণ করেছ ইব্রাহীমের পরিজনের প্রতি। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত, মর্যাদাবান।
৪৪৩৯। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ তো হল সালাম পাঠ; কিন্তু কেমন করে আমরা আপনার প্রতি দরূদ পাঠ করব? তিনি বললেন, তোমরা বলবে, “হে আল্লাহ্! আপনার বান্দা ও আপনার রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাম্মাদ এর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে রহমত অবতীর্ণ করেছেন ইব্রাহীমের পরিজনের প্রতি এবং মুহাম্মাদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ও মুহাম্মাদের পরিজনের প্রতি বরকত অবতীর্ণ করুন, যেভাবে বরকত অবতীর্ণ করেছেন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর প্রতি।
তবে বর্ণনাকারী আবূ সালিহ লায়েস থেকে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ও তার পরিজনের প্রতি বরকত অবতীর্ণ করুন যেমন আপনি বরকত অবতীর্ণ করেছেন ইব্রাহীমের পরিজনের প্রতি।
৪৪৪০। ইব্রাহীম ইবনু হামযা (রহঃ) … ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি (এমনিভাবে) বলেন, যেমনভাবে ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) এর উপর রহমত নাযিল করেছেন। আর বরকত নাযিল করুন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি এবং মুহাম্মদের পরিজনের প্রতি, যেভাবে বরকত অবতীর্ণ করেছেন ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) এর প্রতি এবং ইব্রাহীমের পরিবারের প্রতি।
আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা মূসা (আলাইহিস সালাম) কে কষ্ট দিয়েছে। ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মূসা (আলাইহিস সালাম) ছিলেন বড় লজ্জাশীল ব্যাক্তি। আর এ প্রেক্ষিতে আল্লাহর এ বাণী, হে মু’মিনগণ! তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা মূসা (আলাইহিস সালাম) কে কষ্ট দিয়েছে। তারপর আল্লাহ্ তা’আলা তাঁকে ওদের অভিযোগ থেকে পবিত্র করেছেন। আর তিনি ছিলেন আল্লাহর কাছে অতি সম্মানিত।
আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ 'এমনকি যখন তাদের মন থেকে আতংক দূরীভূত হয়, তখন তারা বলে তোমাদের প্রতিপালক কি বলেছেন? তারা বলবে সত্যই। আর তিনি উচ্চ ও মহান।
সুরা সাবা
مُعَاجِزِيْنَ প্রতিযোগিতাকারী بِمُعْجِزِيْنَ ব্যর্থকারী। مُعَاجِزِيْنَ বিজয়ী হওয়ার প্রয়াসী। سَبَقُوْا ছুটে গিয়েছে, পরিত্রাণ পেয়েছে। لَايُعْجِزُوْنَ তারা ছুটে যেতে পারবে না, ছাড়া পাবে না। يَسْبِقُوْنَا আমাদের অক্ষম করবে। بِمُعْجِزِيْنَ ব্যর্থকারী। مُعَاجِزِيْنَ পরস্পর বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশী। প্রত্যেকেই তার প্রতিপক্ষের অক্ষমতা প্রকাশ করতে চায়। مِعْشَارٌ এক-দশমাংশ। الْأُكُلُ ফল, بَاعِدْ - بَعِّدْ একই অর্থ, দূরত্ব করে দাও। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لَايَعْزُبُ অদৃশ্য হয় না। الْعَرِمِ বাঁধ, আল্লাহ্ তা’আলা সে বাঁধের মধ্য দিয়ে লাল পানি প্রবাহিত করে তা ফাটিয়ে ধ্বংস করে দেন এবং একটি উপত্যকা খুদে ফেলেন। ফলে তার দু’পার্শ্ব উঁচু হয়ে তা থেকে পানি সরে পড়ে এবং উভয় পার্শ্ব শুকিয়ে যায়। এ লাল পানি বাঁধ থেকে আসেনি, বরং তা ছিল তাদের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত আযাব, যা তিনি যেখান থেকে ইচ্ছে পাঠিয়েছিলেন।
’আমর ইবনু শুরাহবীল (রহ.) বলেন, الْعَرِمُ ইয়ামানবাসীদের ভাষায় কুঁজের মত উঁচু। অন্য হতে বর্ণিত। الْعَرِمُ উপত্যকা, السَّابِغَاتُ বর্মসমূহ। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, يُجَازَى শাস্তি দেয়া হবে। أَعِظُكُمْ بِوَاحِدَةٍ আল্লাহর আনুগত্য। مَثْنَىوَفُرَادَى একা একা এবং দু’ দু’জন। التَّنَاوُشُ পরজগত থেকে দুনিয়ার দিকে ফিরে আসা। وَبَيْنَ مَا يَشْتَهُوْنَ অর্থাৎ সম্পদ, সন্ততি বা জাঁক-জমক। بِأَشْيَاعِهِمْ তাদের মত। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, كَالْجَوْبَةِ যমীনে হাউজ সদৃশ। الْخَمْطُ বিস্বাদ বৃক্ষ। الْأَثَلُ ঝাউ গাছ। الْعَرِمُ কঠিন।
৪৪৪১। আল হুমায়দী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা যখন আকাশে কোন ফয়সালা করেন তখন ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অতি বিনীতভাবে তাদের পাখা ঝাড়তে থাকে; যেন মসৃণ পাথরের উপর শিকলের আওয়াজ। “যখন তাদের মনের আতংক বিদূরিত হয় তারা (একে অপরকে) জিজ্ঞেস করে, তোমাদের প্রতিপালক কি বলেছেন? তারা (উত্তরে) বলেন, তিনি যা বলেছেন, সত্যই বলেছেন। তিনি মহান উচ্চ। যে সময়ে লুকোচুরিকারী (শয়তান) তা শোনে, আর লুকোচুরিকারী এরূপ একের ওপর এক। সুফিয়ান তাঁর হাত উপরে উঠিয়ে আঙ্গুলগুলো ফাঁক করে দেখান। তারপর শয়তান কথাগুলো শুনে নেয় এবং প্রথমজন তার নিচের জনকে এবং সে তার নিচের জনকে পৌঁছিয়ে দেয়। এমনিভাবে এ সংবাদ দুনিয়ার জাদুকর ও জ্যোতিষের মুখে পৌছে দেয়। কোন কোন সময় কথা পৌঁছানোর পূর্বে তার উপর অগ্নিশিখা নিক্ষিপ্ত হয় আবার অগ্নিশিখা নিক্ষিপ্ত হওয়ার পূর্বে সে কথা পৌঁছিয়ে দেয় এবং এর সাথে শত মিথ্যা মিশিয়ে বলে। এরপর লোকেরা বলাবলি করে। সে কি অমুক দিন অমুক অমুক কথা আমাদের বলেনি? এবং সেই কথা যা আসমান থেকে শুনে এসেছে তার জন্য সব কথা সত্য বলে মনে করে।
আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ "সে তো আমাদের সম্মুখে এক আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ককারী মাত্র।"
৪৪৪২। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সাফা (পাহাড়ে) আরোহণ করে ’ইয়া সাবাহাহ, বলে সকলকে ডাক দিলেন। কুরাইশগণ তাঁর কাছে সমবেত হয়ে বলল, তোমার ব্যাপার কী? তিনি বললেন, তোমরা বল তো, আমি যদি তোমাদের বলি যে, শত্রুবাহিনী সকাল বা সন্ধ্যায় তোমাদের উপর আক্রমণ করতে উদ্যত; তবে কি তোমরা আমার এ কথা বিশ্বাস করবে? তারা বলল, অবশ্যই। তিনি বললেন, আমি তো তোমাদের জন্য এক আসন্ন কঠিন শাস্তির ভয় প্রদর্শনকারী। একথা শুনে আবূ লাহাব বলল, তোমার ধ্বংস হোক। এই জন্যই কি আমাদেরকে সমবেত করেছিলে? তখন আল্লাহ্ অবতীর্ণ করেনঃتَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ “আবূ লাহাবের দু'হাত ধ্বংস হোক।”
আল্লাহর বাণীঃ والشمس تجري لمستقر لها ذلك تقدير العزيز العليم "এবং সূর্য ভ্রমন করে তার নির্দৃিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এ পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রন।"
হাদিস নং ৪৪৪৩সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ عِنْدَ غُرُوبِ الشَّمْسِ فَقَالَ " يَا أَبَا ذَرٍّ أَتَدْرِي أَيْنَ تَغْرُبُ الشَّمْسُ ". قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ " فَإِنَّهَا تَذْهَبُ حَتَّى تَسْجُدَ تَحْتَ الْعَرْشِ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى (وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ)"
বর্ণনাকারী: আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)
সুরা ফাতির
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, الْقِطْمِيْرُ অর্থ-খেজুরের আঁটির পর্দা। مُثْقَلَةٌ ভারাক্রান্ত ব্যক্তি। অন্যরা বলেছেন,الْحَرُوْرُ (আল-হারূর- অর্থ-দিবাভাগে সূর্যের উত্তাপ। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, রাতের উত্তাপকে الْحَرُوْرُ এবং দিনের উত্তাপকে السَّمُوْمُ বলা হয়।
غَرَابِيْبُ অর্থأَشَدُّ سَوَادٍ অর্থাৎ নিকষ কালো الْغِرْبِيْبُ। (আল-গিরবীব) অর্থ الشَّدِيْدُ السَّوَادِ অধিক কালো।
সুরা ইয়াসীন
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, فَعَزَّزْنَا আমি অধিক শক্তি দিলাম। يَا حَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِ দুনিয়াতে রাসূলদের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করার ফলে আখিরাতে তাদের অবস্থা দুঃখময় হবে। أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ একটির আলো অন্যটির আলোর উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারে না এবং চন্দ্র ও সূর্যের জন্য তা সম্ভব নয়। سَابِقُ النَّهَارِ রাত্র এবং দিন উভয়ই একে অপরের পেছনে অবিরাম গতিতে চলছে। نَسْلَخُ (রাত-দিন) উভয়ের মধ্যে একটিকে আমি অপরটি থেকে সরিয়ে দিই এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে সাঁতার কাটে। مِنْ مِثْلِهِ অনুরূপ চতুষ্পদ জন্তু। فَكِهُوْنَ আনন্দিত। جُنْدٌ مُحْضَرُوْنَ হিসাবের সময় তাদের উপস্থিত করা হবে তাদের বাহিনীরূপে। ইকরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, الْمَشْحُوْنِ বোঝাইকৃত।
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, طَائِرُكُمْ তোমাদের বিপদাপদ। يَنْسِلُوْنَ তারা বেরিয়ে আসবে। مَرْقَدِنَا আমাদের বের হবার স্থান। أَحْصَيْنَاهُ হিফাযাত করেছি আমি প্রতিটি বস্তুকে। مَكَانَتُهُمْ এবং مَكَانُهُمْ একই; তাদের স্থানে।
৪৪৪৩। আবূ নু’আয়ম (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্যাস্তের সময় আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মসজিদে ছিলাম। তিনি বললেন, হে আবূ যার! তুমি কি জানো সূর্য কোথায় ডুবে? আমি বললাম, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল সবচেয়ে ভাল জানেন। তিনি বললেন, সূর্য চলে, অবশেষে আরশের নিচে গিয়ে সিজদা করে। নিম্নবর্ণিত আয়াতوَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ এ এ কথাই বর্ণনা করা হয়েছে, অর্থাৎ সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এ পরাক্রমশলী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।
হাদিস নং ৪৪৪৪সহিহ
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ قَوْلِهِ تَعَالَى (وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا) قَالَ " مُسْتَقَرُّهَا تَحْتَ الْعَرْشِ ".
বর্ণনাকারী: আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)
৪৪৪৪। হুমায়দী (রহঃ) ... আবূ যার গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আল্লাহর বাণীঃمُسْتَقَرُّ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেছেন, সূর্যের গন্তব্যস্থল আরশের নিচে।
আল্লাহর বাণীঃ وإن يونس لمن المرسلين ইউনুস ছিলেন রাসুলদের একজন।
হাদিস নং ৪৪৪৫সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا يَنْبَغِي لأَحَدٍ أَنْ يَكُونَ خَيْرًا مِنِ ابْنِ مَتَّى ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
সুরা সাফ্ফাত
وَقَالَ مُجَاهِدٌ وَيَقْذِفُونَ بِالْغَيْبِ مِنْ مَكَانٍ بَعِيدٍ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ وَيُقْذَفُونَ مِنْ كُلِّ جَانِبٍ يُرْمَوْنَ وَاصِبٌ دَائِمٌ لَازِبٌ لَازِمٌ تَأْتُونَنَا عَنْ الْيَمِينِ يَعْنِي الْحَقَّ الْكُفَّارُ تَقُولُهُ لِلشَّيْطَانِ غَوْلٌ وَجَعُ بَطْنٍ يُنْزَفُونَ لَا تَذْهَبُ عُقُولُهُمْ قَرِينٌ شَيْطَانٌ يُهْرَعُونَ كَهَيْئَةِ الْهَرْوَلَةِ يَزِفُّونَ النَّسَلَانُ فِي الْمَشْيِ وَبَيْنَ الْجِنَّةِ نَسَبًا قَالَ كُفَّارُ قُرَيْشٍ الْمَلَائِكَةُ بَنَاتُ اللَّهِ وَأُمَّهَاتُهُمْ بَنَاتُ سَرَوَاتِ الْجِنِّ وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى وَلَقَدْ عَلِمَتْ الْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ سَتُحْضَرُ لِلْحِسَابِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَنَحْنُ الصَّافُّونَ الْمَلَائِكَةُ صِرَاطِ الْجَحِيمِ سَوَاءِ الْجَحِيمِ وَوَسَطِ الْجَحِيمِ لَشَوْبًا يُخْلَطُ طَعَامُهُمْ وَيُسَاطُ بِالْحَمِيمِ مَدْحُورًا مَطْرُودًا بَيْضٌ مَكْنُونٌ اللُّؤْلُؤُ الْمَكْنُونُ وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ يُذْكَرُ بِخَيْرٍ وَيُقَالُ يَسْتَسْخِرُونَ يَسْخَرُونَ بَعْلًا رَبًّا
মুজাহিদ (রহঃ) বলেছেন, আল্লাহর বাণীঃوَيَقْذِفُونَ بِالْغَيْبِ مِنْ مَكَانٍ بَعِيدٍ এ বর্ণিত مِنْ مَكَانٍ بَعِيْدٍ অর্থمِنْ كُلِّ مَكَانٍ মানে সকল স্থান থেকে।وَيُقْذَفُونَ مِنْ كُلِّ جَانِبٍ এর মাঝে يُقْذَفُوْنَ এর অর্থيُرْمَوْنَ নিক্ষিপ্ত হবে তাদের প্রতি। وَاصِبٌ অর্থدَائِمٌ অবিরাম বা অব্যাহত। لَازِبٌ অর্থلَازِمٌ আঠালো। تَأْتُوْنَنَا عَنِ الْيَمِيْنِ এর অর্থ তোমরা তো হক, কল্যাণ এবং সুখ-শান্তির বাণী নিয়ে আমাদের কাছে আসতে, এ কথাগুলো কাফিররা শায়ত্বনকে বলবে। غَوْلٌ অর্থوَجَعُ بَطْنٍ পেটের ব্যথা। يُنْزَفُوْنَ অর্থ তাদের বুদ্ধি নষ্ট হবে না। قَرِيْنٌ অর্থ শায়তান। يُهْرَعُوْنَ এর অর্থهَرْوَلَةِ দ্রুত পদক্ষেপে চলা। يَزِفُّوْنَ দ্রুতগতিতে পথ চলা। بَيْنَ الْجِنَّةِ نَسَبًا কুরাইশ কাফেররা বলত, মালাক আল্লাহর কন্যা এবং তাদের মা জিন নেতাদের কন্যারা। আল্লাহ্ বলেন, وَلَقَدْ عَلِمَتِ الْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُوْنَ জিনেরা জানে, তাদেরও উপস্থিত করা হবে- তাদের হাজির করা হবে শাস্তির জন্য।
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, لَنَحْنُ الصَّافُّوْنَ ’আমরা তো সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান’ দ্বারা ফেরেশতাদের বোঝানো হয়েছে। صِرَاطِ الْجَحِيْمِ অর্থسَوَاءِ الْجَحِيمِ এবংوَسَطِ الْجَحِيمِ জাহান্নামের পথে বা জাহান্নামের মধ্যে। لَشَوْبًا তাদের খাদ্য ফুটন্ত পানি মিশ্রিত। مَدْحُوْرًا অর্থمَطْرُودًا বিতাড়িত। بَيْضٌ مَكْنُوْنٌ অর্থاللُّؤْلُؤُ الْمَكْنُونُ সুরক্ষিত মুক্তা। وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الاٰخِرِيْنَ আর তাদের যশোগাঁথা আলোচিত হতে থাকবে। يَسْتَسْخِرُوْنَ তারা উপহাস করত। بَعْلًا দেবমূর্তি।
৪৪৪৫। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (ইউনুস) ইবনু মাত্তার চেয়ে উত্তম বলে দাবি করা কারো জন্য সমীচীন নয়।
হাদিস নং ৪৪৪৬সহিহ
حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَلِيٍّ، مِنْ بَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَىٍّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى فَقَدْ كَذَبَ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৪৪৬। ইব্রাহীম ইবনু মুনযির (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে বলে, আমি ইউনুস ইবনু মাত্তার চেয়ে শ্রেষ্ঠতর, সে মিথ্যা বলে।
৪৪৪৭। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আওওআম (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি মুজাহিদকে সূরা সা’দ-এর সাজদা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, (এ বিষয়ে) ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি পাঠ করলেন,أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ ’তাদেরই আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেছেন, সুতরাং তাঁদের পথের অনুসরণ কর। ইবনু আব্বাস (রাঃ) এতে সিজদা করতেন।’
৪৪৪৮। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আওওআম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুজাহিদকে সূরা সা’দ-এর সাজদা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, (এ সূরায়) সাজদা কোত্থেকে? তিনি বললেন, তুমি কি কুরআনের এ আয়াত পড়নিوَمِنْ ذُرِّيَّتِهِ دَاوُدَ وَسُلَيْمَانَ) (أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ “আর তার বংশধর দাউদ ও সুলায়মান তাদেরই আল্লাহ্ সৎপথে পরিচালিত করেছেন, সুতরাং তাঁদের পথের অনুসরণ কর। দাউদ তাঁদের অন্যতম, তোমাদের নবীদের যাদের অনুসরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাই নবী এ সূরায় সাজদা করেছেন।
عُجَابٌ অত্যাশ্চর্য। الْقِطُّ লিপি। এখানে صَحِيْفَةُ দ্বারা নেক লিপি বোঝানো হয়েছে। মুজাহিদ বলেছেন, فِيْعِزَّةٍ ঔদ্ধত্য। الْمِلَّةِالْآخِرَةِ কুরাইশদের ধর্ম। الاخْتِلَاقُ মিথ্যা। الْأَسْبَابُ আকাশের পথসমূহ جُنْدٌ مَّا هُنَالِكَ مَهْزُوْمٌ এ বাহিনীও সে ক্ষেত্রে অবশ্যই পরাজিত হবে অর্থাৎ কুরাইশ সম্প্রদায়। أُولٓٓئِكَ الْأَحْزَابُ অতীতকাল। فَوَاقٍ প্রত্যাবর্তন। قِطَّنَا আমাদের শাস্তি। اتَّخَذْنَاهُمْ سُخْرِيًّا আমি তাদের বেষ্টন করে রেখেছি। أَتْرَابٌ সমবয়স্কা। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, ’ইবাদাতে শক্তিশালী ব্যক্তি। الْأَبْصَارُ আল্লাহর কাছে সূক্ষ্মদর্শী ব্যক্তি। حُبَّ الْخَيْرِ عَنْ ذِكْرِ رَبِّيْ আল্লাহর স্মরণ থেকে। طَفِقَ مَسْحًا তিনি ঘোড়াগুলোর পা ও গলায় হাত বুলাতে লাগলেন। الْأَصْفَادِ শৃংখল (বাঁধন)।
আল্লাহর বাণীঃ هب لي ملكا لا ينبغي لأحد من بعدي إنك أنت الوهاب "হে আমার রব! আমাকে দান করুন এমন এক রাজ্য, যার অধিকারী আমি ছাড়া কেউ না হয়। আপনি তো পরম দাতা (৩৮ঃ ৩৫)
৪৪৪৯। ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গতরাতে অবাধ্য জ্বীনের একটি দৈত্য আমার কাছে এসেছিল অথবা এ ধরনের কিছু কথা তিনি বললেন, আমার সালাত (নামায/নামাজ) নষ্ট করার জন্য। তখন আল্লাহ্ আমাকে তার উপর ক্ষমতা দান করলেন। আমি ইচ্ছা করলাম, মসজিদের খুঁটিগুলোর একটির সাথে ওকে বেঁধে রাখতে, যাতে ভোরে তোমরা সকলে ওটা দেখতে পাও। তখন আমার ভাই সুলায়মান (আলাইহিস সালাম) এর দোয়া স্মরণ হল,رَبِّ هَبْ لِي مُلْكًا لاَ يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ بَعْدِي “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দান কর এমন এক রাজ্য যার অধিকারী আমি ছাড়া আর কেউ না হয়।” রাবী রাওহ্ বলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেন।
৪৪৫০। কুতায়বা (রহঃ) … মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) এর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, হে লোকসকল! যে ব্যাক্তি কোন বিষয়ে জানে সে তা বর্ণনা করবে। আর যে না জানে, তার বলা উচিত, আল্লাহ্ই ভাল জানেন। কেননা অজানা বিষয় সম্বন্ধে আল্লাহ্ই ভাল জানেন। এ কথা বলাও জ্ঞানের লক্ষণ। আল্লাহ্ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেছেন, ’বল, এর (কুরআন বা তাওহীদ প্রচারের) জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না এবং আমি বানোয়টকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।’ (কুরআনে বর্ণিত) ধুম্র সম্পর্কে শীঘ্র আমি তোমাদের বলব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদেরকে ইসলামের প্রতি দাওয়াত দিলে তারা (এ দাওয়াতে সাড়া দিতে) বিলম্ব করল। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ্! . ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর জীবনকালের দুর্ভিক্ষের সাত বছরের মত দুর্ভিক্ষ দ্বারা তুমি আমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য কর। এরপর দুর্ভিক্ষ তাদেরকে গ্রাস করে নিল। শেষ হয়ে গেল সমস্ত কিছু। অবশেষ তারা মৃত জন্তু ও চামড়া খেতে লাগল। তখন তাদের কেউ আকাশের দিকে তাকালে ক্ষুধার জ্বালায় চোখে আকাশ ও তার মধ্যে ধোঁয়া দেখত।
আল্লাহ্ বললেন, “অতএব তুমি সেদিনের অপেক্ষা কর, যেদিন ধোঁয়া হবে আকাশে, এবং তা আচ্ছন্ন করে ফেলবে সকল মানুষ। এ তো মর্মন্তুদ শাস্তি।” রাবী বলেন, তারপর তারা দোয়া করল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এ আযাব থেকে মুক্তি দাও, আমরা ঈমান আনব। তারা কিভাবে উপদেশ গ্রহণ করবে? তাদের কাছে তো এসেছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাদাতা এক রাসূল। তারপর তারা মুখ ফিরিয়ে নিল তাঁর থেকে এবং বলল, সে তো শিখানো বুলি আওড়ায়, সে তো এক উন্মাদ। আমি তোমাদের শাস্তি কিছুকালের জন্য রহিত করছি। তোমরা তো অবশ্য তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে। (ইবনু মাসউদ বলেন), কিয়ামতের দিনও কি তাদের থেকে আযাব রহিত করা হবে? তিনি (ইবনু মাসউদ) বলেন, আযাব দূর করা হলে তারা পুনরায় কুফরীর দিকে ফিরে গেল। তারপর আল্লাহ তা’আলা বদর যুদ্ধের দিন তাদের পাকড়াও করলেন। আল্লাহ্ বলেন, যেদিন আমি তোমাদের কঠোরভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি তোমাদের শাস্তি দেবই।
আল্লাহর বাণীঃ يا عبادي الذين أسرفوا على أنفسهم لا تقنطوا من رحمة الله إن الله يغفر الذنوب جميعا إنه هو الغفور الرحيم "বল হে আমার বান্দাগন! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ্ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দিবেন। তিনি তো পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (৩৯ঃ ৫৩)
সুরা যুমার
মুজাহিদ (রহঃ) বলেছেন, يَتَّقِيْ بِوَجْهِهٰ অধোমুখী করে তাদেরকে জাহান্নামের দিকে হেঁচড়িয়ে নেয়া হবে। এ আয়াতটি নিম্নোক্ত আয়াতের মতই, ’’যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে শ্রেষ্ঠ, না যে কিয়ামতের দিন নিরাপদে থাকবে সে?’’ ذِيْ عِوَجٍ সন্দেহপূর্ণ। وَرَجُلًا سَلَمًا لِرَجُلٍ মুশরিকদের বাতিল মাবূদ এবং হক মাবূদের উদাহরণ দেয়া হয়েছে। وَيُخَوِّفُوْنَكَ بِالَّذِيْنَ مِنْ دُوْنِهٰ তারা তোমাকে আল্লাহর পরিবর্তে অপরের ভয় দেখায়। এখানে دُوْنِهٰ মানে প্রতিমা। خَوَّلْنَا আমি দিলাম। وَالَّذِيْ جَآءَ بِالصِّدْقِ এর الصِّدْقِ মানে কুরআন। وَصَدَّقَ بِهِ মু’মিনগণ কিয়ামতের দিন বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! এই সে কুরআন যা আপনি আমাকে দিয়েছেন এবং আমি তার বিধানসমূহের ওপর ’আমল করেছি। مُتَشَاكِسُوْنَ ঐ উদ্ধত পশু প্রকৃতির ব্যক্তি, যে ইনসাফে সন্তুষ্ট নয়। وَرَجُلًا سِلْمًا যোগ্য বা নেককার; যেমন বলা হয় سَالِمًاصَالِحًا। اشْمَأَزَّتْ পলায়ন করে। بِمَفَازَتِهِمْ নির্গত হয়েছে الْفَوْزِ হতে যার অর্থ; সাফল্যসহ। بِحِفَافَيْهِ তারা ঘুরবে; তাওয়াফ করবে। حَافِّيْنَ চতুষ্পার্শ্বে। مُتَشَابِهًا শব্দটি الاشْتِبَاهِ মাসদার হতে গঠিত নয়: কুরআন সত্যায়নের ব্যাপারে পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৪৪৫১। ইব্রাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) …. ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুশরিকদের কিছু লোক অত্যধিক হত্যা করে এবং অত্যধিক ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। তারপর তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এল এবং বলল, আপনি যা বলেন এবং আপনি যেদিকে আহবান করেন, তা অতি উত্তম। আমাদের যদি জানিয়ে দিতেন যে, আমরা যা করেছি, তার কাফফারা কি? এর প্রেক্ষিতে নাযিল হয় ’এবং যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন ইলাহ্কে ডাকে না, আল্লাহ্ যাকে হত্যা করা নিষেধ করেছেন, তাকে না-হক হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আরো নাযিল হলঃ “হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অন্যায় করে ফেলেছ, আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না।
আল্লাহর বাণীঃ "তারা আল্লাহ্র যথোচিত সম্মান করে না"
হাদিস নং ৪৪৫২সহিহ
حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ جَاءَ حَبْرٌ مِنَ الأَحْبَارِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ، إِنَّا نَجِدُ أَنَّ اللَّهَ يَجْعَلُ السَّمَوَاتِ عَلَى إِصْبَعٍ وَالأَرَضِينَ عَلَى إِصْبَعٍ، وَالشَّجَرَ عَلَى إِصْبَعٍ، وَالْمَاءَ وَالثَّرَى عَلَى إِصْبَعٍ، وَسَائِرَ الْخَلاَئِقِ عَلَى إِصْبَعٍ، فَيَقُولُ أَنَا الْمَلِكُ. فَضَحِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ تَصْدِيقًا لِقَوْلِ الْحَبْرِ ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৪৫২। আদম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইহুদী আলিমদের থেকে জনৈক আলিম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমরা (তাওরাতে দেখতে) পাই যে, আল্লাহ্ তা’আলা আকাশসমূহকে এক আঙ্গুলের উপর স্থাপন করবেন, যমীনকে এক আঙ্গুলের উপর, বৃক্ষসমূহকে এক আঙ্গুলের উপর, পানি ও কাঁদামাটি এক আঙ্গুলের উপর এবং অন্যান্য সৃষ্টি জগত এক আঙ্গুলের উপর স্থাপন করবেন। তারপর বলবেন, আমিই বাদশাহ্। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সমর্থনে হেসে ফেললেন; এমনকি তাঁর সামনের দাঁত প্রকাশ হয়ে পড়ে। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন, তারা আল্লাহর যথোচিত সম্মান করে না।
আল্লাহ্র বাণীঃ কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী থাকবে তার হাতের মুষ্ঠিতে এবং আকাশমন্ডলী থাকবে তার করায়ত্ত। পবিত্র ও মহান তিনি, তারা যার শরীক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে।
৪৪৫৩। সাঈদ ইবনু উফায়র (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা’আলা যমীনকে নিজ মুঠায় নিবেন এবং আকাশমণ্ডলীকে ভাঁজ করে তাঁর ডান হাতে নিবেন, তারপর বলবেন, আজ আমিই মালিক, দুনিয়ার বাদশারা কোথায়?
আল্লাহ্র বাণীঃ ونفخ في الصور فصعق من في السموات ومن في الأرض إلا من شاء الله ثم نفخ فيه أخرى فإذا هم قيام ينظرون "এবং শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে, ফলে যাদের আল্লাহ্ ইচ্ছা করেন তারা ব্যতীত আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সকলে মুর্ছিত হয়ে পড়বে। এরপর আবার শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।
হাদিস নং ৪৪৫৪সহিহ
حَدَّثَنِي الْحَسَنُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ خَلِيلٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ، عَنْ زَكَرِيَّاءَ بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنِّي أَوَّلُ مَنْ يَرْفَعُ رَأْسَهُ بَعْدَ النَّفْخَةِ الآخِرَةِ، فَإِذَا أَنَا بِمُوسَى مُتَعَلِّقٌ بِالْعَرْشِ فَلاَ أَدْرِي أَكَذَلِكَ كَانَ أَمْ بَعْدَ النَّفْخَةِ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৪৫৪। হাসান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শেষ বার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার পর যে সর্বপ্রথম মাথা উঠাবে, সে আমি। তখন আমি মূসা (আলাইহিস সালাম) কে দেখব আরশের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায়। আমি জানিনা, তিনি আগে থেকেই এভাবে ছিলেন, না শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার পর।
৪৪৫৫। উমর ইবনু হাফস (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুইবার ফুঁৎকারের মাঝে ব্যবধান চল্লিশ। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আবূ হুরায়রা, চল্লিশ দিন? তিনি বললেন, আমার জানা নেই। তারপর তারা জিজ্ঞেস করল, চল্লিশ বছর? এবারও তিনি অস্বীকার করলেন। এরপর তাঁরা পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে কি চল্লিশ মাস। এবারও তিনি অস্বীকার করলেন, এবং বললেন, মেরুদণ্ডের হাড় ব্যতীত মানুষের সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে। এ দ্বারাই সৃষ্টি জগত আবার সৃষ্টি করা হবে।
পরিচ্ছেদ নাই
হাদিস নং ৪৪৫৬সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، قَالَ قُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَخْبِرْنِي بِأَشَدِّ، مَا صَنَعَ الْمُشْرِكُونَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِفِنَاءِ الْكَعْبَةِ، إِذْ أَقْبَلَ عُقْبَةُ بْنُ أَبِي مُعَيْطٍ، فَأَخَذَ بِمَنْكِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَوَى ثَوْبَهُ فِي عُنُقِهِ فَخَنَقَهُ خَنْقًا شَدِيدًا، فَأَقْبَلَ أَبُو بَكْرٍ فَأَخَذَ بِمَنْكِبِهِ، وَدَفَعَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ (أَتَقْتُلُونَ رَجُلاً أَنْ يَقُولَ رَبِّيَ اللَّهُ وَقَدْ جَاءَكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ رَبِّكُمْ)
বর্ণনাকারী: উরওয়াহ বিন যুবাইর (রহ.)
সুরা মু’মিন
মুজাহিদ (রহঃ) বলেছেন, অন্যান্য সূরাতে حم শব্দটি যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, এখানেও তা একইভাবেই ব্যবহৃত হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন حم এই সূরার নাম। এর প্রমাণস্বরূপ তাঁরা শুরায়হ্ ইবনু আবূ আওফা আবসীর কবিতাটি পেশ করছেন। তিনি বলেছেন يُذَكِّرُنِيْ حاميم وَالرُّمْحُ شَاجِرٌ فَهَلَّا تَلَا حاميم قَبْلَ التَّقَدُّمِ (জঙ্গে জামালের মধ্যে) বর্শা যখন উভয় দিক থেকে বর্ষিত হচ্ছিল, তখন আমার حَامِيْمَ স্মরণ এল। হায়! যুদ্ধে আসার পুর্বে কেন حم পাঠ করা হল না। الطَّوْلِ সম্মানিত হওয়া। دَاخِرِيْنَ অর্থ خَاضِعِيْنَ লাঞ্ছিত বা বিনয়ী। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, إِلَى النَّجَاةِ এর النَّجَاة অর্থ الإِيْمَانُ ঈমান। لَيْسَ لَهُ دَعْوَةٌ এর لَهُ মানে প্রতিমা। يُسْجَرُوْنَ তাদের জন্য আগুন জ্বালানো হবে تَمْرَحُوْنَ তোমরা দম্ভ করতে।
আলা ইবনু যিয়াদ (রহঃ) লোকদেরকে জাহান্নামের ভয় দেখাতেন। ফলে এক ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করলেন, আপনি লোকদের নিরাশ করে দিচ্ছেন কেন? তিনি বললেন, আমি কি (আল্লাহর রহমত থেকে) লোকদের নিরাশ করে দিতে পারি! কেননা, আল্লাহ্ বলেছেন, ’’হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’’ আরও বলেছেন, ’’সীমাতিক্রমকারীরাই জাহান্নামের অধিবাসী।’’ বস্তুত তোমরা চাও, পাপাচারে লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও তোমাদের জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হোক। কিন্তু তোমরা জেনে রেখ, আল্লাহ্ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঐ সমস্ত লোকদের সুসংবাদদাতারূপে পাঠিয়েছেন, যারা তাঁর আনুগত্য করে এবং যারা তাঁর নাফরমানী করবে তাদের জন্য তিনি ভয় প্রদর্শনকারী।
৪৪৫৬। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … উরওয়া ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আ’স (রাঃ) কে বললাম, মুশরিকরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কঠোরতম কি আচরণ করেছে, সে সম্পর্কে আপনি আমাকে বলুন। তিনি বললেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বা শরীফের আঙ্গিনায় সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন। এমতাবস্থায় উকবা ইবনু আবূ মু’আইত আসল এবং সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘাড় ধরল এবং তার কাপড় দিয়ে তাঁর গলায় পেচিয়ে খুব শক্ত করে চিপ দিল। এ সময়ে (হঠাৎ) আবূ বকর (রাঃ) উপস্থিত হয়ে তার ঘাড় ধরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাকে সরিয়ে দিলেন এবং বললেন, তোমরা কি এ ব্যাক্তিকে এ জন্য হত্যা করবে যে, সে বলে ’আমার রব আল্লাহ্; অথচ তিনি তোমাদের রবের নিকট থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ তোমাদের কাছে এসেছেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ وما كنتم تستترون أن يشهد عليكم سمعكم ولا أبصاركم ولا جلودكم ولكن ظننتم أن الله لا يعلم كثيرا مما تعملون "তোমাদের চক্ষু, কান এবং তোমাদের চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে, এ থেকে তোমরা কখনো নিজেদের লূকাতে পারবে না। কিন্তু তোমরা মনে করতে তোমরা যা কিছু করেছ তার অনেক কিছুই আল্লাহ্ জানেন না (৪১ঃ ২২)
সুরা হা-মীম আস্-সাজদা
তাউস (রহ.) .... ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, ائْتِيَا طَوْعًاأعطيا অর্থাৎ তোমরা উভয় আস; তারা উভয়ে বলল, أَتَيْنَا طَآئِعِيْنَ অর্থাৎ আমরা এলাম। মিনহাল (রহঃ) সা’ঈদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, জনৈক ব্যক্তি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করল, আমি কুরআনে এমন বিষয় পাচ্ছি, যা আমার কাছে পরস্পর বিরোধী মনে হচ্ছে। আল্লাহ্ বলেছেন, যে দিন (যে দিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে) সেদিন পরস্পরের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং একে অপরের খোঁজ খবর নেবে না।’’ আবার বলেছেন, ’’তারা একে অপরের সামনা-সামনি হয়ে খোঁজ খবর নেবে।’’ ’’তারা আল্লাহ্ থেকে কোন কথাই গোপন করতে পারবে না।’’ (তারা বলবে) ’’আল্লাহ আমাদের রব! আমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।’’ এতে বোঝা যাচ্ছে যে, তারা আল্লাহ্ থেকে নিজেদের মুশরিক হবার ব্যাপারটিকে লুকিয়ে রাখবে। (তোমাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিন), না আকাশ সৃষ্টি? তিনিই তা নির্মাণ করেছেন.... এরপর পৃথিবীকে করেছেন সুবিস্তৃত’’ পর্যন্ত। এখানে আকাশকে যমীনের পূর্বে সৃষ্টি করার কথা বলেছেন; কিন্তু অন্য এক স্থানে বর্ণিত আছে যে, ’’তোমরা কি তাঁকে স্বীকার করবেই যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে, আমরা এলাম অনুগত হয়ে।’’ এখানে যমীনকে আকাশের পূর্বে সৃষ্টির কথা উল্লেখ রয়েছে।
অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ্ বলেছেনঃ (وَكَانَ اللهُ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا) (عَزِيْزًا حَكِيْمًا) (سَمِيْعًا بَصِيْرًا) উপরোক্ত আয়াতসমূহের প্রেক্ষাপটে বোঝা যাচ্ছে যে, উপরোক্ত গুণাবলী প্রথমে আল্লাহর মধ্যে ছিল; কিন্তু এখন নেই। (জনৈক ব্যক্তির এসব প্রশ্ন শুনার পর) ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বললেন, ’’যে দিন পরস্পরের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না।’’
এ আয়াতের সম্পর্ক হল প্রথমবার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার সঙ্গে। কেননা, ইরশাদ হয়েছে যে, এরপর শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে। ফলে যাদেরকে আল্লাহ্ ইচ্ছে করেন, তারা বাদে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সকলে মূর্ছিত হয়ে পড়বে। এ সময় পরস্পরের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং একে অন্যের খোঁজ খবর নেবে না। তারপর শেষবারের মত শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়ার পর তারা একে অপরের সামনাসামনি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন সম্পর্কে এক আয়াতে আছে, ’’তারা আল্লাহ্ থেকে কোন কথাই গোপন করতে পারে না।’’ অন্য আয়াতে আছে ’’মুশরিকগণ বলবে যে, আমরা তো মুশরিক ছিলাম না।’’ এর সমাধান হচ্ছে এই যে, কিয়ামতের দিন প্রথমে আল্লাহ্ রাববুল আলামীন মুখলিস লোকদের গুনাহ্ ক্ষমা করে দেবেন। এ দেখে মুশরিকরা বলবে, আস! আমরাও বলব, (হে আল্লাহ্! আমরাও তো মুশরিক ছিলাম না। তখন আল্লাহ্ তা’আলা তাদের মুখে মোহর লাগিয়ে দেবেন। তখন তাদের হাত কথা বলবে। এ সময় প্রকাশ পাবে যে, ’’তাদের কোন কথাই আল্লাহ্ থেকে গোপন রাখা যাবে না।’’ এবং এ সময়ই কাফিরগণ আকাঙ্ক্ষা করবে .....হায়! যদি তারা মাটির সঙ্গে মিশে যেত)।
তৃতীয় প্রশ্ন সম্বন্ধে সমাধান হচ্ছে এই যে, প্রথমে আল্লাহ্ তা’আলা দু’দিনে যমীন সৃষ্টি করেছেন। এরপর আসমান সৃষ্টি করেন। তারপর তিনি আকাশের প্রতি মনোযোগ দেন এবং তাকে বিন্যস্ত করেন দু’দিনে। তারপর তিনি যমীনকে বিছিয়ে দিয়েছেন। যমীনকে বিছিয়ে দেয়ার অর্থ হচ্ছে, এর মাঝে পানি ও চারণভূমির বন্দোবস্ত করা, পর্বত-টিলা, উট এবং আসমান ও মধ্যবর্তী সমস্ত কিছু সৃষ্টি করা। এ সবকিছুও তিনি আরো দু’দিনে সৃষ্টি করেন। আল্লাহর বাণীঃ دَحَاهَا -এর মধ্যে এ কথাই বর্ণনা করা হয়েছে : خَلَقَ الْأَرْضَ فِيْ يَوْمَيْنِ ’এবং তিনি দু’দিনে যমীন সৃষ্টি করেছেন’’ এ কথাও ঠিক; তবে যমীন এবং যত কিছু যমীনের মধ্যে বিদ্যমান আছে এসব তিনি চার দিনে সৃষ্টি করেছেন এবং আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করা হয়েছে দু’দিনে।
وَكَانَ اللهُ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا সম্বন্ধে উত্তর এই যে, আল্লাহ্ রাববুল আলামীন নিজেই এ সমস্ত বিশেষণযুক্ত নামের দ্বারা নিজের নামকরণ করেছেন। উল্লিখিত গুণবাচক নামের অর্থ হচ্ছে এই যে, আল্লাহ্ রাববুল ’আলামীন সর্বদাই এই গুণে গুণান্বিত থাকবেন। কারণ, আল্লাহ্ রাববুল আলামীন যখন কারো প্রতি কিছু করার ইচ্ছে করেন, তখন তিনি তাঁর ইচ্ছে অনুযায়ী করেই থাকেন, সুতরাং কুরআনের আলোচ্য বিষয়ের একটিকে অপরটির বিপরীত সাব্যস্ত করবে না। কেননা, এগুলো সব আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ হয়েছে। মুজাহিদ (রহঃ) বলেছেন ممنون অর্থ গণনাকৃত। أَقْوَاتَهَا তাদের জীবিকা। فِيْ كُلِّ سَمَآءٍ أَمْرَهَا যার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। نَحِسَاتٍ শুভ। وَقَيَّضْنَا لَهُمْ قُرَنَآءَ আমি তাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম তাদের সহচর। تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمْ الْمَلَآئِكَةُ তাদের নিকটবর্তী হয় মালায়িকাহ। আর এ সময়টি হচ্ছে عِنْدَ الْمَوْتِ মৃত্যুর সময়। اهْتَزَّتْ ফলে ফুলে আন্দোলিত হয়ে উঠে। وَرَبَتْ বেড়ে যায় এবং স্ফীত হয়ে উঠে। মুজাহিদ ব্যতীত অন্যেরা বলেছেন, مِنْ أَكْمَامِهَا যখন তা আবরণ হতে বিকশিত হয়। لَيَقُوْلَنَّهَذَالِيْ আমলের ভিত্তিতে এ সমস্ত অনুগ্রহের হকদার আমিই। سَوَآءً لِلسَّآئِلِيْنَ আমি সমভাবে নির্ধারণ করেছি। فَهَدَيْنَاهُمْ অর্থাৎ আমি তাদেরকে ভাল-মন্দ সম্বন্ধে পথ বলে দিয়েছি।
যেমন, আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, ’’এবং আমি তাকে দু’টি পথই দেখিয়েছি।’’ অন্যত্র বর্ণিত আছে যে, ’’আমি তাকে ভাল পথের নির্দেশ দিয়েছি।’’ الْهُدٰى পথ দেখানো এবং গন্তব্য স্থান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়া। এ অর্থেই কুরআনে বর্ণিত আছে যে, ’’তাদেরই আল্লাহ্ সৎপথে পরিচালিত করেন। يُوْزَعُوْنَ তাদের আটক রাখা হবে। مِنْ أَكْمَامِهَا অর্থ বাকলের উপরের আবরণ। এটাকে كم ও বলা হয়। وَلِيٌّحَمِيْمٌ নিকটতম বন্ধু। مِنْ مَحِيْصٍ শব্দটি حَاصَعَنْهُ থেকে নির্গত হয়েছে। যার অর্থ হচ্ছে, সে তার থেকে পলায়ন করেছে। مِرْيَةٌ এবং مُرْيَةٌ একার্থবোধক শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে সন্দেহ। মুজাহিদ বলেছেন, اعْمَلُوْامَاشِئْتُمْ (তোমাদের যা ইচ্ছে কর) বাক্যটি মূলত সতর্কবাণী হিসেবে এখানে ব্যবহৃত হয়েছে। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, بِالَّتِيْ هِيَأَحْسَنُ -এর মর্মার্থ হচ্ছে, রাগের মুহূর্তে ধৈর্যধারণ করা এবং অন্যায় ব্যবহারকে ক্ষমা করে দেয়া। যখন কোন মানুষ ক্ষমা ও ধৈর্যধারণ করে তখন আল্লাহ্ তা’আলা তাকে হেফাজত করেন এবং তার শত্রুকে তার সামনে নত করে দেন। ফলে সে তার অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হয়ে যায়।
৪৪৫৭। সালত ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ... ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। আল্লাহর বাণীঃ “তোমাদের কর্ণ তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে- এ থেকে তোমরা কখনো নিজেদের লুকাতে পারবে না।” আয়াত সম্পর্কে বলেন, কুরাইশ গোত্রের দুই ব্যাক্তি ছিল, যাদের জামাতা ছিল বনী সাকীফ গোত্রের অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) দুই ব্যাক্তি ছিল বনী সাকীফ গোত্রের আর তাদের জামাতা ছিল কুরাইশ গোত্রের। তারা সকলেই একটি ঘরে ছিল। তারা পরস্পর বলল, তোমার কি ধারণা, আল্লাহ্ কি আমাদের কথা শুনতে পাচ্ছেন? একজন বলল, তিনি আমাদের কিছু কথা শুনছেন। এরপর দ্বিতীয় ব্যাক্তি বলল, তিনি যদি আমাদের কিছু কথা শুনতে পান, তাহলে সব কথাও শুনতে পাবেন। তখন নাযিল হলঃ “তোমাদের কান ও তোমাদের চোখ তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, এ থেকে তোমরা কখনো নিজেদের লুকাতে পারবে না। ...... আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
আল্লাহ্র বাণীঃ তা তোমাদের ধারনা ... আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
৪৪৫৮। হুমায়দী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কা’বা শরীফের কাছে দু’জন কুরাইশী এবং একজন সাকাফী অথবা দু’জন সাকাফী ও একজন কুরাইশী একত্রিত হয়। তাদের পেটের মেদ ছিল বেশি; কিন্তু অন্তরের বুদ্ধি ছিল কম। তাদের একজন বলল, তোমাদের কি ধারণা, আমরা যা বলছি তা কি আল্লাহ শুনছেন? উত্তরে অপর এক ব্যাক্তি বলল, আমরা যদি জোরে বলি, তাহলে তিনি শুনতে পান। আর যদি চুপে চুপে বলি, তাহলে তিনি শুনতে পান না। তৃতীয় ব্যাক্তি বলল, আমরা জোরে বললে যদি তিনি শুনতে পান, তাহলে চুপে চুপে বললেও তিনি শুনতে পাবেন। তখন আল্লাহ্ নাযিল করলেন, ’তোমাদের চোখ, কান এবং তোমাদের চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, এ থেকে তোমরা কখনো নিজেদের লুকাতে পারবে না ...... (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। হুমায়দী বলেন, সুফিয়ান এ হাদীস বর্ণনার সময় বলতেন, মানসূর বলেছেন, অথবা ইবনু আবূ নাজীহ্ অথবা হুমায়দী তাঁদের একজন বা দু’জন। এরপর তিনি মানসূরের উপরই নির্ভর করেছেন এবং একাধিকবার তিনি সন্দেহ বর্জন করে বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ "এখন তারা ধৈর্য ধারণ করলেও জাহান্নামই হবে তাদের আবাস এবং তারা ক্ষমা চাইলেও তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে না" (৪১ঃ ২৪)
৪৪৫৯। আমর ইবনু আলী (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ إلا المودة في القربى আত্মীয়ের সৌহার্দ ব্যতীত
হাদিস নং ৪৪৬০সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ طَاوُسًا، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ. أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ قَوْلِهِ (إِلاَّ الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى) فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ قُرْبَى آلِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَجِلْتَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ بَطْنٌ مِنْ قُرَيْشٍ إِلاَّ كَانَ لَهُ فِيهِمْ قَرَابَةٌ فَقَالَ إِلاَّ أَنْ تَصِلُوا مَا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ مِنَ الْقَرَابَةِ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
সুরা শুরা
ইবনু ’আব্বাস হতে বর্ণিত। عَقِيْمًا অর্থ বন্ধ্যা। رُوْحًا مِّنْ أَمْرِنَا অর্থাৎ আল কুরআন। মুজাহিদ বলেছেন يَذْرَؤُكُمْ فِيْهِ, আল্লাহ্ তোমাদেরকে গর্ভাশয়ের মধ্যে ধারাবাহিক বংশ পরম্পরার সঙ্গে সৃষ্টি করতে থাকবেন। لَا حُجَّةَ بَيْنَنَا আমাদের মধ্যে কোন ঝগড়া-বিবাদ নেই। مِنْ طَرْفٍ خَفِيٍّ অবনমিত। মুজাহিদ ছাড়া অন্যরা বলেন। فَيَظْلَلْنَ رَوَاكِدَ عَلٰى ظَهْرِهٰ নৌযানগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠে আন্দোলিত হতে থাকে; কিন্তু চলতে পারবে না। شَرَعُوْا তারা আবিষ্কার করেছে।
৪৪৬০। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা তাকেإِلاَّ الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর (কাছে উপস্থিত) সাঈদ ইবনু জুবায়ির (রাঃ) বললেন, এর অর্থ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবারের আত্মীয়তার বন্ধন। (এ কথা শুনে) ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, তুমি তাড়াহুড়া করে ফেললে। কুরাইশের কোন শাখা ছিল না যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্মীয়তা ছিল না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বলেছেন, আমার এবং তোমাদের মাঝে যে আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে তার ভিত্তিতে তোমরা আমার সঙ্গে আত্মীয়সুলভ আচরণ কর। এই আমি তোমাদের থেকে কামনা করি।
আল্লাহ্র বাণীঃ ونادوا يا مالك ليقض علينا ربك "তারা চিৎকার করে বলবে, হে মালিক! তোমার প্রতিপালক যেন আমাদের নিঃশেষ করে দেন।"
সুরা যুখ্রুফ
وَقَالَ مُجَاهِدٌ عَلَى أُمَّةٍ عَلَى إِمَامٍ وَقِيلَهُ يَا رَبِّ تَفْسِيرُهُ أَيَحْسِبُونَ أَنَّا لَا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ وَلَا نَسْمَعُ قِيلَهُمْ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَلَوْلَا أَنْ يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً لَوْلَا أَنْ جَعَلَ النَّاسَ كُلَّهُمْ كُفَّارًا لَجَعَلْتُ لِبُيُوتِ الْكُفَّارِ سَقْفًا مِنْ فِضَّةٍ وَمَعَارِجَ مِنْ فِضَّةٍ وَهِيَ دَرَجٌ وَسُرُرَ فِضَّةٍ مُقْرِنِينَ مُطِيقِينَ آسَفُونَا أَسْخَطُونَا يَعْشُ يَعْمَى وَقَالَ مُجَاهِدٌ أَفَنَضْرِبُ عَنْكُمْ الذِّكْرَ أَيْ تُكَذِّبُونَ بِالْقُرْآنِ ثُمَّ لَا تُعَاقَبُونَ عَلَيْهِ وَمَضَى مَثَلُ الْأَوَّلِينَ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ يَعْنِي الْإِبِلَ وَالْخَيْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيرَ يَنْشَأُ فِي الْحِلْيَةِ الْجَوَارِي جَعَلْتُمُوهُنَّ لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا فَكَيْفَ تَحْكُمُونَ لَوْ شَاءَ الرَّحْمَنُ مَا عَبَدْنَاهُمْ يَعْنُونَ الْأَوْثَانَ يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى مَا لَهُمْ بِذَلِكَ مِنْ عِلْمٍ أَيْ الْأَوْثَانُ إِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ فِي عَقِبِهِ وَلَدِهِ مُقْتَرِنِينَ يَمْشُونَ مَعًا سَلَفًا قَوْمُ فِرْعَوْنَ سَلَفًا لِكُفَّارِ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَثَلًا عِبْرَةً يَصِدُّونَ يَضِجُّونَ مُبْرِمُونَ مُجْمِعُونَ أَوَّلُ الْعَابِدِينَ أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ وَقَالَ غَيْرُهُ إِنَّنِي بَرَاءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ الْعَرَبُ تَقُولُ نَحْنُ مِنْكَ الْبَرَاءُ وَالْخَلَاءُ وَالْوَاحِدُ وَالِاثْنَانِ وَالْجَمِيعُ مِنْ الْمُذَكَّرِ وَالْمُؤَنَّثِ يُقَالُ فِيهِ بَرَاءٌ لِأَنَّهُ مَصْدَرٌ وَلَوْ قَالَ بَرِيءٌ لَقِيلَ فِي الِاثْنَيْنِ بَرِيئَانِ وَفِي الْجَمِيعِ بَرِيئُونَ وَقَرَأَ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّنِي بَرِيءٌ بِالْيَاءِ وَالزُّخْرُفُ الذَّهَبُ مَلَائِكَةً يَخْلُفُونَ يَخْلُفُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا
মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন, عَلٰى أُمَّةٍ এক নেতার অনুসারী। وَقِيْلَه يَا رَبِّ এর ব্যাখ্যা এই যে, কাফিররা কি মনে করে, আমি তাদের গোপন বিষয় ও মন্ত্রণার খবর রাখি না এবং আমি তাদের কথাবার্তা শুনি না? ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, وَلَوْلَا أَنْ يَّكُوْنَ النَّاسُ أُمَّةً وَّاحِدَةً যদি সমস্ত মানুষ কাফের হয়ে যাবার আশংকা না থাকত, তাহলে আমি কাফেরদের গৃহের জন্য দিতাম রৌপ্য নির্মিত ছাদ এবং রৌপ্য নির্মিত মা’রিজ অর্থাৎ সিঁড়ি আর রৌপ্য নির্মিত পালঙ্ক। مُقْرِنِيْنَ সামর্থ্যবান লোক। اٰسَفُوْنَا তারা আমাকে রাগান্বিত করল। يَعْشُ অন্ধ হয়ে যায়। মুজাহিদ বলেছেন, أَفَنَضْرِبُ عَنْكُمْ الذِّكْرَ তোমরা কুরআন মাজীদকে মিথ্যা মনে করবে, তারপর এজন্য কি তোমাদের শাস্তি দেয়া হবে না? وَمَضٰى مَثَلُ الْأَوَّلِيْنَ পূর্ববর্তী লোকদের উদাহরণ। وَمَا كُنَّا لَه مُقْرِنِيْنَ উট, ঘোড়া, খচ্চর ও গাধাকে বোঝানো হয়েছে। يَنْشَأُ فِي الْحِلْيَةِ কন্যা সন্তান; এদের তোমরা আল্লাহর সন্তান সাব্যস্ত করছ- এ তোমরা কেমন সিদ্ধান্ত দিচ্ছ ..... لَوْ شَآءَ الرَّحْمٰنُ مَا عَبَدْنَاهُمْ আয়াতাংশে বর্ণিত هم সর্বনাম-এর দ্বারা মূর্তিকে বোঝানো হয়েছে। কেননা, আল্লাহ্ বলেছেন, مَا لَهُمْ بِذَلِكَ مِنْ عِلْمٍ এ সম্বন্ধে প্রতিমাদের কোন জ্ঞান নেই। فِيْ عَقِبِهٰ তার সন্তানদের মধ্যে مُقْتَرِنِيْنَ এক সঙ্গে তারা চলে আসছিল। سَلَفًا দ্বারা উদ্দেশ্য ফির’আউন সম্প্রদায়। কেননা, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মাতের কাফেরদের জন্য তারা হচ্ছে অগ্রগামী দল এবং তারা হচ্ছে শিক্ষা গ্রহণের এক নমুনা। يَصِدُّوْنَ তারা চেঁচামেচি শুরু করে দেয়। مُبْرِمُوْنَ আমিই তো সিদ্ধান্ত দানকারী। أَوَّلُالْعَابِدِيْنَ মু’মিনদের অগ্রণী। إِنَّنِيْ بَرَآءٌ مِّمَّا تَعْبُدُوْنَ আরবরা বলে, نَحْنُ مِنْكَ الْبَرَآءُ وَالْخَلَآءُ আমরা তোমার থেকে পৃথক, পুরুষলিঙ্গ, স্ত্রীলিঙ্গ, বহুবচন, দ্বিবচন ও একবচন সকল ক্ষেত্রে الْبَرَآءُ শব্দটি একইভাবে ব্যবহৃত হয়। কেননা, এ শব্দটি হচ্ছে মাসদার (মূল শব্দ)। যদি بَرِيْءٌ বল, তাহলে দ্বিবচনে بَرِيئَآنِ বলা হবে এবং বহুবচনে বলা হবে بَرِيــٓئُوْنَ। ’আবদুল্লাহ্ إِنَّنِيْبَرِيْٓءٌ (يا দ্বারা) পাঠ করতেন। الزُّخْرُفُ স্বর্ণ। مَلَآئِكَةً তারা পরস্পরের স্থলাভিষিক্ত হতো।
৪৪৬১। হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) … ইয়ালা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বরে পড়তে শুনেছি- وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ (তারা চীৎকার করে বলবে, হে মালিক! তোমার প্রতিপালক যেন আমাদের নিঃশেষ করে দেন।) ক্বাতাদাহ বলেন, مَثَلًا لِّلْاٰخِرِيْنَ এর অর্থ পরবর্তী লোকদের জন্য উপদেশ।
ক্বাতাদাহ (রহঃ) ব্যতীত অন্যান্য মুফাসসির বলেছেন, مُقْرِنِيْنَ নিয়ন্ত্রণকারী। বলা হয় فُلَانٌ مُقْرِنٌ لِفُلَانٍ অর্থাৎ তার নিয়ন্তা। الأَكْوَابُ অর্থ হাতল বিহীন পানপাত্র। ক্বাতাদাহ (রহ.) أُمِّ الْكِتَابِ সম্পর্কে বলেন, তা হচ্ছে মূল কিতাব ও সারাংশ। أَوَّلُ الْعَابِدِيْنَ অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর কোন সন্তান নেই এ কথা প্রত্যাখ্যানকারী সর্বপ্রথম আমি নিজেই। رَجُلٌ عَابِدٌ وَعَبِدٌ দু’ ধরনের ব্যবহার রয়েছে। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) وَقَالَ الرَّسُوْلُ يَا رَبِّ পাঠ করতেন। কোন কোন মুফাসসির বলেন, أَوَّلُ الْعَابِدِيْنَ এ বর্ণিত الْعَابِدِيْنَ শব্দটি عَبِدَ يَعْبَد এর ওজনে এসেছে; যার অর্থ অস্বীকারকারী।
কাতাদা (রহঃ) বলেনأُمِّ الْكِتَابِ অর্থাৎ মূল কিতাব।أَفَنَضْرِبُ عَنْكُمُ الذِّكْرَ صَفْحًا أَنْ كُنْتُمْ قَوْمًا مُسْرِفِينَ এর মাঝে উল্লিখিত مُسْرِفِينَ এর অর্থمُشْرِكِينَ অর্থাৎ আমি কি তোমাদের হতে এই উপদেশবাণী সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নেব এই কারণে যে, তোমরা মুশরিক? আল্লাহর কসম, এ উম্মতের প্রাথমিক অবস্থায় যখন (কুরাইশগণ) আল-কুরআনকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তখন যদি তাকে প্রত্যাহার করা হত, তাহলে তাঁরা সকলেই ধ্বংস হয়ে যেত।فَأَهْلَكْنَا أَشَدَّ مِنْهُمْ بَطْشًا وَمَضَى مَثَلُ الأَوَّلِينَ এর মাঝে বর্ণিত مَثَلُ الأَوَّلِينَ এর অর্থ তাদের মধ্যে যারা তাদের অপেক্ষা শক্তিতে প্রবল ছিল, তাদের আমি ধ্বংস করেছিলাম। আর এভাবেই চলে এসেছে পূর্ববর্তী লোকদের শাস্তির দৃষ্টান্ত। جُزْء অর্থ সমকক্ষ।
আল্লাহ্র বাণীঃ فارتقب يوم تأتي السماء بدخان مبين "অতএব তুমি অপেক্ষা কর সেদিনের, যেদিন ধুম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ।" (৪৪ঃ ১) فارتقب অপেক্ষা কর
৪৪৬৩। ইয়হ্ইয়া (রহঃ) ... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন, অবস্থা এ জন্য যে, কুরাইশরা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাফরমানী করল, তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে এমন দুর্ভিক্ষের দোয়া করলেন, যেমন দুর্ভিক্ষ হয়েছিল ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর সময়ে। তারপর তাদের উপর দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধার কষ্ট এমনভাবে আপতিত হল যে, তারা হাড্ডি খেতে আরম্ভ করল। তখন মানুষ আকাশের দিকে তাকালে ক্ষুধার তাড়নায় তারা আকাশ ও তাদের মধ্যে শুধু ধোঁয়ার মত দেখতে পেত। এ সম্পর্কেই আল্লাহ্ নাযিল করলেন, “অতএব তুমি অপেক্ষা কর সেদিনের, যেদিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ এবং তা আবৃত করে ফেলবে মানব জাতিকে। এ হবে মর্মন্তুদ শাস্তি।”
বর্ণনাকারী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (কাফেরদের পক্ষ থেকে) এক ব্যাক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মুদার গোত্রের জন্য বৃষ্টির দোয়া করুন। তারা তো ধ্বংস হয়ে গেল। তিনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মুদার গোত্রের জন্য দোয়া করতে বলছ। তুমি তো খুব সাহসী। তারপর তিনি বৃষ্টির জন্য দোয়া করলেন এবং বৃষ্টি হল। তখন নাযিল হল, তোমরা তো তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে। যখন তাদের সচ্ছলতা ফিরে এলো, তখন আবার নিজেদের পূর্বের অবস্থায় ফিরে গেল। তারপর আল্লাহ্ নাযিল করলেন, “যেদিন আমি তোমাদের প্রবলভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি তোমাদের প্রতিশোধ নেবই। বর্ণনাকারী বলেন, অর্থাৎ বদর যুদ্ধের দিন।
আল্লাহ্র বাণীঃ ربنا اكشف عنا العذاب إنا مؤمنون "তখন তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এ শাস্তি থেকে মুক্তি দান কর, নিশ্চয়ই আমরা ঈমান আনব।" (৪৪ঃ ১২)
৪৪৬৪। ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) … মাসরুক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ (রাঃ) এর কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেন, যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, সে সম্পর্কে আল্লাহ্ই ভাল জানেন, একথা বলাও জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয় আল্লাহ্ তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেছেন, “বল, আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না এবং আমি বানোয়াটকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।” কুরাইশরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বাড়াবাড়ি করল এবং বিরোধিতা করল, তখন তিনি দোয়া করলেন, ইয়া আল্লাহ্! ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর সময়কার সাত বছরের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষ দ্বারা তুমি আমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য কর। তারপর দুর্ভিক্ষ তাদেরকে পাকড়াও করল।
ক্ষুধার জ্বালায় তারা হাড্ডি এবং মরা খেতে আরম্ভ করল। এমনকি তাদের কোন ব্যাক্তি আকাশের দিকে তাকালে ক্ষুধার জ্বালায় তার ও আকাশের মাঝে শুধু ধোঁয়ার মতই দেখতে পেত। তখন তারা বলল, “হে আমাদের রব! আমাদের থেকে এ শাস্তি সরিয়ে নাও, নিশ্চয়ই আমরা ঈমান আনব।” তাঁকে বলা হল, যদি আমি তাদের থেকে শাস্তি রহিত করে দেই, তাহলে তারা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে। তারপর তিনি তাঁর রবের নিকট দোয়া করলেন। আল্লাহ্ তাদের থেকে শাস্তি রহিত করে দিলেন; কিন্তু তারা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এল। তাই আল্লাহ্ বদর যুদ্ধের দিন তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলেন। নিম্নোক্ত আয়াতসমূহে এ কথাই বর্ণনা করা হয়েছে। আয়াতيَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ إِلَى قَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ إِنَّا مُنْتَقِمُونَ পর্যন্ত।
আল্লাহ্র বাণীঃ أنى لهم الذكرى وقد جاءهم رسول مبين তারা কি করে উপদেশ গ্রহন করবে? তাদের নিকট তো এসেছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দানকারী এক রাসুল। (৪৪ঃ ১৩) الذكر এবং الذكرى একার্থবোধক শব্দ।
৪৪৬৫। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহর কাছে গেলাম। তারপর তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কুরাইশদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং তাঁকে মিথ্যাবাদী বলল ও তার নাফরমানী করল, তখন তিনি বললেন, ইয়া আল্লাহ্! ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর সময়কার সাত বছরের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষ দ্বারা তুমি আমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য কর। ফলে দুর্ভিক্ষ তাদের এমনভাবে গ্রাস করল যে, নির্মূল হয়ে গেল সমস্ত কিছু; অবশেষে তারা মৃতদেহ খেতে আরম্ভ করল। তাদের কেউ দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকালে ক্ষুধার জ্বালায় সে তার ও আকাশের মাঝে ধোঁয়ার মতই দেখতে পেত।
এরপর তিনি পাঠ করলেন, “অতএব তুমি অপেক্ষা কর সে দিনের, যে দিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ এবং তা আবৃত করে ফেলবে মানব জাতিকে। এ হবে মর্মন্তুদ শাস্তি। আমি তোমাদের শাস্তি কিছুকালের জন্য রহিত করছি, তোমরা তো তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে।” পর্যন্ত আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, কিয়ামতের দিনও কি তাদের থেকে শাস্তি রহিত করা হবে? তিনি বলেন,الْبَطْشَةُ الْكُبْرَى দ্বারা বদরের দিনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আল্লাহ্র বাণীঃ ثم تولوا عنه وقالوا معلم مجنون এরপর তারা তাকে অমান্য করে বলে সে তো শিখানো বুলি বলছে, সে তো এক পাগল (৪৪ঃ ১৪)
৪৪৬৬। বিশর্ ইবনু খালিদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা মুহাম্মাদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পাঠিয়ে বলেছেন, “বল, আমি এর জন্য তোমাদের কোন প্রতিদান চাই না এবং যারা মিথ্যা দাবি করে তাদের অন্তর্ভুক্ত নই।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দেখলেন যে, কুরাইশরা তাঁর নাফরমানী করছে, তখন তিনি বললেন, ইয়া আল্লাহ্! ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর সময়কার সাত বছরের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষ দ্বারা তুমি আমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য কর। ফলে দুর্ভিক্ষ তাদের গ্রাস করল। নিঃশেষ করে দিল তাদের সমস্ত কিছু, এমনকি তারা হাড় ও চামড়া খেতে আরম্ভ করল। আর একজন রাবী বলেছেন, তারা চামড়া ও মৃতদেহ খেতে লাগল। তখন যমীন থেকে ধোঁয়ার মত বের হতে লাগল।
এ সময় আবূ সুফিয়ান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মদ! তোমার কওম তো ধ্বংস হয়ে গেল। আল্লাহর কাছে দোয়া কর, যেন তিনি তাদের থেকে এ অবস্থা দূরীভূত করে দেন। তখন তিনি দোয়া করলেন, এবং বললেন, এরপর তারা আবার নিজেদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে। মানসুর থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে, তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন, “অতএব, তুমি অপেক্ষা কর সে দিনের, যে দিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ, তোমরা তো পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবেই ...... পর্যন্ত। (তিনি বলেন) আখিরাতের শাস্তিও কি দূরীভূত হয়ে যাবে? ধোঁয়া, প্রবল পাকড়াও এবং ধ্বংস তো অতীত হয়েছে। এক রাবী চন্দ্র এবং অন্য রাবী রোমের পরাজয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ আল্লাহ্র বাণীঃ يوم نبطش البطشة الكبرى إنا منتقمون "যেদিন আমি তোমাদেরকে প্রবলভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি তোমাদের শাস্তি দেবই।" (৪৪ঃ ১৬)
৪৪৬৭। ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পাঁচটি বিষয় ঘটে গেছেঃ ধ্বংস, রূম, পাকড়াও, চন্দ্র ও ধোঁয়া।
পরিচ্ছেদ নাই
হাদিস নং ৪৪৬৮সহিহ
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يُؤْذِينِي ابْنُ آدَمَ، يَسُبُّ الدَّهْرَ وَأَنَا الدَّهْرُ، بِيَدِي الأَمْرُ، أُقَلِّبُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
সুরা জাছিয়া
الْجَاثِيَةِ ভয়ে নতজানু। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, نَسْتَنْسِخُ অর্থ- আমি লিখছিলাম। نَنْسَاكُمْ অর্থ-আমি তোমাদেরকে ত্যাগ করব।
৪৪৬৮। হুমায়দী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ বলেন, আদম সন্তানরা আমাকে কষ্ট দেয়। তারা যমানাকে গালি দেয়; অথচ আমিই যমানা। আমার হাতেই ক্ষমতা; রাত ও দিন আমিই পরিবর্তন করি।
আল্লাহ্র বাণীঃ والذي قال لوالديه أف لكما أتعدانني أن أخرج وقد خلت القرون من قبلي وهما يستغيثان الله ويلك آمن إن وعد الله حق فيقول ما هذا إلا أساطير الأولين "আর এমন লোক আছে যে, তার পিতামাতাকে বলে, তোমাদের জন্য আফসোস! তোমরা কি আমাকে এই ভয় দেখাতে চাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব, যদিও আমার পূর্বে বহু পুরুষ গত হয়েছে। তখন তার পিতা মাতা আল্লাহ্র কাছে ফরিয়াদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমাদের জন্য! ঈমান আন- আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য। কিন্তু সে বলে, এ তো অতীতকালের উপকথা ব্যতীত কিছুই নয়" পর্যন্ত (৪৬ঃ ১৭)
সুরা আহকাফ
وَقَالَ مُجَاهِدٌ تُفِيضُونَ تَقُولُونَ وَقَالَ بَعْضُهُمْ أَثَرَةٍ وَأُثْرَةٍ وَأَثَارَةٍ بَقِيَّةٌ مِنْ عِلْمٍ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ بِدْعًا مِنْ الرُّسُلِ لَسْتُ بِأَوَّلِ الرُّسُلِ وَقَالَ غَيْرُهُ أَرَأَيْتُمْ هَذِهِ الْأَلِفُ إِنَّمَا هِيَ تَوَعُّدٌ إِنْ صَحَّ مَا تَدَّعُونَ لَا يَسْتَحِقُّ أَنْ يُعْبَدَ وَلَيْسَ قَوْلُهُ أَرَأَيْتُمْ بِرُؤْيَةِ الْعَيْنِ إِنَّمَا هُوَ أَتَعْلَمُونَ أَبَلَغَكُمْ أَنَّ مَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ خَلَقُوا شَيْئًا
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, تُفِيْضُوْنَ তোমরা বলছ বা বলবে। কোন কোন মুফাসসির বলেছেন, أَثَرَةٍ এবং أُثْرَةٍ ও وَأَثَارَةٍ এর অর্থ ’ইলমের অবশিষ্টাংশ। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, بِدْعًا مِنْ الرُّسُلِ আমি তো প্রথম রাসূল নই। অন্য তাফসীরকারগণ বলেছেন, أَرَأَيْتُمْ এর الف অক্ষরটি استفهام تهديد এর জন্য এখানে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ তোমাদের দাবী যদি সঠিক হয়, তাহলেও তাদের ’ইবাদাত করার উপযুক্ত তারা নয়। أَرَأَيْتُمْ এর অর্থ, চাক্ষুস দেখা নয়; বরং এর অর্থ হচ্ছে, তোমরা কি জানতে যে, আল্লাহ্ ছাড়া তোমরা যাদের ’ইবাদাত করছ, তারা কি কোন কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম?
