লোড হচ্ছে…
লোড হচ্ছে…
المزمل
বস্ত্রাচ্ছাদিত (Al-Muzzammil) · ২০ আয়াত · মক্কী
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلْمُزَّمِّلُ
ইয়াআইয়ুহাল মুঝঝাম্মিল।
হে বস্ত্রাচ্ছাদনকারী!
قُمِ ٱلَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا
কুমিল্লাইলা ইল্লা- কালীলা- ।
তুমি উঠে দাঁড়াও রাতেরবেলা অল্পসময় ব্যতীত, --
نِّصْفَهُۥٓ أَوِ ٱنقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا
নিসফাহূআবিনকু স মিনহু কালীলা- ।
তার অর্ধেক, অথবা তার থেকে কিছুটা কমিয়ে নাও,
أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ ٱلْقُرْءَانَ تَرْتِيلًا
আও ঝিদ ‘আলাইহি ওয়া রাত্তিলিল কুরআ-না তারতীলা- ।
অথবা এর উপরে বাড়িয়ে নাও, আর কুরআন আবৃত্তি করো ধীরস্থিরভাবে শান্ত-সুন্দর আবৃত্তিতে।
إِنَّا سَنُلْقِى عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا
ইন্না- ছানুলকী ‘আলাইকা কাওলান ছাকীলা-।
নিঃসন্দেহ আমরা তোমার উপরে চাপাচ্ছি এক গুরুভার বাণী।
إِنَّ نَاشِئَةَ ٱلَّيْلِ هِىَ أَشَدُّ وَطْـًٔا وَأَقْوَمُ قِيلًا
ইন্না না-শিআতাল্লাইলি হিয়া আশাদ্দুওয়াত‘আওঁ ওয়া আকওয়ামুকীলা-।
নিঃসন্দেহ রাত-জেগে উপাসনা -- এ হচ্ছে বলিষ্ঠতম পদক্ষেপ ও সুসংস্থাপিত বক্তব্য।
إِنَّ لَكَ فِى ٱلنَّهَارِ سَبْحًا طَوِيلًا
ইন্না লাকা ফিন্নাহা-রি ছাবহান তাবিলা- ।
নিঃসন্দেহ তোমার জন্য দিনের বেলায় রয়েছে সুদীর্ঘ কর্মতৎপরতা।
وَٱذْكُرِ ٱسْمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلْ إِلَيْهِ تَبْتِيلًا
ওয়াযকুরিছমা রাব্বিকা ওয়া তাবাত্তাল ইলাইহি তাবতীলা-।
সুতরাং তোমার প্রভুর নাম কীর্তন করো এবং তাঁর প্রতি ধ্যানধারণায় মগ্ন হও একনিষ্ঠ ধ্যানে।
رَّبُّ ٱلْمَشْرِقِ وَٱلْمَغْرِبِ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ فَٱتَّخِذْهُ وَكِيلًا
রাব্বুল মাশরিকিওয়াল মাগরিবি লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ফাত্তাখিযহু ওয়াকীলা- ।
পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রভু, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, সুতরাং তাঁকেই কর্ণধাররূপে গ্রহণ করো।
وَٱصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَٱهْجُرْهُمْ هَجْرًا جَمِيلًا
ওয়াসবির ‘আলা-মা-ইয়াকূ লূনা ওয়াহজুরহুম হাজরান জামীলা- ।
আর অধ্যবসায় চালিয়ে যাও তারা যা বলে তা সত্ত্বেও, আর তাদের পরিহার করে চলো সৌজন্যময় পরিহারে!