৪৪৬৯। মূসা ইবনু ইসমাঈল ... ইউসুফ ইবনু মাহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মারওয়ান ছিলেন হিজাযের গভর্নর। তাকে নিয়োগ করেছিলেন মু’আবিয়া (রাঃ)। তিনি একদা খুতবা দিলেন এবং তাতে ইয়াযীদ ইবনু মু’আবিয়ার কথা বারবার উল্লেখ করতে লাগলেন, যেন তাঁর পিতার ইন্তেকালের পর তার বায়আত গ্রহন করা হয়। এ সময় তাকে আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর কিছু কথা বললেন, মারওয়ান বললেন, তাঁকে পাকড়াও কর। তৎক্ষণাৎ তিনি আয়িশা (রাঃ) এর ঘরে চলে গেলেন। তারা তাঁকে ধরতে পারল না। তারপর মারওয়ান বললেন, এ তো সেই ব্যাক্তি যার সম্বন্ধে আল্লাহ নাযিল করেছেন, “আর এমন লোক আছে যে, মাতাপিতাকে বলে, তোমাদের জন্য আফসোস! তোমরা কি আমাকে এ ভয় দেখাতে চাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব যদিও আমার পূর্বে বহু পুরুষ গত হয়েছে, তখন তার মাতাপিতা আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমার জন্য। বিশ্বাস স্থাপন কর, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য। কিন্তু সে বলে এ তো অতীতকালের উপকথা ব্যতীত কিছুই নয়।”
আল্লাহ্র বাণীঃ فلما رأوه عارضا مستقبل أوديتهم قالوا هذا عارض ممطرنا بل هو ما استعجلتم به ريح فيها عذاب أليم "এরপর যখন তাদের উপত্যকার দিকে মেঘ আসতে দেখল তখন তারা বলতে লাগল, এ তো মেঘ, আমাদের বৃষ্টি দান করবে (হুদ বলল) এ তো যা তোমরা ত্বরান্বিত করতে চেয়েছ, এতে রয়েছে এ ঝড়- মর্মন্তুদ শাস্তি বহনকারী।" (৪৬ঃ ২৪) ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, عارض অর্থ মেঘ।
হাদিস নং ৪৪৭০সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرٌو، أَنَّ أَبَا النَّضْرِ، حَدَّثَهُ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضَاحِكًا حَتَّى أَرَى مِنْهُ لَهَوَاتِهِ، إِنَّمَا كَانَ يَتَبَسَّمُ. قَالَتْ وَكَانَ إِذَا رَأَى غَيْمًا أَوْ رِيحًا عُرِفَ فِي وَجْهِهِ. قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوُا الْغَيْمَ فَرِحُوا، رَجَاءَ أَنْ يَكُونَ فِيهِ الْمَطَرُ، وَأَرَاكَ إِذَا رَأَيْتَهُ عُرِفَ فِي وَجْهِكَ الْكَرَاهِيَةُ. فَقَالَ " يَا عَائِشَةُ مَا يُؤْمِنِّي أَنْ يَكُونَ فِيهِ عَذَابٌ عُذِّبَ قَوْمٌ بِالرِّيحِ، وَقَدْ رَأَى قَوْمٌ الْعَذَابَ فَقَالُوا (هَذَا عَارِضٌ مُمْطِرُنَا)"
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৪৭০। আহমদ (রহঃ) ... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এমনভাবে কখনো হাসতে দেখিনি, যাতে তাঁর কন্ঠনালীর আলজিভ দেখা যায়। তিনি মুচকি হাসতেন। যখনই তিনি মেঘ অথবা ঝঞ্ঝা বায়ু দেখতেন, তখনই তাঁর চেহারায় তা ফুটে উঠত। আয়িশা (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মানুষ যখন মেঘ দেখে, তখন বৃষ্টির আশায় আনন্দিত হয়। কিন্তু আপনি যখন মেঘ দেখেন, তখন আমি আপনার চেহারায় আতংকের ছাপ পাই। তিনি বললেন, হে আয়িশা! এতে যে আযাব নেই, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। বাতাসের দ্বারাই তো এক কওমকে আযাব দেয়া হয়েছে। সে কওম তো আযাব দেখে বলেছিল, এ তো আমাদের বৃষ্টি দান করবে।
সুরা মুহাম্মদ
أَوْزَارَهَا তার অস্ত্র, যাতে মুসলিম ব্যতীত আর কেউ বাকী না থাকে। عَرَّفَهَا অর্থ, বর্ণনা করে দিয়েছেন তার সম্বন্ধে। মুজাহিদ বলেন, مَوْلَى الَّذِيْنَاٰمَنُوْا অর্থাৎ তাদের অভিভাবক। عَزَمَ الْأَمْرُ অর্থ, কোন বিষয়ের তথা জিহাদের সিদ্ধান্ত হলে। لَا تَهِنُوْا অর্থাৎ তোমরা দুর্বল হয়ো না। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, أَضْغَانَهُمْ তাদের হিংসা। اٰسِنٍ অর্থ, দূষিত হয়ে স্বাদ বদলে গেছে।
৪৪৭১। খালিদ ইবনু মাখলাদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেন। এ থেকে তিনি ফারেগ হলে ’রাহিম’ (রক্তসম্পর্ক) দাঁড়িয়ে পরম করুণাময়ের আঁচল টেনে ধরল। তিনি তাকে বললেন, থামো। সে বলল, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী ব্যাক্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনার জন্যই আমি এখানে দাঁড়িয়েছি। আল্লাহ্ বললেন, যে তোমাকে সম্পৃক্ত রাখে, আমিও তাকে সম্পৃক্ত রাখব; আর যে তোমার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে, আমিও তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করব- এতে কি তুমি সন্তুষ্ট নও? সে বলল, নিশ্চয়ই, হে আমার প্রভু। তিনি বললেন, যাও তোমার জন্য তাই করা হল। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, ইচ্ছা হলে তোমরা পড়, “ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে।”
হাদিস নং ৪৪৭২সহিহ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، عَنْ مُعَاوِيَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَمِّي أَبُو الْحُبَابِ، سَعِيدُ بْنُ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، بِهَذَا، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ (فَهَلْ عَسَيْتُمْ)
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৪৭২। ইব্রাহীম ইবনু হামযা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (এরপর তিনি বলেন) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইচ্ছা হলে তোমরা পড় (“ক্ষমতার অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে।”)
হাদিস নং ৪৪৭৩সহিহ
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي الْمُزَرَّدِ، بِهَذَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ (فَهَلْ عَسَيْتُمْ)
৪৪৭৩। বিশর ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... মু’আবিয়া ইবনু আবূল মুযাররাদ (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (আবূ হুরায়রা বলেন) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইচ্ছা হলে তোমরা পড়, (ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে)।
আল্লাহ্র বাণীঃ إنا فتحنا لك فتحا مبينا "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়।"
হাদিস নং ৪৪৭৪সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَسِيرُ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَسِيرُ مَعَهُ لَيْلاً، فَسَأَلَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عَنْ شَىْءٍ، فَلَمْ يُجِبْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ سَأَلَهُ فَلَمْ يُجِبْهُ، ثُمَّ سَأَلَهُ فُلَمْ يُجِبْهُ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ثَكِلَتْ أُمُّ عُمَرَ، نَزَرْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، كُلَّ ذَلِكَ لاَ يُجِيبُكَ. قَالَ عُمَرُ فَحَرَّكْتُ بَعِيرِي، ثُمَّ تَقَدَّمْتُ أَمَامَ النَّاسِ، وَخَشِيتُ أَنْ يُنْزَلَ فِيَّ الْقُرْآنُ، فَمَا نَشِبْتُ أَنْ سَمِعْتُ صَارِخًا يَصْرُخُ بِي فَقُلْتُ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ يَكُونَ نَزَلَ فِيَّ قُرْآنٌ. فَجِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ " لَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَىَّ اللَّيْلَةَ سُورَةٌ لَهِيَ أَحَبُّ إِلَىَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ ". ثُمَّ قَرَأَ "(إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا)"
বর্ণনাকারী: আসলাম (রাঃ)
সুরা ফাতহ
وَقَالَ مُجَاهِدٌ بُورًا هَالِكِينَ سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ السَّحْنَةُ وَقَالَ مَنْصُورٌ عَنْ مُجَاهِدٍ التَّوَاضُعُ شَطْأَهُ فِرَاخَهُ فَاسْتَغْلَظَ غَلُظَ سُوقِهِ السَّاقُ حَامِلَةُ الشَّجَرَةِ وَيُقَالُ دَائِرَةُ السَّوْءِ كَقَوْلِكَ رَجُلُ السَّوْءِ وَدَائِرَةُ السُّوءِ الْعَذَابُ تُعَزِّرُوهُ تَنْصُرُوهُ شَطْأَهُ شَطْءُ السُّنْبُلِ تُنْبِتُ الْحَبَّةُ عَشْرًا أَوْ ثَمَانِيًا وَسَبْعًا فَيَقْوَى بَعْضُهُ بِبَعْضٍ فَذَاكَ قَوْلُهُ تَعَالَى فَآزَرَهُ قَوَّاهُ وَلَوْ كَانَتْ وَاحِدَةً لَمْ تَقُمْ عَلَى سَاقٍ وَهُوَ مَثَلٌ ضَرَبَهُ اللَّهُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ خَرَجَ وَحْدَهُ ثُمَّ قَوَّاهُ بِأَصْحَابِهِ كَمَا قَوَّى الْحَبَّةَ بِمَا يُنْبِتُ مِنْهَا
মুজাহিদ বলেন, سِيْمَاهُمْ فِيْ وُجُوْهِهِمْ তাদের মুখমণ্ডল
ের নিদর্শন। মানসূর মুজাহিদের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, এর অর্থ হচ্ছে বিনয় ও নম্রতা। شَطْأَهُ অর্থ, কচি পাতা। فَاسْتَغْلَظَ পুষ্ট হয়। سُوْقِهِ ঐ কান্ড যা গাছকে দাঁড় করিয়ে রাখে। دَآئِرَةُالسَّوْءِ শব্দটি এখানে رَجُلُالسَّوْءِ এর মত ব্যবহৃত হয়েছে। دَآئِرَةُ السُّوْءِ শাস্তি। تُعَزِّرُوْهُ তাঁরা তাঁকে সাহায্য করে। شَطْأَهُ কচি পাতা, একটি বীজ থেকে দশ, আট এবং সাতটি করে বীজ অঙ্কুরিত হয় এবং একটি অপরটিকে শক্তিশালী করে। আল্লাহর বাণীঃ فَاٰزَرَهُ (এরপর এটা শক্তিশালী হয়) এর মধ্যে এ কথাই বর্ণনা করা হয়েছে। অঙ্কুর যদি একটি হয় তাহলে তা কান্ডের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। আল্লাহ্ তা’আলা এ উপমাটি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্বন্ধে ব্যবহার করেছেন, কেননা, প্রথমত তিনি একাই দাওয়াত নিয়ে উত্থিত হয়েছেন, তারপর সাহাবীদের দ্বারা (আল্লাহ্) তাকে শক্তিশালী করেছেন যেমন বীজ থেকে উদগত অঙ্কুর দ্বারা বীজ শক্তিশালী হয়।
৪৪৭৪। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … আসলাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা কোন এক সফরে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-ও চলছিলেন। উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) তাঁকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করলেন, কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোন জবাব দেননি। তিনি আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, কিন্তু তিনি কোন জবাব দিলেন না। তারপর তিনি আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, এবারও তিনি কোন জবাব দিলেন না। তখন উমর (রাঃ) (নিজেকে) বললেন, উমরের মা হারাক। তুমি তিনবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করলে, কিন্তু একবারও তিনি তোমার জবাব দিলেন না।
উমর (রাঃ) বলেন, তারপর আমি আমার উটটি দ্রুত চালিয়ে লোকদের আগে চলে গেলাম এবং আমার ব্যাপারে কুরআন নাযিলের আশংকা করলাম। বেশিক্ষণ হয়নি, তখন শুনলাম এক আহবানকারী আমাকে আহবান করছে। আমি (মনে মনে) বললাম, আমি তো আশংকা করছিলাম যে, আমার ব্যাপারে কোন আয়াত নাযিল হতে পারে। তারপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন, আজ রাতে আমার উপর এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে, যা আমার কাছে, এই পৃথিবী, যার ওপর সূর্য উদিত হয়, তা থেকেও অধিক প্রিয়। তারপর তিনি পাঠ করলেন, "নিশ্চয়ই আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়"।
হাদিস নং ৪৪৭৫সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ (إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا) قَالَ الْحُدَيْبِيَةُ.
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৪৭৫। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন,إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا “এর দ্বারা হুদাবিয়ার সন্ধি বোঝানো হয়েছে।
হাদিস নং ৪৪৭৬সহিহ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ قُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، قَالَ قَرَأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ سُورَةَ الْفَتْحِ فَرَجَّعَ فِيهَا. قَالَ مُعَاوِيَةُ لَوْ شِئْتُ أَنْ أَحْكِيَ لَكُمْ قِرَاءَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَفَعَلْتُ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ)
৪৪৭৬। মুসলিম ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন সূরা ফাতহ্ সুমধুর কণ্ঠে পাঠ করেন। মু’আবিয়া (রাঃ) বলেন, আমি ইচ্ছা করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিরাআত তোমাদের নকল করে শোনাতে পারি।
আল্লাহ্র বাণীঃ ليغفر لك الله ما تقدم من ذنبك وما تأخر ويتم نعمته عليك ويهديك صراطا مستقيما "যেন আল্লাহ্ তোমার অতীত ও ভবিষ্যৎ ত্রুটিসমূহ মার্জনা করেন এবং তোমার প্রতি তার অনুগ্রহ পূর্ণ করেন ও তোমাকে সরল পথে পরিচালিত করেন (৪৮ঃ ২)
৪৪৭৭। সাদাকা ইবনু ফায্ল (রহঃ) ... মুগীরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত বেশি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন যে, তাঁর কদমদ্বয় ফুলে যেতো। তাঁকে বলা হল, আল্লাহ্ তো আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের ত্রুটিসমূহ মাজনা করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না?
হাদিস নং ৪৪৭৮সহিহ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا حَيْوَةُ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، سَمِعَ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُومُ مِنَ اللَّيْلِ حَتَّى تَتَفَطَّرَ قَدَمَاهُ فَقَالَتْ عَائِشَةُ لِمَ تَصْنَعُ هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَقَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ قَالَ " أَفَلاَ أُحِبُّ أَنْ أَكُونَ عَبْدًا شَكُورًا ". فَلَمَّا كَثُرَ لَحْمُهُ صَلَّى جَالِسًا فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ قَامَ، فَقَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৪৭৮। হাসান ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে এত বেশি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন যে, তাঁর দুই পা ফেটে যেতো। আয়িশা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ্ তো আপনার আগের ও পরের ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন? তবু আপনি কেন তা করছেন? তিনি বললেন, আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হতে ভালবাসবো না? তাঁর মেদ বেড়ে গেলে* তিনি বসে সালাত আদায় করতেন। যখন রুকু করার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি দাঁড়িয়ে কিরাআত পড়তেন, তারপর রুকূ করতেন।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
* অর্থাৎ তিনি বার্ধক্যে উপনীত হলেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ إنا أرسلناك شاهدا ومبشرا ونذيرا আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে (৪৮ঃ ৮)
৪৪৭৯। আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ আমর ইবনু আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কুরআনের এ আয়াত, “আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে” তাওরাতে আল্লাহ্ এভাবে বলেছেন, হে নবী আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে, সুসংবাদবাদা ও উম্মী লোকদের মুক্তি দাতারূপে। তুমি আমার বান্দা ও রাসূল। আমি তোমার নাম নির্ভরকারী (মুতাওয়াক্কিল) রেখেছি যে রূঢ় ও কঠোরচিত্ত নয়, বাজারে শোরগোলকারী নয় এবং মন্দ মন্দ দ্বারা প্রতিহতকারীও নয়; বরং তিনি ক্ষমা করবেন এবং উপেক্ষা করবেন। বক্র জাতিকে সোজা না করা পর্যন্ত আল্লাহ্ তাঁর জান কবয করবেন না। তা এভাবে যে, তারা বলবে, আল্লাহ্ ছাড়া ইলাহ নেই। ফলে খুলে যাবে অন্ধ চোখ, বধির কান এবং পর্দায় ঢাকা অন্তরসমূহ।
আল্লাহ্র বাণীঃ هو الذي أنزل السكينة في قلوب المؤمنين তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি প্রদান করেন। (৪৮ঃ ৪)
হাদিস নং ৪৪৮০সহিহ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ، وَفَرَسٌ لَهُ مَرْبُوطٌ فِي الدَّارِ، فَجَعَلَ يَنْفِرُ، فَخَرَجَ الرَّجُلُ فَنَظَرَ فَلَمْ يَرَ شَيْئًا، وَجَعَلَ يَنْفِرُ، فَلَمَّا أَصْبَحَ ذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " تِلْكَ السَّكِينَةُ تَنَزَّلَتْ بِالْقُرْآنِ ".
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
৪৪৮০। উবায়দুল্লাহ্ ইবনু মূসা (রহঃ) ... বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সাহাবী কিরাআত পাঠ করছিলেন। তাঁর একটি ঘোড়া ঘরে বাঁধা ছিল। হঠাৎ তা পালিয়ে যেতে লাগলো। সে ব্যাক্তি বেরিয়ে এসে নজর করলেন; কিন্তু কিছুই দেখতে পেলেন না। ঘোড়াটি ভেগেই যাচ্ছিল। যখন ভোর হল তখন তিনি ঘটনাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বর্ণনা করলে তিনি বললেন, এ হল সেই প্রশান্তি, যা কুরআন তিলাওয়াত করার সময় নাযিল হয়ে থাকে।
আল্লাহ্র বাণীঃ إذ يبايعونك تحت الشجرة যখন বৃক্ষতলে তারা তোমার কাছে বায়আত গ্রহন করল। (৪৮ঃ ১৮)
৪৪৮২। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মাগাফফাল মুযানী (রাঃ) (যিনি সন্ধির সময় উপস্থিত ছিলেন) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই আঙ্গুলের মাঝে কংকর নিয়ে নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন। উকবা ইবনু সুহবান (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল মুযানী (রাঃ) কে গোসলখানায় পেশাব করা সম্পর্কে বর্ণনা করতে শুনেছি।
হাদিস নং ৪৪৮৩সহিহ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ الضَّحَّاكِ ـ رضى الله عنه ـ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ الشَّجَرَةِ.
বর্ণনাকারী: সাবিত ইবন যাহহাক আনসারী (রাঃ)
৪৪৮৩। মুহাম্মদ ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) ... সাবিত ইবনু যাহ্হাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনিও বৃক্ষতলে বায়আতকারী সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
৪৪৮৪। আহমাদ ইবনু ইসহাক সুলামী (রহঃ) … হাবীব ইবনু আবূ সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ওয়ায়িল (রাঃ) এর কাছে কিছু জিজ্ঞেস করার জন্য এলে, তিনি বললেন, আমরা সিফফীনের ময়দানে ছিলাম। এমন সময় এক ব্যাক্তি বললেন, তোমরা কি সে লোকদেরকে দেখতে পাচ্ছ না, যাদের আল্লাহর কিতাবের দিকে আহবান করা হচ্ছে? আলী (রাঃ) বললেন, হাঁ। তখন সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ) বললেন, প্রথমে তোমরা নিজেদের খবর নাও। হুদায়বিয়ার দিন অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মক্কার মুশরিকদের মধ্যে যে সন্ধি হয়েছিল, আমরা তা দেখেছি। যদি আমরা একে যুদ্ধ মনে করতাম, তাহলে অবশ্যই আমরা যুদ্ধ করতাম। সেদিন উমর (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলেছিলেন, আমরা কি হকের উপর নই, আর তারা কি বাতিলের উপর নয়? আমাদের নিহত ব্যাক্তিরা জান্নাতে, আর তাদের নিহত ব্যাক্তিরা কি জাহান্নামে যাবে না? তিনি বললেন, হাঁ।
তখন উমর (রাঃ) বললেন, তাহলে কেন আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অবমাননাকর শর্ত আরোপ করা হবে এবং আমরা ফিরে যাব? অথচ আল্লাহ্ আমাদেরকে এ সন্ধির ব্যাপারে নির্দেশ দেননি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে খাত্তাবের পুত্র! আমি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ্ কখনো আমাকে ধ্বংস করবেন না। উমর (রাঃ) গোস্বায় ক্ষুণ্ন মনে ফিরে গেলেন। তিনি ধৈর্য ধারণ করতে পারলেন না। তারপর তিনি আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর কাছে গেলেন এবং বললেন, হে আবূ বকর! আমরা কি হকের উপর নই এবং তারা কি বাতিলের উপর নয়? তিনি বললেন, হে খাত্তাবের পুত্র! নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ্ কখনো তাকে ধ্বংস করবেন না। এ সময় সূরা ফাতহ্ নাযিল হয়।
আল্লাহ্র বাণীঃ لا ترفعوا أصواتكم فوق صوت النبي (হে মুমিনগণ) তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠ উঁচু করোনা (৪৯ঃ২) تشعرون মানে তোমরা জ্ঞাত আছ। الشاعر শব্দটি এ ধাতু থেকেই নির্গত হয়েছে।
হাদিস নং ৪৪৮৫সহিহ
حَدَّثَنَا يَسَرَةُ بْنُ صَفْوَانَ بْنِ جَمِيلٍ اللَّخْمِيُّ، حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ كَادَ الْخَيِّرَانِ أَنْ يَهْلِكَا ـ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ رَفَعَا أَصْوَاتَهُمَا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَدِمَ عَلَيْهِ رَكْبُ بَنِي تَمِيمٍ، فَأَشَارَ أَحَدُهُمَا بِالأَقْرَعِ بْنِ حَابِسٍ أَخِي بَنِي مُجَاشِعٍ، وَأَشَارَ الآخَرُ بِرَجُلٍ آخَرَ ـ قَالَ نَافِعٌ لاَ أَحْفَظُ اسْمَهُ ـ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ لِعُمَرَ مَا أَرَدْتَ إِلاَّ خِلاَفِي. قَالَ مَا أَرَدْتُ خِلاَفَكَ. فَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا فِي ذَلِكَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ) الآيَةَ. قَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ فَمَا كَانَ عُمَرُ يُسْمِعُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ هَذِهِ الآيَةِ حَتَّى يَسْتَفْهِمَهُ. وَلَمْ يَذْكُرْ ذَلِكَ عَنْ أَبِيهِ، يَعْنِي أَبَا بَكْرٍ.
বর্ণনাকারী: ইবন আবূ মুলায়কা (রহঃ)
সুরা হুজুরাত
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لَاتُقَدِّمُوْا অর্থ, রসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কোন বিষয় তোমরা জিজ্ঞেস করবে না যতক্ষণ না, আল্লাহ্ তাঁর যবানে এর ফয়সালা জানিয়ে দেন। امْتَحَنَ মানে পরিশুদ্ধ করেছেন। لَا تَنَابَزُوْا ইসলাম গ্রহণের পর অপরকে যেন কুফরীর প্রতি না ডাকা হয়। يَلِتْكُمْ মানে হ্রাস করা হবে তোমাদের أَلَتْنَا মানে হ্রাস করেছি আমি।
৪৪৮৫। ইয়াসারা ইবনু সাফওয়ান ইবনু জামীল লাখমী (রহঃ) ... ইবনু আবূ মুলায়কা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উত্তম দুই জন- আবূ বকর ও উমর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কন্ঠস্বর উঁচু করে ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছিলেন। যখন বনী তামীম গোত্রের একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসেছিল। তাদের একজন বনী মাজাশে গোত্রের আকরা ইবনু হাবিসকে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তাব করল এবং অপরজন অন্য ব্যাক্তির নাম প্রস্তাব করল। নাফি বলেন, এ লোকটির নাম আমার মনে নেই। তখন আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) উমর (রাঃ) কে বললেন, আপনার ইচ্ছাই হল কেবল আমার বিরোধিতা করা। তিনি বললেন, না, আপনার বিরোধিতা করার ইচ্ছা আমার নেই। এ ব্যাপারটি নিয়ে তাঁদের কন্ঠস্বর উঁচু হয়ে গেল। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেন, “হে মু’মিনগণ! তোমরা নবীর কন্ঠস্বরের উপর নিজেদের কন্ঠস্বর উঁচু করবে না” … শেষ পর্যন্ত।
ইবনু যুবায়র (রাঃ) বলেন, এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর উমর (রাঃ) এতো আস্তে কথা বলতেন যে, দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতে পেতেন না। তিনি আবূ বকর (রাঃ) সম্পর্কে এ ধরনের কথা বর্ণনা করেননি।
হাদিস নং ৪৪৮৬সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ سَعْدٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ، قَالَ أَنْبَأَنِي مُوسَى بْنُ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم افْتَقَدَ ثَابِتَ بْنَ قَيْسٍ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَا أَعْلَمُ لَكَ عِلْمَهُ. فَأَتَاهُ فَوَجَدَهُ جَالِسًا فِي بَيْتِهِ مُنَكِّسًا رَأْسَهُ فَقَالَ لَهُ مَا شَأْنُكَ. فَقَالَ شَرٌّ. كَانَ يَرْفَعُ صَوْتَهُ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ، وَهْوَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ. فَأَتَى الرَّجُلُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ قَالَ كَذَا وَكَذَا ـ فَقَالَ مُوسَى ـ فَرَجَعَ إِلَيْهِ الْمَرَّةَ الآخِرَةَ بِبِشَارَةٍ عَظِيمَةٍ فَقَالَ " اذْهَبْ إِلَيْهِ فَقُلْ لَهُ إِنَّكَ لَسْتَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ، وَلَكِنَّكَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ ".
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৪৮৬। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবিত ইবনু কায়স (রাঃ) কে খুঁজে পেলেন না। একজন সাহাবী বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার কাছে তাঁর সংবাদ নিয়ে আসছি। তারপর লোকটি তাঁর কাছে গিয়ে দেখলেন যে, তিনি তাঁর ঘরে অবনত মস্তকে বসে আছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কি অবস্থা? তিনি বললেন, খারাপ। কারণ এই (অধম) তার কন্ঠস্বর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্ঠস্বরের চেয়ে উঁচু করে কথা বলত। ফলে, তার আমল বরবাদ হয়ে গেছে এবং সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। তারপর লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ফিরে এসে সংবাদ দিলেন যে, তিনি এমন এমন কথা বলছেন। মূসা বলেন, এরপর লোকটি এক মহা সুসংবাদ নিয়ে তাঁর কাছে ফিরে গেলেন (এবং বললেন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন তুমি যাও এবং তাকে বল, তুমি জাহান্নামী নও; বরং তুমি জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ্র বাণীঃ "যারা ঘরের পেছন থেকে আপনাকে উচ্চ স্বরে ডাকে, তাদের অধিকাংশই নির্বোধ" (৪৯ঃ ৪)
৪৪৮৭। হাসান ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... ইবনু আবূ মুলায়কা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) তাদেরকে জানিয়েছেন যে, একবার বনী তামীম গোত্রের একদল লোক সাওয়ার হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন। আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) বললেন, কা’কা ইবনু মাবাদ (রাঃ) কে আমীর বানানো হোক এবং উমর (রাঃ) বললেন, আকরা ইবনু হাবিস (রাঃ) কে আমীর নিযুক্ত করা হোক। তখন আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) বললেন, আপনার ইচ্ছা হল কেবল আমার বিরোধিতা করা। উত্তরে উমর (রাঃ) বললেন, আমি আপনার বিরোধিতা করার ইচ্ছা করিনি। এ নিয়ে তাঁরা পরস্পর তর্ক-বিতর্ক করতে লাগলেন, এক পর্যায়ে তাদের কন্ঠস্বর উঁচু হয়ে গেল। এ উপলক্ষে আল্লাহ্ নাযিল করলেন, “হে মু’মিনগণ! আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সমক্ষে তোমরা কোন বিষয়ে অগ্রণী হয়ো না। … আয়াত শেষ।”
بَاب قَوْلِهِ وَلَوْ أَنَّهُمْ صَبَرُوا حَتَّى تَخْرُجَ إِلَيْهِمْ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ
অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ وَلَوْ أَنَّهُمْ صَبَرُوا حَتَّىٰ تَخْرُجَ إِلَيْهِمْ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ "তুমি বের হয়ে তাদের কাছে আসা পর্যন্ত যদি তারা ধৈর্যধারণ করত, তা তোমার জন্য উত্তম হতো। আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (৪৯ঃ ৫)
আল্লাহ্র বাণীঃ وتقول هل من مزيد "এবং জাহান্নাম বলবে আরো আছে কি?"
হাদিস নং ৪৪৮৮সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا حَرَمِيٌّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يُلْقَى فِي النَّارِ وَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ. حَتَّى يَضَعَ قَدَمَهُ فَتَقُولُ قَطِ قَطِ ".
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
সুরা কাফ
رَجْعٌ بَعِيدٌ رَدٌّ فُرُوجٍ فُتُوقٍ وَاحِدُهَا فَرْجٌ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ وَرِيدَاهُ فِي حَلْقِهِ وَالْحَبْلُ حَبْلُ الْعَاتِقِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ مَا تَنْقُصُ الْأَرْضُ مِنْ عِظَامِهِمْ تَبْصِرَةً بَصِيرَةً حَبَّ الْحَصِيدِ الْحِنْطَةُ بَاسِقَاتٍ الطِّوَالُ أَفَعَيِينَا أَفَأَعْيَا عَلَيْنَا حِينَ أَنْشَأَكُمْ وَأَنْشَأَ خَلْقَكُمْ وَقَالَ قَرِينُهُ الشَّيْطَانُ الَّذِي قُيِّضَ لَهُ فَنَقَّبُوا ضَرَبُوا أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ لَا يُحَدِّثُ نَفْسَهُ بِغَيْرِهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ رَصَدٌ سَائِقٌ وَشَهِيدٌ الْمَلَكَانِ كَاتِبٌ وَشَهِيدٌ شَهِيدٌ شَاهِدٌ بِالْغَيْبِ مِنْ لُغُوبٍ النَّصَبُ وَقَالَ غَيْرُهُ نَضِيدٌ الْكُفُرَّى مَا دَامَ فِي أَكْمَامِهِ وَمَعْنَاهُ مَنْضُودٌ بَعْضُهُ عَلَى بَعْضٍ فَإِذَا خَرَجَ مِنْ أَكْمَامِهِ فَلَيْسَ بِنَضِيدٍ وَإِدْبَارِ النُّجُومِ وَأَدْبَارِ السُّجُودِ كَانَ عَاصِمٌ يَفْتَحُ الَّتِي فِي ق وَيَكْسِرُ الَّتِي فِي الطُّورِ وَيُكْسَرَانِ جَمِيعًا وَيُنْصَبَانِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَوْمَ الْخُرُوجِ يَوْمَ يَخْرُجُونَ إِلَى الْبَعْثِ مِنْ الْقُبُورِ
رَجْعٌ মানে প্রত্যাবর্তন। فُرُوْجٍ মানে ফাটল। এর একবচন হলো وَرِيْدٌ فِيْ حَلْقِهٰ ঘাড়ের রগ। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, مَا تَنْقُصُ الْأَرْضُ দ্বারা তাদের ঐ সমস্ত হাড্ডিকে বোঝানো হয়েছে, যেগুলোকে মৃত্তিকা ক্ষয় করে। تَبْصِرَةً জ্ঞানস্বরূপ। حَبَّ الْحَصِيْدِ গম। بَاسِقَاتٍ সমুন্নত ও লম্বা। أَفَعَيِيْنَا আমাদের জন্য কি ক্লান্তিকর ছিল? وَقَالَ قَرِيْنُه ঐ শায়ত্বন যা তার জন্য নির্দিষ্ট হয়েছে। فَنَقَّبُوْا তারা ভ্রমণ করেছে। أَوِ الْقَى السَّمْعَ অর্থ, যে কুরআন শ্রবণ করে নিবিষ্ট চিত্তে, এ ব্যতীত অন্য কোন দিকে তার মনোযোগ নেই। رَقِيْبٌ عَتِيْدٌ মানে প্রহরী। سَآئِقٌ وَشَهِيْدٌ দু’জন মালাক- একজন লেখক এবং অন্যজন সাক্ষী। شَهِيْدٌ অন্তরের অন্তস্থল থেকে সাক্ষ্যদাতা ব্যক্তিকে شَهِيْدٌ বলা হয়। لُغُوْبٍ ক্লান্তি। মুজাহিদ (রহঃ) ব্যতীত অন্য মুফাসসিরগণ বলেছেন, نَضِيْدٌ ফুলের কলি যা এখনো ফুটেনি। এখানে শব্দটি ভাজ করা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রস্ফুটিত ফুলের কলিকে نَضِيْدٌ বলা হয় না। কারী আসিম (রহঃ) সূরাহ ’কাফ’-এ বর্ণিত إدْبَارِ السُّجُوْدِ এর হামযার মধ্যে যবর দেন এবং সূরাহ তূর-এ উল্লিখিত إِدْبَارِالنُّجُوْمِ এর হামযার মধ্যে যের দেন। তবে উভয় স্থানে হামযাতে যেরও দেয়া যায় অথবা যবরও দেয়া যায়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, يَوْمَ الْخُرُوْجِ কবর থেকে বের হওয়ার দিন।
৪৪৮৮। আবদুল্লাহ ইবনু আবূল আসওয়াদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হলে জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি? পরিশেষে আল্লাহ্ তাঁর পা সেখানে রাখবেন, তখন সে বলবে, আর না, আর না।
৪৪৮৯। মুহাম্মদ ইবনু কাযযান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে মারফূ হাদীস হিসাবে বর্ণিত। তবে আবূ সুফয়ান এ হাদীসটিকে অধিকাংশ সময় মওকুফ হাদীস হিসাবে বর্ণনা করেছেন। জাহান্নামকে বলা হবে, তুমি কি পূর্ণ হয়ে গিয়েছ? জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি? তখন আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন আপন চরণ তাতে রাখবেন। তখন জাহান্নাম বলবে, আর নয়, আর নয়।
৪৪৯০। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাত ও জাহান্নাম পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হয়। জাহান্নাম বলে দাম্ভিক ও পরাক্রমশালীদের দ্বারা আমাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। জান্নাত বলে, আমার কি হল? আমাতে কেবল মাত্র দুর্বল এবং নিরীহ লোকেরাই প্রবেশ করছে। তখন আল্লাহ্ তা’আলা জান্নাতকে বলবেন, তুমি আমার রহমত। তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছা আমি অনুগ্রহ করব। আর তিনি জাহান্নামকে বলবেন, তুমি হলে আযাব। তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেব। জান্নাত ও জাহান্নাম প্রত্যেকের জন্যই রয়েছে পরিপূর্ণতা। তবে জাহান্নাম পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না তিনি তাঁর কদম মুবারক তাতে রাখবেন। তখন সে বলবে, বাস, বাস, বাস। তখন জাহান্নাম ভরে যাবে এবং এর এক অংশ অপর অংশের সাথে মুড়িয়ে দেয়া হবে। আল্লাহ্ তাঁর সৃষ্টির কারো প্রতি জুলুম করবেন না। অবশ্য আল্লাহ্ তা’আলা জান্নাতের জন্য অন্য মাখলুক পয়দা করবেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ وسبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس وقبل الغروب "এবং তোমার প্রতিপালকের প্রশংসা-পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে" (৫০ঃ ৩৯)
৪৪৯১। ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ... জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একরাতে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বসা ছিলাম। তখন তিনি চৌদ্দ তারিখের রজনীর চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা যেমন এ চাঁদটি দেখতে পাচ্ছ, অনুরূপভাবে তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে এবং তাঁকে দেখার ব্যাপারে (তোমরা একে অন্যের কারণে) বাধাপ্রাপ্ত হবে না। তাই তোমাদের সামর্থ্য থাকলে সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগের সালাত (নামায/নামাজ)-এর ব্যাপারে প্রভাবিত হবে না। তারপর তিনি পাঠ করলেন, “আপনার রবের প্রশংসা, পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের পূর্বে।” (৫০ঃ ৩৯)
৪৪৯২। আদম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রত্যেক সালাত (নামায/নামাজ)-এর পর তাঁর পবিত্রতা বর্ণনার নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ وَأَدْبَارَ السُّجُودِ এর দ্বারা তিনি এ অর্থ করেছেন।
পরিচ্ছেদ নাই
হাদিস নং ৪৪৯৩সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ زَيْنَبَ ابْنَةِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ شَكَوْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنِّي أَشْتَكِي فَقَالَ " طُوفِي مِنْ وَرَاءِ النَّاسِ، وَأَنْتِ رَاكِبَةٌ ". فَطُفْتُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي إِلَى جَنْبِ الْبَيْتِ يَقْرَأُ بِالطُّورِ وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ.
বর্ণনাকারী: উম্মু সালামাহ (রাঃ)
সুরা যারিয়াত
قَالَ عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلَام الذَّارِيَاتُ الرِّيَاحُ وَقَالَ غَيْرُهُ تَذْرُوهُ تُفَرِّقُهُ وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ تَأْكُلُ وَتَشْرَبُ فِي مَدْخَلٍ وَاحِدٍ وَيَخْرُجُ مِنْ مَوْضِعَيْنِ فَرَاغَ فَرَجَعَ فَصَكَّتْ فَجَمَعَتْ أَصَابِعَهَا فَضَرَبَتْ بِهِ جَبْهَتَهَا وَالرَّمِيمُ نَبَاتُ الْأَرْضِ إِذَا يَبِسَ وَدِيسَ لَمُوسِعُونَ أَيْ لَذُو سَعَةٍ وَكَذَلِكَ عَلَى الْمُوسِعِ قَدَرَهُ يَعْنِي الْقَوِيَّ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ الذَّكَرَ وَالْأُنْثَى وَاخْتِلَافُ الْأَلْوَانِ حُلْوٌ وَحَامِضٌ فَهُمَا زَوْجَانِ فَفِرُّوا إِلَى اللَّهِ مَعْنَاهُ مِنْ اللَّهِ إِلَيْهِ وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ مَا خَلَقْتُ أَهْلَ السَّعَادَةِ مِنْ أَهْلِ الْفَرِيقَيْنِ إِلَّا لِيُوَحِّدُونِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ خَلَقَهُمْ لِيَفْعَلُوا فَفَعَلَ بَعْضٌ وَتَرَكَ بَعْضٌ وَلَيْسَ فِيهِ حُجَّةٌ لِأَهْلِ الْقَدَرِ وَالذَّنُوبُ الدَّلْوُ الْعَظِيمُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ صَرَّةٍ صَيْحَةٍ ذَنُوبًا سَبِيلًا الْعَقِيمُ الَّتِي لَا تَلِدُ وَلَا تُلْقِحُ شَيْئًا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَالْحُبُكُ اسْتِوَاؤُهَا وَحُسْنُهَا فِي غَمْرَةٍ فِي ضَلَالَتِهِمْ يَتَمَادَوْنَ وَقَالَ غَيْرُهُ تَوَاصَوْا تَوَاطَئُوا وَقَالَ مُسَوَّمَةً مُعَلَّمَةً مِنْ السِّيمَا
’আলী (রাঃ) বলেছেন, الرِّيَاحُ বায়ুরাশি। অন্যদের হতে বর্ণিত। تَذْرُوْهُ মানে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। وَفِيْٓ أَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُوْنَ তোমাদের মধ্যেও নিদর্শন রয়েছে, (’’তোমরা কি অনুধাবন করবে না?) অর্থাৎ তোমরা খানাপিনা কর এক পথে এবং তা বের হয় দু’পথ দিয়ে। فَرَاغَ মানে সে ফিরে এল। فَصَكَّتْ সে মুষ্টি বন্ধ করে নিজ কপালে মারল। الرَّمِيْمُ যমীনের উদ্ভিদ যখন শুকায় এবং তা মাড়াই করা হয়। لَمُوْسِعُوْنَ অবশ্য সম্প্রসারণকারী। এমনিভাবে عَلَى الْمُوْسِعِ قَدَرَهُ অর্থাৎ সামর্থ্যবান। زَوْجَيْنِ নারী-পুরুষ, আলাদা আলাদা বর্ণের এবং মিষ্টি ও টক উভয়কেই زَوْجَانِ বলা হয়। فَفِرُّوْآ إِلَى اللهِ আল্লাহর নাফরমানী ত্যাগ করে তোমরা আল্লাহর আনুগত্যের পানে এসো। إِلَّا لِيَعْبُدُوْنِ মানুষ ও জিন উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে যারা ভাগ্যবান, তাদেরই আমার তাওহীদের উপর বিশ্বাস স্থাপনের জন্য সৃষ্টি করেছি। কোন কোন মুফাসসির বলেছেন, এর অর্থ হচ্ছে, তাদের সকলকেই আল্লাহর বন্দেগীর জন্য সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু কেউ তা করেছে আর কেউ তা ত্যাগ করেছে। এ আয়াতে মুতাযিলাদের জন্য তাদের পক্ষে কোন প্রমাণ নেই। الذَّنُوْبُ বড় বালতি। মুজাহিদ বলেন, صَرَّةٍ চীৎকার। ذُنُوْبًا রাস্তা। الْعَقِيْمُ যে নারী সন্তান জন্ম দেয় না। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْحُبُكُ আকাশের সুবিন্যস্ততা ও তার সৌন্দর্য। فِيْغَمْرَةٍ নিজেদের ভুলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অন্য হতে বর্ণিত যে, تَوَاصَوْا একে অপরের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে আরও বলেছেন, مُسَوَّمَةً চিহ্নিত। مُسَوَّمَةً শব্দটি السِيِّمًا থেকে উদ্ভূত। قُتِلَ الْإِنْسَانُ অভিশপ্ত।
সুরা তূর
وَقَالَ قَتَادَةُ مَسْطُورٍ مَكْتُوبٍ وَقَالَ مُجَاهِدٌ الطُّورُ الْجَبَلُ بِالسُّرْيَانِيَّةِ رَقٍّ مَنْشُورٍ صَحِيفَةٍ وَالسَّقْفِ الْمَرْفُوعِ سَمَاءٌ الْمَسْجُورِ الْمُوقَدِ وَقَالَ الْحَسَنُ تُسْجَرُ حَتَّى يَذْهَبَ مَاؤُهَا فَلَا يَبْقَى فِيهَا قَطْرَةٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ أَلَتْنَاهُمْ نَقَصْنَا وَقَالَ غَيْرُهُ تَمُورُ تَدُورُ أَحْلَامُهُمْ الْعُقُولُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْبَرُّ اللَّطِيفُ كِسْفًا قِطْعًا الْمَنُونُ الْمَوْتُ وَقَالَ غَيْرُهُ يَتَنَازَعُونَ يَتَعَاطَوْنَ
ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, مَسْطُوْرٍ লিখিত। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, সুরয়ানী ভাষায় পর্বতকে طُّوْرُ বলা হয়। رَقٍّمَّنْشُوْرٍ (উন্মুক্ত) সহীফা। السَّقْفِ الْمَرْفُوْعِ (সমুন্নত) আকাশ। الْمَسْجُوْرِ জ্বলন্ত। হাসান (রহ.) বলেন, (সমুদ্র) জ্বলে উঠবে। ফলে সমস্ত পানি ফুরিয়ে যাবে এবং এক ফোঁটা পানি থাকবে না। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, أَلَتْنَاهُمْ আমি হ্রাস করেছি। অন্যান্য মুফাসসির বলেছেন, تَمُوْرُ আন্দোলিত হবে। أَحْلَامُهُمْ বুদ্ধি। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْبَرُّ দয়ালু। كِسْفًا খন্ড, الْمَنُوْنُ মৃত্যু। অন্যান্য মুফাসসির বলেছেন, يَتَنَازَعُوْنَ তারা আদান-প্রদান করবে।
৪৪৯৩। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... উম্মে সালমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ওযর পেশ করলাম যে, আমি অসুস্থ। তিনি বললেন, তুমি সওয়ার হয়ে লোকদের পেছন তাওয়াফ করে নাও। তখন আমি তাওয়াফ করলাম। এ সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার এক পার্শ্বে দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন এবংوَالطُّوْرِ وَكِتَابٍ مَّسْطُوْرٍ তিলাওয়াত করছিলেন।
হাদিস নং ৪৪৯৪সহিহ
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثُونِي عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِالطُّورِ فَلَمَّا بَلَغَ هَذِهِ الآيَةَ (أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَىْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ * أَمْ خَلَقُوا السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ بَلْ لاَ يُوقِنُونَ * أَمْ عِنْدَهُمْ خَزَائِنُ رَبِّكَ أَمْ هُمُ الْمُسَيْطِرُونَ) كَادَ قَلْبِي أَنْ يَطِيرَ. قَالَ سُفْيَانُ فَأَمَّا أَنَا فَإِنَّمَا سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيهِ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِالطُّورِ. لَمْ أَسْمَعْهُ زَادَ الَّذِي قَالُوا لِي.
বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনু মুত‘ইম (রাঃ)
৪৪৯৪। হুমায়দী (রহঃ) ... জুবায়র ইবনু মুত’ইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মাগরিবে সূরা তূর পাঠ করতে শুনেছি। যখন তিনি এ আয়াত পর্যন্ত পৌছেনঃ তারা কি স্রষ্টা ব্যতীত সৃষ্টি হয়েছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? আসমান-যমীন কি তারাই সৃষ্টি করেছে? আসলে তারা অবিশ্বাসী। আমার প্রতিপালকের ধনভাণ্ডার কি তাদের কাছে রয়েছে, না তারাই এ সমুদয়ের নিয়ন্তা? তখন আমার অন্তর প্রায় উড়ে যাবার অবস্থা হয়েছিল। সুফয়ান (রহঃ) বলেন, আমি যুহরীকে মুহাম্মদ ইবনু জুবায়ির ইবনু মুত’ইমকে তার পিতার বর্ণনা করতে শুনেছি, যা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মাগরিবে সূরা তূর পাঠ করতে শুনেছি। কিন্তু এর অতিরিক্ত আমি শুনেছি যা তাঁরা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং ৪৪৯৫সহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ يَا أُمَّتَاهْ هَلْ رَأَى مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم رَبَّهُ فَقَالَتْ لَقَدْ قَفَّ شَعَرِي مِمَّا قُلْتَ، أَيْنَ أَنْتَ مِنْ ثَلاَثٍ مَنْ حَدَّثَكَهُنَّ فَقَدْ كَذَبَ، مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم رَأَى رَبَّهُ فَقَدْ كَذَبَ. ثُمَّ قَرَأَتْ (لاَ تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الأَبْصَارَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ) (وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلاَّ وَحْيًا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ) وَمَنْ حَدَّثَكَ أَنَّهُ يَعْلَمُ مَا فِي غَدٍ فَقَدْ كَذَبَ ثُمَّ قَرَأَتْ (وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا) وَمَنْ حَدَّثَكَ أَنَّهُ كَتَمَ فَقَدْ كَذَبَ ثُمَّ قَرَأَتْ (يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ) الآيَةَ، وَلَكِنَّهُ رَأَى جِبْرِيلَ ـ عَلَيْهِ السَّلاَمُ ـ فِي صُورَتِهِ مَرَّتَيْنِ.
বর্ণনাকারী: মাসরূক (রহঃ)
সুরা নাজ্ম
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ذُوْ مِرَّةٍ শক্তিশালী। قَابَ قَوْسَيْنِ দুই ধনুকের ছিলার পরিমাণ। ضِيْزَىْ বক্রতা وَأَكْدٰى সে তাঁর দান বন্ধ করে দেয়। رَبُّ الشِّعْرٰى জওযারামীর মিরজাম নক্ষত্র। الَّذِيْوَفّٰى সে তাঁর প্রতি ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করেছে। أَزِفَتْ الْاٰزِفَةُ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সন্নিকট। سَامِدُوْنَ দ্বারা بَرْطَمَةُ নামক খেলাধুলা বোঝানো হয়েছে। ইকরামা বলেন, হামারিয়্যাহ ভাষায় গান গাওয়াকে سَامِدُوْنَ বলা হয়। ইব্রাহীম (রহঃ) বলেন, أَفَتَجْحَدُوْنَه তোমরা কি তাঁর সঙ্গে বিতর্ক করবে? যারা এ শব্দটিকে أَفَتَجْحَدُوْنَه পড়ে, তাদের কিরাআত অনুসারে এর অর্থ হবে أَفَتَجْحَدُوْنَه তোমরা কি তার কথাকে অস্বীকার করবে? مَا زَاغَ الْبَصَرُ (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) দৃষ্টি বিভ্রম হয়নি وَمَاطَغٰى এবং তাঁর দৃষ্টি লক্ষ্যভ্রষ্টও হয়নি। فَتَمَارَوْا তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। হাসান (রহঃ) বলেন, إِذَاهَوٰى যখন সে অদৃশ্য হয়ে গেল। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, أَغْنٰىوَأَقْنٰى তিনি দান করলেন এবং খুশী করে দিলেন।
৪৪৯৫। ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) ... মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আম্মা! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাঁর রবকে দেখেছিলেন? তিনি বললেন, তোমার কথায় আমার গায়ের পশম কাটা দিয়ে খাড়া হয়ে গেছে। তিনটি কথা সম্পর্কে তুমি কি অবগত নও? যে তোমাকে এ তিনটি কথা বলবে সে মিথ্যা বলবে। যদি কেউ তোমাকে বলে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন, তাহলে সে মিথ্যাবাদী। তারপর তিনি পাঠ করলেন, তিনি দৃষ্টির অধিগম্য নহেন কিন্তু দৃষ্টিশক্তি তাঁর অধিগত; এবং তিনই সূক্ষদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত” “মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ্ তাঁর সাথে কথা বলবেন, ওহীর মাধ্যম ছাড়া অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যতিরেকে”। আর যে ব্যাক্তি তোমাকে বলবে যে, আগামীকাল কি হবে সে তা জানে, তাহলে সে মিথ্যাবাদী। তারপর তিনি তিলওয়াত করলেন, “কেউ জাননা আগামীকাল সে কি অর্জন করবে।” এবং তোমাকে যে বলবে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কথা গোপন রেখেছেন, তাহলেও সে মিথ্যাবাদী। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “হে রাসূল! তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা প্রচার কর।” হ্যাঁ, তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল(আলাইহিস সালাম) কে তাঁর নিজস্ব আকৃতিতে দু’বার দেখেছেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ فكان قاب قوسين أو أدنى "ফলে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের ছিলার ব্যবধান রইল অথবা তারও কম।" (৫৩ঃ ৯) অর্থাৎ ধনুকের দুই ছিলার সমান ব্যবধান রইল মাত্র।
৪৪৯৬। আবূন্ নু’মান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত।فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى * فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى আয়াত দু’টোর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আলাইহিস সালাম) কে দেখেছেন। তাঁর ছয়শত ডানা ছিল।
আল্লাহ্র বাণীঃ فأوحى إلى عبده ما أوحى "তখন আল্লাহ্ তার বান্দার প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন (৫৩ঃ ১০)
হাদিস নং ৪৪৯৭সহিহ
حَدَّثَنَا طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، قَالَ سَأَلْتُ زِرًّا عَنْ قَوْلِهِ تَعَالَى (فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى * فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى) قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ أَنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم رَأَى جِبْرِيلَ لَهُ سِتُّمِائَةِ جَنَاحٍ.
বর্ণনাকারী: আবূ ইসহাক শায়বানী (রহঃ)
৪৪৯৭। তালক বি্ন গান্নাম (রহঃ) … শায়বানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যিরর (রহঃ) কে আল্লাহর বাণীঃفَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى * فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমাকে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আলাইহিস সালাম) কে দেখেছেন। এ সময় তাঁর ডানা ছিল ছয়শত।
আল্লাহ্র বাণীঃ لقد رأى من آيات ربه الكبرى "সে তো তার প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলী দেখেছিল।" (৫৩ঃ ১৮)
৪৪৯৯। মুসলিম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বাণীঃ اللاَّتَ وَالْعُزَّى এর ব্যাখ্যায় বলেন, এখানে ’লাত’ বলে এ ব্যাক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যে হাজীদের জন্য ছাতু গুলত।
হাদিস নং ৪৫০০সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَلَفَ فَقَالَ فِي حَلِفِهِ وَاللاَّتِ وَالْعُزَّى. فَلْيَقُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ. وَمَنْ قَالَ لِصَاحِبِهِ تَعَالَ أُقَامِرْكَ. فَلْيَتَصَدَّقْ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৫০০। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি কসম করে বলে যে, লাত ও উযযার কসম, তাহলে সাথে সাথে তার ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা উচিত। আর যে ব্যাক্তি তার সাথীকে বলে, এসো আমি তোমার সাথে জুয়া খেলব, তার সাদকা দেয়া উচিত।
আল্লাহ্র বাণীঃ ومناة الثالثة الأخرى "এবং তৃতীয় আরেকটি মানত সম্বন্ধে?" (৫৩ঃ ২০)
৪৫০১। হুমায়দী (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, মুশাল্লাল নামক স্থানে অবস্থিত মানাত দেবীর নামে যারা ইহরাম বাঁধতো, তারা সাফা ও মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করতো না। তারপর আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেন, “সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম।” এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুসলিমগণ তাওয়াফ করলেন। সুফয়ান (রহঃ) বলেন, ’মানাত’ কুদায়দ নামক স্থানের মুশাল্লাল নামক জায়গায় অবস্থিত ছিল।
অপর এক বর্ণনায় আবদুর রহমান ইবনু খালিদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ আয়াতটি আনসারদের সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে। ইসলাম গ্রহণের পূর্বের আনসার ও গাসসান গোত্রের লোকেরা মানাতের নামে ইহরাম বাঁধতো। হাদীসের অবশিষ্টাংশ সুফয়ানের বর্ণনার মতই।
অপর এক সূত্রে মা’মার (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারদের কতিপয় লোক মানাতের নামে ইহরাম বাঁধতো, মানাত মক্কা ও মদিনার মধ্যস্থলে রক্ষিত একটি দেবমূর্তি। তারা বললেন, হে আল্লাহর নবী! মানাতের সম্মানার্থে আমরা সাফা ও মারওয়ার মাঝখানে তাওয়াফ করতাম না। এ হাদীসটি পূর্বের হাদীসেরই অনুরূপ।
আল্লাহ্র বাণীঃ فاسجدوا لله واعبدوا "অতএব, আল্লাহকে সিজদা কর এবং তার ইবাদত কর" (৫৩ঃ ৬২)
হাদিস নং ৪৫০২সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ سَجَدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالنَّجْمِ وَسَجَدَ مَعَهُ الْمُسْلِمُونَ وَالْمُشْرِكُونَ وَالْجِنُّ وَالإِنْسُ. تَابَعَهُ ابْنُ طَهْمَانَ عَنْ أَيُّوبَ. وَلَمْ يَذْكُرِ ابْنُ عُلَيَّةَ ابْنَ عَبَّاسٍ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪৫০২। আবূ মা’মার (রহঃ) ... ইবনু আব্বস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা নাজমের মধ্যে সিজদা করলেন এবং তাঁর সঙ্গে মুসলিম, মুশরিক, জ্বীন ও মানব সকলেই সিজদা করল। আইয়ূব (রহঃ) এর সূত্রে ইবনু তাহমান (রহঃ) উপরোক্ত বর্ণনার অনুসরণ করেছেন; তবে ইবনু উলাইয়া (রহঃ) আইয়ূব (রহঃ) এর সূত্রে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর কথা উল্লেখ করেননি।
হাদিস নং ৪৫০৩সহিহ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنِي أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ أَوَّلُ سُورَةٍ أُنْزِلَتْ فِيهَا سَجْدَةٌ (وَالنَّجْمِ). قَالَ فَسَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَجَدَ مَنْ خَلْفَهُ، إِلاَّ رَجُلاً رَأَيْتُهُ أَخَذَ كَفًّا مِنْ تُرَابٍ فَسَجَدَ عَلَيْهِ، فَرَأَيْتُهُ بَعْدَ ذَلِكَ قُتِلَ كَافِرًا، وَهْوَ أُمَيَّةُ بْنُ خَلَفٍ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৫০৩। নাসর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সিজদার আয়াত সম্বলিত নাযিল হওয়া সর্বপ্রথম সূরা হল আন-নাজম। এ সূরার মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা করলেন এবং সিজদা করল তাঁর পেছনের সকল লোক। তবে এক ব্যাক্তিকে আমি দেখলাম, এক মুষ্টি মাটি হাতে তুলে তার ওপরে সিজদা করছে। এরপর আমি তাকে কাফের অবস্থায় নিহত হতে দেখেছি। সে হল উমাইয়া ইবনু খালফ।
আল্লাহ্র বাণীঃ "চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে, তারা কোন নিদর্শন দেখলে মুখ ফিরিয়ে নেয় (৫৪ঃ ১-২)
হাদিস নং ৪৫০৪সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، وَسُفْيَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ انْشَقَّ الْقَمَرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِرْقَتَيْنِ، فِرْقَةً فَوْقَ الْجَبَلِ وَفِرْقَةً دُونَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اشْهَدُوا ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
সুরা কামার
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, مُسْتَمِرٌّ বিলুূপ্ত। مُزْدَجَرٌ বাধা দানকারী। وَازْدُجِرَ তাকে পাগল করে দেয়ার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। دُسُرٍ নৌকার কীলক। لِمَنْ كَانَ كُفِرَ এর কারণে যে নূহ্ (আঃ) কে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।جَزَآءً প্রতিদান আল্লাহর তরফ থেকে। مُحْتَضَرٌ তারা পানির জন্য উপস্থিত হবে। ইবনু জুবায়র (রহঃ) বলেন, مُهْطِعِيْنَ তারা দ্রুত চলবে। ইবনু জুবায়র (রহঃ) ব্যতীত অন্যরা বলেছেন, فَتَعَاطٰى তারপর সে উষ্ট্রীটিকে ধরল এবং তাকে হত্যা করল। الْمُحْتَظِرِ শুকনো গাছের বেড়া যা জ্বলে গেছে। ازْدُجِرَ - زَجَرْتُ ধাতু হতে بابافْتُعِلَ এর زَجَرْتُ، صيحه থেকে এর নিষ্পন্ন। كُفِرَ আমি নূহ্ এবং তাঁর কওমের সঙ্গে যা করেছি তা প্রতিদান ছিল ঐ ’আমলের, যা তাঁর কওমের লোকেরা তাঁর ও তাঁর সাথীদের সঙ্গে করেছিল। مُسْتَقِرٌّ আল্লাহর তরফ থেকে শাস্তি। الْأَشَرُ দাম্ভিকতা ও অহংকার।
৪৫০৪। মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে। এর এক খণ্ড পাহাড়ের উপর এবং অপর খণ্ড পাহাড়ের নিচে পড়েছিল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সাক্ষী থাক।
হাদিস নং ৪৫০৫সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ انْشَقَّ الْقَمَرُ وَنَحْنُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَصَارَ فِرْقَتَيْنِ، فَقَالَ لَنَا " اشْهَدُوا، اشْهَدُوا ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৫০৫। আলী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, চন্দ্র বিদীর্ণ হল, এ সময় আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। এবং তা দু’টুকরা হয়ে গেল। তখন তিনি আমাদের বললেন, “তোমরা সাক্ষী থাক, তোমরা সাক্ষী থাক”।
হাদিস নং ৪৫০৬সহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي بَكْرٌ، عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ انْشَقَّ الْقَمَرُ فِي زَمَانِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪৫০৬। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছিল।
হাদিস নং ৪৫০৭সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ سَأَلَ أَهْلُ مَكَّةَ أَنْ يُرِيَهُمْ آيَةً فَأَرَاهُمُ انْشِقَاقَ الْقَمَرِ.
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৫০৭। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন- মক্কাবাসীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একটি নিদর্শন দেখানোর দাবি জানালো। তখন তিনি তাদের চাঁদ বিদীর্ণ হওয়ার নিদর্শন দেখালেন।
৪৫০৮। মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হয়েছে।
আল্লাহ্র বাণীঃ "যা চলত আমার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ-ই পুরস্কার তাঁর জন্য, যে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। আমি একে রেখে দিয়েছি এক নিদর্শনরূপে; অতএব উপদেশ গ্রহনকারী কেউ আছে কি?" (৫৪ঃ ১৫-১৫) কাতাদা (রহঃ) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা নুহ (আঃ) এর নৌকাটি রেখে দিয়েছেন। ফলে এ উম্মতের প্রথম যুগের লোকেরাও তা পেয়েছে।
হাদিস নং ৪৫০৯সহিহ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ (فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ)
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৫০৯। হাফস ইবনু উমর (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ পড়তেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ "আমি কুরআন সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহনের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহনকারী কেউ আছে কি? মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, يسرنا আমি এর পঠন পদ্ধতি সহজ করে দিয়েছি।
হাদিস নং ৪৫১০সহিহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. أَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ (فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ).
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৫১০। মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ পড়তেন। (মূল পাঠে ছিল مذكر কিন্তু আরবী ব্যাকরণের বিধান অনুযায়ী কুরআনে ব্যবহৃত হয়েছে مُدَّكِرٍ)
আল্লাহ্র বাণীঃ "উন্মুলিত খেজুর কান্ডের ন্যায়, কী কঠোর ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী" (৫৪ঃ ২০-২১)
হাদিস নং ৪৫১১সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَجُلاً، سَأَلَ الأَسْوَدَ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ أَوْ مُذَّكِرٍ فَقَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ يَقْرَؤُهَا (فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ) قَالَ وَسَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَؤُهَا (فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ) دَالاً.
বর্ণনাকারী: আবূ ইসহাক (রহঃ)
৪৫১১। আবূ নু’আঈম (রহঃ) ... আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এক ব্যাক্তি আল-আসওয়াদ (রহঃ) এর নিকট জিজ্ঞেস করেছেন যে, আয়াতের মধ্যে فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ নাকি مُذَّكِرٍ? তিনি বললেন, “আমি আবদুল্লাহকে আয়াতখানা فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ পড়তে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আয়াতখানা ’দাল’ দিয়ে পড়তে শুনেছি”।
আল্লাহ্র বাণীঃ "ফলে তারা হয়ে গেল খোঁয়াড় প্রস্তুতকারী দ্বিখন্ডিত শুস্ক, শাখা-প্রশাখার ন্যায়। আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহনের জন্য সহজ করে দিয়েছি; অতএব উপদেশ গ্রহনকারী কেউ আছে কি? (৫৪ঃ ৩১-৩২)
হাদিস নং ৪৫১২সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، أَخْبَرَنَا أَبِي، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ (فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ) الآيَةَ.
আল্লাহ্র বাণীঃ প্রত্যুষে বিরামহীন শাস্তি তাদেরকে আঘাত করল এবং আমি বললাম, আস্বাদন কর আমার শাস্তি ও সতর্কবাণীর পরিনাম।
হাদিস নং ৪৫১৩সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ (فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ)
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৫১৩। মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ পড়েছেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ ولقد أهلكنا أشياعكم فهل من مدكر "আমি ধ্বংস করেছি তোমাদের মত দলগুলোকে, অতএব, তা থেকে উপদেশ গ্রহনকারী কেউ আছে কি?" (৫৪ঃ ৫১)
হাদিস নং ৪৫১৪সহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَهَلْ مِنْ مُذَّكِرٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم (فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ)
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৫১৪। ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন- আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে فَهَلْ مِنْ مُذَّكِرٍ পড়ার পর তিনি বললেনঃ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ
আল্লাহ্র বাণীঃ سيهزم الجمع ويولون الدبر "এ দল তো শীঘ্র পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে (৫৪ঃ ৫৫)
৪৫১৫। মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হাওশাব (রহঃ) ... মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইইয়া (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর যুদ্ধের দিন একটি ছোট্ট তাঁবুতে অবস্থান করে এ দু’আ করেছিলেন- “হে আল্লাহ! আমি তোমাকে তোমার ওয়াদা ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আবেদন করছি! হে আল্লাহ! যদি তুমি চাও, আজকের পর তোমার ইবাদত আর না করা হোক” ... ঠিক এ সময়ই আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) তাঁর হাত ধরে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! “যথেষ্ট হয়েছে। আপনি আপনার রবের নিকট অনুনয়-বিনয়ের সাথে বহু দু’আ করেছেন”। এ সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ম পরা অবস্থায় দাঁড়িয়ে গেলেন। এরপর তিনি তাঁবু থেকে বেরিয়ে গেলেন দুটি আয়াত পড়তে পড়তে, “এ দল তো শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে। অধিকন্তু কিয়ামত তাদের আযাবের নির্ধারিতকাল এবং কিয়ামত হবে কঠিনতর ও তিক্ততর” (৫৪: ৪৫-৪৬)।
আল্লাহ্র বাণীঃ بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهٰى وَأَمَرُّ "অধিকন্তু কিয়ামতে তাদের শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং কিয়ামত হবে কঠিনতর ও তিক্ততর" (৫৪ঃ ৪৬) مرارة শব্দ থেকে أَمَرُّ শব্দটির উৎপত্তি- যার মানে তিক্ততা।
৪৫১৭। ইসহাক (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট্ট একটি তাঁবুতে অবস্থান করে এ দু’আ করেছিলেন- “হে আল্লাহ! আমি তোমাকে তোমার ওয়াদা ও অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কামনা করছি! হে আল্লাহ! যদি তুমি চাও, আজকের পর তোমার ইবাদত আর না করা হোক” ... ঠিক এ সময় আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) তাঁর হাত ধরে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! “যথেষ্ট হয়েছে। আপনি আপনার রবের নিকট অনুনয়-বিনয়ের সাথে বহু দু’আ করেছেন”। এ সময় তিনি লৌহবর্ম পরিহিত ছিলেন। এরপর তিনিএ আয়াত পড়তে পড়তে তাঁবু থেকে বেরিয়ে এলেনঃ “এ দল শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে। অধিকন্তু কিয়ামতে তাদের শাস্তির নির্ধারিতকাল এবং কিয়ামত হবে কঠিনতর ও তিক্ততর” (৫৪: ৪৫-৪৬)।
আল্লাহ্র বাণীঃ ومن دونهما جنتان "এবং এ উদ্যানদ্বয় ব্যতীত আরো দু'টি উদ্যান রয়েছে" (৫৫ঃ ৬২)
সুরা আর-রাহমান
وَقَالَ مُجَاهِدٌ بِحُسْبَانٍ كَحُسْبَانِ الرَّحَى وَقَالَ غَيْرُهُ وَأَقِيمُوا الْوَزْنَ يُرِيدُ لِسَانَ الْمِيزَانِ وَالْعَصْفُ بَقْلُ الزَّرْعِ إِذَا قُطِعَ مِنْهُ شَيْءٌ قَبْلَ أَنْ يُدْرِكَ فَذَلِكَ الْعَصْفُ وَالرَّيْحَانُ رِزْقُهُ وَالْحَبُّ الَّذِي يُؤْكَلُ مِنْهُ وَالرَّيْحَانُ فِي كَلَامِ الْعَرَبِ الرِّزْقُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ وَالْعَصْفُ يُرِيدُ الْمَأْكُولَ مِنْ الْحَبِّ وَالرَّيْحَانُ النَّضِيجُ الَّذِي لَمْ يُؤْكَلْ وَقَالَ غَيْرُهُ الْعَصْفُ وَرَقُ الْحِنْطَةِ وَقَالَ الضَّحَّاكُ الْعَصْفُ التِّبْنُ وَقَالَ أَبُو مَالِكٍ الْعَصْفُ أَوَّلُ مَا يَنْبُتُ تُسَمِّيهِ النَّبَطُ هَبُورًا وَقَالَ مُجَاهِدٌ الْعَصْفُ وَرَقُ الْحِنْطَةِ وَالرَّيْحَانُ الرِّزْقُ وَالْمَارِجُ اللَّهَبُ الْأَصْفَرُ وَالْأَخْضَرُ الَّذِي يَعْلُو النَّارَ إِذَا أُوقِدَتْ وَقَالَ بَعْضُهُمْ عَنْ مُجَاهِدٍ رَبُّ الْمَشْرِقَيْنِ لِلشَّمْسِ فِي الشِّتَاءِ مَشْرِقٌ وَمَشْرِقٌ فِي الصَّيْفِ وَرَبُّ الْمَغْرِبَيْنِ مَغْرِبُهَا فِي الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ لَا يَبْغِيَانِ لَا يَخْتَلِطَانِ الْمُنْشَآتُ مَا رُفِعَ قِلْعُهُ مِنْ السُّفُنِ فَأَمَّا مَا لَمْ يُرْفَعْ قَلْعُهُ فَلَيْسَ بِمُنْشَأَةٍ وَقَالَ مُجَاهِدٌ كَالْفَخَّارِ كَمَا يُصْنَعُ الْفَخَّارُ الشُّوَاظُ لَهَبٌ مِنْ نَارٍ وَنُحَاسٌ النُّحَاسُ الصُّفْرُ يُصَبُّ عَلَى رُءُوسِهِمْ فَيُعَذَّبُونَ بِهِ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ يَهُمُّ بِالْمَعْصِيَةِ فَيَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَيَتْرُكُهَا مُدْهَامَّتَانِ سَوْدَاوَانِ مِنْ الرِّيِّ صَلْصَالٍ طِينٌ خُلِطَ بِرَمْلٍ فَصَلْصَلَ كَمَا يُصَلْصِلُ الْفَخَّارُ وَيُقَالُ مُنْتِنٌ يُرِيدُونَ بِهِ صَلَّ يُقَالُ صَلْصَالٌ كَمَا يُقَالُ صَرَّ الْبَابُ عِنْدَ الْإِغْلَاقِ وَصَرْصَرَ مِثْلُ كَبْكَبْتُهُ يَعْنِي كَبَبْتُهُ فَاكِهَةٌ وَنَخْلٌ وَرُمَّانٌ وَقَالَ بَعْضُهُمْ لَيْسَ الرُّمَّانُ وَالنَّخْلُ بِالْفَاكِهَةِ وَأَمَّا الْعَرَبُ فَإِنَّهَا تَعُدُّهَا فَاكِهَةً كَقَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى فَأَمَرَهُمْ بِالْمُحَافَظَةِ عَلَى كُلِّ الصَّلَوَاتِ ثُمَّ أَعَادَ الْعَصْرَ تَشْدِيدًا لَهَا كَمَا أُعِيدَ النَّخْلُ وَالرُّمَّانُ وَمِثْلُهَا أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَسْجُدُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ ثُمَّ قَالَ وَكَثِيرٌ مِنْ النَّاسِ وَكَثِيرٌ حَقَّ عَلَيْهِ الْعَذَابُ وَقَدْ ذَكَرَهُمْ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي أَوَّلِ قَوْلِهِ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ وَقَالَ غَيْرُهُ أَفْنَانٍ أَغْصَانٍ وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ مَا يُجْتَنَى قَرِيبٌ وَقَالَ الْحَسَنُ فَبِأَيِّ آلَاءِ نِعَمِهِ وَقَالَ قَتَادَةُ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ يَعْنِي الْجِنَّ وَالْإِنْسَ وَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ يَغْفِرُ ذَنْبًا وَيَكْشِفُ كَرْبًا وَيَرْفَعُ قَوْمًا وَيَضَعُ آخَرِينَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ بَرْزَخٌ حَاجِزٌ الْأَنَامُ الْخَلْقُ نَضَّاخَتَانِ فَيَّاضَتَانِ ذُو الْجَلَالِ ذُو الْعَظَمَةِ وَقَالَ غَيْرُهُ مَارِجٌ خَالِصٌ مِنْ النَّارِ يُقَالُ مَرَجَ الْأَمِيرُ رَعِيَّتَهُ إِذَا خَلَّاهُمْ يَعْدُو بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَيُقَالُ مَرَجَ أَمْرُ النَّاسِ مَرِيجٍ مُلْتَبِسٌ مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ اخْتَلَطَ الْبَحْرَانِ مِنْ مَرَجْتَ دَابَّتَكَ تَرَكْتَهَا سَنَفْرُغُ لَكُمْ سَنُحَاسِبُكُمْ لَا يَشْغَلُهُ شَيْءٌ عَنْ شَيْءٍ وَهُوَ مَعْرُوفٌ فِي كَلَامِ الْعَرَبِ يُقَالُ لَأَتَفَرَّغَنَّ لَكَ وَمَا بِهِ شُغْلٌ يَقُولُ لَآخُذَنَّكَ عَلَى غِرَّتِكَ
وَأَقِيْمُوا الْوَزْنَ এর মাঝে বর্ণিত الْوَزْنَ হচ্ছে পাল্লার ডান্ডি। وَالْعَصْفُ ঘাস, ফসল পাকার পূর্বে যে চারাগুলোকে কেটে ফেলা হয় তাদেরকেই اَلْعَصْفُ বলা হয়। الرَّيْحَانُ শস্যের পাতা এবং যমীন থেকে উৎপাদিত দানা যা ভক্ষণ করা হয় আরবী ভাষায় রিযকের অর্থে ব্যবহৃত হয়। কারো মতে, الْعَصْفُ খাওয়ার উপযোগী দানা এবং الرَّيْحَانُ খাওয়ার অনুপযোগী পাকা দানা। মুজাহিদ ব্যতীত অন্যান্য মুফাসসির বলেছেন, اَلْعَصْفُ গমের পাতা। দাহ্হাক (রহ.) বলেন, اَلْعَصْفُ মানে ভূষি। আবূ মালিক (রহঃ) বলেন, সর্বপ্রথম যা উৎপন্ন হয় তাকে اَلْعَصْفُ বলা হয়। হাবশী ভাষায় তাকে هَبُوْرًا হাবুর বলা হয়। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, اَلْعَصْفُ গমের পাতা। الرَّيْحَانُ খাদ্য। الْمَارِجُ হলুদ এবং সবুজ বর্ণের অগ্নিশিখা যা আগুনের উপরে দেখা যায় যখন তা জ্বালানো হয়। মুজাহিদ (রহঃ) থেকে কোন কোন মুফাসসির বলেন, رَبُّ الْمَشْرِقَيْنِ সূর্যের শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন উদয়স্থান। তেমনি رَبُّ الْمَغْرِبَيْنِ শীত ও গ্রীস্মকালে সূর্যের দুই অস্তস্থল। لَا يَبْغِيَانِ তারা মিলিত হয় না। الْمُنْشَاٰتُ নদীতে পাল তোলা নৌকা। আর যে নৌকার পাল তোলা হয়নি তাকে الْمُنْشَاٰتُ বলা হয় না। মুজাহিদ বলেন, نُحَاسٌ পিতল, যা তাদের মাথার উপর ঢালা হবে এবং এর দ্বারা তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। خَافَ مَقَامَ رَبِّهٰ সে গুনাহ্ করার ইচ্ছে করে; কিন্তু তার আল্লাহর কথা মনে পড়ে যায়। অবশেষে সে গুনাহ্ করার ইচ্ছা ত্যাগ করে। الشُّوَاظُ অগ্নি শিখা। مُدْهَآمَّتَانِ দেখতে কালো হবে সজীবতার কারণে। صَلْصَالٍ মাটি বালির সঙ্গে মিশে পোড়া মাটির মত ঝনঝন করে। বলা হয় صَلْصَالٍ দুর্গন্ধময়। শব্দটির মূল ছিল صَلَّ صَلْصَالٍ বলা হয় যেমন صَرَّالْبَابُ বলা হয় এবং صَرَّصَرَّ الْبَابُ ও বলা হয়। (অর্থাৎ مضاعف رباعى থেকে مضاعفثلاثى এর উৎপত্তি)। যেমন كَبْكَبْتُه ব্যবহার করা হয়। যার মূল فَاكِهَةٌ وَّنَخْلٌ وَّرُمَّانٌ ফলমূল, খেজুর ও আনার। কারো মতে খেজুর ও আনার ফল নয়; কিন্তু আরবীয় লোকেরা এগুলোকেও ফল বলে গণ্য করে।
খেজুর ও আনার ফলমূলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও উপরোক্ত আয়াতে ফলমূলের কথা উল্লেখ করে এরপর খেজুর ও আনারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন حَافِظُوْا عَلَى الصَّلَوٰتِ এর মাঝে সকল সালাতের প্রতি যত্নবান হবার নির্দেশ প্রদান করতঃ পরে আবার বিশেষভাবে আসরের সালাতের প্রতি বিশেষ যত্নবান হবার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যেমনভাবে أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللهَ يَسْجُدُ لَه مَنْ فِي السَّمَوٰتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহকে সিজদা করে যা কিছু আছে আকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে....। (সূরাহ হাজ্জ ২২/২৮)-এর মধ্যে সকল মানুষ অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও وَكَثِيْرٌ مِّنَ النَّاسِ وَكَثِيْرٌ حَقَّ عَلَيْهِ الْعَذَابُ আয়াতাংশটি পরে উল্লেখ করা হয়েছে (সুতরাং খেজুর ও আনারকে ফলমূল বহির্ভূত বলা ঠিক নয়)। মুজাহিদ (রহঃ) ছাড়া অন্যান্য মুফাসসির বলেন, أَفْنَانٍ ডালাসমূহ। وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ দুই উদ্যানের ফল হবে তাদের নিকটবর্তী- (সূরাহ আর্ রহমান ৫৫/৫৪)।
উভয় উদ্যানের ফল যা পাড়া হবে তা খুবই নিকটবর্তী হবে। হাসান (রহঃ) বলেন, فَبِأَيِّاٰلَآءِ আল্লাহর কোন অনুগ্রহকে? ক্বাতাদাহ (রহঃ) বলেন, মানব এবং দানব জাতিকে বোঝাবার জন্য رَبِّكُمَا দ্বি-বচনের صيغه ব্যবহার করা হয়েছে। আবুদ্ দারদা (রাঃ) বলেন, كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِيْ شَأْنٍ (তিনি প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ কার্যে রত)-এর ভাবার্থ হচ্ছে, প্রত্যহ তিনি মানুষের গুনাহ ক্ষমা করেন, বিপদ বিদূরিত করেন, এক সম্প্রদায়কে সুউচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন এবং অপর সম্প্রদায়ের অবনতি ঘটান। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, بَرْزَخٌ অন্তরাল। الْأَنَامُ সৃষ্ট জীব। نَضَّاخَتَانِ খায়ের ও বারাকাতে উচ্ছলিত। ذُو الْجَلَالِ মহিমাময়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) ব্যতীত অন্যান্য মুফাসসির বলেছেন, مَارِجُ নির্ধূম অগ্নিশিখা। রাজা প্রজাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দেয়ার পর তারা যখন পরস্পর পরস্পরের প্রতি অবাধে অত্যাচার করতে আরম্ভ করে তখন বলা হয়, اَلَامِيْرُ مَرَجَ الَامِيْرُ رِعَيَّتَه مَرَجَ اَمْرُ النَّاسِ মানুষের বিষয়টি গোলমেলে হয়ে পড়েছে। مَرِيْجٍ দোদুল্যমান। مَرَجَ الْبَحْرَيْنٍ দুই সমুদ্র পরস্পর মিলিত হয়ে গিয়েছে। مَرَجْتَ دَابَّتَكَ এর উৎপত্তি অর্থাৎ তুমি ছেড়ে দিয়েছ। سَنَفْرُغُ لَكُمْ অচিরেই আমি তোমাদের হিসাব গ্রহণ করব কারণ কোন অবস্থা আল্লাহ্ তা’আলাকে অন্য অবস্থা হতে গাফিল করতে পারে না। এ ধরনের ব্যবহার-বিধি আরবী ভাষায় সুপ্রসিদ্ধ। যেমন বলা হয়, لَا تَفَرَّ غَنَّ لَكَ অথচ তার কোন ব্যস্ততা নেই (বরং এ ধরনের কথা ধমক-স্বরূপ বলা হয়ে থাকে)। এ বাক্যের মাধ্যমে বক্তা শ্রোতাকে এ কথাই বোঝাতে চায় যে, অবশ্যই আমি তোমাকে তোমার এ গাফলতের মজা আস্বাদন করাব।
৪৫১৮। আবদুল্লাহ ইবনু আবূল আসওয়াদ (রহঃ) ... কায়স ইবনু আবূ হাযিম (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাসূল বলেছেন, (জান্নাতে) দুটি উদ্যান থাকবে। এই দুটির সকল পাত্র এবং এর অভ্যন্তরের সকল বস্তু রূপার তৈরি হবে। এবং (জান্নাতে) আরও দুটি উদ্যান থাকবে। এই দুটির সকল পাত্র এবং এর অভ্যন্তরের সকল বস্তু সোনার তৈরি হবে। জান্নাতে-আদনের মধ্যে জান্নাতবাসীরা তাদের রবকে দেখবে। জান্নাতবাসী এবং তাদের রবের এই দর্শনের মাঝে আল্লাহর সত্তার উপর জড়ানো তাঁর বড়ত্বের পর্দা ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।
আল্লাহ্র বাণীঃ حور مقصورات في الخيام "তারা তাবুতে সুরক্ষতি হুর" (৫৫ঃ ৭২) ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, حور অর্থ কালো মনি যুক্ত চক্ষু। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, مقصورات অর্থ مقصورات মানে তাদের দৃষ্টি এবং তাদের স্বত্বা তাদের স্বামীদের জন্য সুরক্ষিত থাকবে। قاصرات তারা তাদের জন্যই নির্ধারিত থাকবে। তারা তাদের ব্যতীত অন্য কাউকে স্বামী হিসাবে গ্রহন করার আকাঙ্ক্ষাও করবে না।
৪৫১৯। মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ... কায়স (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতের মধ্যে ফাঁপা মোতির একটি তাঁবু থাকবে যা হবে ষাট মাইল প্রশস্ত। এর প্রতিটি কোণে থাকবে হুর-বালা, যাদের এক কোণার জন অপর কোণার জনকে দেখবে না। ঈমানদার লোকেরা তাদের কাছে যাবে। এতে দুটি উদ্যান থাকবে, যার সকল পাত্র এবং এর অভ্যন্তরের সকল বস্তু রূপার তৈরি হবে। এবং আরও দুটি উদ্যান থাকবে, যার সকল পাত্র এবং এর অভ্যন্তরের সকল বস্তু সোনার তৈরি হবে। জান্নাতে-আদনের মধ্যে জান্নাতবাসী এবং তাদের প্রতিপালকের দর্শন লাভের মাঝখানে আল্লাহর বড়ত্বের প্রভাময় আভা ভিন্ন আর কিছু থাকবে না।
আল্লাহ্র বাণীঃ وظل ممدود "সম্প্রসারিত ছায়া" (৫৫ঃ ৩০)
হাদিস নং ৪৫২০সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ عَامٍ لاَ يَقْطَعُهَا، وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ (وَظِلٍّ مَمْدُودٍ)".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
সুরা ওয়াকি’আ
وَقَالَ مُجَاهِدٌ رُجَّتْ زُلْزِلَتْ بُسَّتْ فُتَّتْ لُتَّتْ كَمَا يُلَتُّ السَّوِيقُ الْمَخْضُودُ الْمُوقَرُ حَمْلًا وَيُقَالُ أَيْضًا لَا شَوْكَ لَهُ مَنْضُودٍ الْمَوْزُ وَالْعُرُبُ الْمُحَبَّبَاتُ إِلَى أَزْوَاجِهِنَّ ثُلَّةٌ أُمَّةٌ يَحْمُومٍ دُخَانٌ أَسْوَدُ يُصِرُّونَ يُدِيمُونَ الْهِيمُ الْإِبِلُ الظِّمَاءُ لَمُغْرَمُونَ لَمَلُومُونَ مَدِينِينَ مُحَاسَبِينَ رَوْحٌ جَنَّةٌ وَرَخَاءٌ وَرَيْحَانٌ الرَّيْحَانُ الرِّزْقُ وَنُنْشِئَكُمْ فِيمَا لَا تَعْلَمُونَ فِي أَيِّ خَلْقٍ نَشَاءُ وَقَالَ غَيْرُهُ تَفَكَّهُونَ تَعْجَبُونَ عُرُبًا مُثَقَّلَةً وَاحِدُهَا عَرُوبٌ مِثْلُ صَبُورٍ وَصُبُرٍ يُسَمِّيهَا أَهْلُ مَكَّةَ الْعَرِبَةَ وَأَهْلُ الْمَدِينَةِ الْغَنِجَةَ وَأَهْلُ الْعِرَاقِ الشَّكِلَةَ وَقَالَ فِي خَافِضَةٌ لِقَوْمٍ إِلَى النَّارِ وَ رَافِعَةٌ إِلَى الْجَنَّةِ مَوْضُونَةٍ مَنْسُوجَةٍ وَمِنْهُ وَضِينُ النَّاقَةِ وَالْكُوبُ لَا آذَانَ لَهُ وَلَا عُرْوَةَ وَالْأَبَارِيقُ ذَوَاتُ الْآذَانِ وَالْعُرَى مَسْكُوبٍ جَارٍ وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ مُتْرَفِينَ مُمَتَّعِينَ مَا تُمْنُونَ مِنْ النُّطَفِ يَعْنِي هِيَ النُّطْفَةُ فِي أَرْحَامِ النِّسَاءِ لِلْمُقْوِينَ لِلْمُسَافِرِينَ وَالْقِيُّ الْقَفْرُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ بِمُحْكَمِ الْقُرْآنِ وَيُقَالُ بِمَسْقِطِ النُّجُومِ إِذَا سَقَطْنَ وَمَوَاقِعُ وَمَوْقِعٌ وَاحِدٌ مُدْهِنُونَ مُكَذِّبُونَ مِثْلُ لَوْ تُدْهِنُ فَيُدْهِنُونَ فَسَلَامٌ لَكَ أَيْ مُسَلَّمٌ لَكَ إِنَّكَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ وَأُلْغِيَتْ إِنَّ وَهُوَ مَعْنَاهَا كَمَا تَقُولُ أَنْتَ مُصَدَّقٌ مُسَافِرٌ عَنْ قَلِيلٍ إِذَا كَانَ قَدْ قَالَ إِنِّي مُسَافِرٌ عَنْ قَلِيلٍ وَقَدْ يَكُونُ كَالدُّعَاءِ لَهُ كَقَوْلِكَ فَسَقْيًا مِنْ الرِّجَالِ إِنْ رَفَعْتَ السَّلَامَ فَهُوَ مِنْ الدُّعَاءِ تُورُونَ تَسْتَخْرِجُونَ أَوْرَيْتُ أَوْقَدْتُ لَغْوًا بَاطِلًا تَأْثِيمًا كَذِبًا
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, رُجَّتْ প্রকম্পিত হবে। بُسَّتْ চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়া, ছাতু যেমন চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হয় তেমিনভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হবে। الْمَخْضُوْدُ বোঝার কারণে চরম ভারাক্রান্ত। কণ্টকহীন বৃক্ষকেও مَخْضُوْدُ বলা হয়। مَنْضُوْدٍ কলা। الْعُرُبُ স্বামীর কাছে প্রিয়তমা স্ত্রীগণ। ثُلَّةٌ উম্মত। يَحْمُوْمٍ কালো ধোঁয়া। يُصِرُّوْنَ তারা অবিরাম করতে থাকবে। الْهِيْمُ পিপাসিত উট। لَمُغْرَمُوْنَ যাদের উপর ঋণ পরিশোধ করা অপরিহার্য করে দেয়া হয়েছে। رَوْحُ উদ্যান ও কোমলতা। اَلرَيْحَانُ জীবনোপকরণ। نَنْشَأَكُمْ যে কোন আকৃতিতে আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করব। মুজাহিদ ব্যতীত অন্যান্য মুফাসসির বলেন, تَفَكَّهُوْنَ তোমরা বিস্মিত হয়ে যাবে। عُرُبًا বহুবচন। একবচনে عَرُوْبٌ যেমন, صُبُرٌ বহুবচন। একবচনে صَبُوْرٍ মক্কাবাসী লোকেরা তাকে الْعَرِبَةَ মদিনা্বাসী লোকেরা الْغَنِجَةَ এবং ইরাকী লোকেরা তাকে الشَّكِلَةَ বলে। خَافِضَةٌ তা একদল লোককে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। رَافِعَةٌ তা একদল লোককে জান্নাতে নিয়ে যাবে। مَوْضُوْنَةٍ مَّنْسُوْجَةٍ গ্রথিত। এর থেকেই وَضَيْنُ النَّاقِةٍ শব্দটির উৎপত্তি (অর্থ উটের পালানের রশি) الكُوْبُ নল ও হাতলবিহীন পানপাত্র। الْأَبَارِيْقُ নল ও হাতল সম্পন্ন লোটা। مَسْكُوْبٍ প্রবহমান। وَفُرُشٍ مَّرْفُوْعَةٍ একটির উপর আরেকটি বিছানো শয্যাসমূহ। مُتْرَفِيْنَ ভোগ বিলাসী লোকজন। مَا تُمْنُوْنَ মহিলাদের গর্ভাশয়ে নিক্ষিপ্ত বীর্য। لِلْمُقْوِيْنَ মুসাফিরদের জন্য। الْقِيُّ ঘাস, পানি এবং জন-মানবহীন ভূমি। بِمَوَاقِعِ النُّجُوْمِ কুরআনের মুহ্কাম আয়াতসমূহ। بِمَسْقِطِ النُّجُوْمِ নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের স্থান। مَوَاقِعٌএবং مَوْقِعٌ শব্দ দু’টো একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। مُدْهِنُوْنَ তুচ্ছকারী লোকজন। যেমন অন্যত্র আছে, لَوْ تُدْهِنُ فَيُدْهِنُوْنَ যদি তুমি তুচ্ছ কর, তবে তারাও তুচ্ছ করবে। فَسَلَامٌ لَكَ তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। কেননা, তুমি দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত। এখানে إِنَّশব্দটি উহ্য আছে। যেমন, اِنِّىْ مُسَافِرٌ عَنْ قَلِيْلٍ এর উত্তরে কথিত أَنْتَ مُصَدَّقٌ مُّسَافِرٌ عَنْ قَلِيْلٍ বাক্যের মাঝে إِنَّ শব্দটি উহ্য আছে। মূলে ছিল إِنَّكَ مُسَافِرٌ শ্রোতার প্রতি দু’আ হিসেবেও سَلَامَ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন فَسَقْيًا مِّنْ الرِّجَالِ (পরিতৃপ্ত লোকজন) বাক্যটিও দু’আ হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। سَلَامٌ শব্দটিকে مَرْفُوْعٌ পড়া হলে তা দু’আ হিসেবেই গণ্য হবে। تُوْرُوْنَ তোমরা বের কর, প্রজ্জ্বলিত কর। পক্ষান্তরে أَوْرَيْتُ بِمَعْزٍ اَوْ فَدْتُ থেকে تُوْرُوْنَ শব্দটির উৎপত্তি। لَغْوًا অসার। تَأْثِيْمًا মিথ্যা বাক্য।
৪৫২০। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরাইরা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “জান্নাতের মধ্যে এমন বড় একটি বৃক্ষ আছে, যার ছায়ায় একজন সওয়ারী একশ বছর চলতে পারবে, তবুও সে এ ছায়া অতিক্রম করতে পারবে না। তোমার ইচ্ছা হলে (সম্প্রসারিত ছায়া) পাঠ করতে পার”।
সুরা হাদীদ
وَقَالَ مُجَاهِدٌ جَعَلَكُمْ مُسْتَخْلَفِينَ مُعَمَّرِينَ فِيهِ مِنْ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ مِنْ الضَّلَالَةِ إِلَى الْهُدَى فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ جُنَّةٌ وَسِلَاحٌ مَوْلَاكُمْ أَوْلَى بِكُمْ لِئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ لِيَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ يُقَالُ الظَّاهِرُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا وَالْبَاطِنُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا أَنْظِرُونَا انْتَظِرُونَا
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, جَعَلَكُمْ مُّسْتَخْلَفِيْنَ আমি তোমাদেরকে তাতে আবাদকারী বানিয়েছি। مِنْ الظُّلُمٰتِ إِلَى النُّوْرِ ভ্রান্তি থেকে হিদায়াতের দিকে। وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ ঢাল ও অস্ত্রশস্ত্র। مَوْلَاكُمْ তিনিই তোমাদের জন্য যোগ্য। لِئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ যাতে কিতাবী লোকেরা জানতে পারে। বলা হয়, বস্তুর বাহ্যিক বিষয়ের উপরও عِلْمٍ ব্যবহৃত হয়। এমনিভাবে বস্তুর অভ্যন্তরীণ বিষয়ের উপরও عِلْم ব্যবহৃত হয়। أَنْظِرُوْنَا তোমরা আমাদের জন্য একটু অপেক্ষা কর।
সুরা মুজাদালা
وَقَالَ مُجَاهِدٌ يُحَادُّونَ يُشَاقُّونَ اللَّهَ كُبِتُوا أُخْزُوا مِنْ الْخِزْيِ اسْتَحْوَذَ غَلَبَ
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, يُحَادُّوْنَ তারা (আল্লাহর) বিরোধিতা করছে। كُبِتُوْا তাদেরকে অপদস্থ করা হবে। الْخِزْيِ ধাতু হতে উক্ত শব্দটির উৎপত্তি। اسْتَحْوَذَ সে প্রাধান্য বিস্তার করেছে।
সুরা হাশর
الْجَلَاءَ الْإِخْرَاجُ مِنْ أَرْضٍ إِلَى أَرْضٍ
الْجَلَاءَ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নির্বাসিত করা।
৪৫২১। মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রহীম (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে সূরা তাওবা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটি তো লাঞ্ছনাকারী সূরা।وَمِنْهُمْ وَمِنْهُمْ অর্থাৎ “তাদের একদল এই করছে, আরেক দল ঐ করছে”, এই বলে একাধারে এ সূরা নাযিল হতে থাকলে লোকজন ধারণা করতে লাগলো যে, তাদের মধ্যে এমন কেউ আর বাকী থাকবেনা, যাকে এই সূরায় উল্লেখ করা হবে না। বর্ণনাকারী বলেন- আমি তাঁকে সূরা আনফাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এই সূরাটি বদর যুদ্ধের সময় নাযিল হয়েছে। আমি তাঁকে সূরা হাশর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এই সূরাটি বনী নাযীর সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।
৪৫২২। হাসান ইবনু মুদরিক (রহঃ) ... সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন- আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে ’সূরা হাশর’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটিকে ’সূরা বনী নাযীর’ বল।
আল্লাহ্ তা'আলার বাণীঃ ما قطعتم من لينة أو تركتموها قائمة على أصولها فبإذن الله وليخزي الفاسقين "তোমরা যে খেজুর বৃক্ষগুলো কর্তন করেছ বা যেগুলোর কান্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে; এ তো এ জন্য যে, আল্লাহ্ পাপাচারিদের লাঞ্ছিত করবেন" (৫৯ঃ৫) لينة এবং برنية ব্যতীত সকল খেজুরকেই لينة বলা হয়।
হাদিস নং ৪৫২৩সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَرَّقَ نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ وَقَطَعَ، وَهْىَ الْبُوَيْرَةُ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى (مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيُخْزِيَ الْفَاسِقِينَ)
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
৪৫২৩। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী নাযীর গোত্রের খেজুর গাছ জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এবং কেটে ফেলেছিলেন, যা ’বুওয়াইরা’ নামক স্থানে (মদিনার নিকটে) ছিল। এরপর আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেনঃ “তোমরা যে খেজুর গাছ কেটেছ বা যেগুলোকে কাণ্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই অনুমতিতে, যাতে আল্লাহ পাপীদের লাঞ্ছিত করবেন” (সূরা ৫৯, আয়াত ০৫)।
আল্লাহ্র বাণীঃ ما أفاء الله على رسوله "আল্লাহ্ এই জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসুল (সাঃ) কে যা কিছু দিয়েছে" (৫৯ঃ ৭)
হাদিস নং ৪৫২৪সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَان ُ ـ غَيْرَ مَرَّةٍ ـ عَنْ عَمْرٍو، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، عَنْ عُمَرَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كَانَتْ أَمْوَالُ بَنِي النَّضِيرِ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم مِمَّا لَمْ يُوجِفِ الْمُسْلِمُونَ عَلَيْهِ بِخَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ، فَكَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً، يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ مِنْهَا نَفَقَةَ سَنَتِهِ، ثُمَّ يَجْعَلُ مَا بَقِيَ فِي السِّلاَحِ وَالْكُرَاعِ، عُدَّةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ.
বর্ণনাকারী: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
৪৫২৪। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- বনী নাযীরের বিষয়-সম্পত্তি ঐ সকল বস্তুর অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা আল্লাহ তাঁর রাসূলকে ’ফাই’ হিসেবে দিয়েছেন, এ জন্য যে মুসলিমরা ঘোড়ায় বা উটে চড়ে যুদ্ধ করেনি। সুতরাং এটি খাস ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য। এর মধ্য থেকে তিনি তাঁর পরিবারের জন্য এক বছরের খরচ দান করতেন। এরপর বাকিটা তিনি অস্ত্রশস্ত্র এবং ঘোড়া সংগ্রহের কাজে ব্যয় করতেন আল্লাহর পথে জিহাদের প্রস্তুতি হিসেবে।
আল্লাহ্র বাণীঃ ما آتاكم الرسول فخذوه "রাসুল তোমাদেরকে যা দেয় তা তোমরা গ্রহন কর (এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করে তা হতে বিরত থাক)" (৫৯ঃ ৭)
৪৫২৫। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ লানত করেছেন ঐ সকল নারীর প্রতি যারা অন্যের শরীরে উল্কি অংকন করে, নিজ শরীরে উল্কি অংকন করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্য ভ্রূ উপড়িয়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে। এরা আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি ঘটিয়েছে। এরপর বনী আসাদ গোত্রের উম্মে ইয়াকুব নামে এক মহিলার কাছে এ সংবাদ পৌঁছালে সে এসে বলল, আমি জানতে পারলাম, আপনি এ ধরনের মহিলাদের প্রতি লানত করেছেন। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার প্রতি লানত করেছেন, আল্লাহর কিতাবে যার প্রতি লানত করা হয়েছে, আমি তার প্রতি লানত করব না কেন? তখন মহিলা বলল, আমি দুই ফলকের মাঝে যা আছে তা (পূর্ণ কুরআন) পড়েছি। কিন্তু আপনি যা বলেছেন, তা তো এতে পাইনি।
আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, যদি তুমি কুরআন পড়তে অবশ্যই তা পেতে, তুমি কি পড়নি? “রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা তোমাদের নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাক”। (সূরা ৫৯, আয়াত ০৭) মহিলা বলল, হ্যাঁ নিশ্চয়ই পড়েছি। আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কাজে নিষেধ করেছেন। তখন মহিলা বলল, আমার মনে হয় আপনার পরিবারও এ কাজ করে। তিনি বললেন, তুমি যাও এবং ভালোভাবে দেখে এসো। এরপর মহিলা গেল এবং ভালোভাবে দেখে এলো। কিন্তু তার প্রয়োজনীয় কিছুই দেখতে পেলো না। তখন আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, আমার স্ত্রী যদি এমন করত, তবে সে আমার সাথে একত্রে থাকতে পারত না।
হাদিস নং ৪৫২৬সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ ذَكَرْتُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ حَدِيثَ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْوَاصِلَةَ فَقَالَ سَمِعْتُهُ مِنِ امْرَأَةٍ يُقَالُ لَهَا أُمُّ يَعْقُوبَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ مِثْلَ حَدِيثِ مَنْصُورٍ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৫২৬। আলী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে নারী কৃত্রিম চুল লাগায়, তার প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত করেছেন। রাবী বলেন, আমি উম্মে ইয়াকুব নামক মহিলার কাছ থেকে হাদিসটি শুনেছি, তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, মানসুরের হাদীসের অনুরূপ।
আল্লাহ্র বাণীঃ والذين تبوءوا الدار والإيمان "মুহাজীরদের যারা এ নগরীতে বসবাস করে আসছে ও ঈমান এনেছে, (তারা মুহাজিরদের ভালবাসে এবং মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তাঁর জন্য তারা অন্তরে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না)" (৫৯ঃ ৯)
হাদিস নং ৪৫২৭সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ قَالَ عُمَرُ رضى الله عنه أُوصِي الْخَلِيفَةَ بِالْمُهَاجِرِينَ الأَوَّلِينَ أَنْ يَعْرِفَ لَهُمْ حَقَّهُمْ، وَأُوصِي الْخَلِيفَةَ بِالأَنْصَارِ الَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالإِيمَانَ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُهَاجِرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَقْبَلَ مِنْ مُحْسِنِهِمْ وَيَعْفُوَ عَنْ مُسِيئِهِمْ.