وَذَرْنِى وَٱلْمُكَذِّبِينَ أُو۟لِى ٱلنَّعْمَةِ وَمَهِّلْهُمْ قَلِيلًا
ওয়া যারনী ওয়াল মুকাযযিবীনা উলিন না‘মাতি ওয়া মাহহিলহুম কালীলা- ।
আর ছেড়ে দাও আমাকে এবং সত্যপ্রত্যাখ্যানকারীদের, বিলাস-সামগ্রীর অধিকারীদের, আর তাদের বিরাম দাও অল্পকাল।
إِنَّ لَدَيْنَآ أَنكَالًا وَجَحِيمًا
ইন্না লাদাইনাআনকা-লাওঁ ওয়া জাহীমা- ।
নিঃসন্দেহ আমাদের কাছে আছে ভারী শিকল ও জ্বলন্ত আগুন,
وَطَعَامًا ذَا غُصَّةٍ وَعَذَابًا أَلِيمًا
ওয়া তা‘আ-মান যা-গুসসাতিওঁ ওয়া‘আযা-বান আলীমা- ।
আর খাদ্য যা গলায় আটকে যায়, আর মর্মন্তুদ শাস্তি!
يَوْمَ تَرْجُفُ ٱلْأَرْضُ وَٱلْجِبَالُ وَكَانَتِ ٱلْجِبَالُ كَثِيبًا مَّهِيلًا
ইয়াওমা তারজুফুল আরদুওয়ালজিবা-লুওয়াকা-নাতিল জিবা-লুকাছীবাম মাহীলা-।
সেইদিন পৃথিবী ও পাহাড়গুলো কেঁপে উঠবে, আর পাহাড়গুলো হয়ে যাবে স্তূপাকার বালির গাদা!
إِنَّآ أَرْسَلْنَآ إِلَيْكُمْ رَسُولًا شَـٰهِدًا عَلَيْكُمْ كَمَآ أَرْسَلْنَآ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ رَسُولًا
ইন্নাআরছালনাইলাইকুম রাছূলান শা-হিদান ‘আলাইকুম কামাআরছালনাইলাফির‘আওনা রাছূলা-।
নিঃসন্দেহ আমরা তোমাদের কাছে এজন রসূল পাঠিয়েছি, তোমাদের উপরে সাক্ষীরূপে, যেমন আমরা ফিরআউনের কাছে একজন রসূল পাঠিয়েছিলাম।
فَعَصَىٰ فِرْعَوْنُ ٱلرَّسُولَ فَأَخَذْنَـٰهُ أَخْذًا وَبِيلًا
ফা‘আসা- ফির‘আওনুর রাছূলা ফাআখাযনা- হু আখযাওঁ ওয়া বীলা-।
কিন্ত ফিরআউন সেই রসূলকে অমান্য করেছিল, ফলে আমরা তাকে পাকড়াও করেছিলাম নিদারুণ পাকড়ানোতে।
فَكَيْفَ تَتَّقُونَ إِن كَفَرْتُمْ يَوْمًا يَجْعَلُ ٱلْوِلْدَٰنَ شِيبًا
ফাকাইফা তাত্তাকূনা ইন কাফারতুম ইয়াওমাইঁ ইয়াজ‘আলুল বিলদা-না শীবা- ।
অতএব কেমন করে তোমরা আত্মরক্ষা করবে, যদি তোমরা অবিশ্বাস কর সেই দিনকে যেদিন ছেলেপিলেদের চুল পাকিয়ে তুলবে, --
ٱلسَّمَآءُ مُنفَطِرٌۢ بِهِۦ ۚ كَانَ وَعْدُهُۥ مَفْعُولًا
আছছামাউ মুনফাতিরুম বিহী কা-না ওয়া‘দুহূমাফ‘ঊলা-।
আকাশ হবে বিদীর্ণ? তাঁর ওয়াদা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।
إِنَّ هَـٰذِهِۦ تَذْكِرَةٌ ۖ فَمَن شَآءَ ٱتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ سَبِيلًا
ইন্না হা- যিহী তাযকিরাতুন ফামান শাআত্তাখাযা ইলা- রাব্বিহী ছাবীলা- ।
নিশ্চয়ই এটি একটি স্মরণকারী বিষয়, সুতরাং যে ইচ্ছা করে সে তার প্রভুর দিকে পথ ধরুক।