বর্ণনাকারী: আমর ইবনু মায়মূন (রহঃ)
৪৫২৭। আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ... আমর ইবনু মাইমুন (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার (রাঃ) বলেছেন, আমি আমার পরবর্তী খলীফাকে অসীয়ত করেছি, প্রথম যুগের মুহাজিরদের হক আদায় করার জন্য এবং আমার পরবর্তী খলীফাকে আনসারদের ব্যাপারে অসীয়ত করেছি, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হিজরতের পূর্বে এ নগরীতে বসবাস করতেন এবং ঈমান এনেছিলেন যেন সে তাদের পুণ্যবানদের সৎকর্মকে গ্রহণ করে এবং দোষ-ত্রুটিকে ক্ষমা করে দেয়।
আল্লাহ্র বাণীঃ ويؤثرون على أنفسهم "এবং তারা তাদের নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয় (নিজেদের অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও) ... শেষ পর্যন্ত (৫৯ঃ ৯) الخصاصة অর্থ ক্ষুধা। المفلحون অর্থ যারা (জান্নাতে) চিরকাল থাকার সফলতা অর্জন করেছেন। الفلاح অর্থ স্থায়িত্ব। حي على الفلاح অর্থ সফলতা ও চিরস্থায়ী জীবনের দিকে তাড়াতাড়ি আস। হাসান (রহঃ) বলেন, حاجة অর্থ হিংসা।
হাদিস নং ৪৫২৮সহিহ
حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ غَزْوَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ الأَشْجَعِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ أَتَى رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَصَابَنِي الْجَهْدُ فَأَرْسَلَ إِلَى نِسَائِهِ فَلَمْ يَجِدْ عِنْدَهُنَّ شَيْئًا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ رَجُلٌ يُضَيِّفُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ يَرْحَمُهُ اللَّهُ ". فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ. فَذَهَبَ إِلَى أَهْلِهِ فَقَالَ لاِمْرَأَتِهِ ضَيْفُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ تَدَّخِرِيهِ شَيْئًا. قَالَتْ وَاللَّهِ مَا عِنْدِي إِلاَّ قُوتُ الصِّبْيَةِ. قَالَ فَإِذَا أَرَادَ الصِّبْيَةُ الْعَشَاءَ فَنَوِّمِيهِمْ، وَتَعَالَىْ فَأَطْفِئِي السِّرَاجَ وَنَطْوِي بُطُونَنَا اللَّيْلَةَ. فَفَعَلَتْ ثُمَّ غَدَا الرَّجُلُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لَقَدْ عَجِبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ـ أَوْ ضَحِكَ ـ مِنْ فُلاَنٍ وَفُلاَنَةَ ". فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ (وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ)
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৫২৮। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম ইবনু কাসীর (রহঃ) ... আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার খুব ক্ষুধা পেয়েছে। তখন তিনি তাঁর স্ত্রীদের কাছে পাঠালেন, কিন্তু তিনি তাদের কাছে কিছুই পেলেন না। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমন কেউ আছে কি, যে আজ রাতে এ লোকটিকে মেহমানদারী করতে পারে? আল্লাহ তার প্রতি রহমত করবেন। তখন আনসারদের একজন দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আছি। এরপর তিনি তাকে সাথে নিয়ে বাড়িতে গেলেন এবং নিজ স্ত্রীকে বললেন, ইনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মেহমান, কোন জিনিস জমা রাখবে না।
মহিলা বলল, আল্লাহর কসম! আমার কাছে ছেলে-মেয়েদের খাবার ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি বললেন, ছেলে-মেয়েরা রাতের খাবার চাইলে তুমি তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দিও এবং বাতি নিভিয়ে দিও। আজ রাতে আমরা অভুক্ত থাকব। সুতরাং মহিলা তা-ই করল। পরদিন সকালে আনসার সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলে তিনি বললেন, অমুক ব্যাক্তি ও তার স্ত্রীর প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন। এরপর আল্লাহ নাযিল করলেন, “এবং তারা তাদের নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও” (সূরা ৫৯, আয়াত ০৯)।
আল্লাহ্র বাণীঃ لا تتخذوا عدوي "(হে মু'মিনগণ) আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহন করো না" (৬০ঃ১)
হাদিস নং ৪৫২৯সহিহ
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، قَالَ حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، أَنَّهُ سَمِعَ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي رَافِعٍ، كَاتِبَ عَلِيٍّ يَقُولُ سَمِعْتُ عَلِيًّا ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَا وَالزُّبَيْرَ وَالْمِقْدَادَ فَقَالَ " انْطَلِقُوا حَتَّى تَأْتُوا رَوْضَةَ خَاخٍ فَإِنَّ بِهَا ظَعِينَةً مَعَهَا كِتَابٌ فَخُذُوهُ مِنْهَا ". فَذَهَبْنَا تَعَادَى بِنَا خَيْلُنَا حَتَّى أَتَيْنَا الرَّوْضَةَ فَإِذَا نَحْنُ بِالظَّعِينَةِ فَقُلْنَا أَخْرِجِي الْكِتَابَ فَقَالَتْ مَا مَعِي مِنْ كِتَابٍ. فَقُلْنَا لَتُخْرِجِنَّ الْكِتَابَ أَوْ لَنُلْقِيَنَّ الثِّيَابَ. فَأَخْرَجَتْهُ مِنْ عِقَاصِهَا فَأَتَيْنَا بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا فِيهِ مِنْ حَاطِبِ بْنِ أَبِي بَلْتَعَةَ إِلَى أُنَاسٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ مِمَّنْ بِمَكَّةَ يُخْبِرُهُمْ بِبَعْضِ أَمْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَا هَذَا يَا حَاطِبُ ". قَالَ لاَ تَعْجَلْ عَلَىَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ امْرَأً مِنْ قُرَيْشٍ وَلَمْ أَكُنْ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَكَانَ مَنْ مَعَكَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ لَهُمْ قَرَابَاتٌ يَحْمُونَ بِهَا أَهْلِيهِمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِمَكَّةَ فَأَحْبَبْتُ إِذْ فَاتَنِي مِنَ النَّسَبِ فِيهِمْ أَنْ أَصْطَنِعَ إِلَيْهِمْ يَدًا يَحْمُونَ قَرَابَتِي وَمَا فَعَلْتُ ذَلِكَ كُفْرًا وَلاَ ارْتِدَادًا عَنْ دِينِي. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهُ قَدْ صَدَقَكُمْ ". فَقَالَ عُمَرُ دَعْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَضْرِبَ عُنُقَهُ. فَقَالَ " إِنَّهُ شَهِدَ بَدْرًا وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ اللَّهَ ـ عَزَّ وَجَلَّ ـ اطَّلَعَ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ ". قَالَ عَمْرٌو وَنَزَلَتْ فِيهِ (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ) قَالَ لاَ أَدْرِي الآيَةَ فِي الْحَدِيثِ أَوْ قَوْلُ عَمْرٍو.
বর্ণনাকারী: আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)
সুরা মুম্তাহিনা
وَقَالَ مُجَاهِدٌ لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لَا تُعَذِّبْنَا بِأَيْدِيهِمْ فَيَقُولُونَ لَوْ كَانَ هَؤُلَاءِ عَلَى الْحَقِّ مَا أَصَابَهُمْ هَذَا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ أُمِرَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِفِرَاقِ نِسَائِهِمْ كُنَّ كَوَافِرَ بِمَكَّةَ
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, لَا تَجْعَلْنَا আমাদেরকে কাফিরদের হাতে শাস্তি দিও না। তাহলে তারা বলবে, যদি মুসলিমরা হাকের ওপর থাকত, তাহলে তাদের ওপর এ মুসীবত আসত না। بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাঁরা যেন তাদের ঐ স্ত্রীদের বর্জন করে, যারা মক্কাতে কাফির অবস্থায় বিদ্যমান আছে।
৪৫২৯। হুমায়দী (রহঃ) ... আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইর (রাঃ), মিকদাদ (রাঃ) ও আমাকে পাঠালেন এবং বললেন, তোমরা ’রওদা খাখ’ নামক স্থানে যাও। সেখানে এক উট-আরোহিণী মহিলা পাবে। তার কাছে একটি পত্র রয়েছে, তোমরা তার কাছ থেকে সেই চিঠিটি নিয়ে নিবে। এরপর আমরা রওনা হলাম। আমাদের ঘোড়া আমাদেরকে নিয়ে ছুটে চলল। যেতে যেতে আমরা রওদায় গিয়ে পৌঁছলাম। সেখানে পৌঁছেই আমরা উট-আরোহিণীকে পেয়ে গেলাম। আমরা বললাম, পত্রখানা বের কর। সে বলল, আমার কাছে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, অবশ্যই তুমি পত্রখানা বের করবে, তা না হলে তোমাকে বিবস্ত্র করে ফেলা হবে। এরপর সে তার চুলের বেণী থেকে পত্রখানা বের করল। আমরা পত্রখানা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম।
দেখা গেল, পত্রখানা হাতিব ইবনু আবূ বালতাআহ (রাঃ) এর পক্ষ থেকে মক্কার কতিপয় মুশরিকের কাছে লিখা। এ চিঠিতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিষয় তাদের কাছে ব্যক্ত করে দিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, হাতিব কী ব্যাপার? তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ব্যাপারে দ্রুত কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না। আমি কুরাইশ বংশীয় লোকদের সাথে বসবাসকারী এক ব্যাক্তি, কিন্ত বংশগতভাবে তাদের সাথে আমার আর কোন সম্পর্ক নেই। আপনার সাথে যত মুহাজির আছেন, তাদের সবারই সেখানে আত্নীয়-স্বজন রয়েছে। এসব আত্নীয়-স্বজনের মক্কায় তাদের পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদ রক্ষা পাচ্ছে। আমি চেয়েছিলাম, যেহেতু তাদের সাথে আমার বংশগত কোন সম্পর্ক নেই, তাই এবার যদি আমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করি, তাহলে হয়তো তারাও আমার আত্মীয়স্বজনের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে। কুফর ও নিজ ধর্ম ত্যাগ করার মনোভাব নিয়ে আমি এ কাজ করিনি।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে তোমাদের কাছে সত্য কথাই বলেছে। তখন উমার (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিন এখনই আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি কি জানো না, আল্লাহ অবশ্যই বদরে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেছেনঃ “তোমরা যা চাও কর, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি”। আমর বলেন, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছেঃ “হে ঈমানদারগণ! আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না” (সূরা ৬০, আয়াত ০১)। সুফইয়ান বলেন, আয়াতটি হাদিসের অংশ নাকি আমর (রাঃ) এর কথা, তা আমি জানি না।
৪৫৩০। আলী (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, সুফইয়ান ইবনু উয়াইনা (রহঃ) কে “হে মুমিনগণ! আমার শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না” আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, মানুষ বর্ণনার মাঝে তো এমনই পাওয়া যায়। আমি এ হাদিসটি আমর ইবনু দ্বীনার (রহঃ) থেকে মুখস্ত করেছি। এর মধ্য থেকে একটি অক্ষরও আমি বাদ দেইনি। আমার ধারণা, আমর ইবনু দ্বীনার (রহঃ) থেকে আমি ব্যতীত আর কেউ এ হাদিস মুখস্ত করেনি।
আল্লাহ্র বাণীঃ إذا جاءكم المؤمنات مهاجرات "(হে মু'মিনগণ!) যখন তোমাদের কাছে মু'মিন নারীরা দেশত্যাগী হয়ে আসেঃ (৬০ঃ ১০)
হাদিস নং ৪৫৩১সহিহ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَخِي ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَمِّهِ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ، أَنَّ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَمْتَحِنُ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ بِهَذِهِ الآيَةِ، بِقَوْلِ اللَّهِ (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ) إِلَى قَوْلِهِ (غَفُورٌ رَحِيمٌ). قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ فَمَنْ أَقَرَّ بِهَذَا الشَّرْطِ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ قَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ بَايَعْتُكِ ". كَلاَمًا وَلاَ وَاللَّهِ مَا مَسَّتْ يَدُهُ يَدَ امْرَأَةٍ قَطُّ فِي الْمُبَايَعَةِ، مَا يُبَايِعُهُنَّ إِلاَّ بِقَوْلِهِ " قَدْ بَايَعْتُكِ عَلَى ذَلِكَ ". تَابَعَهُ يُونُسُ وَمَعْمَرٌ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِيِّ. وَقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ رَاشِدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ وَعَمْرَةَ.
বর্ণনাকারী: উরওয়াহ (রহঃ)
৪৫৩১। ইসহাক (রহঃ) ... উরওয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশা (রাঃ) তাঁকে বলেছেন, কোন মুমিন মহিলা রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে হিজরত করে এলে, তিনি তাকে আল্লাহর এই আয়াতের ভিত্তিতে যাচাই করতেন- “হে নবী! মুমিন নারীরা যখন আপনার কাছে এ মর্মে বায়’আত করতে আসে যে, তারা আল্লাহর সাথে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজ সন্তানকে হত্যা করবে না, তারা সজ্ঞানে কোন অপবাদ রটাবে না এবং সৎকাজে আপনাকে অমান্য করবে না, তখন তাদের বায়’আত গ্রহণ করবেন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” (৬০ঃ ১২)।
উরওয়া (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, যে মুমিন নারী এসব শর্ত মেনে নিত, রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলতেন, আমি কথার মাধ্যমে তোমাকে বায়’আত করে নিলাম। আল্লাহর কসম! বায়’আত গ্রহণকালে কোন নারীর হাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতকে স্পর্শ করেনি। নারীদেরকে তিনি শুধু এ কথার দ্বারাই বায়’আত করতেন-قَدْ بَايَعْتُكِ عَلَى ذَلِكَ “আমি তোমাকে এ কথার উপর বায়’আত করলাম”।
ইউনুস, মা’মার ও আবদুর রহমান ইবন ইসহাক (রহঃ) যুহরীর মাধ্যমে উক্ত বর্ণনার মুতাবআত (সমর্থন) করেছেন। ইসহাক ইবন রাশীদ যুহরী থেকে এবং যুহরী উরওয়া ও আমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ إذا جاءك المؤمنات يبايعنك "(হে নবী!) মু'মিন নারীগণ যখন তোমার কাছে এ মর্মে বায়'আত করতে আসে" (৬০ঃ ১২)
হাদিস নং ৪৫৩২সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ بَايَعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَ عَلَيْنَا (أَنْ لاَ يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا) وَنَهَانَا عَنِ النِّيَاحَةِ، فَقَبَضَتِ امْرَأَةٌ يَدَهَا فَقَالَتْ أَسْعَدَتْنِي فُلاَنَةُ أُرِيدُ أَنْ أَجْزِيَهَا. فَمَا قَالَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا فَانْطَلَقَتْ وَرَجَعَتْ فَبَايَعَهَا.
বর্ণনাকারী: উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ)
৪৫৩২। আবূ ম’মার (রহঃ) ... উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বায়’আত গ্রহণ করেছি। এরপর তিনি আমাদের সামনে পাঠ করলেন, “তারা আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না”। এরপর তিনি আমাদেরকে মৃত ব্যাক্তির জন্য বিলাপ করে কাঁদতে নিষেধ করলেন। এ সময় এক মহিলা তার হাত টেনে নিয়ে বলল, অমুক মহিলা আমাকে বিলাপে সাহায্য করেছে, আমি তাকে এর বিনিময় দিতে চেয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কিছুই বলেন নি। এরপর মহিলাটি উঠে চলে গেল এবং পুনরায় ফিরে আসলো, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বায়’আত করলেন।
৪৫৩৩। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বানীوَلاَ يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ “এবং তারা সৎকাজে আপনাকে অমান্য করবে না” এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, এটি একটি শর্ত, যা আল্লাহ নারীদের প্রতি আরোপ করেছেন (যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বায়’আত করতে আসতেন)।
হাদিস নং ৪৫৩৪সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنَاهُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو إِدْرِيسَ، سَمِعَ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَتُبَايِعُونِي عَلَى أَنْ لاَ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا وَلاَ تَزْنُوا وَلاَ تَسْرِقُوا ". وَقَرَأَ آيَةَ النِّسَاءِ ـ وَأَكْثَرُ لَفْظِ سُفْيَانَ قَرَأَ الآيَةَ ـ " فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْهَا شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَسَتَرَهُ اللَّهُ فَهْوَ إِلَى اللَّهِ، إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ) ". تَابَعَهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ فِي الآيَةِ.
বর্ণনাকারী: উবাদা ইব্নুস সামিত (রাঃ)
৪৫৩৪। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি এসব শর্তে আমার কাছে বায়’আত করবে যে, তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করবে না, যিনা করবে না এবং চুরি করবে না। এরপর তিনি নারীদের শর্ত সম্পর্কিত আয়াত পাঠ করলেন। বর্ণনাকারী সুফইয়ান প্রায়ই বলতেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতটি পাঠ করেছেন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের যে ব্যাক্তি এসব শর্ত পূরণ করবে, আল্লাহ তার প্রতিদান দিবেন। আর যে ব্যাক্তি এসবের কোন একটি করে ফেলবে এবং তাকে (দুনিয়াতে) শাস্তিও দেয়া হবে, তবে এ শাস্তি তার জন্য কাফফারা হয়ে যাবে। আর যে ব্যাক্তি এসবের কোন একটি করে ফেলল এবং আল্লাহ তা গোপন রাখলেন, তাহলে এ বিষয়টি আল্লাহর কাছে রইল। তিনি চাইলে তাকে শাস্তিও দিতে পারেন অথবা তাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন। আবদুর রহমান (রহঃ) মা’মার (রহঃ) এর সুত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৪৫৩৫। মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রহীম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- আমি ঈদুল-ফিতরের দিন ঈদের সালাত (নামায/নামাজ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে উপস্থিত ছিলাম এবং আবূ বকর (রাঃ), উমার (রাঃ) এবং উসমান (রাঃ)ও সাথে ছিলেন। তাঁরা সকলেই খুতবার আগে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন। সালাত আদায়ের পর তিনি খুতবা দিয়েছেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বর থেকে নামলেন। তখন তিনি যে লোকজনকে হাতের ইশারায় বসাচ্ছিলেন, এ দৃশ্য আমি এখন ও যেন দেখতে পাচ্ছি। এরপর তিনি তাদের দুভাগ করে সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং মহিলাদের কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। তাঁর সাথে বিলাল (রাঃ)ও ছিলেন। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “হে নবী! মুমিন নারীরা যখন আপনার কাছে এ মর্মে বায়’আত করতে আসে যে, তারা আল্লাহর সাথে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজ সন্তানকে হত্যা করবে না, তারা সজ্ঞানে কোন অপবাদ রটাবে না এবং সৎকাজে আপনাকে অমান্য করবে না”। তিনি পূর্ণ আয়াত তিলাওয়াত করে শেষ করলেন। এরপর তিনি বললেন, তোমরা কি এই শর্ত পূরণে রাজি আছো? একজন মহিলা বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! এ ছাড়া আর কোন মহিলা কোন উত্তর দেয়নি। এ মহিলাটি কে ছিলেন, হাসান (রাঃ) তা জানতেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা দান করো। তখন বিলাল (রাঃ) তাঁর কাপড় বিছিয়ে দিলেন এবং মহিলারা তাদের রিং ও আংটি বিলাল (রাঃ) এর কাপড়ে ছুঁড়ে ছুঁড়ে দিতে লাগলেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ من بعدي اسمه أحمد "যিনি আমার পরে আসবেন এবং যার নাম হবে আহমাদ" (৬১ঃ ৬)
হাদিস নং ৪৫৩৬সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ لِي أَسْمَاءً، أَنَا مُحَمَّدٌ، وَأَنَا أَحْمَدُ، وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِي يَمْحُو اللَّهُ بِيَ الْكُفْرَ، وَأَنَا الْحَاشِرُ الَّذِي يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى قَدَمِي، وَأَنَا الْعَاقِبُ ".
বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনু মুত‘ইম (রাঃ)
সুরা সাফ্ফ
وَقَالَ مُجَاهِدٌ مَنْ أَنْصَارِي إِلَى اللَّهِ مَنْ يَتَّبِعُنِي إِلَى اللَّهِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مَرْصُوصٌ مُلْصَقٌ بَعْضُهُ بِبَعْضٍ وَقَالَ يَحْيَى بِالرَّصَاصِ
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, مَنْ أَنْصَارِيْٓ إِلَى اللهِ অর্থ, আল্লাহর পথে কে আমার অনুসরণ করবে? ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, مَرْصُوْصٌ ঐ বস্তু যার এক অংশ অপর অংশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সংযুক্ত। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) ব্যতীত অপরাপর তাফসীরকারের মধ্যে رَّصَاصِ (মানে শিলা) ধাতু থেকে مَرْصُوْصًا শব্দটির উৎপত্তি।
৪৫৩৬। আবূল ইয়ামান (রহঃ) ... জুবাইর ইবনু মুত’ইম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, “আমার অনেকগুলো নাম আছে। আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ এবং আমি মাহী, যার দ্বারা আল্লাহ সকল কুফরী বিলুপ্ত করবেন এবং আমি হাশির, আমার পিছনে সকল মানুষকে সমবেত করা হবে এবং আমি আকিব, সর্বশেষ আগমনকারী”।
আল্লাহ্র বাণীঃ وآخرين منهم لما يلحقوا بهم "এবং তাদের অন্যান্যের জন্যও যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয় নি" (৬২ঃ৩) উমর (রাঃ) فاسعوا إلى ذكر الله এর স্থলে امضوا إلى ذكر الله (ধাবিত হও আল্লাহ্র দিকে) পড়তেন।
হাদিস নং ৪৫৩৭সহিহ
حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ الْجُمُعَةِ (وَآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ) قَالَ قُلْتُ مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَلَمْ يُرَاجِعْهُ حَتَّى سَأَلَ ثَلاَثًا، وَفِينَا سَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ، وَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ عَلَى سَلْمَانَ ثُمَّ قَالَ " لَوْ كَانَ الإِيمَانُ عِنْدَ الثُّرَيَّا لَنَالَهُ رِجَالٌ ـ أَوْ رَجُلٌ ـ مِنْ هَؤُلاَءِ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
সূরা জুমু’আ
৪৫৩৭। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসেছিলাম। এই অবস্থায় তাঁর উপর নাযিল হল সূরা জুমু’আ, যার একটি আয়াত হল- “এবং তাদের অন্যান্যের জন্যও যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি”। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনবার জিজ্ঞেস করা সত্ত্বেও তিনি কোন উত্তর দিলেন না। আমাদের মাঝে সালমান ফারসী (রাঃ)ও উপস্থিত ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান (রাঃ) এর উপর হাত রেখে বললেন, ঈমান সুরাইয়া নক্ষত্রের কাছে থাকলেও আমাদের কিছু লোক অথবা তাদের এক ব্যাক্তি তা অবশ্যই পেয়ে যাবে।
হাদিস নং ৪৫৩৮সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، أَخْبَرَنِي ثَوْرٌ، عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لَنَالَهُ رِجَالٌ مِنْ هَؤُلاَءِ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৫৩৮। আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহাব (রহঃ) ... আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের লোক অথবা তাদের কিছু লোক অবশ্যই তা পেয়ে যাবে।
আল্লাহ্র বাণীঃ وإذا رأوا تجارة "এবং যখন তারা ব্যবসা (পণ্য দ্রব্য) দেখল (৬২ঃ ১১)
হাদিস নং ৪৫৩৯সহিহ
حَدَّثَنِي حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، وَعَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ أَقْبَلَتْ عِيرٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَنَحْنُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَثَارَ النَّاسُ إِلاَّ اثْنَا عَشَرَ رَجُلاً فَأَنْزَلَ اللَّهُ (وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا)
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
৪৫৩৯। হাফস ইবনু উমর (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার জুমু’আর দিন একটি বাণিজ্য দল আসল, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। বারোজন লোক ছাড়া সকলেই সেদিকে ছুটে গেল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ নাযিল করলেন- “এবং যখন তারা দেখল ব্যবসা ও খেল-তামাশা, তখন তারা (আপনাকে দাঁড়ান অবস্থায় রেখে) সেদিকে ছুটে গেল” (৬২ঃ ১১)।
আল্লাহ্র বাণীঃ إذا جاءك المنافقون قالوا نشهد إنك لرسول الله إلى لكاذبون "যখন মুনাফিকগণ তাদের কাছে আসে, তারা বলে, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহ্র রাসুল। আল্লাহ্ জানেন যে, তুমি নিশ্চয়ই তাঁর রাসুল এবং আল্লাহ্ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী" (৬৩ঃ ১)
হাদিস নং ৪৫৪০সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ كُنْتُ فِي غَزَاةٍ فَسَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَىٍّ، يَقُولُ لاَ تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ حَتَّى يَنْفَضُّوا مِنْ حَوْلِهِ وَلَوْ رَجَعْنَا مِنْ عِنْدِهِ لَيُخْرِجَنَّ الأَعَزُّ مِنْهَا. الأَذَلَّ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَمِّي أَوْ لِعُمَرَ فَذَكَرَهُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَعَانِي فَحَدَّثْتُهُ فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَىٍّ وَأَصْحَابِهِ فَحَلَفُوا مَا قَالُوا فَكَذَّبَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَدَّقَهُ فَأَصَابَنِي هَمٌّ لَمْ يُصِبْنِي مِثْلُهُ قَطُّ، فَجَلَسْتُ فِي الْبَيْتِ فَقَالَ لِي عَمِّي مَا أَرَدْتَ إِلَى أَنْ كَذَّبَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَقَتَكَ. فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى (إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ) فَبَعَثَ إِلَىَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَ فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ قَدْ صَدَّقَكَ يَا زَيْدُ ".
বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাঃ)
সূরা মুনাফিকূন
৪৫৪০। আবদুল্লাহ ইবনু রাজা (রহঃ) ... যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমি অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাইকে বলতে শুনলাম, আল্লাহর রাসূলের সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা তাঁর থেকে সরে পড়ে এবং সে এও বলল, আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে তথা হতে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদের বহিষ্কৃত করবেই। এ কথা আমি আমার চাচা কিংবা উমার (রাঃ) এর কাছে বলে দিলাম। তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন। ফলে তিনি আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁকে বিস্তারিত সব বললাম। তখন আল্লাহর রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনু উবাই এবং তাঁর সাথীদের কাছে খবর পাঠালেন, তারা সকলেই কসম করে বলল, এই কথা তারা বলেনি।
ফলে রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কথাকে মিথ্যা ও তার কথাকে সত্য বলে মেনে নিলেন। এতে আমি এমন মনকষ্ট পেলাম যা আগে কখনো পাইনি। আমি (মনের দুঃখে) ঘরে বসে ছিলাম এবং আমার চাচা আমাকে বললেন, আল্লাহর রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন এবং তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে তুমি কীভাবে ভাবলে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ নাযিল করলেন- “যখন মুনাফিকগণ আপনার কাছে আসে” (৬৩ঃ ০১)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে লোক পাঠালেন এবং এ সূরা পাঠ করলেন। এরপর বললেন, হে যাইদ! আল্লাহ তোমাকে সত্যবাদী বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ اتخذوا أيمانهم جنة يجتنون بها "তারা তাদের শপথগুলোকে ঢালরূপে ব্যবহার করে" (৬৩ঃ ২)
হাদিস নং ৪৫৪১সহিহ
حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَمِّي فَسَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَىٍّ ابْنَ سَلُولَ يَقُولُ لاَ تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ حَتَّى يَنْفَضُّوا. وَقَالَ أَيْضًا لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الأَعَزُّ مِنْهَا الأَذَلَّ. فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَمِّي فَذَكَرَ عَمِّي لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَىٍّ وَأَصْحَابِهِ، فَحَلَفُوا مَا قَالُوا، فَصَدَّقَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَذَّبَنِي، فَأَصَابَنِي هَمٌّ لَمْ يُصِبْنِي مِثْلُهُ، فَجَلَسْتُ فِي بَيْتِي، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ (إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ) إِلَى قَوْلِهِ (هُمُ الَّذِينَ يَقُولُونَ لاَ تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ) إِلَى قَوْلِهِ (لَيُخْرِجَنَّ الأَعَزُّ مِنْهَا الأَذَلَّ) فَأَرْسَلَ إِلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَهَا عَلَىَّ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ قَدْ صَدَّقَكَ ".
বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাঃ)
৪৫৪১। আদম ইবনু ইয়াস (রহঃ) ... যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সাথে ছিলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূলকে বলতে শুনলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা তাঁর থেকে সরে পড়ে এবং সে এও বলল, আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে তথা হতে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদের বহিষ্কৃত করবেই। এ কথা আমি আমার চাচার কাছে বলে দিলাম। তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনু উবাই এবং তার সাথীদেরকে ডেকে পাঠালেন। তারা সকলেই কসম করে বলল, এই কথা তারা বলেনি।
ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কথাকে মিথ্যা ও তাদের কথাকে সত্য বলে মেনে নিলেন। এতে আমি এমন মনকষ্ট পেলাম যা আগে কখনো পাইনি। এমনকি আমি (মনের দুঃখে) ঘরে বসে ছিলাম। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন- “যখন মুনাফিকগণ আপনার কাছে আসে” (৬৩ঃ ০১); “তারা বলে আল্লাহর রাসূলের সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা সরে পড়ে” (৬৩ঃ ০৭); “তথা হতে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদের বহিষ্কৃত করবেই” (৬৩ঃ ০৭-০৮)। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং আমার সামনে এ সূরা পাঠ করলেন। এরপর বললেন, আল্লাহ তোমাকে সত্যবাদী বলে ঘোষণা করেছেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ "এটা এই জন্য যে, তারা ঈমান আনার পর কুফরী করেছে, ফলে তাদের হৃদয় মোহর করে দেয়া হয়েছে, পরিনামে তারা বোধশক্তি হারিয়ে ফেলেছে" (৬৩ঃ ৩)
হাদিস নং ৪৫৪২সহিহ
حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ كَعْبٍ الْقُرَظِيَّ، قَالَ سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمَّا قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ لاَ تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ. وَقَالَ أَيْضًا لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ. أَخْبَرْتُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَلاَمَنِي الأَنْصَارُ، وَحَلَفَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ مَا قَالَ ذَلِكَ، فَرَجَعْتُ إِلَى الْمَنْزِلِ فَنِمْتُ فَدَعَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْتُهُ فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ قَدْ صَدَّقَكَ ". وَنَزَلَ (هُمُ الَّذِينَ يَقُولُونَ لاَ تُنْفِقُوا) الآيَةَ. وَقَالَ ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ عَمْرٍو عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ زَيْدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাঃ)
৪৫৪২। আদম (রহঃ) ... যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উবাই যখন বলল, “আল্লাহর রাসূলের সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না” এবং এও বলল, “যদি আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করি ...। তখন এ খবর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানালাম। এ কারণে আনসারগণ আমার নিন্দা করলেন এবং আবদুল্লাহ ইবনু উবাই কসম করে বলল, এই কথা সে বলেনি। এরপর আমি বাড়ি ফিরে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তোমার সত্যতা ঘোষণা করেছেন এবং নাযিল করেছেন- “তারা বলে তোমরা ব্যয় করবে না ... শেষ পর্যন্ত। ইবন আবু যায়িদ (রহঃ) উক্ত হাদিস যায়াদ ইবন আরকামের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ وإذا رأيتهم تعجبك أجسامهم الخ "এবং তুমি যখন তাদের দিকে তাকাও তখন তাদের দেহাকৃতি তোমাদের কাছে প্রীতিকর মনে হয় এবং তারা যখন কথা বলে, তুমি সাগ্রহে তাদের কথা শ্রবন কর, যেন তারা দেয়ালে ঠেকানো স্তম্ভ সদৃশ। তারা যে কোন শোরগোলকে মনে করে তাদেরই বিরুদ্ধে। তারাই শত্রু, অতএব তাদের সম্পর্কে সতর্ক হও। আল্লাহ্ তাদেরকে ধ্বংস করুন। বিভ্রান্ত হয়ে তারা কোথায় চলেছে" (৬৩ঃ ৪)
হাদিস নং ৪৫৪৩সহিহ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ أَصَابَ النَّاسَ فِيهِ شِدَّةٌ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ لأَصْحَابِهِ لاَ تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ حَتَّى يَنْفَضُّوا مِنْ حَوْلِهِ. وَقَالَ لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الأَعَزُّ مِنْهَا الأَذَلَّ. فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ فَأَرْسَلَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَىٍّ فَسَأَلَهُ، فَاجْتَهَدَ يَمِينَهُ مَا فَعَلَ، قَالُوا كَذَبَ زَيْدٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَقَعَ فِي نَفْسِي مِمَّا قَالُوا شِدَّةٌ، حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ تَصْدِيقِي فِي (إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ) فَدَعَاهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِيَسْتَغْفِرَ لَهُمْ فَلَوَّوْا رُءُوسَهُمْ. وَقَوْلُهُ (خُشُبٌ مُسَنَّدَةٌ) قَالَ كَانُوا رِجَالاً أَجْمَلَ شَىْءٍ.
বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাঃ)
৪৫৪৩। আমর ইবনু খালিদ (রহঃ) ... যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কোন এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম। সফরে এক কঠিন অবস্থা লোকদের গ্রাস করে নিল। তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই তার সাথীদের বললেন, “আল্লাহর রাসূলের সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা তাঁর থেকে সরে পড়ে যারা তার পাশে আছে” এবং সে এও বলল, “আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে তথা হতে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদের বহিষ্কৃত করবেই”। (এ কথা শুনে) আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে তাঁকে এ সম্পর্কে খবর দিলাম। তখন তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উবাইকে ডেকে পাঠালেন। সে জোরালো কসম করে বলল, এই কথা সে বলেনি। তখন লোকেরা বলল, যাইদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিথ্যা বলেছে। তাদের এ কথায় আমি খুব মনকষ্ট পেলাম। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ আমার সত্যতা সম্পর্কে এই আয়াত নাযিল করলেন- “যখন মুনাফিকগণ আপনার কাছে আসে”)। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ডাকলেন, যাতে তারা তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, কিন্তু তারা তাদের মাথা ফিরিয়ে নিল।
আল্লাহ্র বাণীঃ وإذا قيل لهم تعالوا يستغفر لكم رسول الله لووا رءوسهم ورأيتهم يصدون وهم مستكبرون "যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা এস, আল্লাহ্র রাসুল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। তখন তারা মাথা ফিরিয়ে নেয় এবং তুমি তাদেরকে দেখতে পাচ্ছ, তারা দম্ভ ভরে ফিরে যায়" (৬৩ঃ ৫)
হাদিস নং ৪৫৪৪সহিহ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ كُنْتُ مَعَ عَمِّي فَسَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَىٍّ ابْنَ سَلُولَ، يَقُولُ لاَ تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ حَتَّى يَنْفَضُّوا، وَلَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الأَعَزُّ مِنْهَا الأَذَلَّ. فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَمِّي، فَذَكَرَ عَمِّي لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم (فَدَعَانِي فَحَدَّثْتُهُ، فَأَرْسَلَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَىٍّ وَأَصْحَابِهِ فَحَلَفُوا مَا قَالُوا، وَكَذَّبَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم) وَصَدَّقَهُمْ، فَأَصَابَنِي غَمٌّ لَمْ يُصِبْنِي مِثْلُهُ قَطُّ، فَجَلَسْتُ فِي بَيْتِي وَقَالَ عَمِّي مَا أَرَدْتَ إِلَى أَنْ كَذَّبَكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَمَقَتَكَ. فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى (إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ قَالُوا نَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ) وَأَرْسَلَ إِلَىَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَهَا وَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ قَدْ صَدَّقَكَ ".
বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাঃ)
আল্লাহ্র বাণীঃ خُشُبٌ مُّسَنَّدَةٌ "দেয়ালে ঠেকানো কাষ্ঠ স্তম্ভ" রাবী বলেন, তারা অত্যান্ত সুন্দর দেহের অধিকারী পুরুষ ছিল।
لَوَّوْا তারা মাথা নেড়ে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ঠাট্টা করত। কেউ কেউ لَوَّوْا শব্দটিকে لَوَيْتُ ( تَخْفِيْفِ ) সহকারে পড়ে থাকেন।
৪৫৪৪। উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) ... যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সাথে ছিলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূলকে বলতে শুনলাম, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা তাঁর থেকে সরে পড়ে” এবং “আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে তথা হতে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদের বহিষ্কৃত করবেই”। এ কথা আমি আমার চাচার কাছে বলে দিলাম। তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁকে বিস্তারিত সব বললাম। তখন তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উবাই এবং তার সাথীদেরকে ডেকে পাঠালেন। তারা সকলেই কসম করে বলল, এই কথা তারা বলেনি। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কথাকে মিথ্যা ও তাদের কথাকে সত্য বলে মেনে নিলেন। এতে আমি এমন কষ্ট পেলাম যা আগে কখনো পাইনি। এরপর আমি ঘরে বসে ছিলাম। তখন আমার চাচা আমাকে বললেন, এমন কাজের চিন্তা কেন করলে, যাতে নবী তোমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন এবং তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন? তখন আল্লাহ নাযিল করলেন- “যখন মুনাফিকগণ আপনার কাছে আসে তখন তারা বলে, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল”। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে লোক পাঠালেন এবং আমার সামনে এ সূরা পাঠ করলেন ও বললেন, আল্লাহ তোমাকে সত্যবাদী বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
আল্লাহ্র বাণীঃهم الذين يقولون لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا ينفضوا يتفرقوا ولله خزائن السموات والأرض ولكن المنافقين لا يفقهون "তারাই বলে, আল্লাহ্র রাসুলের সহচরদের জন্য ব্যয় করবে না, যতক্ষন না তারা সরে পড়ে। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর ধনভান্ডার তো আল্লাহরই! কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝে না" (৬৩ঃ ৭)
হাদিস নং ৪৫৪৫সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كُنَّا فِي غَزَاةٍ ـ قَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً فِي جَيْشٍ ـ فَكَسَعَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ الأَنْصَارِيُّ يَا لَلأَنْصَارِ. وَقَالَ الْمُهَاجِرِيُّ يَا لَلْمُهَاجِرِينَ. فَسَمِعَ ذَاكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَا بَالُ دَعْوَى جَاهِلِيَّةٍ " قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَسَعَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ. فَقَالَ " دَعُوهَا فَإِنَّهَا مُنْتِنَةٌ ". فَسَمِعَ بِذَلِكَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ فَقَالَ فَعَلُوهَا، أَمَا وَاللَّهِ لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الأَعَزُّ مِنْهَا الأَذَلَّ. فَبَلَغَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ عُمَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ دَعْنِي أَضْرِبْ عُنُقَ هَذَا الْمُنَافِقِ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " دَعْهُ لاَ يَتَحَدَّثُ النَّاسُ أَنَّ مُحَمَّدًا يَقْتُلُ أَصْحَابَهُ " وَكَانَتِ الأَنْصَارُ أَكْثَرَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ حِينَ قَدِمُوا الْمَدِينَةَ، ثُمَّ إِنَّ الْمُهَاجِرِينَ كَثُرُوا بَعْدُ. قَالَ سُفْيَانُ فَحَفِظْتُهُ مِنْ عَمْرٍو قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ جَابِرًا كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
৪৫৪৫। আলী (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা উপস্থিত ছিলাম। বর্ণনাকারী সুফইয়ান (রহঃ) একবার غَزَاةٍ এর স্থলে جَيْشٍ বর্ণনা করেছেন। এ সময় জনৈক মুহাজির এক আনসারের পাছায় লাথি মারেন। তখন আনসারী হে আনসারী ভাইয়েরা! বলে সাহায্য চাইলেন এবং মুহাজির সাহাবী হে মুহাজির ভাইয়েরা! বলে সাহায্য চাইলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বললেন, কি হল, আইয়্যামে জাহিলিয়্যাতের মত ডাকাডাকি করছ কেন? তখন উপস্থিত লোকেরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এক মুহাজির এক আনসারীর পাছায় লাথি মেরেছে। তিনি বললেন, বাদ দাও, এটি খুবই বাজে কথা। এরপর ঘটনাটি আবদুল্লাহ ইবনু উবাইর কানে পৌঁছল। সে বলল, আচ্ছা মুহাজির কি এ কাজ করেছে? আল্লাহর কসম! আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে সেখান থেকে প্রবল লোকেরা দুর্বলদের বহিষ্কার করবেই। এ কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌঁছল। তখন উমার (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে অনুমতি দিন। আমি এখনই এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দিচ্ছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। ভবিষ্যতে যেন কেউ এ কথা বলতে না পারে যে, মুহাম্মাদ তাঁর সাথীদের হত্যা করেন। মুহাজিররা পরবর্তীতে যখন মদিনায় হিজরত করে আসেন, তখন মুহাজিরদের তুলনায় আনসাররা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন। অবশ্য পরে মুহাজিররা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যান।
সুফইয়ান (রহঃ) ... বলেন, এ হাদিসটি আমি আমর (রহঃ) থেকে মুখস্ত করেছি। আমর (রহঃ) বলেন, আমি জাবির (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম।
হাদিস নং ৪৫৪৬সহিহ
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْفَضْلِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ حَزِنْتُ عَلَى مَنْ أُصِيبَ بِالْحَرَّةِ فَكَتَبَ إِلَىَّ زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ وَبَلَغَهُ شِدَّةُ حُزْنِي يَذْكُرُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلأَنْصَارِ وَلأَبْنَاءِ الأَنْصَارِ " ـ وَشَكَّ ابْنُ الْفَضْلِ فِي أَبْنَاءِ أَبْنَاءِ الأَنْصَارِ ـ فَسَأَلَ أَنَسًا بَعْضُ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ فَقَالَ هُوَ الَّذِي يَقُولُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا الَّذِي أَوْفَى اللَّهُ لَهُ بِأُذُنِهِ ".
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৫৪৬। ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাররায় যাদেরকে শহীদ করা হয়েছিল তাদের খবর শুনে শোকাহত হয়েছিলাম। আমার এ শোকের খবর যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) এর কাছে পৌঁছলে তিনি আমার কাছে চিঠি লিখেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, হে আল্লাহ! আনসার ও আনসারদের সন্তানদের তুমি ক্ষমা করে দাও। এ দু’আর মাঝে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের তাদের সন্তানদের ও তাদের সন্তানদের জন্য দু’আ করেছেন কিনা এ ব্যাপারে ইবনু ফাযল (রাঃ) সন্দেহ করেছেন। এ ব্যাপারে আনাস (রাঃ) তার কাছে উপস্থিত ব্যাক্তিদের কাউকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) ঐ ব্যাক্তি যার শ্রবণ করাকে আল্লাহ সত্য বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ يقولون لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ولله العزة ولرسوله وللمؤمنين ولكن المنافقين لا يعلمون "তারা বলে, আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে তথা প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদের বহিস্কৃত করবেই। কিন্তু শক্তি তো আল্লাহরই, আর তার রাসুল ও মু'মিনদের, তবে মুনাফকরা তা জানে না" (৬৩ঃ ৮)
হাদিস নং ৪৫৪৭সহিহ
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَفِظْنَاهُ مِنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ كُنَّا فِي غَزَاةٍ فَكَسَعَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ الأَنْصَارِيُّ يَا لَلأَنْصَارِ. وَقَالَ الْمُهَاجِرِيُّ يَا لَلْمُهَاجِرِينَ. فَسَمَّعَهَا اللَّهُ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا هَذَا ". فَقَالُوا كَسَعَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ الأَنْصَارِيُّ يَا لَلأَنْصَارِ. وَقَالَ الْمُهَاجِرِيُّ يَالَلْمُهَاجِرِينَ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " دَعُوهَا فَإِنَّهَا مُنْتِنَةٌ ". قَالَ جَابِرٌ وَكَانَتِ الأَنْصَارُ حِينَ قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَكْثَرَ، ثُمَّ كَثُرَ الْمُهَاجِرُونَ بَعْدُ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ أَوَقَدْ فَعَلُوا، وَاللَّهِ لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الأَعَزُّ مِنْهَا الأَذَلَّ. فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه دَعْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَضْرِبْ عُنُقَ هَذَا الْمُنَافِقِ. قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " دَعْهُ لاَ يَتَحَدَّثُ النَّاسُ أَنَّ مُحَمَّدًا يَقْتُلُ أَصْحَابَهُ ".
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
৪৫৪৭। হুমায়দী (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা উপস্থিত ছিলাম। জনৈক মুহাজির এক আনসারের নিতম্বে আঘাত করলেন। তখন আনসারী সাহাবী, হে আনসারী ভাইগণ! এবং মুহাজির সাহাবী- হে মুহাজির ভাইগণ! বলে ডাক দিলেন। আল্লাহ তার রাসূলের কানে এ কথা পৌছিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, এ কি ধরণের ডাকাডাকি? তখন উপস্থিত লোকেরা বললেন, এক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করেছে। আনসারী হে আনসারী ভাইগণ! এবং মুহাজির সাহাবী হে মুহাজির ভাইগণ! বলে নিজ নিজ গোত্রকে ডাক দিলেন। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বাদ দাও, এটি খুবই বাজে কথা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় হিজরত করে আসেন তখন আনসাররা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন। অবশ্য পরে মুহাজিররা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যান। এরপর ঘটনাটি আবদুল্লাহ ইবনু উবাইর কানে পৌঁছল। সে বলল, সত্যই তারা কি এ কাজ করেছে? আল্লাহর কসম! আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে সেখান থেকে প্রবল লোকেরা দুর্বলদের বহিষ্কার করবেই। তখন উমার ইবনু খত্তাব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে অনুমতি দিন। আমি এখনই এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উমার! তাকে ছেড়ে দাও, যেন কেউ এ কথা বলতে না পারে যে, মুহাম্মাদ তাঁর সঙ্গীদের হত্যা করছেন।
পরিচ্ছেদ নাই
হাদিস নং ৪৫৪৮সহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، قَالَ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمٌ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهْىَ حَائِضٌ، فَذَكَرَ عُمَرُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَغَيَّظَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " لِيُرَاجِعْهَا ثُمَّ يُمْسِكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ، ثُمَّ تَحِيضَ فَتَطْهُرَ، فَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يُطَلِّقَهَا فَلْيُطَلِّقْهَا طَاهِرًا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا فَتِلْكَ الْعِدَّةُ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
সুরা তাগাবুন
وَقَالَ عَلْقَمَةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ هُوَ الَّذِي إِذَا أَصَابَتْهُ مُصِيبَةٌ رَضِيَ وَعَرَفَ أَنَّهَا مِنْ اللَّهِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ التَّغَابُنُ غَبْنُ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَهْلَ النَّارِ
’আলক্বামাহ (রহ.) ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর বাণীঃ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ ’’আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে, তিনি তার অন্তরকে সৎপথ প্রদর্শন করেন।’’ (৬৪ঃ ১১)-এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, এর দ্বারা এমন লোককে বোঝানো হয়েছে, যখন বিপদগ্রস্ত হয় তখন আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকে এবং এ কথা বুঝতে পারে যে, এ বিপদ আল্লাহর পক্ষ হতেই এসেছে।
সুরা তালাক
وَقَالَ مُجَاهِدٌ إِنْ ارْتَبْتُمْ إِنْ لَمْ تَعْلَمُوا أَتَحِيضُ أَمْ لَا تَحِيضُ فَاللَّائِي قَعَدْنَ عَنْ الْمَحِيضِ وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ بَعْدُ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ وَبَالَ أَمْرِهَا جَزَاءَ أَمْرِهَا
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, إِنْ ارْتَبْتُمْ যদি তোমরা অবগত না থাক যে তারা ঋতুমতী হবে কি না, যারা ঋতু হতে অবসর গ্রহণ করেছে আর যাদের এখনও তা শুরু হয়নি। فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ তাদের কৃতকর্মের শাস্তি।
৪৫৪৮। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর ঋতুবতী স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর উমার (রাঃ) তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানালেন। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই অসন্তুষ্ট হলেন। এরপর তিনি বললেন, সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়। এরপর পবিত্রাবস্থা না আসা পর্যন্ত তাকে নিজের কাছে রেখে দিক। এরপর ঋতু এসে পুনরায় পবিত্র হলে তখন যদি তালাকের প্রয়োজন মনে করে তাহলে পবিত্রাবস্থায় স্পর্শ করার পূর্বে সে যেন তাকে তালাক দেয়। আল্লাহ যে ইদ্দত পালনের নির্দেশ দিয়েছেন, এটি সেই ইদ্দত।
আল্লাহ্র বাণীঃ "এবং গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। আল্লাহকে যে ভয় করে, আল্লাহ্ তার সমস্যা সহজে সমাধান করে দিবেন" (৬৫ঃ ৪) وأولات الأحمال এর একবচন ذات حمل
৪৫৪৯। সা’দ ইবনু হাফস (রহঃ) ... আবূ সালামা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে আসল, যখন আবূ হুরাইরা (রাঃ) তাঁর সাথে বসে ছিলেন। লোকটি বলল, এক মহিলা তার স্বামীর মৃত্যুর চল্লিশ দিন পর বাচ্চা প্রসব করেছে। সে এখন কীভাবে ইদ্দত পালন করবে, এ বিষয়ে আপনার রায় দিন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, ইদ্দত সম্পর্কিত হুকুম দুটির যেটি দীর্ঘ, তাকে সেটি পালন করতে হবে। আবূ সালামা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর হুকুম তো হল- গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, আমি আমার ভ্রাতুষ্পুত্রের [আবূ সালামা (রাঃ)] এর সাথে একমত। তখন ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাঁর ক্রীতদাস কুরাইবকে বিষয়টি জিজ্ঞেসের জন্য উম্মে সালামা (রাঃ) এর কাছে পাঠালেন। তিনি বললেন, সুবাই’আ আসলামিয়া (রাঃ) গর্ভবতী থাকাকালীন সময়ে তার স্বামী নিহত হন, এবং মৃত্যুর চল্লিশ দিন পর তিনি একটি সন্তান প্রসব করলেন। এরপর তার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হল, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিয়ে দিয়ে দিলেন। যারা তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে একজন ছিলেন আবূ সানাবিল।
(অন্য এক সনদে) সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) ও আবূন নু’মান, হাম্মাদ ইবনু যায়দ ও আইয়ুবের মাধ্যমে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করছেন, তিনি বলেছেন, আমি ঐ মজলিশে ছিলাম, যেখানে আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ)-ও উপস্থিত ছিলেন। তার সঙ্গীরা তাকে খুব সম্মান করতেন। তিনি ইদ্দত সম্পর্কিত হুকুম দু’টি থেকে দীর্ঘ সময় সাপেক্ষে হুকুমটির কথা উল্লেখ করলে আমি আবদুল্লাহ ইবনু উতবার বরাত দিয়ে সুবায়আ বিনত হারিস আসলামিয়া (রহঃ) সম্পর্কিত হাদিসটি বর্ণনা করলাম।
মুহাম্মদ ইবনু সিরিন (রহঃ) বলেন, এতে তার কতিপয় সঙ্গী সাথী আমাকে থামিয়ে দিল। তিনি বলেন, আমি বুঝালাম তারা আমার হাদিসটি অস্বীকার করছে। তাই আমি বললাম, আবদুল্লাহ ইবনু উতবা (রহঃ) কুফাতে এখনও জীবিত আছেন, এমতাবস্থায় যদি আমি তার নাম নিয়ে মিথ্যা কথা বলি, তাহলে এতে আমার চরম দুঃসাহসিকতা দেখান হবে। এ কথা শুনে আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা লজ্জিত হলেন এবং বললেন, কিন্তু তারা চাচা তো এ হাদিস বর্ণনা করেননি। তখন আমি আবূ আতিয়া মালিক ইবনু আমিরের সাথে সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি সুবায়আ (রাঃ) এর হাদিসটি বর্ণনা করে আমাকে শোনাতে লাগলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, (এ বিষয়ে) আপনি আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে কোন কথা শুনেছেন কি? তিনি বললেন আমরা আবদুল্লাহ (রাঃ) এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, তোমরা কি এ ধরনের মহিলাদের প্রতি সহজ পন্থা অবলম্বন না করে কঠোরতা অবলম্বন করতে চাচ্ছ? সুরা নিসা আলকুসরা এরপর নাযিল হয়েছে। আল্লাহ বলেন, গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত।
আল্লাহ্র বাণীঃ يا أيها النبي لم تحرم ما أحل الله لك تبتغي مرضاة أزواجك والله غفور رحيم "হে নবী! আল্লাহ্ তোমার জন্য যা বৈধ করেছেন তুমি তা নিষিদ্ধ করছ কেন? তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি চাচ্ছ; আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু" (৬৬ঃ ১)
৪৫৫০। মু’আয ইবনু ফাযালা (রহঃ) ... সাঈদ ইবনু জুবায়ির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন কেউ যদি তার স্ত্রীকে বলে যে, “তুমি আমার জন্য অবৈধ” তাহলে তাকে অবশ্যই এর কাফফারা দিতে হবে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) আরও বললেন, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ”।
হাদিস নং ৪৫৫১সহিহ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَشْرَبُ عَسَلاً عِنْدَ زَيْنَبَ ابْنَةِ جَحْشٍ وَيَمْكُثُ عِنْدَهَا فَوَاطَيْتُ أَنَا وَحَفْصَةُ عَنْ أَيَّتُنَا دَخَلَ عَلَيْهَا فَلْتَقُلْ لَهُ أَكَلْتَ مَغَافِيرَ إِنِّي أَجِدُ مِنْكَ رِيحَ مَغَافِيرَ. قَالَ " لاَ وَلَكِنِّي كُنْتُ أَشْرَبُ عَسَلاً عِنْدَ زَيْنَبَ ابْنَةِ جَحْشٍ فَلَنْ أَعُودَ لَهُ وَقَدْ حَلَفْتُ لاَ تُخْبِرِي بِذَلِكِ أَحَدًا ".
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৫৫১। ইবরাহিম ইবনু মূসা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যয়নাব বিনতে জাহশ (রাঃ) এর কাছে মধু পান করতেন এবং সেখানে কিছুক্ষণ থাকতেন। তাই আমি ও হাফসা একমত হলাম যে, আমাদের যার ঘরেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসবেন, সে তাঁকে বলবে, আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন? আপনার মুখ থেকে মাগাফীরের গন্ধ পাচ্ছি। (আমরা তাই করলাম) এবং তিনি বললেন, না, বরং আমি যয়নাব বিনতে জাহশ এর ঘরে মধু পান করেছি। তবে আমি কসম করলাম, আর কখনো মধু পান করব না। তুমি এ বিষয়টি আর কাউকে জানাবে না।
আল্লাহ্র বাণীঃ قد فرض الله لكم تحلة أيمانكم والله مولاكم وهو العليم الحكيم "আল্লাহ্ তোমাদের শপথ হতে মুক্তি লাভের ব্যবস্থা করেছেন, আল্লাহ্ তোমাদের সহায়, তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়" (৬৬ঃ ২)
হাদিস নং ৪৫৫২সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ حُنَيْنٍ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ يُحَدِّثُ أَنَّهُ قَالَ مَكَثْتُ سَنَةً أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَنْ آيَةٍ، فَمَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَسْأَلَهُ هَيْبَةً لَهُ، حَتَّى خَرَجَ حَاجًّا فَخَرَجْتُ مَعَهُ فَلَمَّا رَجَعْتُ وَكُنَّا بِبَعْضِ الطَّرِيقِ عَدَلَ إِلَى الأَرَاكِ لِحَاجَةٍ لَهُ ـ قَالَ ـ فَوَقَفْتُ لَهُ حَتَّى فَرَغَ سِرْتُ مَعَهُ فَقُلْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَنِ اللَّتَانِ تَظَاهَرَتَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَزْوَاجِهِ فَقَالَ تِلْكَ حَفْصَةُ وَعَائِشَةُ. قَالَ فَقُلْتُ وَاللَّهِ إِنْ كُنْتُ لأُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَكَ عَنْ هَذَا مُنْذُ سَنَةٍ، فَمَا أَسْتَطِيعُ هَيْبَةً لَكَ. قَالَ فَلاَ تَفْعَلْ مَا ظَنَنْتَ أَنَّ عِنْدِي مِنْ عِلْمٍ فَاسْأَلْنِي، فَإِنْ كَانَ لِي عِلْمٌ خَبَّرْتُكَ بِهِ ـ قَالَ ـ ثُمَّ قَالَ عُمَرُ وَاللَّهِ إِنْ كُنَّا فِي الْجَاهِلِيَّةِ مَا نَعُدُّ لِلنِّسَاءِ أَمْرًا، حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِنَّ مَا أَنْزَلَ وَقَسَمَ لَهُنَّ مَا قَسَمَ ـ قَالَ ـ فَبَيْنَا أَنَا فِي أَمْرٍ أَتَأَمَّرُهُ إِذْ قَالَتِ امْرَأَتِي لَوْ صَنَعْتَ كَذَا وَكَذَا ـ قَالَ ـ فَقُلْتُ لَهَا مَالَكِ وَلِمَا هَا هُنَا فِيمَا تَكَلُّفُكِ فِي أَمْرٍ أُرِيدُهُ. فَقَالَتْ لِي عَجَبًا لَكَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ مَا تُرِيدُ أَنْ تُرَاجَعَ أَنْتَ، وَإِنَّ ابْنَتَكَ لَتُرَاجِعُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يَظَلَّ يَوْمَهُ غَضْبَانَ. فَقَامَ عُمَرُ فَأَخَذَ رِدَاءَهُ مَكَانَهُ حَتَّى دَخَلَ عَلَى حَفْصَةَ فَقَالَ لَهَا يَا بُنَيَّةُ إِنَّكِ لَتُرَاجِعِينَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يَظَلَّ يَوْمَهُ غَضْبَانَ. فَقَالَتْ حَفْصَةُ وَاللَّهِ إِنَّا لَنُرَاجِعُهُ. فَقُلْتُ. تَعْلَمِينَ أَنِّي أُحَذِّرُكِ عُقُوبَةَ اللَّهِ وَغَضَبَ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم يَا بُنَيَّةُ لاَ يَغُرَّنَّكِ هَذِهِ الَّتِي أَعْجَبَهَا حُسْنُهَا حُبُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِيَّاهَا ـ يُرِيدُ عَائِشَةَ ـ قَالَ ثُمَّ خَرَجْتُ حَتَّى دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ لِقَرَابَتِي مِنْهَا فَكَلَّمْتُهَا. فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ عَجَبًا لَكَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ دَخَلْتَ فِي كُلِّ شَىْءٍ، حَتَّى تَبْتَغِي أَنْ تَدْخُلَ بَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَزْوَاجِهِ. فَأَخَذَتْنِي وَاللَّهِ أَخْذًا كَسَرَتْنِي عَنْ بَعْضِ مَا كُنْتُ أَجِدُ، فَخَرَجْتُ مِنْ عِنْدِهَا، وَكَانَ لِي صَاحِبٌ مِنَ الأَنْصَارِ إِذَا غِبْتُ أَتَانِي بِالْخَبَرِ، وَإِذَا غَابَ كُنْتُ أَنَا آتِيهِ بِالْخَبَرِ، وَنَحْنُ نَتَخَوَّفُ مَلِكًا مِنْ مُلُوكِ غَسَّانَ، ذُكِرَ لَنَا أَنَّهُ يُرِيدُ أَنْ يَسِيرَ إِلَيْنَا، فَقَدِ امْتَلأَتْ صُدُورُنَا مِنْهُ، فَإِذَا صَاحِبِي الأَنْصَارِيُّ يَدُقُّ الْبَابَ فَقَالَ افْتَحِ افْتَحْ. فَقُلْتُ جَاءَ الْغَسَّانِيُّ فَقَالَ بَلْ أَشَدُّ مِنْ ذَلِكَ. اعْتَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَزْوَاجَهُ. فَقُلْتُ رَغَمَ أَنْفُ حَفْصَةَ وَعَائِشَةَ. فَأَخَذْتُ ثَوْبِيَ فَأَخْرُجُ حَتَّى جِئْتُ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَشْرُبَةٍ لَهُ يَرْقَى عَلَيْهَا بِعَجَلَةٍ، وَغُلاَمٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْوَدُ عَلَى رَأْسِ الدَّرَجَةِ فَقُلْتُ لَهُ قُلْ هَذَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ. فَأَذِنَ لِي ـ قَالَ عُمَرُ ـ فَقَصَصْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا الْحَدِيثَ، فَلَمَّا بَلَغْتُ حَدِيثَ أُمِّ سَلَمَةَ تَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّهُ لَعَلَى حَصِيرٍ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ شَىْءٌ، وَتَحْتَ رَأْسِهِ وِسَادَةٌ مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ، وَإِنَّ عِنْدَ رِجْلَيْهِ قَرَظًا مَصْبُوبًا، وَعِنْدَ رَأْسِهِ أَهَبٌ مُعَلَّقَةٌ فَرَأَيْتُ أَثَرَ الْحَصِيرِ فِي جَنْبِهِ فَبَكَيْتُ فَقَالَ " مَا يُبْكِيكَ ". فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ كِسْرَى وَقَيْصَرَ فِيمَا هُمَا فِيهِ وَأَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ. فَقَالَ " أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ لَهُمُ الدُّنْيَا وَلَنَا الآخِرَةُ ".