۞ إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَىٰ مِن ثُلُثَىِ ٱلَّيْلِ وَنِصْفَهُۥ وَثُلُثَهُۥ وَطَآئِفَةٌ مِّنَ ٱلَّذِينَ مَعَكَ ۚ وَٱللَّهُ يُقَدِّرُ ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ ۚ عَلِمَ أَن لَّن تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ ۖ فَٱقْرَءُوا۟ مَا تَيَسَّرَ مِنَ ٱلْقُرْءَانِ ۚ عَلِمَ أَن سَيَكُونُ مِنكُم مَّرْضَىٰ ۙ وَءَاخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِى ٱلْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِن فَضْلِ ٱللَّهِ ۙ وَءَاخَرُونَ يُقَـٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ۖ فَٱقْرَءُوا۟ مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ ۚ وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَقْرِضُوا۟ ٱللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا ۚ وَمَا تُقَدِّمُوا۟ لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ ٱللَّهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا ۚ وَٱسْتَغْفِرُوا۟ ٱللَّهَ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌۢ
ইন্না রাব্বাকা ইয়া‘লামুআন্নাকা তাকূমুআদনা- মিন ছু লুছাইল্লাইলি ওয়া নিসফাহূওয়া ছু লুছাহূওয়া তাইফাতুম মিনাল্লাযীনা মা‘আকা ওয়াল্লা-হু ইউকাদ্দিরুল্লাইলা ওয়ান্নাহা-রা ‘আলিমা আল্লান তুহসূহু ফাতা-বা ‘আলাইকুম ফাকরাঊ মা- তায়াছছারা মিনাল কুরআ-নি ‘আলিমা আন ছাইয়াকূনুমিনকুম মারদা- ওয়া আ-খারূনা ইয়াদরিবূনা ফিল আরদিইয়াবতাগূনা মিন ফাদলিল্লা-হি ওয়া আ- খারূনা ইউকাতিলূনা ফী ছাবীলিল্লা-হি ফাকরাঊ মা-তায়াছছারা মিনহু ওয়া আকীমুসসালা-তা ওয়া আ-তুঝঝাকা-তা ওয়া আকরিদূ ল্লা-হা কারদান হাছানাও ওয়ামা- তুকাদ্দিমূ লিআনফুছিকুম মিন খাইরিন তাজিদূ হু ‘ইনদাল্লা-হি হুওয়া খাইরাওঁ ওয়া আ‘জামা আজরাও ওয়াছতাগফিরুল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।
তোমার প্রভু অবশ্য জানেন যে তুমি তো জেগে থাক রাতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, আর তার অর্ধেক আর তার এক-তৃতীয়াংশ, আর তোমার সঙ্গে যারা আছে তাদের একটি দলও। আর আল্লাহ্ রাত ও দিনের পরিমাপ রক্ষা করেন। তিনি জানেন যে তোমরা কখনো এর হিসাব রাখতে পারবে না, কাজেই তিনি তোমাদের দিকে ফিরেছেন, সেজন্য কুরআন থেকে যতটা তোমাদের জন্য সহজ ততটা আবৃত্তি করো। তিনি জানেন যে তোমাদের কেউ-কেউ রোগগ্রস্ত হবে এবং অন্যেরা দুনিয়াতে চষে বেড়াবে আল্লাহ্র করুণাভান্ডারের সন্ধানে, আর অন্যান্যরা আল্লাহ্র পথে যুদ্ধ করবে, সেজন্য এ-থেকে যতটা তোমরা সহজ মনে কর ততটা আবৃত্তি করো, আর নামায কায়েম রেখো ও যাকাত আদায় করো এবং আল্লাহ্কে ঋণদান করো উত্তম ঋণ। আর যা কিছু সৎকাজ তোমরা নিজেদের জন্য আগবাড়াও তা তোমরা আল্লাহ্র কাছে পাবে, -- সেটিই বেশি ভাল ও বিরাট প্রতিদান। আর আল্লাহ্র কাছে পরিত্রাণ খোঁজো, নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।