আল্লাহ্র বাণীঃ وإذ أسر النبي إلى بعض أزواجه حديثا فلما نبأت به وأظهره الله عليه عرف بعضه وأعرض عن بعض فلما نبأها به قالت من أنبأك هذا قال نبأني العليم الخبير "স্মরণ কর, নবী তার সহধর্মিণীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন। যখন সে তা অন্যকে বলে দিল এবং আল্লাহ্ নবী (সাঃ) কে তা জানিয়ে দিলেন। তখন নবী (সাঃ) এ বিষয়ে কিছু ব্যক্ত করলেন এবং কিছু অব্যক্ত রাখলেন। যখন নবী (সাঃ) তা তার সে স্ত্রীকে জানালেন তখন সে বলল, কে আপনাকে এ বিষয়ে অবহিত করল? নবী (সাঃ) বললেন, আমাকে অবহিত করেছেন তিনি যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবগত" (৬৬ঃ ৩) এ বিষয়ে আয়শা (রাঃ)-ও এক হাদীস নবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং ৪৫৫৩সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ حُنَيْنٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ أَرَدْتُ أَنْ أَسْأَلَ عُمَرَ فَقُلْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَنِ الْمَرْأَتَانِ اللَّتَانِ تَظَاهَرَتَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَا أَتْمَمْتُ كَلاَمِي حَتَّى قَالَ عَائِشَةُ وَحَفْصَةُ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪৫৫৩। মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু ইবরাহিম ইবনু মুগীরা আল জুফী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছা করলাম, আমি বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীদের কোন দু’জন তার ব্যাপারে একমত হয়ে পরস্পর একে অন্যকে সহযোগিতা করেছিলেন? আমি আমার কথা শেষ করতে না করতেই তিনি বললেন, তারা হল আয়িশা এবং হাফসা (রাঃ)।
আল্লাহ্র বাণীঃ وَإِنْ تَظَاهَرَا عَلَيْهِ فَإِنَّ اللهَ هُوَ مَوْلَاهُ وَجِبْرِيْلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمَلَائِكَةُ بَعْدَ ذَلِكَ ظَهِيْرٌ কিন্তু যদি তোমরা নাবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে পোষকতা কর তবে জেনে রাখ, আল্লাহ্ই তাঁর বন্ধু এবং জিবরীল ও সৎকর্মপরায়ণ মু’মিনগণও, উপরন্তু অন্যান্য ফেরেশতাগণও তাঁর সাহায্যকারী (৬৬ঃ ৪) ظَهِيْرٌ অর্থ সাহায্যকারী تَظَاهَرُوْنَ পরস্পর তোমরা একে অপরকে সাহায্য করছ। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন,قُوْآ أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيْكُمْ بِتَقْوَى اللهِ وَأَدِّبُوْهُمْ ‘‘তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে তাকওয়া অবলম্বন করার জন্য ওসীয়াত কর এবং তাদেরকে আদব শিক্ষা দাও।
অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর বাণীঃ إن تتوبا إلى الله فقد صغت قلوبكما "যদি তোমরা উভয়েই অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ্র দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যেহেতু তোমাদের হৃদয় ঝুঁকে পড়েছে। আল্লাহ্ তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। (৬৬ঃ৬) صَغَوْتُ এবং َأَصْغَيْتُ (ثلاثى مجرد وموزيد فيه) উভয়ের অর্থ আমি ঝুঁকে পড়েছি। لِتَصْغَى অর্থ- لِتَمِيْلَ মানে যেন সে অনুরাগী হয়, ঝুঁকে পড়ে।
৪৫৫৪। হুমায়দী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরুদ্ধে একমত হয়ে যে দুজন নারী পরস্পরকে সাহায্য করেছিল তাদের সম্পর্কে উমার (রাঃ) কে আমি জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জিজ্ঞেসের সুযোগ না পেয়ে আমি এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। অবশেষে একবার হাজ্জ (হজ্জ) করার উদ্দেশ্যে আমি তাঁর সাথে যাত্রা করলাম। আমরা ’যাহরান’ নামক স্থানে পৌঁছলে উমার (রাঃ) প্রাকৃতিক প্রয়োজনে গেলেন। এরপর আমাকে বললেন, আমার জন্য ওযুর পানির ব্যবস্থা কর। আমি পাত্র ভরে পানি নিয়ে আসলাম এবং ঢালতে লাগলাম। প্রশ্ন করার সুযোগ মনে করে আমি তাঁকে বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! ঐ দুজন মহিলা কারা, যারা পরস্পরকে সাহায্য করেছিল? ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি আমার কথা শেষ করতে না করতেই তিনি বললেন, তারা হল আয়িশা এবং হাফসা (রাঃ)।
আল্লাহ্র বাণীঃ عسى ربه إن طلقكن أن يبدله أزواجا خيرا منكن مسلمات مؤمنات قانتات تائبات عابدات سائحات ثيبات وأبكارا “যদি নাবী তোমাদের সবাইকে পরিত্যাগ করেন, তবে তাঁর প্রতিপালক সম্ভবত তাকে দেবেন তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্ট স্ত্রী তাঁকে দিবেন, যারা হবে আত্মসমার্পনকারী, বিশ্বাসী, অনুগত, তাওবাহ্কারিণী, ইবাদাতকারিণী, সওম পালনকারীণী, অকুমারী ও কুমারী।“ (৬৬ঃ ৫)
হাদিস নং ৪৫৫৫সহিহ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ عُمَرُ ـ رضى الله عنه ـ اجْتَمَعَ نِسَاءُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْغَيْرَةِ عَلَيْهِ فَقُلْتُ لَهُنَّ عَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبَدِّلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ. فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ.
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৫৫৫। আমর ইবনু আউন (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সচেতন করার জন্য তার সহধর্মীগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। তাই আমি তাঁদেরকে বললাম, যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন, তবে তার প্রতিপালক সম্ভবত তাকে দেবেন তোমাদের অপেক্ষা উত্তম স্ত্রী। তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিল।
আল্লাহ্র বাণীঃ عتل بعد ذلك زنيم "রুঢ় স্বভাব এবং তদপুরি কুখ্যাত" (৬৮ঃ ১৩)
সুরা মুলক
التَّفَاوُتُ الِاخْتِلَافُ وَالتَّفَاوُتُ وَالتَّفَوُّتُ وَاحِدٌ تَمَيَّزُ تَقَطَّعُ مَنَاكِبِهَا جَوَانِبِهَا تَدَّعُونَ وَتَدْعُونَ وَاحِدٌ مِثْلُ تَذَّكَّرُونَ وَتَذْكُرُونَ وَيَقْبِضْنَ يَضْرِبْنَ بِأَجْنِحَتِهِنَّ وَقَالَ مُجَاهِدٌ صَافَّاتٍ بَسْطُ أَجْنِحَتِهِنَّ وَنُفُورٌ الْكُفُورُ
التَّفَاوُتُ বিভিন্নতা। التَّفَاوُتُএবং التَّفَوُّتُ শব্দ দু’টো একই অর্থবোধক। تَمَيَّزُ টুকরো হয়ে যাবে বা ফেটে পড়বে। مَنَاكِبِهَا তার দিগদিগন্ত। تَدَّعُوْنَ এবং تَدْعُوْنَ বাক্যদ্বয় تَذَّكَّرُوْنَ ও تَذْكُرُوْنَ এর মতই। يَقْبِضْنَ তারা তাদের পাখা মেলে উড়ে বেড়ায়। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, صَافَّاتٍ তারা তাদের পাখা বিস্তার করে। نُفُوْرٌ কুফর ও সত্যবিমুখতা।
সুরা কলম
وَقَالَ قَتَادَةُ حَرْدٍ جِدٍّ فِي أَنْفُسِهِمْ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَتَخَافَتُونَ يَنْتَجُونَ السِّرَارَ وَالْكَلَامَ الْخَفِيَّ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَضَالُّونَ أَضْلَلْنَا مَكَانَ جَنَّتِنَا وَقَالَ غَيْرُهُ كَالصَّرِيمِ كَالصُّبْحِ انْصَرَمَ مِنْ اللَّيْلِ وَاللَّيْلِ انْصَرَمَ مِنْ النَّهَارِ وَهُوَ أَيْضًا كُلُّ رَمْلَةٍ انْصَرَمَتْ مِنْ مُعْظَمِ الرَّمْلِ وَالصَّرِيمُ أَيْضًا الْمَصْرُومُ مِثْلُ قَتِيلٍ وَمَقْتُولٍ
ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, حَرْدٍ অর্থ جِدٍّ فِيْٓ أَنْفُسِهِمْ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, اِنَّالَضَآلُّوْنَ অর্থ আমরা আমাদের জান্নাতের স্থানের কথা ভুলে গিয়েছি। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) ব্যতীত অন্যান্য ভাষ্যকার বলেছেন, كَالصَّرِيْمِ অর্থ রাত থেকে বিচ্ছিন্ন প্রভাতের মত বা দিন থেকে বিচ্ছিন্ন রাতের মত। صَّرِيْمُ ঐ বালুকণাকেও বলা হয় যা বালুস্তূপ হতে বিচ্ছিন্ন। مَصْرُوْمُ- صَرِيْمُ শব্দ قَتِيْلٍ এবং مَقْتُوْلٍ এর মত।
৪৫৫৬। মাহমুদ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনিعُتُلٍّ بَعْدَ ذَلِكَ زَنِيمٍ “রুঢ় এবং তদুপরি কুখ্যাত” আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, এই ব্যাক্তিটি হল কুরাইশ গোত্রের এমন এক ব্যাক্তি, যার ঘাড়ে বকরীর চিহ্নের মত একটি বিশেষ চিহ্ন ছিল।
৪৫৫৭। আবূ নুআঈম (রহঃ) ... হারিসা ইবনু ওয়াহব খুযাই (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন- আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আমি কি তোমাদের জান্নাতী লোকদের পরিচয় বলব না? তারা দুর্বল এবং অসহায়, কিন্তু তারা যদি কোন বিষয়ে শপথ আল্লাহর নামে শপথ করে ফেলেন, তাহলে তা পূরণ করে দেন। এবং আমি কি তোমাদের জাহান্নামী লোকদের পরিচয় বলব না? যারা রুঢ় স্বভাব, অধিক মোটা এবং অহংকারী তারাই জাহান্নামী।
আল্লাহ্র বাণীঃ يوم يكشف عن ساق "স্মরণ কর, সে চরম সংকট দিনের কথা" (৬৮ঃ ৪২)
হাদিস নং ৪৫৫৮সহিহ
حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يَكْشِفُ رَبُّنَا عَنْ سَاقِهِ فَيَسْجُدُ لَهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ وَمُؤْمِنَةٍ، وَيَبْقَى مَنْ كَانَ يَسْجُدُ فِي الدُّنْيَا رِئَاءً وَسُمْعَةً، فَيَذْهَبُ لِيَسْجُدَ فَيَعُودُ ظَهْرُهُ طَبَقًا وَاحِدًا ".
বর্ণনাকারী: আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
৪৫৫৮। আদম (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আমাদের প্রতিপালক যখন তাঁর পায়ের গোড়ালির জ্যোতি বিকীর্ণ করবেন, তখন ঈমানদার নারী ও পুরুষ সবাই তাঁকে সিজদা করবে। কিন্তু যারা দুনিয়াতে লোক দেখানো ও প্রচারের জন্য সিজদা করত, তারা কেবল অবশিষ্ট থাকবে। তারা সিজদা করতে চাইলে তাদের পিঠ একখণ্ড কাঠফলকের মত শক্ত হয়ে যাবে।
আল্লাহ্র বাণীঃ ودا ولا سواعا ولا يغوث ويعوق "তোমরা পরিত্যাগ করবে না ওয়াদ, সুওয়'আ, ইয়াগুস, ইয়াউক ও নাসরকে (৭১ঃ ২৩)
সুরা হাক্কা
قَالَ ابْنُ جُبَيْرٍ عِيشَةٍ رَاضِيَةٍ يُرِيدُ فِيهَا الرِّضَا الْقَاضِيَةَ الْمَوْتَةَ الْأُولَى الَّتِي مُتُّهَا لَمْ أُحْيَ بَعْدَهَا مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ أَحَدٌ يَكُونُ لِلْجَمْعِ وَلِلْوَاحِدِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْوَتِينَ نِيَاطُ الْقَلْبِ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ طَغَى كَثُرَ وَيُقَالُ بِالطَّاغِيَةِ بِطُغْيَانِهِمْ وَيُقَالُ طَغَتْ عَلَى الْخَزَّانِ كَمَا طَغَى الْمَاءُ عَلَى قَوْمِ نُوحٍ
عِيْشَةٍ رَّاضِيَةٍ সন্তোষজনক জীবন। الْقَاضِيَةَ প্রথম মৃত্যুটাই যদি এমন হত যে, তারপর আর জীবিত না করা হত। مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِيْنَ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তাকে রক্ষা করতে পারে। احِدِ শব্দটি একবচন ও বহুবচন উভয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْوَتِيْنَ হৃদপিন্ডের সঙ্গে যুক্ত রগ। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, طَغٰى অতিরিক্ত হয়েছে বা বেশি হয়েছে। বলা হয় بِالطَّاغِيَةِ তাদের বিদ্রোহ এবং কুফরীর কারণে طَغَتْ عَلَى الْخَزَّانِ বায়ু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং সামূদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছে যেমন পানি নূহ্ সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।
সুরা মা’আরিজ
الْفَصِيلَةُ أَصْغَرُ آبَائِهِ الْقُرْبَى إِلَيْهِ يَنْتَمِي مَنْ انْتَمَى لِلشَّوَى الْيَدَانِ وَالرِّجْلَانِ وَالْأَطْرَافُ وَجِلْدَةُ الرَّأْسِ يُقَالُ لَهَا شَوَاةٌ وَمَا كَانَ غَيْرَ مَقْتَلٍ فَهُوَ شَوًى عِزِينَ وَالْعِزُونَ الْحِلَقُ وَالْجَمَاعَاتُ وَوَاحِدُهَا عِزَةٌ
الْفَصِيْلَةُ তাদের পূর্ব-পুরষদের থেকে সর্বাধিক নিকটাত্মীয়, যাদের থেকে তারা পৃথক হয়েছে এবং যাদের দিকে তাদেরকে সম্পৃক্ত করা হয়। لِلشَّوٰى দু’হাত, দু’পা, শরীরের বিভিন্ন প্রান্ত ভাগ এবং মাথার চামড়া সবগুলোকে شَوَاةٌ বলা হয়। الْعِزُوْنَ দলসমূহ। এর একবচন عِزَةٌ।
সুরা নুহ
أَطْوَارًا طَوْرًا كَذَا وَطَوْرًا كَذَا يُقَالُ عَدَا طَوْرَهُ أَيْ قَدْرَهُ وَالْكُبَّارُ أَشَدُّ مِنْ الْكِبَارِ وَكَذَلِكَ جُمَّالٌ وَجَمِيلٌ لِأَنَّهَا أَشَدُّ مُبَالَغَةً وَكُبَّارٌ الْكَبِيرُ وَكُبَارًا أَيْضًا بِالتَّخْفِيفِ وَالْعَرَبُ تَقُولُ رَجُلٌ حُسَّانٌ وَجُمَّالٌ وَحُسَانٌ مُخَفَّفٌ وَجُمَالٌ مُخَفَّفٌ دَيَّارًا مِنْ دَوْرٍ وَلَكِنَّهُ فَيْعَالٌ مِنْ الدَّوَرَانِ كَمَا قَرَأَ عُمَرُ الْحَيُّ الْقَيَّامُ وَهِيَ مِنْ قُمْتُ وَقَالَ غَيْرُهُ دَيَّارًا أَحَدًا تَبَارًا هَلَاكًا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مِدْرَارًا يَتْبَعُ بَعْضُهَا بَعْضًا وَقَارًا عَظَمَةً
طْوَارًا পর্যায়ক্রমে, বলা হয়। عَدَا طَوْرَهُ সে তার মর্যাদাকে অতিক্রম করে গেছে। بِالتَّخْفِيْفِ الكُبَّارُ এর তুলনায় بالتشديد الكُبَّارُ এর অর্থের মাঝে কিছু আধিক্য ও কঠোরতা বিদ্যমান আছে। এমনিভাবে جُمَّالٌ এর মাঝে جَمِيْلٌ -এর তুলনায় অধিকতর সৌন্দর্যের অর্থ বিদ্যমান আছে। كُبَّارٌ الْكَبِيْرُ ও بِالتَّخْفِيْفِ الكُبَّارُ এর অবস্থা অনুরূপই। আরবীয় লোকের তাশ্দীদের সঙ্গে رَجُلٌ حُسَّانٌ وَجُمَّالٌ ও বলেন, এমনিভাবে তাখ্ফীফের সঙ্গে رَجُلٌ حُسَّانٌ وَجُمَّالٌ ও বলে থাকেন। دَيَّارًا শব্দটির উৎপত্তি دَوْرٍ ধাতু থেকে। তবে যদি তাকে فَيْعَالٌ এর ওযনে ধরা হয় তাহলে এর উৎপত্তি হবে الدَّوَرَانِ শব্দমূল থেকে। যেমন, ’উমার (রাঃ) الْحَيُّ الْقَيَّامُ পড়েছেন। قُمْتُ থেকে الْقَيَّامُ শব্দটির উৎপত্তি। অন্যান্য মুফাসসির বলেছেন, دَيَّارًا কাউকে। تَبَارًا ধ্বংস। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, مِدْرَارًا একটি অপরটির পেছনে। وَقَارًا শ্রেষ্ঠত্ব।
৪৫৫৯। ইবরাহিম ইবনু মূসা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে প্রতিমার পূজা নূহ (আলাইহিস সালাম) এর জাতির মাঝে প্রচলিত ছিল, পরবর্তী সময়ে আরবদের মাঝেও তার পূজা প্রচলিত হয়েছিল। ওয়াদ ’দুমাতুল জান্দাল’ নামক স্থানে অবস্থিত কালব গোত্রের একটি দেবমূর্তি, সূওয়া’আ হল হুযাইল গোত্রের একটি দেবমূর্তি এবং ইয়াগুস ছিল মুরাদ গোত্রের, অবশ্য পরে তা গাতীফ গোত্রের হয়ে যায়। এর আস্তানা ছিল কওমে সাবার নিকটে ’জাওফ’ নামক স্থানে। ইয়াউক ছিল হামাদান গোত্রের দেবমূর্তি, নাসর ছিল যুলকালা গোত্রের হিমযায় শাখারদের মূর্তি।
নূহ (আলাইহিস সালাম) এর জাতির কতিপয় নেক লোকের নাম নাসর ছিল। তারা মারা গেলে, শয়তান তাদের জাতির লোকদের হৃদয়ে এই কথা ঢুকিয়ে দিল যে, তারা যেখানে বসে মজলিস করত, সেখানে তোমরা কিছু মূর্তি স্থাপন কর এবং ঐ সকল নেক লোকের নামানুসারেই এগুলোর নামকরণ কর। সুতরাং তারা তাই করল, কিন্তু তখনও ঐসব মূর্তির পূজা করা হত না। তবে মূর্তি স্থাপনকারী লোকগুলো মারা গেলে এবং মূর্তিগুলো সম্পর্কে সত্যিকারের জ্ঞান বিলুপ্ত হলে লোকজন তাদের পূজা করতে শুরু করে দেয়।
৪৫৬০। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল সাহাবীকে নিয়ে বাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। এ সময়ই জ্বীনদের আসমানি খবরাদি শোনার ব্যাপারে বাঁধা সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নিক্ষেপ করা হয়েছে লেলিহান অগ্নিশিখা। ফলে জ্বীন শয়তানরা ফিরে আসলে অন্য জ্বীনরা তাদের বলল, তোমাদের কি হয়েছে? তারা বলল, আসমানি খবরাদি শোনার ব্যাপারে আমাদের উপর বাঁধা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে নিক্ষেপ করা হয়েছে লেলিহান অগ্নিশিখা। তখন শয়তান বলল, আসমানি খবরাদি শোনার ব্যাপারে তোমাদের উপর যে বাঁধা সৃষ্টি করা হয়েছে, অবশ্যই তা কোন নতুন ঘটনা ঘটার কারণেই হয়েছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত সফর কর এবং দেখ ব্যাপারটা কি ঘটেছে? তাই আসমানি খবরাদি সংগ্রহের ব্যাপারে যে বাঁধা সৃষ্টি হয়েছে, এর কারণ খুঁজতে তারা সকলেই পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে অনুসন্ধান সফরে বেরিয়ে পড়ল।
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, যারা তিহামার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিল তারা ’নাখলা’ নামক স্থানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে উপস্থিত হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখান থেকে উকায বাজারের দিকে যাওয়ার জন্য ঠিক করেছিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন। জ্বীনদের ঐ দলটি কুর’আন শুনতে পেয়ে আরও বেশি মনোযোগ দিয়ে তা শুনতে লাগল এবং বলল, আসমানি খবরাদি এবং তোমাদের মাঝে এটই মূলত বাঁধা সৃষ্টি করেছে। তারপর তারা তাদের জাতির কাছে ফিরে এসে বলল, হে আমাদের জাতি! আমরা এক বিস্ময়কর কুর’আন (তিলাওয়াত) শুনেছি, যা সঠিক পথ নির্দেশ করে। এতে আমরা ঈমান এনেছি। আমরা কখনো আমাদের রবের সাথে কাউকে শরীক করব না। এরপর আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি নাযিল করলেনঃ “বলুন, আমার প্রতি ওহী প্রেরিত হয়েছে যা জ্বীনদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে শুনেছে”। জ্বীনদের উপরোক্ত কথা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অহীর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল।
সুরা মুয্যাম্মিল
وَقَالَ مُجَاهِدٌ وَتَبَتَّلْ أَخْلِصْ وَقَالَ الْحَسَنُ أَنْكَالًا قُيُودًا مُنْفَطِرٌ بِهِ مُثْقَلَةٌ بِهِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَثِيبًا مَهِيلًا الرَّمْلُ السَّائِلُ وَبِيلًا شَدِيدًا
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, وَتَبَتَّلْ একনিষ্ঠভাবে মগ্ন হওয়া। হাসান (রহঃ) বলেন, أَنْكَالًا শৃঙ্খল। مُثْقَلَةٌ بِهٰ ভারে অবনত। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, كَثِيْبًا مَّهِيْلًا বহমান বালুকারাশি। وَبِيْلًا কঠিন।
সুরা মুদ্দাছ্ছির
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَسِيرٌ شَدِيدٌ قَسْوَرَةٌ رِكْزُ النَّاسِ وَأَصْوَاتُهُمْ وَكُلُّ شَدِيدٍ قَسْوَرَةٌ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ الْقَسْوَرَةُ قَسْوَرٌ الْأَسَدُ الرِّكْزُ الصَّوْتُ مُسْتَنْفِرَةٌ نَافِرَةٌ مَذْعُورَةٌ
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, عَسِيْرٌ কঠিন। قَسْوَرَةٌ মানুষের কোলাহল, আওয়াজ। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, قَسْوَرَةٌ বাঘ। প্রত্যেক কঠিন বস্তুকে الْقَسْوَرَةُ বলা হয়। مُسْتَنْفِرَةٌ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পলায়নপর।
৪৫৬১। ইয়াহইয়া (রহঃ) ... ইয়াহইয়া ইবনু কাসীর (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সালামা ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) কে কুর’আনের নাযিলকৃত প্রথম আয়াত (সূরা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিলি বললেন, يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ (সূরা মুদ্দাসসির)। আমি বললাম, লোকজন তো বলে- اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ (সূরা আলাক)। এতে আবূ সালামা (রহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম এবং তুমি যা বললে আমিও তাকে তাই বলেছিলাম। এতে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যা বলেছেন তা বাদে আমি তোমাকে কিছুই বলব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি হেরা গুহায় ইতিকাফ রত অবস্থায় ছিলাম।
আমার ইতিকাফ শেষ হলে আমি সেখান থেকে নেমে এলাম। তখন আমি আমাকে ডাকার শব্দ শুনতে পেলাম। এরপর আমি ডানে তাকালাম, কিন্তু কিছু দেখলাম না। বামে তাকালাম, কিন্তু এদিকেও কিছু দেখলাম না। এরপর সামনে তাকালাম, এদিকেও কিছু দেখলাম না। এরপর পিছনে তাকালাম, কিন্তু এদিকেও আমি কিছু দেখলাম না। অবশেষে আমি উপরে তাকালাম এবং কিছু একটা দেখলাম। এরপর আমি খাদিজা (রাঃ) এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে বললাম, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর এবং আমার গায়ে ঠাণ্ডা পানি ঢাল। তাই তারা আমাকে বস্ত্রাবৃত করে এবং আমার গায়ে ঠাণ্ডা পানি ঢালে। এরপর নাযিল হলঃ “হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন, সতর্কবাণী প্রচার করুন এবং আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন”।
৪৫৬২। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি হেরা গুহায় ইতিকাফ করেছিলাম। উসমান ইবনু উমার, আলী ইবনু মুবারক (রহঃ) থেকে যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তিনিও অনুরূপ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
৪৫৬৩। ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ... ইয়াহইয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সালামা ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, কুরআনের কোন আয়াতটি প্রথম নাযিল হয়েছিল। তিলি বললেন, يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ (সূরা মুদ্দাসসির)। আমি বললাম, আমাকে তো বলা হয়েছে, اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ (সূরা আলাক)। এ কথা শুনে আবূ সালামা (রহঃ) বলেন, এ সম্পর্কে আমি জাবির (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বলেছেন, يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ প্রথম নাযিল হয়েছে। তখন আমি বললাম, আমাকে তো বলা হয়েছে- اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ প্রথমে নাযিল হয়েছিল। তখন তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, আমি তোমাকে তাই বলছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি হেরা গুহায় ইতিকাফ রত অবস্থায় ছিলাম। ইতিকাফ শেষ হলে আমি সেখান থেকে নেমে উপত্যকার মাঝে পৌঁছলে আমি আমাকে ডাকার শব্দ শুনতে পেলাম। তখন আমি সামনে, পিছনে, ডানে ও বামে তাকালাম। দেখলাম সে (ফেরেশতা জিবরীল) আসমান ও জমিনের মাঝে রক্ষিত একটি আসনে বসে আছে। এরপর আমি খাদিজার (রাঃ) এর কাছে গিয়ে বললাম, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর এবং আমার গায়ে ঠাণ্ডা পানি ঢাল। তখন আমার প্রতি নাযিল হলঃ “হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন, সতর্কবাণী প্রচার করুন এবং আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন” (সূরা মুদ্দাসসির)।
৪৫৬৪। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ওহী বন্ধ থাকা সময়কাল সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছি। তিনি তাঁর আলোচনার মাঝে বলেন, একদা আমি চলছিলাম, এমতাবস্থায় আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। মাথা উপরে তুলেই আমি দেখলাম, যে ফেরেশতা হেরা গুহায় আমার কাছে এসেছিল সে আসমান ও জমিনের মাঝে রক্ষিত একটি আসনে বসে আছে। আমি তাঁর ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে এসে বললাম, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। তারা আমাকে বস্ত্রাবৃত করল। এরপর আল্লাহ নাযিল করলেন, “হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন ... অপবিত্রতা হতে দূরে থাকুন” এই আয়াতগুলো সালাত (নামায/নামাজ) ফরয হওয়ার আগে নাযিল হয়েছিল। الرِّجْزَ অর্থ হল মূর্তিসমূহ।
আল্লাহ্র বাণীঃ والرجز فاهجر "এবং অপবিত্রতা হতে দূরে থাক। (৭৪ঃ ৫) কেউ কেউ বলেন, الرجز এবং والرجس অর্থ আযাব
৪৫৬৫। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ওহী বন্ধ থাকা সময়কাল সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছি। তিনি তাঁর আলোচনার মাঝে বলেন, একদা আমি পথ চলছিলাম, এমতাবস্থায় আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। আকাশের দিকে তাকিয়ে আমি দেখলাম, যে ফেরেশতা হেরা গুহায় আমার কাছে এসেছিল সে আসমান ও জমিনের মাঝে রক্ষিত একটি আসনে বসে আছে। আমি তাঁর ভয়ে এতটাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গেলাম যে মাটিতে পড়ে গেলাম। এরপর আমি আমার স্ত্রীর কাছে গিয়ে বললাম, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। তারা আমাকে বস্ত্রাবৃত করল। এরপর আল্লাহ নাযিল করলেন, “হে বস্ত্রাবৃত! ...... অপবিত্রতা হতে দূরে থাকুন”। আবূ সালামা (রহঃ) বলেছেন, الرِّجْزَ অর্থ হল মূর্তিসমূহ। এরপর অধিক পরিমাণে ওহী নাযিল হতে লাগল এবং ধারাবাহিকভাবে ওহী আসতে থাকল।
আল্লাহ্র বাণীঃ لا تحرك به لسانك لتعجل به "তাড়াতাড়ি ওহী আয়ত্ত করার জন্য তুমি তোমার জিহ্বা সঞ্চালন করবে না। (৭৫ঃ ১৬) ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, سدى অর্থ নিরর্থক ও উদ্দেশ্যহীন, ليفجر أمامه অর্থ শীঘ্রই তওবা করব, শীঘ্রই তওবা করব। لا وزر অর্থ কোন আশ্রয়স্থল নেই।
হাদিস নং ৪৫৬৬সহিহ
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَبِي عَائِشَةَ ـ وَكَانَ ثِقَةً ـ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا نَزَلَ عَلَيْهِ الْوَحْىُ حَرَّكَ بِهِ لِسَانَهُ ـ وَوَصَفَ سُفْيَانُ ـ يُرِيدُ أَنْ يَحْفَظَهُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ (لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ)
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
সূরা কিয়ামাহ
৪৫৬৬। হুমায়দী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি যখন ওহী নাযিল হত তখন তিনি দ্রুত তাঁর জিহ্বা নাড়তেন (পড়তেন)। রাবী সুফইয়ান বলেন, এভাবে করার পিছনে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ওহী মুখস্ত করা। এতে আল্লাহ নাযিল করলেনঃ “তাড়াতাড়ি ওহী আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না”
আল্লাহ্র বাণীঃ إن علينا جمعه وقرآنه "এ কুরআন সংরক্ষণ ও পাঠ করিয়ে দেবার দায়িত্ব আমারই" (৭৫ঃ ১৭)
৪৫৬৭। উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) ... মূসা ইবনু আবূ আয়িশা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বানীঃلاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ “দ্রুত ওহী আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা নাড়াবেন না” সম্পর্কে সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করার পর তিনি বললেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি যখন ওহী নাযিল করা হত, তখন তিনি তাঁর ঠোঁট দুটো দ্রুত নাড়তেন। তখন তাঁকে বলা হল, দ্রুত ওহী আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহী ভুলে যাবার আশংকায় এমন করতেন। নিশ্চয়ই এ কুর’আন সংরক্ষণ ও পাঠ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই। অর্থাৎ আমি নিজেই তাকে তোমার স্মৃতিপটে সংরক্ষিত রাখব। তাই আমি যখন তা পাঠ করব অর্থাৎ যখন তোমার প্রতি ওহী নাযিল হতে থাকবে, তখন তুমি তার অনুসরণ করবে। এরপর তা বর্ণনা করার দায়িত্ব আমারই অর্থাৎ এ কুরআনকে তোমার মুখ দিয়ে বর্ণনা করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার।
আল্লাহ্র বাণীঃ فإذا قرأناه فاتبع قرآنه قال ابن عباس قرأناه "সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি তুমি সে পাথের অনুসরণ কর" (৭৫ঃ ১৮) ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, قرأناه অর্থ আমি যখন তা বর্ণনা করি فاتبع অর্থ এ অনুযায়ী আমল কর।
৪৫৬৮। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বানীঃلاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ – এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, জিবরীল (আলাইহিস সালাম) যখন ওহী নিয়ে আসতেন তখন রাসুল তাঁর জিহ্বা ও ঠোঁট দুটো দ্রুত নাড়তেন। এটা তাঁর জন্য কষ্টকর হত এবং তাঁর চেহারা দেখেই বোঝা যেত। তাই আল্লাহ তা’আলাلاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ * إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ “দ্রুত ওহী আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না। এ কুর’আন সংরক্ষণ ও পাঠ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই” নাযিল করলেন। এতে আল্লাহ বলেছেনঃ এ কুরআনকে আপনার বক্ষে সংরক্ষণ করা ও পড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই। সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, আপনি সে পাঠের অনুসরণ করুন, অর্থাৎ আমি যখন ওহী নাযিল করি তখন আপনি মনোযোগ সহকারে শুনুন। তারপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই অর্থাৎ আপনার মুখে তা বর্ণনা করার দায়িত্ব আমারই। রাবী বলেন, এরপর জিবরীল (আলাইহিস সালাম) চলে গেলে, আল্লাহর ওয়াদাثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ মুতাবিক তা পাঠ করতেন। أَوْلَى لَكَ فَأَوْلَى অর্থ দুর্ভোগ তোমার জন্য, দুর্ভোগ! تَوَعُّدٌ এ আয়াতে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে।
পরিচ্ছেদ নাই
হাদিস নং ৪৫৬৯সহিহ
حَدَّثَنِي مَحْمُودٌ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأُنْزِلَتْ عَلَيْهِ وَالْمُرْسَلاَتِ، وَإِنَّا لَنَتَلَقَّاهَا مِنْ فِيهِ فَخَرَجَتْ حَيَّةٌ، فَابْتَدَرْنَاهَا فَسَبَقَتْنَا فَدَخَلَتْ جُحْرَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وُقِيَتْ شَرَّكُمْ، كَمَا وُقِيتُمْ شَرَّهَا ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
সুরা দাহর
يُقَالُ مَعْنَاهُ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ وَهَلْ تَكُونُ جَحْدًا وَتَكُونُ خَبَرًا وَهَذَا مِنْ الْخَبَرِ يَقُولُ كَانَ شَيْئًا فَلَمْ يَكُنْ مَذْكُورًا وَذَلِكَ مِنْ حِينِ خَلَقَهُ مِنْ طِينٍ إِلَى أَنْ يُنْفَخَ فِيهِ الرُّوحُ أَمْشَاجٍ الْأَخْلَاطُ مَاءُ الْمَرْأَةِ وَمَاءُ الرَّجُلِ الدَّمُ وَالْعَلَقَةُ وَيُقَالُ إِذَا خُلِطَ مَشِيجٌ كَقَوْلِكَ خَلِيطٌ وَمَمْشُوجٌ مِثْلُ مَخْلُوطٍ وَيُقَالُ سَلَاسِلًا وَأَغْلَالًا وَلَمْ يُجْرِ بَعْضُهُمْ مُسْتَطِيرًا مُمْتَدًّا الْبَلَاءُ وَالْقَمْطَرِيرُ الشَّدِيدُ يُقَالُ يَوْمٌ قَمْطَرِيرٌ وَيَوْمٌ قُمَاطِرٌ وَالْعَبُوسُ وَالْقَمْطَرِيرُ وَالْقُمَاطِرُ وَالْعَصِيبُ أَشَدُّ مَا يَكُونُ مِنْ الْأَيَّامِ فِي الْبَلَاءِ وَقَالَ الْحَسَنُ النُّضْرَةُ فِي الْوَجْهِ وَالسُّرُورُ فِي الْقَلْبِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْأَرَائِكِ السُّرُرُ وَقَالَ الْبَرَاءُ وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا يَقْطِفُونَ كَيْفَ شَاءُوا وَقَالَ مَعْمَرٌ أَسْرَهُمْ شِدَّةُ الْخَلْقِ وَكُلُّ شَيْءٍ شَدَدْتَهُ مِنْ قَتَبٍ وَغَبِيطٍ فَهُوَ مَأْسُورٌ
هَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ অর্থাৎ কালের প্রবাহে মানুষের উপর এক সময় এসেছিল। هَلْ শব্দটি কখনো নেতিবাচক, আবার কখনো ইতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে এখানে অবহিতকরণ তথা ইতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ্ বলেন, এক সময় মানুষের অস্তিত্ব ছিল কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোন বস্তু ছিল না। আর ঐ সময়টা হল মাটি থেকে সৃষ্টি করা হতে তার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করা পর্যন্ত। أَمْشَاجٍ সংমিশ্রণ। অর্থাৎ মাতৃগর্ভে পুরুষ ও মহিলার বীর্যের সংমিশ্রণে রক্ত এবং পরে জমাট বাঁধা রক্ত সৃষ্টি হওয়াকে أَمْشَاجٍ বলা হয়েছে। এক বস্তুর অপর বস্তুর সঙ্গে মিশ্রিত হলে তাকে مَشِيْجٌ বলে। তাকে خَلِيْطٌ ও বলা হয়। আর مَمْشُوْجٌ ও مَخْلُوْطٍ এর অর্থ একই। কেউ কেউ سَلَاسِلًا وَأَغْلَالًا পড়ে থাকেন। কিন্তু কেউ কেউ এভাবে পড়াকে জায়িয মনে করেন না। مُسْتَطِيْرًا দীর্ঘস্থায়ী বিপদ। الْقَمْطَرِيْرُ ভয়ংকর ও কঠিন। সুতরাং يَوْمٌ قَمْطَرِيْرٌ এবং يَوْمٌ قُمَاطِرٌ উভয়ই ব্যবহৃত হয়। الْعَبُوْسُ، الْقَمْطَرِيْرُ، الْقُمَاطِرُ এবং الْعَصِيْبُ বিপদের সবচেয়ে কঠিনতম দিনকে বলা হয়। হাসান (রহ.) বলেন, النُّضْرَةُ চেহারায় সজীবতা ও হৃদয়ে আনন্দ। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْأَرَآئِكِ খাট-পালঙ্ক। আর বারা (রাঃ) বলেন, وَذُلِّلَتْ قُطُوْفُهَا তাদের ইচ্ছেমাফিক ফল পাড়বে। মা’মার (রহঃ) বলেন, أَسْرَهُمْ সুদৃঢ় গঠন। উটের গদির সঙ্গে শক্ত করে যে জিনিস বাঁধা থাকে তাকে مَأْسُوْرٌ বলা হয়।
সুরা মুরসালাত
وَقَالَ مُجَاهِدٌ جِمَالَاتٌ حِبَالٌ ارْكَعُوا صَلُّوا لَا يَرْكَعُونَ لَا يُصَلُّونَ وَسُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَا يَنْطِقُونَ وَاللَّهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَى أَفْوَاهِهِمْ فَقَالَ إِنَّهُ ذُو أَلْوَانٍ مَرَّةً يَنْطِقُونَ وَمَرَّةً يُخْتَمُ عَلَيْهِمْ
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, جِمَالَاتٌ উটের সারি। ارْكَعُوْا সালাত আদায় কর। لَا يَرْكَعُوْنَ তারা সালাত আদায় করে না। لَايَنْطِقُوْنَ (তার কথা বলতে সক্ষম হবে না), وَاللهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِيْنَ (আল্লাহর শপথ! আমরা কখনো মুশরিক ছিলাম না) এবং الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلٓٓى أَفْوَاهِهِمْ (আমি আজ মোহর লাগিয়ে দেব) এ আয়াত সম্বন্ধে ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বললেন, কিয়ামতের দিন বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের বিভিন্ন অবস্থা ঘটবে। কখনো সে কথা বলতে পারবে এবং নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, আবার কখনো তার মুখে মোহর লাগিয়ে দেয়া হবে। তখন সে আর কোন কথা বলতে সক্ষম হবে না।
৪৫৬৯। মাহমুদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। এসময় তাঁর প্রতি সূরা মুরসালাত নাযিল হল। আমরা তাঁর মুখে শুনে সেটি শিখছিলাম। তখন একটি সাপ বেরিয়ে এল। আমরা ওদিকে দৌড়ে গেলাম, কিন্তু সাপটি আমাদের থেকে দ্রুত পালিয়ে গিয়ে গর্তে ঢুকে পড়ল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা যেমন তার অনিষ্ট হতে রক্ষা পেলে, তেমনি সেও তোমাদের অনিষ্ট হতে বেঁচে গেল।
৪৫৭০। আবদা ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইসরাইল সুত্রে আসওয়াদ ইবনু আমির পূর্বের হাদিসটির অনুসরন করেছেন। (অন্য সনদে) হাফস, আবূ মুআবিয়া এবং সুলায়মান ইবনু কারম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (অপর এক সনদে) ইবনু ইসহাক (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে ঠিক এমনি বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং ৪৫৭১সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بَيْنَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَارٍ إِذْ نَزَلَتْ عَلَيْهِ وَالْمُرْسَلاَتِ فَتَلَقَّيْنَاهَا مِنْ فِيهِ وَإِنَّ فَاهُ لَرَطْبٌ بِهَا إِذْ خَرَجَتْ حَيَّةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَلَيْكُمُ اقْتُلُوهَا ". قَالَ فَابْتَدَرْنَاهَا فَسَبَقَتْنَا ـ قَالَ ـ فَقَالَ " وُقِيَتْ شَرَّكُمْ، كَمَا وُقِيتُمْ شَرَّهَا ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৫৭১। কুতায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক গুহার মধ্যে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। এসময় তাঁর প্রতি সূরা মুরসালাত নাযিল হল। আমরা যত জলদি সম্ভব তাঁর মুখ থেকে শুনে সেটি শিখছিলাম। হঠাৎ একটি সাপ বেরিয়ে এলো। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ওটাকে মেরে ফেল। আমরা সেদিকে ছুটে গেলাম, কিন্তু সাপটি আমাদের আগে চলে গেল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা যেমন তার অনিষ্ট হতে রক্ষা পেলে, তেমনি সেও তোমাদের অনিষ্ট হতে বেঁচে গেল।
আল্লাহ্র বাণীঃ إنها ترمي بشرر كالقصر "তা উৎক্ষেপ করবে বৃহৎ স্ফুলিঙ্গ অট্রালিকা তুল্য।" (৭৭ঃ ৩২)
৪৫৭২। মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু আবিস (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন- আমি ঐ আয়াতের (“নিশ্চয়ই তা উৎক্ষেপ করবে বৃহৎ স্ফুলিঙ্গ অট্টালিকার মত”-সূরা মুরসালাত আয়াত ৩২) ব্যাখ্যায় ইবনু আমির (রহঃ) কে বলতে শুনেছি, আমরা তিন গজ বা এর চেয়ে ছোট কাঠের কাণ্ড সংগ্রহ করে শীতকালের জন্য উঠিয়ে রেখে দিতাম। আর আমরা একেই قصر বলতাম।
৪৫৭৩। আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু আবিস (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন আমি আয়াতের (সূরা মুরসালাত, আয়াত ৩২) ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, আমরা তিন গজ বা এর চেয়ে লম্বা কাঠ সংগ্রহ করে শীতকালের জন্য উঠিয়ে রেখে দিতাম। আর আমরা একেই قصر বলতাম। جِمَالاَتٌ صُفْرٌ অর্থ জাহাজের রশি, যা জমা করে রাখা হত। এমনকি তা মধ্যম দেহী মানুষের সমান উঁচু হয়ে যেত।
আল্লাহ্র বাণীঃ "এ সেই দিন যেদিন তারা কিছুই বলবে না" (৭৭ঃ ৩৫)
হাদিস নং ৪৫৭৪সহিহ
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي غَارٍ إِذْ نَزَلَتْ عَلَيْهِ وَالْمُرْسَلاَتِ، فَإِنَّهُ لَيَتْلُوهَا وَإِنِّي لأَتَلَقَّاهَا مِنْ فِيهِ وَإِنَّ فَاهُ لَرَطْبٌ بِهَا، إِذْ وَثَبَتْ عَلَيْنَا حَيَّةٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اقْتُلُوهَا ". فَابْتَدَرْنَاهَا فَذَهَبَتْ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " وُقِيَتْ شَرَّكُمْ، كَمَا وُقِيتُمْ شَرَّهَا ". قَالَ عُمَرُ حَفِظْتُهُ مِنْ أَبِي فِي غَارٍ بِمِنًى.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রাঃ)
৪৫৭৪। উমর ইবনু হাফস (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক গুহায় আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। এসময় তাঁর প্রতি ’সূরা ওয়াল মুরসালাত নাযিল হল। তিনি তা তিলাওয়াত করছিলেন, আর আমি তাঁর মুখ থেকে শুনে সেটি শিখছিলাম। তিলাওয়াতে তখনো তাঁর মুখ সিক্ত ছিল। হঠাৎ আমাদের সামনে একটি সাপ বেরিয়ে এলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওটাকে মেরে ফেল। আমরা সেদিকে ছুটে গেলাম, কিন্তু সাপটি চলে গেল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা যেমন তার অনিষ্ট হতে রক্ষা পেলে, তেমনি সেও তোমাদের অনিষ্ট হতে বেঁচে গেল। উমার ইবনু হাফস বলেন, এই হাদিসটি আমি আমার পিতার কাছ থেকে শুনে মুখস্ত করেছি। গুহাটি মিনায় অবস্থিত বলে উল্লেখ আছে।
আল্লাহ্র বাণীঃ يوم ينفخ في الصور فتأتون أفواجا "সেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং তোমরা দলে দলে সমাগত হবে" (৭৮ঃ ১৮)
হাদিস নং ৪৫৭৫সহিহ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا بَيْنَ النَّفْخَتَيْنِ أَرْبَعُونَ ". قَالَ أَرْبَعُونَ يَوْمًا قَالَ أَبَيْتُ. قَالَ أَرْبَعُونَ شَهْرًا قَالَ أَبَيْتُ. قَالَ أَرْبَعُونَ سَنَةً قَالَ أَبَيْتُ. قَالَ " ثُمَّ يُنْزِلُ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً. فَيَنْبُتُونَ كَمَا يَنْبُتُ الْبَقْلُ لَيْسَ مِنَ الإِنْسَانِ شَىْءٌ إِلاَّ يَبْلَى إِلاَّ عَظْمًا وَاحِدًا وَهْوَ عَجْبُ الذَّنَبِ، وَمِنْهُ يُرَكَّبُ الْخَلْقُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
সুরা নাবা
قَالَ مُجَاهِدٌ لَا يَرْجُونَ حِسَابًا لَا يَخَافُونَهُ لَا يَمْلِكُونَ مِنْهُ خِطَابًا لَا يُكَلِّمُونَهُ إِلَّا أَنْ يَأْذَنَ لَهُمْ صَوَابًا حَقًّا فِي الدُّنْيَا وَعَمِلَ بِهِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَهَّاجًا مُضِيئًا وَقَالَ غَيْرُهُ غَسَّاقًا غَسَقَتْ عَيْنُهُ وَيَغْسِقُ الْجُرْحُ يَسِيلُ كَأَنَّ الْغَسَاقَ وَالْغَسِيقَ وَاحِدٌ عَطَاءً حِسَابًا جَزَاءً كَافِيًا أَعْطَانِي مَا أَحْسَبَنِي أَيْ كَفَانِي
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, لَا يَرْجُوْنَ حِسَابًا তারা কখনও হিসাবের ভয় করত না। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, ثَجاجًا অবিরাম বর্ষণ। ألْفافًا ঘন সন্নিবিষ্ট। لَا يَمْلِكُوْنَ مِنْهُ خِطَابًا যাদেরকে আল্লাহ্ অনুমতি দিবেন, তাদের ছাড়া তাঁর কাছে আবেদন-নিবেদনের ক্ষমতা কারো থাকবে না। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, وَهَّاجًا উজ্জ্বল, ইবনু ’আব্বাস ব্যতীত অন্যরা বলেন, غَسَّاقًا যেমন আরবরা বলে, চোখে পিষ্টি হয়েছে এবং ক্ষত হতে পূঁজ চুয়ে চুয়ে পড়ছে। الْغَسَاقَ এবং الْغَسِيْقَ একই অর্থ বহন করে। عَطَاءً حِسَابًا যথোচিত দান। যেমন বলা হয়, أَعْطَانِيْ مَا أَحْسَبَنِيْ অর্থাৎ সে আমাকে যথেষ্ট দান করেছে।
৪৫৭৫। মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রথম ও দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফুঁ দেয়ার মাঝে চল্লিশের ব্যবধান হবে। জনৈক ব্যাক্তি আবূ হুরাইরা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করল, এর মানে চল্লিশ দিন? কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন। তারপর সে জিজ্ঞেস করল, চল্লিশ মাস? এবারও তিনি অস্বীকার করলেন। তারপর সে জিজ্ঞেস করল, চল্লিশ বছর? পুনরায় তিনি অস্বীকার করলেন। এরপর আবূ হুরাইরা (রাঃ) বললেন, এরপর আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করবেন। এতে মৃতরা জীবিত হয়ে উঠবে, যেমনি বৃষ্টির পানিতে উদ্ভিদরাজি উৎপন্ন হয়। তখন মেরুদণ্ডের হাড় ছাড়া মানুষের সকল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পচে গলে শেষ হয়ে যাবে। কিয়ামতের দিন ঐ হাড়-খণ্ড থেকেই পুনরায় মানুষকে সৃষ্টি করা হবে।
পরিচ্ছেদ নাই
হাদিস নং ৪৫৭৬সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ، حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ، حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ سَعْدٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بِإِصْبَعَيْهِ هَكَذَا بِالْوُسْطَى وَالَّتِي تَلِي الإِبْهَامَ " بُعِثْتُ وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ ".
বর্ণনাকারী: সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
সুরা নাযিয়াত
وَقَالَ مُجَاهِدٌ الْآيَةَ الْكُبْرَى عَصَاهُ وَيَدُهُ يُقَالُ النَّاخِرَةُ وَالنَّخِرَةُ سَوَاءٌ مِثْلُ الطَّامِعِ وَالطَّمِعِ وَالْبَاخِلِ وَالْبَخِيلِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ النَّخِرَةُ الْبَالِيَةُ وَالنَّاخِرَةُ الْعَظْمُ الْمُجَوَّفُ الَّذِي تَمُرُّ فِيهِ الرِّيحُ فَيَنْخَرُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْحَافِرَةِ الَّتِي أَمْرُنَا الْأَوَّلُ إِلَى الْحَيَاةِ وَقَالَ غَيْرُهُ أَيَّانَ مُرْسَاهَا مَتَى مُنْتَهَاهَا وَمُرْسَى السَّفِينَةِ حَيْثُ تَنْتَهِي
زَجْرَةٌ আওয়াজ বা শব্দ। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, تَرْجُفُ الرَّاجِفَةُ দ্বারা ভূমিকম্প বোঝানো হয়েছে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الْاٰيَةَ الْكُبْرَى তার [মূসা (আঃ)] লাঠি এবং তার হাত। سَمكَها আকাশকে স্তম্ভ ব্যতীত নির্মাণ করেছেন। طَغَى লাঠি। النَّاخِرَةُ ও النَّخِرَةُ সমার্থবোধক শব্দ। যেমন الطَّامِعِ ও الطَّمِعِ এবং الْبَاخِلِ ও الْبَخِيْلِএক অর্থবোধক শব্দ। কোন কোন মুফাস্সির বলেছেন, النَّخِرَةُ গলিত (হাড্ডি) এবং النَّاخِرَةُ খোল হাড্ডি, যার মধ্যে বাতাস ঢোকার পর আওয়াজ সৃষ্টি হয়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْحَافِرَةِ পূর্ব জীবন। ইবনু ’আব্বাস ছাড়া অন্যান্য মুফাস্সির বলেছেন, أَيَّانَ مُرْسٰهَا কিয়ামতের শেষ কোথায়? যেমন (আরবী ভাষায়) জাহাজ নোঙ্গর করার স্থানকে مُرْسَى السَّفِيْنَةِ বলে।
৪৫৭৬। আহমদ ইবনু মিকদাম (রহঃ) ... সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখেছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মধ্যমা ও শাহাদাত আঙ্গুল দুটি এভাবে একত্রিত করে বলেছেন, কিয়ামত ও আমাকে এরূপে পাঠানো হয়েছে।
সুরা ’আবাসা
عَبَسَ وَتَوَلَّى كَلَحَ وَأَعْرَضَ وَقَالَ غَيْرُهُ مُطَهَّرَةٍ لَا يَمَسُّهَا إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ وَهُمْ الْمَلَائِكَةُ وَهَذَا مِثْلُ قَوْلِهِ فَالْمُدَبِّرَاتِ أَمْرًا جَعَلَ الْمَلَائِكَةَ وَالصُّحُفَ مُطَهَّرَةً لِأَنَّ الصُّحُفَ يَقَعُ عَلَيْهَا التَّطْهِيرُ فَجُعِلَ التَّطْهِيرُ لِمَنْ حَمَلَهَا أَيْضًا سَفَرَةٍ الْمَلَائِكَةُ وَاحِدُهُمْ سَافِرٌ سَفَرْتُ أَصْلَحْتُ بَيْنَهُمْ وَجُعِلَتْ الْمَلَائِكَةُ إِذَا نَزَلَتْ بِوَحْيِ اللَّهِ وَتَأْدِيَتِهِ كَالسَّفِيرِ الَّذِي يُصْلِحُ بَيْنَ الْقَوْمِ وَقَالَ غَيْرُهُ تَصَدَّى تَغَافَلَ عَنْهُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ لَمَّا يَقْضِ لَا يَقْضِي أَحَدٌ مَا أُمِرَ بِهِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ تَرْهَقُهَا تَغْشَاهَا شِدَّةٌ مُسْفِرَةٌ مُشْرِقَةٌ بِأَيْدِي سَفَرَةٍ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَتَبَةٍ أَسْفَارًا كُتُبًا تَلَهَّى تَشَاغَلَ يُقَالُ وَاحِدُ الْأَسْفَارِ سِفْرٌ
عَبَسَ সে ভ্রূকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। مُطَهَّرَة অর্থ যারা পূত-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না। এখানে পূত-পবিত্র বলে মালাইকাকে বোঝানো হয়েছে। উল্লিখিত আয়াতটি আল্লাহর বাণীঃ فَالْمُدَبِّرَاتِ أَمْرًا এর অনুরূপ। পূর্বের আয়াতে মালাক এবং সহীফা উভয়কেই مُطَهَّرَةً বলা হয়েছে। অথচ التَّطْهِيْرُ এর সম্পর্ক মূলতঃ সহীফার সঙ্গে, মালায়িকার সঙ্গে নয়। তবে মালাক যেহেতু উক্ত সহীফার হামিল ও বাহক, এই হিসাবে মালাককেও مُطَهَّرَةً বলা হয়েছে। سَفَرَةٍ অর্থ মালাক (ফেরেশতা)। এর এক বচন হচ্ছে سَافِرٌ।سَفَرْتُ أَصْلَحْتُ بَيْنَهُمْ আমি তাদের বিবাদ মিটিয়ে দিয়েছি। ওয়াহী অবতীর্ণ করত তা নবীদের (নবীদের) পর্যন্ত পৌঁছানোর দায়িত্ব অর্পণ করে আল্লাহ্ রাববুল আলামীন মালাকগণকে السَّفِيْرِ (দূত) সদৃশ ঘোষণা করেছেন যিনি কওমের পরস্পর বিবাদ মীমাংসা করেন। অন্যান্য মুফাস্সির বলেছেন, تَصَدَّى সে এর থেকে অমনোযোগিতা প্রকাশ করেছে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لمَاَّ يَقْضِيْ তিনি তাকে যা আদেশ করেছেন, সে এখনও তা পুরাপুরি করেনি। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, تَرْهَقُهَا মানে সেগুলোকে আচ্ছন্ন করবে এক মহাবিপদ। مُسْفِرَةٌ উজ্জ্বল। بِأَيْدِيْ سَفَرَةٍ লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতা। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) আরো বলেন, أَسْفَارًا কিতাবসমূহ। تَلَهَّى তুমি ব্যস্ত হলে। বলা হয়أَسْفَارِ এর একবচন سِفْرٌ।
৪৫৭৭। আদম (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, কুর’আনের হাফেজ পাঠক লিপিকর সম্মানিত ফেরেশতার মত। অতি কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও যে ব্যাক্তি বারবার কুর’আন তিলাওয়াত করে, সে দ্বিগুণ পুরস্কার পাবে।
হাদিস নং ৪৫৭৮সহিহ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " (يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ) حَتَّى يَغِيبَ أَحَدُهُمْ فِي رَشْحِهِ إِلَى أَنْصَافِ أُذُنَيْهِ ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)
সুরা তাকবীর
انْكَدَرَتْ انْتَثَرَتْ وَقَالَ الْحَسَنُ سُجِّرَتْ ذَهَبَ مَاؤُهَا فَلَا يَبْقَى قَطْرَةٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ الْمَسْجُورُ الْمَمْلُوءُ وَقَالَ غَيْرُهُ سُجِرَتْ أَفْضَى بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ فَصَارَتْ بَحْرًا وَاحِدًا وَالْخُنَّسُ تَخْنِسُ فِي مُجْرَاهَا تَرْجِعُ وَتَكْنِسُ تَسْتَتِرُ كَمَا تَكْنِسُ الظِّبَاءُ تَنَفَّسَ ارْتَفَعَ النَّهَارُ وَالظَّنِينُ الْمُتَّهَمُ وَالضَّنِينُ يَضَنُّ بِهِ وَقَالَ عُمَرُ النُّفُوسُ زُوِّجَتْ يُزَوَّجُ نَظِيرَهُ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ ثُمَّ قَرَأَ احْشُرُوا الَّذِينَ ظَلَمُوا وَأَزْوَاجَهُمْ عَسْعَسَ أَدْبَرَ
انْكَدَرَتْ অর্থ বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে। হাসান (রহ.) বলেন, سُجِّرَتْ অর্থ পানি নিঃশেষ হয়ে যাবে, এক বিন্দু পানিও বাকী থাকবে না। মুহাজিদ (রহ.) বলেন, الْمَسْجُوْرُ অর্থ কানায় কানায় ভর্তি। মুজাহিদ ব্যতীত অন্যান্য মুফাসসির বলেছেন, سُجِرَتْ অর্থ একটি সমুদ্র আরেকটির সঙ্গে মিলিত হয়ে এক সমুদ্রে পরিণত হবে। وَالْخُنَّسُ অর্থ নিজের গতিপথে পশ্চাদপসরণকারী।تَكْنِسُ মানে সূর্যের আলোতে অদৃশ্য হয়ে যায়, যেমন হরিণ গা ঢাকা দেয়। تَنَفَّسَ অর্থ যখন দিনের আলো উদ্ভাসিত হয়। الظَّنِيْنُ অপবাদ দানকারী। الضَّنِيْنُ অর্থ বখিল, কৃপণ। ’উমার (রাঃ) বলেছেন, وَإِذَا النُّفُوْسُ زُوِّجَتْ অর্থ প্রত্যেককে তার মত চরিত্রের লোকের সঙ্গে জান্নাত ও জাহান্নামে জুড়ে দেয়া হবে। পরে এ কথার সমর্থনে তিনি احْشُرُواالَّذِيْنَ ظَلَمُوْا وَأَزْوَاجَهُمْ عَسْعَسَ (একত্র করে যালিম ও তাদের সহচরগণকে) আয়াতংশটি পাঠ করলেন। عَسْعَسَ অর্থ অবসান হয়েছে, পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছে।
সুরা ইনফিতার
وَقَالَ الرَّبِيعُ بْنُ خُثَيْمٍ فُجِّرَتْ فَاضَتْ وَقَرَأَ الْأَعْمَشُ وَعَاصِمٌ فَعَدَلَكَ بِالتَّخْفِيفِ وَقَرَأَهُ أَهْلُ الْحِجَازِ بِالتَّشْدِيدِ وَأَرَادَ مُعْتَدِلَ الْخَلْقِ وَمَنْ خَفَّفَ يَعْنِي فِي أَيِّ صُورَةٍ شَاءَ إِمَّا حَسَنٌ وَإِمَّا قَبِيحٌ أَوْ طَوِيلٌ أَوْ قَصِيرٌ
রাবী ইবনু খুশাইম (রহঃ) বলেন, فُجِّرَتْ অর্থ-প্রবাহিত হবে, আ’মাশ এবং ওয়াসিম (রহঃ) فَعَدَلَكَ তাখফীফ-এর সঙ্গে পড়তেন এবং হিজাযের অধিবাসী فَعَدَّلَكَ তাশদীদ-এর সঙ্গে পড়তেন। অর্থ তিনি তোমাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ সৃষ্টি করেছেন। যারা فَعَدَلَكَ তাখফীফ-এর সঙ্গে পড়তেন, তারা বলেন, এর অর্থ হল, তিনি তোমাকে সুন্দর বা কুৎসিৎ; লম্বা খাটো যে আকারে ইচ্ছে, সৃষ্টি করেছেন।
সুরা মুতাফ্ফিফীন
وَقَالَ مُجَاهِدٌ بَلْ رَانَ ثَبْتُ الْخَطَايَا ثُوِّبَ جُوزِيَ وَقَالَ غَيْرُهُ الْمُطَفِّفُ لَا يُوَفِّي غَيْرَهُ
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, بَلْرَانَ অর্থ গুনাহের জন্য। ثُوِّبَ অর্থ প্রতিদান দেয়া হল। মুজাহিদ ছাড়া অপরাপর মুসাসসির বলেছেন, الْمُطَفِّفُ ঐ লোক যে অন্যকে মাপে পুরো দেয় না।
৪৫৭৮। ইবরাহিম ইবনু মুনযির (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামيَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ “যেদিন সকল মানুষ বিশ্বজগতের রবের সামনে দাঁড়াবে” (৮৩ঃ ৬) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, সেদিন প্রত্যেকের কানের লতি পর্যন্ত ঘামে ডুবে যাবে।
হাদিস নং ৪৫৭৯সহিহ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي يُونُسَ، حَاتِمِ بْنِ أَبِي صَغِيرَةَ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ أَحَدٌ يُحَاسَبُ إِلاَّ هَلَكَ ". قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاءَكَ، أَلَيْسَ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ (فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ * فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا). قَالَ " ذَاكَ الْعَرْضُ يُعْرَضُونَ، وَمَنْ نُوقِشَ الْحِسَابَ هَلَكَ ".
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
সুরা ইন্শিকাক
قَالَ مُجَاهِدٌ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ يَأْخُذُ كِتَابَهُ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِهِ وَسَقَ جَمَعَ مِنْ دَابَّةٍ ظَنَّ أَنْ لَنْ يَحُورَ لَا يَرْجِعَ إِلَيْنَا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ يُوعُونَ يُسِرُّونَ
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, كِتَابَهُ بِشِمَالِهٰ অর্থাৎ সে পেছন দিক হতে নিজের ’আমলনামা গ্রহণ করবে। وَسَقَ অর্থ সে যেসব জীবজন্তুর সমাবেশ ঘটায়। ظَنَّ أَنْ لَّنْ يَّحُوْرَ অর্থ সে মনে করত যে, সে কখনই আমার কাছে ফিরে আসবে না।
৪৫৭৯। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) ও মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন যে ব্যাক্তিরই হিসাব নেয়া হবে, সে ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। আল্লাহ কি বলেননিঃ “যার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে, তার হিসাব নিকাশ সহজ হবে” (৮৪ঃ ৭-৮)। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এখানে তো কেবল আমলনামা কিভাবে দেয়া হবে তার উল্লেখ করা হয়েছে, অন্যথায় যার চুলচেরা হিসাব নেয়া হবে, সে ধ্বংস হয়ে যাবে।
৪৫৮০। সাঈদ ইবনু নাযর (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَنْ طَبَقٍ এর মর্মার্থ হচ্ছে, এক অবস্থার পর আরেক অবস্থা হওয়া। তোমাদের নবী-ই এ অর্থ বর্ণনা করেছেন।
পরিচ্ছেদ নাই
হাদিস নং ৪৫৮১সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ أَوَّلُ مَنْ قَدِمَ عَلَيْنَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ وَابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ فَجَعَلاَ يُقْرِئَانِنَا الْقُرْآنَ، ثُمَّ جَاءَ عَمَّارٌ وَبِلاَلٌ وَسَعْدٌ ثُمَّ جَاءَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فِي عِشْرِينَ ثُمَّ جَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَمَا رَأَيْتُ أَهْلَ الْمَدِينَةِ فَرِحُوا بِشَىْءٍ فَرَحَهُمْ بِهِ، حَتَّى رَأَيْتُ الْوَلاَئِدَ وَالصِّبْيَانَ يَقُولُونَ هَذَا رَسُولُ اللَّهِ قَدْ جَاءَ. فَمَا جَاءَ حَتَّى قَرَأْتُ (سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى) فِي سُوَرٍ مِثْلِهَا.
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
সুরা বুরুজ
وَقَالَ مُجَاهِدٌ الْأُخْدُودِ شَقٌّ فِي الْأَرْضِ فَتَنُوا عَذَّبُوا
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, الْأُخْدُوْدِ মাটিতে ফাটল। فَتَنُوْا তাদেরকে শাস্তি দেয়া হয়েছে।
সুরা তারিক
وَقَالَ مُجَاهِدٌ ذَاتِ الرَّجْعِ سَحَابٌ يَرْجِعُ بِالْمَطَرِ ذَاتِ الصَّدْعِ تَتَصَدَّعُ النَّبَاتِ
মুজাহিদ বলেন, ذَاتِ الرَّجْعِ অর্থ ঐ মেঘ যা বৃষ্টি নিয়ে আসে। ذَاتِ الصَّدْعِ অর্থ ঐ যমীন যা উদ্ভিদ বের হওয়ার সময় বিদীর্ণ হয়ে যায়।
সূরা আ’লা
৪৫৮১। আবদান (রহঃ) ... বারা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্যে প্রথম যারা হিজরত করে আমাদের কাছে এসেছিলেন, তাঁরা হলেন মুসআব ইবনু উমাইর (রাঃ) ও ইবনু উম্মে মাকতুম (রাঃ)। তাঁরা দুজন এসেই আমাদেরকে কুর’আন পড়াতে শুরু করেন। এরপর এলেন আম্মার, বিলাল ও সা’দ (রাঃ)। এরপর এলেন বিশজন সাহাবীসহ উমার ইবনু খত্তাব (রাঃ)। এরপর এলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমনে মদিনাবাসীকে এত বেশি আনন্দিত হতে দেখেছি যে, অন্য কোন বিষয়ে তাদেরকে ততটা আনন্দিত হতে আর কখনো দেখিনি। এমনকি আমি দেখেছি, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা পর্যন্ত বলছিল যে, ইনই তো আল্লাহর সেই রাসূল, যিনি আমাদের মাঝে এসেছেন। বারা ইবনু আযিব (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসার আগেই আমি سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى (সূরা আ’লা) অনুরূপ আরও কিছু সূরা শিখে নিয়েছিলাম।
হাদিস নং ৪৫৮২সহিহ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَمْعَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ وَذَكَرَ النَّاقَةَ وَالَّذِي عَقَرَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " (إِذِ انْبَعَثَ أَشْقَاهَا) انْبَعَثَ لَهَا رَجُلٌ عَزِيزٌ عَارِمٌ، مَنِيعٌ فِي رَهْطِهِ، مِثْلُ أَبِي زَمْعَةَ ". وَذَكَرَ النِّسَاءَ فَقَالَ " يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ يَجْلِدُ امْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ، فَلَعَلَّهُ يُضَاجِعُهَا مِنْ آخِرِ يَوْمِهِ ". ثُمَّ وَعَظَهُمْ فِي ضَحِكِهِمْ مِنَ الضَّرْطَةِ وَقَالَ " لِمَ يَضْحَكُ أَحَدُكُمْ مِمَّا يَفْعَلُ ". وَقَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَمْعَةَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مِثْلُ أَبِي زَمْعَةَ عَمِّ الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ ".
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু যাম‘আহ (রাঃ)
সুরা গাশিয়া
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَامِلَةٌ نَاصِبَةٌ النَّصَارَى وَقَالَ مُجَاهِدٌ عَيْنٍ آنِيَةٍ بَلَغَ إِنَاهَا وَحَانَ شُرْبُهَا حَمِيمٍ آنٍ بَلَغَ إِنَاهُ لَا تَسْمَعُ فِيهَا لَاغِيَةً شَتْمًا وَيُقَالُ الضَّرِيعُ نَبْتٌ يُقَالُ لَهُ الشِّبْرِقُ يُسَمِّيهِ أَهْلُ الْحِجَازِ الضَّرِيعَ إِذَا يَبِسَ وَهُوَ سُمٌّ بِمُسَيْطِرٍ بِمُسَلَّطٍ وَيُقْرَأُ بِالصَّادِ وَالسِّينِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِيَابَهُمْ مَرْجِعَهُمْ
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, عَامِلَةٌ نَّاصِبَةٌ (ক্লিষ্ট-ক্লান্ত) বলে খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে বোঝানো হয়েছে। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, عَيْنٍاٰنِيَةٍ টগবগে গরম পানিতে কানায় কানায় ভর্তি ঝরণাধারা। حَمِيْمٍاٰنٍ চরম ফুটন্ত পানি। لَا تَسْمَعُ فِيْهَا لَاغِيَةً সেখানে তারা গালি-গালাজ শুনবে না। الشِّبْرِقُএক প্রকার কাঁটাওয়ালা গুল্ম। (তা যখন সবুজ থাকে তখন) তাকে الضَّرِيْعَ বলা হয়, আর যখন শুকিয়ে যায়, তখন হিজাযবাসীরা একেই الضَّرِيْعُ বলে। এ এক প্রকার বিষাক্ত আগাছা। بِمُسَيْطِرٍ কর্মবিধায়ক। শব্দটি س ও ص উভয় বর্ণ দিয়েই পড়া হয়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, إِيَابَهُمْ তাদের প্রত্যাবর্তনের স্থান।
সুরা ফাজ্র
وَقَالَ مُجَاهِدٌ الْوَتْرُ اللَّهُ إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ يَعْنِي الْقَدِيمَةَ وَالْعِمَادُ أَهْلُ عَمُودٍ لَا يُقِيمُونَ سَوْطَ عَذَابٍ الَّذِي عُذِّبُوا بِهِ أَكْلًا لَمًّا السَّفُّ وَ جَمًّا الْكَثِيرُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ كُلُّ شَيْءٍ خَلَقَهُ فَهُوَ شَفْعٌ السَّمَاءُ شَفْعٌ وَالْوَتْرُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَقَالَ غَيْرُهُ سَوْطَ عَذَابٍ كَلِمَةٌ تَقُولُهَا الْعَرَبُ لِكُلِّ نَوْعٍ مِنْ الْعَذَابِ يَدْخُلُ فِيهِ السَّوْطُ لَبِالْمِرْصَادِ إِلَيْهِ الْمَصِيرُ تَحَاضُّونَ تُحَافِظُونَ وَتَحُضُّونَ تَأْمُرُونَ بِإِطْعَامِهِ الْمُطْمَئِنَّةُ الْمُصَدِّقَةُ بِالثَّوَابِ وَقَالَ الْحَسَنُ يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ إِذَا أَرَادَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ قَبْضَهَا اطْمَأَنَّتْ إِلَى اللَّهِ وَاطْمَأَنَّ اللَّهُ إِلَيْهَا وَرَضِيَتْ عَنْ اللَّهِ وَرَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَأَمَرَ بِقَبْضِ رُوحِهَا وَأَدْخَلَهَا اللَّهُ الْجَنَّةَ وَجَعَلَهُ مِنْ عِبَادِهِ الصَّالِحِينَ وَقَالَ غَيْرُهُ جَابُوا نَقَبُوا مِنْ جِيبَ الْقَمِيصُ قُطِعَ لَهُ جَيْبٌ يَجُوبُ الْفَلَاةَ يَقْطَعُهَا لَمًّا لَمَمْتُهُ أَجْمَعَ أَتَيْتُ عَلَى آخِرِهِ
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, الْوَتْرُ মানে বেজোড়। এর দ্বারা আল্লাহ্ তা’আলাকে বোঝানো হয়েছে। إِرَمَذَاتِ الْعِمَادِ দ্বারা প্রাচীন এক জাতিকে বোঝানো হয়েছে। وَالْعِمَادُ খুঁটি ও স্তম্ভের মালিক, যারা স্থায়ীভাবে কোথাও বসবাস করে না; তারা তাঁবু পেতে জীবন যাপন করে (যাযাবর)। سَوْطَ عَذَابٍ যাদেরকে তা দিয়ে শাস্তি প্রদান করা হবে। أَكْلًا لَّمًّا সম্পূর্ণরূপে ভক্ষণ করা। جَمًّا অতিশয়। মুহাজিদ (রহ.) বলেন, আল্লাহর সকল সৃষ্টিই হল জোড়ায় জোড়ায়। সুতরাং আসমানও জোড়া বাঁধা; وَالْوَتْرُ তবে একমাত্র আল্লাহ্ তা’আলাই হলেন বেজোড়। মুজাহিদ (রহ.) ব্যতীত অন্য সকলেই বলেছেন, আরবরা যাবতীয় শাস্তির ব্যাপারে سَوْطَعَذَابٍ শব্দটি ব্যবাহর করে থাকে। যে কোন শাস্তি سَوْطَ عَذَابٍ এর অন্তর্ভুক্ত। لَبِالْمِرْصَادِ তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে। تَحَاضُّوْنَ তোমরা হেফাজত করে থাক। تَحَآضُّوْنَ তোমরা খাদ্য দান করতে আদেশ করে থাক। الْمُطْمَئِنَّةُ সওয়াবকে সত্য বলে বিশ্বাসকারী। হাসান (রাঃ) বলেন, يٓٓأَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ দ্বারা এমন আত্মাকে বোঝানো হয়েছে, যে আত্মাকে আল্লাহ্ মৃত্যুদানের ইচ্ছে করলে সে আল্লাহর প্রতি এবং আল্লাহ্ও তার প্রতি পুরোপুরি প্রশান্ত থাকেন। এরপর আল্লাহ্ তার রূহ কবয করার নির্দেশ দেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে তাকে তাঁর সৎকর্মশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। হাসান (রহ.) ব্যতীত অন্যরা বলেছেন جَابُوْا তারা ছিদ্র করেছে; যে শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে جِيْبَ الْقَمِيْص থেকে। যার অর্থ হচ্ছে, জামার পকেট কাটা হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা হয়ে থাকে يَجُوْبُ الْفَلَاةَ সে মাঠ অতিক্রম করছে। لَمَّا لَمَمْتُهُ أَجْمَعَ বলা হলে এর অর্থ হবে- আমি এর শেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছি।
সুরা বালাদ
وَقَالَ مُجَاهِدٌ وَأَنْتَ حِلٌّ بِهَذَا الْبَلَدِ بِمَكَّةَ لَيْسَ عَلَيْكَ مَا عَلَى النَّاسِ فِيهِ مِنْ الْإِثْمِ وَوَالِدٍ آدَمَ وَمَا وَلَدَ لُبَدًا كَثِيرًا وَ النَّجْدَيْنِ الْخَيْرُ وَالشَّرُّ مَسْغَبَةٍ مَجَاعَةٍ مَتْرَبَةٍ السَّاقِطُ فِي التُّرَابِ يُقَالُ فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ فَلَمْ يَقْتَحِمْ الْعَقَبَةَ فِي الدُّنْيَا ثُمَّ فَسَّرَ الْعَقَبَةَ فَقَالَ وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ فَكُّ رَقَبَةٍ أَوْ إِطْعَامٌ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, بِهٰذَا الْبَلَدِ দ্বারা মক্কা্কে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ এখানে যুদ্ধ করলে অন্য মানুষের উপর যে গুনাহ হবে, তোমার তা হবে না। وَوَالِدٍ আদম (আঃ)। وَمَا وَلَدَ যা সে জন্ম দেয়, لِبَدًا প্রচুর। وَ النَّجْدَيْنِ ভাল-মন্দ, কল্যাণ-অকল্যাণ। مَسْغَبَةٍ ক্ষুধা। مَتْرَبَةٍ ধূলি লুন্ঠিত। বলা হয় فَلَااقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ সে দুনিয়ায় দুর্গম গিরিপথে চলাচল করেনি। এরপর আল্লাহর তা’আলা এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে ইরশাদ করেছেন, তুমি কি জানো দুর্গম গিরিপথ কী? তা হচ্ছে দাস মুক্ত করা, অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে আহার্য দান।
সুরা শামস
وَقَالَ مُجَاهِدٌ بِطَغْوَاهَا بِمَعَاصِيهَا وَلَا يَخَافُ عُقْبَاهَا عُقْبَى أَحَدٍ
মুহাজিদ (রহঃ) বলেন, بِطَغْوَاهَا অবাধ্যতা বা নাফরমানীর কারণে। وَلَايَخَافُ عُقْبَاهَا কারো পরিণামের জন্য আল্লাহ্ আশংকা করবার কিছু নেই।
৪৫৮২। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু যাম’আ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খুতবা দিতে শুনেছেন, যেখানে তিনি সামূদ গোত্রের কাছে প্রেরিত উটনী ও তার পা কাটার কথা বললেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম إِذِ انْبَعَثَ أَشْقَاهَا এর ব্যাখ্যায় বললেন, ঐ উটনীটিকে হত্যা করার জন্য এক হতভাগা শক্তিশালী ব্যাক্তি তৎপর হয়ে উঠলো যে সে সমাজের মধ্যে আবূ যাম’আতের মত প্রভাবশালী ও অত্যন্ত শক্তিধর ছিল। এই খুতবায় তিনি মেয়েদের সম্পর্কেও আলোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যে তার স্ত্রীকে ক্রীতদাসের মত মারে, কিন্তু ঐ দিন শেষেই সে আবার তার সাথে একই বিছানায় মিলিত হয়। এরপর তিনি বায়ু নিঃসরণের পর হাসি দেয়া সম্পর্কে বললেন, তোমাদের কেউ কেউ হাসে সে কাজটির উপর যে কাজটি সেও করে।
(অন্য সনদে) আবু মুয়াবিয়া (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আবু যাম’আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যুবায়র ইবন আওআমের চাচা আবূ যাম’আর মত।
আল্লাহ্র বাণীঃ والنهار إذا تجلى "কসম শপথ দিবসের, যখন তা আবির্ভূত হয়" (৯২ঃ ২)
সুরা লায়ল
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَى بِالْخَلَفِ قَالَ مُجَاهِدٌ تَرَدَّى مَاتَ وَ تَلَظَّى تَوَهَّجُ وَقَرَأَ عُبَيْدُ بْنُ عُمَيْرٍ تَتَلَظَّى
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, وَكَذَّبَ بِالْحُسْنٰى অর্থ প্রতিদানে অস্বীকার করল। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, تَرَدّٰى যখন যে মরে যাবে। تَلَظّٰى মানে লেলিহান অগ্নি্। ’উবায়দ ইবনু উমায়র (রাঃ) শব্দটিকে تَتَلَظّٰى পড়তেন।
৪৫৮৩। কাবীসা ইবনু উকবা (রহঃ) ... আলকামা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ (রাঃ) এর একদল সাথীর সাথে সিরিয়া গেলাম। আবূ দারদা আমাদের কাছে এসে বললেন, কুর’আন পাঠ করতে পারেন এমন কেউ আছেন কি? আমরা বললাম, হ্যাঁ আছে। এরপর তিনি বললেন, তাহলে আপনাদের মাঝে উত্তম তিলাওয়াতকারী কে? লোকেরা ইশারা করে আমাকে দেখিয়ে দিলে তিনি আমাকে বললেন, পড়ুন। আমি পড়লাম, وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى * وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّى * وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى তিলাওয়াত শুনে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি এই সূরা আপনার ওস্তাদ আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের মুখে শুনেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, আমি এই সূরাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখে শুনেছি। কিন্তু তারা (সিরিয়াবাসী) তা অস্বীকার করছে।
আল্লাহ্র বাণীঃ وما خلق الذكر والأنثى "এবং শপথ তার যিনি নর নারী সৃষ্টি করেছেন" (৯৩ঃ ২)
৪৫৮৪. উমর ইবনু হাফস (রহঃ) ... ইবরাহিম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর কিছু সাথী আবূ দারদা (রাঃ) এর কাছে আসলেন। তিনিও তাদের খোঁজ করে পেয়ে গেলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর কিরাআত অনুযায়ী কে কুর’আন তিলাওয়াত করতে পারে? তারা বললেন, আমরা সবাই। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হাফিয কে? সকলেই আলকামার দিকে ইঙ্গিত করলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদকে وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى কিভাবে পড়তে শুনেছেন? আলকামা (রাঃ) বললেন, আমি তাকে وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى পড়তে শুনেছি। এ কথা শুনে আবূ দারদা বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অনুরূপ তিলাওয়াত করতে শুনেছি। কিন্তু এসব (সিরিয়াবাসীরা) চায় আমি যেন তিলাওয়াত করি এভাবে- وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالأُنْثَى। কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি তাদের কথা মানব না।
আল্লাহ্র বাণীঃ فأما من أعطى واتقى "সুতরাং কেউ দান করলে এবং মুত্তাকী হলে" (৯২ঃ ৫)
হাদিস নং ৪৫৮৫সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي بَقِيعِ الْغَرْقَدِ فِي جَنَازَةٍ فَقَالَ " مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ وَقَدْ كُتِبَ مَقْعَدُهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَمَقْعَدُهُ مِنَ النَّارِ ". فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلاَ نَتَّكِلُ فَقَالَ " اعْمَلُوا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ ". ثُمَّ قَرَأَ (فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى * وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى) إِلَى قَوْلِهِ (لِلْعُسْرَى)
বর্ণনাকারী: আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)
৪৫৮৫। আবূ নু’আইম (রহঃ) ... আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাকীউল গারকাদ নামক স্থানে এক জানাজায় আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। সেসময় তিনি বলেছিলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোন ব্যাক্তি নেই যার স্থান জান্নাত বা জাহান্নামে নির্ধারিত হয়নি। একথা শুনে সবাই বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে কি আমরা নিয়তির উপর নির্ভর করে বসে থাকব? উত্তরে তিনি বললেন, তোমরা আমল করতে থাক। কেননা যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে আমল সহজ করা হয়েছে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ এবং কেউ কার্পণ্য করলে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, এবং যা উত্তম তা বর্জন করলে, তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ”।
আল্লাহ্র বাণীঃ وصدق بلحسنى "এবং যা উত্তম তা গ্রহন করলে" (৯২ঃ ৬)
৪৫৮৬। মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসে ছিলাম। তারপর তিনি উপরোক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ فسنيسره لليسرى "আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ" (৯২ঃ ৭)
৪৫৮৭। বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) ... আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কোন একটি জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। এরপর তিনি একটি কাঠি হাতে নিয়ে তা দিয়ে মাটি খোঁচাতে খোঁচাতে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোন ব্যাক্তি নেই যার স্থান জান্নাত বা জাহান্নামে নির্ধারিত হয়নি। একথা শুনে সবাই বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে কি আমরা নিয়তির উপর নির্ভর করে বসে থাকব? উত্তরে তিনি বললেন, তোমরা আমল করতে থাক। কেননা যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে আমলকে সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ এবং কেউ কার্পণ্য করলে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, এবং যা উত্তম তা বর্জন করলে, তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ”
শুবা (রহঃ) বলেন, উপরোক্ত হাদিস আমার কাছে মানসুর বর্ণনা করেছেন। তাকে আমি সুলায়মানের হাদিসের ব্যতিক্রম মনে করিনি।
আল্লাহ্র বাণীঃ وأما من بخل واستغنى "এবং কেউ কার্পণ্য করলে ও নিজকে স্বয়ং সম্পূর্ণ মনে করলে" (৯২ঃ ৮)
৪৫৮৮। ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসে ছিলাম। এসময় তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোন ব্যাক্তি নেই যার স্থান জান্নাত বা জাহান্নামে নির্ধারিত হয়নি। একথা শুনে আমরা সবাই বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে কি আমরা তাকদিরের উপর নির্ভর করে বসে থাকব? তিনি বললেন, না, তোমরা আমল করতে থাক। কেননা যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে আমলকে সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ এবং কেউ কার্পণ্য করলে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, এবং যা উত্তম তা বর্জন করলে, তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ”।
আল্লাহ্র বাণীঃ وكذب بالحسنى "এবং যা উত্তম তা বর্জন করলে" (৯২ঃ ৯)
৪৫৮৯। উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাকীউল গারকাদ নামক স্থানে এক জানাজায় আমরা অংশ নিয়েছিলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এসে বসলেন। আমরাও তাঁর চারপাশে গিয়ে বসলাম। এসময় তাঁর হাতে একটি কাঠি ছিল। তিনি তাঁর মাথা নিচু করে সেটি দিয়ে মাটি খুঁড়তে শুরু করলেন। এরপর বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোন ব্যাক্তি নেই যার স্থান জান্নাত বা জাহান্নামে নির্ধারিত হয়নি, কিংবা তাকে ভাগ্যবান বা হতভাগ্য লিখা হয়নি। একথা শুনে জনৈক সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে কি আমরা আমল করা বাদ দিয়ে ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকব? আমাদের মধ্যে যে সৌভাগ্যবান সে তো সৌভাগ্যবান লোকদের মাঝেই শামিল হয়ে যাবে, আর আমাদের মধ্যে যে হতভাগা, সে তো হতভাগা লোকদের আমলের দিকেই এগিয়ে যাবে। তখন রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সৌভাগ্যের অধিকারী লোকদের জন্য সৌভাগ্য লাভ করার মত আমল সহজ করে দেয়া হবে। এবং দুর্ভাগ্যের অধিকারী লোকদের জন্য দুর্ভাগ্য লাভ করার মত আমল সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে।
আল্লাহ্র বাণীঃ فسنيسره لليسرى "আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ" (৯২ঃ ৭)
৪৫৯০। আদম (রহঃ) ... আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক জানাজায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অংশ নিয়েছিলেন। এসময় তিনি কিছু একটা কাঠি হাতে নিয়ে তা দিয়ে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোন ব্যাক্তি নেই যার স্থান জান্নাত বা জাহান্নামে নির্ধারিত হয়নি। একথা শুনে সবাই বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে কি আমরা আমল করা বাদ দিয়ে আমাদের লিখিত তাকদিরের উপর নির্ভর করে বসে থাকব? উত্তরে তিনি বললেন, তোমরা আমল করতে থাক। কেননা যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে আমলকে সহজ করে দেয়া হবে। সৌভাগ্যের অধিকারী লোকদের জন্য সৌভাগ্য লাভ করার মত আমল সহজ করে দেয়া হবে। এবং দুর্ভাগ্যের অধিকারী লোকদের জন্য দুর্ভাগ্য লাভ করার আমল সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ এবং কেউ কার্পণ্য করলে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, এবং যা উত্তম তা বর্জন করলে, তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ”।
আল্লাহ্র বাণীঃ مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلٰى "তোমার প্রতিপালক তোমাকে পরিত্যাগ করেন নি এবং তোমার প্রতি বিরূপও হননি (৯৩ঃ ৩৩) مَا وَدَّعَكَ শব্দটি তাশদীদ ও তাখফীফ অর্থাৎ وَدَّعَكَ وَدَعَكَ উভয় ভাবেই পড়া যায়। উভয় অবস্থাতে অর্থ একই। তোমাকে রব পরিত্যাগ করেননি। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, তোমাকে তোমার রব পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি বিরূপও হয় নি।
হাদিস নং ৪৫৯১সহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ قَيْسٍ، قَالَ سَمِعْتُ جُنْدُبَ بْنَ سُفْيَانَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ اشْتَكَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَقُمْ لَيْلَتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا، فَجَاءَتِ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ يَا مُحَمَّدُ إِنِّي لأَرْجُو أَنْ يَكُونَ شَيْطَانُكَ قَدْ تَرَكَكَ، لَمْ أَرَهُ قَرِبَكَ مُنْذُ لَيْلَتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا. فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ (وَالضُّحَى * وَاللَّيْلِ إِذَا سَجَى * مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَى)
বর্ণনাকারী: জুনদুব ইবনু সুফইয়ান (রাঃ)
সুরা দুহা
وَقَالَ مُجَاهِدٌ إِذَا سَجَى اسْتَوَى وَقَالَ غَيْرُهُ سَجَى أَظْلَمَ وَسَكَنَ عَائِلًا و عِيَالٍ
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, إِذَا سَجٰى ’’যখন তা সমান সমান হয়’’, মুজাহিদ (রহঃ) ব্যতীত অন্যরা বলেন, إِذَا سَجٰى মানে যখন তা নিঝুম ও অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়। عَآئِلًا নিঃস্ব।
৪৫৯১। আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ... জুনদুব ইবনু সুফইয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই বা তিন রাত তাহাজ্জুদের জন্য উঠতে পারেন নি। এসময় এক মহিলা এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমার মনে হয়, তোমার শয়তান তোমাকে পরিত্যাগ করেছে। দুই বা তিন দিন ধরে আমি তাকে তোমার কাছে আসতে দেখছি না। তখন আল্লাহ নাযিল করলেনঃ “শপথ পূর্বাহ্ণের, শপথ রজনীর যখন তা গভীর হয়, আপনার রব আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি বিরূপও হন নি” (৯৩ঃ ৩)।
৪৫৯২। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... জুনদাব বাজালী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি দেখছি, আপনার সাথী আপনার কাছে ওহী নিয়ে আসতে বিলম্ব করে ফেলছে। তখনই নাযিল হলঃ “আপনার রব আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি বিরূপও হন নি”।
পরিছেদ নাই
হাদিস নং ৪৫৯৩সহিহ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَدِيٌّ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي سَفَرٍ فَقَرَأَ فِي الْعِشَاءِ فِي إِحْدَى الرَّكْعَتَيْنِ بِالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ
বর্ণনাকারী: বারা'আ ইবনু আযিব (রাঃ)
সুরা ইনশিরাহ
وَقَالَ مُجَاهِدٌ وِزْرَكَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَنْقَضَ أَثْقَلَ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ أَيْ مَعَ ذَلِكَ الْعُسْرِ يُسْرًا آخَرَ كَقَوْلِهِ هَلْ تَرَبَّصُونَ بِنَا إِلَّا إِحْدَى الْحُسْنَيَيْنِ وَلَنْ يَغْلِبَ عُسْرٌ يُسْرَيْنِ قَالَ مُجَاهِدٌ فَانْصَبْ فِي حَاجَتِكَ إِلَى رَبِّكَ وَيُذْكَرُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ شَرَحَ اللَّهُ صَدْرَهُ لْإِسْلَامِ
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, وِزْرَكَ জাহিলী যুগের বোঝা। أَنْقَضَ মানে অতিশয় কষ্টদায়ক। مَعَالْعُسْرِيُسْرًا এর ব্যাখ্যায় ইবনু উয়াইয়াহ (রহঃ) বলেন, এ কঠিন অবস্থার পরই আরেকটি সহজঅবস্থা আছে। যেমন আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, هَلْ تَرَبَّصُوْنَ بِنَآ إِلَّآ إِحْدَى الْحُسْنَيَيْنِ তোমরা আমাদের দু’টি কল্যাণের একটির অপেক্ষা করছ। একটি কঠিন অবস্থা দু’টি সহজ অবস্থাকে কখনো পরাভূত করতে পারবে না। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, فَانْصَبْ অর্থ-প্রয়োজন পূরণের জন্য তুমি তোমার রবের কাছে কাকুতি-মিনতি করে প্রার্থনা কর। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ্ রাববুল আলামীন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বক্ষকে ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন।
সুরা তীন
وَقَالَ مُجَاهِدٌ هُوَ التِّينُ وَالزَّيْتُونُ الَّذِي يَأْكُلُ النَّاسُ يُقَالُ فَمَا يُكَذِّبُكَ فَمَا الَّذِي يُكَذِّبُكَ بِأَنَّ النَّاسَ يُدَانُونَ أَعْمَالِهِمْ كَأَنَّهُ قَالَ وَمَنْ يَقْدِرُ عَلَى تَكْذِيبِكَ بِالثَّوَابِ وَالْعِقَابِ
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, আয়াতের মধ্যে التِّيْنُ وَالزَّيْتُوْنُ বলে ঐ তীন ও যায়তূনকে বোঝানো হয়েছে, যা মানুষ খেয়ে থাকে। فَمَا يُكَذِّبُكَ মানুষকে তাদের ’আমলের প্রতিদান দেয়া হবে এ ব্যাপারে কোন জিনিস তোমাকে অবিশ্বাসী করে। অর্থাৎ শাস্তি কিংবা পুরস্কার দানের ব্যাপারে তোমাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করার ক্ষমতা রাখে কে?
৪৫৯৩। হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) ... বারা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে থাকাকালীন সময় ইশার সালাত (নামায/নামাজ)-এর দুই রাকআতের কোন এক রাকআতে ’সূরা তীন’ তিলাওয়াত করেছেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ خلق الإنسان من علق "তিনি মানুষকে আলাক হতে সৃষ্টি করেছেন" (৯৬ঃ ২)
হাদিস নং ৪৫৯৫সহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ فَجَاءَهُ الْمَلَكُ فَقَالَ (اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ * خَلَقَ الإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ * اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأَكْرَمُ)
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৫৯৫। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রথমত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ওহীর সূচনা হয়েছিল সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। এরপর তাঁর কাছে ফেরেশতা এসে বললেন, “পড়ুন, আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক হতে। পাঠ করুন, এবং আপনার রব মহা মহিমান্বিত” (৯৬ঃ ১-৫)।
আল্লাহ্র বাণীঃ পাঠ কর, আর তোমার প্রতিপালক মহা মহিমান্বিত"
হাদিস নং ৪৫৯৬সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، ح وَقَالَ اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، قَالَ مُحَمَّدُ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها. أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرُّؤْيَا الصَّادِقَةُ جَاءَهُ الْمَلَكُ فَقَالَ (اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ * خَلَقَ الإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ * اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأَكْرَمُ * الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ)
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৫৯৬। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে ওহীর সূচনা হয়। এরপর তাঁর কাছে ফেরেশতা এসে বললেন, “পড়ুন, আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক হতে। পাঠ করুন, এবং আপনার রব মহা মহিমান্বিত” (৯৬ঃ ১-৫)।
আল্লাহ্র বাণীঃ الذي علم بالقلم যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন (৯৬ঃ ৪)
হাদিস নং ৪৫৯৭সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ سَمِعْتُ عُرْوَةَ، قَالَتْ عَائِشَةُ ـ رضى الله عنها ـ فَرَجَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى خَدِيجَةَ فَقَالَ " زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي ". فَذَكَرَ الْحَدِيثَ
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৫৯৭। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজা (রাঃ) এর কাছে ফিরে এসে বললেন, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। এরপর রাবী সম্পূর্ণ হাদিসটি বর্ণনা করলেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ كلا لئن لم ينته لنسفعن بالناصية ناصية كاذبة خاطئة "সাবধান, সে যদি বিরত না হয় তবে আমি তাকে অবশ্যই হেচড়িয়ে নিয়ে যাব, মস্তকের সম্মুখ ভাগের কেশগুচ্ছ ধরে, মিথ্যাচারী, পাপিষ্ঠের কেশগুচ্চছ। (৯৬ঃ ১৫-১৬)
৪৫৯৮। ইয়াহইয়া (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ জাহল বলেছিল, আমি যদি মুহাম্মাদকে কাবার পাশে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে দেখি তাহলে অবশ্যই আমি তার ঘাড় পদদলিত করব। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌঁছার পর তিনি বলেছেন, সে যদি তা করে তাহলে অবশ্যই ফেরেশতা তাকে পাকড়াও করবে। উবায়দুল্লাহর মাধ্যমে আবদুল থেকে আমর ইবনু খালিদ এ হাদিস বর্ণনা করতে গিয়ে উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
পরিচ্ছেদ নাই
হাদিস নং ৪৫৯৯সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لأُبَىٍّ. " إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ (لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا) ". قَالَ وَسَمَّانِي قَالَ " نَعَمْ ". فَبَكَى.
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
সুরা কাদ্র
يُقَالُ الْمَطْلَعُ هُوَ الطُّلُوعُ وَالْمَطْلِعُ الْمَوْضِعُ الَّذِي يُطْلَعُ مِنْهُ أَنْزَلْنَاهُ الْهَاءُ كِنَايَةٌ عَنْ الْقُرْآنِ إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ خَرَجَ مَخْرَجَ جَمِيعِ وَالْمُنْزِلُ هُوَ اللَّهُ وَالْعَرَبُ تُوَكِّدُ فِعْلَ الْوَاحِدِ فَتَجْعَلُهُ بِلَفْظِ الْجَمِيعِ لِيَكُونَ أَثْبَتَ وَأَوْكَدَ
الْمَطْلَعُ বলা হয় উদয় হওয়াকে, পক্ষান্তরে, الْمَطْلِعُ মানে উদয়স্থল। أَنْزَلْنَاهُ এর ه দ্বারা আল-কুরআনের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। এখানে বহুবচনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও একবচনের গ্রহণ করা হয়েছে। কেননা, কুরআন অবতীর্ণকারী হলেন আল্লাহ্ তা’আলা। বস্তুত কোন বস্তুর গুরুত্ব প্রকাশ বা জোরালো ভাব প্রকামের জন্য আরবরা একবচনের স্থলে বহুবচনে ব্যবহার করে থাকে।
সুরা বায়্যিনা
مُنْفَكِّينَ زَائِلِينَ قَيِّمَةٌ الْقَائِمَةُ دِينُ الْقَيِّمَةِ أَضَافَ الدِّينَ إِلَى الْمُؤَنَّثِ
مُنْفَكِّيْنَ বিচলিত ও পদস্খলিত। قَيِّمَةٌ সঠিক। دِيْنُ الْقَيِّمَةِ এর মাঝে دِيْنُ শব্দটিকে স্ত্রী লিঙ্গের দিকে اضافت করা হয়েছে।
৪৫৯৯। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) কে বলেছিলেন, তোমাকে لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا পড়ে শোনানোর জন্য আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) বললেন, আল্লাহ কি আমার নাম নিয়ে বলেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। একথা শুনে উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) কাঁদতে লাগলেন।
হাদিস নং ৪৬০০সহিহ
حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لأُبَىٍّ " إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ الْقُرْآنَ ". قَالَ أُبَىٌّ آللَّهُ سَمَّانِي لَكَ قَالَ " اللَّهُ سَمَّاكَ لِي ". فَجَعَلَ أُبَىٌّ يَبْكِي. قَالَ قَتَادَةُ فَأُنْبِئْتُ أَنَّهُ قَرَأَ عَلَيْهِ (لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ)
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
৪৬০০। হাসসান ইবনু হাসসান (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) কে বলেছিলেন, তোমাকে কুর’আন পড়ে শোনানোর জন্য আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) বললেন, আল্লাহ কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহ তোমার নাম উল্লেখ করেছেন। একথা শুনে উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) কাঁদতে লাগলেন। কাতাদা (রহঃ) বলেন, আমাকে জানানো হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ পাঠ করে শুনিয়েছিলেন।
৪৬০১। আহমদ ইবনু আবূ দাউদ (রহঃ) ... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) কে বলেছিলেন, তোমাকে কুর’আন পড়ে শোনানোর জন্য আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। একথা শুনে তিনি বললেন, আল্লাহ কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) আশ্চর্যান্বিত হয়ে পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, সমগ্র বিশ্বের প্রতিপালকের কাছে কি আমার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে? উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। একথা শুনে তাঁর উভয় চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠলো।
আল্লাহ্র বাণীঃ فمن يعمل مثقال ذرة خيرا يره "কেউ অনু পরিমাণ সৎকর্ম করলে, সে তা দেখবে" (৯৯ঃ ৭)
সুরা যিলযাল
يُقَالُ أَوْحَى لَهَا أَوْحَى إِلَيْهَا وَوَحَى لَهَا وَوَحَى إِلَيْهَا وَاحِدٌ
বলা হয়, وَوَحَى لَهَا ও وَوَحَى إِلَيْهَا শব্দ দু’টির অর্থ একই।
৪৬০২। ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন শ্রেণীর মানুষের ঘোড়া থাকে। এক শ্রেণীর জন্য তা সওয়াব ও পুরস্কারের কারণ হয়, এক শ্রেণীর মানুষের জন্য হয় তা (গুনাহ হতে) আবরণরূপে এবং এক শ্রেণীর মানুষের প্রতি তা হয় গুনাহের কারণ। যার জন্য তা সওয়াবের কারণ হয়, তারা সেসব ব্যাক্তি, যারা আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য তা প্রস্তুত করে রাখে এবং কোন চারণ ক্ষেত্রে বা বাগানে লম্বা রশি দিয়ে তাকে বেঁধে রাখে। রশির আওতায় চারণ ক্ষেত্রে বা বাগানে সে যা কিছু খায় তা ঐ ব্যাক্তির জন্য নেকী হিসেবে গণ্য হয়। যদি ঘোড়াটি রশি ছিঁড়ে ফেলে এবং নিজ স্থান অতিক্রম করে দু’ এক উঁচু স্থানে চলে যায়, তাহলে তার পদচিহ্ন ও গোবরের বিনিময়েও ঐ ব্যাক্তি সওয়াব লাভ করবে। আর ঘোড়াটি যদি কোন জলাধারের কিনারায় গিয়ে নিজে নিজেই পানি পান করে, তবে মালিকের সেখান থেকে পানি পান করানোর ইচ্ছা না থাকলেও সে ব্যাক্তি এর বিনিময়ে সওয়াব লাভ করবে।
এই ঘোড়া এই ব্যাক্তির জন্য তো হল সওয়াবের কারণ। আরেক শ্রেণীর মানুষের জন্য হয় তা (গুনাহ হতে) আবরণরূপে, তারা ঐ ব্যাক্তি যারা মানুষের থেকে মুখাপেক্ষী না থাকার জন্য ও মানুষের কাছে হাত পাতা থেকে বেঁচে থাকার জন্য তা পালন করে। কিন্তু তাতে আল্লাহর যে হক আছে তা দিতে ভুলে যায় না। এই শ্রেণীর মানুষের জন্য এ ঘোড়া হল পর্দা। আরেক শ্রেণীর ঘোড়ার মালিক যারা গর্ব করার মনোভাব ও দুশমনীর জন্য ঘোড়া রাখে। এ ঘোড়া হল তাদের জন্য গুনাহের কারণ। এরপর আল্লাহর রাসূল কে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, একক ও ব্যাপক অর্থব্যঞ্জক এ একটি মাত্র আয়াত ছাড়া এ বিষয়ে আল্লাহ আমার প্রতি আর কোন আয়াত নাযিল করেননি। আয়াতটি এইঃ “কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে সে তা দেখবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকাজ করলেও সে তা দেখবে” (৯৯ঃ ৭-৮)।
আল্লাহ্র বাণীঃ ومن يعمل مثقال ذرة شرا يره "কেউ অনু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে সে তাও দেখবে" (৯৯ঃ ৭-৮)
হাদিস নং ৪৬০৩সহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْحُمُرِ فَقَالَ " لَمْ يُنْزَلْ عَلَىَّ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ هَذِهِ الآيَةُ الْجَامِعَةُ الْفَاذَّةُ (فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ * وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ)".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৬০৩। ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ... আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, একক ও ব্যাপক অর্থব্যঞ্জক এ একটি মাত্র আয়াত ব্যতীত এ বিষয়ে আল্লাহ আমার প্রতি আর কোন আয়াত নাযিল করেননি। আয়াতটি হচ্ছে এইঃ “কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে সে তা দেখবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকাজ করলেও সে তা দেখবে” (৯৯ঃ ৭-৮)।
পরিচ্ছেদ নাই
হাদিস নং ৪৬০৪সহিহ
حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمَّا عُرِجَ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى السَّمَاءِ قَالَ " أَتَيْتُ عَلَى نَهَرٍ حَافَتَاهُ قِبَابُ اللُّؤْلُؤِ مُجَوَّفًا فَقُلْتُ مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ قَالَ هَذَا الْكَوْثَرُ ".
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
সুরা আদিয়াত
وَقَالَ مُجَاهِدٌ الْكَنُودُ الْكَفُورُ يُقَالُ فَأَثَرْنَ بِهِ نَقْعًا رَفَعْنَا بِهِ غُبَارًا لِحُبِّ الْخَيْرِ مِنْ أَجْلِ حُبِّ الْخَيْرِ لَشَدِيدٌ لَبَخِيلٌ وَيُقَالُ لِلْبَخِيلِ شَدِيدٌ حُصِّلَ مُيِّزَ
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, الْكَنُوْدُ অকৃতজ্ঞ। فَأَثَرْنَ بِهٰ نَقْعًا সে সময় ধূলি উৎক্ষিপ্ত করে। لِحُبِّ الْخَيْرِ ধন-সম্পদের প্রতি ভালবাসার কারণে। لَشَدِيْدٌ মানে অবশ্যই কৃপণ। কৃপণকে আরবী ভাষায় شَدِيْدٌ বলা হয়। حُصِّلَ পৃথক করা হবে।
সুরা কারি’আ
كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوثِ كَغَوْغَاءِ الْجَرَادِ يَرْكَبُ بَعْضُهُ بَعْضًا كَذَلِكَ النَّاسُ يَجُولُ بَعْضُهُمْ فِي بَعْضٍ كَالْعِهْنِ كَأَلْوَانِ الْعِهْنِ وَقَرَأَ عَبْدُ اللَّهِ كَالصُّوفِ
كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوْثِ মানে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মত। পতঙ্গ যেমন একটি আরেকটির ওপর পড়ে, ঠিক তেমনিভাবে একজন মানুষ আরেকজনের ওপর পড়বে। كَالْعِهْنِ নানা রঙের তুলার ন্যায়। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) كَالصُّوْفِ পড়েছেন।
সুরা তাকাছুর
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ التَّكَاثُرُ مِنْ الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, التَّكَاثُرُ ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির আধিক্য।
সুরা আসর
وَقَالَ يَحْيَى الْعَصْرُ الدَّهْرُ أَقْسَمَ بِهِ
বলা হয় الْعَصْرُ কাল বা সময়। আল্লাহ্ তা’আলা এখানে কালের শপথ করেছেন।
সুরা হুমাযা
الْحُطَمَةُ اسْمُ النَّارِ مِثْلُ سَقَرَ وَ لَظَى
الْحُطَمَةُ ’লাযা’ ও ’সাকার’ যেমন জাহান্নামের নাম, তেমনি ’হুতামা’ও একটি জাহান্নামের নাম।
সুরা ফীল
قَالَ مُجَاهِدٌ أَلَمْ تَرَ أَلَمْ تَعْلَمْ . وَقَالَ مُجَاهِدٌ أَبَابِيلَ مُتَتَابِعَةً مُجْتَمِعَةً وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مِنْ سِجِّيلٍ هِيَ سَنْكِ وَكِلْ
أَبَابِيْلَ ঝাঁকে ঝাঁকে ও একত্রিত। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, مِنْ سِجِّيْلٍ শব্দটি سَنْكِ ও كِلْ থেকে আরবীকৃত আরবী শব্দ (এর অর্থ হল পাথর ও মাটির ঢিল)।
সুরা কুরায়শ
وَقَالَ مُجَاهِدٌ لِإِيلَافِ أَلِفُوا ذَلِكَ فَلَا يَشُقُّ عَلَيْهِمْ فِي الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ وَآمَنَهُمْ مِنْ كُلِّ عَدُوِّهِمْ فِي حَرَمِهِمْ قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ لِإِيلَافِ لِنِعْمَتِي عَلَى قُرَيْشٍ
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لِإِيْلَافِ মানে তারা এ বিষয়ে অভ্যস্ত ছিল। ফলে, শীত ও গ্রীষ্মে তা তাদের জন্য কষ্টকর হয় না। وَاٰمَنَهُمْ আল্লাহ্ তা’আলা হারামের মাধ্যমে তাদের যাবতীয় শত্রু থেকে নিরাপত্তা দিয়েছেন। ইবনু উআয়না (রহ.) বলেন, لِإِيْلَافِ কুরাইশদের প্রতি আমার নি’মাতের কারণে।
সুরা মাউন
وَقَالَ مُجَاهِدٌ يَدُعُّ يَدْفَعُ عَنْ حَقِّهِّهِ قَالُ هُوَ مِنْ دَعَعْتُ يُدَعُّونَ يُدْفَعُونَ سَاهُونَ لَاهُونَ وَ الْمَاعُونَ الْمَعْرُوفَ كُلُّهُ وَقَالَ بَعْضُ الْعَرَبِ الْمَاعُونُ الْمَاءُ قَالَ عِكْرِمَةُ أَعْلَاهَا الزَّكَاةُ الْمَفْرُوضَةُ وَأَدْنَاهَا عَارِيَّةُ الْمَتَاعِ
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, يَدُعٌ সে তাকে হাক না দিয়ে ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। বলা হয় এ শব্দটি শব্দ থেকে উদ্ভূত। يُدَعُّوْنَ তাদেরকে বাধা দেয়া হয়। ساهُوْنَ উদাসীন। الماعُوْن সর্বপ্রকার কল্যাণকর কাজ। কোন কোন আরবী ভাষা বিশেষজ্ঞ বলেন, الماعُوْنُ পানি। ’ইকরামাহ (রাঃ) বলেন, মাউনের অন্তর্ভুক্ত সর্বোচ্চ স্তরের বিষয় হচ্ছে যাকাত প্রদান করা এবং সর্বনিম্ন পর্যায়ের বিষয় হচ্ছে গৃহস্তালির প্রয়োজনীয় ছোট খাট জিনিস ধার দেয়া।
সুরা কাউসার
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ شَانِئَكَ عَدُوَّكَ
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, شانِئَكَ তোমার শত্রু।
৪৬০৪। আদম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আকাশের দিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মি’রাজ হলে তিনি বলেন, আমি একটি জলাধারের (নদী) ধারে পৌঁছলাম, যার উভয় তীরে ফাঁপা মুক্তার তৈরি গম্বুজ রয়েছে। আমি বললাম, হে জিবরাঈল! এটি কি? তিনি বললেন, এটিই (হাউযে) কাওসার।
হাদিস নং ৪৬০৫সহিহ
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ الْكَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَ سَأَلْتُهَا عَنْ قَوْلِهِ تَعَالَى (إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ) قَالَتْ نَهَرٌ أُعْطِيَهُ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم شَاطِئَاهُ عَلَيْهِ دُرٌّ مُجَوَّفٌ آنِيَتُهُ كَعَدَدِ النُّجُومِ. رَوَاهُ زَكَرِيَّاءُ وَأَبُو الأَحْوَصِ وَمُطَرِّفٌ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ.
বর্ণনাকারী: আবূ উবায়দা (রহঃ)
৪৬০৫। খালিদ ইবনু ইয়াযীদ কাহিলী (রহঃ) ... আবূ উবায়দা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) কে আল্লাহ তা’আলার বাণীإِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেন, কাউছার একটি নহর যা তোমাদের নবী মুহাম্মদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রদান করা হয়েছে। এর দু’টো পাড় রয়েছে। উভয় পাড়ে বিছানো রয়েছে খোখলা মোতি। এর পাত্রের সংখ্যা তারকারাজির অনুরূপ।
(অন্য সনদে) যাকারিয়া (রহঃ) ... আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
৪৬০৬। ইয়াকূব ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কাউছার সম্পর্কে বলেছেন যে, এ এমন একটি কল্যাণ যা আল্লাহ তাঁকে দান করেছেন্। বর্ণনাকারী আবূ বিশর (রহঃ) বলেন, আমি সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) কে বললাম, লোকেরা মনে করে যে, কাউছার হচ্ছে জান্নাতের একটি নহর। এ কথা শুনে সাঈদ (রহঃ) বললেন, জান্নাতের নহরটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেয়া কল্যানের একটি।
হাদিস নং ৪৬০৭সহিহ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ مَا صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَلاَةً بَعْدَ أَنْ نَزَلَتْ عَلَيْهِ (إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ) إِلاَّ يَقُولُ فِيهَا " سُبْحَانَكَ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ".
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
সুরা কাফিরুন
يُقَالُ لَكُمْ دِينُكُمْ الْكُفْرُ وَلِيَ دِينِ الْإِسْلَامُ وَلَمْ يَقُلْ دِينِي لِأَنَّ الْآيَاتِ بِالنُّونِ فَحُذِفَتْ الْيَاءُ كَمَا قَالَ يَهْدِينِ وَ يَشْفِينِ وَقَالَ غَيْرُهُ لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ الْآنَ وَلَا أُجِيبُكُمْ فِيمَا بَقِيَ مِنْ عُمُرِي وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ وَهُمْ الَّذِينَ قَالَ وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ طُغْيَانًا وَكُفْرًا
বলা হয় لَكُمْ دِيْنُكُمْ তোমাদের দ্বীন তোমাদের, অর্থাৎ কুফর। আর وَلِيَ دِيْنِ আমাদের দ্বীন ইসলাম। এখানে دِيْنِيْ বলা হয়নি। পূর্বের আয়াতগুলো نঅক্ষরের উপর যেহেতু শেষ করা হয়েছে, তাই পূর্বের আয়াতগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করার জন্য يا অক্ষরটিকে মুছে ফেলে এ আয়াতটিকেও ن অক্ষরের ওপর সমাপ্ত করা হয়েছে। যেমন অন্য স্থানে আল্লাহ্ তা’আলা يَهْدِيْنِ এবং يَشْفِيْنِ ব্যবহার করেছেন। (মুজাহিদ ব্যতীত) অপরাপর মুফাসসির বলেছেন, لَآ أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُوْنَ - এর মর্মার্থ হচ্ছেঃ তোমরা বর্তমানে যার ’ইবাদাত কর, আমি তার ’ইবাদাত করি না এবং অবশিষ্ট জীবনেও আমি তোমাদের এ আহবানে সাড়া দেব না। وَلَآ أَنْتُمْ عَابِدُوْنَ مَآ أَعْبُدُ এবং তোমরাও তাঁর ’ইবাদাতকারী নও- ’যাঁর ’ইবাদাত আমি করি।’ তারা ঐ সমস্ত লোক, যাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ তা’আলা অন্যত্র ইরশাদ করেছেনঃ ’’তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা তাদের অনেকের ধর্মদ্রোহিতা ও অবিশ্বাসই বর্ধিত করবে।’’
সূরা নাসর
৪৬০৭। হাসান ইবনু রাবী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ সূরা নাযিল হবার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন তখনই তিনি সালাতের পর নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করেছেনঃسُبْحَانَكَ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي “হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র, তুমিই আমার রব। সকল প্রশংসা তোমারই জন্য নির্ধারিত। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর”।
হাদিস নং ৪৬০৮সহিহ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ " سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ". يَتَأَوَّلُ الْقُرْآنَ.
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
৪৬০৮। উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরা নাস্র নাযিল হাবার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামسُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي (হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র, তুমিই আমার রব, সমস্ত প্রশংসা তোমারই জন্য নির্দিষ্ট। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও)। দোয়াটি রুকু-সিজদার মধ্যে বেশী বেশী পাঠ করতেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ ورأيت الناس يدخلون في دين الله أفواجا "এবং তুমি মানুষকে দলে দলে আল্লাহ্র দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবে" (১১০ঃ ২)
হাদিস নং ৪৬০৯সহিহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ عُمَرَ ـ رضى الله عنه ـ سَأَلَهُمْ عَنْ قَوْلِهِ تَعَالَى (إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ) قَالُوا فَتْحُ الْمَدَائِنِ وَالْقُصُورِ قَالَ مَا تَقُولُ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ أَجَلٌ أَوْ مَثَلٌ ضُرِبَ لِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم نُعِيَتْ لَهُ نَفْسُهُ.
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪৬০৯। আবদুল্লাহ ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাঃ) লোকদেরকে আল্লাহর বাণীإِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ এর ব্যাখ্যা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করার পর তারা বললেন, এ আয়াতে শহর এবং প্রাসাদসমূহের বিজয়ের কথা বলা হয়েছে। এ কথা শুনে উমর (রাঃ) বললেন, হে ইবনু আব্বাস! তুমি কি বল? তিনি বললেন, এ আয়াতে ওফাত অথবা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দৃষ্টান্ত এবং তাঁর শান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আল্লাহ্র বাণীঃ فسبح بحمد ربك واستغفره إنه كان توابا "অতঃপর তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি তো তওবা কবুলকারী (১১০ঃ ৩)
تَوَّابٌ عَلَى الْعِبَادِ وَالتَّوَّابُ مِنْ النَّاسِ التَّائِبُ مِنْ الذَّنْبِ
تَوَّابٌ মানেتَوَّابٌ عَلَى الْعِبَادِ বান্দাদের তওবা কবূলকারী। التَّوَّابُ مِنَ النَّاسِ ঐ ব্যক্তিকে বলা হয় যে গুনাহ থেকে তওবা করে।
৪৬১০। মূসা ইবনু ইসমাইল (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাঃ) বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রবীণ সাহাবীদের সঙ্গে আমাকেও শামিল করতেন। এ কারণে কারো কারো মনে প্রশ্ন দেখা দিল। একজন বললেন, আপনি তাঁকে আমাদের সাথে কেন শামিল করছেন। আমাদের তো তাঁর মত সন্তানই রয়েছে। উমর (রাঃ) বললেন, এর কারণ তো আপনারাও জানেন। সুতরাং একদিন তিনি তাঁকে ডাকলেন এবং তাঁদের সাথে বসলেন। ইবনু আব্বাস (রহঃ) বলেন, আমি বুঝতে পারলাম, আজকে তিনি আমাকে ডেকেছেন এজন্য যে, তিনি আমার প্রজ্ঞা তাঁদেরকে দেখবেন। তিনি তাদেরকে বললেন। আল্লাহর বাণীঃإِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে আপনারা কি বলেন, তখন তাঁদের কেউ বললেন, আমরা সাহায্য প্রাপ্ত হলে এবং আমরা বিজয় লাভ করলে।
এ আয়াতে আমাদেরকে আল্লাহর প্রশংসা এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আবার কেউ কিছু না বলে চুপ করে থাকলেন। এরপর তিনি আমাকে বললেন, হে ইবনু আব্বাস! তুমিও কি তাই বল? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি কি বলতে চাও? উত্তরে আমি বললাম, “এ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ জানিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসলে’ এটই হবে তোমার মৃত্যুর আলামত। তখন তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা কর এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি তো তওবা কবুলকারী”। এ কথা শুনে উমর (রাঃ) বললেন, তুমি যা বলছ, এ আয়াতের ব্যাখ্যা আমিও তা-ই জানি।
تَبَابٌ خُسْرَانٌ تَتْبِيبٌ تَدْمِيرٌ
تَبَابٌ অর্থخُسْرَانٌ মানে ক্ষতি, ধ্বংস। تَتْبِيبٌ মানে تَدْمِيرٌ বিধ্বস্ত করা।
৪৬১১। ইউসুফ ইবনু মূসা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ “তুমি তোমার কাছে আত্মীয়-স্বজনকে সতর্ক করে দাও” আয়াতটি নাযিল হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে সাফা পাহাড়ে গিয়ে উঠলেন এবং (সকাল বেলার বিপদ সাবধান) বলে উচ্চস্বরে ডাক দিলেন। আওয়াজ শুনে তারা বলল, এ কে? তারপর সবাই তাঁর কাছে গিয়ে সমবেত হল। তিনি বললেন, আমি যদি তোমাদেরকে বলি, আশি অশ্বারোহী সৈন্যবাহিনী ও পাহাড়ের পেছনে তোমাদের উপর হামলা করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে, তাহলে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে? সকলেই বলল, আপনার মিথ্যা বলার ব্যাপারে আমাদের অভিজ্ঞতা নেই। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদের আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছি। এ কথা শুনে আবূ লাহাব বলল, তোমার ধ্বংস হোক। তুমি কি এ জন্যই আমাদেরকে একত্র করেছ। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন। তারপর নাযিল হলঃتَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ “ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দু’গাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও”। আমাশ (রহঃ) আয়াতটিতেتَبَّ শব্দের পূর্বেقَدْ সংযোগ করেوَقَدْ تَبَّ পড়েছেন।
আল্লাহ্র বাণীঃ وتب ما أغنى عنه ماله وما كسب এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। তার ধন-সম্পদ ও উপার্জন কোন কাজে আসেনি (১১১ঃ ১-২)
৪৬১২। মুহাম্মদ ইবনু সালাম (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাত্হা প্রান্তরের দিকে চলে গেলেন এবং পাহাড়ে আরোহণ করে বলে উচ্চস্বরে ডাকলেন। কুরাইশরা তাঁর কাছে এসে সমবেত হল। তিনি বললেন, আমি যদি তোমাদেরকে বলি, শত্রু সৈন্যরা সকালে বা সন্ধ্যায় তোমাদের উপর আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে, তাহলে কি তোমরা আমাকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে? তারা সকলেই বলল, হাঁ, আমরা বিশ্বাস করব। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছি। এ কথা শুনে আবূ লাহাব বলল, তুমি কে এজন্যই আমাদেরকে একত্রিত করেছ? তোমাদের ধ্বংস হোক। তখন আল্লাহ তা’আলা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সূরা লাহাব নাযিল করলেন, ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দুই হস্ত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। তার ধন-সম্পদ এবং উপার্জন তার কোন কাজে আসেনি। অচিরে সে দগ্ধ হবে লেলিহান অগ্নিতে এবং তার স্ত্রীও, যে ইন্ধন বহন করে তার গলদেশে পাকান রজ্জু।
আল্লাহ্র বাণীঃ سيصلى نارا ذات لهب "অচিরে সে দগ্ধ হবে লেলিহান অগ্নিতে।" (১১১ঃ ৩)
৪৬১৩। উমর ইবনু হাফ্স (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ লাহাব, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললো, তোমার ধ্বংস হোক, তুমি কি এ জন্যই আমাদেরকে একত্রিত করেছ? তখনتَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ সূরাটি নাযিল হল।
পরিচ্ছেদ নাই
হাদিস নং ৪৬১৪সহিহ
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَالَ اللَّهُ كَذَّبَنِي ابْنُ آدَمَ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ، وَشَتَمَنِي وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ، فَأَمَّا تَكْذِيبُهُ إِيَّاىَ فَقَوْلُهُ لَنْ يُعِيدَنِي كَمَا بَدَأَنِي، وَلَيْسَ أَوَّلُ الْخَلْقِ بِأَهْوَنَ عَلَىَّ مِنْ إِعَادَتِهِ، وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّاىَ فَقَوْلُهُ اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا، وَأَنَا الأَحَدُ الصَّمَدُ لَمْ أَلِدْ وَلَمْ أُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لِي كُفْأً أَحَدٌ ".
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
بَاب قَوْلِهِ وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةُ الْحَطَبِ
وَقَالَ مُجَاهِدٌ حَمَّالَةُ الْحَطَبِ تَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِنْ مَسَدٍ يُقَالُ مِنْ مَسَدٍ لِيفِ الْمُقْلِ هِيَ السِّلْسِلَةُ الَّتِي فِي النَّارِ
অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ "এবং তার স্ত্রীও যে ইন্ধন বহন করবে" (১১১ঃ ৪)
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, حَمَّالَةَ الْحَطَبِ এমন মহিলা যে পরের নিন্দা করে বেড়ায়। فِيْ جِيْدِهَا حَبْلٌ مِّنْ مَّسَدٍ তার গলদেশে থাকবে পাকানো রশি। বলা হয় مَسَدٍপাকানো মোটা শক্ত দড়ি। (কারো কারো মতে) এর দ্বারা জাহান্নামের ঐ শৃঙ্খলকে বোঝানো হয়েছে, যা তার গলদেশে লাগানো হবে।
সুরা ইখলাস
يُقَالُ لَا يُنَوَّنُ أَحَدٌ أَيْ وَاحِدٌ
বলা হয়, أَحَدٌ শব্দটি (যখন তৎপরবর্তী শব্দের সঙ্গে মিলিয়ে পড়া হবে তখন) تنوين পড়া হয় না। أَحَدٌ ও وَاحِدٌ সমার্থবোধক।
৪৬১৪। আবূল ইয়ামন (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, “বনী আদম আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে; অথচ এরূপ করা তার জন্য সমীচীন হয়নি। বণী আদম আমাকে গালি দিয়েছে; অথচ এমন করা তার জন্য উচিত হয়নি। আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করার অর্থ হচ্ছে এই যে, সে বলে, আল্লাহ আমাকে যেমনিভাবে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, অনুরূপভাবে তিনি আমাকে দ্বিতীয়বার জীবিত করবেন না। অথচ তাকে পুনরায় জীবিত করা অপেক্ষা প্রথম সৃষ্টি করা আমার জন্য সহজ ছিল না। আমাকে তার গালি দেয়ার অর্থ হচ্ছে এই যে, সে বলে, আল্লাহ্ তা’আলা সন্তান গ্রহণ করেছেন; অথচ আমি একক, কারো মুখাপেক্ষী নই। আমি কাউকে জন্ম দেইনি, আমাকেও জন্ম হয়নি এবং কেউ আমার সমতুল্য নয়”।
আল্লাহ্র বাণীঃ الله الصمد "আল্লাহ্ কারো মুখপেক্ষী নন" (১১২ঃ ২) আরবীয় লোকেরা তাদের নেতাদেরকে صمد বলে থাকেন। আবু ওয়াইল (রহঃ) বলেন, এমন নেতাকে বলা হয় যার নেতৃত্ব চুড়ান্ত বা যার উপর নেতৃত্বের পরিসমাপ্তি ঘটে।
৪৬১৫। ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন বলেন, আদম সন্তান আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছেন; অথচ এরূপ করা তার জন্য উচিত হয়নি। সে আমাকে গালি দিয়েছে; অথচ এমন করা তার পক্ষে সমীচীন হয়নি। আমার প্রতি তার মিথ্যা আরোপ করার মানে হচ্ছে এই যে, সে বলে, আমি পুনর্জীবিত করতে সক্ষম নই যেমনিভাবে আমি তাকে প্রথমে সৃষ্টি করেছি। আমাকে তার গালি দেয়া হচ্ছে এই যে, সে বলে, আল্লাহ্ তা’আলা সন্তান গ্রহণ করেছেন; অথচ আমি কারো মুখাপেক্ষী নই। আমি এমন এক সত্তা যে, আমি কাউকে জন্ম দেইনি, আমাকেও জন্ম দেয়নি এবং আমার সমতুম্য কেউ নেই। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলনেঃكَفِيئًا - كفوا এবং كِفَاءً এবং সম অর্থবোধক শব্দ।
পরিচ্ছেদ নাই
হাদিস নং ৪৬১৬সহিহ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمٍ، وَعَبْدَةَ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، قَالَ سَأَلْتُ أُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ عَنِ الْمُعَوِّذَتَيْنِ، فَقَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ قِيلَ لِي فَقُلْتُ فَنَحْنُ نَقُولُ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
বর্ণনাকারী: যির ইবন হুবায়শ (রহঃ)
সুরা ফালাক
وَقَالَ مُجَاهِدٌ الْفَلَقُ الصُّبْحُ وَ غَاسِقٍ اللَّيْلُ إِذَا وَقَبَ غُرُوبُ الشَّمْسِ يُقَالُ أَبْيَنُ مِنْ فَرَقِ وَفَلَقِ الصُّبْحِ وَقَبَ إِذَا دَخَلَ فِي كُلِّ شَيْءٍ وَأَظْلَمَ
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الْفَلَقُ রাত। غَاسِقٍ সূর্য অস্তমিত হওয়া। আরবীতে فَلَقِ ও فَرَقِ একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাই বলা হয়, أَبْيَنُ مِنْ فَرَقِ وَفَلَقِ الصُّبْحِ ভোরের আলো প্রকাশিত হওয়ার চেয়েও তা স্পষ্ট। وَقَبَ অন্ধকার সব জায়গায় প্রবেশ করে এবং আচ্ছন্ন করে ফেলে।
৪৬১৬। কুতায়রা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... যির ইবনু হুবাইশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উবায় ইবনু কা’বকে مُعَوِّذَتَيْنِ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বললেন, এ বিষয়ে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছেন, আমাকে বলা হয়েছে, তাই আমি বলছি। উবায় ইবনু কা’ব (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন বলেছেন, আমরাও ঠিক তেমনি বলছি।
হাদিস নং ৪৬১৭সহিহ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ أَبِي لُبَابَةَ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، وَحَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنْ زِرٍّ، قَالَ سَأَلْتُ أُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ قُلْتُ يَا أَبَا الْمُنْذِرِ إِنَّ أَخَاكَ ابْنَ مَسْعُودٍ يَقُولُ كَذَا وَكَذَا. فَقَالَ أُبَىٌّ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي قِيلَ لِي. فَقُلْتُ، قَالَ فَنَحْنُ نَقُولُ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
বর্ণনাকারী: যির ইবন হুবায়শ (রহঃ)
সুরা নাস
سُورَةُ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ وَيُذْكَرُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ الْوَسْوَاسِ إِذَا وُلِدَ خَنَسَهُ الشَّيْطَانُ فَإِذَا ذُكِرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ذَهَبَ إِذَا لَمْ يَذْكُرْ اللَّهَ ثَبَتَ عَلَى قَلْبِهِ
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, الْوَسْوَاسِ এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, শিশু ভূমিষ্ঠ হলে শায়ত্বন এসে তাকে স্পর্শ করে। তারপর সেখানে আল্লাহর নাম নিলে শায়ত্বন পালিয়ে যায়। আর আল্লাহর নাম না নিলে সে তার অন্তরে জায়গা করে নেয়।
৪৬১৭। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... যির ইবনু হুবাইশ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উবায় ইবনু কা’ব (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, বললাম, হে আবূল মুনযির! আপনার ভাই ইবনু মাসউদ (রাঃ) তো এ ধরনের কথা বলে থাকেন। তখন উবায় (রাঃ) বললেন, আমি এ বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে বললেন, আমাকে বলা হয়েছে। তাই আমি বেলেছি। উবায় ইবনু কা’ব (রাঃ) বলেন, সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন আমরাও তাই বলি।
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
৪১৯৬। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ সুফিয়ান আমাকে সামনাসামনি হাদীস শুনিয়েছেন। আবূ সুফিয়ান বলেন, আমাদের আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদে আমি ভ্রমণে বের হয়ে ছিলাম। আমি তখন সিরিয়ায় অবস্থান করছিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে হিরাক্লিয়াসের নিকট থেকে একখানা পত্র পৌছান। দাহইয়াতুল কালবী এ চিঠিটা বসরাধিপতিকে দিয়েছিলেন। এরপর তিনি হিরাক্লিয়াসের নিকট পৌছিয়ে দিলেন। পত্র পেয়ে হিরাক্লিয়াস নবীর দাবিদার ব্যাক্তির গোত্রস্থি কেউ এখানে আছে কিনা জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বলল, হ্যাঁ আছে। কয়েকজন কুরাইশীসহ আমাকে ডাকা হলে আমরা হিরাক্লিয়াসের নিকট গেলাম এবং আমাদেরকে তাঁর সম্মুখে বসালেন। এরপর তিনি বললেন, নবীর দাবিদার ব্যাক্তির তোমাদের মধ্যে নিকটতম আত্মীয় কে? আবূ সুফিয়ান বললেন, উত্তরে বললাম আমিই।
তারা আমাকে তাদের সম্মুখে এবং আমার সাথীদেরকে আমার পিছনে বসালেন। তারপর দোভাষিকে ডাকলেন এবং বললেন, এদেরকে জানিয়ে দাও যে, আমি নবীর দাবিদার ব্যাক্তিটি সম্পর্কে আবূ সুফিয়ানকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে সে যদি আমার নিকট মিথ্যা বলে তোমরা তার মিথ্যাচারিতা ধরিয়ে দিবে। আবূ সুফিয়ান বলেন, যদি তাদের পক্ষ থেকে আমাকে মিথ্যুক প্রমাণের আশংকা না থাকত তাহলে আমি মিথ্যা বলতামই।
সুফিয়ান বললেন, তিনি আমাদের মধ্যে অভিজাত বংশের অধিকারী। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, তাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ কি রাজা-বাদশাহ ছিলেন? আমি বললাম, না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পূর্বে তোমরা তাঁকে কখনো মিথ্যাচারের অপবাদ দিতে পেরেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, সম্ভ্রান্ত ব্যাক্তিবর্গ তাঁর অনুসরণ করছে, না দুর্বলগণ? আমি বললাম, বরং দুর্বলগণ। তিনি বললেন, তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে না হ্রাস পাচ্ছে। আমি বললাম বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বললেন, তাঁর ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর তাঁর প্রতি ভীতশ্রদ্ধ হয়ে কেউ কি ধর্ম ত্যাগ করে? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তোমরা তাঁর বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধ করেছ কি? আমি বললাম, জি হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলাফল কি? আমি বললাম, আমাদের ও তাদের মধ্যে যুদ্ধের ফলাফল হলঃ একবার তিনি জয়ী হন, আর একবার আমরা জয়ী হই।
তিনি বললেন, তিনি প্রতিশ্রতি ভঙ্গ করেন কি? বললাম, না। তবে বর্তমানে আমরা একটি সন্ধির মেয়াদে আছি। দেখি এতে তিনি কি করেন। আবূ সুফিয়ান বলেন, আল্লাহর শপথ এর সাথে আর অতিরিক্ত কিছু বক্তব্য সংযোজন করার সাহস আমার ছিল না। বললেন, তাঁর পূর্বে এমন কেউ কি আর দাবি করেছে? বললাম না। তারপর তিনি তার দোভাষিকে বললেন যে, একে জানিয়ে দাও যে আমি তোমাকে তোমাদের সাথে সে ব্যাক্তির বংশ মর্যাদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তারপর তুমি বলেছ যে, সে আমাদের মধ্যে কুলীন। তদ্রুপ রাসূলগণ শ্রেষ্ঠ বংশেই জন্মগ্রহণ করে থাকেন।
আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে তাঁর পূর্বপুরুষের কেউ রাজা-বাদশাহ ছিলেন কিনা? তুমি বলেছ, না। তাই আমি বলছি যে, যদি তাঁর পূর্বপুরুষের কেউ রাজা-বাদশাহ থাকতেন তাহলে বলতাম তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের রাজত্ব পুনরুদ্ধার করতে চাচ্ছেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, দুর্বলগণ তাঁর অনুসারী না সম্ভ্রান্তগণ? তুমি বলেছ দুর্বলগণই। আমি বলেছি যে যুগে যুগে দুর্বলগণই রাসূলদের অনুসারী হয়ে থাকি। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, এ দাবির পূর্বে তোমরা তাঁকে কখনো মিথ্যাচারের অপবাদ দিয়েছিলে কি? তুমি উত্তরে বলেছ যে, না। তাতে আমি বুঝেছি যে, যে ব্যাক্তি প্রথমে মানুষদের সাথে মিথ্যাচার ত্যাগ করেন, তারপর আল্লাহর সাথে মিথ্যাচারিতা করবেন, তা হতে পারে না। আমি তোমাদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, তাঁর ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর তাঁর প্রতি বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট হয়ে কেউ ধর্ম ত্যাগ করে কিনা? তুমি বলেছ, না।
আমি বলেছি, ঈমান যখন অন্তরের অন্তস্থলে একবার প্রবিষ্ট হয় তখন এ রকমই হয়। আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাঁর অনুসারীরা বৃদ্ধি পাচ্ছে না হ্রাস পাচ্ছে? তুমি বলেছ, ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি বলেছি, ঈমান পূর্ণতা লাভ করলে এ অবস্থাই হয়। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, তাঁর বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ করেছ কি? তুমি বলেছ যে, যুদ্ধ করেছ এবং তার ফলাফল হচ্ছে পানি উত্তোলনের বালতির ন্যায়। কখনো তোমাদের বিরুদ্ধে তারা জয়লাভ করে আবার কখনো তাদের বিরুদ্ধে তোমরা জয়লাভ কর। এমনিভাবেই রাসূলদের পরীক্ষা করা হয়, তারপর চুড়ান্ত বিজয় তাদের পক্ষেই হয়ে থাকে। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেন কিনা? তুমি বলেছ না। তদ্রুপ রাসূলগণ প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেন না।
আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাঁর পূর্বে কেউ এ দাবি উত্থাপন করেছিল কিনা? তুমি বলেছ, না। আমি বলি যদি কেউ তাঁর পূর্বে এ ধরণের দাবি করে থাকত তাহলে আমি মনে করতাম এ ব্যাক্তি পূর্ববর্তী দাবির অনুসরণ করছে। আবূ সুফিয়ান বলেন, তারপর হিরাক্লিয়াস জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি তোমাদের কি কাজের নির্দেশ দেন? আমি বললাম, সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করতে, যাকাত প্রদান করতে, আত্মীয়তা রক্ষা করতে এবং পাপচারিতা থেকে পবিত্র থাকার নির্দেশ দেন। হিরাক্লিয়াস বললেন, তাঁর সম্পর্কে তোমার বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে তিনি ঠিকই নবী, তিনি আবির্ভূত হবেন তা আমি জানতাম বটে তবে তোমাদের মধ্যে আবির্ভূত হবেন তা মনে করিনি। যদি আমি তাঁর সান্নিধ্যে পৌছাবার সুযোগ পেতাম তাহলে আমি তাঁর সাক্ষাতকে অগ্রাধিকার দিতাম। যদি আমি তাঁর নিকট অবস্থান করতাম তাহলে আমি তাঁর পদযুগল ধুইয়ে দিতাম। আমার নিচের জমীন পর্যন্ত তাঁর রাজত্ব বিস্তৃত লাভ করবে।
আবূ সুফিয়ান বলেন, তারপর হিরাক্লিয়াস রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্রখানি আনতে বললেন। এরূপ পাঠ করতে বললেন। চিঠির বক্তব্য এইঃ
দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে, আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে রোমের অধিপতি হিরাক্লিয়াসের প্রতি। হেদায়েতের অনুসারীর প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। এরপর আমি আপনাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি, ইসলাম গ্রহণ করুন, মুক্তি পাবেন। ইসলাম গ্রহণ করুন, আল্লাহ তাআলা আপনাকে দ্বিগুন প্রতিদান দেবেন। আর যদি মুখ ফিরিয়ে থাকেন তাহলে সকল প্রজার পাপরাশিও আপনার উপর নিপতিত হবে। হে কিতাবিগণ! এসো সে কথায়, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবো না, কোন কিছুতেই তাঁর সাথে শরীক না করি। আর আমাদের একে অন্যকে আল্লাহ ব্যতীত প্রতিপালকরূপে গ্রহণ না করি। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বল, তোমরা সাক্ষী থাক, আমরা মুসলিম।
যখন তিনি পত্র পাঠ সমাপ্ত করলেন চতুর্দিকে উচ্চ রব উঠল এবং গুঞ্জন বৃদ্ধি পেল। তারপর তাঁর নির্দেশে আমাদের বাইরে নিয়ে আসা হল। আবূ সুফিয়ান বলেন, আমরা বেরিয়ে আসার পর আমি আমার সাথীদের বললা যে, আবূ কাবশার সন্তানের ব্যাপারে তো বিস্তর প্রভাব লাভ করেছে। রোমীয় রাষ্ট্র নায়ক পর্যন্ত তাকে ভয় পায়। তখন থেকে আমার মনে এ দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছিল যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দ্বীন অতি সত্বর বিজয় লাভ করবে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা আমাকে ইসলামে দীক্ষিত করলেন।
ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেন, তারপর হিরাক্লিয়াস রোমের নেতৃবৃন্দকে ডেকে একটি কক্ষে একত্রিত করলেন এবং বললেন, হে রোমকগণ! তোমরা কি আজীবন সৎপথ ও সফলতার প্রত্যাশী এবং তোমাদের রাজত্ব অটুট থাকুক? এতে তারা তার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে বন্য-গর্দভের ন্যায় পলায়নরত হল। কিন্তু দরজা গুলো সবই বন্ধ পেল। এরপর বাদশাহ নির্দেশ দিলেন যে, তাদের সবাইকে আমার নিকট নিয়ে এসো। তিনি তাদের সবাইকে ডাকলেন এবং বললেন, তোমাদের ধর্মের উপর তোমাদের আস্থা কতটুকু আছে তা আমি পরীক্ষা করলাম। আমি যা আশা করেছিলাম তা তোমাদের থেকে পেয়েছি। অনন্তর সবাই তাঁকে জিজ্ঞাসা করল এবং তার উপর সন্তুষ্ট থাকল।
বর্ণনাকারী: উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)
৪২১০। আবূল ইয়ামান (রহঃ) ... উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাধার পিঠে আরোহন করেছিলেন, একটি ফদকী চাঁদর তাঁর পরনে ছিল। উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) কে তাঁর পেছনে বসিয়েছিলেন। তিনি বনী হারিস ইবনু খাযরায গোত্রে অসুস্থ সা’দ ইবনু উবায়দা (রাঃ) কে দেখতে যাচ্ছিলেন। এটা ছিল বদর যুদ্ধের পূর্বেকার ঘটনা। বর্ণনাকারী বলেন যে, যেতে যেতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি মজলিশের সামনে গিয়ে পৌছলেন, যেখানে আবদুল্লাহ ইবনু উবায় বিন সালুলও ছিল, সে তখনও ইসলাম গ্রহণ করেনি। সে মজলিসে মুসলিম, মুশরিক, প্রতিমা পূজারী এবং ইহুদী সকল প্রকারের লোক ছিল এবং তথায় আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-ও ছিলেন। জন্তুর পদধূলি যখন মজলিস ছেয়ে ফেলল, তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবায় আপন চাঁদরে নাক ঢেকে ফেলল। তারপর বলল, আমাদের এখানে ধুলো উড়িয়ো না।
এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদরকে সালাম করলেন। তারপর বাহন থেকে অবতরণ করলেন এবং তাদেরকে আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দিলেন এবং তাদেরকে কুরআন মজীদ পাঠ করলেন। আবদুল্লাহ ইবনু উবায় বলল, এই লোকটি! তুমি যা বলছ তা যদি সত্যি হয় তাহলে এর চেয়ে উত্তম কিছুই নেই। তবে আমাদের মজলিসে আমাদেরকে জ্বালাতন করবে না। তুমি তোমার তাবুতে যাও। যে তোমার কাছে যাবে তুমি তাকে তোমার কথা বলবে। অনন্তর আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের মজলিসে এগুলো আমাদের কাছে বলবেন, কারণ আমরা তা পছন্দ করি। এতে মুসলিম, মুশরিক এবং ইহুদীরা পরস্পর গালাগালি শুরু করল। এমনকি তারা মারামারিতে লিপ্ত হওয়ার উপক্রম হল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে থামাচ্ছিলেন। অবশেষে তারা থামলো।
এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্তুর পিঠে আরোহণ করে রওয়ানা দিলেন এবং সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ) এর কাছে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, হে সা’দ! আবূ হুবাব অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনু উবায় কি বলেছে, তুমি শুনেছ কি! সে এমন বলেছে। সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাকে ক্ষমা করে দিন। তার দিকে ভ্রক্ষেপ করবেন না। যিনি আপনার উপর কিতাব নাযিল করেছেন, তাঁর শপথ করে বলছি, আল্লাহ আপনার উপর যা নাযিল করেছেন তা সত্য। এতদঞ্চলের অধিবাসীগণ চুক্তি সম্পাদন করেছিল যে, তাকে শাহী টুপি পরাবে এবং নেতৃত্বের শিরস্ত্রানে ভুষিত করবে। যখন আল্লাহ তাআলা সত্য প্রদানের মাধ্যমে এ পরিকল্পনা অস্বীকার করলেন তখন সে ক্রদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং আপনার সাথে যে ব্যবহার করেছে যা আপনি দেখেছেন।
এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ক্ষমা করে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাঃ) মুশরিক এবং কিতাবীদেরতে ক্ষমা করে দিতেন এবং তাদের জ্বালাতনে ধৈর্যধারণ করতেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ’’তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের এবং মুশরিকদের নিকট থেকে তোমরা অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে (৩ঃ ১৮৬)। আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন, ’’তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পরও কিতাবীদরে মধ্যে অনেকই তোমাদের ঈমান আনার পর ঈর্ষামূলক মনোভাববশত আবার তোমাদেরকে সত্য প্রত্যাখানকারীরূপে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্খা করে। তোমরা ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা কর, যতক্ষণ না আল্লাহ কোন নির্দেশ দেন। আল্লাহর সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।’’ (২: ১০৯)
আল্লাহ তাআলার নির্দেশ মোতাবেক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করতেন। শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা অনুমতি দিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বদরের যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন এবং তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা কাফের কুরাইশ নেতাদেরকে হত্যা করলেন তখন ইবনু উবায় ইবনু সালুল তার সঙ্গী মুশরিক ও প্রতিমা পূজারীরা বলল, এটাতো এমন একটি ব্যাপার যা বিজয় লাভ করেছে। এরপর তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ইসলামের বায়আত করে জাহেরীভাবে ইসলাম গ্রহণ করল।
বর্ণনাকারী: আবদুর রহমান ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কা‘ব (রহঃ)
৪৩২০ মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কা’আব ইবনু মালিক (রাঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আমার পিতা কা’আব মালিক (রাঃ) থেকে শুনেছি, যে তিনজনের তওবা কবূল হয়েছিল, তার মধ্যে তিনি একজন। তিনি বদরের যুদ্ধ ও তাবুকের যুদ্ধ এ দুটি ছাড়া অন্য কোন যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পশ্চাতে থাকেন নি। কা’আব ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক যুদ্ধ হতে সূর্যোদয়ের সময় মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে আমি (মিথ্যা আযুহাতের পরিবর্তে) সত্যপ্রকাশের দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করলাম।
তিনি [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যে কোন সফর হতে সাধারণত সূর্যোদয়ের সময়ই ফিরে আসতেন। এবং সর্বপ্রথম মসজিদে গিয়ে দু’রাকাআত নফল সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। (তাবুকের যুদ্ধ থেকে এসে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে এবং আমার সঙ্গীদের সাথে কথা বলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন, অথচ আমাদের ছাড়া অন্য যারা যুদ্ধে যাওয়া থেকে বিরত ছিল, তাদের সাথে কথা বলায় কোন প্রকার বাধা প্রদান করলেন না। সুতরাং লোকেরা আমাদের সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে লাগলেন।
এভাবে চিন্তার বিষয় এ ছিল যে যদি এ অবস্থায় আমার মৃত্যু এসে যায়, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় না করেন, অথবা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাত হলে আমি মানুষের কাছে এই অবস্থায় থেকে যাব তারা কেউ আমার সাথে কথাও বলবে না, আর আমার জানোযার সালাত (নামায/নামাজ)ও আদায় করবে না। এরপর (পঞ্চাশ দিন পর) আল্লাহ তা’আলা আমার তওবা কবূল করে তাঁর [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর প্রতি আয়াত অবতীর্ণ করেন। তখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকী ছিল। সে রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সালমা (রাঃ) এর কাছে ছিলেন, উম্মে সালমা (রাঃ) আমার প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল ছিলেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উম্মে সালমা! কা’আবের তওবা কবূল করা হয়েছে। উমম সালমা (রাঃ) বললেন, তাকে সুসংবাদ দেয়ার জন্য কাউকে তাঁর কাছে পাঠাবো? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এখন খবর পেলে সব লোক এসে সমবেত হবে। তারা তোমাদের ঘুম নষ্ট করে দিবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের পর (সকলের মধ্যে) আমাদের তওবা কবূল হওয়ার কথা ঘোষণা করে দিলেন। এ (ঘোষণার) সময় (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা মুবারক খুশীতে চাঁদের ন্যায় চমকাচ্ছিল। যেসব মুনাফিক মিথ্যা আযুহাত দেখিয়ে [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসন্তুষ্টি থেকে] রেহাই পেয়েছিল, তাদের চেয়ে তওবা কবূলের ব্যপারে আমরা তিনজন পিছনে পড়ে গিয়েছিলাম, এরপর আল্লাহ তা’আলা আমাদের তওবা কবূল করে আয়াত অবতীর্ণ করেন।
(তাবুকের যুদ্ধে) অনুপস্থিতিদের মধ্যে যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে মিথ্যা কথা বলেছে এবং যারা মিথ্যা আযুহাত দেখিয়েছে তাদের অত্যন্ত জঘন্যভাবে নিন্দাবাদ করা হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ’’তোমরা তাদের কাছে ফিরে আসলে তারা তোমাদের কাছে আযুহাত পেশ করবে, বল, মিথ্যা অযুহাত পেশ করো না, আমরা তোমাদেরকে কখনোই বিশ্বাস করবো না। আল্লাহ আমাদেরকে তোমাদের খবর জানিয়ে দিয়েছেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করবেন। (৯ঃ ৯৪)
বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)
৪৩২২। আবূল ইয়ামান (রহঃ) ... যায়েদ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি ওহী লেখকদের মধ্যে একজন ছিলেন, তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) (তার খিলাফতের সময়) এক ব্যাক্তিকে আমার কাছে পাঠালেন। এ সময় ইয়ামামার যুদ্ধ চলছিল। (আমি তার কাছে চলে আসলাম) তখন তাঁর কাছে উমর (রাঃ) বসা ছিলেন। তিনি [আবূ বকর (রাঃ) আমাকে] বললেন, উমর (রাঃ) আমার কাছে এসে বললেন যে, ইয়ামামার যুদ্ধ তীব্র গতিতে চলছে, আমার ভয় হচ্ছে, কুরআনের অভিজ্ঞগণ (হাফিজগণ) ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হয়ে যান নাকি! যদি আপনার তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করেন তবে কুরআনের অনেক অংশ বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং কুরআনকে একত্রিত করে সংরক্ষণ করা ভাল মনে করি। আবূ বকর (রাঃ) বলেন, আমি উমর (রাঃ) কে বললাম, আমি এ কাজ কিভাবে করতে পারি, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে যাননি।
কিন্তু উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এটা কল্যাণকর হবে। উমর (রাঃ) তাঁর এ কথার পুনরুক্তি করতে থাকেন, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা এ কাজ করবার জন্য আমার বক্ষকে উন্মুক্ত করে দেন। (অর্থাৎ এ প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে সক্ষম হই) এবং শেষ পর্যন্ত (এ ব্যাপারে) আমার অভিমত উমর (রাঃ) এর মতই হয়ে যায়। যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) বলেন, উমর (রাঃ) সেখানে নিরবে বসা ছিলেন, কোন কথা বলছিলেন না। এরপর আবূ বকর (রাঃ) আমাকে বললেন, দেখ, তুমি যুবক এবং জ্ঞানী ব্যাক্তি। আমরা তোমার প্রতি কোনরূপ বিরূপ ধারণা পোষণ করি না। কেননা, তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে ওহী লিপিবদ্ধ করতে। সুতরাং তুমি কুরআনের আয়াত সংগ্রহ করে একত্রিত কর। কসম! তিনি কুরআন একত্রিত করার যে নির্দেশ আমাকে দিলেন সেটি আমার কাছে এত ভারী মনে হল যে, তিনি যদি কোন একটি পাহাড় স্থানান্তরিত করতে নির্দেশ দিতেন তাও আমার কাছে এরূপ ভারী মনে হতো না।
আমি বললাম, যে কাজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে যাননি, সে কাজটি আপনারা কিভাবে করবেন? এরপর আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এ কাজ করাটাই কল্যাণকর হবে। এরপর আমিও আমার কথায় অটল থেকে বারবার জোর দিতে লাগলাম। পরিশেষে আল্লাহ যেটা উপলব্ধি করার জন্য আবু বকর ও উমর (রাঃ) এর বক্ষকে উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, আমার বক্ষকেও তা উপলব্ধি করার জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন (অর্থাৎ এর প্রয়োজনীয়তা তাদের ন্যায় আমিও অনুভব করলাম)। এরপর আমি কুরআন সংগ্রহে লেগে গেলাম এবং হাড়, চামড়া, খেজুর ডালে ও বাকলে এবং মানুষের বক্ষস্থল (অর্থাৎ মানুষের কাছে যা মুখস্ত ছিল। থেকে তা সংগ্রহ করলাম।
পরিশেষে খুযায়মা আনসারীর কাছে সূরায়ে তওবার দু’টি আয়াত (লিখিত) পেয়ে গেলাম, যা অন্য কারো কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারিনি। (যে আয়াতদ্বয়ের একটি হল) ’লাকাদ জা আকুম’’ থেকে শেষ পর্যন্ত। এরপর এ জমাকৃত কুরআন আবূ বকর (রাঃ)-এর ইন্তিকাল পর্যন্ত তাঁর কাছেই জমা ছিল তারপর উমর (রাঃ) এর কাছে এলো। তার ইন্তিকাল পর্যন্ত তার কাছেই এটি জমা ছিল। তারপর এটি হাফসা বিনত উমর (রাঃ) এর কাছে এলো।
উসমান এবং লায়স (রহঃ) خُزَيْمَةَ শব্দের বর্ণণায় শু’আয়ব এর অনুসরণ করেছেন। অন্য এক সনদেও ইবনু শিহাব থেকে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তাতে খুযায়মার স্থলে আবূ খুযায়মা আনসারী বলা হয়েছে। মূসা এর সনদেعَنْ ابْنُ شِهَابٍ এর স্থলেحَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ এবং আবু খুযায়মা আনসারী বলা হয়েছে। ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীমের অনুসরণ করেছেন।
অন্য এক সনদে সাবিত (রহঃ) এরعَنْ إِبْرَاهِيمَ এর পরিবর্তেحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ বলেছেন এবং খুযায়মা অথবা আবূ খুযয়মা নিয়ে সন্দেহ আছে।
আয়াতটির অর্থঃ ’’এরপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বলে দিও, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আমি তারই উপর নির্ভর করি এবং তিনি মহা ’আরশের অধিপতি।’’ (৯ঃ ১২৯)
* রাসুলুল্লাহ (সা.) এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) এর বিরুদ্ধে অপবাদ রটনাকারী যে অপবাদ রটিয়েছিল এবং আল্লাহ যে তাকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন সে সম্পর্কিত হাদিস।
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
[৩] বার্ধক্যজনিত জরা।
সালাতের শেষভাগে তিনি এই দুয়া করতেন [সালাম ফেরানোর আগে]
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
৪৩৫৭। মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে মাংস আনা হল এবং তাকে সামনের রান পরিবেশন করা হল। তিনি এটা পছন্দ করতেন। তিনি তার থেকে কামড় দিয়ে খেলেন। এরপর বললেন, আমি হব কিয়ামতের দিন মানবকুলের সরদার। তোমাদের কি জানা আছে তা কেন? কিয়ামতের দিন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষ এমন এক ময়দানে সমবেত হবে, যেখানে একজন আহ্বানকারীর আহবান সকলে শুনতে পাবে। এবং সকলেই একসঙ্গে দৃষ্টিগোচর হবে। সূর্য নিকটে এসে যাবে। মানুষ এমনি কষ্ট ক্লেশের সম্মুখিন হবে যা অসহনীয় ও অসহ্যকর হয়ে পড়বে। তখন লোকেরা বলবে, তোমরা কি বিপদের সম্মুখীন হয়েছ তা কি দেখতে পাচ্ছনা? তোমরা কি এমন কাউকে খুঁজে বের করবেনা যিনি তোমাদের রবের কাছে তোমাদের জন্য সুপারিশকারি হবেন?
কেউ কেউ অন্যদের বলবে যে, আদমের কাছে চল। তখন সকলে তার কাছে এসে তাকে বলবে, আপনি আবূল বাশার। আল্লাহ তা’আলা আপনাকে স্বীয় হাত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তার রুহ আপনার মধ্যে ফুঁকে দিয়েছেন, এবং ফেরেশতাদের নির্দেশ দিলে তারা আপনাকে সিজদা করেন। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি? আপনি কি দেখছেন না যে আমরা কি অবস্থায় পৌঁছেছি? তখন আদম (আলাইহিস সালাম) বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগে কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হননি আর পরেও এরুপ রাগান্বিত হবেন না। তিনি আমাকে একটি বৃক্ষের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু আমি অমান্য করেছি। নফসি, নফসি, নফসি (আমি নিজেই সুপারিশ প্রার্থী ), তোমরা অন্যের কাছে যাও। তোমরা নূহ (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও।
তখন সকলে নূহ (আলাইহিস সালাম) এর কাছে এসে বলবে, হে নূহ (আলাইহিস সালাম)! নিশ্চয়ই আপনি পৃথিবীর মানুষের প্রতি প্রথম রাসুল। আর আল্লাহ তা’আলা আপনাকে পরম কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে অভিহিত করেছেন। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগে কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হন নি আর পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। আমার একটি গ্রহণীয় দোয়া ছিল যা আমি আমার কওমের ব্যপারে করে ফেলেছি। (এখন) নফসি, নফসি, নফসি। তোমরা অন্যের কাছে যাও। যাও তোমরা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এর কাছে।
তখন তারা ইব্রাহিম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এসে বলবে, হে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)! আপনি আল্লাহর নবী এবং পৃথিবীর মানুষের মধ্যে আপনি আল্লাহর বন্ধু। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগে কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হন নি আর পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমিতো তিনটি মিথ্যা বলে ফেলেছিলাম। রাবি আবূ হাইয়ান তার বর্ণনায় এগুলোর উল্লেখ করেছেন। (এখন) নফসি, নফসি, নফসি। তোমরা অন্যের কাছে যাও। যাও তোমরা মূসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে।
তারা মূসা'র কাছে এসে বলবে, হে মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি আল্লাহর রাসুল। আল্লাহ আপনাকে রিসালাত এর সম্মান দান করেন এবং আপনার সাথে কথা বলে সমগ্র মানব জাতির উপর মর্যাদা দান করেছেন। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগে কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হন নি আর পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমিতো এক ব্যাক্তিকে হত্যা করে ফেলেছিলাম। যাকে হত্যা করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়নি। (এখন) নফসি, নফসি, নফসি। তোমরা অন্যের কাছে যাও। যাও তোমরা ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে।
তারা ঈসার কাছে এসে বলবে, হে ঈসা (আলাইহিস সালাম)! আপনি আল্লাহর রাসুল এবং কালেমা যা তিনি মরিয়ম (আলাইহিস সালাম) এর উপর ঢেলে দিয়েছিলেন। আপনি রূহ আপনি দোলনায় থেকে মানুষের সাথে কথা বলেছেন। আজ আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগে কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হন নি আর পরেও এরুপ রাগান্বিত হবেন না। তিনি নিজের কোন গুনাহের কথা বলবেন না। নফসি, নফসি, নফসি। তোমরা অন্যের কাছে যাও। যাও তোমরা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে। তারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এসে বলবে, হে মুহাম্মদ! আপনি আল্লাহর রাসুল শেষ নবী। আল্লাহ তা’আলা আপনার আগের, পরের সব গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি?
তখন আমি আরশের নীচে এসে আমার রবের সামনে সিজদা দিয়ে পড়ব। তারপর আল্লাহ তা’আলা তার প্রশংসা এবং গুণগানের এমন সুন্দর পদ্ধতি আমার সামনে খুলে দিবেন যা এর আগে অন্য কারও জন্য খুলেন নি। এরপর বলা হবে, হে মুহাম্মদ! তোমার মাথা উঠাও। তুমি যা চাও তোমাকে দেওয়া হবে। তুমি সুপারিশ কর, তোমার সুপারিশ কবুল করা হবে। এরপর আমি মাথা উঠিয়ে বলব, “হে আমার রব! আমার উম্মত! হে আমার রব! আমার উম্মত! হে আমার রব! আমার উম্মত! তখন বলা হবে, হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতের মধ্যে যাদের কোন হিসাব নিকাশ হবে না, তাদেরকে জান্নাতের দরজাসমূহের ডান পাশের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন। এ দরজা ছাড়া অন্যদের সাথে অন্য দরজায় ও তাদের প্রবেশের অধিকার থাকবে। তারপর তিনি বলবেন, যার হাতে আমার প্রান সে সত্তার শপথ! বেহেশতের এক দরজার দুই পাশের মধ্যবর্তী প্রশস্ততা যেমন মক্কা ও হামিরের মধ্যবর্তী দূরত্ব, অথবা মক্কা ও বসরার মাঝখানের দূরত্ব।
বর্ণনাকারী: সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ)
৪৩৭০। হুমায়দি (রহঃ) ... সাইদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস কে বললাম, নওফাল বাককালীর ধারনা, খিযিরের সাথী – মূসা, তিনি বনী ইসরাইলের নবী মূসা ছিলেন না। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর দুশমন* মিথ্যা কথা বলেছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন) উবায় ইবনু কা’আব (রাঃ) আমাকে বলেছেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, মূসা (আলাইহিস সালাম) একদা বনী ইসরাইলের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হল, কোন ব্যাক্তি সবচে অধিক জ্ঞানী? তিনি বললেন, আমি। এতে আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা এ জ্ঞানের কথাটিকে তিনি আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করেননি। আল্লাহ তার প্রতি ওহী পাঠালেন, দু সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে আমার এক বান্দা রয়েছে। সে তোমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী।
মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, ইয়া রব! আমি কিভাবে তার সাক্ষাৎ পেতে পারি? আল্লাহ বললেন, তোমার সাথে একটি মাছ নাও এবং সেটা থলের মধ্যে রাখ। যেখানে মাছটি হারিয়ে যাবে সেখানেই। তারপর তিনি একটি মাছ নিলেন এবং সেটাকে থলের মধ্যে রাখলেন। অতঃপর রওনা দিলেন। আর সঙ্গে চললেন তাঁর খাদেম ’য়ূশা’ ইবনু নুন। তারা যখন সমুদ্রের তীরে একটি বিরাট পাথরের কাছে এসে পৌঁছলেন, তখন তারা উভয়ই তার উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। এ সময় মাছটি থলের মধ্যে লাফিয়ে উঠল এবং থলে থেকে বের হয়ে সমুদ্রে পড়ে গেল। “মাছটি সুড়ঙ্গের মত পথ করে সমুদ্রে নেমে গেল”। আর মাছটি যেখান দিয়ে চলে গিয়েছিল, আল্লাহ সেখানে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দিলেন। এবং সেখানে একটি সুড়ঙ্গের মত হয়ে গেল। যখন তিনি জাগলেন, তার সাথী তাকে মাছটির সংবাদ দিতে ভুলে গিয়েছিলেন। সেদিনের বাকি সময় ও পরবর্তী রাত তারা চললেন।
যখন ভোর হল, মূসা (আলাইহিস সালাম) তার খাদেমকে বললেন, ’আমাদের প্রাতঃরাশ আন, আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ যে স্থানের নির্দেশ করেছিলেন, সে স্থান অতিক্রম করার পূর্বে মূসা (আলাইহিস সালাম) ক্লান্তি অনুভব করেননি। তখন তার খাদিম তাকে বলল, ’আপনি কি লক্ষ্য করেছেন আমরা যখন শিলা খণ্ডে বিশ্রাম করছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। শয়তানই এ কথা বলতে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। মাছটি আশ্চর্যজনকভাবে নিজের পথ করে নেমে গেল সমুদ্রে’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাছটি তার পথ করে সমুদ্রে নেমে গিয়েছিল এবং মূসা (আলাইহিস সালাম) ও তার খাদেম কে তা আশ্চর্যান্বিত করে দিয়েছিল। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমরা তো সে স্থানটিরই অনুসন্ধান করছিলাম।
তারপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চলল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারা উভয়ে তাদের পদচিহ্ন অনুসরন করে সে শিলাখন্ডের কাছে ফিরে আসলেন। সেখানে এসে এক ব্যাক্তিকে কাপড় জড়ানো অবস্থায় পেলেন। মূসা(আলাইহিস সালাম) তাকে সালাম দিলেন। খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, তোমাদের এ স্থলে সালাম কোত্থেকে? তিনি বললেন, আমি মূসা। খিযির জিজ্ঞেশ করলেন, বনী ইসরাইলের মূসা? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি আপনার কাছে এসেছি এ জন্য যে, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা থেকে আমাকে শিক্ষা দিবেন। তিনি বললেন, তুমি কিছুতেই আমার সাথে ধৈর্য ধারন করে থাকতে পারবে না, হে মূসা! আল্লাহর জ্ঞান থেকে আমাকে এমন কিছু জ্ঞান দান করা হয়েছে যা তুমি জাননা আর তোমাকে আল্লাহ তাঁর জ্ঞান থেকে যে জ্ঞান দান করেছেন তা আমি জানিনা।
মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আল্লাহ চাহেতো, আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। এবং আপনার কোন আদেশ আমি অমান্য করবনা। তখন খিযির (আলাইহিস সালাম) তাকে বললেন, আচ্ছা তুমি যদি আমার অনুসরন করই, তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবে না, যতক্ষণ আমি তোমাকে সে সম্পর্কে না বলি।
তারপর উভয়ে চললেন। তারা সমুদ্রের তীর ধরে চলতে লাগলেন। তখন একটি নৌকা যাচ্ছিল। তারা তাদের নৌকায় উঠিয়ে নেওয়ার ব্যপারে নৌকার চালকদের সাথে আলাপ করলেন। তারা খিযির (আলাইহিস সালাম) কে চিনে ফেলল। তাই তাদেরকে বিনা পারিশ্রমিকে নৌকায় উঠিয়ে নিল। “যখন তারা উভয়ে নৌকায় আরোহণ করলেন” খিযির (আলাইহিস সালাম) কুড়াল দিয়ে নৌকার একটি তক্তা বিদীর্ণ করলেন। (এ দেখে) মূসা (আলাইহিস সালাম) তাকে বললেন, এ লোকেরা তো বিনা পারিশ্রমিকে আমাদের বহন করছে, অথচ আপনি এদের নৌকাটি বিনষ্ট করতে চাইছেন? “আপনি নৌকাটি বিদীর্ণ করে ফেললেন, যাতে আরোহীরা ডুবে যায়। আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন। আমি কি বলিনি যে তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্য ধারন করতে পারবেনা? মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমার ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না ও আমার ব্যপারে অত্যধিক কঠোরতা আবিলম্ব করবেন না’।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মূসা (আলাইহিস সালাম) এর প্রথমবারের এই অপরাধটি ভুলবশত হয়েছিল। তিনি বললেন, এরপরে একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকার পাশে বসে ঠোঁট দিয়ে সমুদ্রে এক ঠোকর মারল। খিযির (আলাইহিস সালাম) মূসা (আলাইহিস সালাম) কে বললেন, এ সমুদ্র হতে পাখিটি যতটুকু পানি ঠোঁটে নিল, আমার ও তোমার জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় ততটুকু। তারপর তারা নৌকা থেকে অবতরন করে সমুদ্রের তীর ধরে চলতে লাগলেন। এমন সময় খিযির (আলাইহিস সালাম) একটি বালককে অন্য বালকদের সাথে খেলতে দেখলেন। খিযির (আলাইহিস সালাম) হাত দিয়ে ছেলেটির মাথা ধরে তাকে হত্যা করলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) খিযির (আলাইহিস সালাম) কে বললেন, “আপনি কি জানের বদলা ছাড়াই এক নিষ্পাপ জীবনকে হত্যা করলেন? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন। তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবেনা? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এ অভিযোগ করাটা ছিল প্রথমটির চাইতেও গুরুতর। (মূসা(আলাইহিস সালাম) বললেন) এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করি তাহলে আপনি আমাকে সঙ্গে রাখবেন না। আপনার কাছে আমার ওজর আপত্তি চূড়ান্তে পৌঁছে গিয়েছে।
তারপর উভয়ে চলতে লাগলেন। অবশেষে তারা এক জনপদের কাছে পৌঁছে তার অধিবাসীদের কাছে খাদ্য চাইলেন। কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। তারপর তথায় তারা এক পতনম্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলেন। বর্ণনাকারী বলেন, সেটি ঝুঁকে পড়েছিল। খিযির (আলাইহিস সালাম) নিজ হাতে সেটি সোজা করে দিলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, এ লোকদের কাছে আমরা এলাম। তারা আমাদের খাবার দিলনা এবং আমাদের মেহমানদারীও করলনা। “আপনি তো ইচ্ছা করলে এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহন করতে পারতেন”। তিনি বললেন, এখানেই তোমার এবং আমার মধ্যে পার্থক্য ঘটল। যে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধারন করতে পারনি, এ তার ব্যাখ্যা”।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার মনোবাঞ্ছা হচ্ছে যে, যদি মূসা (আলাইহিস সালাম) আর একটু ধৈর্য ধারন করতেন, তাহলে আল্লাহ তাদের আরও ঘটনা আমাদের জানাতেন। সাইদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) এভাবে এ আয়াত পাঠ করতেন - নিচের আয়াতটি এভাবে পাঠ করলেন وَكَانَ أَمَامَهُمْ مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ صَالِحَةٍ غَصْبًا، وَكَانَ يَقْرَأُ وَأَمَّا الْغُلاَمُ فَكَانَ كَافِرًا وَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ
তাহকীক ও ব্যাখ্যা দেখুন
* নওফাল বাককালি একজন মুসলিম। ইবনু আব্বাস তাকে আল্লাহর দুশমন বলেছেন রাগান্বিত অবস্থায়।
বর্ণনাকারী: সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ)
৪৩৭১। ইব্রাহিম ইবনু মূসা (রহঃ) ... সাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে তার ঘরে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, ইচ্ছা করলে আমার কাছে প্রশ্ন কর। আমি বললাম, হে আবূ আব্বাস! আল্লাহ আমাকে আপনার উপর উৎসর্গ করুন। কুফায় নওফ নামে একজন বক্তা আছে। সে বলছে যে, (খিযির (আলাইহিস সালাম) এর সাথে যে মূসার সাক্ষাৎ হয়েছিল তিনি বনী ইসরাইলের প্রতি প্রেরিত মূসা(আলাইহিস সালাম) নন। তবে, আমর ইবনু দিনার আমাকে বলেছেন যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) এ কথা শুনে বললেন, আল্লাহর দুশমন মিথ্যা বলেছে। কিন্তু ইয়ালা (একজন বর্ণনাকারী) আমাকে বলেছেন যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) একথা শুনে বললেন, উবায় ইবনু কা’আব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর রাসুল মূসা (আলাইহিস সালাম) একদিন লোকদের সামনে ওয়াজ করছিলেন। অবশেষে যখন তাদের চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল এবং তাদের অন্তর বিগলিত হল, তখন তিনি (ওয়াজ সমাপ্ত করে) ফিরলেন।
এক ব্যাক্তি তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল! এ পৃথিবীতে আপনার চাইতে অধিক জ্ঞানী আর কেউ আছে? তিনি বললেন, না। এতে আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা তিনি এ কথাটি আল্লাহর উপর হাওয়ালা করেননি। তখন তাকে বলা হল, নিশ্চই আছে। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, হে রব! তিনি কোথায়? আল্লাহ বললেন, তিনি দুসমুদ্রের সঙ্গমস্থলে। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, হে রব! আপনি আমাকে এমন চিহ্ন বলুন, যার সাহায্যে আমি তার পরিচয় লাভ করতে পারি। বর্ণনাকারী ইবনু জুরাইহ বলেন, আমর আমাকে এভাবে বলেছেন যে, তাকে (সেখানে পাবে), যেখানে মাছটি তোমার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আর ইয়ালা আমাকে এভাবে বলেছেন, একটি মৃত মাছ নাও। যেখানে মাছটির মধ্যে প্রান দেওয়া হবে (সেখানেই তাকে পাবে)।
তারপর মূসা (আলাইহিস সালাম) একটি মাছ নিলেন এবং তা থলের মধ্যে রাখলেন। তিনি তার খাদেম কে বললেন, আমি তোমাকে শুধু এ দায়িত্ব দিচ্ছি যে, মাছটি যে স্থানে তোমার থেকে চলে যাবে সে স্থানটির কথা আমাকে বলবে। খাদেম বলল, এ তো বড় দায়িত্ব নয়। এরই বিবরন রয়েছে আল্লাহ তা’আলার এ বাণীতেঃ “আর যখন মূসা বললেন, তার খাদেমকে অর্থাৎ ইউশা ইবনু নুনকে”। সাইদ (বর্ণনাকারী) এর বর্ণনায় নামের উল্লেখ নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তিনি একটি বড় পাথরের ছায়ায় ভিজা মাটির কাছে অবস্থান করছিলেন তখন মাছটি লাফিয়ে উঠল। মূসা (আলাইহিস সালাম) তখন নিদ্রায় ছিলেন। তার খাদেম (মনে মনে) বললেন, তাকে এখন জাগাব না। অবশেষে যখন তিনি জাগালেন, তখন তাকে মাছের খবর বলতে ভুলে গেল। আর মাছটি লাফিয়ে সমুদ্রে ঢুকে পড়ল। আল্লাহ তা’আলা মাছটির চলার পথে পানি বন্ধ করে দিলেন। পরিনামে যেন পাথরের মধ্যে চিহ্ন পড়েছে।
বর্ণনাকারী বলেন, আমর আমাকে বলেছেন যে, যেন পাথরের মধ্যে চিহ্ন এরূপ হয়ে রইল, বলে তিনি তার দুটি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তার পাশের আঙ্গুলগুলো একসাথে মিলিয়ে বৃত্তাকার বানিয়ে দেখালেন। (মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন) ’আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি’। ইউশা বললেন, আল্লাহ আপনার থেকে ক্লান্তি দূর করে দিয়েছেন। সাইদের বর্ণনায় এ কথার উল্লেখ নেই। খাদেম তাকে মাছের পালিয়ে যাবার সংবাদ দিলেন। তারপর তারা উভয়ে ফিরে এলেন এবং খিযির (আলাইহিস সালাম) কে পেলেন। বর্ণনাকারী ইবনু যুরাইজ বলেন, উসমান ইবনু আবূ সুলাইমান আমাকে বলেছেন যে, মূসা (আলাইহিস সালাম) খিজির (আলাইহিস সালাম) কে পেলেন সমুদ্রের বুকে সবুজ বিছানার উপর। সাইদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) বলেন, তিনি চাঁদর মুড়ি দিয়েছিলেন। চাঁদরের এক পাশ ছিল তার দুপায়ের নিচে এবং অন্য পাশ ছিল তার মাথার উপর।
মূসা (আলাইহিস সালাম) তাকে সালাম দিলেন। তিনি তার চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে বললেন, আমার এ অঞ্চলেও কি সালাম আছে? তুমি কে? তিনি বললেন, আমি মূসা। খিজির (আলাইহিস সালাম) বললেন, বনী ইসরাইলের মূসা? উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমার ব্যপার কি? মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমি এসেছি, “সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা থেকে আমাকে শিক্ষা দিবেন” তিনি বললেন, তোমার কাছে যে তাওরাত রয়েছে তা কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়? তোমার কাছে তো ওহী আসে। হে মূসা! আমার কাছে যে জ্ঞান আছে তা তোমার জানা সমীচীন নয়। আর তোমার কাছে যে জ্ঞান আছে তা আমার জানা উচিত নয়। এ সময় একটি পাখি এসে তার ঠোঁট দিয়ে সমুদ্র থেকে পানি নিল। (এ দৃশ্য দেখে) খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, আল্লাহর কসম, আল্লাহর জ্ঞানের কাছে আমার ও তোমার জ্ঞান এতটুকু। যতটুকু এ পাখীটি সমুদ্র হতে তার ঠোঁটে করে নিয়েছে।
অবশেষে তারা উভয়ে নৌকায় আরোহণ করলেন। তারা ছোট খেয়া নৌকা পেলেন, যা এ পাড়ের লোকদের ও পাড়ে এবং ও পাড়ের লোকদের এ পাড়ে বহন করত। নৌকার লোকেরা খিযির কে চিনতে পারল। তারা বলল, আল্লাহর নেক বান্দা। ইয়ালা বলেন, আমরা সাইদকে জিজ্ঞেস করলাম, তারা কি খিযির সম্পর্কে এ মন্তব্য করেছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (তারা বলল) আমরা তাকে পারিশ্রমিক নিয়ে বহন করব না। এরপর খিযির (আলাইহিস সালাম) তাদের নৌকা (এর একস্থান) বিদীর্ণ করে দিলেন এবং একটি গোঁজ দিয়ে তা বন্ধ করে দিলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আপনি কি আরোহীদের নিমজ্জিত করার জন্য নৌকাটি বিদীর্ণ করলেন? আপনি তো গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন,اِمْرًا অর্থাৎ নিষিদ্ধ কাজ। তিনি (খিযির) বললেন, আমি কি বলিনি যে তুমি কিছুতেই আমার সঙ্গে ধৈর্য ধারন করতে পারবেনা?’ প্রথমটি ছিল মূসা (আলাইহিস সালাম) এর পক্ষ থেকে ভুল। দ্বিতীয়টি শর্তস্বরূপ এবং তৃতীয় ইচ্ছাকৃত বলে গণ্য। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমার ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না ও আমার ব্যপারে অত্যধিক কঠোরতা অবলম্বন করবেন না। (এরপর) তারা এক বালকের সাক্ষাৎ পেলেন, খিযির তাকে হত্যা করে ফেললেন। ইয়ালা বলেন, সাইদ বলেছেন, খিযির (আলাইহিস সালাম) বালকদের খেলাধুলা করতে দেখতে পেলেন। তিনি একটি চটপটে কাফের বালককে ধরলেন এবং তাকে পাশে শুইয়ে যবেহ করে ফেললেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, ’আপনি কি এক নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন অপরাধ ছাড়াই?’ সে তো কন গুনাহের কাজ করেনি।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) এখানে زَاكِيَّةً পড়তেন। زَاكِيَّةً ভাল মুসলিম। যেমন তুমি পড় غُلَامً زَكِيَّا। তারপর তারা দুজন চলতে লাগল এবং একটি পতনোম্মুখ প্রাচীর পেল। খিযির (আলাইহিস সালাম) সেটাকে সোজা করে দিলেন। সাইদ তার হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন এরুপ, এবং তিনি তার হাত উঠিয়ে সোজা করলেন। ইয়ালা বলেন, আমার মনে হয় সাইদ বলেছিলেন, খিযির (আলাইহিস সালাম) প্রাচীরের উপর দুহাতে স্পর্শ করলেন এবং প্রাচীর দাঁড়িয়ে গেল। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন,لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا আপনি ইচ্ছা করলে এ জন্য পারিশ্রমিক গ্রহন করতে পারতেন। সাইদ বলেন,أَجْرًا দ্বারা এখানে খাদ্য দ্রব্য বোঝান হয়েছে। وَكَانَ وَرَآءَهُمْ এর অর্থ তাদের সামনে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) এ আয়াতে أَمَامَهُمْ (তাদের সামনে ছিল এক রাজা) পড়েন। সাইদ ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারীরা সে রাজার নাম বলেছেন “হুদাদ ইবনু বুদাদ” আর হত্যা কৃত বালকটির নাম ছিল জাইসুর।
সে রাজা প্রত্যেকটি ভাল নৌকা বল প্রয়োগে ছিনিয়ে নিত। খিযির (আলাইহিস সালাম) এর নৌকা বিদীর্ণ করার উদ্দেশ্য ছিল , (সে অত্যাচারী রাজা) ত্রুটি যুক্ত নৌকা দেখলে তা ছিনিয়ে নিবে না। তারপর যখন অতিক্রম করে গেল, তখন তাদের নৌকা মেরামত করে নিল এবং তা ব্যবহার যোগ্য করে তুলল। কেউ বলে নৌকার ছিদ্রটা মেরামত করেছিল সীসা গলিয়ে। আবার কেউ বলে, আলকাতরা মিলিয়ে নৌকা মেরামত করেছিল। “তার পিতা মাতা ছিল মুমিন”। আর সে বালকটি ছিল কাফের। আমি আশংকা করলাম যে সে বিদ্রোহচরন ও কুফরির দ্বারা তাদের বিব্রত করবে। অর্থাৎ তার স্নেহ ভালবাসায় তাদের তার ধর্মের অনুসারী করে ফেলবে। এরপর আমি চাইলাম যে তাদের প্রতিপালক যেন তাদের ওর পরিবর্তে এক সন্তান দান করেন, যে হবে পবিত্রতায় মহত্তর ও ভক্তি ভালবাসায় ঘনিষ্টতর।
খিযির (আলাইহিস সালাম) যে বালকটিকে হত্যা করেছিলেন, সে বালকটির চেয়ে পরবর্তী বালকটির প্রতি তার পিতামাতা অধিক স্নেহশীল ও দয়াশীল হবেন। ইবনু জুরাইয বলেন) সাইদ ব্যতীত অন্য সকল বর্ণনাকারী বলেছেন যে, এর অর্থ হল, সে বালকটির পরিবর্তে আল্লাহ তাদের একটি কন্যা সন্তান দান করেন। দাউদ ইবনু আবূ আনিস বলেন, এখানে কন্যা সন্তান বোঝানো হয়েছে।
বর্ণনাকারী: সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ)
৪৩৭২। কুতায়বা ইবনু সাইদ (রহঃ) ... সাইদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে বললাম, নওফুল বাক্কালির ধারনা, বনী ইসরাইলের মূসা, (আলাইহিস সালাম) ওয়া সাল্লাম এর সাথী মূসা একই ব্যাক্তি নয়। এ কথা শুনে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শত্রু মিথ্যা বলেছে। উবায় ইবনু কা’আব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একদা মূসা (আলাইহিস সালাম) বনী ইসরাইলের সামনে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যাক্তি কে? তিনি বললেন, আমি। আল্লাহ তার একথায় অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা, তিনি এ কথাটি আল্লাহর দিকে নিসবত করেননি। আল্লাহ তার উপর ওহী নাযিল করে বললেন, (হে মূসা!) দু’সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে আমার এক বান্দা আছে। সে তোমার চাইতে অধিক জ্ঞানী। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, হে রব! আমি তার কাছে কিভাবে যেতে পারি? আল্লাহ বললেন, থলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে রওয়ানা হও। যেখানে মাছটি হারিয়ে যাবে সেখানেই তার অনুসরন করবে।
মূসা (আলাইহিস সালাম) রওয়ানা হলেন এবং তার সাথে ছিল তার খাদেম ইয়ুশা ইবনু নুন। তারা মাছ সাথে নিলেন। তারা চলতে চলতে সমুদ্রের তীরে একটি বিশাল শিলা খণ্ডের কাছে পৌঁছে গেলেন। সেখানে তারা বিশ্রামের জন্য থামলেন। বর্ণনাকারী বলেন, মূসা (আলাইহিস সালাম) শিলা খণ্ডের উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পরলেন। সুফিয়ান বলেন, আমর ইবনু দ্বীনার ছাড়া সকল বর্ণনাকারী বলেছেন, শিলা খণ্ডের তলদেশে একটি ঝরনা ছিল। তাকে হায়াত বলা হত। কেননা যে মৃতের উপর তার পানি পড়ে, সে অমনি জীবিত হয়ে উঠে। সে মাছটির উপরও ওই ঝরনার পানি পড়ল এবং সাথে সাথে সে লাফিয়ে উঠল। তারপর মাছটি বের হয়ে সমুদ্রে চলে গেল। এরপরে মূসা (আলাইহিস সালাম) যখন জেগে উঠলেন। “মূসা তার খাদেমকে বললেন, আমাদের নাস্তা আন। আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি”। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে স্থান সম্পর্কে তাকে বলা হয়েছিল সে স্থান অতিক্রম করার পর থেকেই তিনি ক্লান্তি অনুভব করছিলেন।
তার খাদেম ইউশা ইবনু নুন তাকে বললেন, ’আপনি কি লক্ষ করেছেন আমরা যখন শিলা খণ্ডে বিশ্রাম করছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে সে স্থানে প্রত্যাবর্তন করলেন। তারা সমুদ্রে মাছটির চলে যাওয়ার জায়গায় সুড়ঙ্গের মত দেখতে পেলেন। যা মূসা (আলাইহিস সালাম) এর সাথী যুবক কে আশ্চর্যান্বিত করে দিল। যখন তারা শিলা খণ্ডের কাছে পৌঁছলেন, সেখানে এক ব্যাক্তিকে কাপড় আবৃত অবস্থায় দেখতে পেলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) তাকে সালাম দিলেন। তিনি বললেন, তোমাদের এলাকায় সালামের প্রথা কিভাবে এল? মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমি মূসা। তিনি (খিযির) বললেন, বনী ইসরাইলের মূসা? মূসা (আলাইহিস সালাম) উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। তারপর বললেন, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা থেকে আমাকে শিক্ষা দিবেন – এ শর্তে আমি আপনার অনুসরন করব কি?
খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে মূসা! তুমি আল্লাহ কর্তৃক যে জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছ তা আমি (সম্পূর্ণভাবে) জানিনা। আর আমি আল্লাহর থেকে যে ’ইল্ম’ লাভ করেছি তাও (সম্পূর্ণভাবে) তুমি জাননা। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমি আপনার অনুসরন করব। খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, আচ্ছা তুমি যদি আমার অনুসরন করই, তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেনা, যতক্ষণ না আমি সে বিষয়ে তোমাকে কিছু বলি।
তারপর তারা সমুদ্রের তীর দিয়ে চলতে লাগলেন। একটি নৌকা তাদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। নৌকার লোকেরা খিযির কে দেখে চিনতে পারল। তারা বিনা পারিশ্রমিকে তাদের নৌকায় উঠিয়ে নিল। তারা নৌকায় আরোহণ করলেন। এ সময় একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকার অগ্রভাগে বসলো। পাখীটি সমুদ্রে ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। খিযির (আলাইহিস সালাম) মূসা (আলাইহিস সালাম) কে বললেন, তোমার, আমার এবং সৃষ্টি জগতের জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় অতখানি, যতখানি এ চড়ুই পাখি তার ঠোঁট দিয়ে সমুদ্র থেকে পানি উঠাল।
বর্ণনাকারী বলেন, মূসা (আলাইহিস সালাম) স্থান পরিবর্তন করেননি। খিযির (আলাইহিস সালাম) অগ্রসর হওয়ার ইচ্ছা করলেন। এমতাবস্থায় খিযির (আলাইহিস সালাম) নৌকা বিদীর্ণ করে দিলেন। তখন মূসা (আলাইহিস সালাম) তাকে বললেন, এরা আমাদেরকে বিনা পারিশ্রমিকে তাদের নৌকায় নিয়ে এল আর আপনি আরোহীদের নিমজ্জিত করার জন্য নৌকাটি বিদীর্ণ করে দিলেন। আপনি তো এক গর্হিত কাজ করলেন।
তারপর তারা আবার চলতে লাগলেন। (পথে) এবং দেখতে পেলেন যে, একটি বালক কতগুলো বালকের সাথে খেলা করছে। খিযির (আলাইহিস সালাম) সে বালকটির শিরশ্ছেদ করে দিলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আপনি কি এক নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন অপরাধ ছাড়াই? আপনি তো এক গর্হিত কাজ করে ফেলেছেন। তিনি বললেন, আমি কি বলিনি যে তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবেনা? মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করি, তবে আপনি আমাকে সঙ্গে রাখবেন না। আমার ওজরের চূড়ান্ত হয়েছে।
তারপর তারা চলতে লাগলেন। তারা এক জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌঁছলেন এবং তাদের কাছে খাদ্য চাইলেন। তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। তারপর সেখানে তারা এক পতনম্মুখ প্রাচীর দেখতে পেল। বর্ণনাকারী হাতের ইশারায় দেখালেন যে, এভাবে খিযির (আলাইহিস সালাম) পতনম্মুখ প্রাচীর সোজা করে দিলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) খিযির (আলাইহিস সালাম) কে বললেন, আমরা যখন এ জনপদে প্রবেশ করছিলাম, তখন জনপদের অধিবাসীরা আমাদের মেহমানদারী করেনি এবং আমাদের খেতে দেয়নি। এ জন্য আপনি ইচ্ছা করলে পারিশ্রমিক গ্রহন করতে পারতেন। খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, এখানেই তোমার এবং আমার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হল।
যে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধরতে পারনি আমি তার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মূসা (আলাইহিস সালাম) যদি আরেকটু ধৈর্যধারণ করতেন তবে আমরা তাদের দুজনের ঘটনাবলী সম্পর্কে আরও জানতে পারতাম। সাইদ বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) وراهم ملك এর স্থানে أَمَامَهُمْ مَلِكٌ পড়তেন। অর্থ তাদের সম্মুখে ছিল এক রাজা, যে বল প্রয়োগে ভাল নৌকা ছিনিয়ে নিত। আর বালকটি ছিল কাফের”।
বর্ণনাকারী: ইবনু শিহাব আয-যুহরী (রহঃ)
৪৩৯৫। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) ... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন উরওয়া ইবনু যুবায়র, সাইদ ইবনু মূসাইয়িব, আলকামা ইবনু ওয়াক্কাস, উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবা ইবনু মাসুদ (রহঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) এর ঘটনা সম্পর্কে বলেন, যখন অপবাদকারীরা তার প্রতি অপবাদ এনেছিল এবং আল্লাহ তা’আলা তাঁকে তাদের অভিযোগ থেকে নির্দোষ থাকার বর্ণনা দেন। তাদের প্রত্যেকেই ঘটনার অংশবিশেষ আমাকে অবহিত করেন। অবশ্য তাদের পরস্পর পরস্পরের বর্ণনা সমর্থন করে, যদিও তাদের মধ্যে কেউ অন্যের তুলনায় এ ঘটনাটি বেশি সংরক্ষণ করেছে। তবে উরওয়া আয়শা (রাঃ) থেকে এরুপ বলেছিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়শা (রাঃ) বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কথাও সফরে বের হতেন, তখন তিনি তার স্ত্রী গনের মধ্যে লটারি দিতেন। এতে যার নাম উঠত, তাঁকে সঙ্গে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হতেন।
আয়শা (রাঃ) বলেন, অতএব, কোন এক যুদ্ধে যাওয়ার সময় আমাদের মধ্যে লটারি দিলেন। তাতে আমার নাম উঠল। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বের হলাম, পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরে। আমাকে হাওদায় করে উঠান হত এবং তাতে করে নামান হত। এ ভাবেই আমরা চললাম। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধ শেষ করে ফিরলেন এবং ফেরার পথে আমরা মদিনার নিকটবর্তী হলাম। একদা (মনজিল থেকে) রওয়ানা দেওার জন্য রাত থাকতেই ঘোষণা দিলেন। এ ঘোষণা দিলে আমি উটে চড়ে সৈন্যদের অবস্থানস্থল থেকে কিছু দূরে চলে গেলাম। আমার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে যখন সওয়ারীর কাছে এলাম, তখন দেখতে পেলাম যে, জাফারের দানা খচিত আমার হারটি ছিঁড়ে কোথাও পড়ে গেছে। আমি তা খোঁজ করতে লাগলাম। খোঁজ করতে আমার একটু দেরি হয়ে গেল। ইতিমধ্যে এ সকল লোক যারা আমাকে সওয়ার করাতো, তারা, আমি আমার হাওদার ভিতরে আছি মনে করে, আমার হাওদা উটের পিঠে রেখে দিল। কেননা এ সময় শরীরের মাংস আমাকে (হালকা পাতলা ছিলাম) ভারী করেনি। আমরা তো খুব অল্প খাদ্য গ্রহন করতাম। আমি ছিলাম অল্পবয়স্কা এক বালিকা। সুতরাং হাওদা উঠাবার তা যে খুব হালকা, তা তারা বুঝতে পারেনি এবং তারা উট হাঁকিয়ে রওয়ানা দিল।
সেনাদল চলে যাওয়ার পর আমি আমার হার পেয়ে গেলাম এবং যেখানে তারা ছিল সেখানে ফিরে এলাম। তখন সেখানে এমন কেউ ছিলনা যে ডাকবে বা ডাকে সাড়া দিবে। আমি যেখানে ছিলাম সে স্থানেই থেকে গেলাম। এ ধারনায় বসে থাকলাম যে যখন কিছুদূর গিয়ে আমাকে দেখতে পাবেনা, তখন এ স্থানে অবশ্যই খুঁজতে আসবে। সেখানে বসা অবস্থায় আমার চোখে ঘুম এসে গেল, আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। আর সৈন্যবাহিনীর পিছনে সাফওান ইবনু মুয়াত্তাল সুলামি যাকওয়ানি ছিলেন। তিনি শেষ রাতে রওয়ানা দিয়ে ভোর বেলা আমার এ স্থানে এসে পৌঁছলেন। তিনি একজন মানুষের আকৃতি নিদ্রাবস্থায় দেখতে পেলেন। তিনি আমার কাছে এসে আমাকে দেখে চিনতে পারলেন। কেননা, পর্দার হুকুম নাযিল হওয়ার আগে আমাকে দেখেছিলেন। কাজেই আমাকে চেনার পর উচ্চকণ্ঠে “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” পড়লেন। পড়ার আওয়াজে আমি উঠে গেলাম এবং আমি আমার চাঁদর দিয়ে চেহারা ধেকে নিলাম। আল্লাহর কসম তিনি আমার সঙ্গে কোন কথাই বলেননি এবং তার মুখ হতে “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” আর কোন কথা আমি শুনিনি।
এরপর তিনি তার উট বসালেন এবং সামনের দুই পা নিজ পায়ে দাবিয়ে রাখলেন। আর আমি তাতে আরোহণ করলাম। তখন সাফওয়ান উটের লাগাম ধরে চললেন। শেষ পর্যন্ত আমরা সৈন্যবাহিনীর নিকট এ সময় গিয়ে পৌঁছলাম, যখন তারা দুপুরের প্রচণ্ড উত্তাপের সময় অবতরণ করে। (এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে) যারা ধ্বংস হওয়ার তারা ধ্বংস হল। আর যে ব্যাক্তি এ অপবাদের নেতৃত্ব দেয়, সে ছিল (মুনাফিক সর্দার) আবদুল্লাহ ইবনু উবায় ইবনু সলুল। তারপর আমি মদিনায় এসে পৌঁছলাম এবং পৌঁছার পর আমি দীর্ঘ একমাস পর্যন্ত অসুস্থ ছিলাম। আর অপবাদকারীদের কথা নিয়ে লোকেরা রটনা করছিল। আমি এসব কিছুই বুঝতে পারিনি। তবে এতে আমাকে সন্দেহে ফেলেছিল যে, আমার অসুস্থ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রকম স্নেহ ভালবাসা দেখাতেন, এবারে তেমনি ভালবাসা দেখাচ্ছেন না। শুধু এতটুকুই ছিল যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসতেন এবং সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করতেন, তোমার অবস্থা কি? তারপর তিনি ফিরে যেতেন। এই আচরণই আমাকে সন্দেহে ফেলেছিল। অথচ আমি এই অপপ্রচার সম্বন্ধে জানতেই পারিনি।
অবশেষে একটু সুস্থ হওয়ার পর মিসতাহের মায়ের সঙ্গে মানাসের দিকে বের হলাম। সে জায়গাটই ছিল আমাদের প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার স্থান। আর আমরা কেবল রাতের পর রাতেই বাইরে যেতাম। এ ছিল সে সময়ের কথা যখন আমাদের ঘর সংলগ্ন পায়খানা নির্মিত হয়নি। আমাদের অবস্থা ছিল অনেকটা প্রাচীন আরবদের নিচু ময়দানের দিকে বের হয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারা। কেননা, ঘর সংলগ্ন পায়খানা নির্মাণ আমরা কষ্টকর মনে করতাম। কাজেই আমি ও মিসতাহের মা বাইরে গেলাম। তিনি ছিলেন আবূ রুহম ইবনু আবদ মানাফের কন্যা এবং মিসতাহের মায়ের মা ছিলেন সাখর ইবনু আমিরের কন্যা, যিনি আবূ বকর (রাঃ) এর খালা ছিলেন। আর তার পুত্র ছিলেন মিসতাহ ইবনু উসাসাহ।
আমি ও উম্মে মিসতাহ আমাদের প্রয়োজন সেরে ঘরের দিকে ফিরলাম। তখন মিসতাহের মা তার চাঁদরে হোঁচট খেয়ে বললেন, মিসতাহ ধ্বংস হোক। আমি তাঁকে বললাম, তুমি খুব খারাপ কথা বলছ, তুমি কি এমন এক ব্যাক্তিকে মন্দ বলছ, যে বদরের যুদ্ধে হাজির ছিল। তিনি বললেন, হে আত্মভোলা! তুমি কি শোননি সে কি বলেছে? আমি বললাম, সে কি বলেছে? তিনি বললেন, এমন এমন। এ বলে তিনি অপবাদকারীদের অপবাদ সম্পর্কে আমাকে বিস্তারিত খবর দিলেন। এতে আমার অসুখের মাত্রা বৃদ্ধি পেল। যখন আমি ঘরে ফিরে আসলাম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করে বললেন, তুমি কেমন আছ? তখন আমি বললাম, আপনি কি আমাকে আমার আব্বা আম্মার নিকট যেতে অনুমতি দিবেন? তিনি বললেন, তখন আমার উদ্দেশ্য ছিল যে, আমি তাদের কাছে গিয়ে তাদের থেকে আমার এ ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে জেনে নেই।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আসার জন্য অনুমতি দিলেন। আমি আব্বা আম্মার কাছে চলে গেলাম এবং আমার আম্মাকে বললাম, ও গো আম্মা! লোকেরা কি বলাবলি করছে? তিনি বললেন, বৎস! তুমি তোমার মন হালকা রাখ। আল্লাহর কসম! এমন কমই দেখা যায় যে, কোন পুরুষের কাছে এমন সুন্দরী রূপবতী স্ত্রী আছে, যাকে সে ভালবাসে এবং তার সতীনও আছে, অথচ তার ত্রুটি বের করা হয়না। রাবি বলেন, আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ। সত্যি কি লোকেরা এ ব্যপারে বলাবলি করছে? তিনি বললেন, আমি সে রাত কেঁদে কাটালাম। এমনকি ভোর হয়ে গেল তথাপি আমার কান্না থামল না। এবং আমি ঘুমাতেও পারলাম না। আমি কাঁদতে কাঁদতেই ভোর করলাম।
যখন ওহী আসতে দেরি হল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) ও উসামা ইবনু যায়িদ (রাঃ) কে তার স্ত্রীর বিচ্ছেদের ব্যপারে তাদের পরামর্শের জন্য ডাকলেন। তিনি বলেন, উসামা ইবনু যায়েদ তার সহধর্মিণী (আয়িশা (রাঃ) এর পবিত্রতা এবং তার অন্তরে তাদের প্রতি তার ভালবাসা সম্পর্কে যা জানেন তার আলোকে তাঁকে পরামর্শ দিতে গিয়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার পরিবার সম্পর্কে আমরা ভাল ধারনাই পোষণ করি। আর আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ আপনার উপর কোন সংকীর্ণতা আরোপ করেননি এবং তিনি ছাড়া বহু মহিলা রয়েছেন। আর আপনি যদি দাসীকে জিজ্ঞেস করেন, সে আপনার কাছে সত্য ঘটনা বলবে। তিনি [আয়শা (রাঃ)] বলেন, তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারিরাকে ডাকলেন এবং বললেন, হে বারিরা! তুমি কি তার কাছ থেকে সন্দেহজনক কিছু দেখেছ? বারিরা বলল, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরন করেছেন, তাঁর কসম! আমি এমন কোন কিছু তাঁর মধ্যে দেখতে পাইনি, যা আমি গোপন করতে পারি। তবে তাঁর মধ্যে সবচাইতে বেশি যা দেখেছি, তা হল তিনি একজন অল্প বয়স্ক বালিকা। তিনি কখনও তাঁর পরিবাবের আটার খামির রেখে ঘুমিয়ে পড়তেন। আর বকরীর বাচ্চা এসে তা খেয়ে ফেলত।
এরপরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মিম্বরে) দাঁড়ালেন। আবদুল্লাহ ইবনু উবায় ইবনু সলুলের বিরুদ্ধে তিনি সমর্থন চাইলেন। আয়শা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর থেকে বললেন, হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে, ঐ ব্যাক্তির মিথ্যা অপবাদ থেকে আমাকে সাহায্য করতে পারে, যে আমার স্ত্রীর ব্যপারে আমাকে কষ্ট দিয়েছে। আল্লাহর কসম! আমি আমার স্ত্রী সম্পর্কে ভালই জানতে পেরেছি। এবং তারা এমন এক পুরুষ সম্পর্কে অভিযোগ এনেছে, যার সম্পর্কে আমি ভাল ছাড়া কিছুই জানিনা। সে কখনও আমাকে ছাড়া আমার ঘরে আসেনি।
এ কথা শুনে সা’দ ইবনু মু’য়াজ আনসারি (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তাঁর বিরুদ্ধে আমি আপনাকে সাহায্য করব, যদি সে আউস গোত্রের হয় তবে আমি তাঁর গর্দান মেরে দিব। আর যদি আমাদের ভাই খাযরাজ গোত্রের লোক হয়, তবে আপনি নির্দেশ দিলে আমি আপনার নির্দেশ কার্যকর করব। আয়িশা (রাঃ) বললেন, এরপর সা’দ ইবনু উবাদা দাঁড়ালেন। তিনি খাযরাজ গোত্রের সর্দার। তিনি পূর্বে একজন নেককার লোক ছিলেন কিন্তু এ সময় স্বগোত্রের পক্ষপাতিত্ব তাকে উত্তেজিত করে তোলে। কাজেই তিনি সা’দ কে বললেন, চিরঞ্জীব আল্লাহর কসম! তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি তাকে হত্যা করতে পারবে না। এবং তাকে হত্যা করার ক্ষমতা তুমি রাখ না। তারপর উসায়দ ইবনু হুদায়র দাঁড়ালেন, যিনি সা’দের চাচাতো ভাই। তিনি সা’দ ইবনু উবায়দা কে বললেন, চিরঞ্জীব আল্লাহর কসম! তুমি মিথ্যা বলেছ। আমরা অবশ্যই তাকে হত্যা করব। তুমি নিজেও মুনাফিক এবং মুনাফিকের পক্ষে প্রতিবাদ করছ। এতে আউস এবং খাযরাজ উভয় গোত্রের লোকেরা উত্তেজিত হয়ে উঠল। এমনকি তারা পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার উপক্রম হল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে দাঁড়ানো ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের থামাতে লাগলেন। অবশেষে তারা থামল।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও নিরব হলেন। আয়শা (রাঃ) বলেন, আমি সেদিন এমনভাবে কাটালাম যে, আমার চোখের অশ্রুও থামেনি এবং চোখে ঘুমও আসেনি। আয়শা (রাঃ) বলেন, সকাল বেলা আমার কাছে আমার আব্বা আম্মা আসলেন, আর আমি দু’ রাত এবং একদিন (একাধারে) কাঁদছিলাম। এর মধ্যে না আমার ঘুম হয় না আমার চোখের পানি বন্ধ হয়। তারা ধারনা করছিলেন যে এ ক্রন্দনে আমার কলিজা ফেটে যাবে। আয়শা (রাঃ) বলেন, এর পূর্বে তারা যখন আমার কাছে বসা ছিলেন এবং আমি কাঁদছিলাম, ইত্যবসরে জনৈক আনসারি মহিলা আমার কাছে আসার জন্য অনুমতি চাইলেন। আমি তাকে অনুমতি দিলাম। সে বসে আমার সাথে কাঁদতে লাগল। আমাদের এ অবস্থার মধ্যেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে প্রবেশ করলেন এবং সালাম দিয়ে বসলেন।
আয়শা (রাঃ) বলেন, এর পূর্বে যখন থেকে এ কথা রটনা চলেছে, তিনি আমার কাছে বসেন নি। এ অবস্থায় তিনি এক মাস অপেক্ষা করেছেন। আমার সম্পর্কে ওহী আসেনি। আয়শা (রাঃ) বলেন, এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশাহুদ পাঠ করলেন। তারপর বললেন, হে আয়শা! তোমার সম্পর্কে এরুপ এরুপ কথা আমার কাছে পৌঁছেছে। তুমি যদি নির্দোষ হয়ে থাক, তবে অচিরেই আল্লাহ তা’আলা তোমার পবিত্রতা ব্যক্ত করে দিবেন। আর যদি তুমি কোন পাপে লিপ্ত হয়ে থাক, তবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং তাঁর কাছে তওবা কর। কেননা, বান্দা যখন তার পাপ স্বীকার করে নেয় এবং আল্লাহর কাছে তওবা করে তখন আল্লাহ তাঁর তওবা কবুল করেন।
আয়শা (রাঃ) বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা শেষ করলেন, তখন আমার চোখের পানি এমনভাবে শুকিয়ে গেল যে, এক ফোঁটা পানিও অনুভব করছিলাম না। আমি আমার পিতাকে বললাম, আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (তিনি যা কিছু বলেছেন তার) জবাব দিন। তিনি বললেন। আল্লাহর কসম! আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কি জবাব দিব তা আমার বুঝে আসছেনা। তারপর আমার আম্মাকে বললাম, আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জবাব দিন। তিনি বললেন, আমি বুঝতে পারছিনা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কি জবাব দিব। আয়শা (রাঃ) বলেন, তখন আমি নিজেই জবাব দিলাম। অথচ আমি একজন অল্প বয়স্কা বালিকা। কুরআন খুব বেশি পড়িনি। আল্লাহর কসম আমি জানি আপনারা এ ঘটনা শুনেছেন, এমনকি তা আপনাদের অন্তরে বসে গেছে এবং সত্য বলে বিশ্বাস করে নিয়েছেন। এখন যদি আমি বলি যে আমি নির্দোষ এবং আল্লাহ ভালভাবেই জানেন যে, আমি নির্দোষ; তবে আপনারা তা বিশ্বাস করবেন না। আর আমি যদি আপনাদের কাছে এ বিষয় স্বীকার করে নেই, অথচ আল্লাহ জানেন , আমি তা থেকে নির্দোষ; তবে আপনারা আমার এই উক্তি বিশ্বাস করে নিবেন। আল্লাহর কসম! এ ক্ষেত্রে আমি আপনাদের জন্য ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর পিতার উক্তি ব্যতীত আর কোন দৃষ্টান্ত পাচ্ছিনা। তিনি বলেছিলেন,فَصَبْرٌ جَمِيلٌ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ “পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয় তোমরা যা বলছ; সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া যায়”।
তিনি বলেন, এরপর আমি আমার চেহারা ঘুরিয়ে নিলাম এবং কাত হয়ে আমার বিছানায় শুয়ে পড়লাম। তিনি বলেন, এ সময় আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি নির্দোষ এবং আল্লাহ তা’আলা আমার নির্দোষিতা প্রকাশ করে দিবেন। কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি তখন এ ধারনা করতে পারিনি যে, আল্লাহ আমার সম্পর্কে এমন ওহী অবতীর্ণ করবেন যা তিলাওয়াত করা হবে। আমার দৃষ্টিতে আমার মর্যাদা এর চাইতে অনেক নিচে ছিল। বরং আমি আশা করেছিলাম যে, হয়ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রায় কোন স্বপ্ন দেখবেন যাতে আল্লাহ তা’আলা আমার নির্দোষিতা জানিয়ে দিবেন। আয়শা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ান নি এবং ঘরের কেউ বের হন নি। এমন সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ওহী নাযিল হতে লাগল এবং তাঁর শরীর ঘামতে লাগল। এমনকি যদিও শীতের দিন ছিল তবুও তাঁর উপর যে ওহী অবতীর্ণ হচ্ছিল এর বোঝার ফলে মুক্তার মত তাঁর ঘাম ঝরছিল। যখন ওহী শেষ হল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসছিলেন। তখন তিনি প্রথম যে বাক্যটি বলেছিলেন তা হলঃ হে আয়শা! আল্লাহ তোমার নির্দোষিতা প্রকাশ করেছেন।
এ সময় আমার মা আমাকে বললেন, তুমি উঠে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব না, আল্লাহ ছাড়া আর কারও প্রশংসা করবনা। আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেন পূর্ণ দশ আয়াত পর্যন্ত। إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالإِفْكِ عُصْبَةٌ যারা এ অপবাদ রচনা করেছে, তারা তোমাদেরই একটি দল। যখন আল্লাহ তা’আলা আমার নির্দোষিতার আয়াত অবতীর্ণ করলেন, তখন আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) যিনি মিসতাহ ইবনু উসাসাকে নিকটবর্তী আত্মীয়তা এবং দারিদ্র্যের কারনে আর্থিক সাহায্য করতেন, তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! মিসতাহ আয়শা সম্পর্কে যা বলেছে, এরপর আমি তাকে কখনওই কিছুই দান করবনা।
তারপর আল্লাহ তা’আলা আয়াত অবতীর্ণ করেলন, “তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ গ্রহন না করে যে তার আত্মীয় স্বজন ও অভাবগ্রস্থ কে এবং আল্লাহর রাস্তায় যারা গৃহত্যাগ করেছে তাদের কিছুই দেবে না। তারা যেন তাদের ক্ষমা করে এবং তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাওনা যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন? এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।
আবূ বকর (রাঃ) এ সময় বললেন, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই পছন্দ করি যে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করেন। তারপর তিনি মিসতাহের সাহায্য আগের মত দিতে লাগলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম! আমি এ সাহায্য কখনও বন্ধ করবনা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জয়নব বিনতে জাহশকেও আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, হে জয়নব! (আয়শা সম্পর্কে) কি জানো আর কি দেখেছ? তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আমার কান ও চোখকে বাচিয়ে রাখতে চাই। আমি তার সম্পর্কে ভাল ছাড়া অন্য কিছু জানি না। আয়শা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীদের মধ্যে তিনি আমার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা তার পরহেযগারির কারনে রক্ষা করেন। আর তার বোন হামনা তার পক্ষাবিলম্ব করে মুকাবিলা করে এবং অপবাদ আনয়নকারী যারা ধ্বংস হয়েছিল তাদের মধ্যে সেও ধ্বংস হল।
বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.)
সুরা নম্ল
الْخَبْءُ যা তুমি গোপন কর। لَا قِبَلَ لَهُمْ তাদের কোন শক্তি নেই। الصَّرْحُ কাঁচ মিশ্রিত গারা এবং الصَّرْحُ প্রাসাদকেও বলা হয়। এর বহুবচন صُرُوْحٌ। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, وَلَهَا عَرْشٌ তার সিংহাসন অতি সম্মানিত, শিল্প কর্মে উত্তম এবং বহু মূল্যবান। يَأْتُوْنِيْ مُسْلِمِيْنَ অনুগত হয়ে আমার নিকট আসবে। رَدِفَ নিকটবর্তী হয়েছে। جَامِدَةً স্থির। أَوْزِعْنِيْ আমাকে বানিয়ে দাও। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, نَكِّرُوْا পরিবর্তন করে দাও। وَأُوْتِيْنَا (আমাদের জ্ঞান দেয়া হয়েছে) এ কথা সুলাইমান (আঃ) বলেন, الصَّرْحُ পানির একটি হাউয। সুলাইমান (আঃ) সেটি কাঁচ দ্বারা আবৃত করে দিয়েছিলেন।
সুরা কাসাস
বলা হয় إِلَّا وَجْهَه তার রাজত্ব ব্যতীত এবং এ-ও বলা হয়, যে কার্যাবলী দ্বারা আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জন উদ্দেশ্য, তা ব্যতীত (সবই ধ্বংস হবে) মুজাহিদ (রহঃ) বলেন الْأَنْبَاءُ অর্থ প্রমানাদি।
৪৪১৪। আবূল ইয়ামান (রহঃ) ... সাঈদ ইবনুল মূসাইয়্যাব (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ তালিবের মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছিল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে আসলেন। তিনি সেখানে আবূ জাহল এবং আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়া ইবনু মুগীরাকে উপস্থিত পেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে চাচা! আপনি বলুন “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। ” এ ’কালেমা’ দ্বারা আমি আপনার জন্য (কিয়ামতে) আল্লাহর কাছে (আপনার মুক্তির) দাবি করতে পারব। আবূ জাহল এবং আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়া বলল, তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ছেড়ে দেবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার তার কাছে এ ’কালেমা’ পেশ করতে লাগলেন। আর তারা সে উক্তি বারবার করতে থাকল। অবশেষে আবূ তালিব তাঁদের সঙ্গে সর্বশেষ এ কথা বললেন, আমি ’আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর আছি, এবং কালেমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” পাঠ করতে অস্বীকার করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম। আমাকে নিষেধ না করা পর্যন্ত আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেই থাকব। তারপর আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেন, নবী ও মু’মিনদের জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আর আল্লাহ্ তা’আলা আবূ তালিব সম্পর্কে নাযিল করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সম্বোধন করে আল্লাহ্ তা’আলা বললেন, “তুমি যাকে ভালবাস (ইচ্ছা করলেই) তাকে সৎপথে আনতে পারবে না। তবে আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন।”
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন أُوْلِي الْقُوَّة লোকের একটি দল সে চাবিগুলো বহন করতে সক্ষম ছিল না। لَتَنُوْءُ বহন করা কষ্টসাধ্য ছিল। فَارِغًا মূসা (আঃ)-এর স্মরণ ব্যতীত সব কিছু থেকে খালি ছিল। الْفَرِحِيْنَ দম্ভকারীরা! قُصِّيْهِ তার চিহ্ন অনুসরণ কর। কথার বর্ণনা অর্থেও প্রয়োগ হয়। نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَعَنْ جُنُبٍ এখানে جُنُبٍ অর্থ দূর থেকে। عَنْ جَنَابَةٍ، عَنْ اجْتِنَابٍ এর একই অর্থবোধক।يَبْطِشُـــيَبْطُشُ উভয়ই পড়া হয়। يَأْتَمِرُوْنَ পরস্পর পরামর্শ করছে।وَالْعَدَاءُ وَالتَّعَدِّيْ واعدوان (শব্দ তিনটির) অর্থ একই; সীমা অতিক্রম করা। آنَسَ দেখা الْجِذْوَةُ কাঠের মোটা টুকরা যাতে শিখা নেই। الشِّهَابُ যাতে শিখা আছে। الْحَيَّاتُ বহু প্রকার সাপ; যেমন, চিকন জাতি, অজগর, কালনাগ (ইত্যাদি) رِدْءًا সাহায্যকারী। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, يُصَدِّقُنِيْ (তিনি قاف কে পেশ দিয়ে পড়েন। অন্য হতে বর্ণিত سَنَشُدُّ আমরা শীঘ্র তোমাকে সাহায্য করব। যখন তুমি কোন জিনিসকে শক্তিশালী করলে, তখন তুমি যেন তার জন্য বাহুবল প্রদান করলে। যখন আরবগণ কাউকে সাহায্য করেন তখন বলে থাকেন جَعَلْتَ لَهُ عَضُدًا (বাহুবল প্রদান করলে) مَقْبُوْحِيْنَ ধ্বংসপ্রাপ্ত। وَصَّلْنَا আমি বর্ণনা করেছি; আমি তা পূর্ণ করেছি। يُجْبَى আমদানি করা হয়। بَطِرَتْ দম্ভ করল। فِيْ أُمِّهَا رَسُوْلًا মক্কা এবং তার চতুষ্পার্শকে বলা হয়। تُكِنُّ গোপন করছ। আরবগণ বলে থাকেন أَكْنَنْتُ الشَّيْءَ আমি তা গোপন করেছি। كَنَنْتُهُ আমি তা লুকিয়েছি; আমি প্রকাশ করেছি। وَيْكَأَنَّ اللهَ আর أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللهَ সমার্থক (তারা কি দেখেনি?) يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِر আল্লাহ্ যার জন্য চান খাদ্য প্রসারিত করে দেন, আর যার থেকে চান সংকুচিত করে দেন।
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ্র বাণীঃ تَبْتَغِيْ مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ "তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি চাচ্ছ (৬৬ঃ ১)
৪৫৫২। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) কে একটি আয়াতের (সূরা তাহরীমের) ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেসের জন্য আমি এক বছর ধরে চেয়েছিলেম, কিন্তু তাঁর ব্যাক্তিত্বের প্রভাবের ভয়ে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করতে পারিনি। অবশেষে একবার হাজ্জ (হজ্জ) করার উদ্দেশ্যে আমি তাঁর সাথে যাত্রা করলাম। ফিরে আসার সময় আমরা যখন কোন একটি পথ অতিক্রম করছিলাম, তখন তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণে একটি পিলু গাছের আড়ালে গেলেন। তিনি প্রয়োজন সেরে না আসা পর্যন্ত আমি সেখানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলাম। এরপর তাঁর সাথে পথ চলতে চলতে বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সেই দুজন স্ত্রী কারা, যারা তাঁর বিরুদ্ধে পরস্পরকে সাহায্য করেছিল? তিনি বললেন, তারা হল আয়িশা এবং হাফসা। তারপর আমি তাঁকে বললাম, আল্লাহর কসম! আমি আপনাকে এই ব্যাপারে এক বছর আগেই জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আপনাকে আমি সম্মান করি বলে তা করতে পারিনি। উমার (রাঃ) বললেন, আমাকে জিজ্ঞেস করতে পিছপা হবে না। যদি তুমি মনে কর যে আমি জানি তাহলে জিজ্ঞেস করবে, এবং আমি যদি জানি তাহলে আমি তোমাকে বলব।
এরপর উমার (রাঃ) আরও বললেন, আল্লাহর কসম! জাহেলী যুগে নারীদের কোন আধিকার আছে বলে আমরা মনে করতাম না। অবশেষে আল্লাহ তাদের সম্পর্কে যে বিধান নাযিল করার ছিল তা নাযিল করলেন এবং তাদের হক হিসেবে যা নির্দিষ্ট করার ছিল তা নির্দিষ্ট করলেন। তিনি বলেন, একদিন আমি কোন এক বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করছিলাম, এই এবস্থায় আমার স্ত্রী আমাকে বলল, কাজটি যদি আপনি এভাবে করেন (তাহলে ভালো হবে)। আমি বললাম, তোমার কি দরকার? এবং আমার কাজে তুমি মাথা ঘামাচ্ছ কেন? সে আমাকে বলল, হে খত্তাবের পুত্র! কি আশ্চর্য, আপনি চান না যে, আমি আপনার কথার উত্তর দেই, অথচ আপনার মেয়ে হাফসা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তর্ক করেছে, এমনকি এতে তিনি পুরো একদিন রাগান্বিত ছিলেন। এ কথা শুনে উমার (রাঃ) দাঁড়িয়ে গেলেন এবং চাঁদরটি নিয়ে তার বাড়িতে চলে গেলেন। তিনি তাকে বললেন, হে আমার কন্যা! তুমি নাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তর্ক কর, ফলে তিনি দিনভর রাগান্বিত থাকেন?
হাফসা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা তো অবশ্যই তাঁর কথার জবাব দিয়ে থাকি। উমার (রাঃ) বললেন, জেনে রাখো! আমি তোমাকে আল্লাহর শাস্তি ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসন্তুষ্টি সম্পর্কে সতর্ক করছি। রূপ-সৌন্দর্যের কারণে আল্লাহর রাসূলের ভালোবাসা যাকে গর্বিতা করে রেখেছে [আয়িশা (রাঃ)], সে যেন তোমাকে প্রতারিত করতে না পারে। উমার (রাঃ) বললেন, এরপর আমি সেখান থেকে বেরিয়ে উম্মে সালামা (রাঃ) এর ঘরে ঢুকলাম ও এই বিষয়ে তাঁর সাথে কথা বললাম। কারণ তাঁর সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। তখন উম্মে সালামা (রাঃ) বললেন, হে খত্তাবের পুত্র! কি আশ্চর্য, তুমি প্রত্যেক বিষয়েই হস্তক্ষেপ করছ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর স্ত্রীদের বিষয়েও হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছ। আল্লাহর কসম! তিনি আমাকে এমন কঠোরভাবে ধরলেন যে, আমার রাগ কিছুটা কমে গেল।
এরপর আমি তাঁর কাছ থেকে চলে এলাম। সেসময় আমার এক আনসার বন্ধু ছিল। সে আমার অনুপস্থিতিতে এবং আমি তার অনুপস্থিতিতে খবর (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে) সংগ্রহ করতাম। সেসময় আমরা গাসসানী বাদশাহের (আক্রমণের) ভয়ে ছিলাম। আমরা শুনেছিলাম যে সে আমদেরকে আক্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। তাই আমাদের অন্তর ভয়ে আতঙ্কিত ছিল। একদিন আমার আনসার বন্ধু অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আমার দরজায় করাঘাত করল এবং বলল, খুলুন খুলুন! আমি বললাম, গাসসানী বাদশাহ কি এসেছে? সে বলল, না, কিন্তু আরও বেশি অঘটন ঘটেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের কাছ থেকে আলাদা হলেন। আমি বললাম, হাফসা ও আয়িশার নাক ধূলায় ধূসরিত হোক। এরপর আমি কাপড় নিয়ে বেরিয়ে এলাম। গিয়ে দেখলাম, আল্লাহর রাসূল একটি উঁচু টোঙে অবস্থান করছেন। সিঁড়ি বেয়ে সেখানে উঠতে হয়। সিঁড়ির মুখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক কালো গোলাম বসা ছিল।
আমি বললাম, বলুন, উমার ইবনু খত্তাব এসেছেন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অনুমতি দিলেন, আমি তাঁকে এসব ঘটনা বললাম, এক পর্যায়ে আমি যখন উম্মে সালামার কথোপকথন পর্যন্ত পৌঁছলাম তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন। এসময় তিনি একটি চাটাইয়ের উপর শুয়ে ছিলেন। চাটাই ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাঝে আর কিছুই ছিল না। তাঁর মাথার নিচে ছিল খেজুরের ছালভর্তি চামড়ার একটি বালিশ ও পায়ের কাছে ছিল সলম গাছের পাতার একটি স্তূপ ও মাথার উপর লটকানো ছিল চামড়ার একটি মশক। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক পাশে চাটাইয়ের দাগ দেখে কেঁদে ফেললে তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কিসরা ও কায়সার পার্থিব ভোগবিলাসের মধ্যে ডুবে আছে, অথচ আপনি আল্লাহর রাসূল! তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি পছন্দ করো না যে, তারা দুনিয়া লাভ করুক, আর আমরা আখিরাত লাভ করি।
বর্ণনাকারী: আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
সুরা আলাক্
কুতাইবাহ (রহঃ) .....হাসান বসরী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, কুরআন মাজীদের শুরুতে ’বিস্মিল্লা-হির রহমা-নির রহীম’ লিখ এবং দু’ সূরার মধ্যে একটি রেখা টেনে দাও।
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, نَادِيَهُ গোত্র। الزَّبَانِيَةَ ফেরেশতা। মা’মার (রা) বলেন, الرُّجْعٰى ফিরে আসার জায়গা। لَنَسْفَعَنْ আমি অবশ্যই পাকড়াও করব। لَنَسْفَعَنْ শব্দটি نون خفيفة এর সঙ্গে। سَفَعْتُ بِيَدِهِ আমি তাকে হাত দ্বারা ধরলাম।
৪৫৯৪। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র ও সাঈদ ইবনু মারওয়ান (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঘুমন্ত অবস্থায় সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ওহী শুরু হয়েছিল। ঐ সময় তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন, তা প্রভাতের আলোর মতই সুস্পষ্ট হত। এরপর নির্জনতা তাঁর কাছে প্রিয় হয়ে উঠলো। তিনি হেরা গুহায় চলে যেতেন এবং পরিবার-পরিজনের কাছে আসার পূর্বে সেখানে একটানা কয়েকদিন পর্যন্ত তাহান্নুস করতেন। তাহান্নুস মানে বিশেষ নিয়মের ইবাদত। এজন্য তিনি কিছু খাবার নিয়ে যেতেন। এরপর তিনি খাদিজা (রাঃ) কাছে ফিরে এসে পুনরায় অনুরূপ কিছু খাবার নিয়ে যেতেন। অবশেষে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় আকস্মিক তাঁর কাছে সত্যবানী এসে পৌঁছল। ফেরেশতা তাঁর কাছে এসে বললেন, পড়ুন। রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি পড়তে পারিনা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর তিনি আমাকে খুব জোরে জড়িয়ে ধরলেন। এতে আমি খুব মারাত্মক কষ্ট অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন। আমি বললাম, আমি তো পড়তে পারিনা। রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর তিনি দ্বিতীয়বারের মত আমাকে খুব জোরে জড়িয়ে ধরলেন। এবারও আমি খুব মারাত্মক কষ্ট অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন। আমি বললাম, আমি পড়তে পারিনা। এরপর তিনি তৃতীয়বারের মত আমাকে খুব জোরে জড়িয়ে ধরলেন। এবারও আমি খুব মারাত্মক কষ্ট অনুভব করলাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, “পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক (জমাটবাঁধা রক্তপিণ্ড) হতে। পাঠ করুন এবং আপনার রব মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না”।
এরপর রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতগুলো নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। এসময় তাঁর কাঁধের পেশী ভয়ে থরথর করে কাঁপছিল। খাদিজার কাছে পৌঁছেই তিনি বললেন, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। তখন সকলেই তাঁকে বস্ত্রাবৃত করল। অবশেষে তাঁর ভীতি কেটে গেলে তিনি খাদিজাকে বললেন, খাদিজা আমার কি হল? আমি আমার নিজের সম্পর্কে আশংকাবোধ করছি। এরপর তিনি তাঁকে সব খুলে বললেন। একথা শুনে খাদিজা (রাঃ) বললেন, কখনো নয়। আপনার জন্য সুসংবাদ। আল্লাহর কসম! আল্লাহ কখনো আপনাকে লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি আত্মীয়দের খোঁজ-খবর নেন, সত্য কথা বলেন, অসহায় লোকদের কষ্ট লাঘব করে দেন, নিঃস্ব লোকদের উপার্জন করে দেন, মেহমানদের আপ্যায়ন করেন এবং সত্যের পথে আগত বিপদাপদে লোকদের সাহায্য করে থাকেন। তারপর খাদিজা তাঁকে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনু নাওফালের কাছে গেলেন। তিনি জাহেলী যুগে খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরবীতে বই লিখতেন। আর তিনি আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী আরবীতে ইনজীল কিতাব অনুবাদ করে লিখতেন। তিনি খুব বৃদ্ধ ও অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।
খাদিজা (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে আমার চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজা কি বলতে চায় তা শুনুন। ওয়ারাকা বললেন, হে আমার ভাতিজা! তুমি কি দেখেছ? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু দেখেছেন তা খুলে বললেন। ওয়ারাকা বললেন, এটা তো সেই ফেরেশতা যাকে পাঠানো হয়েছিল মূসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে। আহ! আমি যদি যুবক হতাম। আহ! সেসময় আমি যদি জীবিত থাকতাম। এরপর তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করলে রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সত্যই তারা কি আমাকে তাড়িয়ে দিবে? ওয়ারাকা বললেন, হ্যাঁ, তারা তোমাকে তাড়িয়ে দিবে। তুমি যে দাওয়াত নিয়ে এসেছ, এ দাওয়াত যেই নিয়ে এসেছে তাকেই কষ্ট দেয়া হয়েছে। তোমার নবুয়তকালে আমি জীবিত থাকলে অবশ্যই আমি বলিষ্ঠভাবে তোমাকে সাহায্য করতাম। কিন্তু কিছুদিন পরেই ওয়ারাকা ইন্তেকাল করলেন এবং ওহী নাযিলও বেশ কিছিদিন ধরে বন্ধ ছিল যে রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়লেন।
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহী বন্ধ থাকা সময়কাল সম্পর্কে আলোচনার মাঝে বলেন, একবার আমি পথে হাঁটছিলাম, তখন আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। মাথা উপরে তুলেই আমি দেখলাম, যে ফেরেশতা হেরা গুহায় আমার কাছে এসেছিলেন তিনি আসমান ও জমিনের মাঝে রক্ষিত একটি আসনে বসে আছেন। আমি এতে ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে এসে বললাম, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। সুতরাং সকলেই আমাকে বস্ত্রাবৃত করল। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন, “হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন অপবিত্রতা হতে দূরে থাকুন” (সূরা মুদ্দাসসির, আয়াত ০১-০৫)। আবূ সালামা (রাঃ) বলেন, আরবরা জাহেলী যুগে সেসব মূর্তির পূজা করত তাদের الرجز বলে ঐসব মূর্তিকে বুঝানো হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর থেকে ওহীর সিলসিলা অব্যাহত থাকে।